***কুসুম প্রেম***
.
রুমিকে চড় মারার পর গালে হাত দিয়ে বাড়ি চলে গেল।
এতটা জোরে মারতে চাইনি, তবুও লেগে গেছে। জানি
অভিমানীটা অামার সামনে কান্না করবেনা। বাড়িতে
গিয়ে ঠিকই মুখ লুকিয়ে কাঁদবে।
আজ রুমিকে দ্বিতীয়বারের মত চড় মেরেছি। প্রথমবার
যখন চড় মেরেছিলাম তখন অামি চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ি।
.
রুমির অার অামার বাড়ির মাঝখানটায় অনেক ধানেক
জমি ছিল। রুমির সাথে অামার কোন পূর্ব পরিচয় ছিলনা।
তবে মুখটা চেনা চেনা লাগত, কোথায় যেন দেখেছি।
.
দাদী নানীর কাছে শুনতাম ইঁদুরের গর্তের ধান থেকে যে
চাউল হয় সে চাউলের পিঠা অনেক সুস্বাদু। ধান কেটে
নেয়ার পর জমিতে অনেক ইঁদুরের গর্ত দেখা যায়। ইঁদুর ধান
নিয়ে গর্তে জমা রাখে। যেন পরবর্তী সময়ে গর্তে বসে
খেতে পারে। অার দুষ্টু বাচ্চারা সেই গর্ত খুঁড়ে ধান
নিয়ে অাসে পিঠা খাওয়ার জন্য। আজ অামিও কোদাল
খন্তি নিয়ে বের হয়েছি, ইঁদুরের গর্তের ধান চুরি করব
বলে।
.
কয়েকজনের দেখা পেলাম। তারাও গর্ত খুঁড়া শুরু করে
দিয়েছে। আমি অার দেরী করে কি করব? খর্ত খুঁড়া শুরু
করলাম।
কিছুক্ষন পর একটি মেয়ে এসে অামার পাশের একটি গর্ত
খুঁড়া শুরু করেছে।
অাধা ঘন্টা পা দেখা গেল অামি অার মেয়েটি একই গর্ত
খৃুঁড়তেছি যে গর্তের মুখ দুইটা দুদিকে।
.
দুজনেই দুজনের দিকে রাগান্বিত চোখে তাকালাম।
অামি রেগে বলেই দিলাম...
- এই গর্ত অামি অাগে খুঁড়তেছি, তুই অন্য গর্তে যা।
- তো কি হইছে? অামিওতো অাধা ঘন্টা ধরে খুঁড়তেছি।
- ভালইছে, যা এখান থেকে।
- যাবনা, কি করবি?
বলার সাথে সাথে ঠাস করে চড় বসিয়ে দিলাম তার
গালে। মেয়েটি গালে হাত দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি
চলে গেল। অার অামি মনের সুখে গর্ত খুঁড়তে লাগলাম।
.
গর্ত খুঁড়ার পর ধান অার খুঁজে পেলামনা। ধান না পেলে
বলতাম ইঁদুর বউ বাচ্চা নিয়ে শশুরবাড়ি যাওয়ার সময় ধানও
নিয়ে গেছে। কারন তাদের ঘরেতো অার তালা থাকেনা।
ধানতো পেলামইনা উল্টো মেয়েটাকে চড় দিলাম।
চিনিনা জানিনা, অচেনা একটি মেয়েকে কাঁদানো
অামার মোটেই ঠিক হয়নি।
.
একদিন স্কুলে যাওয়ার পথে তিন রাস্তার মোড়ে
মেয়েটির দেখা পেলাম। বুঝতে বাকি নেই মেয়েটিও
একই স্কুলে পড়ে। এজন্যই সেদিন মেয়েটিকে চেনা চেনা
লাগছিল। অামাকে দেখে মুখটাকে বাঁকা করে ভেংচি
দিয়ে চলে যাচ্ছে। ডাক দিলাম,
- এই মেয়ে ভেংচি দিলি কেন?
কোন কথা না বলে হেটেই চলেছে। সামনে গিয়ে
দাড়ালাম।
- এই কথা বলিসনা কেন?
- ঝগড়াটে ছেলের সাথে কথা বলতে অামার বয়েই গেছে।
- কি? অামি ঝগড়াটে?
- ঝগড়াটে না হলে সেদিন অামার সাথে ঝগড়া করে
অামাকে মারতিনা। অামিও বড় হয়ে তোকে একটি চড়
দিব।
বলেই অাবার হাটা শুরু করল। এবারে অামার মনটা একটু
নরম হল। সত্যিই সেদিন তাকে চড় মারাটা অামার মোটেই
উচিত হয়নি।
.
পরেরদিন তিন রাস্তার মোড়ে বসে অাছি। উদ্দেশ্য
মেয়েটির সাথে কথা বলা। দোকান থেকে এক টাকা
দিয়ে দুইটা লাঠি চকলেট কিনেছি। একটা চকলেট
পঞ্চাশ পয়সা করে বিক্রি করে। আমি স্কুলে যাবার সময়
দুই টাকা করে দিত বাড়ি থেকে।
.
মেয়েটিকে অাসতে দেখে বসা থেকে দাড়ালাম।
মেয়েটি হেটে চলে যাচ্ছে। দ্রুত তার কাছাকাছি গিয়ে
বললাম...
- এই তোর নাম কি?
- নাম দিয়া কাজ কি?
- চড় দিলে দোষ কি?
- কি? তুই অাবারো অামাকে চড় দিবি?
-না দেবনা। নামটা বলনা একটু।
- অামার নাম নাই।
- অাচ্ছা নাই চকলেট খাবি?
- ঐ অামার নাম রুমি।
- এইতো বললি। নে চকলেচ খা।
- অামি তোর চকলেট খাব কেন?
- তুই অামার বন্ধু, তাই দিলাম।
- ইশ, অামার এমন ঝগড়াটে বন্ধু লাগবেনা।
- অাচ্ছা অার ঝগড়া করবনা। এবারতো চকলেট নে।
অনেক্ষন বসেছিলাম তোর জন্য।
- বলছে কে বসে থাকতে?
- কেউ বলেনি, এমনিই।
- কান ধরে যদি বলিস অার ঝগড়া করবিনা তাহলে বন্ধু
হতে পারি। চকলেটও খাব।
- এই যে ধরলাম, এবার নে।
চকলেটটি হাতে নিয়ে রুমি অামার দিকে তাকিয়ে মুচকি
হাসি দিয়ে প্রশ্ন করল.
- তোর নাম কি?
- শ্রাবণ।
দুজনেই পাশাপাশি হেটে স্কুলে যাচ্ছি।
.
প্রতিদিনই তিন রাস্তার মোড়ে বসে থাকতাম রুমির জন্য।
স্কুল ছুটি হলেও একসাথে বাড়ি ফিরতাম। মাঝে মধ্যে
বিকেলেও দেখা হত। কখনো অসুস্থ হয়ে পড়লে অাব্বু
অাম্মুর নিষেধ অমান্য করে হলেও স্কুলে যেতাম। কারন
অামি না গেলে অামার মত রুমিও অামার জন্য অপেক্ষা
করবে।
.
অনেকটা বছর কাটল অনেকগুলো দিন অতিবাহিত হল।
অামরা দুজনই দুই মাস অাগে ইন্টার পাশ করেছি। অামরাও
কেমন ঘনিষ্ট হয়ে পড়লাম। এত বছর পর এসেও অাজ অামি
তাকে চড় দিতে চাইনি। কিন্তু তার কথায় রাগ উঠে গেল।
বিকেলে দেখা হবার পর রুমির মন খারাপ দেখে জানতে
চেয়েছিলাম কি হয়েছে তোর?
রুমির চেহারার দিকে তাকানো যাচ্ছিলনা। মনে হচ্ছিল
অাকাশের সব মেঘ এসে তার চোখে মুখে ভর করেছিল।
যেকোন সময় বৃষ্টি ঝরাবে।
মলিন মুখে উত্তর করল, বাড়ি থেকে বলতেছে অামাকে
অার পড়াবেনা। অামার নাকি এক্ষুনি বিয়ের বয়স
হয়েছে। অামাকে নাকি বিয়ে দিয়ে দিবে।
আমি মুখে হাসির রেখা টেনে দুষ্টুমির ছলে বলেছিলাম,
ভালতো। অাচ্ছা অামাকে তো তোর বাবা চিনেনা। সেই
হিসেবে অামিকি দাওয়াত পাবনা?
মূহূর্তেই রেগে গিয়ে বলতেছে, অামি তোকে ছাড়া অন্য
কাউকে বিয়ে করতে পারবনা। যদি জোর করে তাহলে
গলায় দড়ি দেব।
বলার সাথে সাথে রুমিকে চড় মারলাম। অামি অাত্মহত্যা
মোটেও পছন্দ করিনা। রুমি গালে হাত দিয়ে বাড়ির পথে
রওনা হল।
.
দুদিন রুমির কোন খুঁজ নেই। এতবার ফোন দিলাম তবুও
কেটে দেয়।
দুইটাদিন নিজেও ঠিকমত ঘুমোতে পারিনি। অামিওযে
রুমিকে ভালবাসি এটা তাকে বলা হয়নি। অামিও চাইনা
রুমি অন্য কারো হয়ে যাক।
.
ধানের জমির পাশে পুকুরপাড়ে দাড়িয়ে অাছি। রুমি
ফোন করে বলেছে তার সাথে যেন শেষ দেখা করে যাই।
রুমির নাকি বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।
.
মিনিট দশেক পর রুমি এল। গাছের সাথে হেলান দিয়ে
দাড়িয়ে অাছে। কেউ কাউকে কিছু বলছিনা। নিরবতা
ভেঙ্গে রুমি জিজ্ঞেস করল,
- কিরে তোর মন খারাপ কেন? তোরতো খুশি হবার কথা।
আমি তোকে অগ্রীম দাওয়া দিচ্ছি, তুই অামার বিয়েতে
অাসিস।
- চুপ করবি তুই?
- চুপ না করলে কি অাবার মারবি?
- এভাবে বলছিস কেন?
- তো কি করব? ভালবাসার অপরাধেইতো মারলি।
- দেখ অামিও তোকে ভালবাসি। অাত্মহত্যার কথা শুনে
মেরেছি।
অামার কথা শুনে এবার রুমি হাসতে শুরু করল। কারণ খুঁজে
না পেয়ে রাগ দেখিয়ে জানতে চাইলাম কি হয়েছে?
বলতেছে
- তোর এই একটি কথা শোনার জন্যই তোকে অামার বিয়ের
কথা বলেছি। গত সপ্তাহে সেই চুড়িওয়ালী মেয়েটার
সাথে তোকে হেসে হেসে কথা বলতে দেখে মনের ভিতর
ভয় ঢুকে গেল। তাই নিজেই তোকে ভালবাসার কথা
জানিয়ে দিলাম। ভালবাসি তোকে অনেক বেশী।
কথাটা শুনে একটু এগিয়ে গিয়ে আমিও বললাম
- অামিও ভালবাসি। একটু না অনেক বেশী।
Collected
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ