গল্পঃ তিথি (হবু স্ত্রী)
,
লেখায়ঃ Bahadur mia shehab (স্বার্থপর)
সারা জীবন পড়ছ লুঙ্গী, টাই পড় নাই, আমারে দেখি বিয়াই গলায় লাগায় টাই, আপনের বেল নাই বেল নাই বেল নাই রে,
তিথি মুখে এমন গান শুনে মেজাস টা চরকির মত ঘুরতে শুরু করল। আজ চাকরির প্রথম ইন্টারর্ভিউ, তাই টাই সহ কারে স্যূট বুট পরে রওনা হইছি, কিন্তু ফাজিলের হাড্ডি আমার জানে জিগার, জানু কম শত্রু বেশি আমাকে দেখেই মশকারা শুরু করল। মনটায় কইতাছে আজকাই বিয়া করে রুটিন করে তিন বেলা যত্নসহকারে পিডাই। বিয়ার আগে কিছু বললে যদি কেস খেয়ে যাই তাই চেপে গেলাম।
,
-এই যে ভদ্রশয়তান কোথায় যাচ্ছেন?
-আপনার বিয়ার লাইসেন্স আনতে।
-আমার না আপনার?
-দুই জনের।
-তাই নাকি , আচ্ছা শুনি আপনাকে বিয়া করবে কোন বলদি?
-দেশে আপনার উপর কোন বড় বলদি আছে বলে মনে হয় না।
-আমি বিয়ে করব আপনাকে।
-হ্যা আর তার লাইসেন্স আনতেই বের হইছি।
-আইচ্ছা যান যান। এমন লাইসেন্স কত জন আনতে গেলো আর আনবে।
-ওগো সুন্দরি আমি তো বিয়ে করবই তাও তোমাকে, একদিন আমার বাচ্চা মা ডাক তোমাকে শুনতেই হবে।
-হু
,
৩২০ ডিগ্রি এঙ্গেলে মুখটা বাকিয়ে সামনে থাকা চুল গুলি পিছনে ছুরে মেরে চলে। আমিও অপেক্ষা না করে দ্রুত স্থান পরিত্যাগ করলাম।
,
বসে আছি ভাইবার জন্য। আর বসে বসে অফিসটার চার দিকে চোখ বুলিয়ে নিলাম। হঠাৎ চোখ আটকে গেলো অফিসের রিসিপশনে থাকা মেয়েটার দিকে। আমার দিকে তাকিয়ে তো মেয়েটা রিতি মত মুচকি মুচকি মৌসুমি মার্কা হাসি দিচ্ছে, বেচারির হাসি দেখে একটা কাহিনী মনে পড়ে গেলো। গ্রামে আগে বান্দরের খেলা হত। সেখানে বান্দরের মালিক বান্দরকে যা করতে বলত তাই করিয়ে দেখাত। বান্দরের মালিক যখন বান্দর কে বলত
-একটা মৌসুমি হাসি দাও তো
তখন বান্দরটা চার দিকে একবার তাকিয়ে ফুস করে হেসে দিয়ে আবার নিছের দিকে তাকিয়ে থাকত।
ঠিক সেই ভাবে রিসিপশনের মেয়েটাই করছে। তার ভাব সাব ভাল না দেখে ওই দিকে তাকানো বন্ধ করে দিলাম। চোখ বন্ধ করে বসে থাকলাম।
-এই যে মিষ্টার ছাদে কি হ্যা।
-ঘোড়ার ঘাস কাটতে আসলাম।
-তা তো বুঝতেই পারছি, লুঙ্গি পড়া দেখে, তা আপনার গামচা টা কি হারিয়ে গেছে।
-সেটা আপনাকে বলব কেনো।
-আচ্ছা বলতে হবে না আপনি ছাদ থেকে এবার যান।
-ছাদ টা কি আপনার।
- না আমার হবু শশুরের। কোন সমস্যা।
মাইয়ায় কয় কি আমি তো এক বাপের এক মাত্র সুযোগ্য সনামধন্য পোলা। তাহলে আমার বড় ভাই বা ছোট ভাই আসল কই থেকে আর এই মেয়েই বা কার বউ। নাকি আব্বা জানে আরেকটা। ধুর কি ছাইপাঁশ ভাবা শুরু করলাম।
-এই যে মিঃ লুঙ্গী ম্যান এখনো যান নি যে। আর বিকালে কখনো ছাদে আসবেন না। এই সময় টা ছাদ আমার, তাই আশা নিষেধ।
কোন কথা না বলে চুপ চাপ নেমে গেলাম।
,
সন্ধ্যা হঠাৎ বাসায় মেয়ের কন্ঠ শুনতে পেয়ে রুম থেকে বেরিয়ে এসে দেখি সেই মেয়েটা আম্মুকে বিকালের ঘটনা সব খুলে বলতাছে আর আম্মু হাসতে হাসতে একাকার অবস্থা। সেই মূহুর্তে সেখানে গিয়ে আমি উপস্থিত হলাম। মেয়েটা আমাকে দেখে হতভম্ব হয়ে গেছে।
-আম্মু এত হাসছো কেনো।
-দেখ না বাবা এই পাগলী মেয়ে আজ কি করছে।
-কি করছে শুনি?
-আজ নাকি কোন ছেলেকে বলছে।
-আন্টি চুপ করেন না।
-তুই চুপ কর তো।
শুন বাবা আজ নাকি কোন ছেলেকে বলছে ও আমাদের হবু বউ।
-আন্টি আমি কিন্তু চলে যাব।
-আরে চলে যাবেন কেনো, এটা তো আপনার শ্বশুর বাড়ি থাকেন।
-আন্টি ও ওনাকে চুপ থাকতে বলবেন।
-তারপর শুন না বাবা কি হইছে। ছেলেটা নাকি ভয় পেয়ে চলে আসছে।
-ভয় পায় কি নিশ্চয় ছেলেটা। পাগলদের থেকে নিশ্চয় দুরত্ব বজায় রাখে তাই চলে আসছে।
- ওই যে মিষ্টার লুঙ্গী ম্যান এক দম পাগল কইবেন না।
-হা হা হা পাগলকে পাগল না বলে কি ছাগল বলব। ও হ্যা আপনি তো ছাগল না ছাগি।
- ওই থামবি তোরা।
-আন্টি এই ফাজিল ছেলে এখানে কি করে।
-ওহ মা তিথি ওর সাথে তো তোর পরিচয় করিয়ে দেই নি। ওই তো আমার সোনার টুকরা শিহাব গতকাল রাজশাহী থেকে বাসায় আসছে। আর শিহাব ও হল আমার হবু বউমা তিথি।
-তা আপনার কোন ছেলের বউ শুনি।
-কেনো রে তোর বউ।
-এই পাগল কে আমি বিয়া করব।
-এই যে একদম পাগল বলবেন না।
-দেখ শিহাব আমার বউমা কে একদম পাগল বলবি না।
,
রাগে সেখান থেকে রুমে চলে আসলাম। রুম থেকে ওনাদের হাসির শব্দ স্পষ্ট শুনা যাচ্ছে। কি মেয়েরে বাবা লাজ লজ্জা নাই নাকি একবারে। তবে মেয়েটা দেখতে বেশ ভালই।
-এই যে মিষ্টার কি ভাবছেন?
- হ্যা কই কিছু না তো।
-কিছু তো ভাবছেন। নিশ্চয় আমাকে নিয়ে।
এই পাগল মাইয়া বলে কি। বাসায় এক পাগল এখানে আরেক জন। কি মুশকিলে পড়লাম রে বাবা। যদি চাকরিটা হয়ে যায় তাহলে উনার অত্যাচার সহ্য করতে হবে আর বাসায় গেলে ওই পাগলীর। দুই জন্যর অত্যাচারের মানচিত্র মনে মনে আঁকতে আঁকতে ভাইবার জন্য ডাক পড়ে গেলো
-এই যে স্যার এখন আপনার পালা। বেষ্ট অফ লাক
-ধন্যবাদ
,
অনুমতি নিয়া ভাইবা রুমে প্রবেশ করলাম। এক জন শিশু বাচ্চাকে সাত জন বুইড়া মানুষ খুব যত্নসহ কারে জিজ্ঞাসা করা শুরু করল। আমিও যা পারি উত্তর দিতে শুরু করলাম। এক পর্যায়ে আবার ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করতে বলল। আমিও ভদ্র ছেলের মত ওয়েটিং রুমের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। যাওয়ার পথে রিসিপশনের সেই মেয়ের দেখা। দেখেও না দেখার ভনিতা করে পাশ কাটিয়ে গেলাম
ওয়েটিং রুমে বসে, ফোন হাতে নিতেই তিথির ফোন।
-এই যে মিষ্টার লুঙ্গী ম্যান লাইসেন্স টা কি হল।
-এই যে শুন আরেকবার লুঙ্গী ম্যান বললে কিন্তু এই অফিসের রিসিপশনের মেয়েটাকে সঙ্গে করে বাসায় নিয়ে আসব।
-আসেন দেখি আপনার সাহস কত। আর শুনেন আমার হবু জামাইকে যা খুশি বলব তাতে আপনার কি হ্যা।
-আমার ও যা খুশি করব।
-ভুলেও না তাহলে আর বাসায় যায়গা হবে না। শুনেন তারাতারি বাসায় ফিরবেন।
-পারব না।
-কি বললেন আপনি।
-না কিছু না। আচ্ছা আসব।
-আর শুনেন ওই মেয়ের দিকে একবার তাকালে চোখ তুলে নিব।
-আচ্ছা দেখব নি।
,
কি ভয়ংকর দজ্জাল মেয়েরে বাবা। বিয়ার পর যে কি হবে আল্লাহ জানে। শুনে ছিলাম এমন দজ্জাল টাইপের মেয়ে গুলা নাকি বিয়ের পর স্বামীকে খুব বেশি টেককেয়ার করে। কি জানি বাপু জানি না। সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে রিসিপশনের সেই মেয়েটা হাতে কফি নিয়ে আমার সামনে হাজির।
-এই যে স্যার নেন কফি খান নিজ হাতে খুব যত্ন সহকারে বানিয়ে আনলাম।
-ধন্যবাদ কিন্তু। কফি টাতো মেশিন থেকে নিয়ে আসলেন
-ওই একই কথা। আপনার নাম কি?
-শিহাব। আপনার।
-উপমা।
,
দুই জন কথা বলার পর উপমা চলে গেলো তার কাজে আমি অপেক্ষা করে, অবশেষে বাসায় চলে আসলাম। বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে ফোনে একটা ম্যাসেজ পেলাম। দ্রুত ছাদে যেতে হবে। দেরি না করে চলে গেলাম।
-এই যে মহারাণী ডাকা হয়েছে কেনো।
-কিছু হল কি।
-কি হবে?
-দুষ্টুমি করবা নাতো। জানো কতটা টেনশনে ছিলাম।
-আহারে।
-আবার
-বল না চাকরি টা কি হল।
-নিশ্চুপ
-কি হল বলনা
-মাথাটা নিচু করে রাখলাম।
-কি হল কিছু তো বল।
-আবার চুপ।
-রেগে যাচ্ছি কিন্তু।
-চুপ
-শিহাব (কেদেই দিলো)
-আরে কান্না করছো কেনো? আজ রাতেই আম্মু বলছে তোমার বাসায় গিয়ে কথা বলবে আর আমার চাকরিটা ফাইনালি হয়েই গেছে।
-সত্যি?
-হ্যা সত্যি। (চোখের পানি মুছে দিয়ে)
,
আর লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেম করতে হবেনা। কয়দিন পরেই তোমাদের বিয়ে
পিছনে তাকিয়ে দেখি তিথির আব্বু আম্মু আর আমার আম্মু তাকিয়ে আছে। তিথি খুব দ্রুত আমার বুক থেকে নিজেকে সরিয়ে নিল।
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ