- তোমার না ঘুম পাইছে খুব?
- হুম, কিন্তু শুনেন বিড়াল অহেতুক মারবেন কেনো? বাসায় বিড়াল থাকা ভালো।
- আল্লাহ্.......!
লজ্জা পেলো না আসলেই বুঝেনি তা বুঝলাম না। আর কোনো কথা বলা যাবে না। অনেক হয়েছে এবার ঘুমানো দরকার। মৌ ঘুমিয়ে পরেছে।
সকাল হলো। মৌ কখন উঠে পরেছে টের পাইনি। কদিন আগে রাস্তা থেকে একটা বিড়াল এনেছিলাম। রাস্তায় পাশে দাঁড়িয়ে মিউ মিউ করছিলো।
স্পষ্ট কান্নার শব্দ আমি বুঝতে পেরেছিলাম। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে দেখলাম বিড়ালটাকে নিতে বিড়ালের মা আসছে না। ভাবলাম নিয়েই যাই।
সেই নিয়ে আসা। গেলো ঈদের মাংস খেতে খেতে কদিনে অনেক বড় হয়ে গিয়েছে। মৌ সেই বিড়ালটা এনে আমাকে ডাকছেঃ-
- এই শুনেন।
- কী?
- আমি বিড়ালটা মারতে দিবো না। কী সুন্দর বিড়াল।
পেট ফেটে হাসি আসছে। আবার নিজের জন্য দুঃখও হচ্ছে। বললামঃ-
- না আমি মারবোই। আমার বিড়াল আমি মারবো তোমার কী?
মৌ বিড়ালটা নিয়ে রুমের বাইরে চলে গেলো। আমার উপর রাগ করলো মনে হয়।
আমি বিছানায় শুয়েই হো হো করে হাসছি। বেশ মজাই লাগছে। আবার মৌ আসলো। আমার হাসি দেখে ভেঙচি দিয়ে বললোঃ-
- এই, উঠেন তো তাড়াতাড়ি।
- কেনো?
- উঠতে বলছি উঠেন না।
- না, আমি ঘুমাবো আরো। অনেক রাত করে ঘুমিয়েছিলাম তো।
- একবার উঠে শুধু দাঁড়ান। তারপর আবার শুইয়েন।
বিছানা ছাড়তে ইচ্ছে হলো না। তবুও উঠে দাঁড়ালাম। মৌ সালাম করার জন্য আমার পা ছুঁতে চাইলো। আমি সরে গিয়ে বললামঃ-
- এখন আবার কীসের সালাম? সালাম লাগবে না। দোয়া করি অনেক দিন বেঁচে থাকো, সুখী হও।
মৌ আমার দিকে এমন ভাবে তাকালো মনে হচ্ছে আমি সাত খুনের আসামি। বললঃ-
- বাসর ঘরে ঢুকেই তো আপনি লুডু নিয়ে পরেছিলেন। আমার তখন সালাম করতে মনে ছিলো না।
মাথায় আবার শয়তানি চাপলো। বললামঃ-
- আমি তো বিড়াল মারার আগে সালাম করতে দিবো না।
মৌ উঠে দাঁড়ালো। জোর গলায় বললোঃ-
- করলাম না আর সালাম। আমিও দেখি কিভাবে বিড়ালটা মারেন।
বলেই হনহন করে রুম থেকে চলে গেলো। আমি দরজা লাগিয়ে আরো হেসে নিলাম। এতো মজা লাগে কেনো?
চোখে ঘুম থাকলেও আর শুলাম না। দরজা খুলে বাহিরে যেতেই দেখি সবাই আমাকে দেখে কেমন কেমন করে যেনো তাকাচ্ছে।
নিজের কাছে নিজেকেই কেমন বেকুব বেকুব লাগছে। মৌকে ডেকে বললামঃ-
- এই মৌ, সবাই আমার দিকে এভাবে তাকাচ্ছে কেনো?
মৌ মুচকি হেসে বললোঃ-
- বলবো না.......!
.
পর্বঃ- ০৪
গল্পঃ- লুডু
মৌকে ডেকে বললামঃ-
- এই মৌ, সবাই আমার দিকে এভাবে তাকাচ্ছে কেনো?
মৌ মুচকি হেসে বললোঃ-
- বলবো না।
মৌয়ের উপর রাগ হচ্ছে। কিছু একটা করা দরকার। কেউই বলছে না আসলে কী হয়েছে। মাকে জিজ্ঞেস করার আগেই বললঃ-
- আমি কিছু জানি না। আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করিস না বাপ।
মৌয়ের উপর একটু রাগ দেখানো যাক। মৌকে ডাকলাম। ভাবলাম সেই করে একটা ঝারি দিবো।
মৌ আমার কথা বলার আগেই বললোঃ-
- আয়নায় গিয়ে নিজের চেহারাখান দেখলেই তো পারেন।
এই কথাটা বলে মৌ চলে গেলো। মনে হলো লজ্জা পেয়েছে। কিন্তু কেনো? আমি তো কিছুই করিনি।
অনেক কৌতূহল নিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ালাম। আঁহ কপালে এসব কী দেখা যায়? লিপস্টিক লেগে আছে কেনো? এটা কিভাবে সম্ভব?
কাহিনী মাথায় আসলো এবার। এজন্যই বুঝি মৌ লজ্জা পেয়েছিলো। বিড়াল মারার আগেই বিড়াল আগেই মরে গেলো? নাহ এটা হতে পারে না।
ফ্রেস হলাম। মনে বড় দুঃখ। নাস্তা করার জন্য সবাই খুঁজছে। খাওয়ার টেবিলে বসে আছি। মৌ আমার দিকে তাকাচ্ছে না। এরকম লজ্জা আমার কোনোদিন লাগেনি।
কখন এই দুর্ঘটনা ঘটলো বুঝলাম না কিছু। বাচ্চাদের মতো কান্না আসছে চোখে। মৌ মুচকি মুচকি হাসছে। আমার বিড়ালটাকেও দেখছি না সেই কখন থেকে।
খাওয়া শেষ। মৌ ফ্রেস হতে গেলো। শুয়ার ঘরে পাইচারি করছি। মৌ আসলে এবার বকুনি দিবো। আমার বিড়ালটাকেও পাচ্ছি না। মৌ ফ্রেস হয়ে বের হলো।
আমি পথ আটকিয়ে বললামঃ-
- আমার কপালে লিপস্টিক লেগেছিলো কিভাবে?
মৌ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলো। আমি দিলাম না। মৌ নরম স্বরে বললোঃ-
- জানি না।
আমি জোর করে হাতটা ধরলাম। মৌ ভয় পেলো। ভয়ের স্বরে বললোঃ-
- কী হলো? মারবেন নাকি?
- না, তোমার ঘাড়ে তেলাপোকা।
মৌ সাথে সাথে চিক্কুর দিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। ভদ্র ছেলে, আমি ধরিনি। আবার বললামঃ-
- ঘাড়ে কিছু নাই, মিথ্যা কথা বলছি।
মৌ ভেঙচি দিয়ে বললামঃ-
- কেনো?
- প্রতিশোধ নিলাম সকালে লজ্জা দেয়ার জন্য।
মৌ মনে হয় কেঁদে দিবে। যাওয়ার আগে জিহ্বা বের করে ভেঙচি দিয়ে বলে গেলো।
- বিড়াল মারবেন না?
বিড়ালের কথা মনে পরে গেলো মৌয়ের কথায়। সারা বাড়ি তন্নতন্ন করে খুঁজলাম বিড়াল পেলাম না। মৌ আবার সত্যি সত্যি ধরে নিয়েছে নাতো যে আমি এই বিড়ালটাকেই মারবো?
মহারাণী অকাজে ব্যাস্ত। ঝাড়ি দিয়ে বললামঃ-
- মৌ, আমার বিড়ালটা কোথায়? কোথাও যে পেলাম না।
- লুকিয়ে রাখছি। অমন একটা বিড়ালের অকালে মৃত্যু হবে ভাবতেই পারি না।
- আল্লাহ্! বিড়াল তো তুমি।
মৌ চোখমুখ বাঁকা করে বললোঃ-
- এই, আপনার জ্বর-টর আসলো নাকি?
.
পর্বঃ- ০৫
গল্পঃ- লুডু
মৌ চোখমুখ বাঁকা করে বললোঃ-
- এই, আপনার জ্বর-টর আসলো নাকি?
নিজের প্রতি নিজেরই রাগ হচ্ছে। বললামঃ-
- হ্যাঁ তিনশো ষাট ডিগ্রী সেলসিয়াসে জ্বর আসছে। এখন বিড়াল না খুঁজে পেলে জ্বর আরো বাড়বে।
আশ্চর্যের ব্যাপার মেয়েটা আমার কথা বিশ্বাস করে ফেললো। লুকিয়া রাখা বিড়ালটা এনে আমার হাতে দিয়ে বললোঃ-
- জ্বর কমেছে?
আমার হাসি পাচ্ছে। বললামঃ-
- কপালে হাত দিয়ে দেখো কমেছে কী না।
মৌ কপালে হাত দিলো। আহা শরীরে যেনো কারেন্ট লাগলো। হাতটা নামিয়ে বললোঃ-
- জ্বর-টর কিছুই দেখি নেই। মিথ্যা বললেন কেনো? দেন বিড়াল দেন।
আমি কিছু না বলে বারান্দায় চলে আসলাম। মৌ পিছন পিছন এসে বললোঃ-
- আপনার মনে কী একটুও ভালবাসা নেই? এরকম একটা বাচ্চা বিড়ালকে অহেতুক কেনো মারবেন?
- শুনোনি? আমি বলেছি তুমি বিড়াল।
মৌ রাগ করে বললোঃ-
- আমি বিড়াল হতে যাবো কোন দুঃখে? আর আমি যদি বিড়াল হই আপনি তাহলে কচ্ছপ।
কথাটা বলে চলে গেলো। মেয়েটাকে রাগাতে আমার ভালো লাগে। রেগে যখন আমাকে ঝারি দেয় তখন আরো বেশি ভালো লাগে।
বিড়ালটাকে রেখে মৌয়ের কাছে গেলাম। মুখে ভেঙচি দিয়ে বুঝিয়ে দিলো সে আমার উপর রেগে আছে। ইতিমধ্যে রেগে আছে এমন মানুষকে আরো রাগালে বেশী মজা পাওয়া যায়। বললামঃ-
- মৌ, একটা জরুরী কথা আছে একটু এদিকে আসো।
মৌ এসে চোখে ইশারা দিয়ে বলছেঃ-
- কী?
- চলো লুডু খেলবো।
মৌ এমন ভাবে হাতদুটো তুললো মনে হলো আমি মুরগীর রাণ আর সে ভীষণ ক্ষুধার্ত তাই আমাকে চিবিয়ে চিবিয়ে খাবে। বললোঃ-
- আপনার কী খেয়ে-দেয়ে কোনো কাজ নেই? বাসর রাত থেকে শুরু করেছেন আমাকে জ্বালানো। এই দুপুর বেলায় কেউ লুডু খেলে?
- আমার একটাই কাজ তোমাকে জ্বালানো। আর তোমাকে খেলতেই হবে। এটা তো তোমার প্রিয় খেলা।
- উফ।
মৌ বিরক্ত হয়ে রান্নাঘর থেকে দুটো শসা এনে আমার হাতে দিয়ে বললোঃ-
- কোনো কাজ না থাকলে যান বারান্দায় বসে বসে শসা খান। আমাকে আর বিরক্ত করতে আইসেন না প্লীজ। আমার অনেক কাজ আছে।
আমি আর কোনো কথা বললাম না। সোজা বাড়ি থেকে বের হয়ে এসেছি। না আমি মৌয়ের উপর রাগ করিনি। আমি বাড়িতে থাকলে মেয়েটাকে না জ্বালিয়ে থাকতে পারবো না।
সে একটু শান্তিতে থাকুক। সন্ধ্যা পেরিয়েছে, বন্ধুবান্ধবদের সাথে আছি। সাথে করে ফোনও আনিনি। তাই বাড়ি থেকে কেউ ফোন দিয়ে বিরক্তও করতে পারছে না।
রাত দশটার পরে বাড়ি ফিরলাম। মা বকাঝকা করেছে হাল্কা। মৌ শুয়ে ছিলো। আমাকে দেখে উঠে আসলো। বললোঃ-
- খাবেন না?
- না, বাইরে থেকে খেয়ে এসেছি।
মৌ আর কিছু বললো না। একা গিয়ে শুয়ে পরলো। আমি রুমের লাইট অফ করতে যাবো তখন মৌ বললোঃ-
- আপনি কী আমার উপর রাগ করে আছেন?
- না, আমার আবার রাগ নেই।
- আমার আছে, রাগও আছে অভিমানও আছে। একটাবার জিজ্ঞেস করলেন না খেয়েছি কী না।
আমি জবাব দিতে পারলাম না। মেয়েটা তো ঠিকই বলেছে। লাইটটা আর নিভালাম না। না নিভিয়েই শুয়ে আছি। মাথাটা হঠাৎ প্রচণ্ড ব্যাথা করছে।
একটুপর খেয়াল করলাম মৌ আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। মৌয়ের হাতের স্পর্শে মাথা ব্যাথা যেনো পালালো। বললামঃ-
- কী ব্যাপার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছো যে? এতো রাগ, অভিমান তোমার।
মৌ ভেঙচি দিয়ে বললোঃ-
- বরটাও আমার..........!
.
পর্বঃ- ০৬
গল্পঃ- লুডু
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ