--ভাইয়া,এই ভাইয়া ওঠ।আর কত ঘুমাবি?
(ছোট বোন
মিষ্টি)
নামটা শুনেই ভাবিয়েন না ও খুব মিষ্টি।
ওর কাজ
গুলো একদমই ওর নামের বিপরীত।
--(ঘুম ঘুম কন্ঠে)আরেকটু ঘুমাতে দে, বিরক্ত
করিসনা যা এখান থেকে। (আমি)
কিছুক্ষন পর আবিষ্কার করলাম আমি পুরো
ভিজে
গেছি। দুষ্টটা আমার শরিরে পানি ঢেলে
দিয়েছি।
আমি রেগে ওকে মারতে যাবো,দেখলাম
সামনে খাম্বার মতো দাড়িয়ে আছে
বড়মামা।
--মামা,আসসলামুআলাইকুম।
--ওয়ালাইকুমুসসালাম। ভদ্রলোকের ছেলেরা
অত
বেলা করেকি ঘুমায়?
--না মানে মামা...
--আর মানে মানে করতে হবেনা।যাও ফ্রেশ
হয়ে নিচে আসো সবাই তোমার জন্য
অপেক্ষা
করতেছে।
--জ্বি, আচ্ছা।
ফ্রেশ হতে গেলাম ওয়াশরুমে। ১০মিনিট পর
ফ্রেশ হয়ে এসে দেখি খাটের উপর
পান্জাবি
রাখা।বুঝতে পারলাম যে, পান্জাবিটা
পরে নিচে
যেতে হবে। তাই আর দেরি না করে
পান্জাবিটা
পরে নিচে চললাম। নিচে নেমে দেখি, বড়
আপু, দুলাভাই,মা,মামা আর একজন
অপরিচিত লোক
বসে আছে। আমি ভদ্রতার সহিত সালাম
দিলাম,
যতক্ষনে সালামের জবাব পেলাম ততক্ষনে
বড়
আপুর পাশে গিয়ে বসলাম।
লোকটি আমাকে কিছু প্রশ্ন করল,আমি
সেগুলোর উত্তর দিলাম।শুধু উত্তরই নয়
যথারিতী
মনে হলো চাকরির ইন্টারভিউ দিলাম। ও
হ্যা, আপনাদেরতো আমার পরিচয়ই দেয়া
হয়নি,
আমি মোস্তাকিন খান শান্ত বর্তমান
একটি বেসরকারি
সফটওয়্যার কোম্পানিতে সফটওয়্যার
ইন্জিনিয়ার
হিসাবে চাকরি করছি।
অপরিচিত লোকটির সাথে কথা বলা শেষ
করে আমি
আমার রুমে চলে আসলাম। পরে দুলাভাই,আপু
আর
মামা লোকটার সাথে অনেক কথা বলল।
সেগুলো আমি শুনিনি। কিছুক্ষন পর বড় আপু
আর
দুলাভাই আমার রুমে আসলো। লোকটির
সাথে
কথা বলায় আপুর সাথে তেমন কথা হয়নি।
তাই বললাম,
--কিরে তোরা কেমন আছিস?(আমি)
--আমরা ভালো আছি। তুই?(আপু)
-- আমি ভালো। কখন আসলি তোরা?
--এইতো সকালে।
চমকে গিয়ে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি
দুপুর দু'টা
বাজে,তারমানে এতক্ষন আমি ঘুমাইলাম
তাই মিষ্টি
আমার সাথে এই তেতো আচরন করল।
--শান্ত,তোমার কোনো পছন্দের মেয়ে
আছে?(দুলাভাই)
--না,কিন্তু কেন দুলাভাই।
--ভালো কথা। আমরা তোমার জন্য একটা
সমন্ধ ঠিক
করছি।
--মানে বিয়ে?? আমার??
--হুম...
--অসম্ভব আমি বিয়ে করতে পারবনা।
--কেন??
--আরে দুলাভাই,এইতো একটু রিলাক্সের
সুযোগ
পেলাম।তার মধ্যে কেন বউ নামের ভূতটা
আমার
মাথায় চাপাচ্ছেন।
--কেন তোর বিয়ে করতে কি অসুবিধা।
চাকরি
করছিস এবারতো একটা বিয়ে করা উচিত।
(আপু)
--চাকরি পাইছি বলেই বিয়ে করতে হবে এ
আবার
কেমন কথা।
--তুমি বিয়ে করবা এই সিদ্ধান্তই ফাইনাল।
মামা আমার রুমে ঢুকতে ঢুকতেই কথাটি
বলছিল।
--কিন্তু মামা...
--কোনো কিন্তু,শুনতে চাইনা। ঐযে নিচে
কথা
বললে শরিফ সাহেবর সাথে। ওনার মেয়ের
সাথেই তোমার বিয়ে ঠিক করেছি। বাপের
একমাত্র আদরের মেয়ে ভালো পাত্রের
অভাবে বিয়ে দিতে পারতেছিল না। মেয়ে
সুন্দরি,শিক্ষিত আশাকরি তোমার পছন্দ
হবে।
--কিন্তু মামা,আমিতো তাকে দেখিনি।
--তোমার দেখতে হবেনা।তোমার আপু
দুলাভাই
দেখে এসেছে তাদের কাছ থেকেই শুনে
নিও তাহলেই হবে।
আমি বিয়েটা আটকানোর অনেক চেষ্টা
করলাম
কিন্তু,ব্যার্থ হলাম।সবার একটাই সিদ্ধান্ত
এবার আমার
বিয়ে দিয়েই ছাড়বে। পরে অবশ্য
দুলাভাইয়ের
কাছ থেকে জানতে পারলাম যে মেয়েটি
অতি
সুন্দরি এবং এটাও জানতে পারলাম যে
বিয়েতে নাকি
মামা যৌতুক নেবে। কিমুনডা লাগে কন,
এমনিতেই
যাকে বিয়ে করব তাকে দেখলাম না তার
উপর
যৌতুক। অতঃপর বিয়ের দিন চলে
আসল,রিতীমত
সানাঁই বাজিয়েই বর যাত্রী যাচ্ছিল।
অতঃপর আমরা
এসে পৌছালাম কনের বাড়িতে,আমরা
গাড়ি থেকে
নেমে সবাই গিয়ে বিয়ের সভায় বসলাম।
আমি সভায়
বসার কিছুক্ষন পরেই মামা শরিফ
সাহেবকে পাশের
ঘরে ডেকে নিলেন।কী কথা হইল
জানিনা,কিছুক্ষন পরেই শরিফ সাহেব e
আমাকে
ডাকলেন,
--বাবাজি, একবার এইদিকে আসোতো।
পাশের ঘরে গিয়ে ব্যাপারটা বুঝতে
পারলাম, মামার
একমাত্র লক্ষ্য ছিল,তিনি কোনোমতেই
কারও
কাছে ঠকবে না।তারঁ ভয় তারঁ বেহাই তাঁকে
গহনায়
ফাঁকি দিতে পারে। বিয়ের কাজ সম্পূর্ণ
হলে সে
ফাঁকির আর প্রতিকার করতে পারবেনা।
সেজন্য
পারিবারীক স্বর্নকারকে সাথে
এনেছিলেন।
শরিফ সাহেব আমাকে বলিলেন,
--তোমার মামা বলছে বিয়ের কাজ শুরু করার
আগেই তিনি কনের সমস্ত গহনা যাচাই করে
দেখবেন,তুমি কি বলো?
আমি মাথা হেঁট করে চুপ করে রইলাম।
--ও আবার কি বলবে।আমি যা বলবো তাই
হবে।
(মামা)
--উনি যা বলেন সেটাই হোক?এ ব্যাপারে
তোমার কিছুই বলার নাই?(শরিফ সাহেব)
আমি একটু ঘাড় নাড়িয়ে ইঙ্গিত করলাম,এসব
ব্যাপারে
আমার কোনো মতামত নাই।
--আচ্ছা তবে বসো,মেয়ের গা থেকে সব
গহনা খুলে আনি।
--শান্ত এখানে কি করবে।ও সভায় গিয়ে
বসুক।(মামা)
--না,সভায় নয়।এখানেই বসতে হবে।(শরিফ
সাহেব)
কিছুক্ষনপর তিনি একটা গামছায় বাঁধা
গহনা এনে
টেবিলের উপর রাখলেন। সমস্ত গহনাই ছিল
তার
পূর্বপুরুষের আমলের, বর্তমানের কোনো
ডিজাইন নয়,যেমন মোটা তেমনি ভারী।
স্বর্নকার
গহনা হাতে নিয়ে বলল,
--এ আর দেখব কি।এতে কোনো ত্রুটি
নেই,এমন স্বর্ন এখনকার দিনে খুব কমই দেখা
যায়। মামা তখন গহনাগুলোর লিষ্ট করে
ফেললো।
পরবর্তিতে হিসাব করে দেখা গেল,গহনা
যে
পরিমাণ দেয়ার কথা এগুলো সংখ্যায়,দরে
এবং ভরে
অনেক বেশি। গহনা গুলোর মধ্যে একটি
আংটি
ছিল।শরিফ সাহেব সেটি স্বর্নকারের
হাতে দিয়ে
বললেন,
--এইটা একটু দেখবেন..
--এটা এখনকার, এটাতে সোনার পরিমাণ খুব
কমই
আছে।(স্বর্নকার)
মামার দিকে আংটিটা এগিয়ে দিয়ে
শরিফ সাহেব
বললেন,
--এটা আপনারাই রাখুন।
মামা সেটা হাতে নিয়া দেখল,এই
আংটিটা দিয়েই তারা
"Angedgement" করেছিল। মামার মুখ লাল
হয়ে
গেল। মুখ ভার করিয়া মামা আমাকে
বলিলেন,
--শান্ত,যাও তুমি সভায় গিয়ে বসো।
--না,এখন সভায় বসতে হবে না।আগে চলুন
আপনদের খাওয়া দাওয়া হোক।(শরিফ
সাহেব)
--সেকি,বিয়ের কাজটা আগে সম্পন্ন হোক।
--সেটা নিয়ে ভাববেন না,এখন উঠুন।
অতঃপর জোড়পূর্বক মামাকে উঠতে বাধ্য
করলেন।সবাই মিলে খাওয়া-দাওয়া শেষ
করলাম।
তখন শরিফ সাহেব মামাকে বললেন,
--আপনাদের অনেক কষ্ট দিয়েছি।আমরা
গরিব,আপনাদের যোগ্য আয়োজন করতে
পারিনাই।রাত অনেক হয়েছে,আপনাদের
আর কষ্ট
বাড়াতে চাইনা। এখন তবে-
--তা,সভায় চলুন,আমরাতো প্রস্তুত আছি।
(মামা)
--তবে,আপনাদের গাড়ি ডেকে আনি?
মামা আশ্চর্য হয়ে বলেন,
--ঠাট্টা করিতেছেন নাকি।
--ঠাট্টাতো আপনিই করেছেন। ঠাট্টার
সম্পর্কটাকে আর স্থায়ী করতে চাইনা।
(শরিফ সাহেব)
মামা দুই চোখ বড় করে অবাক হয়ে রইলেন।
শরিফ সাহেব আরো বলেন,
--আমার মেয়ের গহনা আমি চুরি করব এ কথা
যারা
মনে করে তাদের হাতে আমি মেয়ে দিতে
পারি না।
আমাকে একটি কথা বলার প্রয়োজনও তিনি
মনে
করলেন না। কারণ,উনি বুঝে গেছেন যে,
আমি
কেউই না।
তারপর বরযাত্রীরা সবকিছু ভেঙ্গে
চুরে,জিনিসপত্র লন্ডভন্ড করে বাড়ি
ফিরতে ছিল।
বাড়ি ফিরার সময় ব্যান্ড,কনসার্ট,সানাঁই
কিছুই বাজল না।
মনে মনে ধন্যবাদ দিলাম শরিফ
সাহেবকে,বিয়েটা ভাঙ্গার জন্য। অতঃপর
লোভি
ও চালাক মামার শিক্ষা হয়েছে।
.
.
লিখা: Justin Shanto Khan(ভালোবাসার ফেরিওয়ালা)
[ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন]
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ