--অগতানুগতিক ভালোবাসা--
‘’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’
আকাশ মনি (অব্যর্থ বৈজ্ঞানিক)
,
,
---আকাশ ভাই। ও আকাশ ভাই।
---ক হুনতাছি।
---কয়ডা বাজে দেখছো?
---কয়ডা?
---১২ টা বাজে।
---১৩ টা বাজুক, হেইডা দিয়া আমার কি?
---আমার খিদা লাগছে।
---খিদা লাগছে তো খা গিয়া।
---আমার সত্যিই খুব খিদা লাগছে।
---তোরে কি আমি খাইতে না করছি?
---ক্যামনে খামু? তুমি তো এহনো খাও নাই।
---আমি কাম করতাছি দেহস না? তুই খাইয়া ফালা যা।
---না। তুমি না খাইলে আমি খামু না।
---ঐ ছেড়ি, কথা কানে যায় না। কইতাছি যাইতে যা। আমারে কাম করতে দে।
---না আমি যামু না।
---ঐ যা কইতাছি।
---ভ্যা... ভ্যা... ভ্যা......
---ওই কানবি না। একদম কানবি না।
---আমারে খালি খালি ধমক দেয়। আর আমি কানলেই দোষ। ভ্যা... ভ্যা... ভ্যা......
---কানতে না করছি না চুপ কর।
---না আমি কান্দুম। তোমার তাতে কি?
---লক্ষী বউ থুক্কু বোন আমার কান্দিস না।
---তাইলে তাড়াতাড়ি খাইতে আস। খালা ডাকতাছে।
---তুই যা আমি আইতাছি।
,
,
অবন্তিকাকে বিদায় করে বাড়ি যাবার জন্য তৈরি হলাম। খালি হাতে বাড়ি গেলে চলবে না। তাই কয়েকটা ধানের আটি বেধে বোঝাটা তৈরি করে নিলাম। পাশের একজনের সাহায্যে বোঝাটা মাথায় চাপিয়ে বাড়ির দিকে হাটা শুরু করলাম।
বোঝাটা মাথায় নিয়ে হাটতে খুব কষ্ট হচ্ছে। পা দুটো যেন আর চলতেই চাচ্ছে না। বাড়ি থেকে ধানের ক্ষেতটা অনেকটাই দূরে। বোঝার ওজনে ঘাড়টা নুইয়ে পড়ছে। মাথাটা প্রচন্ড যন্ত্রনা করছে। ইচ্ছে করছে বোঝাটা ফেলে দেই এখনই।
কথাটা ভাবতেই অবন্তিকার মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠলো। এই হয়েছে আমার এক রোগ। যখনই কোন কষ্ট কিংবা কঠিন কোন মুহুর্তের মুখোমুখি হই, তখনই চোখের সামনে ওর মিষ্টি চেহারাটা ভেসে উঠে। ওর মুখটার কথা মনে হলেই আমার মধ্যে কেমন যেন একটা প্রেরনা কাজ করে। ওর মুখটা দেখলেই কেমন জানি একটা স্পৃহা কাজ করে। মনে হয় আমাকে সব কষ্ট সহ্য করতে হবে। অবন্তিকার জন্য হলেও আমাকে সহ্য করতে হবে।
আহা! মেয়েটা। আমার জন্য এতটা রোদের মধ্যেও মাঠে আসলো। ওর শ্যামলা মুখটা রোদের তাপে লাল বর্ন ধারন করেছে। গায়ের শাড়ীটা ঘামে ভিজ্জে গিয়ে গায়ের সাথে লেপ্টে আছে। ওর কপালের কিছু চুল ঘামে গালের সাথে লেপ্টে আচ্ছে। মুখে অন্য মেয়েদের মতো প্রসাধনীর বাহার নেই। নেই অলংকারও। কানে শধু দুটো ঝুমকা। ঠোটে নেই লিপ্সটিক চোখে নেই কাজল। তবুও ওকে দেখতে আমার ভালো লাগছিলো। ওর এই ঘর্মাক্ত মুখটা দেখতে একটু বেশিই মিষ্টি লাগছিলো তখন।
আর আমি কিনা তাকে ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দিলাম। না কাজটা ঠিক হয় নি। বাড়ি গিয়ে ওর রাগ ভাঙ্গাতে হবে। যদিও ও রাগ খুব কমই করে।
চলে এলাম বাড়িতে। মাথা থেকে বোঝাটা এক ঝটকায় ফেলে দিলাম উঠোনে। আহ কি আরাম লাগছে বোঝাটা নামাতে পেরে। মনে হচ্ছে পুরো পৃথিবীটা আমার মাথার উপর চেপে ছিলো এতক্ষন। ক্লান্ত হয়ে বারান্দার উপর মাটিতেই বসে পড়লা।
হঠাত করেই খেয়াল করলাম কেউ একজন হাতপাখা দিয়ে আমায় বাতাস করছে। অন্য কেউ না অবন্তিকাই বাতাস করছে।
,
---এই অবু হুন। পাখাটা আমার হাতে দিয়ে গামছাটা লইয়া আয়।
---আচ্ছা।
বলে পাখাটা আমাকে দিয়ে ভেতরের দিকে যেতে লাগলো। কিন্তু ভেবে যেন আবার ফিরে এলো।
---কিরে গামছা আনতে কইছি না।
---গামছা দিয়া কি করবা?
---মুখটা মুছুম। এক্কেরে ঘাইমা ভিইজা গেছি।
---দেও আমি মুইছা দেই।
,
বলে ওর ওড়নাটা দিয়ে মুখটা মুছে দিতে লাগলো। আমি শুধু ওর মুখের দিকে তাকিয়ে আছি। আহ! কি রোমান্টিক দৃশ্য। সিনেমাতে এমন দৃশ্য অনেক দেখেছি। কিন্তু এখন নিজেকে ইলিয়াস কাঞ্চন কিংবা জসিম মনে হচ্ছে। আর অবন্তিকা হচ্ছে দিতি কিংবা শাবানা। তবে আমার একটু অস্বস্তি লাগছে। সেটা কাটাবার জন্যই জিজ্ঞেস করলাম......
,
---আম্মা কইরে অবু।
---খালা পুব পাড়া গেছে। কি জানি দরকার আছে।
---তাইলে আমি এহন যাই পরে আম্মা আইলে খামু।
---আরে কই যাও? আমি ভাত বাইড়া দিতাছি খাইয়া যাও।
---না পরে খামু।
---আমার খিদা লাগছে।
ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল। আমি জানি আমি না খেলে হাজারবার বললেও অবন্তিকা খাবে না। তাই আর নিষেধ করলাম না।
---আচ্ছা তাড়াতাড়ি দে। আমারও খুব খিদা লাগছে।
---তুমি হাত মুখ ধুইয়া আস। আমি ভাত বাড়তাছি।
হাত মুখ ধুয়ে এসে খেতে বসলাম।
---কিরে তুই খাবি না?
---খামু। আগে তুমি খাও।
---না এহনি খাবি ব।
---আচ্ছা তুমি খাও আমি চামচ মিয়া আইতাছি।
---ক্যান চামচ ক্যান?
অবন্তিকা ওর ডান হাতটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিলো। দেখলাম হাতের দুইটা আঙ্গুল কাপড় দিয়ে বাধা। কেটে গেছে মনে হয়। এতক্ষন আমি খেয়াল করিনি।
---হাত কাটলো ক্যামনে?
---মাছ কাটতে গিয়া কাইটা গেছে।
---যেইডা পারস না হেইডা করতে যাস ক্যা?
---না মানে ইয়ে...
---চুপ একদম কথা বলবি না।
---ভ্যা ভ্যা ভ্যা...
---আবার কান্দস ক্যা?
---তুমি আমারে খালি ধগমকাও ক্যা? আমি কি তোমার বিয়া করা বউ নাকি?
---এখনও হোস নাই। কিন্তু হইতে কতক্ষন।
---কি কইলা।
---কিছু কই নাই।
---তুই খাইতে ব।
---তুমি খাও। আমি চামচ নিয়া আইতাছি।
---চামচের দরকার নাই। ব আমি খাওয়াইয়া দিতাছি।
---না। খালা দেখলে উল্টাপাল্টা মনে করবো।
---আরে কিছু মনে করবো না। আর তাছাড়া আম্মা তো বাড়িত নাই। তুইই তো কইলি।
---কিন্তু।
---আবার কিন্তু কি? বইতে কইছি না ব।
---আবারো ধমকায়। এইবার কিন্তু আমি আরো জোড়ে জোড়ে কান্দুম।
---না। আর কানতে হইবো না। ব তুই। আর ধমক দিমু না।
---আচ্ছা ঠিক আছে।
,
অবন্তিকা আমার সামনেই বসলো। আমি ওকে মুখে তুলে খাইয়ে দিচ্ছি। ও আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। নিজেকে আজ খুব রোমান্টিক রোমান্টিক লাগছে। না। এই মেয়েকে আর দূরে রাখা যাবে না। এবার ফসল তোলা শেষ হলেই আম্মাকে বলে খালার বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবো। খালা অমত করবে বলে মনে হয়না। খালা-খালুও আমাকে খুব পছন্দ করে।
,
---অবু একটা কথা কইতাম।
---কও।
---আমারে তোর কেমন লাগে?
---খুব ভালা।
---আমারে বিয়া করবি?
---জানি না।
,
বলেই অবন্তিকা দৌড়ে চলে গেলো। লজ্জা পেয়েছে। কিন্তু আমার প্রশ্নের উত্তরটা তো দিয়ে গেলো না। ও উত্তর না দিলেও আমি জানি অবন্তিকাও আমাকে পছন্দ করে। আমার জন্যই বার বার সময় পেলেই আমাদের বাড়িতে চলে আসে। বছরের বারো মাসের মধ্যে সাত-আট মাস ও আমাদের বাড়িতেই কাটায়। আমাদের বাড়ি আর ওদের বারি খুব একটা দূরে নয়। ঘন্টা খানিকের পথ।
অবন্তিকাও জানে আমি ওকে ভালোবাসি। ভালোবাসা? হ্যা ভালোবাসা। শুধু মুখে ভালোবাসি বললেই ভালোবাসা হয় না। ভালোবাসা হচ্ছে দুটি মনের টান। মনে মনে মিলে গেলে মুখে ভালোবাসি বলতে হয় না।
যেমন আমি আর অবন্তিকা। আজ পর্যন্ত কেউ কাউকে ভালোবাসি কথাটা বলিনি। কিন্তু আমরা দুজন আর সৃষ্টিকর্তাই জানে আমাদের এ ভালোবাসা কতটা গভীর। কতটা পবিত্র আমাদের এই ভালোবাসা। যদিও আমাদের এই ভালোবাসা গতানুগতিক নয়, তবুও আমাদের মধ্যে ভালোবাসার কমতি নেই এতটুকুও।
,
,
,
---ঐ মামা টিকেট দেন।
কন্ট্রাক্টরের ডাকে আমার ঘোর কাটলো। কন্ট্রাক্টরকে টিকেট দেখিয়ে আবারো ভাবনায় ডুব দিলাম। এতক্ষন নিজেকে, আমার বন্ধু আকাশের চরিত্রে কল্পনা করে ওর মতো করে বিষয়গুলো চিন্তা করছিলাম। আমি এখন ওর বাড়ি ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় ফিরছি।
আজ বিয়ে করেছে আকাশ। ওর বিয়ের দাওয়াত খেয়েই ফিরছি আমি। আকাশ আমার বন্ধু। কিন্তু আরেকটা পরিচয় আছে ওর। ও আমার মামাতো ভাই। তবে মামাতো ভাইয়ের চাইতে বন্ধু পরিচয়টাই আমার কাছে বড়। আকাশও আমাকে বন্ধু ভাবে।
আর সেজন্যেই ওর আর অবন্তিকার সব কথা আমাকে খুলে বলে। আর আমি কথা বলি আমার ফুপি মানে আকাশের মায়ের সাথে। তারপর ফুপিকে নিয়ে যাই আকাশের খালা মানে আমার ছোট ফুপির কাছে।
আকাশ ভালো ছেলে। পড়ালেখাও করেছে। ও একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার। বিভিন্ন ঝামেলায় বিএসসিটা আর করা হয় নি। কিন্তু এখন সে গ্রামে বাবার জমিজামা দেখাশোনা করছে আর একটা স্কুলে সহকারী শিক্ষকের চাকরি করে। এইসব বিষয় চিন্তা করেই ছোট ফুপি আর ফুপা আর না করতে পারে নি।
আকাশের বাবাকে অবশ্য আমার বড় ফুপিই রাজি করিয়েছে। সবাই যখন রাজি তখন বিয়েটা হয়েই গেলো। আর আজ আমি ওদের বিয়ের দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফিরছি। আর রাস্তায় বাসের মধ্যে বসে নিজেকে আকাশের চরিত্রে কল্পনা করছিলাম।
এতক্ষন বিয়ের আগের কথা বলছিলাম। এখন বাকীটা কেমন হবে সেটা বলি। যদিও এটা এখনো ভবিষ্যত।
,
,
বাসর ঘরে বসে আছে অবন্তিকা। আমি বন্ধুবান্ধবদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ঘরে ঢুকলাম। অবন্তিকা এসে আমাকে সালাম করলো। আমি ওকে নিয়ে খাটে বসলাম।
---কিরে কইছিলাম না বউ হইতে কতক্ষন।
---হুম।
---আচ্ছা আমার লগে বিয়া হওয়ায় তুই খুশি না?
---হুম।
---তাইলে বারবার হুম হুম করতাছস ক্যা?
---তাইলে কি কমু?
---কথা ক।
---কি কথা?
---হেইডাও আমারে শিখাইয়া দিতে হইবো।
---না মানে জীবনের প্রথম বিয়া তো তাই।
---প্রথম বিয়া মানে? আরো বিয়া করার ইচ্ছা আছে নাকি?
---হুম।
---কি? আমারে থুইয়া তুই আবার বিয়া করবি। বেয়াদ্দব মাইয়া।
---ভ্যা ভ্যা ভ্যা...
---আবার কান্দস ক্যা?
---তুমি খালি আমারে ধমকাও ক্যান? আমি কি তোমার বউ নাকি?
কথাটা বলেও জিবে কামড় দিলো অবন্তিকা।
---ক্যান? তুই আমারে কলমা পইড়া কবুল কইয়া বিয়া করস নাই।
---হ করছি।
---তাইলে আর কি। তুই তো এহন থাইকা আমার বউ।
---এহন থাইকা তুমি কি আমারে আরো বেশি বেশি ধমক দিবা?
---হ দিমু।
---তাইলে আমি কিন্তু কান্দুম। জোড়ে জোড়ে কান্দুম। ভ্যা... ভ্যা...
---আরে লক্ষি বোন থুক্কু বউ আমার কান্দে না।
---আমি কান্দুম। তোমারে কি?
---আমার কি মানে? বাসর ঘরে যদি বউ কান্দে তাইলে মাইনষে কি মনে করবো?
---যাই মনে করুক। আমি কান্দুম। তুমি আমারে ধমক দিলা ক্যান?
---এই যে আমি কান ধরতাছি। আর কখনো তোমারে ধমক দিমু না।
---তুমি আমারে তুমি কইরা কইলা? আগে তো তুই কইরা কইতা।
---আগে তো তুমি শুধু আমার খালাতো বোন আছিলা। কিন্তু এহন তো তু্মি আমার বউ। আমার একমাত্র বউ।
---একমাত্র বউ মানে? তোমার আরো বউ আছে নাকি?
---নারে বাবা। আমার শুধু একটাই বউ। অবু। অবুই আমার সব।
---ঠিক তো?
---ঠিক।
---আইচ্ছা চলো তাইলে ঘুমাইতে যাই।
---চলো।
.........অতঃপর ইতিহাস।
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āϏোāĻŽāĻŦাāϰ, ā§§ā§§ āϏেāĻĒ্āĻেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§
1334
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
ā§Ŧ:ā§Ļā§Ļ AM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ