------দেমাগি------
.
-দেখো ভালোবাসায় বিশ্বাস রাখতে হয় এভাবে সন্দেহ নিয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া সম্ভব না!(আমি)
-আমি জানি সম্ভব না কিন্তু তোমাকে যে বড্ড ভালোবাসি!(নীলা)
-এটা ভালোবাসা না এটা শুধুই ছেলেমি।আমার সব কিছুতেই তোমার সন্দেহ। কখনো বিশ্বাস করতে শিখোনি।চাইনা এমন ভালোবাসা! (আমি)
.
[এতোক্ষন কথা বলছিলাম আমি পাথর আর আমার স্ত্রী নীলা।বিয়েটা পারিবারিক ভাবেই হয়েছে।বাবা-মায়ের পছন্দ।জানি নীলা আমাকে খুব ভালোবাসে আর সেইজন্য কেয়ার করতে গিয়ে এতোটা সন্দেহ করলে হয়না,তবে রাগ হয় যখন সন্দেহ করে ঝগড়া হলে আমাকে তুই করে বলে!]
.
-কাল তোর আসতে এতো লেট হলো কেনো যে আমাকে ঘুমিয়ে পড়তে হলো!(নীলা)
-কিছু এসাইনমেন্ট ছিলো।(আমি)
-তা কোন মেয়ের সাথে রাতের এসাইনমেন্ট ছিলো!(নীলা)
-আরে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে একলক্ষ প্রোডাক্ট প্রোটেকশন দিতে হবে।তাই কীভাবে দ্রুত সম্পূর্ণ করা যায় তাই নিয়ে এসাইনমেন্ট ছিলো।তুমি জাস্ট একটা বোরিং প্রত্যেক কদমে কদমে সন্দেহ করোএটা মোটেই ঠিক করছো না!(আমি)
-তা কোনটা ঠিক!সেদিন বৃষ্টিতে ছাতা ধরে পাশের বাসার মেয়েটিকে বাসায় পোঁছে দেয়া?কখনো কি আমায় নিয়ে এভাবে বৃষ্টিতে বের হয়েছিস!(নীলা)
-দেখো উনি সম্পর্কে আমার চাচী ছিলো। কারো সম্পর্কে বাজে ধারনা করার আগে তার সম্পর্কে ভালোভাবে ক্ষুতিয়ে দেখতে হয়!আর তুমি যেভাবে আমাকে সন্দেহ করছো আর ঝগড়া করছো তারপর আমার মুড নেই তোমার সাথে বৃষ্টিতে ভিজার! (আমি)
.
-তো কিসের মুড আছে এখন? আলিয়া বাট্টের মুভি দেখার?দ্যাখ আমি ওইটাকে দুচোখে দেখতে পারি না।
- -তো একচোখে দেখো!(আমি)
-আমি ওকে ডান কিংবা বাম কোনো চোখেই দেখতে পারি না।ওকে দেখলে আমার হিংসে হয়। আর আমার সামনে তুই ওর ফটো পর্যন্ত দেখবি না।কেনোরে!আমাকে তোর ভালোলাগে না??(নীলা)
-নীলা দেখো একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে।ওরা সেলিব্রেটি আর তুমি বউ।(আমি)
-যাই হোক না কেনো প্রয়োজনে তোর সামনে আমি টিবি সেলিব্রেটিদের মতো সাজবো তবুও তুই আলিয়াকে দেখবি না!(নীলা)
-আরে বুঝতে চেষ্টা করো!(আমি)
-নাহ আমি কাউকে বুঝি না!আর বুঝা লাগবেও না!(নীলা)
-সত্যিই তুমি বুঝই না।খালি দেমাগ দেখাতে পারবে আর সন্দেহ করতে পারবে।ভালোবাসার মানে বুঝো তুমি?(আমি)
-তারপর বিছানায় শুয়ে বালিশে মুখ গুঁজে আছে,বুঝলাম কান্না করছে।জানি ও নিজের চাইতেও বেশি ভালোবাসে তাই বলে এতো সন্দেহ করতে নেই ভালোবাসায় বিশ্বাস রাখতে হয়।কাঁদুক কিছু সময় কাঁদলে মন হালকা হয়,চাপা কষ্টগুলা কিছুটা উপশম হয়।
.
-বিছানায় যেয়ে মাঝখানে একটা বালিশ রেখে ঘুমাতে গেলাম!
-কিরে মধ্যে আবার এটা এলো কেনো?(নীলা)
-তোমার সন্দেহ নাশ হোক তারপর না হয় সম্পর্কের বন্ধন পূর্নতা পাবে।বিশ্বাস ছাড়াতো ভালোবাসা টিকে না!(আমি)
-ওহ এখন বউয়ের সাথে ঘুমাতেও তোর অসুবিধে।আমারতো মনে হয় তোর লাইফে তৃতীয় ব্যক্তি আছে যা আমাদের ভালোবাসায় ফাটল ধরাচ্ছে!(নীলা)
-নীলা!(ঠাস করে দিলাম একটা গালে মনে হয় চার আঙ্গুলের ছাপ লেগে গেছে)।এভাবে অশান্তি নিয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নেয়া সম্ভব না।মুক্তি চাই আমি এই সন্দেহের সম্পর্ক থেকে।(আমি)
-ওহ এখন ডিভোর্স চাই!আচ্ছা তুই যদি মনে করিস মুক্তি পেলে তুই ভালো থাকবি,সুখে থাকবি তাহলে আমি ডিভোর্স পেপারে সাইন করতে রাজি!সত্যিই আমি তোকে খুব ভালোবাসিরে!(নীলা)
.
পরেরদিন ঘুম থেকে উঠে নীলাকে খুজছি কোথাও নেই!ওনেক খোঁজাখুঁজির পর এসে বারান্দায় বসে আছি।আসলে আমিই বোধহয় বেশি করেছি হয়তো স্ত্রীরা স্বামীর ভাগ কাউকে দিতে চায় না বলেই এতো বেশি সন্দেহ করে তাই সন্দেহটাকে বিশ্বাসে রূপ দেওয়া উচিৎ ছিল। নাহ আর কষ্ট দিবো না আজ ভালোবাসি বলবো,বলবো তুমি না শুধু আমিও পারি ভালোবাসতে, খুব পারি খুব।
.
প্রায় একপক্ষ পর দরজায় নক হলে খুলে দেখি নীলা আসছে।
-এই নাও ডিভোর্স পেপার! আমি সাইন করে দিছি তুমিও করে নাও!(নীলা)
-এমনটায় আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না!এই দেমাগিটারে ছাড়া আমার চলবে না জীবনে-মরনে শুধু দেমাগিটারেই চাই।জানি ও খুব ভালোবাসে ও আমার মতো চায় না ডিভোর্সটা হোক।আমি ওর ভালোবাসার মূল্য দিবো না তা কি করে হয়!
-কোথায় গেছিলে ফোন কেনো অফ?জানো কতটা মিস করেছি?এটলিস্ট একবার বলেতো যেতে পারতে!(আমি)
-বাবার বাড়ি থেকে তোমাকে মুক্তি দিয়ে শান্তিতে থাকার ব্যবস্থা করছিলাম!এই নাও ডিভোর্স পেপার! (নীলা)
-সাইন করে দিলাম ডিভোর্স পেপারে!ও পেপারটা নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে চলে গেলো।
.
-বিকেলবেলা ভালো লাগছে না ছাদে বসে আছি আজ আকাশটাও মেঘলা আমার মনে যেমন মেঘ করেছে।হয়তো কিছুক্ষণ পর ও আমার সাথে হুহু করে কেঁদে দিবে পার্থক্য হচ্ছে ওর কান্না সবাই দেখবে আর আমার কান্না আড়ালে লুকাবে!তোর সাথে আমার নামের কত মিল (পাথর)তোর দেওয়া পানিতেই আমার বেড়ে ওঠা।তোর নামে শব্দ তিনটা আমার নামেও তিনটাই।
.
ভাবতে ভাবতে নীলা এলো ছাদে,ডিভোর্স পেপার আমার হাতে দিলো আমি দেখে ওর দিকে তাকাতেই জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগলো।এটা কষ্টের না সুখের কান্না!অবাক হচ্ছেন!
-সেদিন ডিভোর্স পেপারে আমার সাইনে পাথর লিখার স্থানে আমি লিখেছি I Love You...
-আজকে দেখলাম ও সাইন করে এনেছে love you too!
-কি করে ভাবলে তোমার ভালোবাসার মূল্য দিবো না!তুমি জানো না এই দেমাগিটারেই আমার চাই?(আমি)
-তারপর নীলা আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে করতে বললো আমি আর তোমায় সন্দেহ করবো না এখন থেকে তুমিই আমার বিশ্বাস তুমিই আমার নিঃশ্বাস। (নীলা)
-আকাশটা খুব জোরে কান্না শুরু করে দিলো।আমরাও কাঁদছি সুখের কান্না।সেই সাথে নীলাও আমার বৃষ্টিতে ভিজার ইচ্ছে পূরন করে নিলো।
.
ডিভোর্স দিয়ে সম্পর্কের ইতি ঘটে আর এখানে পাথর-নীলা সেই অলুক্ষনে কাগজটা দিয়ে সম্পর্কের শুভ সূচনা করে পূর্নতা দান করে!অমর হোক ভালোবাসা।
যে আকাশ এতোক্ষন মেঘাচ্ছন্ন ছিলো সে আকাশ এখন সূর্যি মামার হাসিতে গম্ভীরতা কাটিয়ে কষ্ট লুকায়।এযেনো পাথর-নীলা সম্পর্কের নতুন উদ্দীপনা।
.
হ্যাপি এন্ডিং
.
লেখকঃ সংগ্রামী মধ্যবিত্ত (স্বপ্নিল লেখক)
.
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ