āĻŦৃāĻšāϏ্āĻĒāϤিāĻŦাāϰ, ā§¨ā§Ž āϏেāĻĒ্āϟেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

2743

"বৃষ্টি পাগলীর সংসার"
.
প্রিয়ন্তীর বধূবরণ সাজ বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হয়ে যায়।
বিয়ের শাড়িটাও চেইঞ্জ করে ফেলে। অসাধারণ রাতে
সাধারণ পোশাকেই কেটে যায় আমাদের বাসর।
এটা সেটা নানান গল্প গুজবে রাত পার করে দেই। এক
পর্যায়ে প্রিয়ন্তী হঠাৎ সেই পুরনো প্রশ্ন করে বসে..
.
--- আচ্ছা, আপনিতো বললেন না.. আপনার বৃষ্টিতে
ভিজতে কেমন লাগে?
এবার মুখের উপর বলে দেই..
--- জঘন্য!
--- কিহ??!!
--- একদম জঘন্য ফালতু!
প্রিয়ন্তী নাক চোখ ফুলিয়ে তাকিয়ে আছে আমার
দিকে। দেখে মনে হচ্ছে তাকে আমি এই মাত্র তালাক
নামা পড়িয়ে শুনালাম! মুখটা বাংলার পাঁচের মতন করে
রেখেছে। কিছুক্ষণ মন খারাপ থেকে বলে উঠে..
--- তাহলে একটা কথা ভাল করে শুনে রাখেন... এই বৃষ্টিতে
ভেজা নিয়ে আমাকে কোন বাধা দেওয়া যাবে না।
আমিও একটু ভেবেচিন্তে উত্তর দেই...
--- আচ্ছা দেবনা, তবে...
--- তবে কি??
--- তবে একটা শর্ত আছে। আপনি যতবার বৃষ্টিতে ভিজবেন
ততবার আমাকে খিচুড়ি রান্না করে খাওয়াতে হবে!
কপালটা কুঁচকে খুব সরলভাবেই রাজি হয়ে যায়.. "আচ্ছা
ডান"!
.
মনে মনে হেসে উঠি, এমনেতেই তাকে ভিজতে
দিতাম,সে ভিজবে তাতে আমার কি?! ফাও ফাও শর্ত
দিয়ে সুবিধা লুটে নিলাম।
.
এভাবে প্রতিবার যখন আকাশের কোণে মেঘ জমতো আর
প্রতিটাবার চোখের সামনে ধোয়া উঠা খিচুড়ি ভেসে
আসতো, সাথে কখনো ডিমভুনা, কখনো মাংস, কখনওবা
সরষে মাছের তীব্র সুগন্ধ।
প্রিয়ন্তীর এই নিয়ে কোনো বিরক্তি ছিল না। তাকে
বৃষ্টিতে ভিজতে দিলেই সে মহাখুশি। প্রতিবার ভেজা
চুল নেড়েচেড়ে রান্নাঘরে ঢুকে যেত। যার কপালে এমন
রাঁধুনি বউ জোটে.. জীবনে তার আর কি লাগে!
.
~~~~~~~
কুয়াশার চাদরে ঘেরা কনকনে শীতের রাতে
এই সংসারে প্রথম অতিথির আগমন ঘটে। কোল জুরে
হেসেখেলে বেড়ায় আমাদের প্রথম রাজকন্যা।
নাম রাখা নিয়ে শুরু হয়ে যায় নানান গবেষণা। প্রিয়ন্তী
যে কয়টা নাম খুঁজে বের করে.. সবগুলোই বৃষ্টি রিলেটেড।
বৃষ্টি পাগলীর মেয়ে বলে কথা... কিছুই বলার নেই, কবি
নিরব! অবশেষে সেখান থেকে বেছে বেছে নাম রেখে
দেই "মেঘা"।
মেঘার জন্মের এক বছর পূর্ত্তি হতে না হতেই আমাদের
বাসা পরিবর্তন করতে হয়। সরকারী চাকুরীর বদলি,
ভূমিকম্পের মতন, কোনো পূর্বাভাষ ছাড়াই নোটিশ চলে
আসে। ফেলে দেয় ঢাকা থেকে অনেক দূরবর্তী একটি
জেলা পিরোজপুরে।
.
সরকারী কোয়ার্টারে বিশাল মাপের একটি বাসা পেয়ে
যাই। তিনটি মানুষের জন্য এত বড় বাসা অনেকটাই ভুতুড়ে
টাইপের। সেখানে রাতের পরিবেশটা একদম নিশ্চুপ
নিরিবিলি। একরুমে বসে থাকলে অন্য রুমগুলোর দিকে
তাকাতেই গা ছমছমিয়ে উঠে।। মা বাবাকে অনেক
টানাটানি করেছিলাম আমাদের সাথে এসে থাকতে।
বাপদাদার পুরনো বাসাটি ছেড়ে আসতে কেউ ই রাজী
হননি।
.
~~~~~~
অফিসে থাকা অবস্থায় সারাক্ষণ প্রিয়ন্তীর সাথে
ফোনেফোনে খুনসুটি ঝগড়া লেগেই থাকতো। তবুও দিন
শেষে বাসায় ফিরলে কাউরো কোনো অবজেকশন
থাকতনা। দুজনের চাহনিতে এমন ভাব ফুটে উঠতো.. যেন
সারাদিন কিছুই হয়নি!
.
মেয়েটা সত্যিই অদ্ভুত। নেই বড় কোনো চাহিদা, নেই বড়
কোনো আবদার, তার সখ বলতে একটাই, আর সেটা হচ্ছে...
বৃষ্টি বৃষ্টি আর বৃষ্টি!
একদিন, মাঝরাতে প্রিয়ন্তীর ডাকাডাকি শুরু হয়ে যায়।
তখন মাত্রই আমার চোখদুটি ঘুমে লেগে এসেছে। কাঁচা
ঘুমটা দিলো ভাঙিয়ে।
মাথায় তার ভূতচেপে বসে.. এই মাঝরাতে সে বৃষ্টিতে
ভিজবে!
এই বাসায় আসার পর এখন আর শশুড় শাশুড়িকে নিয়ে ভয়
নেই। তাই রাত বিরাতেও তার বৃষ্টি স্নানের ইচ্ছে জেগে
ওঠে। আমি ঘুম ঘুম চোখ খুলে বলে যাচ্ছি...
--- প্রিয়ন্তী তোমার কি মাথা খারাপ হল নাকি! এইটা
কোনো বৃষ্টিতে ভেজার টাইম?
--- ওমা, আমি কি তোমাকে ভিজতে বলেছি নাকি? আমি
ভিজবো। কত্তদিন পর রাতে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। এখন খুব
বেশি রাত হয়নি.. প্লিজ চলনা...
--- তুমি ভিজবা তুমি যাও, আমাকে টানতেছো কেন?
ঘুমতে দাও তো..
--- একা একা ভয় লাগে।
--- এখনতো খুব বেশি রাত হয় নি, তো কিসের ভয়?
--- তুমি যাবা না?
--- না যাবো না
--- তুমি যাবা না??
--- প্রিয়ন্তী রাত এখন দুইটা বাজে!
--- তুমি যাবা না.....???
এবার আর কিছুই করার নেই, ভদ্র ছেলের মত উঠে যেতে
বাধ্য হই। ছাদের সিঁড়িকোঠায় বসে বসে বৌ পাহারা
দেই। আর ঘুমঘুম চোখ নিয়ে প্রিয়ন্তীর বৃষ্টিস্নান দেখি।
এরপর ঘুম... সে তো ইতিহাস!
বিয়েরপর পুরুষদের ঘুম নষ্ট করাটা বোধহয় নারীদের
নৈতিক অধিকার.. হোক সেটা বৃষ্টি ঝগড়া কিংবা
ভালবাসার ছলে।
এভাবেই প্রিয়ন্তী মেঘাকে নিয়ে হাসিমুখেই কেটে যেত
প্রতিটাদিন.. প্রতিটারাত..
.
~~~~~~
সময়ের সাথে সাথে সেই হাসিমুখটা একটু একটু করে
বিলীন হতে থাকে। আশ্চর্যজনক হলেও.. চাচ্চুর তামাশা
করে বলা কথাটি হুটকরে বাস্তবের সাথে মিলে যায়!
আমি সত্যিই প্রিয়ন্তীকে সামলে রাখতে পারিনি।
সত্যিই পারিনি! ঠিক সেই ছাতাটির মতন দমকা বাতাসে
প্রিয়ন্তীও একদিন হাত ফসকে ছুটে যায়....
.
হঠাৎ প্রিয়ন্তী নিখোঁজ! সেদিন বিকেলে, বাচ্চাকে
কাজের মেয়ের কাছে রেখে প্রিয়ন্তী বাহিরে যায়,
কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে। প্রতি মাসের
শেষের কটাদিন অফিসে প্রচন্ড চাপ থাকে। এই সময়টা
টুকিটাকি যা লাগে প্রিয়ন্তীই কিনে নিয়ে আসে। কিন্তু
সেদিন সন্ধ্যে ঘনিয়ে রাত নেমে আসে, প্রিয়ন্তী আর
বাসায় ফেরেনি। তছনছ করে পুরোএলাকা খুঁজে বেড়াই,
প্রিয়ন্তীর কোনো খবর নেই! বাধ্য হয়ে থানায় চলে যাই,
জিডি করি। ওসির করা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে
গিয়ে হঠাৎ মনে পড়ে.. বেশ কিছুদিন যাবত প্রিয়ন্তীকে
কিছুটা চিন্তিত দেখাতো। অন্ধকার রুমে চুপচাপ একমনে
বসে রইত। আর প্রায়ই আমাকে জিজ্ঞেস করতো "এখান
থেকে আমরা কবে বদলি হবো?"
সমস্যার কথা জিজ্ঞেস করতেই শুধু এইটুক বলতো
এখানকার পরিবেশটা তার ভাল লাগে না। একেতো
যায়গাটা ঢাকা থেকে অনেক দূর তার উপর পরিবেশটাও
তার কাছে ভাল লাগেনি। আমি অবশ্য তেমন গুরুত্ব
দেইনি। ভেবেছি নতুন পরিবেশে টুকটাক এমন লাগাটাই
স্বাভাবিক।
.
ইদানীং আরেকটা বিষয় খেয়াল করেছি... তার নাম্বারে
একেকজন কল দিয়ে উত্যক্ত করতো। উল্টোপাল্টা অচেনা
কল আসা নম্বর গুলি ব্ল্যাকলিস্টে দিয়ে রাখতাম।
প্রতিটা মেয়ের নম্বরেই কম বেশি অচেনা কল আসে।
এটাও নতুন কোনো ইস্যু নাহ। তবেকি এসবের সাথে
নিখোঁজের কোনো যোগসূত্র আছে? আমি জানি না,
আমি কিচ্ছু জানি নাহ।
.
দিনেরপর দিন পার হয়ে যায়, প্রিয়ন্তীর কোন খোজ
মেলেনা। দেড় বছর বয়সী মেঘা সারাদিন তার আম্মুকে
খুঁজে বেড়ায়। কাঁদতে কাঁদতে কখনো বাবার কোলে
ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুম ভেঙে অস্ফুট কন্ঠে জিজ্ঞেস করে
বসে.. "বাবা, আম্মু কোথায়??" বাবাও জানে না তার আম্মু
আজ কোথায়। কেমন আছে... কিভাবে আছে.. বেঁচে আছে
নাকি মরে গেছে! হারিয়ে যাওয়া মানুষের আর্তনাদ
কেবল ভুক্তভোগীরাই জানে। সারাদিন সবার সান্ত্বনা
শুনে কেটে গেলেও রাতটা কোনোভাবেই সান্ত্বনা মানে
না। সেকেন্ডে সেকেন্ডে মিনিটে মিনিটে নতুন নতুন ভয়
এসে মাথায় চেপে বসে। নিজ সত্তার কাছে একটা প্রশ্নই
ঘুরেফিরে আসে.... জীবিত? নাকি মৃত??!
.
Shahadat Hossain ( জাগ্রত প্রতিধ্বনি )

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ