-:লটারি:-
(১)
প্রচন্ড খরতাপে বাহিরে বের হলে শার্ট ভিজে ভেতরের গেঞ্জি স্পষ্ট দেখা যায়,এক হাত নিয়ম করে কপাল চুয়ে পড়া ঘাম চোখ পর্যন্তু অাসা ঠেকাতে ব্যাস্ত। মাছওয়ালা মোটামুটি বিরক্ত হয়ে অাবার বললেন 'এটা ১২০ টাকা'
_কিছু কম রাখেন,১০০টাকা দেই দেন।
_অারে ভাই অাপনি মাছটারে টিপছেন কেন এত? ১ টাকাও কম হবে না নিলে নেন না দিলে সরেন।
ভাবুক ভঙ্গিতে অাজমল সাহেব সরে অাসলেন কিছুদূর। কিন্তু হঠাৎ গতরাতের বউয়ের 'কতদিন ভালোকিছু খাইনা অামরা তাইনা?' কথাটা মন পড়তেই অাবার ফিরে গেলেন। মাছটা নিয়ে বাসায় গিয়ে বউকে মাছটা দিয়ে সোফায় গা এলিয়ে দিলেন। ছয় বছরের ছেলে রায়ান ১৪ ইঞ্চি সাদাকালো টিভিতে কার্টুন দেখছে অার শরীর দুলিয়ে হাসছে। তিনি কল্পনা করলেন টিভিটা রঙ্গিন হলে হয়ত রায়ান অারো বেশি হাসত! কেরানীর চাকুরি করে জীবনটাই যেখানে সাদাকালো,সেখানে রঙ্গিন টিভিটা স্বপ্নেই থেকে যায়।
কলিং বেল বাজলো। 'মা কিছু সাহায্য করেন' খুব ঘুম পাচ্ছে অাজমল সাহেবের। সারাদিন শুধু সাহায্য অার সাহায্য,এদেশের মানুষের চেয়ে দিন দিন ফকির বেড়ে যাচ্ছে।রান্নাঘর থেকে গজগজ করছিলেন অাজমল সাহেবের স্ত্রী রুমি।
নাহ্ চোখ দুটো অার মানছেই না।
.
(২)
টিভিতে লটারির পুরুষ্কার ঘোষণা করা হচ্ছে। হঠাৎ অাজমল সাহেবের টিকিটের সাথে টিভিতে দেখানো নং টা মিলে গেলো! উল্লেখিত নং এ কল করতে বলা হলো। অস্থিরতায় অাজমল সাহেব উম্মাদের মত কল করলেন। নং পুনরায় চেক করে কতৃপক্ষ জানালেন তিনি ২৫ লাখ টাকা পেয়েছেন! নিশ্বাস যেনো বুকের ভেতরে থাকতে চাইছেনা। প্রচন্ড অালোড়নে হাসফাস করছেন অাজমল সাহেব। স্ত্রী কাছে এসে ঘটনা শুনে বাকরুদ্ধ! রাতে দুই স্বামী-স্ত্রী পরিকল্পনা করতে লাগলেন কি কি করবেন টাকা দিয়ে। স্ত্রীর খুশিমুখে শত বায়না শুনে অাজমল সাহেব মনে মনে ভাবলেন পৃথিবীটা সত্যিই সুন্দর!
কিছুদিনের মাঝে অাজমল সাহেব নতুন একটা ফ্ল্যাট কিনলেন। পুরাতন সাইকেলটা অপসারিত হয়ে স্থান পেয়েছে ভাংরি দোকানে,এখন শোভা পাচ্ছে বাইক। রঙ্গিন স্বপ্নের প্রহারে সাদাকালো স্বপ্নের সাথে টিভিটাও উধাও। সত্যিই রায়ান এখন বেশিই হাসে!
কিছুদিন পর হঠাৎ একটা অাননোন নং এ কল অাসে। ওপাশ থেকে বলে 'অামি অাপনার এলাকার ছোটভাই।লটারি জিতলেন অথচ ছোটভাইদের কিছু খাওয়ালেন না তা কি হয় ভাই?
১০ লাখ দিয়ে ফ্লাট কিনলেন, নতুন বাইক কিনলেন,এবার অধম ছোট ভাইদের তিনলাখ দেন ভাই, অাপনিও ভালো থাকুন,অামদেরও ভালো রাখুন'
অাজমল সাহেব চিন্তিত হলেও মুখের উপর বলে দিলেন কোন টাকা তিনি দিবেন না।
ইদানিং রুমির কাজিন সোহেলও বাড়িতে অাসছে ঘনঘন। রুমির মুখে অাজমল সাহেব শুনেছিলো বিয়ের অাগে সোহেল নাকি রুমিকে পছন্দ করত। ফোনকলটা ইদানিং বেশিই হুমকি দিচ্ছে। হুমকি থেকে যে এতবড় কিছু ঘটবে অাজমল সাহেব ভাবেননি। অফিসে ছিলেন তিনি,হঠাৎ স্ত্রী ফোন করে কাঁদতে কাঁদতে বলল 'স্কুল থেকে রায়ানকে নিয়ে ফিরছিলাম,হঠাৎ রাস্তায় কিছু লোক রায়ানকে তুলে নিয়ে গেছে'
অাজমল সাহেবের দুনিয়াটা ছোট হয়ে এসেছিল মুহূর্তে, যেখানে সমাধানের কোন পথ জানা ছিলনা। হঠাৎ সেই ফোনকল!
-অাপনাকে বলেছিলাম তিন লাখ দিতে,এখন ছেলেকে চাইলে ছয় লাখ দিবেন নয়ত...
ওপাশের কথা শেষ না হতেই অাজমল সাহোব চিৎকার করে বললেন
-ভাই,ভাই ছয় লাখই দিব কোন চিন্তা করবেন না,অাপনি এড্রেস দিন অামি টাকা অানছি,প্লিজ বাবুর কোন ক্ষতি করবেন না।
টাকা পেলে তারা কোন ক্ষতি করবে না এমন বলে একটা ঠিকানা দিল ফোনের ওপাশ থেকে।
রাতে ছেলেকে কাছে পেয়ে দু স্বামী-স্ত্রী হাফ ছেড়ে বাঁচলেন। পরের দিন অফিস থেকে ফিরতেই সিঁড়িতে সোহেলের সাথে দেখা। নিচে নামছে। কুশলাদি বিনিময়ের পর সোহেল চলে গেলেও অাজমল সাহেব কিছু একটা ভাবছিলেন। রাতে স্ত্রীকে ৮ লাখ টাকা দিয়ে সাবধানে রাখতে বললেন। বললেন এটাই কিন্তু শেষ সম্বল,টাকাটা কাজে লাগিয়ে দেখি একটা বিজনেস দাঁড় করানো যায় কিনা।
পরেরদিন অফিস থেকে ফিরে দরজায় নক করেও ভেতর থেকে কোন সারা পেলোনা অাজমল সাহেব। হঠাৎ খেয়াল করল দরজাটা বাহির থেকে নক করা। দরজা খুলে ভেতরে গিয়ে দেখে রায়ান ঘুমাচ্ছে। রুমি,রুমি করে ডেকেও কোন সারা না পেয়ে অাজমল সাহেব ভাবছিলেন এসময় রুমি কই যাবে? রায়ানকে একা রেখে তো...
হঠাৎ অালমারির দিকে চোখ যেতেই বুকটা কেঁপে উঠল! সমস্ত কাপড় বের করা,মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে কাপড়ের স্তুপ। দৌড়ে গিয়ে যেখানে টাকা রাখা ছিল সেখানে হাত দিতেই চোখে অন্ধকার দেখলেন! টাকা নেই।
অাত্মীয়দের বাড়িতে খোঁজ নিলেন,কোথাও যায়নি রুমি! হঠাৎ সোহেলের নং এ কল দিতেই নং অফ পেলেন তিনি। রুমির নং ও বন্ধ! অার কিছু বুঝতে বাকি রইলনা! ছেলেকে জড়িয়ে ঢুঁকরে কেঁদে উঠলেন। চোখের জলের উৎপত্তিস্থল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা,বুকের ব্যাথাটাও সংজ্ঞাহীন!
সবকিছু হারিয়ে তিনি অাবার অাগের ছোট বাড়িতে ফিরে গেলেন ছেলেকে নিয়ে। দুইদিন পর হঠাৎ দরজায় কলিংবেল পড়তেই দরজা খুলে দেখে বিদ্ধস্ত চেহারায় রুমি দাঁড়িয়ে। ঠিক কি করা উচিত না বুঝতেই রুমি অাছড়ে পড়ল পায়ে!
কাঁদতে কাঁদতে বলল প্লিজ অামাকে ক্ষমা করে দাও,প্লিজ। অামি ভেবেছিলাম সোহেল অামাকে খুব ভালোবাসে,অাসলে অামি ভুল ছিলাম। ও শুধু টাকাগুলোকে চেয়েছিল কৌশলে,অামাকে নয়। তোমার অাট লাখ টাকা নিয়ে সে অামাকে... রুমির কথা জড়িয়ে অাসছিল। তখনো বুঝে উঠতে পারেননি অাজমল সাহেব কি করবেন। রাগে,দুঃখে প্রচন্ড ভাবে ঘামছিলেন,অস্থিরতায় বুকটা ঘনঘন উঠছে নামছে।
.
(৩)
এই,এই কি হয়েছে তোমার? এমন করছো কেন? এই? হঠাৎ চমকে উঠে ঘুম ভেঙে গেলো অাজমল সাহেবের। পাশে স্ত্রী রুমি দাঁড়িয়ে। সাদাকালো টিভিটা চলছেই,কার্টুন শেষ,দুপুরের খবর হচ্ছে।রায়ান ঘুমিয়ে পড়েছে। এতক্ষণ তাহলে অামি স্বপ্ন দেখছিলাম!! হঠাৎ বুকপকেটে ছোঁ মেরে বাজার থেকে ফিরার পথে কাটা লটারির টিকিটটা বের করলেন। টিভির চ্যানেলটা পাল্টাতেই দেখলেন হেডলাইনে অাজকের বিজয়ীদের ট্রিকিট নং দেখানো হচ্ছে। নিজের হাতের ট্রিকিট নং টিভিতে দেখানো নং এর সাথে মিলাতেই অাশ্চর্য রকম ভাবে মিলে গেলো!
মুচকি হেসে অাজমল সাহেব স্ত্রীকে বললেন,
_অাচ্ছা একটু অাগে দরজায় কে এসেছিল?
_ঐ তো অামাদের পাড়ার মোড়ের উত্তপাশে বসে ঐ ফকিরটা।
_তুমি মাছটা ভালো করে রান্না করে খাবার রেডি করো অামি এসে খাবো। বলেই ছুটলেন অাজমল সাহেব।
.
দুপুরে তৃপ্তিসহকারে ভাত খেলেন অাজমল সাহেব। সারাটাদিন বেশ ফুরফুরে মেজাজে কাটালেন। রাত অাটটার খবরে টিভিতে দেখাচ্ছে মোড়ের উত্তরপাশের ঐ ফকিরকে। যে সম্পদে ভালোথাকা নেই সে সম্পদ ভালোকিছু হতে পারে না। অাজকের খবরের হেড লাইন '২৫ লাখ টাকা লটরিতে জিতলেন এক বৃদ্ধ ফকির'
.
লেখা: Shihab Shahoriar.
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ