- শুনলাম তুমি নাকি চানাচুর বিক্রি শুরু করেছো?
-- ঠিকই শুনেছো।
- সিঙ্গাপুর থেকে পড়াশুনা করে এসে চানাচুর বিক্রি করার পিছনে কারন কি?
-- আজকাল চানাচুরের অনেক ডিমান্ড নয়া যুগের ছেলেমেয়েদের কাছে। আর তোমার বাবা তো বলেই দিয়েছে বাবার টাকায় বড়াই না করে নিজে কিছু করতে।
- তাই বলে চানাচুর বিক্রি করতে হবে?
-- তুমি চানাচুরকে কি মনে করো হ্যা? চানাচুরের কত ডিমান্ড এখন তুমি জানো? যুব সমাজের মাঝে এখন কৌতুহলের প্রধান বিষয় হলো চানাচুর আর মেয়ে। আগে মেয়ে প্রথম স্থানে ছিলো আর এখন চানাচুর। সমাজকে ঠিক করতে হলে চানাচুরের ব্যবহার অপরিহার্য। যেমন ধরো...
যুব সমাজকে নেশার হাত থেকে বাচাতে হলে চানাচুর হবে প্রধান হাতিয়ার।
সুন্দর সময় অতিবাহিত করার জন্য দরকার চানাচুর।
মেয়ে পটাতে হলে দরকার চানাচুরের কুটুর মুটুর শব্দ যাতে মেয়ে বুঝে ছেলের চাপায় জোড় আছে।
আরো অনেক উপকারি দিক আছে যা এক এক করে বুঝাতে হবে সারাজীবন ধরে।
- সারাজীবন ধরে কাকে বুঝাবে?
-- ইচ্ছা তো আছে তোমাকে বুঝাবো তবে তার আগে বিখ্যাত চানাচুর বিক্রেতা হতে হবে। নায়ক জসিমের মত পথে ঘাটে ঘুরে ঘুরে চানাচুর বিক্রি করবো। এতে মানুষের মুখে মুখে নাম হবে আমার। আর হ্যা শুনো আমি ভাবতেছি পলিটিক্স করবো। দলের নাম হবে “বাচাও” মানে “বাংলাদেশ চানাচুর ওর্গানাইজেশন”। দলের প্রতীক হবে চানাচুর। সবাই রাস্তায় স্লোগান দিবে “মার্কা টা কি? চানাচুর!! তোমার আমার মার্কা!! চানাচুর মার্কা”
- চুপ থাকবে প্লিজ? এইসব আজাইরা চিন্তা মাথা থেকে বাদ দাও। আর এই রেষ্টুরেন্টে ডেকে এনেছো কি চানাচুরের গল্প শোনাতে?
-- আরে নাহ। চানাচুরের গল্প তো সারাজীবন তো বলাই যাবে। আজ ডেকেছি একটা খুশিতে।
- কিসের খুশি?
-- আমার চানাচুর বিক্রির প্রথম লাভের টাকা দিয়ে আমি বাদাম বিক্রির দোকান খুলবো সেটার আলাপ আলোচনা করতে। আর যেই লাভ হয়েছে চানাচুর বিক্রি করে তার থেকে কিছু টাকা দিয়ে তোমাকে আজ আমি খাওয়াবো তাই ডেকে আনা।
- রাতুল!!! ফাজলামি বন্ধ করবে প্লিজ?
-- বিয়ের জন্য রাজি হয়ে যাও দেখবা অটো ফাজলামি বন্ধ হয়ে যাবে।
- শুনো রাতুল। জীবনটা কোন ফাজলামি না বা খেলনাও না যে সারাজীবন ফাজলামির সাথে খেলতে খেলতে পার হয়ে যাবে।
-- তার মানে তুমি বুঝাতে চাও তুমি খেলনা?
- ধুর তুমি একটা রাম বলদ।
-- আর তুমি কি লক্ষ্মী বলদি?
- লক্ষ্মী বলদি মানে কি?
-- রাম এর প্রতিরুপ লক্ষ্মী আর বলদের বলদি।
- ইয়াল্লা আমাকে তুমি বাচাও আল্লাহ। কার পাল্লায় ফেললা আমারে আল্লাহ। এই নরকের হাত থেকে আমারে বাচাও খোদা।
-- আহাজারি বন্ধ করো। বিয়ের জন্য তো পাত্রী জোগাড় করতে পারলে না। বলেছিলাম না পাত্রী জোগাড় না করতে পারলে তোমাকে গলায় ঝুলিয়ে নিব? মনে নাই?
- তোমার ডিমান্ড হলো ডোনান্ড ট্রাম্পের বউ মেলেনিয়া ট্রাম্পের মত। এমন মেয়ে দুনিয়াতে আছে নাকি? তুমি যে ফাজলামি করতে ফোন দিয়েছো সেটা যে কেউ বুঝতে পারবে।
-- যে কেউ বুঝতে পারার দরকার নেই। তুমি বুঝলেই হবে।
- আমি বুঝলেও লাভ হবে না।
-- কেন হবে না শুনি।
- তুমি আমার থেকে ৪ মাসের ছোট।
-- আরে ধুর ধুর। পুরুষ মানুষের বয়স হলো একটা সংখ্যা মাত্র।
- ফাতরামি বাদ দাও বুজেছো? পিচ্চি মানুষ থাকবা পিচ্চি মানুষের মত।
-- কি অভিজ্ঞতা আছে তোমার যে আমাকে পিচ্চি বলতেছো?
- শুনো অভিজ্ঞতার দরকার নেই। দেখলেই বুঝা যায়।
-- তুমি যে এই নজরে আমাকে দেখো তাতো জানতাম না।
- এই পিচ্চি এই!!! মুখ সামলে কথা বলো। বাল্য বিবাহ করলে এতদিনে
আমার নাতনি ও তোমার থেকে বড় থাকতো।
-- কি না আমার বড় তাতেই বিশাল বিশাল কথা।
- ৪ মাসের বড় তোমার। মানে ১২০ দিন।
-- না ৪ মাস না। ১১৬ দিন।
- ধুর!!! তুমি আসলেই একটা ডিষ্টার্ব।
-- করতে তো চাইনা। তুমিই তো করতে বাধ্য করাও।
- কিছুদিন পরে আমার জন্য পাত্র দেখা শুরু হবে। আর তখন তুমি মাত্র অনার্সের মাঝ পথে থাকবে। সুতরাং এইসকল চিন্তা বাদ দাও।
-- সমস্যা নাই তো। ঘর জামাই থাকবো। সকালে ঘুম থেকে উঠে একেক দেশের মানচিত্র আকারে রুটি বানাবো যাতে তোমার ভুগোল ক্লাশটায় পড়াশুনা সহজ হয়ে যায়। ক্লাশে যাবার আগে বিস্কুট আর কুকিকে স্কুলে দিয়ে আসবো। সারাদিন ক্লাশ করবো। দুপুরে ক্লাশের ফাকে দুইজনকে বাসায় পৌছিয়ে দিয়ে যাবো। তারপরে বিকালে ক্লাশ শেষ হলে সোজা বাসায় চলে আসবো। তারপরে রাতের রান্না শেষ করে তোমার সাথে স্টার প্লাসের রংচং ওয়ালা নাটক দেখবো একসাথে। রাতে দুই পুচকিকে ঘুম পারিয়ে দিয়ে আমরা আমাদের খেলাধুলার প্রস্তুতি নিবো। কি সুন্দর হবে আমাদের লাইফ। পুরাই তামিল রোমান্টিক মুভির মত। ভাবতেই আমার চোখে পানি চলে আসতেছে সুখের ঠেলায়।
- দিবাস্বপ্ন দেখা বন্ধ করো। নাহলে পরে স্বপ্ন ভঙ্গ হবে। আর তামিল রোমান্টিক মুভি তাইনা? একশন মুভির মত উরাধুরা পিডামু যদি আরেকবার এইসব কথা বলো।
-- ছিঃ সোয়ামী হলো ঘরের লক্ষ্মী। স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর জান্নাত। এইভাবে বললে উপরওয়ালা গুনাহ দিবে। আর হ্যাঁ এখন দিন না যে স্বপ্ন দোষ হবে।
- ওয়েট ওয়েট “সোয়ামী ঘরের লক্ষ্মী/ স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর জান্নাত/ স্বপ্ন দোষ” এইসব কোথা থেকে আসলো?
-- না মানে কথার কথা বললাম আরকি।
- তোমার মার খাবার সময় এসেছে বুঝতে পেরেছো?
-- আলহামদুলিল্লাহ।
- মানে কি?
-- মানে তোমার হাতে মাইর খাওয়ার মজাই আলাদা হবে সেটা ভেবেই বলা। হাতের স্পর্শ তো পাওয়া যাবে এই সুযোগে।
- তুমি দেখি জোকের মত কামড় দিয়ে ধরেছো আমাকে।
-- লজ্জাকর কথাবার্তা বইলো না তো। এখন কামড় দিবো কোন দুঃখে? কামড় তো দিবো বিয়ের পরে।
- রাতুল!! তুমি বেশি পেকে গেছো বলে দিলাম।
-- ফরমালিন দেয়া নেই তো তাই আরকি। নাহলে কাচাই থাকতাম। আপাতত তুমিই আমার ফরমালিন।
- ধুর তুমি আসলেই একটা ডিষ্টার্ব। আর শুনো। কাল আমার ক্লাশের সামনে ঘুর ঘুর করবা না বলে দিলাম।
-- জীবনে শুনেছো কুত্তা হাড্ডি দেখলে চুপচাপ বসে থাকে?
- কুত্তা আসলো কোথা থেকে আর হাড্ডি আসলো কেন বুঝলাম না।
-- তুমি হলে আমার হাড্ডি আর আমি হলাম কুত্তা। সো তুমি যেখানে আমিও সেখানে এইটা প্রকৃতির বিধান।
- ইয়াল্লা আমাকে রক্ষা করো মাবুদ!!! এই তুমি থাকো, আমি যাই।
-- আরে যাবা কেন? খাবারে ফরমালিন নেই। খাবার খেয়ে যাও। ভবিষ্যতে বিস্কুট কুকিকে বলতে পারবে যে তুমি তাদের বাবার প্রথম উপার্জনের টাকা উড়াতে পেরেছো।
- ধুর চুপ থাকো তো! অর্ডার করো খাবারের। বাসায় যাবো। আর হ্যা এর মাঝে একবার বকবক করলে আআমি উঠে চলে যাবো।
-- এ কেমন বিচার?
রাতুলের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে উঠলো নোড়া। ভাগ্য ভালো রাতুল মুখ ঘুরিয়ে রেখেছে বলে দেখতে পায়নি। কোন লাভ নেই এই ছেলেকে মানা করে। সে ঠিকই কাল ক্লাশের বাহিরে দরজার ফাক দিয়ে ক্লাশে উকি ঝুকি মারবেই। সৈকত হারিয়ে যাবার পরে এই পুচকি ছেলেটাই নতুনভাবে পৃথিবীতে বাচতে শিখিয়েছে। বয়সে ৪ মাসের ছোট তবে বুদ্ধির ধার ৩০ বছরের বছরের ব্যাক্তিকে হার মানায়। সমস্যা টা ওইখানেই। পৃথিবীতে সমাজ বলে একটা আজব খেলা আছে যেখানে অনেক বীধি বিধান রয়েছে। সংবিধান ভঙ্গ করা যায় তবে বিধান ভঙ্গ করা যায়না। আবার আবেগের বিরুদ্ধেও খেলা করা যায়না। শুদ্ধতম আবেগ গুলোর কখনও কোনও ভাষা হয় না। অপ্রকাশিতই থেকে যায় সেই ভাষা। আর এই কারনেই দুনিয়ার অনেল মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। আচ্ছা এইটাকে কি ভালো লাগা বলে নাকি মোহ? নাকি......
#এক_শিশি_ফরমালিন_মুক্ত_ভালবাসা
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ