āĻŦৃāĻšāϏ্āĻĒāϤিāĻŦাāϰ, ā§¨ā§Ž āϏেāĻĒ্āϟেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

2760

নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করে যাচ্ছিলাম। আমার প্রাইভেট কারের স্পিড তখন ঘন্টায় ৮০ কিঃ মিঃ। হাতে সময় খুবই কম। রিয়া ফোন করে যেতে বললো। কি নাকি জরুরী কথা আছে। হঠাৎ খেয়াল করলাম রাস্তার পাশে একটি বয়স্ক লোক পড়ে আছে। আমি গাড়িটা ব্রেক করলাম। তাকিয়ে দেখলাম লোকটির মাথা দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। হয়তো এক্সিডেন্ট করেছে। আমি গাড়ি থেকে নেমে লোকটির কাছে গেলাম। গিয়ে দেখি লোকটি জ্ঞান হারিয়েছে। আমি দ্রুত তাকে কোলে করে আমার গাড়ির পিছনের সিটে শুইয়ে দিলাম। এবং হসপিটালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম।
.
এদিকে কয়েকবার মোবাইলে রিং আসলো, আমি আগেই টের পেয়েছিলাম ওটা রিয়ার কল। আবার রিং আসলো, আমি রিসিভ করলাম। রিয়া বললো..
--কোথায় তুমি? ফোন ধরোনা কেন.?
--সরি..! আজ তোমার সাথে দেখা করতে পারবোনা.!
--কেন, তুমি বাসা থেকে বের হওয়ার সময় বললে যে, বের হচ্ছি..!
--হ্যা বলেছিলাম তো..! কিন্তু একটা সমস্যা হয়ে গেছে। এখন কথা বলতে পারছিনা। পরে বলবো। এখন রাখছি..!
আমি কলটা কেটে দিলাম। হসপিটাল ছিল বেশ দুরে। আমি আল্লাহ্ আল্লাহ্ করতেছিলাম, যেন কোনো জ্যামের মধ্যে না পড়ি..!
.
অবশেষে ভালোয় ভালোয় হসপিটালে পৌছে গেলাম। লোকটিকে ইমার্জেন্সি এডমিট করলাম। লোকটির প্রচুর রক্তক্ষরন হয়েছে। ডক্টর বললো.. "রক্ত দরকার। এখানে 'ও' পজেটিভ রক্ত নেই।"
ও পজেটিভ রক্ত ছিলো রিয়ার। আমি মোবাইলটা বের করে দেখি কয়েকটা এসএমএস এসে জমা হয়েছে। সবগুলোই রিয়ার পাঠানো। পড়ার সময় ছিলোনা। রিয়াকে ফোন দিলাম। বললাম.. "দ্রুত হসপিটালে চলে আসো। একটি লোককে তোমার রক্ত দিতে হবে। তার রক্তের গ্রুপ আর তোমার রক্তের গ্রুপ এক। লোকটি গুরুতর আহত।"
রিয়া রাজি হলোনা। উল্টো আমাকে কিছু কথা শুনিয়ে দিলো.... "কেন আমার সাথে দেখা করলানা..! আমার চেয়ে তোমার কাছে অন্য মানুষ আপন হয়ে গেল নাকি..!"
আমি ফোনটা রেখে দিলাম। প্রচন্ড রাগ হচ্ছিলো তখন। কাছে থাকলে দুই গালে কষে দুইটা চড় বসিয়ে দিতাম..!
.
আমার একটা বন্ধু ছিলো, সাদিফ। ওর রক্তের গ্রুপ ও পজেটিভ। ওকে ফোন দিলাম, ও চলে আসলো, এবং রক্ত দিলো। ডক্টর বললো... "জ্ঞান ফিরতে একটু সময় লাগবে।"
.
এবার আমি লোকটির পরিচয় জানার চেষ্টা করলাম। ভাগ্যিস লোকটির প্যান্টের পকেটে ফোনটা ছিল..! তখন রাত নয়টা দশটা বাজে। লোকটির মোবাইলে দেখলাম অনেক গুলো মিসকল উঠে আছে। যে নাম্বারটা থেকে বেশি বার কল আসছে তার নাম রিপন। আমি ঐ রিপনের নাম্বারেই লোকটির মোবাইল দিয়ে ফোন দিলাম। সাথে সাথেই রিসিভ করে বললো.. "বাবা তুমি কোথায়..?"
আমি বললাম.. "আমি নাহিদ, এই নাম্বারটি যার, তিনি এক্সিডেন্ট করেছেন।"
তারপর হসপিটালের নাম বললাম।
.
লোকটার স্বজনেরা না আসা পর্যন্ত আমি আর সাদিফ অপেক্ষা করতে লাগলাম। ভাবলাম ততক্ষনে রিয়ার পাঠানো মেসেজগুলো বসে বসে পড়ি।
মেসেজগুলো পড়ে ভীষন কষ্ট পেলাম। কারন, রিয়া আমাকে অবিশ্বাস করেছে। আমি নাকি ইচ্ছে করেই ওর সাথে দেখা করিনি। আমি নাকি অন্য মেয়ের সাথে আড্ডা মারতে গেছি..!
ছিঃ! এত ছোট মনের মানুষ রিয়া। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম রিয়ার সাথে আর কোনো যোগাযোগ রাখবোনা। যে আমাকে বিশ্বাস করেনা। তাকে আমি ভালবাসিনা।
.
একটা কাকতালিয় ঘটনা ঘটে গেল..!
ঘন্টা খানিক পরে লোকটির স্বজনেরা পৌছে গেল। আমি অবাক হলাম তাদের সাথে রিয়াকে দেখে! রিয়া বাবা বাবা করে কাঁদছে! তাহলে কি লোকটি রিয়ার বাবা..! হ্যা, আমার ধারনাই ঠিক। লোকটি রিয়ার বাবা। রিয়া আমাকে দেখে এগিয়ে আসে। আমি বললাম... "দেখলে তো আল্লাহ্ তোমাকে কি শিক্ষা দিয়ে দিলেন, তুমি যাকে রক্ত দাওনি সে তোমারই জন্মদাতা পিতা। আর আমাকে তুমি অবিশ্বাস করেছো..!"
.
রিয়া কোনো কথা বলতে পারলোনা। আমি সবার কাছ থেকে বিদায় নিলাম। সবাই আমাকে কৃতজ্ঞতা জানালো। রাত বারোটার দিকে বাসায় ফিরে আসলাম। তারপরেরদিন সকালে রিয়াকে ফোন দিলাম। আমি বললাম.. "আমি তোমার বাবার খবর নিতে ফোন দিয়েছি, অন্য কিছুনা!"
রিয়া জানায় রাতেই ওর বাবার জ্ঞান ফিরেছে। অবস্থা উন্নতির দিকে। রিয়া অনেক কাঁন্নাকাটি করে, এবং ভুল শিকার করে আমার কাছে ক্ষমা চায়। আমি ওকে প্রথম ও শেষবারের মত ক্ষমা করে দিই। কারন ভালবাসি তো..!
.
সেই থেকে রিয়া একেবারে বদলে যায়। কারন সে কঠিন একটা শিক্ষা পেয়েছে জীবনে। এখন আমি যা বলি, সেটাই করে। এখন আমার খুব ভক্ত সে। সে এখন মানুষের উপকার করতে পিছন ফিরে তাকায়না। কারো 'ও' পজেটিভ রক্তের প্রয়োজন হলে রিয়া আগে দৌড়ে যায় রক্ত দিতে। রিয়ার প্রতি আমার ভালবাসা আরও কয়েকগুন বেড়ে গেছে। সত্যিই অনেক ভালবাসি ওকে..!
.
আসলেই একটি কঠিন শিক্ষা, বদলে দেয় জীবনটাকে..!
•••
"একটি কঠিন শিক্ষা"
.
✍Ramzan Khondaker (স্লিপলেস বার্ড)
.
(রিপোষ্ট)

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ