অনুগল্প:: আদর্শ শিক্ষকের আদর্শ ছাত্র"
লেখা: সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম
.
.
শহরের কোল ঘেসে ৫ তলার অফিসটির মালিক আকরাম খান।বিভিন্ন পন্য রপ্তানি করা তার কাজ।একসময়ে গ্রামের হাবাগোবা ছেলেটা আজ এতো বড় কোম্পানির মালিক। হয়তো আকরাম খান নিজেও কল্পনাও করতে পারেন নি।সবই মহান আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছা।
.
অন্য কোম্পানির মালিকের সাথে আলোচনায় ব্যস্ত ছিলেন আকরাম খান।৫ কোটি টাকার ডিল সম্পর্কে। হঠাৎ তার জালানা দিয়ে বাইরে চোখ গেল।দারোয়ান একজন লোকের সাথে বাদানুবাদ করছে।লোকটা বেশ বৃদ্ধ।অন্য কোম্পানির লোকগুলোর থেকে ক্ষমা চেয়ে তাড়াতাড়ি গেটের কাছে গেলেন।
.
দারোয়ান তাকে দেখে লম্বা সালাম দিয়ে চুপ থাকলো।বৃদ্ধ লোকটি আকরাম খানের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো,
"স্যার আমি এই কোম্পানির মালিকের সাথে দেখা করার জন্য এসেছি।কিন্তু দারোয়ান আমাকে ঢুকতেই দিচ্ছিলো না।আপনি কি আমাকে একটু সাহায্য করবেন।দয়া করুন,আমি সেই রুপনগর গ্রাম থেকে এসেছি।"
.
রুপনগরের কথা শুনে বেশ আশ্চার্য হলেন আকরাম খান।লোকটির কথা বেশ পরিচিত পরিচিত মনে হচ্ছে।কিন্তু মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে আসলে কে তিনি?
তাই দ্বিধাবোধ ছেড়ে প্রশ্ন করলেন, "আপনার নামটা জানতে পারি জনাব?"
"আমার নাম মোহাম্মদ হাসানুজ্জাম।আমি রুপনগর হাইস্কুলে একসময় শিক্ষকতা করতাম।বয়স হয়েছে, এখন রিটায়ার্ড করেছি।" আকরাম খানের প্রশ্নের উত্তর দিলেন বৃদ্ধ লোকটি।
.
বৃদ্ধ লোকটির কথা শুনে চোখ থেকে টপটপ করে পানি ঝরতে থাকে আকরাম খানের।অশ্রুসিক্ত নয়নে বলতে লাগলেন, "আপনাকে সবাই হাসু স্যার বলে ডাকতো।তাই না?"
আকরাম খানের কাছে এ কথা শুনে বেশ কৌতূহল হলেন বৃদ্ধ লোকটি, "আপনি কিভাবে জানলেন স্যার?"
আর কথা না বাড়িয়ে পা ধরে সালাম করলেন আকরাম খান।তার আর বুঝতে বাকি নেই তিনি কার সাথে কথা বলছেন।তাড়াতাড়ি করে তাকে তার অফিসের ভিতরে নিয়ে গেলেন।
.
অফিস স্টাফ সবাই শুধু তাদের মালিকের আচরণ দেখছে।সবাই বলাবলি করতে লাগলো, "আসলে ব্যাপারটা কি!"
অফিসে ঢুকেই নিজ চেয়ারে প্রানপ্রিয় স্যারকে বসালেন।
"স্যার এটা কি হচ্ছে! আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না!"
আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করলেন বৃদ্ধ লোকটি।
"স্যার আপনি আমাকে চিনতে পারেন নি? আমি আকরাম।আপনার আকরাম।যাকে আপনি ছোটবেলার পড়াতেন। তারপর আমার বাবা-মা কয়েক মাসের ব্যবধানে মারা গেল।পড়ালেখা বন্ধ হবার উপক্রম।চাচা-চাচী শুধু দুবেলা খাবার দিতো।পড়ালেখা করার টাকা পয়সা দিতো না।আমি একদিন ফর্ম ফিলআপের টাকার জন্য বটগাছের তলায় বসে কেঁদেছিলাম।তারপর আপনি আপনার টাকা দিয়ে আমার ফর্ম পূরন করিয়েছিলেন।স্যার মনে পড়ে সেই আকরামের কথা?" কাঁদো কাঁদো স্বরে বললেন আকরাম খান।
.
বৃদ্ধ লোকটি তখন হাস্যজ্বল হয়ে নিজের হাত দিয়ে আকরাম খানের চোখের পানি মুছে দিয়ে বললেন, "কেন মনে থাকবে না বাপ? খুব মনে আছে।তোমার মনে আছে আকরাম? একবার ক্লাসে দুষ্টমি করার জন্য তোমাকে খুব মেরেছিলাম।তোমার হাতে দাগ পড়ে গিয়েছিলো?"
"কেন মনে থাকবে না স্যার! খুব মনে আছে।সেদিন ক্লাস ছুটির পর আপনি আমাকে নিয়ে আপনার বাড়ি গিয়েছিলেন।আলু ভর্তা আর ডাল দিয়ে ভাত খেতে দিয়েছিলেন।খাওয়ার পর আমার হাতে মলম লাগিয়ে দিয়ে দোয়া করেছিলেন আমার জন্য।যার কারণে হয়তো আল্লাহ তায়ালা আমাকে এই অঢেল সম্পদ দান করেছেন।" বললেন আকরাম খান।
.
শিক্ষক ছাত্রের মহামিলন দেখার জন্য আকরাম মিয়ার দরজার চারদিকে অফিসের কর্মচারীরা ভিড় করেছে।তিনি দেখলেন কিন্তু কিছুই বললেন না, কারণ এখান থেকে তাদেরও শেখার কিছু আছে।তিনি দাঁড়িয়ে একজনকে কিছু খাবার আনার জন্য পাঠালেন।অনেকদিন পর আজকে তিনি তার প্রানপ্রিয় স্যারকে পেয়েছেন।আজকে আর মনে মনে ধিক্কার দিতে ইচ্ছে করছে।অনুশোচনা হচ্ছে বারবার। যার অসিলার কারণে আজকে এই শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ীদের অন্তর্ভূক্ত তিনি কি না আজ কষ্টে আছেন!
.
"স্যার দয়া করে আপনি আমাকে মাফ করে দেন।এতোদিন আপনার কোন খোঁজ খবর নিতে পারি নি।" পা ধরে কাঁদতে লাগলেন আকরাম খান।
প্রিয় ছাত্রের এতো ভালোবাসা দেখে মনটা আনন্দে ভরে উঠে হাসু স্যারের। তিনি আকরাম খানের মাথায় হাত রেখে বললেন, "আজকে আমার জীবন স্বার্থক।আমার ছাত্র এতো বড় ব্যবসায়ী।তার কাছে আজো আমার মূল্য অনেক! শিক্ষকতা পেশা আজকেই আমার স্বার্থক হলো বাবা।তবে আমি তোমার কাছে একটা আবদার নিয়ে এসেছি বাবা।আশা করি এটা তুমি ফেলবে না।"
.
"নির্দিধায় বলেন স্যার,আমি তা পূরন করার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করবো।" বললেন আকরাম খান।
"তোমার কোম্পানিতে একটা চাকরির জন্য আমার ছেলেটা এসেছিলো।ওর নাকি সব ঠিক আছে।কিন্তু টাকা পয়সা চেয়েছে। তুমি তো জানো বাবা,আমি সুদ ঘুষ এগুলো সমর্থন করি না।তুমি যদি এগুলো ছাড়াই একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দাও তাহলে আমার পরিবারটা বাঁচে।আমার চাকরিটা চলে যাবার পর সংসার চালানো মুশকিল হয়েছে।" নরম গলায় বললেন হাসু স্যার।
হাসু স্যারের কথা শুনে আকরাম সাহেবের বড় রাগ হলো।ম্যানেজারকে তিনি কতবার বলেছেন ঘুষ ছাড়াই যোগ্য লোককে কোম্পানিতে চাকরি দেয়ার জন্য।আর তিনি কিনা ঘুষ চেয়েছেন!
" স্যার আপনি কালকে আপনার ছেলেকে আমার সাথে দেখা করতে বলবেন।ওর চাকরির জন্য কোন টাকা বা ঘুষ লাগবে না।" বললেন আকরাম খান।
"তুমি বড় নিশ্চিন্ত করলে আমায়।আল্লাহ তোমার মঙ্গল করুক বাবা।দোয়া করি জীবনে উন্নতি করো।" মাথায় তার হাত দিয়ে স্পর্শ করতে লাগলেন।
স্যারের কথা শুনে আকরাম খান বললেন, "স্যার দোয়া করবেন যাতে আপনার আদর্শে বাকি জীবনটা কাটাতে পারি।আমি আপনার কাছে যা পেয়েছি তার ভুলবার মতো নয়।"
.
অতঃপর হাসু স্যার চলে গেলেন।আজকে তিনি তৃপ্ত।আজকে তার জীবনের বড় সুখের দিন ছিলো। এতো বেশি সম্মান পাবেন এতোটা তিনি কল্পনাও করতে পারেন নি।আকরাম খান প্রানপ্রিয় স্যারকে গেট অবধি পৌঁছে দিয়ে পুনরায় তার কক্ষে ফিরে আসলেন।একজন কর্মচারীকে বললেন ম্যানেজারকে তার রুমে ডাকতে।
.
"স্যার আপনি আমাকে ডেকেছেন?" রুমে প্রবেশ করে বললেন ম্যানেজার শাহ আলম।
"যে কয়েকজনকে নতুন নিয়োগ দেয়া হয়েছে তাদের কাছে নাকি আপনি ঘুষ দাবি করেছেন? কথাটা কতটুকু সত্য?" রাগান্বিত হয়ে বললেন আকরাম খান।
স্যারের রাগান্বিত অবস্থা দেখে মাথা নিঁচু করে আছে ম্যানেজার সাহেব।মুখে কিছু বলতে পারছেন না।বলবেন বা কি করে,স্যারের কথা যে সত্য।
.
কিছুক্ষণ এভাবে থাকার পরও কোন উত্তর দিলেন না ম্যানেজার সাহেব।তার আগের অবস্থার কোন পরিবর্তন হয় নি।মাথা নিঁচু তো নিঁচু।অতঃপর আকরাম সাহেব আবারো বলতে শুরু করলেন,
"দেখেন ম্যানেজার সাহেব,এর আগেও আমি আপনাকে সতর্ক করেছিলাম।এটা আপনার শেষ সুযোগ,এর পর আর যদি কারো কাছে ঘুষ দাবি করেন তাহলে আপনার চাকরি চলে যাবে।যাদের কাছে ঘুষ চেয়েছেন আজকেই তাদের কাছে ফোন দিয়ে আপনার অতিরিক্ত দাবি না করে দিবেন।"
স্যারের কথা শুনে ম্যানেজার সাহেব এবার মুখটা উপরে উঠিয়ে বললেন, "জ্বী স্যার, এমন ভুল আর হবে না আমার।আমাকে এবাবের মতন মাফ করে দেন। "
.
ম্যানেজার সাহেবের কথা শুনে মুচকি হাসি দিলেন আকরাম খান। তার এই মুচকি হাসিটা দীর্ঘস্থায়ী না করে শেষ বারের মতন বললেন, "দেখেন শাহ আলম সাহেব ঘুষ দাবি করা অন্যায়। আপনি জানেন কি,এই ঘুষের জন্য বাংলাদেশে কত মেধাবী ছেলে মাস্টার্স শেষ করে বসে আছে।চাকরি পাচ্ছে না।তাছাড়া আজ থেকে ১৫শত বছর পূর্বে আমাদের নবী করীম (সাঃ) ঘুষকে নিষেধ করে গেছেন।একদিন তার একটি হাদীস পড়েছিলাম, তিনি সেই হাদীসে ঘুষ গ্রহন ও প্রদানকারীকে অভিসম্পাত করেছেন।আশা করি আপনার আর এসব ক্ষেত্রে ভুল হবে না।এখন যেতে পারেন আপনি।"
.
বসের কথার সাথে সায় দিয়ে আস্তে আস্তে সেই রুম থেকে বের হয়ে গেলেন। আকরাম খান পুনরায় নিজের চেয়ারে বসে পড়লেন।এতক্ষণ পূর্বের লোকেরা (যাদের সাথে মিটিং করছিলেন।) তার আচরণগুলো মন দিয়ে প্রত্যক্ষ করছিলেন।তাদের একজন মনে মনে ভেবেছিলো, আল্লাহ কি না পারে! একজন দরিদ্র শিক্ষকের জন্য একজন ছাত্রের এতো গভীর ভালোবাসা! এতো শ্রদ্ধাবোধ! সত্যিই তারা বিস্মিত।
.
"দুঃখিত আপনাদের মুল্যবান সময় নষ্ট করার জন্য।আসলে একটু বেশিই দেরি হয়ে গেল।" কিছুটা লাজুক ভাষায় বললেন আকরাম খান। আকরাম খানের কথা শুনে একজন বলে উঠলেন, "কি যে বলেন আকরাম সাহেব! আজকে এখানে না আসলে বুঝতাম না আপনি কত মহান! সত্যিই আপনার প্রশংসা করতে হয়।আপনার নিকট হতে শেখার অনেক কিছু আছে।"
.
উনার কথা শুনে এবার একটু সশব্দে হেসে দিলেন আকরাম খান।অতঃপর তিনি বললেন, "কি যে বলেন সলিম সাহেব,এটা আমার দায়িত্ব। আমি গ্রামের সামান্য একজন হাবাগোবা ছেলে ছিলাম।যাদের অনুপ্রেরনায় আজকে আমার এই অবস্থান তাদের প্রতি এই ভালোবাসাটুকু না থাকলে যে আমি সারাজীবন তাদের কাছে অপরাধী হয়ে যাবো।"
"আপনার মতন মানুষ যদি বাংলাদেশে আরো কিছু থাকতো তাহলে অদূরভবিষ্যৎ এ বাংলাদেশ উন্নতি লাভ করতে পারতো।আমরাও চেষ্টা করবো এখন থেকে ঘুষ গ্রহন না করে যোগ্য লোককে নিয়োগ দেয়া।যাতে সঠিক কাজটা সঠিক সময়ে হয়।" তাদের মধ্যে একজনের অভিমত।
.
মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষের জীবনের মোড়টাকে কিভাবে ঘুরিয়ে দেন সেটা তিনিই ভালো জানেন।
আকরাম সাহেব আজ খুবই আনন্দিত।।প্রথমত আজকে তার জীবনের সবচেয়ে বড় ডিল হচ্ছে।দ্বিতীয়তো তার প্রিয় শিক্ষকের সাথে মহান আল্লাহ তায়ালা দেখা করিয়ে দিয়েছেন।আপাতত তিনি সব চিন্তা ঝেরে ফেলে মিটিং এ মনোনিবেশ করলেন।
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āϏোāĻŽāĻŦাāϰ, ā§§ā§§ āϏেāĻĒ্āĻেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§
1363
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
ā§Ŧ:ā§Šā§Ŧ AM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ