"রোমান্টিক বর"
.
part:-"4"
.
-----------------H M Jubayer Hasan
.
.
অফিসে পৌঁছে গেছি।
কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো অফিসে ঢুকে সালাম দিলাম মোটামুটি সবাই সালামের উত্তর দিল।
কিন্তু কেউ একবারও জিঙ্গাসা করলো না কালকে আসো নি অথবা আসেন নি কেন?
.
আসলে সবাই এখানে জীবিকার তাগিদে কাজ করতে আসে।
তাই কে আসল আর কে আসল না তা নিয়ে মাথাব্যথা কারোরই থাকে না।
.
নিজের ডেস্কে গিয়ে বসে পড়লাম।
যেমনটা ভেবেছিলাম তেমনটা কাজ জমে নি।
.
কিন্তু নিজের কাছে নিজেকে কোন আগন্তুক বলে মনে হচ্ছে।
.
যাক কাজ করতে করতে যোহরের আযান হয়ে গেল।
নামায পড়তে যাওয়া দরকার।
কাজ করতেছি ঠিকই কিন্তু মাথার ভেতর ২টা চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে।
.
যাক আগে নামায পড়ে আসি।
নামায পড়ে এসে দেখি সবাই Lunch hour এ ব্যস্ত।
.
দুপুরের খাওয়া শেষে নাহিদ স্যারের কথা ভাবছি।(অফিসের বস)
তিনি অফিসে আসলে আমাকে প্রায় প্রতিদিনই তার রুমে ডাকে।
কিন্তু আজ মনে হয় আসেনি।
আসলে আমাকে অবশ্যই ডাকত।
.
স্যারের কথা ভাবছি তখন আকস্মিকভাবে দেখি নাহিদ স্যার আমার ডেস্কের দিকে আসছেন।
স্যারকে দেখামাত্রই দাঁড়িয়ে গেলাম।(এ ধরনের সম্মানের জন্য দাঁড়ানো ইসলামে জায়েয আছে।
দলিলঃ-
"হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)হতে বর্ণিত,যখন কুরায়যা গোত্র হযরত সা'দ ইবনে মুয়ায (রাঃ)এর রায় মেনে নেয়ার শর্তে অবতরণ করল,তখন রাসূল (সাঃ) তাকে ডেকে পাঠালেন।সা'দ (রাঃ)নিকটবর্তীই ছিলেন।তিনি গাধার পিঠে আরোহণ করে এলেন।যখন মসজিদে নববীর নিকটবর্তী হলেন,তখন রাসূল (সাঃ)আনসারদেরকে বললেন,তোমরা তোমাদের নেতার সম্মানার্থে দাঁড়িয়ে যাও।(বুখারী ও মুসলিম)
.
--স্যার কাছে আসতেই সালাম দিলাম,
আস্সালামুআলাইকুম স্যার কেমন আছেন?
--ওআলাইকুমুস্সালাম.
আমার আর ভালো থাকা!
তবুও আছি কোনরকম।
তোমার কি খবর জুবায়ের?(স্যার)
--আলহামদুলিল্লাহ ভালোই আছি স্যার।
আপনি কি কেবল আসলেন?(আমি)
--হ্যাঁ,
একটু অসুস্থ বোধ করছিলাম।
তাই আসিনি।(স্যার)
--এখন ঠিক আছেন তো?
--হ্যাঁ.
আর শোনো,,,
--জি স্যার?
--কালকে থেকে আমি আর অফিসে আসবো না।
--তাহলে অফিস দেখাশুনা কে করবে স্যার?
--আমিতো সেজন্যই এসেছি।
--মানে স্যার?
--আম্মু এদিকে আয় তো,
স্যার পিছনে ফিরে কথাটা বলার পর আমিও তাকিয়ে পরলাম,
দেখলাম মহিলা মাদরাসার মতো ঐরকম ড্রেস পড়া কেউ একজন মাথা নিঁচু করে আমাদের দিকে আসছেন।
বুঝতে পারলাম না মেয়েটা কে?
কারণ স্যারের একমাত্র মেয়ে অহনাকে তো আমি চিনি।
সে তো মডার্ণ।
তাহলে এই মেয়েটা আবার কে?
--মেয়েটা স্যারের কাছে আসতেই স্যার আমার দিকে তাকিয়ে বলল,
আমার মেয়ে কাল থেকে আমার জায়গায় বসে অফিস দেখাশুনা করবে।
--স্যারের দিকে প্রশ্নের চোখে তাকিয়ে বললাম,
স্যার আপনার একমাত্র মেয়ে অহনা ম্যাডাম কে তো আমি চিনি।
তাহলে ওনি কে?
ওনার কথা তো কখনো বলেন নি?
--স্যার হেসে অবাকের স্বরে বলল,
কি বলছো জুবায়ের?
তুমি ওকে চিনতে পারছো না?
ওই তো আমার একমাত্র মেয়ে অহনা।
--স্যারের কথায় তাত্ক্ষনিকভাবে কিছুটা হকচকিয়ে গেলাম।
কারণ,
যে মেয়ে শার্ট,প্যান্ট পড়ে বেড়ায় সে কিভাবে এতো তারাতারি চেন্জ হয়ে যেতে পারে?
আল্লাহর রহমত থাকলে অবশ্যই হতে পারে।
কিন্তু এতো তারাতারি কিভাবে?
এ প্রশ্নের জবাব আমার জানা নেই।
কারণ এ বিষয় সম্পূর্ন গায়েবের বিষয়।
আর গায়েবের বিষয় একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউই জানে না।
(দলিলঃ সূরা হাশরের শেষের তিন আয়াতের প্রথম আয়াত)
--স্যার আমাকে বললো আমার কথা বুঝেছো।
--(আমি শুধু হ্যাঁ সূচক মাথা নারলাম)
--আচ্ছা আমি এখন তাহলে আসি।
কাল থেকে অহনা অফিসে আসবে।
তুমি ওরদিকে একটু খেয়াল রেখো।
পূর্বের কোন এক্সপেরিয়েন্স নেই তো.
--(আমি আবার হ্যাঁ সূচক মাথা নারলাম আসলে মাঝে মাঝে হঠাত্ এমন সব ঘটনা ঘটে যার ঘোর মানুষ সহজে কাটিয়ে উঠতে পারে না)
.
কথাটা বলে স্যার আর অহনা চলে যাচ্ছে।
আমি এখনো ঘোর কাটিয়ে উঠতে পারি নি।
তাই সেভাবেই দাঁড়িয়ে আছি।
অফিস থেকে বের হওয়ার আগে অহনা পেছনে ফিরে তাকাল।
আমি সেভাবেই দাঁড়িয়ে আছি দেখে সম্ভবতঃ হাসি পেয়েছে তার।
মনে হলো বোরকার নিচে হেসে নিলো।
.
আমি ধপাপ করে চেয়ারটায় বসে পড়লাম।
ঘোর এখনো কাটে নি আমার।
নাহ,এখন আর এখানে থাকা যাবে না।
বাসায় যাওয়া দরকার।
অফিস থেকে বেরিয়ে পরলাম।
.
পরেরদিন...
.
--অফিসে চলে এসেছি।
এসেই দেখি সবাই আমার আগেই চলে এসেছে।
আর স্যারের রুমের দরজাটাও খোলা..
তার মানে অহনা ম্যাডাম সত্যি সত্যিই অফিসে এসেছেন।
নিজের ডেস্কে গিয়ে বসতেই
পিয়ন কোথা থেকে এসে সালাম দিয়ে বলল,
--ম্যাডাম আপনাকে যেতে বলেছে
--সালামের উত্তর দিয়ে বললাম,
আচ্ছা চাচা আমি যাচ্ছি,
আপনি যান।
.
ম্যাডামের রুমে গিয়ে বললাম,
--আসতে পারি ম্যাডাম?
--জি আসুন।(অহনা)
--কোন সমস্যা ম্যাডাম?(আমি)
--হ্যাঁ,
এই ফাইলটা একটু দেখে দিন?
--আচ্ছা ম্যাডাম.
বলে ফাইলটা নিয়ে ডেস্কে চলে আসলাম।
.
আমার অহনাকে নিয়ে ঘোরটা এখনো কাটে নি।
হাত মোজা,পা মোজা,বোরকা
কিভাবে একটা মডার্ণ মেয়ে এতো তারাতারি বদলে গেল।
নাহ,অফিসে যা করতে এসেছি তাই করা ভালো।
এসব চিন্তা আমার না করলেও চলবে।
.
আর মেয়ে বসের চাকরি আমার করার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা নাই।
নতুন একটা চাকরির জন্য এপ্লাই করতে হবে।
এই চাকরিটা ছেড়ে দিবো ভাবছি।
.
বিকালের পরে পিয়ন চাচা এসে আবার বলল,
--স্যার ম্যাডাম আপনাকে যেতে বলেছে ফাইলটা নিয়ে.
--আচ্ছা
ফাইলটা নিয়ে ম্যাডামের রুমে গিয়ে,
--আসতে পারি ম্যাডাম?
--আসুন.
--চেয়ারে বসুন
--কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বসে পড়লাম(আর বেশিদিন নেই তো তাই আর কিছু বলতে গিয়েও বললাম না।)
--আপনি তো অনেক ধর্মীয় ঙ্গানের বইয়ের নাম জানেন।
তাই না?
মি.জুবায়ের?
--হ্যাঁ,
মোটামুটি বেশ কিছু জানি।
কিন্তু আপনি তা দিয়ে কি করবেন?
--কখনো ধর্মীয় শিক্ষা লাভের সুযোগ হয়নি।
তাই যদি কিছু ধর্মীয়...
আচ্ছা আপনি কয়েকটা বইয়ের নাম বলেন তো।
--"আহকামে জিন্দেগী", "আহকামুন নিসা",
"জান্নাতী আট নারীর জীবনী",
"আয়েশা (রাঃ) এর জীবনী",
"ফাতেমা (রাঃ) এর জীবনী"
ইত্যাদি ইত্যাদি......
-আচ্ছা আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আপনি এখন বাসায় চলে যেতে পারেন....
.
(চলবে)
"রোমান্টিক বর"
.
part:-"5"
.
.
অহনা ধর্মীয় বইয়ের নাম শুনল কেন?
হইতো ধর্ম সম্পর্কে তার আগ্রহ বেড়েছে।
এরকমই আল্লাহ দুনিয়ায় অনেক তাজ্জব জিনিস দেখায়।
যা কল্পনায়ও ভাবা অসম্ভব।
আর বাস্তবে তো কোন কথাই নেই।
আল্লাহ তা'য়ালা বলেন,
"আল্লাহ মোমেনগণের অভিভাবক।তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোতে নিয়ে যান।"(কুরআন)
.
অহনা অফিসে গেলেই প্রায় আমাকে ডেকে ইসলামি কথাবার্তা শোনে।
আর আমি মাথানিঁচু করে কথাগুলোর উত্তর দিই।
.
অহনার বাবা অফিসে থাকতে অফিসের যেরকম অবস্থা ছিল
এখন তার থেকে অবস্থা অনেক ভালো হয়েছে।
.
একদিন পিয়ন এসে বলল,
--স্যার অহনা ম্যাডাম আপনাকে সালাম জানিয়েছে
--আচ্ছা আমি যাচ্ছি
--অহনার রুমে গিয়ে মাথানিঁচু করে বসে আছি
--কিছুক্ষন পর অহনা বলল,
মি.জুবায়ের আপনি তো পর্দার বিষয়ে অনেক কিছুই জানেন?
--(কিছু বললাম না)
--আমি ভাবছি যে,
আমাদের এই অফিসটা ইসলামি শরীয়ত অনুযায়ী পরিচালনা করবো।
আপনার কি মত?
--তাহলে তো অনেক ভালো হয় ম্যাডাম।
আমি আপনার সাথে একমত পোষণ করছি।
.
"হযরত উরস বিন উমাইরা (রা) হতে বর্ণিত,তিনি রাসূল সা হতে রেওয়ায়েত করে বলেন,
যখন যমীনে কোন গোনাহের কাজ সম্পাদিত হয়,তখন সে ভূমিতে উপস্থিত থেকে যারা একে অপছন্দ করে তারা যেন এতে অনুপস্থিত থাকল।আর যারা অনুপস্থিত থেকেও এর প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করল,তারা যেন উহাতে শরীক হল।"(আবু দাউদ)
.
--আপনি কিন্তু এ কাজে অবশ্যই আমাকে সাহায্য করবেন।
আপনি তো জানেনই যে ভালোকাজে সাহায্য সহযোগিতা করা ভালোকাজেরই সমান।
আর কোনকিছু ভুল হয়ে গেলে সংশোধন করে দেবেন।
--আচ্ছা।
.
পরেরদিন....
.
আজ ফোন দিয়ে অহনা ম্যাডাম একটু তারাতারিই অফিসে আসতে বললেন।
অফিসে এসে তো প্রায় অবাকই হয়ে গেছি।
অফিসের প্রায় অনেক জায়গায় এক কালারের কাপড় দিয়ে পর্দা টানানো।
.
ভালোভাবে তাকালেই বোঝা যাচ্ছে পর্দা ঠিক সেখানেই দেওয়া হয়েছে যেখানে মেয়ে কলিগদের ডেস্ক।
.
অহনা কোথা থেকে এসে সালাম দিয়ে বলল,
--সুপ্রভাত.
তো মি.জুবায়ের কেমন আছেন?
--সালামের উত্তর দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ ম্যাডাম আপনি কেমন আছেন?
--আলহামদুলিল্লাহ।
--তো ম্যাডাম এতো সকাল সকাল আমাকে কেন ডাকলেন?
--বুঝতে পারছেন না?
আসুন আমার সাথে.....
.
অহনার পিছন পিছন একটা রুমে ঢুকলাম।
ছোট একটা রুম,,
দেখে ছোট একটা মসজিদের মতো মনে হচ্ছে।
অহনাকে জিঙ্গেস করলাম,
--ম্যাডাম এইটা কিসের রুম?
--বুঝতে পারছেন না তো?
আরে অফিসের সব পুরুষ কর্মচারীরা এখানে নামায পড়বে।
--ও আচ্ছা,
খুবিই ভালো ম্যাডাম।
--আসুন....
আরেকটা রুমে নিয়ে গেল,,,,
--দেখেই বুঝতে পারলাম এখানে অফিসের মেয়েরা নামায পড়বে।
তাই বললাম,
ম্যাডাম এখানে নিশ্চয় সব মেয়েরা নামায পড়বে?
--হুমম,
এবার অহনার রুমে নিয়ে আসল।
এসে টেবিলের পর থেকে বড় একটা ওয়ালমেটের মতো একটা নামিয়ে আমাকে দেখতে বললো যে সবকিছু ঠিক আছে কি না?
--আমিতো দেখেই অবাক।
.
অবাকের কারণটা তো আপনাদের জানার ইচ্ছা হচ্ছে তাই না?
আসলে তেমন কিছুই না!
ওয়ালমেটে অফিসের নতুন কিছু নিয়ম কানুনের একটা ছক তৈরি করা।
কিন্তু আমার অবাক হওয়ার কারণটা হচ্ছে,
ছকটা সম্পূর্ণ ইসলামি শরীয়ত অনুযায়ী।
.
যার প্রথম নিয়মটা হলো,
(¤) অফিসের সকল কর্মচারীকে পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়তে হবে।
(¤) সুন্নাতি পোশাক পরিধান করার চেষ্টা করতে হবে।
কারণ সুন্নাতের আমল ছাড়া কিয়ামতের দিন হয়তো আল্লাহর রাসূল (সা) আমাদের জন্য সুপারিশ নাও করতে পারেন।
আর তাঁর সুপারিশ ছাড়া আমরা কেউই জান্নাতে যেতে পারবো না।
(¤) মেয়ে কর্মচারীদের যথাযথ পর্দা অবশ্যই করতে হবে।
কারণ একটা পর্দাহীন নারীর জন্য গোটা জাতিই জাহান্নামে যেতে পারে।
.
এরকম আরো সুন্দর সুন্দর কিছু নিয়ম কানুন।
.
ছকটা পড়তে পড়তে হঠাত্ অহনার দিকে চোখ চলে গিয়েছিল।
আসলে "শয়তান আমাদের প্রকাশ্য শত্রু।"(আল কুরআন)
.
তাকাতেই দেখলাম,
অহনা আমার দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিল।
তারমানে অহনা আমার দিকে তাকিয়ে ছিল।
কি জানি এখনো তার মাথায় কি ঘুরছে।
.
আস্তে আস্তে অফিসে সব কর্মচারীরা চলে এসেছে।
এসব নিয়ম কানুন দেখে অনেকেই খুশি হয়েছে আবার অনেকেই অখুশি হয়েছে।
যা তাদের চোখ দেখে বোঝা যাচ্ছে।
আসলে একটা সমাজে ভালো মন্দ মিলিয়েই মানুষ বাস করে।
প্রত্যেক জায়গায় ভালো মন্দ আছে।
.
এই নিয়ম কানুন গুলো অনেকে মেনে নিতে না পারলেও যখন দেখল সবার বেতনে ১ হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হবে।
তখন সবাই নিরবতা অবলম্বন করে সব নিয়ম কানুন মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিল।
.
অফিস এখন অনেকটা ইসলামি প্রতিষ্ঠানের মতোই হয়ে গেছে।
প্রায় প্রত্যেকেই নামাজী,
পর্দা করে চলা সব মিলিয়ে অফিস খুবই সুন্দর চলছে।
.
এদিকে আন্টি অনেকবারই বলছে যে তাদের মতামতের ব্যাপারে আমার সিদ্ধান্ত কি?
কয়েকদিন একথা ওকথা বলে কাটিয়ে দিয়েছি।
.
কিন্তু আজকে সকালে নাস্তার সময় আঙ্কেল বলল,
--জুবায়ের!
আমাদের সিদ্ধান্তটা কি তোমার পছন্দ হয়নি?
যদি সেরকম কিছু হয়ে থাকে তাহলে আমাকে তোমার বাবার মতো ভেবে সবকিছু খুলে বলতে পারো।
--কি যে বলেন আঙ্কেল?
আম্মা-আব্বা ও যখন আপনাদের সাথে একমত তখন আমার আর কি বলার থাকে?
আপনারা যা ভালো মনে করেন তাই করেন।
.
অফিসে বসে ভাবছি আন্টি আঙ্কেলের প্রস্তাবটা কি আমার জন্য যথার্থ?
ধূরর,
যথার্থ হবে নাই বা কেন?
আম্মা-আব্বাও তো তাদের সাথে একমত।
.
এসব ভাবছি,
কিছুক্ষণ পর অহনার রুমে ডাক পড়ল।
ডেস্কের উপর আমার নামে একটা চিঠি এসেছে সেটা হাতে নিয়ে অহনার রুমের দিকে পা বাড়ালাম.....
.
অহনার টেবিলের সামনের চেয়ারটায় মাথা নিঁচু করে বসে আছি।
.
--অহনা বলল,
কিছু কথা বলার ছিল,
--জি বলুন
--আপনি তো একদিন বলেছিলেন,
আপনি কেমন মেয়ে বিয়ে করবেন।
.
আমি আপনার বলা সেরকমই একজন হতে চেষ্টা করেছি এবং করছি।
শুধু আপনার বলা একটা কথার মতো হতে পারিনি।
.
আমি কুরআন সহীহভাবে পড়তে জানি না।
আপনাকে আমি আমার খাওয়ানোর দায়িত্ব নিতে বলবনা,
আমার খরচের দায়িত্ব নিতে বলবনা।
.
শুধু আপনার কাছে একটাই অনুরোধ আপনি আমাকে কুরআন শরীফ পড়ানোর দায়িত্বটা নিন।
.
এরকম প্রস্তাবে কি বলা উচিত তা আমার অজানা।
.
শুধু আমার হাতের চিঠিটা অহনার দিকে এগিয়ে দিলাম.....
.
(চলবে)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ