āĻŦৃāĻšāϏ্āĻĒāϤিāĻŦাāϰ, ā§¨ā§Ž āϏেāĻĒ্āϟেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

2740

দুপুরবেলা, ইরা গেছে গোছল করতে। হঠাৎ করেই
বাথরুম থেকে একটা চিৎকার শুনতে পাই
-নীল!!!!!!
আমি দৌড়ে বাথরুমের সামনে হাজির।
ততক্ষনে ইরা বাথরুমের সামনে এসে বাচ্চা
মেয়ের মত লাফাচ্ছে
-আরে! কি হয়েছে? চিল্লাও কেন?
-ইইইইইই
-মানে কি?
-ইইইইইইইইইইইইইইইইই
-আরে কি ই ই করছ? কি হয়েছে?
-তুমি দেখতে পাচ্ছ না? বাথরুমে একটা
ইয়ায়ায়া বড় তেলাপোকা
.
তাকালাম বাথরুমের ফ্লোরে। ওটাকে ঠিক
তেলাপোকা বলা যায় না। তেলাপোকার
"নাতি" বলা যেতে পারে। বেচারা নিজেই
ইরার চিৎকার শুনে হতভম্ব হয়ে দাড়িয়ে আছে।
আর হয়ত মনে মনে বলছে,
"আরে আমি কখন ভয় দেখালাম? এ মেয়েটাই
তো আমার কানের পর্দা ছিড়ে ফেলছে।"
যাইহোক কোন ভাবে তেলাপোকা টাকে
সরালাম। ইরা গোছল সেরে রুমে ঢুকল।
যথারীতি এবার আমার যাওয়ার পালা
গোছলে।
বাথরুমে ঢুকতেই আমার চক্ষু চড়কগাছ!!
.
আরে মেয়েটা নিজের কাপড় ফেলে রেখে
গেছে আমাকে দিয়ে ধোয়ানোর জন্য।
ডাকলাম ইরা কে
-এটা কি হলো?
-হিহিহি, কি হলো দেখতে পাচ্ছ না?
হাজবেন্ড হয়েছ আর এতটুকু করতে পারবে না?
-ইরা এটা কিন্তু ঠিক হচ্ছে না। আজ শুক্রবার,
হিসেব মত তোমার কাপড় ধোয়া উচিত।
-কিসের হিসেব? আমি কিছু জানিনা।
.
কথা টা বলেই ইরা বাচ্চা মেয়ের মত নাচতে
নাচতে ঘরে চলে গেল।
ইরা আর আমার বিয়ে হয়েছে ৩ মাস হলো।
বিয়ের সব রীতিনীতি শেষ করে ২ দিন হলো
নিজেদের ফ্লাটে উঠেছি।
কাল থেকে অফিস শুরু আমার। চিন্তা একটাই, এই
পাগলীটাকে রেখে এতক্ষন বাইরে থাকতে
হবে। পারবে তো থাকতে?
দিন চলে যাচ্ছে এভাবে। অফিসে কাজ করছি
এমন সময় ইরার কল-
-ইইইইইইই
-আবার তেলাপোকা?
-না হিহিহি
-তাহলে আবার কি?
-তুমি এক্ষুনি বাসায় চলে আসো।
-এখন কিভাবে?
-জানিনা কিভাবে। একটা গুড নিউজ আছে
.
কে জানে কি নিউজ। স্যার কে বলে বাসায়
রওনা দিলাম। পৌছে গেলাম ঘন্টা খানেকের
মাঝে।
-হ্যা, আমার ইরাবতীর কি হয়েছে বলতো।
-হিহিহি
-এত খুশি কেন?
-উহ, আমার লজ্জা করেনা?
-আমি কি বাবা হব?
-ধুর! কিযে বলো।
.
আমার ইরা লজ্জায় কুটিকুটি। কাছে গিয়ে ইরা
কে আলতো করে জড়িয়ে ধরলাম।
-ওওওও ইরাবতী, বলোনা গো কি খুশির খবর?
-এই যে মিষ্টার নীল। আপনার ওয়াইফের চাকরী
টা হয়ে গেছে। হিহি
-তাই নাকি? কনগ্রাচুলেশন!
-থেংকু হিহিহি
.
ইরা বুঝতে পারে খবর টা শুনে আমার মন টা একটু
খারাপ।
ইরা বলে "নীল আমি যত ব্যস্ত বা অন্যজগতে
থাকি তোমার জন্য আমার সময়ের অভাব হবে
না। বড্ড ভালোবাসি যে তোমায়। আই প্রমিজ,
তোমাকে কখনও একা ফিল হতে দেব না"
.
থমথমে পরিবেশ টা দুর করার জন্য আমি একটু
হেসে বলে দিই
"চলো, আজ আমার ইরাবতী তার চাকরী হওয়া
উপলক্ষে আমায় ট্রিট দেবে"
.
বেরলাম আমি আর ইরা,
সংসদের রাস্তাতে রিক্সাতে ঘুরছি।
একটা শোরগোল শুনতে পেলাম। কিছু বুঝে ওঠার
আগেই, কিছু একটা তে ধাক্কা খেলাম। রোডের
উপর পড়ে আছি।
পাশে ইরা কেও পড়ে থাকতে দেখলাম।
আস্তে আস্তে চারিপাশ টা আবছা হয়ে উঠল।
তার পর কিছু মনে নেই।
.
জ্ঞান ফেরার পর তেমন কিছু মনে ছিল না
আমার।
পায়ের কাছে মা-বাবা, আমার শশুড়-শাশুড়ি,
আর ইরা কে বসে থাকতে দেখলাম।
ইরার কপালে আর হাতে কপালে ছোট কয়েকটা
ব্যন্ডেজ।
আমার ইরাবতীর মুখ খুব শুকনা লাগছিল।
আমার জ্ঞান ফিরেছে নাকি ৩ দিন পর। ইরার
চোখের নিচেও কাল দাগ হয়ে গেছে। হয়ত এই
মেয়ে টা ৩ দিন না ঘুমিয়ে আমার পায়ের
কাছে বসে কেঁদেছে।
শুনতে পেলাম, সেদিন নাকি একটা মিনিবাস
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আমাদের রিক্সাতে
ধাক্কা দেয়।
ঘটনাস্থলেই রিক্সাচালক টা মারা যায়। ইরা
ছিটকে পড়ে যাওয়ার কারনে তেমন কিছু হয়নি।
.
ইরা সহ পরিবারের সব বড়রা বসে আছে। ভদ্রতার
খাতিরে একটু উঠে বসতে গেলাম। ঠিক তখনই
হলো আসল বিপত্তি।
কারন আমি আমার পা গুলো অনুভব করতে পারছি
না!!!
ইরা আগেই জানত এটা, কিন্তু এখনও বলেনি
আমায়।
ইরা বুঝতে পারল, আমি বুঝে ফেলেছি আমার
পা গুলো "প্যারালাইজড"
আমি পা নাড়াতে পারব না। আমি কাদার
আগেই আমার ইরা আমায় জড়িয়ে ধরে হাউমাউ
করে কাঁদতে লাগল।
.
মানিয়ে নিতে হলো এই কঠিন বাস্তবের
সাথে। ১০ দিন পর হাসপাতাল থেকে ছেড়ে
দিল আমায়।
তবে এত কষ্টের মাঝেও একটা ভালো সংবাদ
পেলাম
"সঠিক ভাবে পরিচর্চা হলে আমার পা ভালো
হতেও পারে কোন একদিন।"
চাকরী টা হারালাম। ইরা এখন চাকরী করে
সংসার টা চালায়। তাই বলে যে, আমার
কেয়ার করে না তা একদম নয়।
সেই সকাল বেলা উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা
বানায় আমার জন্য।
ওর হাতের রান্না ছাড়া যে আমি খেতে
পারি না।
আমার দুপুরের খাবার তৈরি করে রেখে
অফিসে যেত। বিকালে ফিরে আমার পায়ের
ব্যাম করাতো। রাতে আবার, আমার পাশে বসে
থেকেই রাত টা পার করে দিত।
.
আমার ইরাবতী আর আগের মত হাসে না। আসলে
হাসার সুযোগ পায় না। এখন যে ইরা একজন
দায়িত্বপূর্ণ স্ত্রী। যাকে ঘরে বাইরে
সবদিকেই সামলাতে হয়।
সময় তো আর কম হলোনা, দেখতে দেখতে ৩ বছর।
শুনেছিলাম, ইরার বাবা-মা ইরা কে বলেছিল
আবার বিয়ে করতে। তারপর থেকে বাড়িতেও
যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে ইরা।
অবশ্য আমিও একবার বলেছিলাম,
"ইরা তোমার কষ্ট যে আর দেখতে পারছি না,
খুঁজে নাও অন্য কোন সুখের জায়গা"
আমার ইরা সারারাত কেঁদেছিল। অবশ্য তারপর
অনেক সরি বলেছিলাম।
আমার ইরা আর বাচ্চার মতন নেই, এখন নিজের
কাপড় আমার কাপড় সব নিজের হাতে সে ধোয়।
.
তিন বছর পরে, পড়ন্ত বিকালে ইরার সাথে গল্প
করতে করতে অনুভব করতে পারি,
আমি আমার পায়ের আঙুল গুলো নাড়াতে
পাড়ছি।
যেদিন পা হারিয়েছিলাম আমার চেয়ে
বেশি কেঁদেছিল আমার ইরা।
আজ পা ফিরে পেয়ে আমার চেয়ে হাজার গুন
বেশি খুশি আমার ইরা।
ডাক্তারের কাছে যাওয়া হয়।
নতুন রুটিনে শুরু হয় ব্যায়াম। ২ মাসের মাঝে পা
দুটোকে ফিরে পাই আরেকবার।
সাথে ফিরে পাই চাকরী টা। সৃষ্টিকর্তা কে
অনেক ধন্যবাদ এমন একজন সঙ্গীনি কে আমার
জীবনে দেওয়ায় জন্য।
.
৬ মাস পরের কথা,
অফিসে কাজ করছি। ইরার একটু রেস্টের জন্য
আপাতত চাকরী না করতে বলেছি।
হঠাৎ করে ইরার কল-
-ইইইইইই
-কি হয়েছে ইরা?
-তুমি তাড়াতাড়ি বাড়িতে আস।
-কেন? বলবা তো কি হয়েছে?
-আস আস। একটা গুড নিউজ আছে।
.
যত তাড়াতাড়ি পারি বাসায় আসলাম। ইরা
একটা নীল শাড়ি পরেছে। একদন নীল অপ্সরী
লাগছে ওকে
-কি গুড নিউজ!!
-এদিকে আস
.
ইরা ওর কোলের উপর আমায় শোয়ায়। মিষ্টি
করে বলে
"এই যে মিষ্টার নীল, আপনি কি আমার পেটের
মাঝে কিছু ফিল করছেন?
.
আমি উঠে অবাক হয়ে তাকায় ইরার দিকে।
আমার বুকে তখন খুশি রাখবার জায়গা নেই।
আমি চিৎকার করে বলি "আমি কি বাবা হব?? "
ইরা তার মিষ্টি মুখ টা হালকা নিচু করে উত্তর
দেয়
"ইসস, আমার লজ্জা করেনা বুঝি"
.
.
আমার ইরা আমায় প্রমিজ করেছিল আমায় কখনও
একা ফিল হতে দেবে না। আমার ইরা তার
প্রমিজ রেখেছে। ইরা একজন আদর্শ স্ত্রী, এবং
আমি জানি সে হবে একজন আদর্শ মা।
.
.
গল্পঃ আমার ইরাবতী
#রিমা

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ