(১)
আমার এক ফ্রেন্ড একবার কপাল ফাঁটিয়ে, রক্তাক্ত শরীর নিয়ে ক্যাম্পাসে আসলো।
বললাম,- 'কী ব্যাপার? কী হয়েছে তোর?'
অন্য বন্ধুরা জানালো, ফরেস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের এক ছেলের সাথে মারামারি করে এসেছে।
মহাকান্ড!
কেনো? কী সমস্যা?
পরে জানা গেলো, ফরেস্ট্রির ছেলেটা আমার ফ্রেন্ডের গার্লফ্রেন্ডের দিকে তাকিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করেছিলো।
যাদের মধ্যে বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড রিলেশনশিপ, তাদের মধ্যকার ড্রেস কোডের বর্ণনা দেওয়ার দরকার মনে করছিনা।
শাটল ট্রেনে যাওয়া-আসার পথে প্রায়ই বয়ফ্রেন্ডগুলোর আপত্তি শুনতাম।
তাদের গার্লফ্রেন্ডদের দিকে কে কীভাবে তাকায়, কে অশ্লীল বাক্য ছুঁড়ে, সে কোন ডেপ্টের কোন ইয়ারে পড়ে ইত্যাদির চুলছেঁড়া বিশ্লেষণ।
এবং, অই বজ্জাতকে কোন নেতাকে দিয়ে, ভার্সিটির কোন গ্রুপকে (চবিতে ছাত্রদের বিভিন্ন পলিটিক্যাল গ্রুপ বিদ্যমান) দিয়ে একটা গণধোলাই দিবে এটার প্ল্যানও হতো।
(আমার বন্ধু সার্কেলে এরকম কিছু ছিলো বলে অভিজ্ঞতা আছে কিছুটা)
আচ্ছা ভাই, আপনি আপনার প্রেমিকাকে কপালে লাল টিপ আর নীল শাড়ি পরিয়ে বের করে আনবেন, আর আশা করবেন যে আশপাশের লোকগুলো চোখে হাত দিয়ে থাকবে? কী অদ্ভুত লজিক না?
একজন বললো,- 'আমি কী পরবো না পরবো আমার ব্যাপার। এটা আমার ব্যক্তিস্বাধীনতা। ওরা আমার দিকে এভাবে তাকাবে কেনো?'
খুবই পুওর লজিক। ওরাও বলতে পারে,- 'আমরা কার দিকে তাকাবো, কীভাবে তাকাবো, কীভাবে তাকাবো না সেটা আমাদের ব্যাপার। এটাও আমাদের ব্যক্তিস্বাধীনতা।'
আপনার অপরূপ প্রেয়সীকে আপনি বোরকা হিজাবের মধ্যে দেখতে চান নাকী লাল নীল শাড়ি আর টপস জিন্সের মধ্যে দেখতে চান তা আপনার ব্যাপার। কিন্তু কথা হলো, আপনি যখন সুন্দরী প্রতিযোগীতার পার্টিসিপেন্টের মতো করে সাজিয়ে তাকে বাইরে নিয়ে আসবেন, আর বাইরের লোকগুলো যখন তার দিকে ড্যাব ড্যাব করে তাকাবে, তখন আপনার কেনো খারাপ লাগবে?
আপনি তো তাকে প্রদর্শনীর বস্তু বানিয়েই বাইরে বের করেছেন।
আপনি চান যে বাইরের লোক আপনার প্রেয়সীকে দেখে মাথা নিঁচু করে ফেলুক?
একবার ভুলে আপনার প্রেয়সীর দিকে চোখ পড়ে গেলেও পরেরবার যেন ইস্তিগফার করে?
হাউ ফানি! অন্যজনকে ইসলামী অনুশাসনের ভিতরে দেখার আগে ভেবে নিন আপনি কতোটা ইসলামের ভিতরে আছেন।
ব্যাপারটা যেন মদ বিক্রি করে মদ নিষিদ্ধের আয়াত পড়ে উপদেশ দেওয়ার মতোন।
এক দ্বীনি ভাইয়ের সাথে সেদিন ধানমন্ডী লেকের পাশ দিয়ে রিক্সায় করে যাচ্ছিলাম।
দ্বীনি ভাঈটা প্র্যাকটিসিং হবার আগে রিলেশনশীপে ছিলো।
(ব্যাপারটা খুবই স্বাভাবিক। পুরোপুরিভাবে দ্বীনে প্রবেশের পূর্বে এরকম অনেকের জাহিলী একটা জগত থাকে)।
তো, ভাই আমাকে বলছিলো,- 'এই লেক আমার কতো পরিচিত। একসময় এখানে কতো হেঁটেছি ওর সাথে। ওর দিকে যখন কেউ তাকাতো, আমার ইচ্ছে করতো অই লোককে ঘুঁষি দিয়ে দাঁত ফেলে দিই।'
আমি হাসলাম। আসলে, হারাম রিলেশনশিপে থাকা প্রত্যেক বয়ফ্রেন্ডের একই অভিযোগ- "তাদের গার্লফ্রেন্ডের দিকে আরেকজন কেনো তাকাবে?"
অথচ, তারাই কিন্তু গার্লফ্রেন্ডদের অর্ধনগ্ন করে বাইরে বের করে আনে। অথচ আশা করে, বাইরের জগতের কেউই যেন উনার প্রেয়সীর দিকে না থাকায়।
পুরুষের এই একটা ন্যাচার।সে চায়, তার প্রিয় মানুষের দিকে কেউ যেন খারাপ নজরে না থাকায়, অশ্লীল বাক্যব্যয় না করে। হোক সে তার গার্লফ্রেন্ড, তার স্ত্রী, তার মা, কন্যা.....
নারীর প্রতি তার কাছের মানুষের এই সিরিয়াসিনেস, এই ন্যাচার আল্লাহ সুবাহান ওয়া'তালা বুঝেন।
এজন্য তিনি বলেছেন- " হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীগনকে, কন্যাগনকে ও মুমিন মহিলাগনকে বলে দিন, তারা যেন উপর দিক থেকে (নিজেদের মুখমন্ডল ও বক্ষদেশের উপর) নিজেদের চাদরের আচঁল ঝুলিয়ে দেয়, এতে তাদের চেনা সহজতর হবে। ফলে তাদের উত্যক্ত করা হবেনা। আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।"- আল আহযাব, ৫৯
খেয়াল করুন, এখানে শেষে বলা হচ্ছে, তারা পর্দা, হিজাব করুক, তাদের উত্যক্ত করা হবে না।
তাদের উত্যক্ত করলে আপনার খারাপ লাগবে, স্বাভাবিক। এটা থেকে বাঁচতে আর তাদের বাঁচাতে আপনি কতোবার মারামারি করে কপাল ফাঁটাবেন? একবার, দুইবার, তিনবার.............? তবুও সমাধান হয় কী? হয় না। তাহলে উপায় কী?
আল্লাহ বলছেন- 'ওদের বলে দাও ওরা যেন পর্দা-হিজাব করে'।
ব্যস! এটাই আল্লাহর স্যলুশান। কতো উত্তম।
(২)
লেখাটির প্রথম অংশটুকু পড়ে অনেকে কমেন্ট করবেন,- 'ভাই, আপনি কী বলতে চাইছেন হিজাব করলে ইভটিজিং করেনা?'
এরপর দু চারটা ঘটনার রেফারেন্স দিয়ে আমাকে ভুল প্রমাণের চেষ্টা করবেন হয়তো বা।
ভাই আমার, আপনার দেওয়া রেফারেন্স আপনার কাছেই রাখুন। হাতে গুনে দেখুন তো- পরিপূর্ণ পর্দা-হিজাব করেছে এরকম কতোজন আসলে ইভটিজিংয়ের স্বীকার হয়?
এর আগে আমার প্রশ্ন- পর্দা-হিজাব বলতে আপনি আসলে কী বুঝেন?
এখন, আমাদের উত্তর আধুনিক সমাজে আমাদের অধিকাংশ আপুরা টাইট-ফিট বোরকা পরে যে হিজাবটা (!) করে, সেটাকে যদি আপনি হিজাব বলেন, আর অই রেফারেন্স নিয়ে যদি আপনি আমার সাথে তর্কে আসতে চান, তাহলে আপনাকে বলতে হয়- 'মা'আসসালাম.......'
শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বোঝা যায় এমন স্টাইলিশ হিজাব আর জিন্স-টপসের মধ্যে পার্থক্য কোথায় আমি আসলে বুঝিনা।
(৩)
কেউ কেউ বলবেন,- 'ভাই কী তাহলে ইন্ডিরেক্টলি ইভটিজারদের সাপোর্ট করছেন?'
একদমই না। ধরুন, আপনি আপনার iPhone-8 দিয়ে রাতের বেলা কথা বলতে বলতে নির্জন এলাকায় চলে গেলেন। ছিনতাইকারী করলো কী, আপনার আইফোনটা ছোঁ মেরে নিয়ে গেলো।
আপনি যখন মন খারাপ করে আমার কাছে এসে আইফোন হারানোর গল্প করবেন, তখন আমি যদি বলি,- 'অতো রাতে আপনি এতো দামী ফোন নিয়ে এমন নির্জন এলাকায় গেলেন কেনো? ছিনতাইকারী তো ধরবেই'
আমার এই কথা কী ছিনতাইকারীর পক্ষে যায়? না।
ঠিক তেমনি আমার উপরের কথাগুলোও ইভটিজারদের সাপোর্টে যায় না।
(৪)
আমি কিন্তু পর্দা-হিজাবের মধ্যে অবৈধ রিলেশনশিপকে মিন করছিনা, আমি কেবল পর্দা হিজাবের গুরুত্বটা তুলে ধরার চেষ্টা করছি। কেউ যদি বলেন,- 'ভাই কী পর্দার মধ্যে থেকে প্রেম করতে বলছেন?'
তাহলে বলবো,- 'আপনি আমার লেখার পয়েন্টটা ধরতে পারেন নি। আবার পড়ুন। এরপর না বুঝলে আবার পড়ুন। তবুও না বুঝলে আরেকবার পড়ুন। যদি এরপরও ব্যর্থ হন, তাহলে দুঃখিত! লেখাটা আপনার জন্য না....'
Collected
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ