āϏোāĻŽāĻŦাāϰ, ā§§ā§§ āϏেāĻĒ্āϟেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

1355

#ঈদ_স্পেশাল
,
---ঃলালপরি নীলপরিঃ---
''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''
আকাশ মনি (অব্যর্থ বৈজ্ঞানিক)
,
,
---ও মাগো গেলাম রে.........
---স্যরি, স্যরি।
---ঐ মিয়া কিসের স্যরি? চোখে দেখেন না?
---আমার দেখা না দেখায় কি আসে যায়। গুতা তো আর আমি দেই নাই।
---আপনার গরু কি চোখে দেখে না নাকি?
---চোখে দেখে বলেই তো সমস্যা। না দেখলে তো সমস্যাই হইতো না।
---মানে কি?
---জা্নেন না এটা কুরবানীর মৌসুম? লালপরি সেজে রাস্তায় বেড়িয়েছেন কেন?
---ঐ মিয়া আমি লালপরি সাজি না কালা পরি সাজি আপনার সমস্যা কি?
---সমস্যা আমার না। সমস্যা আপনার মাথায়।
---আজে বাজে কথা বলবেন না। তাছাড়া কুরবানীর সাথে লালের সম্পর্ক কি?
---কুরবানীর সাথে লালের সম্পর্ক নাই। তবে কুরবানীর গরুর সাথে ঠিকই আছে।
---কি সম্পর্ক?
---জানেনা না, ষাড় গরু লাল রঙ দেখতে পারে না। লাল দেখলেই এরা ক্ষেপে যায়। আর ক্ষেপে গেল তো গুতা খেতেই হবে।
---আমার মনচায় আমি লাল পড়বো, কালো পড়বো। আপনি আপনার গরু সামলিয়ে রাখতে পারেন না? যত্তসব।
---এই মিসেস লালপরি, যত্তসব না কত্তসব। এসব বাদ দিয়ে আমাকে রাস্তা দেন, বাড়ি যাবো। এমনিতেই সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে।
---এক্সকিউজ মি। আমি মিসেস না। আর আমার নামও লালপরি না।
---সে আপনি যাই হোন। লালপরি বা ভুতপরি। আমি আপনার নাম কি করে জানবো?
---নাম না জানলে না জানবেন। তাই বলে ভুল-ভাল নামে ডাকবেন নাকি?
---নাম না জানলে তো যেটা মনচায় সেটাই ডাকবো।
---তাই?
---তাহলে আমিও ডাকি?
---ডাকেন।
---গরু। মিষ্টার গরু।
---কে মিষ্টার গরু?
---কে আবার? আপনি মিষ্টার গরু।
---আমি কীভাবে মিষ্টার গরু হলাম?
---আমি যদি লাল জামা পড়ায় লালপরি হতে পারি তাহলে গরু হাতে থাকায় আপনিও মিষ্টার গরু।
---লালপরি তো সুন্দর নাম। আর মিষ্টার গরু তো বাজে।
---কে বললো বাজে। আমার স্যার তো প্রায়ই আমাদের গরু বলেন। তাই বলে কি আমরা বাজে।
---বাজে নয়তো কি? বাজে না হলে কি আর এই সন্ধ্যা বেলায় আমার মতো অপরিচিত একজনের সাথে এত কথা বলতেন?
---আমি কি আপনার সাথে যেচে কথা বলতে আসছি নাকি?
---আমি মনে হয় আসছি?
---না আপনি আসেন নাই। আপনার গরু যেচে আমারে গুতা দিছে।
---হে হে হে......
---হাসেন ক্যা?
---গরু কি কোনদিন কাউরে অনুমতি নিয়া গুতা দেয় নাকি?
---যেমন অভদ্র গরু, তেমন তার মালিক।
---অভদ্র বলে গালি দিচ্ছেন?
---না ভদ্র বলে প্রশংসা করছি।
---হে হে হে। দেখলেন তো আমি ভদ্র। এবার আমারে যাইতে দেন।
---হ্যা হ্যা আপনি ভদ্রের গোষ্টী।
---তাইলে যাই?
---না।
---ক্যান?
---জরিমান দিতে হবে।
---কিসের জরিমানা?
---আপনার গরু যে আমার কোমর ভাইঙ্গা দিলো, আর আমার ওড়না ছিড়ে দিলো তার জরিমানা।
---ঠিক আছে দেন আমি মালিশ করে দেই?
---কি? কুত্তা। তুই আমারে মালিশ কইরা দিবি। বদমাইশ।
---বারে! আমার কি দোষ? আপনিই তো বললেন।
---তাই বলে এরকম অসভ্যতামি করবেন?
---আচ্ছা মালিশটা নাহয় অসভ্যতামি। আপনি আপনার ওড়নাটা দেন আমি সেলাই করে পরে দিয়ে যাবো।
---কি? আপনি আমার ওড়না নিতে চান। আপনিতো আসলেই অভদ্র। আপনার গোষ্টী অভদ্র। মেয়ে মানুষ দেখলেই গা চুলকায় না। আজ আমি তোকে এমন শিক্ষা দেব যে সারাজীবন মনে থাকবে। অভদ্র, বজ্জাত, লুচ্চা, বদমাইশ। খাড়া আমি আব্বারে ডাকতাছি।
,
,
বলেই গলা ফাটিয়ে আব্বা আব্বা বলে চিৎকার করে যাচ্ছে। আজ মনে হয় মান সম্মান সব যাবে। ভদ্র ছেলে বলে এলাকায় আমার যে সুনাম আছে সেটা আর বোধহয় থাকবে না। আজ আমাকে গনপিটুনি খেতে হবে। অন্যসময় হলে পালিয়ে যেতাম। কিন্তু এখন সেটাও করতে পারছি না। কি করে পারবো? আমার হাতে যে কুরবানীর গরুটা রয়েছে। গরু নিয়ে তো আর পালানো সম্ভব না।
পাশের গ্রামের হাট থেকে গরু কিনে বাড়ি ফিরছিলাম। আমি একাই। সাথে আর কেউ নেই। যদিও আব্বা আর ভাইয়া ছিলো। কিন্তু আব্বা আগেই চলে গেছে, আর ভাইয়া বাজারে কি কজে যেন আটকে পড়েছে। এই কুরবানীর গরুর জন্য না আজ আমাকেই কুরবানী হতে হয়। জীবনে অনেক গনধোলাইয়ের কাহিনি শুনেছি। কিন্তু এবার মনে হয় গনধোলাই আমাকেই খেতে হবে। কি মেয়েরে বাবা। একটু গুতা লেগেছে আর তাতেই কিনা এত কিছু। আরে গুতা তো আমি দেই নাই। গরু দিছে। গরু তো আর মানুষ ন। যে আদব কায়দা শিখবে।
,
,
---আরে আস্তে আস্তে।
---মানুষ শুনতে পাবে।
---শোনানোর জন্যই তো ডাকছি।
---আরে বললাম তো স্যরি। আর তাছাড়া গুতা তো আমি দেই নাই দিছে গরু। আমি দিলে নাহয় একটা কথা ছিলো।
---কি তুই আমাকে গুতা দিতে চার। গরুর বাচ্চা।
---দেখেন আমি গরু হইতে পারি। তবে গরুর বাচ্চা না। আমার আব্বা খুবই ভালো মানুষ।
---আর ভালো মানুষ। আব্বা ও আব্বা কই গেলা। দেইখা যাও......
---কি হইছে আকাশ?
,
হঠাতই ভাইয়ার গলা শোনা গেল। উনি মনে হয় এসে পড়েছেন।
,
---দেখনা দাদা(আমি ভাইয়াকে দাদা বলে ডাকি) এই মেয়ে কি উলটা পালটা কথা বলছে?
---কি উল্টা-পাল্টা কথা। আর তুই এখনো বাড়িতে যাস নি কেন? এখানে কার সাথে কথা বলছিস? এই মেয়ে কে তুমি?
---তুমি কে বাবা?
,
একজন মধ্যবয়স্ক লোকের কন্ঠ শোনা গেল। মনে হয় মেয়েটার বাবা। দাদা জবাব দিলেন......
,
---জি চাচা, আমি সেলিম।
---ও সেলিম। তোমার বাবার নাম নুরুল ইসলাম না?
---জি চাচা। ভাল আছেন?
---হ্যা বাবা আমি ভালো আছি। তোমার কি খবর? আর এইছেলেটা কে?
---চাচা এটা আমার ছোট ভাই আকাশ। পলিটেকনিকে পড়ে, শহরে থাকে।
---ও। তা তোর কি হয়েছে অবু? তুই আমায় ডাকছিলি কেন?
,
,
তাহলে মেয়েটার নাম অবু। নামটা তো সুন্দরই। কিন্তু চেহারাটা কেমন? না অন্ধকারে চেহারাটা ভালো দেখা যাচ্ছে না। তবে যাই হোক। যেই মেয়ের ব্যবহার এরকম হতে পারে‌ আর যাই হোক তার চেহারা দেখতে সুন্দর হতে পারে না। আর আধো আলোতে দেখেই মনে হচ্ছে মেয়েটা অতটা ফর্সা না।
,
,
---না আব্বা কিছু না। আমি রাস্তায় দাড়িয়ে ছিলাম হঠাত উনার গরু আমাকে গুতা দিলো। আর আমি তা বলাতে উনি আমাকে উলটা পালটা কথা বলা শুরু করেছেন।
---কি কথা?
,
না মেয়েটাকে আর কথা বলার সুযোগ দেয়া যাবে না। আমাকেই বলতে হবে। নাহলে সব কিছুই আবার উলটে যাবে।
,
অতঃপর আমি সব ঘটনা খুলে বললাম। আর আংকেল মানে চাচা, মানে অবুর বাবা বললেন.........
,
---ঠিক আছে যাও। ওর কথায় তুমি কিছু মনে করবে না। ও একটা পাগল।
---না না। ঠিক আছে।
,
অবশেষে যাবার অনুমতি পেলাম। তবে যাবার আগে দুপক্ষের মধ্যেই ঈদের দাওয়াত বিনিময় হলো। অবুর বাবা একটু জোড় দিয়েই বললো তাদের বাড়ি আসার কথা। আমিও তাদের আসতে বললাম। কিন্তু একটা বিষয় কিছুতেই মাথায় ঢুকছে না। মাত্র একদিনের পরিচয়ে একটা মানুষ কিভাবে এত জোড় দিয়ে আসার কথা বলতে পারে। এর মধ্যে নিশ্চয় কোন কাহিনি আছে। যেটা আমি জানি না। কিন্তু আমাকে জানতেই হবে।
যাইহোক। দাদাকে নিয়ে বাড়ি ফিরলাম। কাল ঈদ। বাড়িতে অনেক কাজ। তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে হবে। না হলে আমার আব্বা আবার রামায়ন-মহাভারত শুরু করে দেবেন।
আমি গরুর রশিটা নিয়ে হেটে চলেছি। পেছনে তাকাতেই দেখলাম অবু আমার দিকে তাকিয়ে আছে। যদিও অন্ধকার তবুও ওর চোখ দুটি আমার কাছে স্পষ্টভাবেই ধরা দিচ্ছিলো। ওর চোখে কিছু একটা ছিলো। যেটা এই মুহুর্তে আমার মাথায় আসছে না।
হতে পারে আমার উপর প্রতিশোধ না নেয়ার রাগ কিংবা অভিমান। আচ্ছা রাগ আর অভিমান কি এক জিনিস? ধ্যাত্তেরি আমি কিসব আজে বাজে কথা ভাবছি। সব বাদ এখন তাড়াতাড়ি পা চালাতে হবে।
,
,
ঈদের দিন
আজ ঈদ। খুব সকালে ঘুম থেকে উঠেছি আজ। একেবারে ৭.৩০ এ। আপনারা হয়তো ভাবছেন যে এ আর এমন ভোরে কি? আরে যে ছেলেকে ৯ টার আগে ঘুম থেকে টেনে তোলা যায় না। তার কাছে সাড়ে সাতটা অনেকটা বেশিই ভোর।
যাইহোক, আজ অনেক কাজ আছে। আপাতত গোসল করে ঈদগাহে যাওয়ার জন্য তৈরি হতে হবে। কিন্তু তারও আগে কিছু ছুরি-কাচি ধার দিতে হবে। কারন একটু পরে কাজে লাগবে। আরে না আমি মারামারি করার কথা বলছি না। কুরবানীর পশু কাটতে তো কিছু অস্ত্র লাগবে নাকি? আমি সেটার কথাই বলছি।
কাজ সেরে নামাজ পড়ে চলে এসছি। এখন কুরবানীর সময়। দেখতে দেখতে এটাও শেষ হয়ে গেলো। এখন কুরবানীর গোশত রান্নার কাজ চলছে। আম্মা, আপু, চাচী সবাই রান্নায় ব্যাস্ত। এই ফাকে আমি একটু ফেসবুকিং করছিলাম। হটাতই চোখ গেল বাড়ির দেউড়ির দিকে। সেখানে আমার চোখ আটকে গেলো। এক নীলপরি ঢুকছে আমাদের বাড়িতে। যদিও সাথে আরো কিছু লোকজন আছে। কিন্তু তাদের দিকে খেয়াল দেয়ার মতো সময় আমার নাই। আমি নীল পরির অথৈ নীলে নীলায়িত। যাকে বলে ক্রাশ। একটু ভালো করে পর্যবেক্ষন করে দেখলাম এটাই সেই লালপরি। মানে অবু। আমার অবু।
ধ্যাত্তেরি কি বলছি আমি আমার অবু হয় কেমনে? আমি তো কালই তাকে প্রথমবার দেখেছি। তবে অবু আমার হলে মন্দ হতো না। আমি নীলপরির জামাই ভাবতেই লাগছে। অবশ্য অবু লালপরি না নীলপরি তা ঠিক করতে পারছি না।
সবাই যখন বাড়িতে ঢুকেই মুল ঘরের দিকে যাচ্ছে, অবু আসছে আমার দিকে। উঠোনের আম গাছটা নিচে আমি যেখানে বসে আছি অবু সেখানেই আসছে। আমি ওর দিকে একটা চেয়ার এগিয়ে দিলাম। ও বসতে বসতে বললো......
,
,
---কিহে মিষ্টার গরু। কি করছেন?
---আরে লালপরি যে। তা হঠাত করে রঙ চেঞ্জ করলেন কেন? লালই তো ভালো দেখাচ্ছিলো।
---কেন এখন কি আমাকে খারাপ দেখাচ্ছে?
---যদি বলি দেখাচ্ছে, তাহলে মিথ্যা বলা হবে।
---থেঙ্কু।
---ওয়েলকাম। তা হঠাত আমাদের বাড়িতে কি মনে করে?
---মানে কি? ডেকে এনে অপমান?
---আমি আপনাদের কখন ডাকলাম?
---কালই তো দাওয়াত দিলেন। এখনি ভুলে যাচ্ছেন।
---দিয়েছিলাম নাকি? তাহলে ঠিক আছে।
---ঠিক থাকলেই কি আর না থাকলেই কি আমি আপনার কথাতে আসিনি, সো আপনার কথাতে যাচ্ছিও না। ওকে।
---আরে আমি চলে যাওয়ার কথা কখন বললাম?
---বলেন নি। তবে ভাব ভঙ্গিতে বোঝা যায়।
---আপনি মানসিক ডাক্তার নাকি? মানুষের মনের ভাবও বোঝেন।
---হি হি হি। বলতে পারেন।
---আকাশ অবন্তিকাকে নিয়ে খেতে আয়।
আম্মার গলা তিনি আমাদের খেতে ডাকছেন। এই আম্মাটাও না ডাকার আর সময় পেলো না। দেখছে একটু কথা বলছি তাতেই ডাকাডাকি শুরু। তবে যাই হোক এতক্ষনে আমি ওর পুরো নামটা জানতে পারলাম। ডাক নামের চাইতেই এটা আরও সুন্দর।
,
,
খাচ্ছে অবন্তিকা। বাড়ির ছোট ছেলে হিসাবে মেহমানদের খাওয়ানোর দায়িত্বটা আমার উপরেই পড়েছে। আমি মেহমানদের খাওয়াচ্ছি। এমন সময় আম্মা বললেন............
---আকাশ অবুকে একটু মাংস দে।
---নিন মাংস নিন।
---আরে না না। আর লাগবে না।
---আরে খাননা। আগে গুতা খাইছেন এখন মাংস খান। হি হি।
---তা তো খাবোই। আপনিও তো এই কারনে কম বকা খাননি। আপনিও খান।
---তাতো খাবোই। আগে আপনি খান।
খাওয়া দাওয়া শেষ। এবার আমার খাবার পালা। আমি খেতে বসেছি। আম্মা খাবার দেবে। কিন্তু না। অবন্তিকাই আমাকে খাবার জন্য ভাত এবং অন্যান্য জিনিষগুলো বেড়ে দিলো। ওর ভাব ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে ওর এ বাড়ির বউ। কিন্তু এ বাড়ির বউ হতে হলে এ বাড়ির কোন ছেলের বউ হতে হবে। আর আমি ছাড়া এ বাড়ির আর কোন ছেলে বিয়ের বাকি নেই। তাইলে কি অবন্তিকা আমার বউ। হি হি হি হাসি আর থামছেই না। খাবার সময়ই হেসে উঠলাম। ফলে যা হবার তাই হলো। খাবার গলায় আটকে গেলো। আর আমি......
---খেক... খেক... খেক......
---কি হলো? নেন পানি খান।
আমি পানি খেলাম। আমি খাই নি অবন্তিকাই খাইয়ে দিলো। আমি শুধু ঢোক গিলার কাজটা করলাম। সিনেমাতে যেমন নায়ককে যেভাবে নায়িকা মুখে তুলে খাইয়ে দেয় অনেকটা সেইরকমভাবে। আহ কি রোমান্টিক দৃশ্য।
---এখন ঠিক আছে?
---হুম।
---আস্তে আস্তে খেলেই তো পারেন।
---আস্তে আস্তেই তো খাচ্ছিলাম। কিন্তু হঠাতই একটা কথা মনে করে হাসি উঠে গেল।
---কি কথা?
---এখন বললে তো আবার আগের অবস্থা হবে।
---হোক সমস্যা কি? আমি আছি না?
---আপনি কি করবেন?
---এভাবে পানি খাইয়ে দেব।
---তাই?
---হুম।
,
,
খাওয়া শেষ। আম্মা আমাকে বললো অবন্তিকাকে গ্রামটা ঘুরিয়ে দেখাতে। আরে যেই মেয়ে সারাজীবন গ্রামে থাকে তাকে কিনা গ্রাম ঘুরিয়ে দেখাবে আমার মতো একটা শহুরে ছেলে। যে কিনা গত তিন বছর ধরে ঈদের সময়ও বাড়িতে আসেনি। ভাবতেই আমার হাসি পাচ্ছে। তার চেয়ে বরং উল্টোটা বললেই হতো। কিন্তু মেয়েটা যেহেতু অবন্তিকা তাই আর না করলাম না।
,
,
দুজন হাটছি পাশাপাশি, গ্রামের রাস্তা ধরে। বিকেলবেলা। মনোরোম পরিবেশ। পাখির কিচির মিচির। সেই সাথে পাশে অবন্তিকার মতো এক সুন্দরী মায়াবতী কন্যা। হ্যা মায়াবতী। অবন্তিকা যতটা না তার গায়ের রঙ্গের জন্য সুন্দর, তার চাইতে বেশি সুন্দর ওর মায়াবী চেহারার জন্য। বড্ড মায়াবী ওর চেহারাটা। একদম নিষ্পাপ। দেখলেই মনে হয় গাল দুটো টেনে দেই।
,
---স্যরি?
---কেন?
---কালকের ঘটনার জন্য। আসলে দোষটা আমারই ছিলো।
---এটা এখন বুঝতে পারছেন?
---হুম। আসলে কাল আমি আপনাকে চিনতে পারি নি।
---চিনতে পারলে কি করতেন?
---কি করতাম দেখবেন?
---হুম দেখান।
---রাগ করবেন না কিন্তু।
---আচ্ছা। দেখা.........
আমার কথাটা শেষ হবার আগেই আমার ঠোট দুটো যেন জড়িয়ে গেলো। আমি আমার ঠোটে কারো নরম ঠোটের অস্তিত্ব খুজে পেলাম। কেউ আমাকে জড়িয়ে ধরে আছে। সেই কেউটা আর কেউ নয়। অবু, মানে অবন্তিকা। ওর ঠোটের ছোয়ায় আমি পাগল প্রায়। কিন্তু নিজেকে সংযত করে মুখে রাগের ভাব এনে ওকে ছাড়িয়ে দিয়ে বললাম বললাম.........
---এটা কি হলো?
---আপনি কিন্তু বলেছিলেন আপনি রাগ করবেন না।
---তাই বলে আপনি একজন পর পুরুষকে দিনে দুপুরে ইয়ে করবেন?
---কি আর করলাম। শুধু চুমু খেয়েছি। আর যাকে তাকে তো খাইনি? আমার হবু বরকে খেয়েছি।
---মানে কি? কিসব আবোল তাবোল বলছেন? কে হবু বর? কার হবু বর?
---আপনি হবু বর। আমার।
---দয়া করে একটু ঝেড়ে কাশুন। আমার মাথায় কিছুই ঢুকছে না।
---ঢুকতে হবে না। আগে আমার কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর দেন। তাইলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।
---আচ্ছা ঠিকা আছে।
---আপনি তো গত তিনবছর যাবত বাড়িতে আসেন না, তাইনা? এমনকি ঈদের সময়ও না।
---হুম। কিন্তু আপনি জানলেন কি করে।
---আগেই বলেছি আমি প্রশ্ন করবো আমি আর উত্তর দেবেন আপনি।
---আচ্ছা বলে।
---তো এবার বাড়িতে আসলেন কি মনে করে?
---আম্মা বললেন যে কি নাকি জরুরি কাজ আছে।
---জরুরি কাজটা কি জানেন?
---না।
---কাজটা হচ্ছে আমার বিয়ে।
---আপনার বিয়ের জন্য আমাকে আসতে হবে কেন?
---কারন আমার বিয়ের বরটা যে আপনিই।
---অ্যা......
---অ্যা নয় হ্যা।
---কীভাবে কি? খুলে বলেন দয়া করে।
---আসলে আমার আব্বা আর আপনার আব্বা দুজনে ভালো বন্ধু। তারা তাদের এই বন্ধুত্বকে আত্মীয়তার সম্পর্কে বাধতে চেয়েছিলেন। আপনার আব্বাই প্রথম আমার আব্বার কাছে আপনার আর আমার বিয়ের প্রস্তাবটা নিয়ে যান। আপনি ছেলে ভাল, পরিবার ভালো, তাছাড়া বন্ধুর ছেলে এসব ভেবে আব্বাও রাজি হয়ে যান। তার পরেই ঠিক হয় আপনার কোর্স শেষ হলে আমাদের বিয়ে হবে। কিন্তু আপনি গত তিন বছর ধরে আপনি তো বাড়িতেই আসেন না। পাছে অন্য কোন মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন, তাই এবার পরিক্ষা শেষের ছুটি এবং ঈদ একসাথে পড়ায় আপনাকে এখানে আসতে বাধ্য করা হয়েছে। আর তার কারন একটাই। আগামী শুক্রবার আমার আর আপনার বিয়ে।
---ওরেব্বাস। তলে তলে এত্ত কিছু। অথচ আমি কিছুই জানি না? আমাকে অন্তত একবার জানানোর প্রয়োজন ছিলো।
---কেন? আপনি অন্য কাউকে পছন্দ করেন। করলে আমাকে বলতে পারেন, আমি আপনাদের মিলিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করবো। আমার উপর ভরসা রাখতে পারেন।
---হুম সেটাই। আসলে আমি একজনকে পছন্দ করি। এবং তাকেই বিয়ে করতে চাই।
কথাটা শুনে অবন্তিকার মুখটা চুপসে গেলো। মনে হলো কোন বড় রকমের দুঃসংবাদ পেয়েছে। অবশ্য দুঃসংবাদই বটে। একটা মেয়ের হবু বর অন্য কাউকে পছন্দ করে সেই কথাটা আবার তাকেই বলছে। এর থেকে বড় দুঃসংবাদ একটা মেয়ের কাছে আর কি হতে পারে।
---কে সে?
---তুমি। তুমি অবন্তিকা। তুমিই আমার সেই পছন্দের মেয়ে।
এবার তার মুখে হাসি ফুটলো। মনে হচ্ছে আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছে। আরে আকাশের চাঁদ কেন? পুরো আকাশটাই তো আজ থেকে ওর হতে যাচ্ছে।
---ড্রামা করা হচ্ছে?
---ড্রামা নয়তো কি? আমার সাথে তোমরা যেটা করলে সেটা ড্রামা না?
তুমি করেই বললাম। সেও তুমি করেই বললো......
---হ্যা করেছিই ড্রামা। তোমার কোন সমস্যা?
---সমস্যাই তো। আমাকে আগে জানালে কি ক্ষতি হতো?
---জানালে কি করতে তুমি? পালিয়ে যেতে?
---হুম। তবে একা না তোমাকে নিয়ে।
---তার পর কি করতে?
---দেখবে?
ওর উত্তরের অপেক্ষা না করেই, আমার বাহুবন্ধনে আবদ্ধ করলাম। আমার দিকে শক্ত করে চেপে ধরলাম অবন্তিকাকে। আমার সাত্থে লেপ্টে আছে মেয়েটা। ওর চোখে লজ্জার আভা দেখা যাচ্ছে। মুখটা লাজে লাল বর্ন ধারন করেছে।
সূর্য ডুবে যাচ্ছে পশ্চিম আকাশে। বিদায় নিচ্ছে আরো একটা দিন। স্বভাবতই এই বিষয়টা বিরহের প্রতীক। কবি সাহিত্যিকরা সন্ধ্যাকে হারিয়ে যাওয়ার উপমা হিসেবেই ব্যবহার করেছেন। কিন্তু আমার কাছে বিষয়টা উল্টো। আমার কাছে সন্ধ্যা মানেই দিনের শেষ নয়। আমার কাছে সন্ধ্যা মানেই নতুন দিনের আহব্বান। একটা দিনের ভুল-ভ্রান্তি ঘুচিয়ে নতুন একটা দিন শুরু করার আহব্বানই হচ্ছে সন্ধ্যা। আমার কাছে সব সন্ধ্যাই সোনালী সন্ধ্যা।
আর আজকের সন্ধ্যাটা তো আমার কাছে আরো রঙিন। আজ আমি এমন এক জনকে পেয়েছি যার সাথে আমার বাকী জীবনটা কাটাতে হবে।
ডুবে যাচ্ছে সূর্য। লালীমার লাল আভার মায়া ছড়িয়ে পড়েছে চার দিকে। লাল আভা পড়েছে অবন্তিকার মুখেও। লাল আভাতে ওর মায়াবতী মুখটা আরো মায়াবতী আর মিষ্ট লাগছে। আমি অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি তার দিকে। আর সে চোখ বন্ধ করে আছে। হটাতই অবন্তিকা বলে উঠলো......
,
---আমাকে নিয়ে পালিয়ে গেলে এভাবেই শুধু সারক্ষন জড়িয়ে ধরে থাকবে?
---না।
--তাহলে?
---আরো অনেক কিছু করবো?
---কি কি করবে শুনি?
---মুখে না বলে করে দেখাই।
বলে বাম হাতে ওর চিবুকটা ধরে মুখটা আমার মুখের কাছে নিয়ে আসলাম। ওর ঠোট দুটো কাপছে। আমি আমার ঠোটগুলো স্পর্শ করালাম ওর ভীরু ঠোট দুটোতে। ও এবার আরো শক্ত করে আমাকে জাপটে ধরেছে।
---কিগো বাকীটাও দেখাবো কি?
---ঐ পাজি ছেলে, সুযোগ পেয়ে সুযোগের ব্যাবহার করা হচ্ছে। তাইনা?
---যে সুযোগের সঠিক ব্যবহার করতে পারে সেই তো সত্যিকারের বুদ্ধিমান। তাইনা?
---আর বুদ্ধিমান হতে হবে না। এখন ছাড়। বাড়ি যাবো।
---কেন বাকীটা দেখবে না?
---সেটা বিয়ের পরে দেখালেও হবে, মিষ্টার গরু। এখন যাই হি হি হি......
---ঐ লালপরি কই যাও। আমিও যাবো।
,
,
তুমি যেখানে.........
............আমি সেখানে,
সে কি জাননা............
............একই বাধনে
বাধা দুজনে............
............ছেড়ে যাবো না।

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ