নিহাল! এই নিহাল!! দরজা খোল বাবু! ভার্সিটি যাবি না? এই নিহাল!
নিহালের রুমের দরজায় অবিরত টোকা দিয়েই যাচ্ছেন মা নিহারিকা শারমিন। সকাল পৌনে নয়টা, এই সময়ে সাধারণত নিহাল ভার্সিটি চলে যায়। কিন্ত আজ তিনদিন হল,ও ভার্সিটি যাচ্ছে না। দরজা বন্ধ করে কি করছে, কে জানে!! খাবার-দাবারও ঠিকমত খাচ্ছে না। আজ সকালে নিহালের বাবা,কথা শুনিয়ে গেলেন। আমাদের সমাজ ব্যবস্হার এই এক রীতি। সন্তান খারাপ হলে মায়ের, আর ভালো হলে বাবার।
নিহাল দরজাটা কোনওমতে খুলে আবার গিয়ে শোয়। রুমে ঢুকতে গিয়ে, থমকে যান মা। পুরো রুম জুড়ে এক রহস্যময় অন্ধকার। জানালার কালো পর্দাগুলো, সূর্যরশ্মি বাঁধা দিয়ে রেখেছে। শান্ত পায়ে রুমে প্রবেশ করেন,ঠান্ডা হয়ে আছে ঘরটা। দ্রুত পর্দাগুলো সরিয়ে দিয়ে জানালা তিনটে খুলে দেন তিনি। অবাক হয়ে যান, নিহালের রুম দেখে। বিছানাটা অগোছালো, গিটার আর পিসির উপর ধূলোর আস্তরণ আর রং-তুলি ক্যানভাস পর্দা দিয়ে ঢাকা। অবশ্য নিহালের স্বভাব হল,কোনও পোর্ট্রেট কমপ্লিট না হওয়া পর্যন্ত এভাবেই রং-তুলি-ক্যানভাস ঢেকে রাখা। চারুকলার মেধাবী ছাত্র নিহাল খুবই গোছালো। অথচ চার/পাঁচদিন আগেও ওর রুম এমন ছিল না।
একটু বিস্ময় নিয়েই ওর শিয়রে গিয়ে দাড়াঁন। মুখের দিকে ভালমত তাকাতেই আতঁকে ওঠেন। গালভর্তি দাড়ি, চোখের নিচে কালি। কেমন অপ্রকৃতস্থের মত লাগছে ওকে। ছেলের পাশে বসেন। কপালে হাত ছোঁয়াতেই হাতটা পুড়ে ওঠে যেন। প্রচন্ড জ্বর ওর শরীরে।
-তোর শরীর খারাপ? আমাকে কেন বলিস নি। তোকে না বারণ করেছি বৃষ্টিতে ভিজতে। সেদিন রাত্রে বৃষ্টিতে ভিজে বাসায় এসেছিলি। তোকে নিয়ে তো আর পারি না.....
পাঁচদিন আগে রাতে.....
রাত সাড়ে দশটা। যদিও ঢাকা শহরে, এমন কিছু গভীর রাত নয়। তবে, নিহালদের এলাকাটা আজ কেমন নির্জন হয়ে আছে। একটু আগেও এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেল। বন্ধু রিভানের কাছ থেকে একটা জরুরী ক্লাশ-নোট আনতে গিয়েই দেরী হয়ে গেল। রিভান অবশ্য ওকে ড্রপ করার কথা বলেছিল। কিন্ত, ও রাজি হয়নি। রিকশা বা সিএনজি না পেয়ে বাসে এসে নামল ও। এখন আর মিনিট দশেক হাঁটতে হবে।
আকাশে ক্ষণে ক্ষণে বিজলী চমকাচ্ছে, দমকা বাতাস বইছে। কানে হেড ফোন লাগিয়ে, মেটালিকার গান শুনতে শুনতে পথ চলছে নিহাল। এদিকে আবার বৃষ্টি শুরুর লক্ষণ। গায়ের উপর কয়েক ফোঁটটা পড়তেই, দ্রুত হেডফোন খুলে মোবাইলটা ব্যাকপ্যাকে চালান করে দেয়। প্রায় দৌড়ে কাছের দোকানটায় চলে যায়। কিন্ত ততক্ষণে ও ভিজে গেছে অনেকটা।
স্টেশনারী দোকান এটা। আচমকা কারেন্ট চলে যায়। দোকানী জেনারেটর লাইন চালু করে, টিমটিমে একটা বাল্ব। বিরক্ত দোকানী, দোকানের পিছনের বাসায় চলে যায়। একা একা দাঁড়িয়ে বৃষ্টি থামার অপেক্ষায় নিহাল। দুর থেকে একটা অটো-রিকশা আসতে দেখা যায়। এসে দোকানটার সামনেই থামে। লম্বা-চওড়া মতন একটা বেশ বড় প্যাকেট হাতে নিয়ে নেমে আসে আরোহী। সে আর কেউ নয়, নিহালের ক্লাশমেট সুদীপ।
-আরে তুমি এখানে?
-হ্যাঁ। তোমার বাসায়ই যাচ্ছিলাম।
-কোনও দরকার ছিল?
-হ্যাঁ। আমি একটু ঝামেলায় পড়েছি। এই পোর্ট্রেট একটু তোমার কাছে রাখবে। সাত-আট দিন পর নিয়ে যাব। আমি কালই বাড়ি যাচ্ছি।
-শিওর। কেন রাখব না? তুমি সাত-আট দিন কেন? সাত আট মাস রেখো। নো প্রবলেম।
-সাত-আট মাস তোমার হাতে থাকলে তো রাখবে!
মুখে একটা ক্রুর হাসি সুদীপের। নিহাল অবাক হয়ে ওর দিকে তাকায়।
-মানে? বুঝলাম না।
-হা হা হা। কিছু না বন্ধু।
নিহাল মজা হিসেবেই নেয়, কথাটা। সুদীপ চলে যায়। সাথে সাথে কারেন্ট চলে আসে, বৃষ্টিও যেন কমে যায়।
পোর্ট্রেট হাতে তুলে নেয় নিহাল। আচমকা খুব কাছেই কোথাও বাজ পড়ে। চমকে ওঠে ও। আরও মিনিট পাঁচেক পর, বাসার দিকে পা বাড়ায়।
দোকানী বসে বসে খবরের কাগজ পড়তে থাকে। শেষের পাতায় ছবিসহ সাংঘাতিক এক খবর ছাপা হয়েছে,
সড়ক দুর্ঘটনায় ঢা.বির চারুকলার ছাত্র নিহত।
রিপোর্টঃ গতকাল বিকেলে কমলাপুর রেল-স্টেশন এলাকায় ট্রাক চাপা পড়ে এক পথচারী ও ঢা.বির চারুকলার ছাত্র সুদীপ চ্যাটার্জী নিহত হন। জানা যায়, সুদীপ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রেল-স্টেশনে যায়। এবং রাস্তা পার হবার সময় এক মদপ্য ট্রাক চালক তাকে চাপা দেয়......
তিনদিন আগে রাত বারটায়.....
নিহাল বসে বসে গিটার বাজাচ্ছে। এই দুদিন একটা প্রোজেক্ট নিয়ে প্রচুর খাটুনি গেছে। কারও ফোন ধরতে পারেনি ও। বন্ধুদের সাথেও তেমন যোগাযোগ হয়নি। কি মনে করে যেন মুঠোফোনটা হাতে তুলে নেয়।
রিভান আর শৌভিকের সাথে একটু কথা বলা দরকার। কিন্ত আচানক ওর চোখ চলে যায় বেডের পাশে রাখা সুদীপের পোর্টরেটের দিকে। কেমন মোহাবিষ্টের মত পায়ে পায়ে এগিয়ে যায় সেদিকে। ফোনটা বেডে রেখে হাতে তুলে নেয় ওটা। ধীর হাতে সাদা মোড়কটা উন্মোচন করে ও।
আর তারপর................
মুহুর্ত যেন থমকে আছে, অপলকে তাকিয়ে থাকে পোর্ট্রেটটার দিকে।
পোর্ট্রেট আলো করে সরোবরের পাশে বসে আছে এক মোহনীয় সুন্দরী ষোড়শী। ছোট্ট অথচ সাদা পদ্মফুলে ভরা সে সরোবর। তুষারশুভ্র রাজহংসের দল সরোবরে খেলছে। সুন্দরীর লাল বেনারসী দামী গহনা আর দীঘল কালো চুল যে কোন রাজকন্যার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ঈষদুন্নত মস্তকে রক্তিম ঠোঁটটের কোণে একটুকরো অহংকারী হাসি আর মুক্তোর মতন দাঁতের সারি তার রূপ মাধূর্যে এনে দিয়েছে অপরূপ শোভা। ষোড়শী এতই মনোলোভা, এতই কমনীয়া!! সম্বিত ফিরে পেতেই রং-তুলি নিয়ে বসে পড়ে নিহাল। এত সুন্দর একটা তৈলচিত্র, তার নিজের না হলেই নয়!!
রাত দেড়টা....
নিহালকে একজন নামকরা ড. এসে চেক করে ওষুধ দিয়ে গেছেন।
হায়রে দুর্ভাগা জাতি আমরা!! প্রতি তিন হাজার মানুষের জন্য গড়ে একজন ডক্টর, আর তারা কিনা সামান্য কিছু টাকার জন্য ডিউটি ছেড়ে বাসায় বাসায় ভিজিট করে বেড়ায়। এমন চলছে বলেই,আমরা এত পিছিয়ে আছ। নিহালকে খাইয়ে-দাইয়ে রুমেরে দরজা আলতো চাপিয়ে চলে গেলেন মা নিহারিকা।
একটু পরই বেডে উঠে বসে নিহাল। টলতে টলতে পোর্টরেট পাশে গিয়ে দাঁড়ায় ও। একটানে পর্দা সরিয়ে ফেলে। হুবহু একই রকম হয়েছে। সব কমপ্লিট, শুধু ষোড়শীর ঠোঁটটে রং দেয়া বাকি।
কাঁপা কাঁপা হাতে রং লাগিয়ে নেয় ও। আচমকা মাথাটা ঝিমঝিম করতে থাকে নিহালের। চোখদুটো ঝাপসা হয়ে আসতে থাকে। চারপাশে নুপুরের আওয়াজে মাথা তুলে তাকায় ও।
অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখে, সুন্দরী সেই মেয়েটি তার ভুবনমোহিনী হাসি নিয়ে হাত বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ঠোঁটে আনন্দের হাসি ফোটে নিহালের, কাঁপা হাতটা বাড়িয়ে দেয় আলতো করে.........
একা একা নির্জন রাস্তায় হাঁটছে শৌভিক। নিহাল চলে গেছে আজ তেইশদিন। খুব কষ্ট হচ্ছে ওর। এভাবে..........মেনে নেয়া যায় না।
আকাশের দিকে তাকায়, বিজলী চমকাচ্ছে। আকাশ জুড়ে কালো মেঘের মেলা। অজান্তেই একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস বুক চিড়ে বেড়িয়ে আসে। নিহাল!
আনমনে পা বাড়ায় ও। হঠাত করেই একটা অটো এসে একদম ওর পাশে দাঁড়ায়।
-শৌভিক! তোমার বাসায়ই যাচ্ছিলাম।
-আরে! সুদীপ যে। কোনও কাজ ছিল নাকি?
-হ্যাঁ। এই পোর্ট্রেট নিয়ে বিপদে পড়েছি একটু। আমি আবার কালই বাড়ি যাচ্ছি। সাত/আট দিন তোমার কাছে পোর্ট্রেটটা একটু রাখবে????
---সমাপ্ত---
Writer by,Sabbir Ahmed tipu.
........মুসাফির........
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āϏোāĻŽāĻŦাāϰ, ā§§ā§§ āϏেāĻĒ্āĻেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§
1336
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
ā§Ŧ:ā§Ļ⧍ AM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ