সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি ১১ টা বাজে। লুঙ্গি ঠুঙ্গি তাৎক্ষানিক গুটিয়ে প্যান্টটা পরে, ডয়ার থেকে ম্যানিব্যাগটা নিয়ে দিলাম ঝেড়ে দৌড়। ১২ টায় ক্লাস আছে। আজ মিস হলে ১২ টার দ্বিগুণ ২৪ টা বাজাবে। গতকাল স্যার কোচিংয়ে খালাড়ি দিয়ে বলেছে, "কাল যদি অর্ণইব্বারে কোচিংয়ে না পাই, তাইলে ওর একদিন কি আমার একদিন।
.
আমাদের কোচিংয়ে এক আবুল আছে। নামটা বললাম না। ও ফোন করে বলেছে, "দুস্ত কাইল কোচিংয়ে চইলা আসিস। নইলে তোরে গরম কাবাব বানাবে স্যারে কইছে।
.
আমি ওর তো পুরাই হতস্তম্ভ। বললাম, " কসকি হালা? শীত কাবাব নাম শুনছি। মাগার গরম কাবাব আবিস্কার করলো কেডা?
বলদা হি হি করে হেসে দিয়ে বললো, "দুস্ত আমি আমি।
.
ও আমি আমিটা এমন ভাবে বললো যেন, বিরাট কিছু আবিস্কার করে ফেলেছে। বললাম- কসকি মমিন? তুই কেমনে?
.
"হ দুস্ত। শীত কালের লাইগা শীত কাবাব। আর ওহন তো গরম কাল, তাই গরম কালের লাইগা গরম কাবাব.....
.
.
গাড়িতে ঝিম ধরে বসে আছি। শরীরটা কেমন মচমচ করছে। সারা গায়ে মসলা মেখে আসলে স্যারের কাবাব বানাতে সুবিধা হতো। ভাবছি গাড়ি থেকে নেমে পকেটে করে দু প্যাকেট মসলা কিনে নিয়ে যাবো। যাতে ক্লাসে যাওয়া মাত্রই স্যার আমায় মসলা মাখিয়ে শিক ঢুকিয়ে চুলার উপর বসিয়ে দিতে পারে। এতে করে সময় বাঁচবে অনেকটা। কিন্তু ভাবনার বিষয়, শিক ঢুকাবেটা কোথা দিয়ে? তাছাড়া জামা কাপড়সহ চুলায় বসালে যেমন তেমন, খুলে বসালে তো সর্বনাশ। কয়েকটা মেয়েও আছে কোচিংয়ে। ইজ্জত বলে তো একটা কথা আছে।
.
"ঐ মামা ভাড়া দেন।
.
পিছন দিকে তাকিয়ে দেখি কন্ট্রাক্টর হাত বাড়িয়ে দাড়িয়ে আছে। বললাম, "সামনে থাইকা আসো মামা দিতাছি। কন্ট্রাক্টর চলে গেলো। আমি পকেট থেকে মানিব্যাগ বেড় করে থম খেয়ে গেলাম। আয় হায় ম্যানিব্যাগে এত টাকা আসলো কিভাবে? গতকাল রাতে আবার স্বপ্ন দেখেছি অনেক টাকার উপর শুয়ে সাঁতার ডুবু কাটছি। সে স্বপ্ন অবশ্য খুব বেশি স্থায়ী হয়নি। টুন টুন শব্দে ভেঙে গেছে। উঠে দেখি এক টাকার একটা কয়েন প্যান্টের পকেট থেকে পরে ফ্লোরে গড়াগড়ি খাচ্ছে। ব্যাচেলরদের কিছু থাক বা না থাক ঘরে আলু, ডিম, আর পকেট ভরতি কয়েন থাকে। হতে পারে সে স্বপ্ন থেকেই ২৫শ টাকা মানিব্যাগে ঢুকিয়ে নিয়ে চলে আসছি। সব দয়ালের ইচ্ছা যাকে বলে। তো, ফূর্তির গুতায় দিলাম এক ফ্রেন্ডকে ফোন -
.
"হ্যালু দুস্ত তুই কইরে?
"এইতো বের হবো। তুই কই?
"আমি গাড়িতে,চইলা আইছি প্রায়। তারাতারি আয় আইজ পার্টি দিমু কোচিংয়ে।
"কিয়ের পার্টি দিবি?
"হালা আইতে কইছি তারাতারি আয়।
"ওকা আইতাছি থাক....
.
ফোন কাটতেই পিছন থেকে কন্ট্রাক্টর আবার বললো- দেন মামা ওহন দেন...
.
"এই লও মামা।
"৫০০ টেকা ভাংতি নাই মামা। ভাংতি দেন।
"কি বলো? পাঁ'শ টাকও ভাংতি নাই? কি যে করি, আমার কাছেও তো নাই। আচ্ছা দাড়াও দেখছি। ব্যাগ চিরুনি চালান দিয়ে এক টাকা দু টাকার কয়েন কুড়িয়ে মোট ৯ টাকা বের করলাম। গাড়ি ভাড়া ১০ টাকা। এক টাকা কম দিয়েই নেমে পরলাম...
.
কোচিংয়ে গিয়ে দেখি সাত আটজন আড্ডায় ব্যস্ত। আর কেউ নেই। আমায় দেখা মাত্র দু চারজন বলে উঠলো- কি টাইমিং মাইরি । একেবারে খাপে খাপ টাইমে বান্দারাম হাজির। জিজ্ঞেস করলাম- ক্যান কি হইছে?
.
"কি হয় নাই ক? তুই এমনদিন আসছোস যেদিন স্যার নিজেই আসবো না ফোন করে কইছে। সেই বাচা বাচ্ছোস মামা। তোর উপর স্যার সেই ক্ষেপে আছে। কাল অন্তত বলতে পারবি, স্যার আমি আসছিলাম আপনি আসেন নাই...
.
আমার খুশিতো যেন আর ধরে না। ডিংকাচিকা ডিংকাচিকা ড্যান্স চলে আসছে শরীরের মধ্যে। খুশির ঠেলায় বলে দিলাম- এই খুশিতে তোগো লাইগা আইজ পার্টি দিমু। পাশ থেকে আবুইল্লা বলে উঠলো- এহ দুস্ত কসকি? কি পার্টি দিবি?
.
"যা খাইতে চাস আইজ তাই খাওয়ামু চল...
.
শুুরু হয়ে গেলো ওদের হৈহুল্লা। কে দেখে কার লাফালাফি। সাথে আমি তো আছিই। তো গেলাম ছোটখাটো এক রেস্টুরেন্টে। বললাম বাজেট ২৪শ টাকা, এর ভিতর যা পারিস। অমনি আরেক দমকা চিল্লানি দিয়ে যে যার মত অর্ডার দিয়ে মানি ধ্বংসের খেলায় মেতে উঠলো। খাওয়া শেষে বিল দিতে গিয়ে দেখি রাক্ষসগুলা বাজেট ওভার করে ফেলেছে। বিল এসেছে ২৪শ ৭৫ টাকা। সমস্যা হলো না, ২৫শ টাকা তো আছেই। তাও আবার ফ্রী টাকা। সো নো টেনশান ডু ফূর্তি...
.
বিল দেয়ার পর পকেটে রইলো মাত্র ২৫ টাকা। টাকার গরমে এতক্ষন বাঘের গর্জন থাকলেও ক্রমান্বয়ে তা বিলাই'র গর্জনে পরিণত হয়েছে। এমনকি মিউ মিউ শব্দ বের হতেও কন্ঠনালী কেঁপে কেঁপে উঠছে। তবুও ঘন্টাখানি চললো তুমুল আড্ডা। আড্ডা শেষে যে যার বাসার দিকে চলে গেলো। আমিও চলে এলাম আমার বাসার দিকে। রুমে ঢুকতেই বাপ মহোদয় বললো - ঐ টেকা দে, তোর ম্যাছের খাবারের টেকা দিয়া আসি।
.
আমি বলদ হয়ে চেয়ে থাকলাম। বাজানে কয়কি? আমি টাকা পাবো কোথায়? বুড়ো বসয়ে মাথার তারঠার সব গেলো নাকি? বললাম- কিয়ের টেকা দিমু? আমি টেকা পামু কই? আমি কি কামাই করি নকি?😒
.
"ঐ তোরে কামাই করতে কইছিনি? সকালে নিয়া গেছোস যে, ঐটা দে..
"কওকি? সকালে আমি টেকা নিলাম কোন সময়? গাঞ্জা ঠাঞ্জা কিছু খাইছো ঠাইছো নি?
"এক চর দিয়া কান ফাটাই ফালামু বান্দর। আমি চা সিগারেট খাইছিনি জীবনে?
"তাও তো একখান কথা। তয় উল্টাপাল্টা কইতাছো ক্যান? আমি টেকা নিলাম কুন সমায়?
"কুন সমায় মানি? মানিব্যাগ তুই আমারটা নিছোস। ঐটায় যে ২৫শ টেকা ছিলো ঐটা তোর এই মাসের ম্যাছের খাওয়ার টেকা। দে দিয়া আসি।
.
আমার অবস্থা তো এবার ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি। ওহ আল্লাহ এ কি করছি? বাপের মানিব্যাগ কেমনে নিলাম আমি? এর জন্যই বলছিলাম, একই রকম মানিব্যাগ কিনার দরকার নাই।
কে শুনে কার কথা? সে কিনলোই। এখন টাকা পাবো কই? সব তো ধ্বংস করে ফেলছি। এখন বাঁচার উপায়? উপায় একটাই, বাপের সাথে তর্ক করতে করতে দরজার সামনে যাওয়া। নয়তো কপালে খারাপি আছে বুঝতে পারছি।
.
জোর দিয়ে বললাম- নাহ, আমি আমার মানিব্যাগই নিছি।
.
"আমারটা নিছোস কইতাছি।
"কইতাছি তো আমি আমারটাই নিছি।
"খ্রা দেহাইতাছি তোরটা। ঐটা আমারটা। দে মানিব্যাগ দে
"ক কই? দে দেহি তয় কোনটা আমার?
.
বাপে ডয়ারের কাছে গেলো। আমি শার্টটা ঘারে করে এসে দরজার সামনে নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়ালাম। বাপে মানিব্যাগ বের করে বললো- এই দেখ এইটা তোর। দে আমারটা দে। ম্যাছের টেকা দিয়া আসি।
.
আবুল মার্কা হাঁসি একটা দিয়া বললাম- ওহ আচ্ছা আচ্ছা। ভুল হইয়া গেছে। দেও আমারটা দেও, এই নেও তোমারটা । বাপের আমারটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিলো। আমিও তারটা দিয়ে একটু দরজার বাইরে এসে চুপচাপ দাঁড়ালাম। আবহাওয়া ভালো না। এখনই বিদ্যুৎ চমকানির শব্দ শুনা যাবে বলে ধারনা। বলতে না বলতেই বাপের চিল্লানির- ঐ অর্ণইব্বা টেকা কইরে?
.
এক পা দু পা পিছনে হাটতে হাটতে বললাম- কিয়ের টেকা?
"কিসের টেকা মানি? মানিব্যাগে যে টেকা ছিলো ঐ টেকা কই?
"ক কই? কো কোন টেকা তো ছিলো না।
"ঐ দে টেকা দে।
"না থাকলে আমি দিমু কেমনে?
"আবার মিছা কথা? দে কইতাছি। টেকা দে😡
"থাকলে তো দিমু।
"থাকলে তো মানি? কি করছোস?
"ইয়ে মানে....
"কি ইয়ে মানি? কি করছোস ক
.
মাথা চুলকাইতে চুলকাইতে বললাম- মানি বাজান আমি মনে করছি মানিব্যাগ ঐটা আমার। গত রাইতে টেকার স্বপ্ন দেখছি। ভাবছি ঐহান থাইকা মনে হয় মানিব্যাগে ঐ টাকা ঢুকাই নিয়া চইলা আইছি। সেই ফূর্তিতে টেকা তো সব বন্ধুগো খাওয়াই দিছি😰
.
"ওরে হারামির পুত। তুই ম্যাছের টেকা বন্ধুগো খাওইয়া আইছোস?
"আমি কি জানিনি😰
"জানাইতাছি। তোরে আমি ওহনই জানাইতাছি খ্রা😡
.
ওমনি বাপে ঘোড়ার বেগে তেরে আসলো। আমিও হরিণের বেগে ছুটলাম গেটের দিকে। গেটের সামনে যেতেই পা পিছলে ঘ্যাৎ করে পরে অবস্থা লে হালুয়া। 😖 গতকাল রাতের বৃষ্টির জমানো পানির কাদায় শরীর মাখামাখি। সেই সুযোগে বাপে এসে ধরলো শাঁর্ট টেনে- যাবি কই তুই হারামি? শাঁর্ট রেখেই পরিমরি করে দে দৌড়। জমের থেকে নিরাপদ দূরত্বে যেয়ে পরে কথা-নিজে বাঁচলে শার্টের নাম....😭
.
Raj arnob
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ