অগ্নিশিখা
:
লেখা : Farhan Ahmed Farabi
(ভবিষ্যৎ সেনাবাহিনীর দুর্ধর্ষ অফিসার)
:
পর্ব : ১
ভোর ৬টা, ঘড়ির কাটা যেন এগুতেই চাইছেনা। ভোর সকালে খালি পেটে বিশ কিলোমিটার দৌড়াতে কারই বা ভালো লাগে? পরনে সাদা শর্ট প্যান্ট ও সাদা ট-শার্ট, টি-শার্টের বুকের ডান পাশে চির পরিচিত তোলয়ার,তার উপর জাতীয় প্রতীক শাপলা! তারা ৮ম বীরের সেনাবাহিনী!! সবেমাত্র পাঁচ কিলোমিটার এগিয়েছে, আরো পনেরো কিলোমিটার পথ বাকি। সারা শরীর ঘামে ভিজে একাকার। তবে মোটেও লাইন বেশকম করা যাবেনা, করলেই কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে! পঞ্চাশ জোড়া বুটের শব্দে যেন চারদিক কেপে উঠছে। হঠাৎ সৈনিক রাসেলের ডাকে থমকে দাড়ায় ক্যাপ্টেন ফারাবী,
.
--ক্যাপ্টেন! আবির জ্ঞান হারিয়েছে! (রাসেল)
--What??
.
রাসেলের ন্যায় ছুটে যায় ক্যাপ্টেন,
.
--আজব! আগে তো কখনো এমনটা ঘটেনি! (ক্যাপ্টেন)
--স্যার, আমার মনে হয় তার শরীর খারাপ করেছে। (ইমরান)
--এখন কি করার স্যার?? (রাসেল)
--ইমরান, ব্যাগ থেকে পানির বোতল নিয়ে এসো, তার জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করো। রাসেল আর মাহমুদ, তোমরা তাকে নিয়ে ক্যাম্পের উদ্দেশে রওনা দাও। যেহেতু তার শরীর ভালো না, সেহেতু আজকের মতো সবাই ক্যাম্পে ফিরে যাচ্ছি। (ক্যাপ্টেন)
.
ফারাবীর নির্দেশ অনুযায়ী সবাই ক্যাম্পের উদ্দেশে রওনা দেয়। দীর্ঘ এক ঘন্টা হাটার পড় ক্যাম্পে গিয়ে পৌঁছে তারা। ক্যাম্পে গিয়ে ক্যাপ্টেন বলল,
.
--এক সপ্তাহের মাঝে ট্রেনিংয়ের জন্যা আমরা সবাই রাঙ্গামাটি যাচ্ছি। নির্দিষ্ট একটি স্থানে আমরা তাবু ফেলবো, একটি তাবুতে সর্বোচ্চ দশ জন থাকবে। আমরা সর্বমোট পঞ্চাশজন, মানে আমরা তাবু ফেলবো পাঁচটি। সবাই সবার ব্যাগ গুছিয়ে রাখবে। আর একটা কথা মাথায় রেখো, কারো হাতে যেন ভুলেও ফোন না দেখি, বিশেষ করে রনি! গতবারও তুমি ফোন নিয়ে গিয়েছিলে! ইট্স মাই লাস্ট ওয়ার্নিং। সবাই ইউনিফোর্ম পড়ে আপাতত ব্রেকফাস্ট করে নাও, আর আবির এখন বিশ্রামে থাকুক। (ক্যাপ্টেন)
.
ক্যাপ্টেনের কথা মতো রুমের দিকে পা বাড়ায় সবাই। রুমে গিয়েই ব্যাডে শরীর এলিয়ে দিল তাহসির,
.
--তাহসিন আলসেমি করিস না দোস্ত, উঠে পড়! (কাওসার)
--আর বলিস না, এত কষ্ট কিভাবে সহ্য করি বল? আগে কেমন ছিলাম আর এখন কেমন আছি! পেট ভর্তি ইদুর দৌড়ছে! (তাহসির)
--হুম আগে তো সকাল দশটা পর্যন্ত নাক ডাকতি তাইনা? তোকে খুব ভালো করেই চিনি। (রাসেল)
--আরে দেরি করে উঠলেও আরামে ছিলাম। (তাহসির)
.
কথার মাঝে হঠাৎ তাহসিরের ফোনটা বেজে উঠলো। স্ক্রিনের দিকে চেয়ে বলল,
.
--দোস্ত ফোন দিয়েছে! (তাহসির)
--কার ফোন? (কাওসার)
--কার আবার, তোদের ভাবি। দোস্ত ডিস্ট্রাব করিস না, কথা বলে নেই। (বলেই ফোন রিসিভ করে তাহসির)
.
--হ্যালো? জান কেমন আছো?...হ্যাঁ আমিও ভালো আছি।.....কি? তাই? লাভ ইউ সো মাচ!
.
তার প্রেমালাপ দেখে একে অপরের দিকে চেয়ে মিটিমিটি হাসছে কাওসার আর রাসেল। রাসেলের মাথায় দুষ্টু বৃদ্ধি খেলে গেল। পকেট থেকে ফোন বের করে ফুল ভলিয়মে একটা ভিডিও অন করলো যাতে কিনা মেয়েদের হই হুল্লোরে ভরপুর!
.
--এই! তুমি কোনো পার্টিতে তাইনা? (তাহসিরের গফ)
--আরে না, আমি তো রুমে! এই রাসেল, বন্ধ কর এটা! (আস্তে আস্তে বলল তাহসির)
--এই কোন মেয়েকে কি বলছো হ্যাঁ?? আমায় বোকা পেয়েছো তাইনা?? (তাহসিরের গফ)
--কি বলছো এসব? একবার বলো জান? (তাহসির)
--তুমি জান নয়, তুমি হলে জানোয়ার। এই তুমি আমায় আর কখনো ফোন দিবেনা!! বাই!! (বলেই কেটে দিল তাহসিরের গফ)
.
ফোন রেখে রাসেলের উদ্দেশে তাহসির বলল,
.
--শালা নিজে প্রেম করিস না বলে অন্যের প্রেমে নাক গোলাবি?? হারামজাদা!! (তাহসির)
--আরে ব্যাটা, নিজে প্রেম করিনা। অন্যের প্রেমে কাবাবের হাড্ডি না হলে পেটের ভাত হজম হবেনা বুঝিস না কেন? (মুচকি হেসে বলল রাসেল)
--আমি কিছু জানিনা, কিছু বুঝিনা। তুই আমার প্রেম ঠিক করে দিবি। (তাহসির)
--আচ্ছা বাবা তোর গফের নম্বর দে! (রাসেল)
--ওই আমার গফের নম্বর তোকে দিব কোন দুঃখে হ্যাঁ? (তাহসির)
--তোর মাথায় গোবর ছাড়া কিছু নেই! তোর ফোন দেখলে রিসিভ করবেনা বুঝিস না কেন? (হাসতে হাসতে বলল কাওসার)
--আচ্ছা নে, ০১.........তবে খবরদার! আর কখনো কল দিবিনা! (তাহসির)
--আমার শখ লাগছে তোর বউয়ের সাথে প্রেম করব!! (রাসেল)
.
তাহসিরের গফকে ফোন করে সব বুঝিয়ে বলল রাসেল। রাসেল ফোন রাখার পর তাহসির বলল,
.
--দোস্ত, কতদিন হলো আমার তাহমিনার সাথে কথা হয়না রে! বাসায় ছিলাম, ভালোই ছিলাম। সাতসকালে উঠতে হতোনা, দৌড়তে হতোনা! উফ কোথায় যে গেল সেই দিনগুলো!! (তাহসির)
.
তাহসিরকে থামিয়ে দিয়ে কাওসার বলল,
.
--আমি বলবো আমরা যেমন আছি বেশ আছি। (কাওসার)
--বলিস কি? আরে ভোর হতে বিশ কিলোমিটার দৌড়, তারপর প্রতিদিনকার ট্রেনিং। এতকিছুর পর মাথা কাজ করেনা! (উঠে বসে বলল তাহসির)
--আরে ব্যাটা আমরা কষ্টের টাকা খাই বুঝেছিস? ঘোষের টাকা নয়!
--ঠিক বলেছিস কাওসার, আমি তোর সাথে একমত! (বুটের ফিতা বাঁধতে বাঁধতে বলল রাসেল)
--রাসেল তুইও? (তাহসির)
--দেখ, আমাদের জীবন দেশের অন্যান্য মানুষের চেয়ে ভিন্ন। মানুষেরা নিজের জন্য, নিজের পরিবারের জন্য কষ্ট করে থাকে। কিন্তু আমাদের দেখ? আমরা নিজের ও নিজেদের পরিবারের পাশাপাশি সমস্ত দেশের মানুষের জন্য কষ্ট করে থাকি। মানুষের সেবা করে আমরা যা টাকা উপার্জন করি, তা দিয়েই আমাদের দিন কাটে। (রাসেল)
--এইতো শালা বাঘের বাচ্চা! (রাসেলের কাঁধে হাত রেখে বলল কাওসার)
.
মাথা নেড়ে সম্মতি জানায় তাহসির। কাওসার বলল,
.
--অনেক কথা হয়েছে, এবার তো খেতে চল? খুব ক্ষুদা পেয়েছে। দেরি করলে পরে জবাব দিতে হবে। (কাওসার)
--হ্যাঁ রে! ভুলেই গিয়েছিলাম, চল! (তাহসির)
--শালা গফ এর সাথে কথা বলে পেট ভরে গিয়েছে তাইনা? (রাসেল)
.
সবাই হাসি-ঠাট্টা করে গিয়ে ব্রেকফাস্ট সেরে নিল! ক্যাপ্টেন ফারাবী একটু তাড়াহুড়ো করছে দেখে কাওসার বলল,
.
--স্যার, কোথাও যাবেন বোধহয়? (কাওসার)
--হ্যাঁ কাওসার, খালেদ স্যার একটু ডেকেছিলেন তো! (বলেই উঠে পড়ে)
.
অফিসের দিকে রওনা দেয় ক্যাপ্টেন, অফিসে গিয়ে মেজর খালেদের উদ্দেশে বলল,
.
--ডু ইউ কল মি স্যার? (ক্যাপ্টেন)
--হ্যা। এসো ভেতরে এসো! তুমি কি রাঙ্গামাটির সন্ত্রাসী ঘটনা শুনেছো? (মেজর স্যার)
--ইয়েস স্যার, শুনেছি! (চেয়ারটা টেনে বসলো ক্যাপ্টেন)
.
মেজর তার দিকে একটি পত্রিকা এগিয়ে দিলেন! হাত বাড়িয়ে পত্রিকাটা নিল ক্যাপ্টেন। হাতে নিয়ে বড় লেখাটি পড়ে, "রাঙ্গামাটিতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ২৩"। পত্রিকা থেকে চোখ তুলে মেজর খালেদের দিকে তাকালো ক্যাপ্টেন, মেজর বললেন,
.
--দেখেছো তো? হাজারো ব্যস্ততার চাপে পড়ে তোমরা এত ইনফরমেশন জানতে পারনি। এই ব্যাপারে তদন্ত করতে গিয়ে অনেক পুলিশ ও র্যাব প্রাণ হারিয়েছে। (মেজর)
.
কি যেন ভেবে কিছুক্ষণ নিচের দিকে চেয়ে থেকে ক্যাপ্টেন বলল,
:
পরবর্তী পর্ব... ..
অগ্নিশিখা
:
লেখা : Farhan Ahmed Farabi (ভবিষ্যৎ সেনাবাহিনীর দুর্ধর্ষ অফিসার)
:
পর্ব : ২
--স্যার, আমি শুধু নিহতের কথা শুনেছিলাম, তবে আমি নিশ্চিত ছিলাম না। স্যার, উপর মহল আমাদের দ্বিতীয় প্রশিক্ষণ রাঙ্গামাটিতে দেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে বিষয়টি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে স্যার। আমি আমার কথা ভাবছিনা স্যার, আমি ভাবছি আমার সৈন্যদের কথা। টিম লিডার হিসেবে আমাকেই স্থির করা হয়েছে। যদি কারো কোনো ক্ষতি হয়ে থাকে, তাহলে আমাকেই হ্যাড কোয়ার্টারে জবাবদিহিতা করতে হবে স্যার!
.
মেজর খালেদের চোখে চোখ রেখে এক শ্বাসে কথাগুলো বলল ফারাবী। মেজর খালেদ হেসে বললেন,
.
--গুড, ভেরি গুড! একজন সেনাবাহিনী ক্যাপ্টেন হিসেবে তুমি বেশ দায়িত্ববান। তবে আমার ধারণা তোমাদের কিছু হবেনা কেননা পিপড়ের দল যেমন একসাথে থাকে, তেমনই তোমরা ঠিক সেভাবেই থাকবে। কিন্তু সমস্যা হলো রাতের ডিউটি নিয়ে, তখন তো..............
--আই উইল ট্রাই মাই বেস্ট! আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো স্যার, দলটিকে নিরাপদে রাখার। But স্যার, I thing নিরাপদ থাকার জন্য এই সন্ত্রাসী এলাকা সম্পর্কে আমাদের জানা উচিত ছিল! (ফারাবী)
--হুম that's right. দীর্ঘ সময় নষ্ট না করে আমায় আখেই বলতে পারতে। All right, দেখেনাও। জানাটা খুবই Important!
.
এই বলে প্রজেক্টর অন করলেন মেজর। একের পর এক রক্তাক্ত ছবি দেখিয়ে চলছেন। নির্বাক হয়ে যায় ফারাবী। প্রজেক্টরের আলো বন্ধ করে মেজর বললেন,
.
--দেখলে? যতটা নিরাপদ ভাবছো ততটা কিন্তু নয়। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, সন্ত্রাসীদের ভয়ে লোকজন কমে আসছে রাঙ্গামাটিতে। হতে পারে তোমরাও প্রাণ হারাতে বসবে, তবে আশা করি তা হবেনা। (মেজর)
--স্যার, আমরা বর্তমানে আছি হাটহাজারী ক্যাম্প, আর এই হাটহাজারীও তো পাহাড়ি অঞ্চল! (ফারাবী)
.
ফিক করে হেসে ফেলেন মেজর, বললেন,
.
--সন্ত্রাসী? তবুও হাটহাজারীতে? হাহাহা, দেখছো না এখানের মানুষের অবস্থা? কত সতর্কবার্তা দেওয়ার পরও পাহাড় ছাড়ছে না! পাহাড়ের উপর বসে আছে! (মেজর)
.
মেজর খালেদের কথা শুনে হেসে ফেলে ফারাবী। আসলেই তো, প্রতি বছর এখানে প্রশিক্ষণ হয়। তবুও পাহাড় ছাড়ছেনা! মেজর খালেদ টেবিলে একটি বড় মাপের মানচিত্র বিছাতে বিছাতে বললেন,
.
--যাই হোক, তোমাদের ট্রেনিং সেটের মানচিত্রটা পাঠানো হয়েছে। (মেজর)
.
টেবিলের কাছে গিয়ে দাড়ায় ফারাবী। মেজর বললেন,
.
--তোমায় নিশ্চয়ই বুঝিয়ে দিতে হবেনা? (মেজর)
--না স্যার, এই ব্যাপারে আমার ধারণা রয়েছে! (ফারাবী)
--বেশ, তবে আজকের মতো আসতে তুমি পারো। (মেজর)
--Thank u sir!
.
অফিস থেকে বেরিয়ে এলো ফারাবী। সারাদিন ডিউটি শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাড়ি ফিরছে। কিছুদিন পরই সিনথিয়াকে একা রেখে মহড়ায় যেতে হবে, তা ভেবেই মনটা কেমন যেন করছে তার। সিনথিয়া তার ওয়াইফ। দীর্ঘ চার বছর প্রেমের পর বিয়ে হয়েছে তাদের। দরজার সামনে গিয়ে ছোট একটি হাসি দেয় ফারাবী, কলিংবেল বাজাতেই দরজা খুলে দেয় সিনথিয়া। সিনথিয়াকে দেখেই অবাক হয়ে যায় সে। আজ অপরুপ লাগছে তার সিনথিয়াকে। গাঢ় নীল রঙের শাড়ি পড়েছে আজ, ঠোঁটে হালকা গোলাপি রঙের লিপিস্টিক। সত্যি অপরুপ লাগপছে আজ। সিনথিয়ার কাজল কালো চোখের দিকে এক নজরে চেয়ে অাছে ফারাবী। তার নাক ধরে টেনে দিয়ে সিনথিয়া বলল,
.
--কি ব্যাপার ক্যাপ্টেন সাহেব? আজ বুঝি বাইরেই দাড়িয়ে থাকবেন? (সিনথিয়া)
.
সিনথিয়ার কথা শুনে সে মাথা চুলকিয়ে বলল,
.
--আসলে, কি বলবোলভেবে পাচ্ছিনা। সত্যি বলতে আজ তোমায় শুধু দেখে যেতেই ইচ্ছে করছে। (ফারাবী)
.
সিনথিয়া তার মন ভুলানো হাসি দিয়ে বলল,
.
--হয়েছে, বেশি পাম মারলে উড়ে যাব। তখন আমায় আর পাচ্ছোনা। এই দেখোনা? নীল শাড়ি পড়েছি, তোমার প্রিয় রঙ তাইনা? (সিনথিয়া)
--কই নাতো! আমার তো হলুদ প্রিয়। ঐযে মোতালেব স্যারের মেয়েকে দেখেছো না? সে কিন্তু প্রতিদিন হলুদ পড়ে। (ফারাবী)
.
সিনথিয়াকে রাগানোর জন্য এসব মিথ্যা বলল ফারাবী। সিনথিয়া বেশ কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
.
--ঠিক আছে, ফ্রেস হয়ে এসো। আমি টেবিলে খাবার আনছি। (অভিমানি সুরে)
--তুমি খেয়েছো? (ফারাবী)
--না! (সিনথিয়া)
--একটা কথা জানো? মোতালেব স্যারের মেয়ের বয়স কিছুদিন আগেই পাঁচ হয়েছে! (দুষ্টুমির হাসি দিয়ে বলল ফারাবী)
--কি বললে তুমি? তুমিও না!
.
ফারাবীকে কিল ঘুশি মেরেই শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো সিনথিয়া। ফারাবীর বুকে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে বলল,
.
--আর কখনো এমন কিছু বলবে না যাতে করে আমি কষ্ট পাই! (সিনথিয়া)
--আরে বাবা ঠিকই তো বললাম, জানো এমদাদ স্যারের মেয়ে আমায় ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট দিয়েছিল আর.....
--ফারাবী আবার? এখন কিন্তু আমি কেঁদে দিব। (সিনথিয়া)
--হাহাহা, সরি ম্যাডাম! (এই বলে সিনথিয়ার কপালে আলতো করে চুমু এঁকে দিল ফারাবী)
.
সিনথিয়া ফারাবীর গাল টেনে বলল,
.
--পাগল একটা, অনেক প্রেম হয়েছে। এবার খেতে যাও ক্যাপ্টেন সাহেব! (সিনথিয়া)
--আগে বলো তুমি খাওনি কেন? (ফারাবী)
--ওমা! তোমায় রেখে আমি কখনো খেয়েছি নাকি? যাও ফ্রেস হয়ে এসো, আমি খাবার আনছি। (সিনথিয়া)
.
সিনথিয়ার কথা মতো ফ্রেস হতে যায় ফারাবী। মেয়েটার কথা ভাবলেই হাসি পায় ফারাবীর। এত বড় মেয়ে আজও বাচ্চাদের মতো পাগলামো করে। তার কথার অমান্য হলেই কান্নাকাটি শুরু করে সে। তাই তাড়াতাড়ি ফ্রেস হয়ে খাবার টেবিলে আসে ফারাবী। সিনথিয়া ভাত বেড়ে দিতে দিতে বলল,
.
--আজ তোমার প্রিয় ইলিশ ভুনা করেছি। খেয়ে কেমন হয়েছে বলতে হবে কিন্তু! (সিনথিয়া)
.
ফারাবী সিনথিয়ার দিকে চেয়ে থেকে বলল,
.
--জানো, আমার ডান হাতটা না নাড়াতেই পারছিনা। কেন জানি খুব ব্যথা করছে! (ফারাবী)
--কোথায়? কি হয়েছে দেখি! (উত্তেজিত হয়ে পড়ে সিনথিয়া)
--আরে আরে হাত টানছো কেন! সারাদিন অফিসের কাজে হয়তো হাত ব্যথা করছে। (ফারাবী)
.
মুচকি হেসে সিনথিয়া বলল,
.
--হুম বুঝেছি, খাইয়ে দিতে হবে তাইনা? আর বাহানা করতে হবেনা, নাও খা করো? (সিনথিয়া)
.
ধরা খেয়ে লজ্জায় পড়ে গেল ফারাবী। তার প্রতিদিনকার রুটিন, সিনথিয়ার হাতে খাওয়ার জন্য প্রতিদিন একটা না একটা বাহানা শুধু করে, অবশেষে সিনথিয়ার হাতে ধরা পড়ে, আর শাস্তি হিসেবে তার কান মোলে দেয় সিনথিয়া। খাওয়া-দাওয়া শেষে খাবার টেবিলেই বসে ফোন টিপছে ফারাবী, চেয়ে থাকতে থাকতে সিনথিয়া বলল,
.
--সারাদিন তো অফিস করো, তোমার সাথে গল্প করার সুযোগটাও পাইনা, এই চল ছাদে যাই! অনেকদিন হয়েছে ছাদে যাইনা। (সিনথিয়া)
--একি বলো! আজ না আমি খুব ক্লান্ত, সিনথিয়া অন্যদিন যাব প্লিজ? (ফারাবী)
--আমি কিছু জানিনা! তুমি আজই যাবে, এখনই যাবে, এই মুহূর্তেই যাবে ব্যাস!! (রেগে গিয়ে বলল সিনথিয়া)
.
ফারাবী হেসে দিয়ে বলল,
.
--আচ্ছারে বাবা তোমার সাথে পারা যায়না, চল। (ফারাবী)
--এইতো আমার লক্ষী সোনা!! (সিনথিয়া)
.
ছাদে বসে আছে দুজন। সিনথিয়াকে প্রশিক্ষণের কথাটা বলার সুযোগ খুজছে ফারাবী। মাঝেমধ্যে বাতাসে হয়তো সিনথিয়ার চুল উড়ছে, এমন মুহূর্তেই হয়তো মেয়েদের খুব সুন্দর লাগে। চাঁদের হালকা আলো সিনথিয়ার মুখে এসে পড়ছে, আরো সুন্দর করে তুলছে দৃশ্যটা। নিরবতা ভেঙ্গে সিনথিয়া বলল,,,,,,
.
--চুপ করে আছো কেন? (সিনথিয়া)
--.......... (এক পলকে চেয়েই আছে ফারাবী)
--উফফো, বোবা হয়ে গেলে নাকি!! (সিনথিয়া)
.
কিছু না বলে ধীর পায়ে সিনথিয়ার দিকে এগিয়ে যায় ফারাবী, সিনথিয়াকে কাছে টেনে নেয়।
.
--এই কি করছো? সবাই দেখবে তো!! (লজ্জা মাখা হাসি দিয়ে বলল সিনথিয়া)
.
ফারাবীর মুখে কোনো কথা নেই, তাকিয়ে আছে সিনথিয়ার চোখের দিকে।
সিনথিয়ার মাথায় দুষ্টুমি খেলে গেল, একটা দুষ্টুমির হাসি দিয়ে এক ধাক্কায় সরিয়ে দিল ফারাবীকে,,,,,,
.
--এই এটা কি হলো? (ফারাবী)
--হাহাহা বোবার মুখ ফুটলো। (সিনথিয়া)
--সিনথিয়া, তোমায় কিছু বলার ছিল! (ফারাবী)
--তাহলে বলো? মানা করেছি কই? (সিনথিয়া)
--আসলে, আসলে কাল আমরা কিছুদিনের জন্য রাঙ্গামাটি যাচ্ছি নতুন প্রশিক্ষণে। বলতে খারাপ লাগছে, তবুও কিছুদিন তোমায় একা থাকতে হচ্ছে সিনথিয়া! (ফারাবী)
--কি বলো এসব? আমায় একা রেখে চলে যাবে? আরে আমি একা থাকব কি করে! প্রতিবারই তো যাও, এবার নাহয় না গেলে? (সিনথিয়া)
--দেখো, হ্যাড কোয়ার্টার থেকে টিল লিডার হিসেবে আমায় স্থির করা হয়েছে। আমার উপর সমস্ত কিছুর ভার দেওয়া হয়েছে। এখন, এখন না আমি গিয়ে কিভাবে পারি বলো? আমার উপর আসা কমান্ড যদি অমান্য করি, তাহলে হয়তো এই চাকরি আর থাকবেনা। সবকিছু গুছিয়ে নিতেও বলা হয়েছে সিনথিয়া। (ফারাবী)
.
সিনথিয়ার গাল বেয়ে পানি পড়ছে, সে কাঁদছে। ফারাবী তার অশ্রু মুছে দিয়ে বলল,
.
--দেখো, আমার কিছু হবেনা। এইতো মাত্র কয়েকদিন, তারপরই আবার তোমার কাছে ফিরে আসব। (ফারাবী)
.
সিনথিয়া কান্নার মাঝে এক ভাঙ্গা হাসি দিয়ে বলল,
.
--আমি কাঁদব না, শুধু তুমি ঠিক থেকো। তুমি দেশের জন্য কাজ করো, তাই তোমায় পেয়ে আমি গর্ব বোধ করি ফারাবী।
.
এই বলে ফারাবীকে জড়িয়ে ধরে সিনথিয়া। আর মাত্র এই রাত, রাতটা পোহালেই সিনথিয়াকে একা রেখে দীর্ঘ দিনের জন্য চলে যাবে ফারাবী।
.
.
পরদিন সকালে,
--এই যে ম্যাডাম! দেরি হয়ে গেল তো! শার্টের বোতামগুলো কে লাগিয়ে দিবে?
.
ব্যাডরুম থেকে চেঁচাচ্ছে ফারাবী। কিচেন থেকে সিনথিয়া বলল,
.
--একটু দাড়াও আসছি, নয়তো তোমার ডিম ভাজি পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। কোনদিন বাচ্চার বাবা হয়ে যাও বলা যায়না আর এখনো শার্টের বোতাম লাগিয়ে দিতে হয়!
.
সিনথিয়া জানে যে রুমে গেলেই ফারাবী দুষ্টুমি শুরু করবে। রুমে এসে সিনথিয়া বলল,
.
--কই দেখি, হাত সোরাও! (সিনথিয়া)
--উহু, আগে বলো ভালোবাসি? (ফারাবী)
--এই, এখন কোনো দুষ্টুমি না, দেরি হয়ে যাবে। (সিনথিয়া)
--না আগে বলো। (ফারাবী)
--পারবো না! (সিনথিয়া)
--কেন ভালোবাসো না আমায়? (ফারাবী)
--কে বলেছে ভালোবাসি? (সিনথিয়া)
--বাসোনা? (ফারাবী)
--না! (অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে)
--আচ্ছা, এখন যে যাচ্ছি আর ফিরে আসব না। নিজের খেয়াল রেখো। (ফারাবী)
--ফাজিল কোথাকার!! ভালোবাসি তো। (সিনথিয়া)
--মিথ্যা শান্তনা না দিলে খুশি হবো। (ফারাবী)
--উম্মাহ!!
--এটা কি হলো? (ফারাবী)
--হিহিহি বলেছিনা ভালোবাসি? পাগলটা মজাও বুঝেনা! (সিনথিয়া)
--হাহাহা আমার অভিনয় তুমিও বুঝনা! (ফারাবী)
--কি??? দাড়াও এর বিচার তুমি আসার পর করবো হুহ! এখন ব্রেকফাস্ট করো তাড়াতাড়ি!! (সিনথিয়া)
.
খেয়েই যাওয়ার প্রস্তুতি নেয় ফারাবী! ফারাবীকে জড়িয়ে ধরে অধর ধারায় কাঁদছে সিনথিয়া। কেননা এলাকাটি মোটেও নিরাপদ নয়!! যাওয়ার আগে ফারাবী বলল,
.
--তুমি শুধু অপেক্ষা করো আর দোয়া করো, আমি ঠিক ফিরে আসব তোমার কাছে!
.
ফারাবী কি সত্যিই ফিরে আসবে?? জানতে হলে অপেক্ষা করুন পরবর্তী পর্বের জন্য।
:
পরবর্তী পর্ব
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ