অগ্নিশিখা
:
লেখা : Farhan Ahmed Farabi (ভবিষ্যৎ সেনাবাহিনীর দুর্ধর্ষ অফিসার)
:
পর্ব : ৯
--এই দলের নেতৃত্বে থাকছে লেঃ শিহাব, আর সহযোগিতার জন্য তোমাদের সাথে একটি কমান্ডো দল দেওয়া হচ্ছে, আর সেই কমান্ডো দলের নেতৃত্বে থাকবে ক্যাপ্টেন ফারাবী। Clear? (মেজর মাহবুব)
.
যাওয়ার আগে অফিসার জাকির ক্যাপ্টেনের কাঁধে হাত রেখে বলল,
.
--ক্যাপ্টেন, আপনিই এই দলটিকে নিরাপদে রাখতে পারবেন। সারা দল আপনার উপর নির্ভর করছে ক্যাপ্টেন, আপনিই এই মিশনটিকে পুরোপুরি success করতে পারবেন। Best of luck ক্যাপ্টেন। (অফিসার জাকির)
--আমি আমার সার্থ মতো চেষ্টা করবো অফিসার, কারো কিছু হতে দিব না। (ফারাবী)
.
আর কিছু বলার সময় পেলনা ফারাবী। গাড়ি থেকে ডাক পড়ছে! ফারাবী একটা হাসি দিয়ে তাড়াহুড়ো করে বলল,
.
--দোয়া করবেন অফিসার, আসি তাহলে! (ফারাবী)
.
তাড়াহুড়ো করে গাড়িতে উঠে পড়ে ফারাবী, চারজন কমান্ডোকে সাথে করে দুটো জীপগাড়ি নিয়ে দুপুর ১২:০০টায় রওনা দেয় বুলুপাড়ার উদ্দেশে।
.
পৌঁছাতে প্রায় বিকেল তিনটা বেজে যায় তাদের। তাহসিরের লোকেশনের জায়গা থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে গাড়ি থাকে নেমে পড়ে সবাই। ফারাবী সবার উদ্দেশে বলল,
.
--Listen carefully! আমরা এখন তাহসিরের লোকেশন থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে আছি, এবং আমাদের মিশন এখান থেকেই শুরু হতে যাচ্ছে! (ফারাবী)
--Yes sir!
--লেঃ শিহাব নিজের দল নিয়ে পূর্ব দিকে রওনা দিবে, আমি কমান্ডোদের নিয়ে পশ্চিম দিকে যাব। আর পাঁচ কিলোমিটার দূরে মানে সন্ত্রাসী আস্তানায় একসাথে মিলিত হয়েই আক্রমণ করবো। Clear? (ফারাবী)
--Yes sir!
--লেঃ শিহাব, আপনি নিজের দল নিয়ে এগিয়ে যান। আমিও কমান্ডোদের নিয়ে এগুচ্ছি! Best of luck! (ফারাবী)
--Best of luck ক্যাপ্টেন! (লেঃ শিহাব)
.
এই বলে দল নিয়ে দুদিকে এগিয়ে যায় ফারাবী আর লেঃ শিহাব। পাঁচ কিলোমিটার হেঁটে যেতে হবে তাদের। গহিন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলছে ফারাবীর কমান্ডোরা, অন্যদিকে সরাসরি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে চলছে লেঃ শিহাব! হাঁটতে হাটতে রাত হয়ে যায়, সন্ত্রাসী আস্তানা নজরে পড়ে লেঃ শিহাবের! ওয়্যারলেসে সতর্কতা জানিয়ে দেয় ফারাবী,
.
--ক্যাপ্টেন, আমরা পৌঁছে গিয়েছি over! (লেঃ শিহাব)
--আমরাও পৌঁছে গিয়েছি, এবার শুধু আক্রমণের পালা। শুধু মনে রাখবেন, আক্রমণটা ভয়াবহ হতে হবে! আপনাদের গোলাগুলির সময় আমরা তাহসিরদের উদ্ধার করে আনব! Over! (ফারাবী)
.
চারজন কমান্ডোকে চারদিকে ছড়িয়ে পরতে বলল ফারাবী, ফারাবীর কথা মতো কমান্ডোরা ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। দূর থেকে বাইনোকুলারে দেখছে ফারাবী। আক্রমণের সুযোগ খুঁজছে সে। সুযোগ বুঝে ধীর পায়ে সন্ত্রাসীদের গাড়িতে টাইম বোমা ফিট করে আসে ফারাবী, ওয়্যারলেস হাতে নেয় সে,
.
--লেঃ শিহাব, are you ready? (ফারাবী)
--আমরা প্রস্তুত ক্যাপ্টেন! Over! (লেঃ শিহাব)
--আমাদের পরিকল্পনা মতো বোমা ফিট করা হয়ে গেছে, প্রস্তুত থাকুন সবাই! Over! (ফারাবী)
.
বোমা বিস্ফোরণের সাথেসাথেই আক্রমণের আদেশ দেয় লেঃ শিহাবকে! রাইফেল তাক করে প্রস্তুত হয় লেঃ শিহাবের টিম! রাতের নীরবতা ভেঙ্গে বোমা বিস্ফোরণে কেঁপে উঠে প্রকৃতি! লেঃ শিহাবের কন্ঠে গর্জে উঠে গুলি চালানোর আদেশ, শুরু হয় লেঃ শিহাবের ভয়াবহ গুলিবর্ষণ! শুরু হয় দু পক্ষের গুলি বিনিময়! হঠাৎ এমন ভয়াবহ আক্রমণে মুহূর্তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে তিনজন সন্ত্রাসী লোক! গোলাগুলির এক পর্যায়ে হঠাৎ চিৎকার করে উঠে সৈনিক মাহমুদ! বুকে গুলি লেগেছে তার! মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সৈনিক মাহমুদ। কিছুক্ষণ পরই মাহমুদের মত গুলির আঘাতে ছিটকে পড়ে সার্জেন্ট নিরব। ক্রমেই পরিস্থিতি ভয়াবহ ও কঠিন হয়ে উঠছে। এবার পকেট থেকে ধারালো ছুরি হাতে নিল ফারাবী! ঝুপের আড়াল থেকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় সন্ত্রাসীদের দিকে! মুখ চেপে ধরেই গলায় ছুরি চালিয়ে দেয় ফারাবী! গলার ধমনি ছিঁড়ে কলকলিয়ে বেরিয়ে আসে লাল রক্ত! ধপাশ করে মাটিতে পড়ে যায় সন্ত্রাসী লোকটির দেহ! এভাবে প্রায় সাত আটজনকে হত্যা করে ফারাবী! রক্তে ভরে যায় ধারালো ছুরিটি! গোলাগুলির মাঝেই তাহসিরদের রুমের দিকে ছুটে যায়, রুমের আশেপাশে সন্ত্রাসীদের আনাগোনা টের পেয়ে তার ধারালো ছুরিটা চেপে ধরে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় ফারাবী! আবারও সম্মুখে যুদ্ধে লিপ্ত হবে সে! পেছন থেকে আচমকা আক্রমণ করে ফারাবী, মুখ চেপে ধরে জোরে একটা টান! খেলা খতম ব্যাটার! রুমের দরজা খুলতেই নির্বাক হয়ে যায় ফারাবী! তাহসির, আবির, এনায়েত সবাই যে ঘরটিতে আছে সেটিতে বোমা ফিট কর
.
--ক্যাপ্টেন, আপনি এখান থেকে যান! আমাদের কথা ভাববেন না! (তাহসির)
--আরে মাথা ঠিক আছে তোমার? চুপ করো তুমি! (ফারাবী)
--কিন্তু আর মাত্র এক মিনিট বাকি ক্যাপ্টেন! এই অল্প সময়ের মাঝে.......
--তুমি কোনো কথা বলবেনা ok?? (ফারাবী)
.
বোমাগুলো নষ্ট করার আপ্রাণ চেষ্টা করছে ফারাবী, এখনো বাইরের প্রচন্ড গুলিবর্ষণের শব্দ কানে আসছে তার! হঠাৎ রুমে ঢুকে পড়ে সন্ত্রাসী লোকদের একজন! হাতের ধারালো ছুরিটা লোকটির দিকে ছুড়ে মারে ফারাবী! খেচ করে ছুরিটি গেথে যায় লোকটির বুকে! আর মাত্র ৩৮ সেকেন্ড বাকি! তাড়াতাড়ি হাত চালানোর চেষ্টা করছে ফারাবী! ইতি মধ্যে রুমে ছুটে আসে দুজন কমান্ডো,
.
--ক্যাপ্টেন, are you ok? (কমান্ডো শাহাদাত)
--তাড়াতাড়ি করো, আর মাত্র ৩১ সেকেন্ড! (ফারাবী)
.
ফারাবীর সাথে বোমা খুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে কমান্ডোরা! এদিকে গুলি চালাতে চালাতে সন্ত্রাসীদের আস্তানায় ঢুকে পড়ে লেঃ শিহাবের টিম! নিহত হয়েছে বেশ কিছু সন্ত্রাসী! বিস্ফোরণের মাত্র ১০ সেকেন্ড পূর্বেই বোমা খুলে রুম ত্যাগ করে সবাই, কিছু দূর ছুটে যেতেই বিস্তারিত হয় তিন তিনটে টাইম বোমা! ধ্বংস হয়ে যায় সমস্ত ঘরটি! বোমার তাপে ছিটকে পড়ে ফারাবী! পাথরে আঘাত লেগে কপাল ফেটে রক্ত বেরিয়ে আসে তার! কোনরকমে উঠে দাড়িয়ে পিঠে ঝোলানো রাইফেলটি হাতে নিয়ে গুলি চালাতে থাকে ফারাবী! কমান্ডোদের চেঁচিয়ে বলল,
.
--তাদের নিরাপদ দূরত্বে নিয়ে যাও তোমরা! (ফারাবী)
--ক্যাপ্টেন, সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাচ্ছে ক্যাপ্টেন!! (রাসেল)
--তাদের হাতছাড়া করা চলবেনা! এগিয়ে চলো সবাই!! (ফারাবী)
.
ফারাবীর নির্দেশ মতো গুলি চালিয়ে এগুতে লাগলো সবাই! সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করছে!হঠাৎ করে এক সন্ত্রাসী ফারাবির দলের দিকে কাদুনে গ্যাস ছুড়ে মারে আর সাথে সাথে চোখ বন্ধ হয়ে যায় সবার।। এক পর্যায়ে অস্ত্র ফেলে দৌড়ে পালাতে লাগলো সন্ত্রাসীরা। গুলি করে করে তাদের পেছন পেছন ছুটে যায় লে: শিহাব ! হঠাৎ একজন সন্ত্রাসী গ্রেনেড ছুড়ে তার দিকে! গ্রেনেডের আঘাতে ছিটকে পড়ে লেঃ শিহাব!
.
ফারাবী তখন চিৎকার করে ওঠে
--রাসেল follow me, now! (ফারাবী)
.
পাশের ঝোপঝাড়ের মাঝে দিয়ে ছুটে যায় ফারাবী আর রাসেল! সন্ত্রাসীদের সামনে যেতেই ঝুপের আড়াল থেকে বেরিয়ে রাইফেল তাক করে ফারাবী আর রাসেল! দৌড়তে দৌড়তে তাদের সানমে পড়ে যায় সন্ত্রাসীরা! বাকি সৈন্যরা এসে জোড়ো হয়ে রাইফেল তাক করে সন্ত্রাসীদের বুক ঝাঝরা করে দেয়! রাইফেল নামিয়ে নেয় ফারাবী! এখনো কপাল বেয়ে রক্ত ঝরছে তার! ফারাবী সবার উদ্দেশে বলল,
.
--যারা মারা গেছে তাদের লাশ নিয়ে রওনা দাও সবাই! আর ক্যাম্পে খবর পাঠাও! এখনি!(ফারাবী)
--Yes sir!
:
পরবর্তী পর্ব... ..
অগ্নিশিখা
:
লেখা : Farhan Ahmed Farabi (ভবিষ্যৎ সেনাবাহিনীর দুর্ধর্ষ অফিসার)
:
পর্ব : শেষ পর্ব
ওয়্যারলেসে খবর পাঠানো হয় ক্যাম্পে। আবারো পাঁচ কিলোমিটার হেটে পারি দিতে হবে সবার! লেঃ শিহাবের রক্তাক্ত মৃতদেহটি কাধে তুলে নেয় সৈনিক রাসেল। কিছুটা আগেই পড়ে আছে সৈনিক মাহমুদ ও সার্জেন্ট নিরবের লাশ! কিছুটা এগিয়ে তাদের লাশ দুটো কাধে তুলে নেয় দুজন কমান্ডো। আবার এগুতে থাকে সবাই। পেছন ফিরে তাকায় ফারাবী, এক অদ্ভুদ নীরবতায় ছেয়ে আছে জায়গাটি! কিছুক্ষণ আগেই ভয়াবহ রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল এলাকাটি, কত মৃত্যু, কত ধ্বংস লেখা ছিল এই জায়গা জুড়ে! ভাবতেই অবাক লাগছে ফারাবীর!
.
--ক্যাপ্টেন, দেরি করবেন না! আসুন প্লিজ! (কাউসার)
.
কাওসারের কথায় বাস্তবে ফিরে ফারাবী, নিজেকে সামলে নিয়ে উত্তর দেয়,
.
--হ্যাঁ আসছি, চলো এবার! (ফারাবী)
.
রাইফেলটা পিঠে ঝুলিয়ে নেয় ফারাবী আবারো দল নিয়ে হাটতে শুরু করে। মাথাটা কেমন যেন ঝিমঝিম করছে তার! কপালের রক্তগুলো হাতে মুছে সামনে এনে দেখে ফারাবী। আবারো চোখের সামনে ভেসে উঠে সেই ভয়াবহ দৃশ্য! ঘন্টা খানেক হাঁটার পর গাড়ির কাছে গিয়ে পৌঁছে সবাই। কেমন যেন চুপচাপ হয়ে আছে সবাই! সারাটা পথ কেউ কোনো কথা বলেনি তারা! লাশগুলো নিয়ে গাড়িতে উঠে পড়ে সবাই! গাড়ি স্টার্ট করে সৈনিক কাওসার! গাড়ির লাইটের আলোয় ভরে উঠে চারপাশ! আবারো দীর্ঘ পথের ভ্রমণ শুরু হয় তাদের!
.
প্রায় ভোরের দিকে রাঙ্গামাটি ক্যাম্পে পৌঁছে জীপগাড়ি দুটি! গাড়ি থামাতেই এগিয়ে আসে সবাই! এক একজনের এক একরকম প্রশ্ন! তবে নীরবে চোখের জল ফেলছে অনেকেই। পেয়েও হারাতে হলো তিনজনকে! কন্ট্রোল অফিসার জাকিরকে জড়িয়ে ধরে বাচ্চা ছেলেদের মতো কেঁদেই চলছে তাহসির। চুপ করে দাড়িয়ে সব দেখছে ফারাবী। হঠাৎ কন্ট্রোল অফিসার মামুন বলল,
.
--আরে ক্যাপ্টেন, আপনার মাথা ফেটে রক্ত পড়ছে আর আপনি...আসুন এখনি, বেশি রক্ত ঝরলে সমস্যা আছে! (মামুন)
.
ফারাবী কন্ট্রোল অফিসার মামুনের দিকে চেয়ে হেসে বলল,
.
--No Officer, I'm Ok! (ফারাবী)
--আরে আগে তো কম ছিল, এখন কিভাবে রক্ত পড়ছে আর তুমি এসব কি বলছো! এসো এখনি! (মেজর মাহবুব)
.
কিছুক্ষণ পরই ডাক্তার দিয়ে ফারাবীর মাথায় বেন্ডেজ করা হয়। কালই বাড়ির পথে রওনা দিবে। সবাই সবার বাড়িতে জানিয়ে দেয়। কন্ট্রোল রুমের দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে সবার ব্যস্ততা দেখছে ফারাবী। হঠাৎ বুটের শব্দ শুনে পাশ ফিরে তাকায় সে,
.
--ক্যাপ্টেন, বাড়িতে জানাবেননা যে কাল বাড়ি ফিরছেন? (কাওসার)
.
কাওসারের কথা শুনে বুকটা কেমন যেন করে উঠে ফারাবীর, মুহূর্তেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সার্জেন্ট নিরবের চেহারা! মিশনে নামার পূর্বে ঠিক একথাই বলেছিল নিরব! পার্থক্য শুধু, মিশনে যাওয়ার কথা বলার ছিল বাড়িতে, আর আজ বাড়ি ফেরার কথা। ফারাবীর চুপ থাকা দেখে কাওসার আবার বলল,
.
--ক্যাপ্টেন, জানাবেননা? (কাওসার)
--ওহ হ্যাঁ, মনে ছিল। এখনি ফোন করবো, তুমি যাও! (ফারাবী)
.
কাওসার চলে যেতেই কন্ট্রোল রুমে প্রবেশ করে ফারাবী। টেলিফোনে নম্বর ডায়াল করতে গিয়েও থমকে যায় সে। ঠোঁটের এক কোনে দুষ্টুমির হাসি দেখা যায় তার। সিনথিয়াকে ফোন না করেই টেলিফোনটা রেখে রুম থেকে বেরিয়ে পড়ে ফারাবী!
.
দুদিন পর,
আজ বাড়ি ফিরবে ফারাবী, ব্যাগ পত্র গোছানো নিয়ে ব্যস্ত, কিছুক্ষণ পরই রওনা দিবে সে। ব্যাগটা কাধে নিয়ে উঠে দাড়াতেই পেছন.থেকে কারো কন্ঠ শুনতে পায় ফারাবী। পেছন ফিরে তাকায় সে,
.
--কি ক্যাপ্টেন? এতো দেরি করছো কেন? (মেজর মাহবুব)
--আসলে স্যার, প্রস্তুত হচ্ছিলাম তো তাই আর কি, এখনি রওনা হবো স্যার! (ফারাবী)
--তাড়াতাড়ি কর রে বাবা! তোমার ম্যাডাম আবার তোমার জন্য বসে আছে! (মেজর মাহবুব)
--স্যার, আপনিও না!! (ফারাবী)
--আরে লজ্জা পাও কেন পাগল ছেলে! তোমার মাথা ব্যথার কি কমেছে? (মেজর মাহবুব)
--কিছুটা কমেছে স্যার, আগের থেকে ভালো আছি। (ফারাবী)
--ওহ আচ্ছা, এই আজ তোমাদের মেরিজ এনিভার্সারি না?? (উত্তেজিত হয়ে বলল মেজর মাহবুব)
.
কথাটা শুনেই হেসে ফেলে ফারাবী, লজ্জায় মাথা নিচু করে নেয় সে। ফারাবীর এমন আচরণ দেখে মেজর মাহবুব বলল,
.
--এ কেমন ছেলে? আরে আজ তোমাদের মেরিজ এনিভার্সারি আর তুমি কিনা....তাড়াতাড়ি যাও! এখনই রওনা দাও। আকাশের অবস্থা ভালো না দেখছি, কখন বৃষ্টি নামে বলা যায়না! আবার একদিন দেখা হবে। (মেজর মাহবুব)
--হ্যাঁ স্যার, এখনই যাচ্ছি! (ফারাবী)
.
কালো মেঘে ছেয়ে আছে আকাশ, কিছুক্ষণ পর পর মেঘের ডাক শোনা যাচ্ছে। ড্রাইভারের পাশের সিটে বসে ফারাবী। সব কিছু ঠিকঠাক করে এক সারিতে ছুটে যায় পাঁচটি জলপাই রঙের জীপগাড়ি! চলতি গাড়িতে ভালোই লাগছে ফারাবীর। আশেপাশের মানুষেরা চেয়ে আছে গাড়িগুলোর দিকে। সবকিছুই ঠিক আগের মতো, শুধু নেই তিনজন! প্রায় ঘন্টা খানেক পর গন্তব্যে পৌঁছে তারা। আবারো ঠিক আগের মতোই দৃশ্য, একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছে অনেকে! ফারাবীর কাছে এসে মেজর খালেদ বলল,
.
--একি? তোমার মাথায় বেন্ডেজ কেন? (মেজর খালেদ)
--আসলে স্যার, মিশনে যখন বোমা বিস্ফোরণ ঘটে, তখন আমার মাথা পাথরে আঘাত লাগে। তারপর আর কি এই অবস্থা! (ফারাবী)
--হুম বুঝেছি, তোমরা আজই বাড়ি ফিরে যেও। আর হ্যাঁ, তোমাদের জন্য একটা Good news! (মেজর খালেদ)
--কি Good news স্যার? (ফারাবী)
--তোমরা কঠিন মিশন থেকে বেঁচে ফিরেছো, তাই তোমাদের এক মাসের জন্য ছুটি দেওয়া হচ্ছে, পরবর্তীতে তোমাদের প্রমশন ও হবে। (মেজর খালেদ)
--Thank you so much sir! (ফারাবী)
--এখন রুমে গিয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করে বাড়ি ফিরে যেও, আগামী মাসে দেখা হবে তোমার সাথে। (মেজর খালেদ)
--Yes sir!
.
মেজর খালেদের কথা মতো রুমের দিকে পা বাড়ায় ফারাবী, রুমে বসে ফোন টিপছে সে। অনেকদিন পর এই সুযোগ পেয়েছে, এত সহজে কি আর ছাড়া যায়? হঠাৎ তাহসিরের উদ্দেশে ফারাবী বলল,
.
--তাহসির বাড়ি গিয়ে প্রথমে কি করবে? (ফারাবী)
--স্যার, আগেই তো সে বলেছিল, "বউ যার যার, গফ যেন সবার"! (রাসেল)
--এই তোমরা কি বিয়ে ছাড়া কিছু বুঝোনা? (হাসতে হাসতে বল ফারাবী)
--স্যার বুঝেননা? বয়স হয়ে যাচ্ছে তো! (তাহসির)
--স্যার, আমিও তো এখন ফেসবুকে, কই আপনাকে তো একটিভ দেখছিনা? (কাওসার)
--আরে পাগল দেখবে কিভাবে? আমি চ্যাট অফ করে লুকিয়ে আছি! (ফারাবী)
--হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত কেন স্যার? (রাসেল)
--আরে বুঝোনা? চ্যাট অন রাখলে আমার ম্যাডাম দেখে ফেলবে! (ফারাবী)
--হাহাহা, স্যার মনে হয় সার্প্রাইজ দেওয়া চিন্তা করছেন! (কাওসার)
--আচ্ছা স্যার, আপনি যে এত মজা করেন, উনি কি রাগ করেননা? (তাহসির)
--না, তবে মাঝেমধ্যে রেগে যায়! (ফারাবী)
--উনি কি রাগী নাকি স্যার? (কাওসার)
--না রে পাগল, তার মাঝে All mixed! (ফারাবী)
.
ফারাবীর কথা শুনে হো হবো করে হেসে উঠে সবাই, কতদিন পর এমন আনন্দ! বেশ কিছুক্ষণ হাসি-ঠাট্টা করে বাড়ির পথে রওনা দেয় সবাই। আকাশের অবস্থা ক্রমেই খারাপ হয়ে আসছে। মেঘের গর্জনের সাথে শুরু হয় ঠান্ডা ঝড়ো বাতাস! তাই হয়তো তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়েছে তারা! হঠাৎ করে সিনথিয়া তাকে দেখলে কি ভাববে? তার কেমন লাগবে? কেমন আচরণ করবে? সিড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে কথাগুলো ভাবছে ফারাবী। উপরে উঠে কিছুটা অবাক হয় ফারাবী, দরজা বাইরে দিয়ে লাগানো! দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে ফারাবী। সবকিছুই আগের মতো গুছগাছ! শুধু বারান্দায় ঝোলানো দোলনাটি বাতাসে দোলছে!
.
--সিনথিয়া? সিনথিয়া?! কোথায় যে গেল মেয়েটা! এই সিনথিয়া! (ফারাবী)
.
সিনথিয়াকে ডেকে ডেকে সারা ফ্ল্যাট খুজলো ফারাবী! কোথাও নেই! কই যে গেল মেয়েটা! মুখের উপর ঝড়ো বাতাস এসে পড়তেই মনে পড়ে যায় ফারাবীর, মেয়েটার বৃষ্টি বাদল খুব পছন্দ! এমন মেঘে ঢাকা আকাশ বা ঝড়ো বাতাস দেখলেই ছাদে উঠে পড়ে। হয়তো এখনো ছাদেই আছে! মুহূর্তেই কাধের ব্যাগটা বিছানার উপর ফেলে ছাদের দিকে ছুটে যায় ফারাবী। ছাদে উঠেই থমকে দাড়ায় সে! হাত দুটো দু পাশে ছড়িয়ে বাতাসের দিকে মুখ করে দাড়িয়ে আছে সিনথিয়া! অপরুপ লাগছে তার সিনথিয়াকে, আজও তার প্রিয় নীল রঙের শাড়ি পড়েছে, হাতে নীল রঙের চুড়ি, চুলগুলো বাতাসের সাথে তাল মিলিয়ে উড়ছে! দৃশ্যটা সত্যিই অসাধারণ লাগছে ফারাবীর কাছে। সিনথিয়া এখনো খেয়াল করেনি ফারাবীকে। আস্তে আস্তে পেছন দিকে গিয়ে সিনথিয়ার চোখ জোড়া ধরে ফেলে ফারাবী! ফারাবীর হাতে কিছুক্ষণ ধরাধরি করে হাত সরিয়ে পেছন ফিরে তাকায় সিনথিয়া। ফারাবীকে দেখেই অবাক হয়ে যায় সে!
.
--তুমি? আমায় জানালে না কেন যে তুমি আজ আসবে? (সিনথিয়া)
.
ফারাবী একটা হাসি দিয়ে বলল,
.
--জানিয়ে আসলে কি এত সুন্দর দৃশ্য দেখতে পেতাম? (ফারাবী)
--এই, আসা মাত্রই দুষ্টুমি শুরু করেছো তাইনা? এই তোমার মাথায় কি হয়েছে? বেন্ডেজ কেন? (সিনথিয়া)
.
ফারাবী কিছু বলতে যাবে এমন সময় নেমে আসে অঝোর ধারায় বৃষ্টি!
.
--এখানে কি করছো! ঘরে চলো নয়তো জ্বর হবে তোমার। (সিনথিয়া)
.
সিনথিয়া চলে যাচ্ছে এমন সময় তার হাতটা টেনে ধরে ফারাবী। সিনথিয়ার হাত ধরে কাছে টেনে বলল,
.
--ভিজিনা একটু? দুজনে মিলে? (ফারাবী)
--ভিজেই তো গেলে, আর কত ভিজবে শুনি? (সিনথিয়া)
--যতক্ষণ না বৃষ্টি থামছে ততক্ষণ! (ফারাবী)
.
আর কিছু বলল না সিনথিয়া, শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো ফারাবী। সিনথিয়ার কপালে কপাল মিলিয়ে দেয় ফারাবী। কপাল মিলিয়ে একে অপরের চোখ জোড়ার দিকে চেয়ে আছে এক অপলক দৃষ্টিতে!
.
এ এক আত্মত্যাগ, কাল্পনিক ও অসমাপ্ত ভালোবাসার গল্প। যেখানে পথে পথে ছিল বিপদের গন্ধ, যেখানে সিনথিয়াকে একা রেখে মরণ ফাঁদে পা দিয়েছি ফারাবী, যেখানে ফারাবীর জন্য দীর্ঘ দিন অপেক্ষা করতে হয় সিনথিয়াকে। নিজের দুর্ধর্ষতার পরিচয় দিতে যেয়ে প্রাণ হারাতে হয় লেঃ শিহাবকে। যেখানে প্রাণ হারিয়ে বীর সেনা সদস্যরা!
:
"""""""""""""""সমাপ্ত """""""""""""""
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ