'অনুভূতি'
.
.
.
তিশা ক্লাসে ঢুকেই দেখে নতুন একটা ছেলে সামনের দিকে বসে আছে । এর আগে কখনো তাকে দেখে নি। তিশা ছিল খুব দুষ্টু স্বভাবের । নতুন কাউকে পেলেই তাকে নিয়ে মজা করতো। তো সেরকম যদি কেউ একজনকে পায় তাহলে কি আর বসে থাকতে পারে ।
তাই সে মনে মনে ভাবলো আজকে সে এই
ছেলেকে মুরগি বানাবে। তাই ক্লাসে ঢুকেই সেই ছেলের পাশে গিয়ে বসলো ।
তারপর...
.
- হায়! (তিশা)
- ...??(চুপ করে বসে আছে ছেলেটি)
- আমি তিশা ।(খুব ভাব নিয়ে)
- তো আমি কি করবো?
.
কথাটা শুনে তিশা পুরাই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। ওদিকে তার বন্ধুরা মিটমিট করে হাসছে । তারপর ক্লাস শেষে সবাই একজায়গায় বসে। তিশার ফ্রেন্ডরা তিশা কে নিয়ে মজা করছে।
.
- তোকে তো ছেলেটা পাত্তাই দিলনা ম। এই
প্রথমবার তোকে কোনো ছেলে গোল খাইয়ে দিলো। আসলে মানতে হবে ছেলেটা...
- চুউউউউউপ কর তোরা।
.
চিৎকার দিয়ে তিশা তার বান্ধুবিদের
কথা মাঝ পথে থামিয়ে দিলো। তারপর তিশা
বাসায় চলে আসলো। রাতে তিশা ঠিক করলো এই ছেলেকে শাস্তি দিবেই। তাই পরেরদিন ক্লাসে গিয়েই ছেলেটার সম্বন্ধে সব খবর জোগাড় করলো।
.
ছেলেটার নাম আকাশ । এখানেই ব্যাচেলর থেকে
পড়াশুনা করে । ছেলেটা খুব গরীব ঘরের। পড়াশুনায় অনেক ভালো। খারাপ কোনো অভ্যাস নেই। আকাশের বিষয়ে এইসব খবর শুনে তিশার মন অনেক নরম হয়ে যায়। তাই তার উপর প্রতিশোধের বদলে তাকে ভালোবেসে ফেলে ।
.
কিন্তু সমস্যা হল তাকে কিভাবে বলবে। সে তো তিশার সাথে কথাই বলে না। যেভাবেই হোক কথা গুলো বলতে হবে। তাই সে আকাশকে খুঁজতে থাকে। কিন্তু কোথাও খুঁজে পাচ্ছে না। তাই সে অনেক চিন্তিত হয়ে পরে। অবশেষে গিয়ে দেখে আকাশ ক্যাম্পাসের এক জায়গায় একা একা বসে আছে। তাই সে তৎক্ষনাত সেখানে ছুটে চলে যায়। তারপর...
.
- তুমি এখানে বসে আছো। আর আমি তোমাকে সব জায়গায় খুঁজছি। (তিশা)
- কেন আমাকে খুঁজছো কেন ? আমাকেও কি মুরগি বানাবে। (আকাশ)
- সবসময় আমাকে তোমার এমন মনে
হয় কেন? আমি অনেক খারাপ তাই না! (খুব নরম ভাবে কথাগুলো বলছে তিশা)
- আসলে ঠিক তা না। তুমি সবসময় এমন করো তো তাই। (আকাশ)
- আচ্ছা এরপর থেকে আমি ভাল হয়ে যাব। কখনো কারও সাথে এরকম করব না। তবে একটা শর্ত আছে! (তিশা)
- কি শর্ত? (আকাশ)
- শর্তটা হলো... তোমাকে আমার সাথে বন্ধুত্ব করতে হবে। (তিশা)
- শুধু এই শর্ত! আচ্ছা ঠিক আছে। (আকাশ)
- তাহলে আজকে থেকে আমরা বন্ধু। (তিশা)
-----আচ্ছা ।(আকাশ)
.
তারপর থেকে বন্ধুত্বের শুরু। তিশা তারপর
থেকে আর কাউকে নিয়ে মজা করেনা। তিশার
বান্ধুবিরা তো তিশার আচরণে পুরাই মুগ্ধ। আর এদিকে তিশারও যে আর অপেক্ষা সইছে না। তাই সে রাতে ফোন দেয় আকাশের কাছে ।
.
- হ্যালো আকাশ। (তিশা)
- হ্যাঁ তিশা বলো। কিছু হয়েছে? এত রাতে ফোন করছো কেন। (আকাশ)
- না তেমন কিছু না। তুমি কি কাল বিকালে আমার সাথে দেখা করতে পারবে। (তিশা)
- হ্যাঁ পারব। কিন্তু কেন? (আকাশ)
- তা দেখা হওয়ার পরই বলব। (তিশা)
- আচ্ছা ঠিক আছে। (আকাশ)
- আর হ্যাঁ শুনো, তোমার কি কোনো
নীল পাঞ্জাবী আছে? (তিশা)
- হ্যাঁ । কিন্তু কেন? (আকাশ)
- তুমি সবসময় কেন কেন করো কেন? যা বলছি সেটা করো।
.
কথাগুলো বলেই তিশা ফোনটা কেটে দিল । আকাশও বাধ্য ছেলের মত ঠিকানা অনুযায়ী নীল পাঞ্জাবী পরে চলে গেল। কিন্তু আকাশ সেখানে গিয়ে পুরাই অবাক হয়ে গেল। কারন আজকে তার জন্মদিন। আর তিশাকেও অনেক সুন্দর লাগছে। সেও একটা নীল শাড়ি পরে এসেছে। যাইহোক তারপর তারা কেক কেটে অনেক আনন্দ করলো। দু’জনেই বসে আছে একটা বেঞ্চের উপর । কেউ কোনো কথা বলছে না। তারপর...
.
- আচ্ছা আকাশ তুমি কি কখনো কাউকে ভালোবেসেছ। (তিশা)
- না। এখন পর্যন্ত কাউকে ভালোবাসিনি। কিন্তু হঠাৎ একথা কেন? (আকাশ)
- আমি আজকে তোমার কাছে একটা জিনিস চাইবো, দিবে! (তিশা)
- কি জিনিস? (আকাশ)
- আগে বলো দিবে কি না? (তিশা)
- আচ্ছা দিবো। এখন বলো। (আকাশ)
- তুমি কি আমাকে ভালোবাসতে পারবে....! (তিশা)
.
আকাশ কথাটা শুনে মুহূর্তের জন্য নির্বাক হয়ে গেল। কিছুই বলতে পারছে না। শুধু মনে মনে ভাবছে কি বলবে তিশাকে? তারপর...
.
- কি কিছু বলছ না কেন? কিছু তো একটা বল! (তিশা)
- দেখো তিশা, তুমি অনেক ধনী ঘরের মেয়ে। আর আমি... আমার সম্পর্কে তুমি কিছুই জানো না। আমি একটা এতিম। আমার মা-বাবা কেউ নেই। আমি আমার চাচার কাছে মানুষ হয়েছি। এটা অসম্ভব। তুমি আমাকে
ভুলে যাও । (আকাশ)
- তোমাকে ভুলে যাওয়ার জন্য ভালোবাসিনি। তোমার যদি কেউ না থাকে তারপরও আমি তোমাকে ভালবাসবো। বিনিময়ে শুধু তুমি একটু ভালোবাসা দিও। (চোখ দিয়ে অশ্রু জড়ছে আর কথা গুলো বলছে তিশা)
.
অতঃপর আকাশ কিছু না বলেই তিশাকে জড়িয়ে ধরেছে। তিশাও আকাশকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে। তিশা অনেক কাঁন্না করছে।
.
এভাবে চলতে থাকে তাদের ভালোবাসা। কেউ কাউকে ছাড়া থাকতে পারে না। রাতে কেউ কারো সাথে কথা না বলে ঘুমাতে পারে না । কখনো একটু খুঁনসুটি আবার কখনো একটু অভিমান...! এভাবেই সামনে অগ্রসর হতে থাকে তাদের ভালোবাসা।
.
কিছুদিন ধরে তিশা ক্যাম্পাসে আসে না। কোথাও দেখাও করতে আসে না। ফোন সুইচ অফ। তিশার বান্ধবীরাও কিছু বলতে পারে না। সেজন্য আকাশ অনেক চিন্তিত হয়ে পরে।
.
প্রতিদিনের মত আজও আকাশ তিশাকে ফোন দিয়ে যাচ্ছে। আজকে ফোনটা খোলা পেয়েছে। তবে রিং হচ্ছে কিন্তু কেউ ধরছে না।
.
হঠাৎ কে যেন ফোনটা রিসিভ করলো আর বললো এই ফোনে যেন আর কখনো কল না দেয়। কারণ তিশার নাকি বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।
.
কথাটা শুনা মাত্রই আকাশের হাতটা থেকে ফোনটা পরে গেছে। কারন এই কথার জন্য আকাশ মোটেও প্রস্তুত ছিল না। আকাশ বসে বসে চোখের পানি ফেলছে আর তিশার ছবি গুলো একের পর এক দেখছে।
.
ওদিকে তিশাও অনেক কাঁন্না করছে । কারণ
তার সামনে বসেই তার এক বান্ধবীকে দিয়ে সে
এই কথা গুলো বলিয়েছে। কারণ তার কিছু করার ছিল
না। পরিবারের সম্মানের জন্যই তাকে
এই বিয়েতে রাজি হতে হয়েছে ।
.
কালকে তার বিয়ে সেই জন্য সে তার রুমের
মধ্যে বসে অনেক কাঁন্না করছে । এমন সময়
তার বাবার উপস্থিতির কারণে তাড়াতাড়ি
চোখের পানি মুছে তার বাবাকে বললো...
.
- কিছু বলবে বাবা! (তিশা)
- হ্যাঁ। আগে বল তুই কাঁন্না করছিলি কেন ?
- কই। না তো,,, চোখে ময়লা গিয়েছিল তাই চোখ দিয়ে পানি পড়ছে ।
- আচ্ছা তুই কাউকে ভালোবাসিস ? সত্যি
করে বল মা।
- তিশা কাঁন্না করতে করতে বললো, হ্যাঁ
বাবা। আমি একজনকে অনেক ভালোবাসি। ওর
নাম আকাশ। আকাশ আমাকে তার নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসে। হয়তো আমার বিয়ের কথা শুনে কষ্টে কোনো রাস্তার বাঁকে পরে আছে। না হয় কোনো সিগারেটের আগুনে নিজেকে পুড়িয়ে ফেলছে। আবার না হয় নিজের রুমে বসে আমার জন্য চোখের পানি ফেলছে । ও আমাকে অনেক ভালবাসে। আমি ছাড়া ওর কেউ নেই বাবা। আমি ছাড়া ও বড়ই একা বাবা।
.
কথাগুলো বলে কাঁন্না করতে করতে তিশা তার বাবাকে জড়িয়ে ধরে। তারপর তার বাবা বলল...
.
- মা তুই কাঁন্না থামা। তোর মনটা সত্যিই মহান। তুই নিজের ভালবাসাকে মাটি দিয়ে আমাদের সম্মানের কথা ভেবেছিস । আজকে আমি বলছি তুই যাকে ভালোবাসিস তার কাছে যা।
.
কথা গুলো বলতে বলতে তিশার বাবাও কেঁদে ফেলছে।
তারপর সেই রাতেই তিশা আকাশের কাছে চলে যায়। গিয়ে দেখে আকাশ চোখের পানি ফেলছে আর তাদের তোলা ছবি গুলো দেখছে । তিশাকে দেখে আকাশ তার সামনে চলে আসে । তিশা আকাশকে জড়িয়ে ধরেছে আর বলছে “তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়ে ফেলেছি আর কখনো এরকম হবে না। আমাকে ক্ষমা করে দাও।”
.
কথাগুলো বলছে আর কাঁন্না করছে তিশা তারপর আকাশও তিশাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে। আর দু’জনেই অঝোরে কাঁন্না করছে ।
.
এরপর তাদের বিয়ের মাধ্যমে পূ্ণতা লাভ করে
তাদের ভালোবাসা।
.
.
পরিশেষেঃ- যদি সবার বাবাই এরকম হতো, তাহলে কারো ভালোবাসাকেই মাটি চাপা দিতে হতো না। আবার কাউকে হয়তো নিজের জীবনও শেষ করতে হতো না। পৃথিবীতে সবসময় ভালোবাসা বিরাজমান থাকতো।
.
.
বিঃদ্রঃ গল্পটা পুরোটাই কাল্পনিক। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।
.
.
'সমাপ্ত'
.
.
Writer : অভিশপ্ত মানব (পাতিহীন চা)
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āϏোāĻŽāĻŦাāϰ, ā§§ā§§ āϏেāĻĒ্āĻেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§
1356
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
ā§Ŧ:ā§§ā§ AM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ