রহস্যময় হাসি
.
অফিস সেরে রাতে অনেক ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরি, কখন যেনো নিস্তেজ শরীর গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পরল সে দিখে খেয়াল ছিল না, সকাল আটটায় ঈদের জামাত ফোনে এ্যলার্ম সেট করে রাখলাম।
.
ঘুমের মধ্যে ফোনের টিননটা সাত হাত দূর থেকে শুনতে যেমনটা লাগে, তেমনি শুনতে পেলাম,বিরক্তিকর মোডে সাউন্ড বাটনে চেপে বার বার ফোনের চেঁচামিচি বন্ধ করেও ব্যার্থ হচ্ছি, দির্ঘকক্ষণ এভাবে চলতে তাকায় এক সময় চোখ বন্ধ করে অনুমান করেই ফোনটা রিসিভড করি।
.
অনির কন্ঠটা চিনতে ভুল হল না, অনির সাথে পরিচয় সেই কলেজ জীবন থেকে, প্রথমে বন্ধুত্ব অত:পর প্রেম। ও সবাবে অনেকটা রাগি ও আল্লাদিও বটে, সারাক্ষণ খুনসুটিতে মেতে থাকে আমার সাথে, পড়া লেখা শেষে আমি একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে জব নেই, অনির কাজ হচ্ছে শত ব্যাস্ততার মাঝেও ফোন দিয়ে আমার কাজের মনকে ফোনের দিকে আনা, রিসিভড না করলে টেক্স পাটাবে, সবচেয়ে মজার ঘটনা হচ্ছে একদিন সে আমায় ডাক যোগে চিঠি পাটায়, ওর হাতের লিখায় কেমন জানি পাগল প্রলাফ মনে হল। চিঠির শেষে হা হা হা হাসিটা একে দিল। যাইহোক
.
-হ্যালো,,,,,,,,,,,,
-এই তুমি এখনও ঘুমিয়ে কেন একটু ত্রিয়শি পার্কে চলে আসো আমি অপেক্ষা করছি। (অনি)
-কি দরকার বল? এত সকাল এখন মাত্র সকাল দশটা ?
-এই এত প্রশ্ন করনা, ত্রিশ মিনিটের মধ্যে চলে আসো।(অনি)
-আমি বরাবরের মতই উত্তর দিলাম পাড়বনা।
.
-পাড়তে তোমাকে হবেই, কত দিন হল নিজে থেকে দেখা করার কথা বলোনা.আগের মত ফোনে কথাও বলোনা কেমন তেতোবিরক্তি কর কথা বার্তা বল, তোমার উপর অদৃশ্য মেয়ে আত্বার নজর পরছে, হুজুরের কাছথেকে পানি পড়া নিয়ে আসছি তোমায় খাইয়ে দিব,আর তোমার মনের ফ্লোরে প্রচন্ড ময়লা জমে আছে, তাই একটা ঝাঁটাও নিয়ে আসছি পরিচ্ছন্ন করে দিব। (অনি)
.
-এই ধ্যাত সকাল সকাল এইসব ফাইজলামু ভাল্লাগেনা এখন বাসায় চলে যাও পরে আসবো, এখন আর কল দিওনা ফোন অফ করে দিলাম।
-আচ্ছা ফোন অফ করে দাও, রাতের বেলায় তোমার ফোনের টাকা শেষ হয়ে যাওয়ার পর যেই নাম্বার থেকে আমায় কল করছিলে সেই নাম্বারে কল দিয়ে বলবো তোমায় উঠিয়ে দিতে।(অনি)
.
-এই না না এমনটা করনা সেটা মায়ের নাম্বার। মা তোমার চেয়ে আরও শত ধাপ এগিয়ে, তোমার হাত থেকে হয়তো রক্ষা পাওয়াযায়, কিন্তু মায়ের হাতে একবার ধরা পড়লেই শেষ।
-এই অনি একটু পরে আসলে হয়না?
-তুমি ত্রিশ মিনিটের ভিতর না পৌচালে আমি তোমার বাসায় চলে আসব তখন বুঝবে,,, হাসছে (অনি)
-আসলে-তো বিরাট একটা উপকার হত। খরচ বাঁচিয়ে দিতে, ফ্রিতে পেয়ে যেতাম। একটু হেসেই বললাম কথাটা, আচ্ছা আসছি আমি
-তাহলে এখুনি চলে আসতে হবে তোমায় বাবলু বলে হাসতে হাসতে ফোন কেটে দেয় (অনি)
.
অর দেয়া ত্রিশ মিনিটের মধ্য আমি অনির সামনে এসে দাড়ালাম।পার্কে বসে আছি হঠাৎ সে বলে উঠলো।
.
-এই তুমি জাস্টিন বিবার ও সেলেনা গোমেজের প্রেম কাহিনী জানো?(অনি)
-ভাবলাম সেতো ফেইসবুকে কিসব স্টরি লেখে, লেখালেখি ছেড়ে এখন গান ধরবে নাকি, মনের কথা মনেই রেখে দিয়ে বললাম, অদের ব্রেকআপ স্টোরি তেখে যা জানি তা হল,, ওরা দুজনই শিল্পী সেলিনা ও জাস্টিন তাদের প্রেম কাহিনী দিয়ে কিছু গান তৈরী করে এবং তা দিয়ে তাদের ভক্তদের মনোরঞ্জন করে। আচ্ছা বল তুমি এই কথা দিয়ে কি বুঝাতে চাচ্ছো?
.
-এখন থেকে তুমায়ও লেখালেখি করে ফেইসবুকে আমার সাথে ছায়া হয়ে থাকতে হবে।
-এই তোমার মাথা নষ্ট হয়েগেছে নাকি? সাড়া দিন অফিসের কাজ আর রাতে তুমার প্যা, বলেই কথাখানা আবার বহিরাগমন রাস্তাদিয়ে যেন বাহির হয়ে গেল ।
-এই প্যা, মানে কি? আমি তোমাকে রাতে প্যাড়া দেই এই কথা বুঝাতে কি বলতে চাইছিলে?
-আরে না পারবনা বলতে গিয়ে কথা আবার স্লিপ খেয়ে ভিতরে চলে যাচ্ছিল, তাই পা 'টা' -'প্যা' হয়ে গেছে, আমার হাসি গুলো বাঁধ ভেঙ্গে ছোটে আসতে চাইছে ।তবে এখন যদি হাসি শেষ রক্ষাও হবে বলে কোনো আশঙ্কা নেই তাও হাসিটা আটকানোর চেষ্টা করলাম ।
-আচ্ছা বেশ তাহলে তোমার ফেইসবুক আইডিখানা হ্যাক করে নিবো।
-নিলেতো ভালই বাঁচা যাবে। ফেইসবুক নামক ঝামেলা ঘাড়থেকে নামানোর জন্য পুরুষ্কৃত করব তুমায়।
-এই প্লিজ যাওনা একটু আমার লেখার প্রাণ হয়ে, তোমায় নিয়ে অনেক কিছুই লেখতে ইচ্ছে করে, শত ব্যাস্ততার মধ্যে না হয় তোমার হাতের একটা মিষ্টি গল্পে আমার কোনো এক লিখার উত্তর জানাবে।
-বললাম না আমি পাড়বোনা লিখার মধ্যে সময় নষ্ট করতে চাইনা।
.
-বুঝেগেছি এবার, আমার সাথে কথা বললে তোমার সময় নষ্ট হয়ে যায়, আমার অগোছালো ইচ্ছে গুলো পুরন করে এক মূহুর্তের জন্য অল্প একটু হাসি উপহার দিতে ও সময় নষ্ট হয়ে যায়, আচ্ছা বেশ আমার ইচ্ছে গুলো না হয় অপূর্ণই রয়ে যাবে,। জেনে রাখো তোমার সেই মুল্যবান সময় নষ্ট করার কারণ যদি আমি হয়ে যদি দাঁড়াই , তবে সরে দাঁড়াবো তোমার জীবন থেকে, যদি ভাল লাগেনা আমায় বলে দেখো চলে যাবো দূর বহুদূরে, যেখান থেকে শত চেষ্টার ফলেওও কেউ ফেরাতে পাড়বেনা আমায়।
.
-দূর থেকে না হয় দেখবো আমার ব্যার্থতায় গড়ে উঠা তোমার সেই সুখের সম্রাজ্য তা দেখে হয়তো একটু খুশি হবো, তোমাতেই যে আমার সকল চাওয়া পাওয়া।
বলতে বলতে অনি কাঁদছে।
.
-এই অল্প একটা বিষয় নিয়া এরকম কাঁদছ কেন ?আর এইসব কি উলটা পালটা কথা বলছো ? ওর চোখের জলগুলা মুছে দিলাম।
এই কথাটা বলতেই সে হুহুহু করে লাফিয়ে উঠে।আর বলে এইতো লাইনে আইছো মনা। আমি আনমনে নিজেকে প্রশ্ন করতে লাগলাম! মানুষতো অতিকষ্ট বা অতি আনন্দে কাদে আর এই মেয়েটা কষ্টটাকে আড়াল করে হাসছে রহস্যের হাসি। নিদারুণ রহস্যময়ী সে।
.
এবার ঈদের দিনে অনিকে দেখা করার কথা বললাম, সে এক কথাতেই রাজি হল। সেই ত্রিয়শি পার্কে কিন্তু পার্ক টা অন্যদিনের মত জন্যশুন্য না।একটু ভিন্নতা লক্ষ্য করলাম। আমাদের মত এখানে আরো ভালবাসাভাষির আনাগোনা রয়েছে।অনু কেমন জানি অন্য মনস্ক হয়ে বসে আছে,। মনে শত শত প্রশ্নের ঝর বয়ে যাচ্ছে অনিকে এর আগে কখনও এরখম অন্য মনষ্ক ও নিশ্চুপ ভাবে থাকতে দেখিনি। তবে আজ তার কি হল।
.
-অনুর দিকে আমি বার বার দেখছি, অর মধ্য ব্যাতিক্রম একটা জিনিষ দেখতে পেলাম, না সেটা ব্যাতিক্রম নয়, এটি আমি এর আগে আরো তিন ঈদ ধরেই দেখে আসছি, তাও কিছুটা বিমোহিত স্বরে জিজ্ঞাস করলাম, অনি তুমি প্রতি ঈদেই নতুন জামা কেনো, তাও এই তিন বছর ঈদের দিনে তোমায় একই জামা পরতে দেখি কেন? এবারও অনুর ঠোটে একটা মৃদ হাসির আভাস দেখতে পেলাম।
.
অনু বলছে -আজ থেকে ছয় বছর আগে কোরবানি ঈদে বাবা নিজের পছন্দমত এই জামাটা আমায় কিনে দিয়েছিলেন। তাই এই জামাটা আমি আজও আগলে ধরে আছি, বাবা ছাড়া আজ তিত্বীয় তম কোরবানি ঈদ যাচ্ছে, আজও দিনটা টিকই আছে কোরবানির ঈদ। শুধো ব্যাবধান- আজ বাবা নেই। তাই তার দেয়া ভালবাসার টুকরো স্মৃতি দিয়ে আমার আনন্দ গুলোকে সাজাতে চাইছি । কারন এর মধ্যে আমার বাবার বিচরণ রয়েছে।
.
এটাই আমার বাবার অস্তিত্ব, এইকথা গুলা আমি আর মা ছাড়া কেউ জানতো না, তাই মাও আমার ইচ্ছের বিপক্ষে গিয়ে নতুন এই দিনে নতুন জামা পরার কথা বলতেন না। মাও চাইতেন বাবার দেয়া শেষ উপহারটা দিয়ে যেন এইদিনে স্মৃতিচারণ করি। বাবাকে যদি আজ ফিরে পেতাম,,এইটুকু বলে অনি থেমে গেল, অনির চোখ ধীয়ে অঝোর শ্রাবনের বৃষ্টিধারা বয়ে যাচ্ছে, তাওও তার হাসি মাখা মুক একবারের জন্যও মলিন হলনা, সে-তো রহস্যময়ী
.
অনির কথাগুলা শুনে মনে কেমন জানি বিষাদের বায়ু ছোঁয়ে গেল। অযাচিত ভাবেই চোখের কোণ ধীয়ে এক ফুটো জল মাটিতে বিলুপ্ত হল। অনির চোখের জ্বল ঝরনা ধারার মতো বেয়ে পড়ছে। ওর ব্যাথায় ব্যতীত হয়ে আকাশও স্বজোড়ে কেঁদে উঠলো। আচমকা অনি আমায় ঝাপটে ধরে আমার বুকে যেন মুক লুকিয়ে কান্না ডাকার চেষ্টা করল। কিন্তু অনির বুকচেরা আর্তনাদের আওয়াজ লুকাতে ব্যার্থ হল সে।
.
বৃষ্টির করতল ধ্বনিতে বিষাদের অবসান ঘটে। শুরো হয় ভালবাসার আরেক নতুন অধ্যায়। আকাশের কান্নাও অনির কান্না মিশে গিয়ে সকল কষ্ট গুলা ধুয়ে মুছে যাইতে চাইল। সুদুর সমুদ্রের বুক ধীয়ে আসা জলজ বাতাস গুলা দুজনের অন্তরকে শীতল করতে চাইল। হয়ত আকাশ বাতাশ আর এই আমি অনির কষ্টের সাক্ষী হয়ে রইবে এই ত্রিয়শি। শুধো একটা কথাই ভাবছি বাহিরে দিকথেকে যেই মেয়েটাকে দেখতে যতটা সুখি মনে হয়েছিল তা আজ ভুল প্রমাণিত হল ।
.
মানুষের হাসি কান্নার পিছনে এত রহস্য লোকিয়ে থাকে কেন? এতদিন শিখে এই শিক্ষাটাই নিয়েছিলাম মানুষ সুখে হাসে আর দুখে কাঁদে। আজ অনিকে দেখে শিখতে পারলাম হাসির আড়ালে শুধো সুখ নয় দুখঃও আছে। কিন্তু আমি নামক অন্যচরিত্র যখন অনিদের কষ্টটা বুঝতে ব্যার্থ হুবে তখন অনিদের কষ্টগুলা যে অপ্রকাশ্যই রইবে। আকাশের কান্নাও থেমে যায়। বৃষ্টি ভেজা দুটি মন এবার সুখের নিড়ের খুঁজে পা বাড়ায়। দুজন দুজনার চোখে চেয়ে দুজনে একসাথেই হাসে। এ যেনো সেই রহস্যময় হাসি।
.
গল্পঃ কাল্পনিক ও বাস্তবতার সংমিশ্রণ।
.
উৎসর্গেঃ আরফিনা সুলতানা (অনি)
.
লিখাঃ ( Md SabbirAhmed ) নৈষ্য প্রহরি
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ