āĻļāύিāĻŦাāϰ, ā§§ā§Ē āĻ…āĻ•্āϟোāĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

3441 (4)

অগ্নিশিখা
:
লেখা : Farhan Ahmed Farabi (ভবিষ্যৎ সেনাবাহিনীর দুর্ধর্ষ অফিসার)
:
পর্ব : ৭
--আরে কি হচ্ছে!! লোকেশন এভাবে দৌড়ছে কেন!! (অফিসার ফারুক)
--ক্যাপ্টেন, লোকেশনটা পশ্চিম দিকে এগুচ্ছে। সেদিকে কিছুটা নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। (অফিসার জাকির)
--ক্যাপ্টেন, I thing তাহসির রাস্তা পেয়ে গেছে! (অফিসার মামুন)
--না, আরে সে এত তাড়াতাড়ি কিভাবে হাটবে আজব তো!! (ফারাবী)
.
মুহূর্তে মধ্যেই আবার টেলিফোনটা বেজে উঠে, রিসিভ করতেই,
.
--ক্যাপ্টেন, লোকেশনটা পশ্চিম দিকে অনবরত ছুটেই চলছে, কোনো থামা-থামি নেই!! (অফিসার সাদী)
--ব্যাপারটা আমরাও বুঝতে পারছি না অফিসার। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, আশেপাশের প্রতিটা ক্যান্টনমেন্টে খবর পাঠান। আমাদের একার পক্ষে তাকে খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে অফিসার!! (ফারাবী)
--Yes ক্যাপ্টেন! (অফিসার সাদী)
.
অন্যদিকে,
তাহসির, আবির আর এনায়েতকে ট্রাকে করে নিয়ে অবস্থান পরিবর্তন করছে সন্ত্রাসীরা। তাহসির অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে এখনো, মাথার বাম পাশে জমে আছে কিছু রক্ত! প্রায় পনেরো মিনিট পর গন্তব্যে পৌঁছে সন্ত্রাসীরা। রুমে রুমে নিয়ে বন্দি করে রাখে তাহসির, আবির আর এনায়েতকে। তবে সন্ত্রাসীরা খেয়াল করেনি তাহসিরের পকেটে রাখা Sumsung ফোনটি!
.
--ক্যাপ্টেন, লোকেশন থেমে গেছে! (অফিসার জাকির)
--What?? কোথায়? মানে কতদূর এগিয়েছে?? (ফারাবী)
--Just wait a minute! হুম আগের জায়গা থেকে খুব বেশি দূর নয় ক্যাপ্টেন, পাঁচ কিলোমিটার মাত্র! গাড়িতে প্রায় ১০-১৫ মিনিটের রাস্তা! (অফিসার জাকির)
--উফ আমার মাথা কাজ করছে না একদম! (ফারাবী)
.
অফিসার মামুনের পাশে রাখা টেলিফোনটা বেজে উঠতেই রিসিভ করে অফিসার মামুন। কিছুক্ষণ পর ফারাবীর উদ্দেশে বলল,
.
--ক্যাপ্টেন, আপনার ফোন! (অফিসার মামুন)
.
উঠে টেলিফোন কানে লাগায় ফারাবী,
.
--হ্যালো, ক্যাপ্টেন ফারাবী বলছি।
--ক্যাপ্টেন, আমি গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট থেকে কন্ট্রোল অফিসার হানিফ বলছি। প্রায় পনেরো মিনিট ধরে লোকেশন এক জায়গায় আটকে আছে, ব্যাপারটা ঠিক বুঝে উঠতে পারছিনা ক্যাপ্টেন। তা ছাড়া গাজীপুর থেকে বগুড়া ক্যান্টনমেন্টে খবর পাঠানো হয়েছে। (অফিসার হানিফ)
--Good, আপনারা হাত চালিয়ে যান। আমরাও দেখছি! Clear? (ফারাবী)
--Yes ক্যাপ্টেন! (অফিসার হানিফ)
.
ফোন রাখতেই অফিসার জাকির বলল,
.
--কি বলল ক্যাপ্টেন?? (অফিসার জাকির)
--গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট থেকে, কন্ট্রোল অফিসার হানিফ। লোকেশনে মাথা খেয়েছে তাদের! (বসতে বসতে বলল ফারাবী)
--এখন কি করার? লোকেশন তো এক জায়গায় থেমেই আছে ক্যাপ্টেন। কল এসেছিল সেই সকাল প্রায় দশটা বাজে, আর এখন বাজছে দুপুর ১:১২। (অফিসার ফারুক)
.
ফারাবী উত্তর দিতে যাবে এমন সময় লেফটেন্যান্ট শিহাব এসে বলল,
.
--ক্যাপ্টেন, সাভার থেকে কর্নেল আশরাফ স্যার ইমার্জেন্সি কল করেছেন। আপনাকে এখনই যেতে হবে! (লেঃ শিহাব)
--ক্যান্টনমেন্ট?? Ok এখনি যাব, আর হ্যাঁ আপনিও আমার সাথে যাচ্ছেন, Ok? আর সার্জেন্ট নিরব, আমি আর লেঃ শিহাব কিছুক্ষণের জন্য বেরুচ্ছি। আমরা না ফেরার আগ পর্যন্ত কন্ট্রোল রুমে থাকবে, ঠিক আছে? (ফারাবী)
--Yes sir (সার্জেন্ট নিরব)
--শিহাব, আপনি চলুন আমার সাথে! (ফারাবী)
.
লেঃ শিহাবকে সাথে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে ফারাবী। ড্রাইভিং সিটে বসে লেঃ শিহাব, একটা জীপগাড়ি নিয়ে রওনা দেয় সাভার ক্যান্টনমেন্টের উদ্দেশে। ড্রাইভ করতে করতে লেঃ শিহাব বলল,
.
--ক্যান্টনমেন্ট পৌঁছতে কতক্ষণ সময় লাগতে পারে ক্যাপ্টেন? (লেঃ শিহাব)
--বেশিক্ষণ নয়, এই ধরুন আপনার ৪-৫ ঘন্টা! (ফারাবী)
--ওহ আচ্ছা, রাস্তার অবস্থা তো ভালো না দেখছি! (লেঃ শিহাব)
--কাল রাতে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছিল, মনে আছে? রাঙ্গামাটিতে শুনেছি খুব বৃষ্টি হয়। (ফারাবী)
--হ্যাঁ তা ঠিক, আমি তো আগে এখানেই থাকতাম। ঐযে রাঙ্গামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় আছে না? সেখানে পড়তাম। বাবা তখন একটা গার্লস স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। তারপর, কোনো এক সমস্যার কারণে আমরা ঢাকায় চলে আসি। (লেঃ শিহাব)
.
কিছু বলল না ফারাবী, চিন্তিত দেখাচ্ছে তাকে। ফারাবীর চুপ থাকা দেখে লেঃ শিহাব বলল,
.
--ক্যাপ্টেন? (লেঃ শিহাব)
--হুম? কিছু বলবেন? (লেঃ শিহাবের দিকে চেয়ে বলল ফারাবী)
--পার্মিশন দিলে কিছু জিজ্ঞেস করতাম! (লেঃ শিহাব)
--জ্বি বলুন, সমস্যা নেই! (ফারাবী)
--ক্যাপ্টেন, কন্ট্রোল রুমে আপনারা কি নিয়ে যেন কথা বলছিলেন? (লেঃ শিহাব)
--ওহ হ্যাঁ, আপনাকে বলা হয়নি! তাহসিরের লোকেশন পাওয়া গেছে ঠিকই তবে কোথাও স্থির হচ্ছেই না, একবার এদিকে তো অন্যবার ওদিকে! সকাল থেকে এভাবেই চলছে! কিছুই বুঝতে পারছিনা। (ফারাবী)
--আসলে ক্যাপ্টেন, আমার মনে হয় তারা যে জায়গায় আছে, সে জায়গাটা সন্ত্রাসী এলাকা! তারা সন্ত্রাসীদের কাছেই আছে, তাই হয়তো এমন হচ্ছে! (লেঃ শিহাব)
.
ফারাবী কিছু বলতে যাবে এমন সময় প্রচন্ড জোরে ব্রেক কষে লেঃ শিহাব! সামনের গাড়িটিও থেমে গেছে। আর একটু হলেই সামনের গাড়িটির সাথে এক্সিডেন্ট হতো!! গাড়ির ড্রাইভারের উদ্দেশে লেঃ শিহাব বলল,
.
--কি ভাই দেখে চালাতে পারেন না নাকি? (লেঃ শিহাব)
--স্যার, আমি তো সাইটেই চালাচ্ছিলাম, আপনিই তো ভুল করছিলেন!
--শিহাব, ছাড়ুন না! আমাদের কাজে দেরি হয়ে যাচ্ছে! এইযে ভাই, আপনি আসতে পারেন! (ফারাবী)
.
লোকটি গাড়ি নিয়ে চলে যেতেই আবার ড্রাইভ শুরু করে লেঃ শিহাব।
.
--দেখলেন ক্যাপ্টেন? কেমন আচরণ করলো লোকটি? আস্তো একটা খ্যাত! (লেঃ শিহাব)
--কেন কোন লোকের কথা বলছেন আপনি? আর কিই বা করলো লোকটি? (ফারাবী)
--এইযে মিনিট পাঁচেক আগে একটা বেহায়া গাড়ি নিয়ে গেল না? নিজে ভুল করেছে তো করেছে, উল্টো আমায় মুখ ভেঙ্গিয়ে বলে "ভাই ভুল তো আপনি করছেন!" কত বড় সাহস দেখুন! (লেঃ শিহাব)
--আরে ছাড়ুন না ব্যাপারটা, এ নিয়ে রাগারাগি করে কি হবে? বরং আমরা যে ঝামেলায় পড়েছি, সেটা নিয়ে ভাবুন! (ফারাবী)
--ওহ হ্যাঁ, ঠিক বলেছেন। আমাদের পৌঁছাতে আর কতক্ষণ লাগতে পারে? (লেঃ শিহাব)
--আমরা রওনা দিয়েছিলাম দুপুর প্রায় ১:১৫তে, আর এখন বাজছে বিকেল ৩:৪৫। হ্যাঁ আর বেশিক্ষণ নয় শিহাব। (ফারাবী)
--আকাশ বেশ অন্ধকার হয়ে আসছে, মনে হয় বৃষ্টি হবে ক্যাপ্টেন! (লেঃ শিহাব)
.
অল্প অল্প করে মেঘে ডাকছে। কিছুক্ষণ পরই আকাশ কাঁপিয়ে বাজ পড়ে, সাথে নেমে আসে প্রচন্ড বৃষ্টি! এর মাঝেই বৃষ্টির হাওয়া ছিঁড়ে প্রচন্ড গতিতে এগিয়ে যায় আর্মির জীপগাড়িটি। প্রায় বিকেল ৪:০০ বাজে সাভার ক্যান্টনমেন্ট গিয়ে পৌঁছে ফারাবী ও শিহাব, কর্নেল আশরাফের রুমের দিকে এগিয়ে যায় তারা।
.
--আপনি আমায় ডেকেছিলেন স্যার? (ফারাবী)
--ওহ ক্যাপ্টেন, হ্যাঁ তোমায় ডেকেছিলাম এসো ভেতরে এসো। (কর্নেল আশরাফ)
.
ফারাবীর সাথে এগিয়ে আসে লেঃ শিহাব, ফারাবী এগিয়ে দেখে টেবিলের উপর কম্পিউটারের সার্চিং ম্যাপের একটা মানচিত্র বিছানো। ফারাবীর দিকে চেয়ে কর্নেল আশরাফ বললেন,
.
--তোমায় যে কারণে ডেকেছিলাম, হ্যাড কোয়ার্টার থেকে উদ্ধারের জন্য মিশনে নামতে বলা হয়েছে তোমাদের। কালকের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলেই তোমারা মিশনে নামছো। Understand? (কর্নেল আশরাফ)
--Yes sir! (ফারাবী)
--এইযে ম্যাপটা দেখছো? কন্ট্রোল কম্পিউটারের সার্চিং ম্যাপ থেকে নেওয়া! তোমাদের ক্যাম্প থেকে মানে রাঙ্গামাটি ক্যাম্প থেকে আগে স্থানটি ৫৭ কিলোমিটার দূরে ছিল, আর এখন যে লোকেশন দেখাচ্ছে সেটা ৬১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। প্রথমত তোমরা জীপ নিয়ে যাবে, হেলিকপ্টার নিয়ে যাওয়াটা খুব একটা নিরাপদ নয় কেননা হেলিকপ্টারের আওয়াজে সন্ত্রাসীরা অবশ্যই টের পেয়ে যাবে! So আশা করি এই ব্যাপারে তোমাদের দ্বিতীয়বার বুঝাতে হবেনা, Ok? আর অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে তাহসির, আবির আর এনায়েতের কোনো প্রকার ক্ষতি যেন না হয়। এবং এই মিশনের জন্য মোট আটজনকে সিলেক্ট করা হয়েছে। ক্যাপ্টেন ফারাবী, সৈনিক রাসেল, সৈনিক হাসান, সার্জেন্ট নিরব, লেঃ শিহাব, লেন্স কর্পরাল কাওসার, সৈনিক মাহমুদ আর সৈনিক রনি এই মিশনে নামবে। আর তুমিই এই দলের নেতৃত্বে থাকবে ক্যাপ্টেন! Understand?? (কর্নেল আশরাফ)
--Yes sir!
--হ্যাড কোয়ার্টার থেকে তোমাদের নিকট আমায় যা বলতে বলা হয়েছিল তা বলে দিয়েছি। So আমি চাচ্ছি যে তোমরা আর সময় নষ্ট না করে ক্যাম্পে ফিরে যাও, তোমাদের সবাই ক্যাম্পে। বাকিদের মিশনের ব্যাপারে প্রস্তুত করতে হবে তোমাদের! এই ম্যাপটা নিয়ে তোমরা এখনি রাঙ্গামাটির উদ্দেশে রওনা দাও! (কর্নেল আশরাফ)
--Thank you sir!!
.
সময় নষ্ট না করে ম্যাপটি হাতে নিয়ে দ্রুত গাড়িতে উঠে ফারাবী ও লেঃ শিহাব। চারপাশ ঘুটঘুটে অন্ধকার হয়ে এসেছে। অনবরত বৃষ্টি পড়ছে এখনো। অন্ধকারকে জীপগাড়ির লাইটে অন্ধকার ছিঁড়ে ছুটে চলেছে জীপগাড়িটি! বৃষ্টিতে গাড়ি চালানো বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে লেঃ শিহাবের। রাঙ্গামাটির কিছুটা জনশূন্য পথে গাড়ি পৌঁছাতেই হঠাৎ গাড়ি ব্রেক করে লেঃ শিহাব!
.
--আরে কি হয়েছে? এভাবে ব্রেক করলেন কেন? (ফারাবী)
--আস্তে ক্যাপ্টেন, ঐ লোকগুলোকে দেখুন! (ফিসফিস করে বলল লেঃ শিহাব)
.
আকাশে বিদ্যুৎ চমকানোর আলোয় ফারাবী দেখলো, কিছু দূরেই LMG ও AK47 অস্ত্র হাতে ১০-১২ জন লোক কোথায় যেন যাচ্ছে!! বুঝতে বাকি রইল না ফারাবীর, এরাই সন্ত্রাসী দলের লোক!! আত্মরক্ষা করার মতো কোনো অস্ত্রও নেই তাদের সাথে। দেখতে পেলেই সর্বনাশ!!
.
--আরে কি করছেন?? গাড়ির লাইট বন্ধ করুন!! তারা দেখতে পেলে উপায় নেই! (উত্তেজিত কন্ঠে ফিসফিস করে বলল ফারাবী)
:
পরবর্তী পর্ব... ..

অগ্নিশিখা
:
লেখা : Farhan Ahmed Farabi (ভবিষ্যৎ সেনাবাহিনীর দুর্ধর্ষ অফিসার)
:
পর্ব : ৮
ফারাবীর সতর্কবার্তা শুনে গাড়ির স্টার্ট ও লাইট বন্ধ করে দেয় লেঃ শিহাব। আবারো ঘুটঘুটে অন্ধকারে ছেয়ে যায় প্রকৃতি! শুধু শোনা যাচ্ছে বৃষ্টির ঝুমঝুম শব্দ। তবে যে পরিমাণে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, তাতে করে সহজেই সন্ত্রাসীদের নজরে পড়ে যাবে তারা!!
.
--ক্যাপ্টেন, এভাবেই যদি বিদ্যুৎ চমকাতে থাকে, তবে তো তারা আমাদের দেখে ফেলবে! উফ এখান থেকে যাচ্ছেও না তারা!! (লেঃ শিহাব)
--Quick!! গাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ুন। দেখতে পেলে এখানেই প্রাণ হারাতে হবে!! (ফারাবী)
--আরে কি বলছেন ক্যাপ্টেন!! বেরুলেই তো দেখে ফেলবে! (লেঃ শিহাব)
--এই নিয়ে ভাবতে হবেনা!! গাড়ি থেকে বেরিয়ে দুজন পথের দুধারে লুকিয়ে পড়বো! Ok? (ফারাবী)
.
ফারাবীর কথা মতো প্রচন্ড বৃষ্টির মাঝে গাড়ি ছেড়ে পথের দুধারের ঝুপে লুকিয়ে পড়ে দুজন!
.
--এই এখানে কেরে!!
.
তারা গাড়ি ছেড়ে বেরুতেই হাক দেয় সন্ত্রাসী লোকদের মাঝে একজন!! তাড়াহুড়ো করে লুকিয়ে পরে ফারাবী ও শিহাব। গাড়ির দিকে এগিয়ে আসে সন্ত্রাসীরা! গাড়ির কাছে এসে LMG কাঁধে লোকটি বলল,
.
--এটাতো মিলিটারিদের গাড়ি!!
--শালারা পিঁছু ছাড়ছেই না! এই সাবধান, আশেপাশে নজর রাখো সবাই!
--গাড়িতে তো কেউই নেই!
--মিলিটারি গাড়ি আছে যখন নিশ্চয়ই মিলিটারিও আছে!
--এই চলো তো সবাই চলো! বুলুপাড়ার যেতে হবে, সেখানে তো তিনজন আর্মি আমাদের হাতে আছে!
.
কথাটা শুনেই বুকটা কেঁপে উঠে ফারাবীর, তাহসিররা তাহলে বুলুপাড়া নামক এলাকায় আছে। নিজেকে সামলে নিয়ে বাকি কথাগুলো স্পষ্ট শোনার চেষ্টা করে ফারাবী,
.
--এখান থেকে চলো সবাই, এখানে বেশিক্ষণ থাকাটা ঠিক হবেনা!!
.
এই বলে তাদের গন্তব্যের দিকে পা বাড়ায় সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীরা চোখের আড়াল হতেই তাড়াহুড়ো করে গাড়িতে উঠে ফারাবী আর লেঃ শিহাব! শিহাব গাড়ি চালানো শুরু করতেই ফারাবী বলল,
.
--এক নাগারে চালিয়ে যাবেন, কোনো থামা-থামি করবেন না! যতদ্রত সম্ভব!! (ফারাবী)
--চিন্তা করবেন না ক্যাপ্টেন, এখন গাড়ির সামনে যা পড়বে তাই পিশে যাবে! (লেঃ শিহাব)
--আচ্ছা, একটা জায়গার নাম বলেছিল, কি যেন বলেছিল!! (ফারাবী)
--বগুড়া মনে হয়! (লেঃ শিহাব)
--আরে বগুড়া নয়, বুলুপাড়া! তারা হেঁটে হেঁটে বগুড়া যাবে নাকি আজব তো! (ফারাবী)
--তাহলে তাহসিররা বুলুপাড়া নামক জায়গাতেই আছে! (লেঃ শিহাব)
--হ্যাঁ, আপনি এখন ড্রাইভিংয়ের দিকে মন দেন, যতদ্রুত সম্ভব চালিয়ে যান। নয়তো এখানেই মরতে হবে, জায়গাটা মোটেও নিরাপদ নয়!! (ফারাবী)
.
ফারাবীর কথা মতো ভয়াবহ বজ্রপাত ও বৃষ্টির মাঝে ঝড়ের বেগে গাড়ি চালিয়ে যায় লেঃ শিহাব, প্রচন্ড ভাবে ঝাকুনি খাচ্ছে জীপগাড়িটি! বৃষ্টি ছিঁড়ে ছুটে চলল রাঙ্গামাটি ক্যাম্পের উদ্দেশে।
.
কন্ট্রোল রুমে পৌঁছে হাপাতে থাকে ফারাবী আর শিহাব, নির্বাক হয় যায় কন্ট্রোল অফিসার জাকির,
.
--একি ক্যাপ্টেন! আপনারা না গাড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন? তবে এভাবে ভিজলেন কিভাবে? সারা শরীরে এভাবে কাদা লেগে আছে কেন? একি অবস্থা হলো আপনাদের! (অফিসার জাকির)
--বলছি বলছি, সব বলছি। একটু দম নিতে দিন! (হাপাতে হাপাতে বলল ফারাবী)
--অফিসার জাকির are you mad! আপনি পাগল নাকি? তাদের আগে relax করতে দিন! স্যার আপনারা বসুন, একটু রেস্ট নিন আগে। বাকি কথা পরে শোনা যাবে! আর লেঃ শিহাব, আপনাকে আমি ব্যবস্থা করে দিচ্ছি, আপনি চলুন আমার সাথে। (অফিসার মামুন)
.
লেঃ শিহাবকে নিয়ে চলে যায় অফিসার মামুন। চেয়ারে বসে পড়ে ফারাবী, কিছুক্ষণ পর অফিসার জাকির গামছা এগিয়ে দিয়ে বলল,
.
--ক্যাপ্টেন, এই নিন। মাথা মুছে নিন, নয়তো অসুস্থ হয়ে পড়বেন। (অফিসার জাকির)
--হ্যাঁ thank you! লোকেশনের কি অবস্থা এখন? (মাথা মুছতে মুছতে বলল ফারাবী)
--হ্যাঁ আগের জায়গাতেই আটকে আছে। আচ্ছা ক্যাপ্টেন, এখন সব ঘটনা খুলে বলা যায়না? (অফিসার জাকির)
--তার আগে বলুন, বুলুপাড়া নামে কোনো জায়গা আছে রাঙ্গামাটিতে? (ফারাবী)
--বুলুপাড়া? এটাতো তাহসিরের লোকেশন যে জায়গায় দেখাচ্ছে সে জায়গা! কেন আপনি কিভাবে জানলেন? (অফিসার জাকির)
--রাঙ্গামাটিতে যখন মাত্র প্রবেশ করেছিলাম, তখন আমাদের গাড়ি সন্ত্রাসীদের সামনে পড়ে যায়! গাড়ি থেকে নেমে জঙ্গলে লুকোতে গিয়ে আমাদের এই অবস্থা। ভাগ্যের জোরে বেঁচে ফিরেছি। তাদের মধ্যে যখন কথা হচ্ছিল, তখন শুনেছি, বুলুপাড়ায় তিনজন আর্মি তাদের হাতে। তাহসির, আবির আর এনায়েতের কথাই বলছিল, কোনো সন্দেহ নেই অফিসার!!
.
এক শ্বাসে কথাগুলো বলে হাপাচ্ছে ফারাবী! ফারাবীর দিকে এক নজরে চেয়ে আছে অফিসার জাকির। চারিদিকে অদ্ভুত এক নিরবতা, নিরবতা ভেঙ্গে ফারাবী আবার বলতে লাগল,
.
--হ্যাড কোয়ার্টার থেকে অর্ডার এসেছে, কালকের মাঝে যদি তাদের না পাওয়া যায়, তাহলেই মিশনে নামতে বলা হয়েছে! (ফারাবী)
--মিশন?? ওহ হ্যাঁ ক্যাম্পেও তো মিশনে নামতে হবে এমন খবর এসেছিল (অফিসার জাকির)
--হ্যাঁ, তারা সন্ত্রাসীর হাতে, তাই কেউ কোনো প্রকাশ ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেনা! (ফারাবী)
--Oh god! এখন তো রাত ৯:০০ বাজে! আজকের দিনতো প্রায় শেষ! উফ এত তাড়াতাড়ি কিভাবে খুঁজবো তাদের! (উত্তেজিত হয়ে বলল অফিসার জাকির)
--কোনো সমস্যা নেই, মিশনের সবকিছু আমাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। মোট আটজনকে সিলেক্ট করা হয়েছে! আপনাকে এখন যা যা বলেছি, সব খবর সারা ক্যাম্পে ছোড়ানোর ব্যবস্থা করুন অফিসার, Quick! (ফারাবী)
--Yes sir!
.
ফারাবীর কথা মতো কাজে চলে যায় অফিসার জাকির। বেশ চিন্তিত দেখায় ফারাবীকে। সিনথিয়াকে সে কথা দিয়েছিল যে এক সপ্তাহের মাঝের বাড়ি ফিরে যাবে, কিন্তু কি থেকে কি হলো! আজ সে জীবন মৃত্যু ঠিক মধ্যবর্তী স্থাতনে, মৃত্যুর সঙ্গে পানজা লড়তে হবে তাকে, মৃত্যুকে চ্যালেঞ্জ করে এগিয়ে যেতে হবে! সিনথিয়াকে মিশনের কথা কি জানাবে? চিন্তায় যদি ঠিক মতো খাওয়া-দাওয়া না করে? না জানিয়ে গেলে হয়তো অভিমান করে বসে থাকবে মেয়েটি। কি জবাব দিবে ভেবে পায়না ফারাবী। সিনথিয়ার সাথে কাটানো সময়গুলো মনে পড়ছে খুব। এখনো মনে আছে তার, একবার অফিসে যাওয়ার সময়,
.
--এইযে স্যার! আজ কি বাথরুম থেকে বেরুবেন না? (সিনথিয়া)
--হ্যাঁ বেরুচ্ছি, তুমি আমার ফোনটা একটু দাও! (ফারাবী)
--এই বাথরুমে কিসের ফোন হ্যাঁ? (সিনথিয়া)
--আরে দাওনা! (ফারাবী)
--দাড়াও দিচ্ছি ভালো করে!! (সিনথিয়া)
--একি করছো? আরে দরজা আটকালে কেন! উফ, কি মেয়েরে বাবা! (ফারাবী)
.
আরেকবার,
--এই, দেখোনা! চটপটি বানিয়েছি, তোমার প্রিয় খাবার তাইনা? (ফারাবী)
--উফ আবার! তোমার রান্নায় অনেক লবণ হয়, আমি খেতে পারব না! (সিনথিয়া)
--কই আমিও তো খেলাম, লবণ বেশি হয়নি তো! (ফারাবী)
--হিহিহি, তাহলে ঠিক আছে, তুমি খাইয়ে দাও তবে। (সিনথিয়া)
--হ্যাঁ এবার বলো কেমন হয়েছে? (ফারাবী)
--উফফ আবারও কি লবণ!! তুমি না!! ফাজিল একটা!! (সিনথিয়া)
.
হঠাৎ দরজা খোলার শব্দে বাস্তবে ফিরে ফারাবী, এতক্ষণ টেলিফোনের দিকে চেয়ে সিনথিয়ার সাথে কাটানো সময়গুলোর কথা ভাবছিল সে। সার্জেন্ট নিরব ভেতরে এসে বলল,
.
--ক্যাপ্টেন, মিশনের কথা বাড়িতে জানাচ্ছেন না? (সার্জেন্ট নিরব)
--হ্যাঁ, এখনি বাড়িতে ফোন করবো। আর তুমি মিশনের জন্য প্রয়োজনিয় ব্যবস্তা নাও!
--Yes sir! (সার্জেন্ট নিরব)
.
এই বলে নিজের কাজে চলে যায় সার্জেন্ট নিরব। ধীরে ধীরে টেলিফোনটার দিকে এগিয়ে যায় ফারাবী, ফোন দেয় সিনথিয়ার নম্বরে,
.
হাতের সব কাজ সেরে ফেসবুকিং করছে সিনথিয়া, হঠাৎ অপরিচিত টেলিফোন নম্বর দেখে কিছুটা অবাক হয় সে। সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে রিসিভ করে সিনথিয়া,
.
--হ্যালো? সিনথিয়া? (ফারাবী)
--হ্যাঁ কে বলছেন আপনি? (সিনথিয়া)
--ওহ তুমি? হ্যাঁ বলো বাড়ি ফিরছো কখন? আর কত অপেক্ষা করবো! তিনদিন পরই কিন্তু আমাদের মেরিজ এনিভার্সারি! (সিনথিয়া)
--আসলে, কিভাবে যে বলি! (ফারাবী)
--আবার কি হলো? বলো? (সিনথিয়া)
--আসলে, আসলে কালই আমাদের মিশনে নামতে বলা হয়েছে! আর কিছুই করার নেই সিনথিয়া! যদি হায়াত থেকে থাকে তবে অবশ্যই তোমার কাছে ফিরে আসবো! (ফারাবী)
--What?? আরে কি বলছো এসব! হঠাৎ করে মিশন? কিসের মিশন? (উত্তেজিত হয়ে বলল সিনথিয়া)
--যারা নিখোঁজ হয়েছে তারা সন্ত্রাসীদের হাতে বন্দি!! তাই আর্মি ডিফেন্স কোনো প্রকার ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেনা! কালই মিশনে নামছি! (ফারাবী)
--তুমি না বলেছিলে এক সপ্তাহের মাঝে বাড়ি আসছো? তাহলে আজ এসব কি বলছো তুমি? (সিনথিয়া)
--তুমি শুধু দোয়া করো, যদি হায়াত থাকে তবেই ফিরে আসবো, আর যদি না ফিরি......
--এই না, ঐ কথা বলবেনা! তোমার কিছু হবেনা! ঠিক আছে? (সিনথিয়া)
--আমাদের এনিভার্সারির আগেই আসার চেষ্টা করবো, কেমন? আর দোয়া করো, এখন রাখছি, প্লিজ রাগ করোনা! তুমি নিজের খেয়াল রেখো! (ফারাবী)
--আচ্ছা, love you! (সিনথিয়া)
--Love you too! এখন রাখছি হুম? (ফারাবী)
.
টুট টুট টুট!!
ফোন রেখে অঝোর ধারায় কেঁদে উঠে সিনথিয়া, হয়তো এটাই তাদের শেষ কথা। এদিকে কিভাবে কি করবে ভেবে পায়না ফারাবী। সন্ত্রাসীদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে তাকে।
.
পরদিন সকালে,
আজ সারা ক্যাম্প জুড়ে টানটান উত্তেজনা! মিশনের জন্য প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত সবাই! সবার হাতে Bd-08 রাইফেল, পুরোপুরি কোম্বাট ইউনিফোর্ম, মুখে কালো রঙের কালি মাখা!
.
--তোমরা সবাই প্রস্তুত? (মেজর মাহবুব)
--Yes sir!
--সবাই সবার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে, Understand? এই ইউনিফোর্ম তোমাদের মরতে শেখায়নি, মারতে শিখিয়েছে, Do before die!! (মেজর মাহবুব)
--Yes sir!
--আশা করি সবাই ফিরে আসবে! (মেজর মাহবুব)
--Thank you sir!
:
পরবর্তী পর্ব...

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ