মৌ হিহিহি করে হেসে বললোঃ-
- এই।
- হুম।
- কালকে আপনার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে।
- কী?
মৌ আর কিছু বললো না। মৌ ঘুমিয়ে পরেছে। আমিও আস্তে আস্তে ঘুমের দেশে চলে যাই। চোখটা খুললে নিজেকে একটা বদ্ধ ঘরে আবিষ্কার করলাম! হাত পা বাঁধা চেয়ারে।
আশ্চর্যের ব্যাপার! আমি তো মৌয়ের সাথে ঘুমিয়েছিলাম আর আমার বাড়িতে তাহলে এখানে কিভাবে এলাম?
ভয় পেয়ে চিৎকার করলাম। কেউ আসলো না। আবার চিৎকার করলাম। এবারো কেউ আসলো না।
আরেকবার চিৎকার করতে যাবো তখনই একজন নারীর ছায়া দেখলাম। আমার দিকে আসছে। হাতে খাবারের প্লেট।
চোখের সামনে আসতেই বিরাট বড় ধাক্কা খেলাম। নিচের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছি না।
এই নারী আর কেউ না, আমার মৌ! খিলখিল করে হেসে বললোঃ-
- কী মিষ্টার লুডুওয়ালা, মাথায় কিছু ঢুকছে না? অনেক সময় পাবেন সব কিছু বুঝতে। আগে তো খেয়ে নিন।
আমি নিশ্চিত কোনো দুঃস্বপ্ন দেখছি। এসব কোনোভাবেই হওয়ার কথা না। বললামঃ-
- তুমি সত্যিই মৌ তো?
মৌ কথাটা শুনে আমার হাতে চিমটি কাটলো। এবার নিশ্চিত হলাম মেয়েটা আমারই অর্ধাঙ্গিনী! বললামঃ-
- তুমি! আমি এখানে কেনো? আমার হাত পা বাঁধা কেনো? আমি এখানে কিভাবে আসলাম?
মৌ হেসে বললোঃ-
- উত্তেজিত হবেন না। কোনো লাভ নেই। সব উত্তরই পাবেন।
- এসব কী বলছো তুমি? আর তুমি প্যান্ট শার্ট পরছো কেনো? একদম ভালো দেখাচ্ছে না তোমায়।
মৌ আমাকে ঝারি দিয়ে বললোঃ-
- ঐ চুপ। একটা কথাও বলবি না। আর শুন, আমি তোর বৌ না। আমি কবুল বলিনি বিয়ের সময়। তাই জামাইগিরি দেখাবি না একদম। অনেকদিনের হিসাব যে তোর সাথে আমার বাঁকি আছে।
রহস্যটা এতো জটিল বুঝতে পারিনি। বললামঃ-
- কী চাই তোমার বলো? তবুও আমাকে জানে মেরো না।
- হা হা হা। আমি কী চাই? হ্যাঁ কিছু একটা তো চাই। কিন্তু এখন না পরে। আগে তোর সারপ্রাইজটা তো দেই।
মৌয়ের কথা শেষ করার সাথে সাথে একজন লোক অন্ধকার রুমটায় প্রবেশ করলেন। মনে হলো আমি নিজে! অবাক কাণ্ড, এ তো ফারায!
গা ছিমছিম করছে এরকম এক ভয়ংকর কিলারকে দেখে। হাতে পিস্তল! গলায় চেইন, মুখে সিগারেট। চুলগুলো কেমন যেনো। বললামঃ-
- ভাই, আপনি তো আমার মায়ের পেটের ভাই তাই না? আমার জন্য কী আপনার একটুও দয়া মায়া হবে না?
ফারায কিছু বললো না। ভয় লাগছে। সে নিজের মতো করে সিগারেট টেনে যাচ্ছে। মৌ বললোঃ-
- কী সাহেব? রহস্যের গল্পটা মাথায় ঢুকছে না? জানতে চাস আমি তোর কাছে কী চাই? তোর জানটা চাই রে। তুই আমার বাবাকে মেরে বাবার সব দুই নাম্বারি ব্যবসার মালিক হয়েছিস। কী ভাবছিস সিয়াম আহমেদ জয় সেজে থাকলে তোকে চিনবো না আমি? অবাক লাগছে? তোর আদরের মৌ হয়ে কেনো এসেছিলাম জানতে চাস? দুঃখ একটাই তোকে এসব না জেনেই মরতে হবে। গুড বাই মিষ্টার রাজ, হ্যাপি জার্নি।
হাসি পাচ্ছে খুব। না আর হাসি থামাতে পারলাম না। হো হো করে হেসে নিলাম। মৌ অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। বললোঃ-
- হাসছিস কেনো?
- জান, আমারও যে একটা সারপ্রাইজ দেয়ার বাঁকি আছে।
মৌ অবাক হয়ে বললোঃ-
- ফারায, কিল হিম, শালা আবোলতাবোল বকছে।
ফারায আমার দিকে পিস্তল না তুলে মৌয়ের কপালে পিস্তল তাঁক করলো। মৌয়ের চোখ যেনো কপালে উঠলো। বললোঃ-
- আমাকে না, রাজকে মারতে বলছি ফারায। আমি হাসছি। না এবার মেয়েটাকে মুক্তি দেয়া দরকার। বললামঃ-
- জান, সারপ্রাইজটা কেমন হলো? যদি তুমি ডালে ডালে চলার ক্ষমতা রাখো তাহলে আমি পাতায় পাতায় চলার যোগ্যতা রাখি। ফারায আর কেউ না আমি নিজেই রে বোকা। নামটা মনে হয় ঠিক করে খেয়াল করোনি বেবি। ফা+রাজ= ফারাজ। আর ফারাজ থেকে ফারায। তোমার মাথায় যে গুলি তাঁক করে রেখেছে সে হলো, সিয়াম আহমেদ জয়। আমরা যমজ ভাই। রক্তের ভাই। আমার মা, ছোট ভাই, বাড়ি, চাকরী। সবকিছুই সাজানো রে পাগলী। অনেক অভিনয় করেছি আর না। ভালই হলো খেলাটা অতি শীঘ্রই শেষ করতে চাইলে। আরেকটা কথা বাবু, তোমার প্ল্যানটা ভালই ছিলো। বাট ইউ নো, কিভাবে আমরা এই জায়গায়। বারোটা বছর তোর বাবার ডান বাম হাত ছিলাম আমি আর সিয়াম। কী দিয়েছিলো সে আমাদের? যাকগে সে কথা। তোমার কোনো শেষ ইচ্ছা আছে জান? যাহোক তুমি তো আমার অভিনয়ের হলেও বৌ ছিলে। আর হ্যাঁ অভিনয়টা তুমিও ভালোই করেছো।
মৌ অজ্ঞান হবার পথে প্রায়, বললোঃ-
- আমি জানতে চাই এসব কিভাবে করলি তুই? এত্তবড় আমার মাষ্টার প্ল্যানের বিরুদ্ধে?
- হা হা হা। রহস্য জান রহস্য। দুঃখ কী জানো তোমার? এই রহস্যটা পুরোপুরিভাবে না জেনেই তোকে মরতে হবে। গুড বাই মিস, লেডি অফ ইউনিক ডন ইউনিভার্স। হ্যাপি জার্নি........!
.
( Lady Of - L Unique - U Don - D Universe - U = Ludu = লুডু )
.
পর্বঃ- ১৩ (সমাপ্ত)
গল্পঃ- লুডু
Writer .. Siam Ahmed Joy
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ