"রোমান্টিক বর"
.
part:-'6'
.
.
--আমার হাতে থাকা চিঠির খামটা অহনার কাছে দিয়ে দিলাম।
.
অহনা সম্ভবতঃ কিছুক্ষণ চিঠিটার বহিরাবণটা দেখল।
তারপর আমাকে উদ্দেশ্য করে বলল,
--চিঠিটা কিসের?
--(উত্তর দিলাম না)
--আবার বলল,
চিঠিটা কিসের?
--(নীরবতা অবলম্বন করে আছি)
.
আমার কোন উত্তর না পেয়ে অহনা খামটা খুলতে লাগল,,,,
খামটা খুলে চিঠিটা পড়তে লাগল আর আমি ঘামতে লাগলাম।
.
চিঠিটা পড়ার পর অহনা করুণ কন্ঠে আমাকে জিঙ্গেস করল,
--এসব কি?
--আসলে ম্যাডাম আমি একটা সরকারি অফিসের চাকরির জন্য এপ্লাই করেছিলাম।
সেখানে একসপ্তাহ পর থেকে আমাকে জয়েন করতে বলা হয়েছে।
২টা চাকরি তো আর একত্রে করা যায় না।
তাই রিজাইন দিচ্ছি।
আপনার হাতে যে কাগজটা ঐটা আমার রিজাইন পেপার।
--আপনার কোন অসুবিধা থাকলে আমাকে জানাতে পারেন,
তাই বলে চাকরিটা ছেড়ে দিবেন?
--আসলে ম্যাডাম সরকারি চাকরির অফার কে ক্যান্সেল করবে বলুন তো?
কোন গাধাও তো মনে হয় এমনটা করবে না।
আর আমিতো সৃষ্টির সেরা জীব।
.
অহনার অবস্থাটা বোঝার চেষ্টা করতে চাচ্ছে মনটা।
কিন্তু সবসময় মনের আকাঙ্খাকে প্রাধান্য দেয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
অহনাকে উদ্দেশ্য করে বললাম,
--ভালো থাকবেন আর আমার জন্য পারলে একটু দোয়া করবেন।
--(চুপ করে আছে)
.
আমি চেয়ার থেকে উঠে বাইরে বের হওয়ার জন্য প্রস্তুত হলাম।
শেষবারের মতো চোখটা চলে গেল সামনের মানবীটার দিকে।
কিন্তু মানবীটা মাথানিঁচু করে বসে আছে।
আর কিছু ভাবতে চায় না।
বের হয়ে যাচ্ছি অহনার রুম থেকে,
বের হয়ে যাচ্ছি অফিসটা থেকে,
বের হয়ে যাচ্ছি চিরচেনা সেই ডেস্কটা থেকে।
.
বেরিয়ে গেলাম....
.
রাতে শুয়ে আছি।
কিছু একটা ভাবনা পর্যায়বৃত্ত গতির মতো ঘুরছে।
মনে হচ্ছে কিছু পেতে গিয়ে কিছু হারিয়ে ফেলছি।
.
কিন্তু মাঝেমধ্যে হারিয়ে ফেলার হিসাবটা নিজের মধ্যে লুকিয়ে রাখতে হয়।
তা নাহলে জগত্ সংসারে চলা ব্যাপক মুশকিল।
.
দুইদিন ধরে বাসাতেই আছি।
.
আজ শুক্রবার সকালে নাহিদ স্যার(প্রাক্তন বস) ফোন দিয়ে তার বাসায় যেতে বলেছেন।
.
আমি জানি কি কারণে আমাকে যেতে বলেছে?
তবুও গুরুজন বলে কথা।
গুরুজনদের শ্রদ্ধা করা অবশ্যই কর্তব্য।
সাথে তাদের কন্ঠ নিঃসৃত বাণিকেও।
.
সকাল ১০টা,,,,
নাহিদ স্যারের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে কলিংবেল টিপছি।
কিন্তু কে জানে কেউ দরজা খুলছে না কেন?
.
অবশেষে দরজা খুলল,
অহনা দরজা খুলে দাঁড়িয়ে আছে।
কিন্তু পর্দার সহিতই আছে।
.
গম্ভীর কন্ঠে সালাম দিয়ে ভেতরে আসতে বলল আর বলল,
--ফজরের নামায পড়ে একটু ঘুমিয়েছিলাম।
তাই দরজা খুলতে একটু লেট হয়েছে।
--সালামের উত্তর দিয়ে বললাম,
ঠিক আছে।
স্যার কোথায়?
--আপনি একটু অপেক্ষা করুন আব্বু আসছে।
.
বসে আছি।
কিছুক্ষণ পর নাহিদ স্যার আসতেই দাঁড়িয়ে তাকে সালাম দিয়ে কেমন আছেন জিঙ্গাসা করলাম?
--সালামের উত্তর দিয়ে স্যার আমাকে বলল,
দাঁড়িয়ে আছো কেন?
বসো!
--জি স্যার
কিছুক্ষণ পর...
--জুবায়ের তুমি নাকি আমাদের কোম্পানির চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছ?
কোন অসুবিধা হয়েছে নাকি?
--না স্যার তেমন কিছুই না।
সরকারি অফিসে একটা চাকরি পেয়েছি তো তাই আরকি!
--আচ্ছা তোমার যেখানে ইচ্ছা সেখানে চাকরি করতে পারো।
তাতে কোন সমস্যা নেই।
কিন্তু তুমিতো জানোই অহনা তোমাকে কতটা পছন্দ করে?
শুধুমাত্র তোমার জন্য আর আল্লাহর রহমতে মেয়েটা এখন আমার পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ে,
বিভিন্ন ইসলামি বই নিয়েই সারাক্ষণ পড়ে থাকে,
মধ্যরাত্রে ঘুম থেকে উঠে এই ঠান্ডার ভেতর তাহাজ্জুদ পড়ে।
আমি আমার মেয়েটাকে তোমার হাতে তুলে দিতে চাই।
--স্যার আপনি দেখেন,
অহনা ম্যাডাম আমার থেকেও অনেক ভালো মানুষ পাবে।
কেননা হাদিসে এসেছে,
"সবুরের ফল মিষ্টি হয়।"
--কিন্তু অহনা যে তোমাকেই চায়।
সে তোমার থেকেও কোন ভালো ছেলেকে আশা করেনা।
তুমি তাহলে এভাবে প্রত্যাখ্যান করছো কেন?
.
কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে,
--স্যার আমার জন্য আম্মু-আব্বু আর আমি যে বাসায় থাকি সেই আঙ্কেল আর আন্টি মেয়ে পছন্দ করে ফেলেছেন।
আর আমি তাদের অবাধ্য হতে চাইনা।
আমি তাদের মতামতকেই সমর্থন করি।
এ কারণে আপনার প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারছি না।
আপনি দয়া করে আমাকে মাফ করে দেবেন।
.
স্যার চুপ করে আছে। আমিও চুপ করে আছি।
.
কিছুক্ষণ পর মনে হলো পিছনথেকে কারা যেন এদিকে আসছে।
পিছনে ঘুরতেই থ হয়ে গেলাম।
আম্মু-আব্বু,আঙ্কেল আর আন্টি দাঁড়িয়ে আছেন।
--আমি দাঁড়িয়ে তাদের উদ্দেশ্য করে সালাম দিয়ে বললাম,
আম্মু-আব্বু আপনারা কখন আসলেন?
আর আঙ্কেল-আন্টি আপনারা আব্বু-আম্মু সবাই এখানে কেন?
--বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করতে আসলাম(আম্মু)
--হ্যাঁ?
কি বলেন?
আজকেই বিয়ে হবে।(আন্টি)
--আরে আম্মু,আন্টি আপনারা কি বলছেন?
আমার বিয়ে তো ঠিক হয়ে আছে আপনাদের পছন্দের মেয়ের সাথে।
--হ্যাঁ,
ঠিকই তো তোমার বিয়ে তো ঠিকই হয়ে আছে অহনার সাথে।
অহনাই তো আমাদের পছন্দ করা মেয়ে।
আর আজকেই শুভ কাজটা সেরে ফেলা দরকার।
কি বলেন?
সবাই(আন্টি)
--হ্যাঁ,
আজকেই (মা,বাবা,আঙ্কেল,নাহিদ স্যার সবাই একসাথে)
--আমি এনাদের কথার আগা গোড়া কিছুই বুঝতে পারছি না।
কিসব বলছে এনারা?
ঘোর কাটাতে পারছি না।
.
দেখতে দেখতে জুম্মার নামাযের পর পাশের একটি মসজিদেই আমার আর অহনার বিয়ে হয়ে গেল।
.
বিয়ে পড়ানোর পর খুরমা খেঁজুর ছড়ানো হলো মসজিদের মুসল্লিদের মধ্যে।
খুবিই সুন্দর একটা দৃশ্য।
.
অতঃপর মাগরিবের পর আমরা অহনাকে নিয়ে একটা গাড়িতে করে একটা বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালাম।
.
বাড়িটা দেখেই বুঝতে পারছি এখন থেকে আমার এখানেই সংসার বাঁধতে হবে।
.
অতঃপর আর কি বাড়িটা ঘুরে দেখলাম।
তারপর আন্টি একটা রুমে যেতে বলল,
রুমে দরজা খুল ঢুকতেই চমকে উঠলাম।
কারণ,
সারা বাড়ির থেকেও রুমটা অনেক সুন্দর।
.
সুন্দর করে সাজানো।
একদমই বাসর ঘরের মতো দেখাচ্ছে।
আর রুমটার আরো শোভা বর্ধন করেছে খাটের উপরে থাকা রমনি টা।
.
আমি ঘরে ঢুকতেই দরজা আটকে গেল।
রমনিটা খাট থেকে নেমে আমার দিকে আসছে,,,
কাছে আসতেই আমি তাকে পাশ কাঁটিয়ে খাটের সামনে দাঁড়িয়ে সব ফুল ছিঁড়ে ফেললাম।
ঘর একেবারে লন্ডভন্ড করে ফেললাম....
.
অহনা হয়তো কিছু বুঝে উঠতে পারছে না।
--এতো সহজ নাকি?
আমি বাসর ঘর মানবো না.
.
(চলবে)
"রোমান্টিক বর"
.
শেষ পার্ট
.
অহনাকে পাশ কাটিয়ে খাটের পাশে গিয়ে খাট সাজানো সব ফুল ছিঁড়ে ফেলে দিলাম আর ঘরটা লন্ডভন্ড করছি আর বলছি
--নাহ্,
কোন বাসর হবে না
.
অহনা চুপচাপ দাঁড়িয়ে আমার কান্ড দেখছে।
এবার আমার দিকে এসে আমাকে পেছন থেকে টান দিয়ে নিজের দিকে ঘুরিয়ে চোখ বরাবর চোখ রেখে রাগি ভাষায় বলল,
-বিয়ে করার সময় মনে ছিল না?
এখন ঘরটা লন্ডভন্ড করছেন কেন?
-আমি কি বিয়ে করেছি নাকি?
আপনিইতো আমাকে ফাঁদে ফেলেছেন।
আমার মা বাবাকে ভুল ভাল বুঝিয়ে তাদের রাজি করিয়ে আমাকে বিয়ে করেছেন
-বিশ্বাস করুণ আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানতাম না(করুণ কন্ঠে)
--চোর কখনো চুরি করে বলেনা যে আমি চুরি করেছি।
আপনিও ঠিক তেমনই
-আচ্ছা আপনি এখন আমাকে কি করতে চাচ্ছেন?
-এখন রাতের বেলায় তো আর বের করে দিতে পারবোনা!
যান খাঁটে গিয়ে শুয়ে পড়েন
.
অহনা কিছুক্ষণ ছলছল নয়নে আমার দিকে তাকিয়ে থেকে খাঁটের ওপর এক কোণায় গিয়ে শুয়ে পড়ল
.
আমি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে একটা চেয়ারে বসে পড়লাম
.
আধঘন্টা হয়ে গেছে..
মাঝেমধ্যে ফুঁফিয়ে ফুঁফিয়ে কান্নার আওয়াজ আসছে।
অহনা কাঁদছে আর সম্ভবতঃ ভাবছে কি মনে করে যে এই বদ ছেলেটাকে ভালবাসতে গিয়েছিলাম।
এখন তার মাশুল দিতে হচ্ছে
.
আমি ১ঘন্টার মতো চেয়ারে বসে থেকে উঠে কান্নাবতী মেয়েটার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম
.
কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে অহনা বলে একটা ডাক দিলাম।
কান্নার আওয়াজটা বন্ধ হয়ে গেল
.
আবার ডাক দিলাম,
-অহনা.
কোন সাড়াশব্দ নেই
.
কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললাম,
-অহনা তোমার পাশে ৩টা আরশোলা(উত্তেজিত কন্ঠে)
.
এক লাফ দিয়ে কান্নাবতী খাঁট থেকে নেমে আরশোলা আরশোলা বলে চিল্লাচিল্লি শুরু করে দিল।
চিল্লাতে চিল্লাতে এসে আমার উপর পড়ল
.
দুজনেই ধপাস করে পড়ে গেলাম।
কান্নাবতীর ছলছলে চোখ আমার চোখের প্রতিদ্বন্দী হিসেবে রানীত্ব করছে।
কিছুক্ষণ চোখে চোখে কথা বলে অহনা নিজেকে সামলে নিয়ে উঠে গেল।
অহনা আমার উপর থেকে উঠে মাথা নিঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
আমিও উঠে দাঁড়ালাম
.
কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে হাঁটুর উপর ভর দিয়ে বসে পড়লাম।
ফ্লোরে পরে থাকা একগুচ্ছ ফুল মুঠে নিয়ে অহনার দিকে বাড়িয়ে দিলাম।
এখনো অহনা মাথানিঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
অর্থাত্ আমার দিকে খেয়াল করছে না
.
বলতে লাগলাম,
-সেদিন তোমাকে তুমিতে নামার অধিকার আমি দেয়নি।
কারণ,
সেদিন তোমার সাথে কোনরকম প্রেমের সম্পর্কে জড়ালে সেটা অবৈধ হতো।
তবে আজ আমি তোমাকে তুমিতে নামার অধিকারটা দিতে চায়।
কারণ আজ আমাদের সম্পর্কটা বৈধ
.
আমাকে ভালবেসে আমার পাশে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শুধু তোমাকেই চাই।
আমাকে তোমার কুরআন শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্বটা কি দিবে?
.
এতকিছু বলার পর অহনা মাথাটা উঁচু করে আমার দিকে বিস্ময়ের দৃষ্টিতে তাকাল
.
কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে আবার অন্যদিকে তাকাল।
এর অর্থ তিনি আমার কথা বুঝতে পেরেছেন এবং আমার উপর অভিমান করেছেন।
তাই তার অভিমান ভাঙাতে হবে
.
আমি উঠে তার মুখটা আমার দিকে ঘুরাতেই চোখটা পাকিয়ে ফেলল আর বলল,
-এখন এসব কি হচ্ছে?
-প্রেম করা হচ্ছে
-মানে?
তাহলে তখন সব ঘর লন্ড ভন্ড করলেন কেন?
-বাসর হবে না তাই
-মানে?
আপনি সবকিছু খোলাসা করে বলেন তো?
-তুমিতো বিয়ের আগেই আমার সাথে প্রেম করতে চাচ্ছিলে!
আর আমিও কখনো কারোর সাথে সম্পর্কে জড়ায়নি যাতে সব প্রেম আমার স্ত্রীর সাথে করতে পারি।
তাই আগে চুটিয়ে প্রেম করবো তারপর কোন একদিন বাসর করে নিলেই হলো।
এখন আমার বাহুডোরে আসো তো!
লজ্জা পেয়ে অহনা আমার বাহুডোরে চলে আসল
.
কিছুক্ষণ ঐভাবে থাকার পর আমি অহনাকে উদ্দেশ্য করে বললাম,
-মিথ্যাবাদী,চোগলখোর,খারাপ মেয়ে
অহনা আমার বাহুডোর থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে চোখ বড় বড় করে বলল,
-কিইই?
-আল্লাহ এদের থেকে তোমাকে দূরে রাখুক,
"আমিন"
.
সত্যমিশ্রিত কৌতুক ইসলামে জায়েয আছে।
"দলিল: হযরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত,
তিনি বলেন,একদা সাহাবায়ে কেরাম আরয করলেন,হে আল্লাহর রাসূল!আপনি তো আমাদের সাথে কৌতুক করেন।রাসূল (সা) বলেন,
আমি কৌতুকপূর্ণ কথার মাঝে সত্য ব্যতীত অন্য কোন কথা বলিনা"
.
ঘটনার আকস্মিকতায় অহনা থতমত খেয়ে কিছুক্ষণ ভেবে বলল,
-ছুম্মা আমিন.
তারপর মুখটা অন্যদিকে ঘুরাল।
-অভিমান করেছ?
-হুমম
-কেনো?
-শুনেছিলাম ভালবাসার রাগ অভিমান না থাকলে ভালবাসা বৃদ্ধি পায় না
.
অতঃপর অহনাকে দুই হাত দিয়ে পাঁজাকোলা করে তুললাম।
এদিকে অহনা বলেই যাচ্ছে,
-আমাকে ছাড়ুন বলছি,
আমাকে নামিয়ে দিন,
দিন.
ছেড়ে দিতে গেলাম।
অহনা তারাতারি গলা জড়িয়ে ধরল।
-কি ব্যাপার?
ছেড়েই তো দিচ্ছিলাম।
আবার গলা জড়িয়ে ধরলে কেন?
-চুপ
আমি ঐভাবে আর কোন কথা না বলে তাকে নিয়ে ছাদে চলে আসলাম
.
আজ চাঁদটা বেশি বড় না।
তবুও সমস্যা নেই।
কারণ,
আমার পাশেই তো চাঁদের থেকেও সুন্দর একটা মাটির পরী বসেছে
.
দুজনে পাশাপাশি বসে আছি।
কারো মুখে কোন কথা নেই
.
একটুপর বললাম,
-অহনা তুমি কি জানো?
তুমি চাঁদের থেকেও সুন্দর।
-কি যে বলো?
কে বলেছে?
-স্বয়ং আল্লাহ নিজেই বলেছেন।
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
নিশ্চয় আমি মানুষকে সবথেকে সুন্দর করে সৃষ্টি করেছি(সূরা তীন)
.
অহনা ইতিমধ্যে আমার কাঁধে মাথা রেখে দিয়েছে।
বলতে লাগল,
-জুবায়ের আমি যে এতোদিন কত গুনাহ করলাম তার হিসাব নেই।
আল্লাহ আমাকে কোনদিন মাফ করবে কি?
-অবশ্যই করবে।
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন,
তোমার আল্লাহর রহমত থেকে নৈরাশ্য হয়ো না।
নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের সব গুনাহ মাফ করে দেবেন।নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল এবং পরম দয়ালু(সূরা যুখরুফ)
.
অহনা আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল,
-আলহামদুলি-আলহামদুলিল্লাহ।
আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি এজন্য যে তিনি আমাকে এরকম একটা বর দিয়েছে
-শুধু মুখে বললে হবে?
কাজে দেখাতে হবে.
চলো
-কোথায়?
-তাহাজ্জুদ পড়তে
-আচ্ছা চলো
.
আজ শুক্রবার।
অফিস বন্ধ,
তাই ভাবলাম ফজরের নামায পড়ে ঘুমাবো।
কিন্তু তা আর হলো কোথায়?
এখন বউ বলছে শীতের সকালে হাঁটতে যেতে।
অতঃপর বউয়ের আবদার রক্ষা করার জন্য শীতের সকালে বউকে নিয়ে হাঁটতে লাগলাম।
কিছুদূর যাওয়ার পর বলতে লাগলাম,
"কনকনে ঠান্ডায় শীতের সকালে।
হাত দুটি ধরে কুয়াশার ভেতরে।
জড়াবো তোমায় ভালবাসার চাঁদরে"
-বাব্বাহ,
আমার বরটা তো হেব্বি রোমান্টিক
-দেখতে হবে না বরটা কার?
-হুম সেটাই তো
.
এভাবে চলতে থাকবেই
.
'সমাপ্ত'
আপনাকে অনকে ধন্যবাদ গল্পটা পড়ার জন্য।
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ