“সেই এলোকেশে বক্ষে জড়ায়ে গোপনে যেতাম চুমি!
তোমার কেশের সুরভি লইয়া দিয়াছি ফুলের বুকে
আঁচল ছুইয়া মূর্ছিত হয়ে পড়েছি পরম সুখে!”
- মানে কি?
-- মানে তোমাকে ওয়াও লাগছে।
- ফাতরামি বাদ দাও।
-- তোমার জন্য আমি ফাতরা হয়ে যাত্রা করতেও রাজি।
- ধুর্!!! তোমাকে না বলেছি আমার ক্লাশের সামনে লম্ফ ঝম্প দিবা না। তাও কেন দিলা?
-- কলা দেখলে বাদর লাফাবে এইটা আর নতুন কি?
- সাবধান আমাকে আর জীবনে যদি কলা বলছো।
-- আচ্ছা আর বলবো না বিকু এর মাম্মি।
- বিকু কি আর আম্মি আবার কি?
-- বিস্কুট হলো আমাদের ছেলের নাম আর কুকি হলো আমাদের মেয়ের নাম। দুই নামের প্রথম অক্ষর একসাথে মিলিয়ে হলো বিকু আর আম্মি হলা তুমি
- তাহলে তুমি কি মামা?
-- দেখো আমি হলাম তোমার বিপক্ষ দলের যোদ্ধা। তোমার সাথে সম্মুখযুদ্ধে যুদ্ধ করা আমার গনতান্ত্রিক অধিকার।
- তা যুদ্ধের ময়দান কোথায়?
-- তোমার বাসার বেডরুমে।
- এই তুমি কিন্তু বেশি করতেছো। আমার বেডরুমে তুমি কেন এন্ট্রি
নিবা?
-- তিনবার কবুল বলে ফেললে তোমার মনেই এন্ট্রি নিয়ে নিবো আর বেডরুম কোন ছার? আর কম করলে কি লাভ বলো। যত গুড় তত মিঠা কথাতেই আছে।
- কে তোমাকে বলতে যাবে কবুল শুনি?
-- বিকুর আম্মি।
- উফফফফ!!! থামবা নাকি?
-- ড্রাইভিং মুডে আছি। থামাতে বইলো না। এতে কনসেন্ট্রেন্ট নষ্ট হয়।
- ধুর। আমি গেলাম। খবরদার আমার পিছে পিছে আসবা না।
-- রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি রিমোট ছাড়া কিভাবে চলবে শুনি?
- আমাকে গাড়ি বলবা না।
-- তাইলে কি মালগাড়ি বলবো?
- রাতুল!!! কথাটা বেশি হয়ে গেল না? এমনটা আমি আশা করিনি। আমাকে সম্মান দিতে না পারো তাতে কোন আপত্তি নেই। তাই বলে মেয়েদের সম্মান দিবা না এমনটা তোমার থেকে আশা করব ভাবিও না। বাদ দাও সেসব কথা। বাইক নিয়ে আসো। বাসায় যাবো।
-- সিঙ্গারা খাবা না? সাথে গরম চা।
- বাসায় যাবো।
-- অনেক খারাপ কিছু বলে ফেললাম আমি?
- সেটা নিজেই বুঝে নাও। বাসায় যাবো।
-- দাঁড়াও আমি বাইকটা নিয়ে আসছি।
গাড়ি পার্কিং এর দিকে হাটা দিতেই কেন জানি কলিজাটা মোচড় দিয়ে উঠলো রাতুলের। সৈকতের অনুপস্থিতিতে একটা দিশাহারা মেয়েকে মানসিক শক্তি যোগাতে যোগাতে কখন যে নিজেই মানসিক শক্তি খুইয়ে বসেছে সেটা রাতুলের জানা নেই। এই মেয়েকে ঘিরেই এখন রাতুলের দিন রাতি যাপন। খুব ছোট বেলায় মা বাবাকে হারিয়ে হারানোর ব্যাথা কাকে বলে তা উদাহরন সহ বুঝে গিয়েছিলো সে। আর তাইতো কলেজের প্রথম দিন রেজিষ্ট্রেশন করে ঝুম বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে গেটের সামনে দাড়াতেই কাজল লেপ্টানো চোখ দেখে বিমোহিত হয়েছিল রাতুল। তবে এই কাজল লেপ্টে যাবার জন্য বৃষ্টি দায়ী ছিলো না সেটাও সন্তর্পনে বুঝে গিয়েছিল রাতুল। কেননা আর যাই হোক যারা চোখে কাজল দেয় তারা নিজেরা যেকোন ঝড় তুফান উপেক্ষা করে নিজে ভিজে তবে চোখকে ভিজতে দেয় না।
সারাটা রাস্তায় কোন কথা বলল না নোড়া। মৌন কান্না সবথেকে ভয়ংকর কান্না। কাউকে বুঝতে দেয়া যায়না এই কান্নার ধরন। ভিতরে ভিতরে রক্তক্ষরন আর বাহিরে হাসির পরিস্ফুটন খুব পাকা অভিনেতা বাদে কেউ ফুটিয়ে তুলতে পারে না। মনে হয় বিধাতা এই সুনিপুন দক্ষতা এই মেয়েটির মাঝে বেশি করেই দিয়েছেন।
বাসায় পৌছানোর সাথে সাথে খুব সন্তর্পনে বাইক থেকে নেমে নোড়ার চলে যাওয়া পথটার দিকে নির্বাক তাকিয়ে রইলো রাতুল। খুব সাবধানে চোখ থেকে নেমে যাওয়া হাতটার দিকে তাকিয়ে বুঝতে বাকি রইলো না যে এই মেয়ে কাদতে জানে তবে বুঝাতে জানে না। আচ্ছা মেঘের সাথে কি এই মেয়ের কোন সম্পর্ক আছে? যদি নাই থাকে তাহলে মেঘ গর্জাচ্ছে কেন?
-- আচ্ছা একটু নিচে আসতে পারবা?
- কয়টা বাজে এখন?
-- সময় তো তুচ্ছ যদি থাকে প্রিয় কিছু জিনিষ হাতের মুঠোয়।
- বৃষ্টি হচ্ছে মুষলধারে।
-- মনের মধ্যে যে খরা দেখা দিয়েছে সেখানে এই বৃষ্টি নগন্য।
- নিচে এসে কি করবো?
-- প্রশ্ন না করে নিচে আসো।
- অপেক্ষা কর ৫ মিনিট।
...............
- তুমি এত রাতে?
-- তাতে কি? মনের মাঝে যার রক্তক্ষরন তার কাছে রাত আবার কি?
- তাই বলে এই ঝুম বৃষ্টিতে?
-- জরুরি কাজ ছিলো।
- কি কাজ?
হাতের মধ্যে এক গাদা বেলী ফুল ধরিয়ে দিয়ে উলটা হাটা দিলো রাতুল। কিছুটা অবাক কিছুটা মুচকি হাসি লেপ্টে গেল নোড়ার মুখে। ছেলেটা আসলেই পাগল। পৃথিবীর অন্যতম কঠিন কাজ “মানুষের মন বুঝা” এই ছেলেটি ভাল মতই জানে বেলীফুলের কাছে প্রেয়সী নামক প্রানীটা আবদ্ধ। তাইতো হাতে গুজে দেয়া একগাদা ফুলের মানে যে ক্ষমা প্রার্থনা সেটা আর না বুঝার কি আছে?
চলবে...
#এক_শিশি_ফরমালিন_মুক্ত_ভালবাসা
দ্বিতীয় পর্ব
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ