āϏোāĻŽāĻŦাāϰ, ā§§ā§§ āϏেāĻĒ্āϟেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

1350

ঈদ স্পেশাল
গল্পঃ """আমাদের গরু"""

ঈদের নামাজ শেষ হয়েছে।ছোট-বড় সকলের মনে খুশির জোয়াড় বইছে।কখন বাড়ি ফিরবে? কখন গরু কুরবানি দিবে? এই খুশির ছাপ প্রত্যেকের চোখে-মুখে ভেসে আছে।
.
তেমনি আকাশের মনেও খুশির বন্যা বইছে।সে কল্পনা করছে।বড়রা গরু কুরবানি দিবে।ছোটদের মাঝে কেউ ভয় পাবে, কেউ আনন্দ করবে, আবার কেউ চিৎকার করবে।
.
সে ঠিক করে ওদের মতো কিছুই করবে না।শুধু চুপটি করে মন ভরে প্রত্যেকটা গরুর কুরবানি দেখবে।গরুর কান্না দেখলে তার হৃদয়টা হু হু করে কেঁদে ওঠে।এমনটা তার কেন হয়?
সে জানে না।তার বাবার সাথে আনমনে বাড়ি ফিরতে থাকে।

আকাশ ও তার বাবা সেমাই খাচ্ছে।তার মা তাদের পাশে বসে খাবার বেড়ে দিচ্ছে।খেতে খেতে আকাশ বলে
- বাপজান গরু কখন কুরবানি দিবে?
- বাবা একটু পরেই গরু কুরবানি দিতে যাব।
- আচ্ছা বাবা গরুটা আমাদের বাড়িতে নেই কেন?
.
ছেলের প্রশ্ন শুনে বাবা-মায়ের মনটা খারাপ হয়ে যায়।মনমরা হয়ে ছেলের দিকে তাকিয়ে থাকে।কি বলবে? ভেবে পাচ্ছে না।
- বাপজান!
ছেলের মনটা খুশি রাখতে উনি বলেন
- তারা যে টাকা বেশি দিছে তাই তাদের বাড়িতে গরুটা রাখছে।
কথাটা শুনে ওর মনটা খারাপ হয়ে যায়।মনমরা হয়ে বলে
.
- ও আচ্ছা।
আকাশের মা বলেন
- বাজান তুই মন খারাপ করছস?
- না মা মন খারাপ করছি না।
- বাজান মন খারাপ করিস না।গরিবদের মন খারাপ করতে নেই।বাবা মন খারাপ করিস না।আল্লাহ রহমত করলে আগামীতে আমরা একলা একটা দিয়াম।

আকাশের বোঝার বয়স হয়নি।কে গরিব, কে ধনী, কে বড়, কে ছোট।এসব সে বোঝে না।বাবা-মায়ের হৃদয়টা প্রতি সেকেন্ডে কেঁদে উঠছে।কারণ ছেলেকে যে, তারা মিথ্যা কথা বলেছে।কিছুক্ষণ পর তো, সে সব জেনে যাবে।তখন সে কি ভাববে? তার মনটা কি বলবে?
.
কথা গুলো ভাবছে আর মনের অজান্তেই কাঁদছে।আকাশ তার বাবার সাথে মালিকের বাড়ি যাচ্ছে।বারান্দায় দাঁড়িয়ে তার মা মনমরা হয়ে তাকিয়ে থাকে।তারা গরু কুরবানি দিতে পারবে না? কথাটা মনে হতেই; চোখ থেকে কয়েক ফোটা পানি পড়ে যায়।

গরু কুরবানি দিতে রেডী হচ্ছে, আকাশ মনের আনন্দে দেখছে।তার মনের মাঝে অন্যরকম এক ভালোলাগা কাজ করছে।এমন সময় মালিকের ছেলে এসে বলে
.
- ঐ তুই এখানে কি করস? এখান থেকে যাহ।দেখতাছস না আমাদের গরু কুরবানি দিতেছে।
- আমি এইখান থেইকা যাইতাম কেরে? আমি এখান থেকে যাইতাম না।এইটা তো আমাদেরও গরু।
- বললেই হলো, তোদের গরু? তোর বাবা কোনো টাকা দিছে? তোর বাবা যে আমাদের ঘরের কামলা, তুই জানস না?
- কিহ! আমি বিশ্বাস করি না।আমার বাপজান আমারে মিথ্যা কথা কইতে পারে না।
- তুই বিশ্বাস করলে কর না করলে নাই।তোর বাপের কি এতো টাকা আছে গরু কুরবানি দিতো?
- আকাশ চুপ হয়ে যায়।কি বলবে বুঝতে পারছে না।তার কথা গুলো সহ্য করে নিচ্ছে।
.
সে তাকিয়ে দেখে, তার বাবা গরুটাকে ধরে আছে।আর ওর বাবা গরুর গলায় ছুরি চালাচ্ছে।গরুর গলা বেয়ে রক্ত ঝরছে।ওর কথা গুলো এখন বিশ্বাস না করেও থাকতে পারছে না।আকাশ রাগে-অভিমানে ঐ জায়গা থেকে বাড়ি চলে আসতে থাকে।
.
আকাশ শুয়ে আছে।মালিকের ছেলের কথা গুলো বার বার তার কানে বেজে উঠছে।মনে মনে বলতে থাকে, তাইলে এই গরু কি আমাদের ছিল না? তারা কেরে আমার সাথে মিথ্যা কথা কইলো? সত্য কথাটাই কইতো।এখন যে কষ্ট-টা পাইতাছি; তাহলে এই কষ্টটা পাইতাম না।মনের অজান্তে তার চোখ দিয়ে পানি পড়ে যায়।
.
তার মা গোছল করে এসে দেখে, ছেলে রুমে শুয়ে আছে। মনে মনে খুব ভয় পায়, আস্তে আস্তে ছেলের পাশে এসে দাঁড়ান।ছেলের মুখটা দেখে উনি স্বব্ধ হয়ে যান।কখন চোখে পানি এসে যায় বুঝতে পারেননি।ভেজা ভেজা চোখে ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকেন।
.
ধীরে ধীরে ছেলের কাছ থেকে দূরে সরে যান।বারান্দায় দাঁড়িয়ে কাঁদতে থাকেন আর মনে মনে থাকেন, আল্লাহ এই ছেলেকে কেন আমাদের ঘরে দিলে? আমরা বাবা-মা হয়ে তার স্বপ্ন গুলো পূরণ করতে পারি না।তাহলে কেন আমাদের বাঁচিয়ে রাখলে? যারা তার স্বপ্ন গুলো পূরণ করতে পারতো তাদের ঘরে তাকে জন্ম দিতে আমাদের ঘরে কেন দিলে?
.
উনি মনের দুঃখে সকালের খাবার টুকুও খেলেন না।উনি ভেবেছিলেন গোছল করে একেবারে খাবেন।কিন্তু খাওয়া আর হলো না।একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন।হঠাৎ একটা শব্দে কল্পনা থেকে ফিরে আসেন।রুমে এসে দেখেন, এখনও আকাশ ঘুমিয়ে আছে। মুখটার দিকে তাকাতেই উনার বুকটা ফেঁটে কান্না আসতে শুরু করে।কারণ তার গালে কান্নার পানির ফোটা গুলো বোঝা যাচ্ছিল।

এমন সময় উনার স্বামী আসেন।ঘরে এসে দেখেন, উনার স্ত্রী ভেজা চোখে ছেলের দিকে তাকিয়ে আছেন।
- তোমার চোখে পানি? কি হয়েছে?
সাথে সাথে স্বামীকে ধরে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকেন।
- কি হয়েছে বলবে তো! ছোট বাচ্চাদের মতো এই ভাবে কাঁদছ কেন?
- গোছল করে এসে দেখি- ছেলে ঘুমিয়ে আছে।আর তার চোখ থেকে পানি পড়ছে।এই যে দেখেন পানির ফোটা গুলো শুকিয়ে আছে।
.
ছেলের মুখটার দিকে তাকাতেই; উনার হৃদয়টা নড়ে ওঠে।কি বলবেন? বুঝতে পারছেন না।চোখ দুটো মুছে স্ত্রীকে বলেন
- এই নাও মাংস।
- মাংস নিয়ে রান্না ঘরে চলে যান।
মাংস-পোলাউ রান্না করে ছেলেকে ডাকেন।
- বাবা! বাবা! ঘুম থেকে ওঠ।দেখ তোমার জন্য কি রান্না করেছে।
.
কয়েকবার ডাকার পর ঘুম থেকে লাফিয়ে ওঠে।মনের খুশিতে মাংস-পোলাউ খেতে থাকে।বাবা-মার মুখে খুশির রেখা ফুটে ওঠে।হঠাৎ আকাশ খাওয়া বন্ধ করে দেয়।ঐ ছেলের কথাগুলো তার মনে পড়ে যায়।চোখ থেকে কয়েক ফোটা পানিও পড়ে।
.
- বাবা! খাও না কেন? কাঁদছ কেন?
- তুমি আমার সাথে মিথ্যা কথা কইছিলা কেরে? এখন আমি কেরে খাইতাম?
খাইতাম না আমি।
- নারে বাবা এই ভাবে বলিস না, কান্না করিস না।তুমি কষ্ট পাবে তাই তোমাকে বলেনি।বাবা, আমারে ক্ষমা করে দাও! আমি আর কখনও তোমার সাথে মিথ্যা কথা বলব না।
কথাগুলো বলেই কাঁদতে থাকেন।স্ত্রীও কাঁদতে থাকেন।আকাশের মনটা নরম হয়ে আসে।
.
- বাপজান আমিও আর রাগ করতাম না।
তারপর বাবা ও মাকে খাইয়ে দিতে থাকে।তারা ভেজা চোখে হাসি মুখে খেতে থাকে।আবার তার বাবাকে বলে
- বাপজান! একদিন আমাদের গরু কুরবানি দিব।তাই না?
- হ বাবা।আল্লাহ রহমত করলে একদিন আমরাও গরু কুরবানি দিতে পারব।
সবার মুখে হাসি ফুটে।এক এক জন এক এক জনের দিকে খুশি মনে তাকিয়ে থাকে।

লিখাঃ MD Mahmudur Rahman Tauhid
(Ovimani Mrt)

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ