- চলো ন্যাড়া বিয়ে করে ফেলি।
-- তুমি এত বজ্জাতের হাড্ডি কেন হ্যা?
- আমি হাড্ডি না। আমি হাড্ডির ভিতরের মজ্জা।
-- ধুরো!!! আর বলেছি না আমার নাম ধরে ডাকতে না? ন্যাড়া কি? আমার নাম নোড়া।
- হয়তো তোমার বাবা মা ন্যাড়াই রাখতে গিয়েছিলো আর নাহয় ন্যাড়াই রেখেছে। তুমি কান্না করবে বলে নোড়া বলে চালিয়ে দিয়েছে।
-- রাতুল। দয়া করে তোমার শাটার টা বন্ধ রাখবে প্লিজ?
- আমার শাটার চব্বিশ ঘন্টা খোলা থাকবে আজীবন। এখন বলো বিয়ে কবে করবা?
-- কিসের বিয়ে? কোন বিয়ে নিয়ে কথা হবে না।
- কেন কোন সমস্যা আছে নাকি তোমার?
-- মানে? কিসের সমস্যা?
- না মানে পারিবারিক সমস্যার কথা বলছি না। এই ধরো অন্য কোন সমস্যা। আজকাল ভালো চিকিৎসা হচ্ছে এইসবের। ভয়ের কোন কারন নেই। সব ঠিক হয়ে যাবে।
-- রাতুল মেজাজ খারাপ করবে না বলে দিলাম। আমি কিন্তু তোমার সিনিওর।
- আরে রাখো তো সিনিয়র। আজ বিয়ে করলে কাল দুইদিন আর তুমি সিনিওর সিনিওর করে জিকির শুরু করেছো। লাইট নিভানোর পরে কে সিনিওর কে জুনিওর এইসব মাথায় ও আসবে না বুঝতে পেরেছো?
-- দয়া করে তুমি এখান থেকে বিদায় হও এখান থেকে নাহলে আমি নিজেই বিদায় হবো।
সন্তর্পনে পাশ থেকে উঠে চলে গেল রাতুল। দিন দিন বিয়ে বিয়ে করে মাথা খারাপ করার অস্বাভাবিক ক্ষমতা নিয়ে জন্মেছে ছেলেটা। কিছু ছেলে আছে যাদেরকে চাইলেই এড়িয়ে যাওয়া যায়না কোন অন্যায় আবদার করলেও। কেমন জানি মায়া মায়া লাগে। হয়তো এই মায়া করাটা অন্যায় তবে এই অন্যায় করতে কেন জানি মন বাধা দেয়না।
- এই নাও
মুখের সামনে ফুচকা সাজানো বিশাল বড় একটা প্লেট ধরলো রাতুল। এমনিতেই ফুচকার প্রতি অন্যরকম একটা টান থাকে মেয়েদের। আর নোড়ার তো টানটা এতই যে যেকোন সময় ছিড়ে যেতে পারে। হাত বাড়িয়ে ফুচকার প্লেটটা নিবে না নিবে না করেও নিলো নোড়া। মনের সাথে জিহ্বার সংঘর্ষে সবসময় জিহ্বা জয়ী হয়।
- ভাবতেছি বিয়ের দিন থেকে আজীবন পর্যন্ত প্রতিদিন ফুচকা দিবস পালন করে যাবো।
-- মানে কি?
- পয়েন্ট করে বুঝিয়ে বলছি শুনো।
গায়ে হলুদের দিনে ফুচকার তেহারি হবে। পুরান ঢাকার শ্রেষ্ট আলমগীর বাবুর্চিকে ধরে আনবো দরকার হলে।
বিয়ের দিনে ধরো ফুচকার বিরিয়ানি হলো। সাথে ফুচকার রেজালা আর ফুচকার রোষ্ট। সাথে ধরো ফুচকার দই আর সবার শেষে ফুচকার বোরহানী।
বিয়ের পরদিন থেকে প্রতিদিন হবে ফুচকাময়ী দিবস- রজনী। সকালে ঘুম থেকে উঠার সাথে সাথে ধরো ফুচকার ব্রেড সাথে ফুচকার মাখন আর ফুচকার জুস, দুপুরে ফুচকার তৈরী হরেক রকমের তরকারী দিয়ে ফুচকা খাওয়া। বিকালে ফুচকার চা আর ফুচকা। রাতে ধরো স্পেশাল ফুচকার ডায়েট সম্বলিত রেসিপি আর ঘুমাতে যাওয়ার আগে ফুচকার দুধ যাতে… থাক বাকিটা আর নাই বললাম।
যখন বাবু পেটে আসবে তোমার তখন সারাদিন খালি ফুচকার উপরেই থাকবা। যা যা খেতে চাইবে সব কিছু তৈরী হবে ফুচকা দিয়ে।
তারপরে ধরো যখন আমাদের বাবু হবে ওরে আমরা মুখে ফুচকা দিলাম। অনেকেই মিষ্টি জাতীয় কিছু দেয় তবে আমরা নাহয় ফুচকা দিলাম। আর আত্নীয়-স্বজনের বাসায় বাসায় ফুচকা বিলাবো খুশির খবর নিয়ে। ওকি… ফুচকা মুখের সামনে নিয়ে তাকিয়ে আছো কেন? কোন সমস্যা? ফুচকা মজা হয় নাই?
-- তোমার কথা শুনে আমার ফুচকা খাওয়ার স্বাদ মিটে গেছে। আর জীবনে ফুচকা খাওয়ার কোন ইচ্ছাই আসবে না মনে।
- তাহলে চলো বিয়ে করে ফেলি।
-- আবার সেই একই গান?
- আহা এমন করো কেন? আমি দেখতে খারাপ? নাকি আমার শিক্ষাগত যোগ্যতা নাই?
-- এইসব কিছুই না। সমাজের বাধ্যবাধকতা বলেও কিছু আছে এইটা ভুললে হবেনা। চাইলেই আমি তোমাকে বিয়ে করতে পারব না। কারন কি শুনতে চাও?
- বলো শুনি আগে।
-- এখন আমার প্রতি তোমার যেটা কাজ করছে সেটা হলো এক প্রকার মোহ। প্রতিটা ছেলেই তার থেকে বয়সে বড় কোন মেয়ের প্রতি দুর্বলতা অনুভব করে আর সেটা একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। একটা নির্দিষ্ট সময় পরে সেই মোহ রুপান্তরিত হয় বাস্তবতায়। আর তার ও কিছু পরে রুপান্তরিত হয় ঝামেলায়। আর তারপরেই তারা বয়সের প্রায় অর্ধেক কোন মেয়েকে বিয়ে করে সুখী হতে চায়। আর সবথেকে বড় কথা হলো আমি ডিভোর্সি।
- আচ্ছা যদি বয়সে বড় কোন মেয়েকে বিয়ে করেই ফেলা হয় তাহলে?
-- মোহে আটকে গিয়ে যদি বিয়ে করেই ফেলা যায় তাহলে সেটা পরবর্তীতে হয়ে যায় অনুশুচনার। যেটা সারাজীবন ছেলে মেয়ে দুইজনকেই বয়ে বেড়াতে হয়।
- চলো তাহলে।
-- কোথায়?
- বিয়ে করবো তোমাকে। সমাজ বলে অনেক কিছুই আছে তবে আমি সমাজ বহির্ভুত। আমার সমাজে আমি নিজেই বসবাস করি। আমার বাবা নেই মা নেই কোন আত্নীয় স্বজন ও নেই কেননা বাবা মা পালিয়ে বিয়ে করাতে বাবা মাকে কেউই মেনে নেয়নি। আমার দরকার তোমাকে। সমাজকে না। চলো এখন।
-- এইভাবে হয়না রাতুল।
- হয়না বলে যে হবে না এইরকম কথা বাদ। চলো বললাম নাহলে তোমাকে উঠিয়ে নিয়ে যাবো যদিও একটু কষ্ট হবে কেননা হাতীকে তুলতে ক্রেন লাগে।
-- আমাকে হাতী বললা? নিজে কি?
- আমি জিরাফ জিরাফ। এখন চলো...
হাতটা ধরে টানতে টানতে সেদিন কাজী অফিসে নিয়ে গিয়েছিল রাতুল। একদম পাগল টাইপের ছেলে। বিয়ের পরে মোহ,দুর্বলতা,বাস্তবতা,ঝামেলা কোনটাই অনুভব করতে দেয়নি ছেলেটা। পাগলের মত খালি ভালবেসেই গিয়েছিল। অনেকদিন পরে কবরের সামনে হুইল চেয়ারটায় বসে হাসিমুখে চোখের জল বিসর্জন করে যাচ্ছে নোড়া। ৩ বছরের সংসারে ৩ সেকেন্ডের জন্য নোড়ার ধারনাকে সঠিক প্রমান করতে দেয়নি ছেলেটা। মারা যাবার পরেও দিচ্ছে না। আসলেই পাগল ছেলে... আচ্ছা এক্সিডেন্ট টা নাহলে কি হতো না? হবে কিভাবে কিছু মেয়ের জীবনে সংসার জিনিষটা লাগসই হয়না। নোড়া এর ব্যতিক্রম কেন থাকবে? কোলে থাকা রাতুলের কলিজা ফ্লোরা কান্না করে উঠলো। উঠুক কান্না করে। বাবার কবরের পাশে একটু কান্না করুক। বাবা শুনতে পাক তার মেয়ে তার জন্যই হয়তো কান্না করছে...
সমাপ্ত
#এক_শিশি_ফরমালিন_মুক্ত_ভালবাসা
Jedny Hasan
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ