মেয়েটা এক হাতে লেহেঙ্গা উঁচু করে সিঁড়ি দিয়ে নামছে। তার সাথে একজন বয়স্ক লোক। হয়তো তার চাচা , বাবা কেউ একজন হবেন। মনে হচ্ছে সিঁড়ি দিয়ে কোন এক রাজকন্যা নামছে। রুপের কন্যা। চারিদিক ঝলমল করছে সে রুপে। মেয়েটা দেখতে ঠিক রুমার মত। রুমাকেও এমন লাগবে এমন ড্রেসে। সুরুজ অপলক তাকিয়ে আছে মেয়েটার দিকে।
কল আসে সুরুজের মোবাইলে। "হ্যালো কই তুমি সুরুজ?"
- স্যার, স্যার আমিতো মার্কেটের গেটে স্যার। উত্তর দেয় সুরুজ।
"জলদি লেভেল পাঁচ এ আসো। গাড়ি পার্কিং করেছো?
স্যারের প্রশ্নের উত্তর দিয়েই সুরুজ শপিং মলের লেভেল পাঁচে দৌড়ে যায়। বয়স হয়ে গেছে সুরুজের। হেঁটে সময় মত কোথাও পৌছা যায়না। সুরুজকে তাই দৌড়াতে হয়।
একুশ বছর ধরে শিকদার সাহেবের ব্যক্তিগত গাড়ির ড্রাইভার সুরুজ। শিকদার সাহেব সুরুজকে মোটামুটি পছন্দই করেন।
সুরুজ শিকদার সাহেবের শপিং ব্যাগগুলো নিয়ে লিফটে নামে। গাড়িতে তুলে। শিকদার সাহেবের সাথে তার স্ত্রীও আছেন।
দুজনকে নিয়ে সুরুজ যায় এক বিয়ের অনুষ্ঠানে। শিকদার সাহেবের এক নিকটাত্মীয়ের বিয়ে হচ্ছে। স্বামী স্ত্রী দুজন গাড়িতে বসে সে বিয়ের নানান গল্প করছেন। এদিকে গাড়ি জ্যামে আঁটকে আছে। তবুও সুরুজ যেন সামনে কোন গাড়ি দেখতে পাচ্ছেনা।
বারবার তার চোখে সে লেহেঙ্গা পড়া মেয়েটার মুখায়ব ভাসছে। কি সুন্দর পরীর মতই না লাগছিলো মেয়েটাকে! সন্ধ্যায় বিয়ে বাড়ীতে শিকদার সাহেবকে নামিয়ে দেয় সুরুজ।
সুরুজ জানে তার স্যারের কাছে ঘণ্টা দুয়েক ছুটি চাইলে স্যার না করবেন না।
- স্যার আমার কিছুক্ষণ ছুটি লাগবে।
"ওকে যাও। কিন্তু দ্রুত এসো। কেন যেন লাগবে? "
- স্যার আমার মাইয়ার জন্য একটা জামা কিনতাম।
"ও আচ্ছা। যাও যাও। আচ্ছা ধর এই টাকাটা কাছে রাখো। "
সুরুজের চোখ খুশিতে চকচক করে ওঠে। চকচকে এক হাজার টাকার নোট।
সুরুজকে বেতনের পুরোটা প্রায় গ্রামে পাঠাতে হয়। স্ত্রী ছেলে মেয়ের খরচ। মেয়েটা এবার কলেজে উঠেছে। ছেলে ছোট।
মেয়েটা হয়েছে একেবারে মাটির মানুষ। যতকিছুর দরকারই হোক না কেন চুপ মেরে থাকে। বাবার আর্থিক কষ্ট হবে ভেবে কিছুই বলেনা।
সুরুজের মন চায় মেয়েটাকে মনমত পোশাক, আশাক বানিয়ে দিতে। কিন্তু তারতো সে সামর্থ্য নেই। গত ছয় মাস ধরে সুরুজ একটু একটু করে টাকা জমিয়েছে।
সুরুজ দ্রুত নিউমার্কেটে যায়। সে লেহেঙ্গা কিনতে পারবেনা। তার সে পরিমাণ টাকা নেই।
পুরো নিউমার্কেট ঘুরে ঘুরে একটা থ্রি পিস কেনে সুরুজ।
লাল রংয়ের থ্রি পিস। সুন্দর নকশা করা। তার মেয়ে রুমা উজ্জ্বল শ্যামলা। বড়ই সুন্দর লাগবে এটা পড়লে।
শিকদার সাহেব কল দিয়েছেন। "কি সুরুজ আর কতোক্ষণ লাগবে তোমার? "
"স্যার আসি স্যার", বলেই সুরুজ রিকশায় ওঠে। সুরুজের মনটা কেমন যেন খুশিতে ভরে গেছে। কতোদিন পর মেয়েকে একটা মনমত পোশাক দিতে পারছে সে।
সন্ধ্যায় ভ্যাপসা গরম লাগলেও এখন কেমন যেন হিমশীতল বাতাস বইছে। সুরুজ স্থির হয়ে রিকশায় বসে থাকে। রিকশা এগোতে থাকে।
লাল রং এর থ্রি পিস পড়ে তার মেয়ে ধীরে ধীরে হাঁটছে। সুরুজ কল্পনায় তার দিকে তাকিয়ে আছে... মেয়েকে সুন্দর মানিয়েছে। যেন পরী নেমে এসেছে ধরণীতে।
লিখাঃ ইমরান আলী
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ