মৌয়ের হাতের স্পর্শে মাথা ব্যাথা যেনো পালালো। বললামঃ-
- কী ব্যাপার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছো যে? এতো রাগ, অভিমান তোমার।
মৌ ভেঙচি দিয়ে বললোঃ-
- বরটাও আমার।
মৌয়ের মুখে কথাটা শুনে কেনো যেনো হৃদয়ে পূবাল হাওয়া বয়ে গেলো। মেয়েটা মনে হয় না খেয়েছে। বললামঃ-
- খাওয়া হয়েছে?
- হুম, আমি আবার কারো জন্য নিজের খাওয়া বন্ধ রাখতে পারি না। আপনি কী খেয়েছেন?
- আরে বাবা তোমাকে রেখে কিভাবে খাবো আমি? ক্ষিদায় পেট চোঁচোঁ করছে।
- ভালো হইছে। এবার সারারাত না খেয়ে থাকেন।
ভেবেছিলাম মেয়েটা আমার প্রতি একটু দরদ দেখাবে। নাহ মৌ ওপাশ হয়ে শুয়ে পরেছে। বিছানা থেকে উঠে মায়ের উদ্দেশ্যে পা বাড়ালাম। মৌ উঠে বললোঃ-
- দাঁড়ান এক মিনিট।
দেখলাম মৌ লুডু বের করলো। এমনিতেই দুপুর থেকে পেটে কিছু পরেনি উনি আবার লুডু বের করেছে। বললোঃ-
- খাওয়া বাদ, আজকে চলেন লুডু খেলবো।
মেজাজ খারাপ হলো। বললামঃ-
- ক্ষিদা লাগছে তো। আগে খেয়ে আসি?
মৌ জোর কাটিয়ে বললোঃ-
- উঁহু, যা বলছি তাই করেন।
অসহায়ের মতো বিছানায় বসে পরলাম। মনে হচ্ছে মৌকেই চিবিয়ে খাই। বললোঃ-
- অপেক্ষা করেন আরেকটু।
কথাটা বলে বাহিরে গেলো। সঙ্গে করে ছোট দুই ভাইকে নিয়ে আসলো। মেজাজ আরো খারাপ হচ্ছে। ওমা সাথে দেখি এক ডিব্বা ললিপপ। বললোঃ-
- কী ভেবেছেন, ললিপপ আপনার জন্য এনেছি? না, আপনি তো ললিপপ খান না। আপনি তো সিয়াম আহমেদ জয়। ললিপপ আমরা তিনজন খাবো আপনি শুধু লুডু খেলবেন।
একরাশ মন খারাপ নিয়ে বললামঃ-
- আচ্ছা।
অনেকক্ষণ হয়ে গেলো লুডু খেলছি। কেউ আর ঘুমের কথা বলছে না। আজকেই যেনো সারা রাজ্যের ঘুম আমার চোখে আসছে। মৌ আমার ঘুমের চোখ দেখে বললোঃ-
- কী চোখে ঘুম আসছে? চোখে ঘুম আসলে তো হবে না। আজকে আমরা সারারাত লুডু খেলবো।
- লক্ষ্মী মেয়েটা, আমার পেটে ক্ষিদা চোখে ঘুম। আর পারবো না খেলতে।
- চুপ করেন। বাসর রাতের কথা মনে আছে আমার।
কোনো কিছু না পেরে হঠাৎ এমন ভাব করলাম যেনো আমি অজ্ঞান হয়ে পরেছি। মৌ হাসছে। ছোট ভাই দুটোকে পাঠিয়ে দিলো।
মৌয়ের হাসি যেনো থামছে না। বললোঃ-
- বাহ বাহ বাহ, আপনাকে অভিনয়ে একশোতে একশোই দেয়া উচিৎ।
কে শুনে কার কথা? আমি ভান করেই শুয়ে আছি। মৌ কোথ থেকে যেনো একটা প্লেট বের করলো। প্লেটে তিনটে রুটি আর একটি ডিম ভাজি।
আমি লাফ দিয়ে উঠলাম। আগে পেটের ক্ষিদা মিঠিয়ে নেই। মৌ আমার কাণ্ড দেখে হাসছে। বাচ্চাদের বৃষ্টিতে ভিজতে দিলে যেমন করে হাসে।
আমি তাড়াহুড়ো করে খেয়ে বললামঃ-
- পেট ভরেনি।
আমি দেরিতে বাড়ি ফিরলে মা রান্নাঘরে তালা দিয়ে রাখে। এটা আমার শাস্তি। মৌ লাইটটা অফ করলো। হঠাৎ মৌয়ের ঠোঁটদ্বয় দিয়ে আমার ঠোঁটদুটো স্পর্শ করে কানে কানে বললোঃ-
- আমার কাছে আর খাবার নাই স্যার।
.
পর্বঃ- ০৭
গল্পঃ- লুডু
হঠাৎ মৌয়ের ঠোঁটদ্বয় দিয়ে আমার ঠোঁটদুটো স্পর্শ করে কানে কানে বললোঃ-
- আমার কাছে আর খাবার নাই স্যার।
আমি চুপচাপ শুয়ে আছি। মৌ ঘুমিয়ে আছে। আমার চোখেও ঘুম আসছে। দীর্ঘশ্বাস নিয়ে ঘুমুতে গেলাম।
সকাল হলো। মৌ আমার আগেই উঠে পরেছে। আজকে বেশি ঘুমুলে চলবে না। সকাল দশটায় শো আছে আমার। মৌ রান্নাঘরে রান্না করায় ব্যাস্ত। একটু দেরি হয়ে পরেছে।
সেজন্য তাড়াহুড়ো করছি। নাস্তা করা আর হলো না। মৌ দুপুরের খাবার টিফিন বক্সে করে দিয়ে দিয়েছে। আমার বসটাও হচ্ছে একটা ফইন্নি।
বিয়ে করার জন্য দুদিন টাইম দিলো মাত্র। মৌ আসার সময় বলে দিয়েছে সময় মতো খেয়ে নিতে। অফিসের সবাই এমন ভাবে তাকাচ্ছে মনে হচ্ছে আমি আই, এস এর সদস্য।
আজকে অন-এয়ারে যেতে কেমন বুকের মধ্যে ধুপধুপ অনুভব করছি। এর আগে এমন হয়নি। আমি মূলত আরজে না।
কিন্তু সকাল দশটার শো'র জন্য এখনো কোনো আরজে নেয়া হয়নি। তাছাড়া কোনো রিপ্লেসমেন্টও করা হয়নি।
সুতরাং আমারই কদিন বাচ্চাদের শো ''আগডুম বাগডুম'' হ্যান্ডেল করতে হবে।
এর আগেও শো করেছি তবে অন্য শো'তে। শো চলাকালীন মৌ ফোন করে বললো তাড়াতাড়ি বাসায় যেতে আর্জেন্ট দরকার। নতুন বৌয়ের জন্য এক গুচ্ছ লাল গোলাপ নিলাম।
দরজায় টকটক করতেই মৌ দরজা খুললো। খুলেই প্রথম কথাঃ-
- আমি আপনার সাথে আর থাকতে পারবো না।
নিশ্চিত মেয়েটা মজা করছে ভেবে আমি জড়িয়ে ধরতে গেলাম। মৌ দূরে ঢেলে দিয়ে বললোঃ-
- আমি ডিভোর্স চাই।
এই কথাটা সহ্য হলো না আমার। দিলাম জোরে এক থাপ্পড়। মজা হোক আর যাই হোক এই ধরণের কথা কোন সাহসে বললো?
মৌ কেমন যেনো অদ্ভুত এক হাসি দিয়ে বললোঃ-
- লাভ নেই মিষ্টার। আমি আপনার সব গোপন তথ্য জেনে গিয়েছি।
মেজাজটা খুব খারাপ হচ্ছে আমার। মেয়েটার মাথায় সমস্যা হলো কী না! আমি আদর করে বললামঃ-
- এসব নিয়ে মজা করে না লক্ষ্মীটি। দেখো তোমার জন্য গোলাপ এনেছি।
মৌ গোলাপগুলো ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বললোঃ-
- আমি কোনো প্রফেশনাল কিলারের ঘর করতে পারবো না।
- মানে? পাগল হইছো নাকি? আমি প্রফেশনাল কিলার হতে যাবো কোন দুঃখে? আমি কী করি তা তুমি জানো না?
মৌ কিছু না বলে রুমে গিয়ে জিনিষপত্র ভাঙ্গতে শুরু করলো। এবার বুঝলাম বিষয়টা সিরিয়াস। কেউই বলছে না আসলে কী হয়েছে মৌয়ের।
আমি মৌকে শক্ত করে ধরে রাখলাম। মৌ কান্না করছে। আমি বুঝছি না আসলে ঘটনাটা কী? নরম স্বরে বললামঃ-
- লক্ষ্মীটি, তোমার কেনো মনে হলো আমি প্রফেশনাল কিলার?
মৌয়ের চোখে যেনো রক্ত টলমল করছে। বললোঃ-
- কোন সাহসে জড়িয়ে ধরেছেন? আপনি কী মনে করেন, আমি আপনাকে ভয় পাই? না আমি কোনো কিলার-টিলারকে ভয় পাই না।
মেয়েটার মাথায় নিশ্চিত সমস্যা হয়েছে। নাহলে মানসিক রোগ। যে ছেলে রক্ত দেখলেই ভয় পায় সে নাকি খুন করে! মৌ আমার দুহাতে আমার কলার ধরে বললোঃ-
- কেনো আমার জীবনটা নষ্ট করলেন? কেনো?
.
পর্বঃ- ০৮
গল্পঃ- লুডু
মেয়েটার মাথায় নিশ্চিত সমস্যা হয়েছে। নাহলে মানসিক রোগ। যে ছেলে রক্ত দেখলেই ভয় পায় সে নাকি খুন করে! মৌ দুহাতে আমার কলার ধরে বললোঃ-
- কেনো আমার জীবনটা নষ্ট করলেন? কেনো?
সবকিছু আশ্চর্য লাগছে আমার। দুদিন হলো বিয়ে করেছি। মৌকে নিয়ে ঘুড়ে বেড়ানোর কথা এখন আমার। কিন্তু আজব ঘটনা মৌ আমায় কিলার ভাবছে! বললামঃ-
- কোনো মেয়েকে সম্মানের সহিত বিয়ে করা বুঝি তাঁর জীবন নষ্ট করা লক্ষ্মী?
মৌ এমনভাবে আমার দিকে তাকালো মনে হচ্ছে আমিই একমাত্র পৃথিবীর নিকৃষ্ট মানুষ। বললোঃ-
- এরকম নোংরা মুখে লক্ষ্মী ডাকটা মানায় না ফারায সাহেব।
- ফারায! ফারায আবার কে?
- আর ভণিতা করবেন না দয়া করে। আপনার নাম, সিয়াম আহমেদ জয় না। আপনার নাম, ফারায আহমেদ।
- আল্লাহ্, কী এমন হলো এই দুঘণ্টার ভীতরে তুমি আমাকে কিলার ভাবছো? নামটাও বদলে দিচ্ছো!
মৌ জোর করে আমার বাহুডোর থেকে মুক্তি নিলো। বিছানার নিচ থেকে কিছু কাগজপত্র বের করলো। আশ্চর্য হলাম। এরকম কাগজপত্র তো আমার বিছানার নিচে থাকার কথা না!
মৌ কাগজপত্রগুলো বিছানায় ছিটিয়ে বললোঃ-
- এগুলা কী? এসব কী সব মিথ্যা?
খটকা লাগলো! কিছু পেপারের কেটে রাখা অংশ! একটি যুবকের উদ্দেশ্যে কিছু কলাম। সবখানেই স্পষ্ট করে লেখা আছে, ভয়ংকর কিলার ফারাযকে আজও গ্রেফতার করতে পারেনি বাংলাদেশ পুলিশ।
আজও সে লুকায়িত, পলাতক। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে তাঁর চেহারা হুবহু আমার সাথে মিলে যাচ্ছে! এতোটা কিভাবে মিলে যাচ্ছে? চোখ, কান, নাখ, চুল সহ হাসিটাও!
মাথায় চিনচিন ব্যাথা আরম্ভ হলো এসব দেখে। মৌয়ের চোখ দিয়ে পানি ঝড়ছে। সবচেয়ে বড় কথা, এগুলো আমার বিছানার নিচে আসলো কিভাবে? বললামঃ-
- লক্ষ্মী, বিশ্বাস করো এটা আমি না। চেহারায় মিল থাকলেই কী আমি কিলার হয়ে যাবো? পৃথিবীতে এক চেহারার সাথে মিল এমন অনেক মানুষ আছে।
মৌ পেপারে একটা অংশ তুলে আমার চোখের সামনে ধরলো। তাঁর কাজকর্মের নমুনা, চলাফেরার ধরণ, খাবারদাবারের রুচি অরুচি ইত্যাদি বর্ণনা করা। এখানে আমি আরো বড় ধাক্কা খেলাম।
চুল পরিমাণও আমার সাথে অমিল নেই! এটা কিভাবে সম্ভব? চেহারায় মিল! পছন্দে অপছন্দে মিল! মৌ চোখে জল নিয়ে বললোঃ-
- বলুন, এসব কী সব মিথ্যা?
- বিশ্বাস করো, আমি ফারায না।
- ছিঃ ছিঃ আমি ভাবতেও পারিনি আপনি এমন হবেন। আপনাকে আমার জীবনে পেয়ে মনে হয়েছিলো আমি ভাগ্যবতী। আর এখন মনে হচ্ছে অভাগী, কপালপোড়া।
- আরে বাবা, আমি ফারায না। কতো বার বলবো?
মৌ কোনো কথা না বলে আমার শার্টের বুতাম খুলতে শুরু করলো। অবাক হলাম। বাধা দিলাম না। কী উদ্দেশ্যে খুলছে সেটাও বুঝছি না।
শার্ট খুলে বললোঃ-
- গেঞ্জিটাও খুলুন।
মৌয়ের চোখ দেখে একটু হলেও ভয় পেলাম। বললামঃ-
- কী করবা শুনি? ভরদুপুরে গেঞ্জি খুলবো কেনো?
.
পর্বঃ- ০৯
গল্পঃ- লুডু
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ