আয়ান: ভালোবাসো আমায়?
স্নেহা: ভালোবাসি ভালোবাসি কত বার বলবো।
.
আয়ান: তাহলে অবহেলা করো কেন?
স্নেহা: অবহেলা করলাম কিভাবে?
.
আয়ান: যদি সত্যিই অবহেলা না করতে তাহলে আজকে তোমায় ১০ টা ফোন দেওয়ার পরও কেনো ওয়েটিং এ পেলাম।
.
স্নেহা: আরে বাবা আমারো তো একটা পরিবার আছে তাই না, তাদের সাথে তো যোগাযোগ করতে হয়।
.
আয়ান: তাই বলে রাত ১ টার পর।
এই কথা কি কেউ বিশ্বাস করবে?
.
স্নেহা: দেখো এত প্যারা দিও না।
আমার যখন যা খুশি তাই করব, তাতে তোমার কি?
.
আয়ান: স্নেহা আমি তোমাকে ভালোবাসি।
স্নেহা: ভালোই তো বাসো, আমাকে কিনে ফেলো নাই তো।
.
আয়ান: ছি: কি বলছো এসব।
.
যা বলার তাই বলছি। তুমি যাও তো এখান থেকে।
.
আয়ান: ঠিক আছে। বাড়ি থেকে টাকা পাঠালে ফোন দিতে পারি, যদি সম্ভব হয় কথা বলো।
.
স্নেহা: তুমি কি যাবে?
.
নিচের দিকে তাকিয়ে লজ্জায় চলে গেল আয়ান।
,
এই সেই স্নেহা যার জন্য কত কিছুই না করেছে সে।
বাড়ি থেকে মাসে খরচের প্রায় অর্ধেক খরচ করতো স্নেহার কাছেই, বাকি টাকা দিয়ে কোনোরকম দিন কাটাতো কখনো এক বেলা, কখনো দু-বেলা খেয়ে।
আয়ান শুধু এতটুকুই চাইতো তার ভালোবাসার মানুষটা যেন সুখে থাকে।
.
কিছুদিন যাবত আয়ানের পারিবারিক সমস্যা হওয়ায় বাড়ি থেকে টাকা পাঠাচ্ছে না।
যার কারনে স্নেহার পছন্দের টেডি বেয়ারটা কিনে দিতে পারেনি।
.
সত্যিই তো আয়ানের কি দোষ।
গার্লফ্রেন্ডের চাওয়া-পাওয়া যদি মেটাতে না পারে ভালোবাসতে গেল কেনো।
.
রাতে টাকা পেয়েই ফোন দিলো স্নেহার কাছে।
.
আয়ান: হ্যালো স্নেহা!
স্নেহা: হ্যাঁ বলো।
আয়ান: কাল দেখা করতে পারবে?
স্নেহা: পারব না, কাজ আছে আমার।
আয়ান: বেশি সময় নিব না, শুধু ১০ মিনিট হলেই হবে।
.
স্নেহা: কোথায় আসতে হবে?
আয়ান: তোমাদের বাসার সামনের পার্কটাতে আসলেই চলবে।
.
স্নেহা: ঠিক আছে এখন রাখছি।
.
.
পরেরদিন যথাসময়ে পার্কে হাজির।
.
স্নেহা: কি বলবে বলো।
.
আয়ান: চোখ বন্ধ করো!
স্নেহা: এত ঢং কোথায় পাও তুমি?
আয়ান: আহা করো না।
স্নেহা: আচ্ছা করছি।
আয়ান: শুভ জন্মদিন স্নেহা। ( বড় টেডি বিয়ারটা স্নেহার সামনে দাড় করিয়ে খিল খিল করে হাঁসতে লাগলো দু'জন।)
.
স্নেহা: ওয়াও কি সুন্দর।
কোথায় পেলে এইটা?
.
আয়ান: দোকান থেকে নিয়ে এসেছি।
আমার স্নেহার পছন্দের জিনিস আমি দিব না তা কি হয়।
.
স্নেহা: সু কিউট!! এত্ত ভালোবাসো আমায় তুমি।
আয়ান: হুম খুব খুব ভালোবাসি।
.
স্নেহা: সত্যিই তোমার মত ছেলে কয়জনের ভাগ্যে জুটে।
.
আয়ান: হা হা হা। আচ্ছা ১০ মিনিট হয়ে গেল, আমি যাচ্ছি।
ভালো থেকো।
কখনো যদি আমার কথা মনে পড়ে টেডি বিয়ারের সাথে কথা বলে নিও।
.
কথা গুলো বলেই হন হন করে চলে গেল আয়ান।
স্নেহা টেডি বিয়ার পেয়ে খুশিতে বাসায় চলে গেল।
.
রাতে ফেসবুকে লগিন করতেই স্নেহা অবাক হয়ে গেল।
আয়ানের আইডি ডিএক্টিভ, ফোন নাম্বারও বন্ধ।
চিন্তা হচ্ছে খুব আয়ানের জন্য।
.
হঠাৎ আয়ানের রুমমেট সিফাতের কথা মাথায় ঢুকতেই নক করে বসলো।
.
স্নেহা: আচ্ছা ভাইয়া, আয়ান কি বাসায় আছে?
সিফাত: না আপু, আয়ানকে তো আজ সন্ধ্যায় মেস থেকে বের করে দিছে বাড়িওয়ালা। ৩ মাসের ভাড়া বাকি ছিলো।
.
স্নেহা: ও আচ্ছা, আয়ান এখন কোথায় আছে বলতে পারেন?
.
সিফাত: না, আপু তা তো বলতে পারব না।
তবে আশে পাশেই হবে হয়তো।
কারন বাড়িওয়ালা ভাড়া আদায় করার জন্য একটা কাপড়ও পর্যন্ত নিতে দেয়নি আয়ানকে।
.
.
কথা গুলো শুনার পর দু'চোখ জুরে অশ্রুর ফোটায় চিক চিক করছিলো।
.
চিৎকার করে কেঁদে দিল স্নেহা।
যে মানুষটা নিজের ভালোবাসার মানুষটাকে সুখি দেখার জন্য এত কিছু ত্যাগ করতে পারলো তার জন্য যে স্নেহা কিছুই করতে পারলো না।
শুধু কষ্ট দিয়ে গেল।
.
তুমি এমন কেন আয়ান।
একটা বারও বুঝিয়ে বললে না আমায়।
আমি কি এতই নিষ্ঠুর ছিলাম।
আমিও তো ভালোবাসি তোমায় পাগলের মত।
.
হঠাৎ ফোনের রিংটনো হুশ ফিরলো স্নেহার।
.
স্নেহা: হ্যালো।
আয়ান: রাতের খাবার খেয়েছো?
স্নেহা: আয়ান...!!! তুমি এখন কোথায়?
আয়ান: এইত বাসায়। কেনো বলো তো?
.
স্নেহা: মিথ্যা বলছো কেনো?
তোমাকে নাকি মেস থেকে বের করে দিছে?
আয়ান: কে বলেছে তোমাকে এসব?
স্নেহা: আমি যা প্রশ্ন করেছি তার উত্তর দাও।
.
আয়ান: হুম, কিন্তু এইটা নিয়ে তোমাকে টেনশন করতে হবে না, আমি ঠিক সামলে নিব।
.
স্নেহা: ও আচ্ছা তুমি আমাকে ছাড়াই সব সামলে নিবে?
আয়ান: না মানে তোমাকে ছাড়া কল্পনা করতেও আমার ভয় লাগে ।
.
স্নেহা: তাহলে যা বলছি শুনো, আমি তোমার নাম্বার এক্ষুনি টাকা পাঠাচ্ছি, তুমি বাড়িওয়ালাকে টাকা দিয়ে বাসায় যাও।
.
আয়ান: তুমি টাকা দিবে কেন? বললাম না আমি ঠিক সামলে নিব।
.
স্নেহা: যা বলছি তাই করো।
.
আয়ান: ঠিক আছে যাচ্ছি।
.
স্নেহা: আচ্ছা শুনো,
আয়ান: কি
স্নেহা: সরি
আয়ান: সরি কেনো
স্নেহা: আর এমন হবে না।
আয়ান: পাগলী মেয়ে।
স্নেহা: বড্ড ভালোবাসি তোমায় কিন্তু,
আয়ান: আমি তার চেয়েও বেশি।
স্নেহা: না, দু'জনেই সমান সমান।
.
.
এভাবেই চলতে লাগলো এক সুখ স্বপ্নের ভালোবাসার জুটি।
.
আসলে ভালোবাসার মানুষটাকে বুঝতে পারার মাঝেই সকল ভালোবাসা নিহিত।
ভালোবাসার মানুষটার সকল চাওয়া-পাওয়া, সুসময়-দুঃসময় সবটায় একসাথে অতিবাহিত করতে পারাই প্রকৃত ভালোবাসা।
.
ভালো থাকুক ভালোবাসার মানুষগুলো।
.
✍ Sidratul Ayan
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ