āĻŦৃāĻšāϏ্āĻĒāϤিāĻŦাāϰ, ā§¨ā§Ž āϏেāĻĒ্āϟেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

2686

***কবিতারা যেন কৃষ্ণচূড়ার রং মেখেছে****
.
বড্ড লাজুক আর ভীতু ছেলে ছিলো লিমন।জোরে একটা শব্দ শুনলেও তার পিলে চমকে যেতো।
বয়স বাড়লেও মনটা তার ছোট্টই রয়ে গিয়েছিলো।কবিতার মতো নরম ছিলো তার হৃদয়খানি । ফুল পাখি আর কবিতার বসত ছিলো তার মনের ঘরে। সারাদিন ফুল পাখি আর প্রকৃতির সাথেই বেলা কেটে যেতো তার।মায়ের হাতে খাবার খেতো আর গল্প করতো ।মাকে বড়ো ভালবাসতো সে।কবিতা লিখতো আর ছবি আকঁতো।পড়াশোনায়ও ভাল ছিল।কিন্তু কখনো আড্ডা , হৈ হুল্লোর পছন্দ করতো না। মিছিল দেখলে ভয়ে মায়ের কাছে ছুটে যেতো। কৃষ্ণচূড়া আর রক্তলাল গোলাপ তার খুব পছন্দের।
.
১৯৪৭ সালে ভাগ হলো ভারত পাকিস্থান। তখন মুসলিম লীগের শীর্ষ নেতারা বলতে থাকেন হবু পাকিস্থানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু। এ সময় অনেকে পত্রিকায় প্রবন্ধ লিখে এর প্রতিবাদ করতে থাকে। ১৯৪৮ সালে পাকিস্থান সরকার ঘোষনা করে 'উর্দুই হবে পাকিস্থানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা' । এর পরপরই বিক্ষোভ, প্রতিবাদ, আন্দোলন তীব্র হয় বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে।
.
উচ্চ শিক্ষার তাগিদে মায়ের কোল ছেড়ে লিমন তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।মিছিল মিটিংয়ে ভয় পাওয়া ছেলেটি প্রায়ই চোখের সামনে দিয়ে মিছিল চলে যেতে দেখে।দৌড়ে রুমে চলে আসে দরজা বন্ধ করে রাখে।কিন্তু এ যে ভাষার ইজ্জত রক্ষার আন্দোলন! নিজেকে বুঝাতে পারেনা সে ।একদিকে ভয়, অন্যদিকে মায়ের ভাষাকে রক্ষার দায়িত্ব।
.
লিমন কবিতা লিখে বন্ধুদের দেয়।ভাষা নিয়ে লেখা।পত্রিকায় ছাপে, দেয়ালে দেয়ালে পোষ্টার হয় তার লেখা। বন্ধুরা সবাই জানে মিছিল দেখলে ভয়ে মুর্ছা যায় লিমন তাই তাকে কেউ মিছিলে ডাকে না।
লিমনদের হলের পাশে একটা কৃষ্ণচূড়ার গাছ আছে , সেটাতে রক্তলাল ফুল ফুটে আছে। সেদিকে তাকিয়ে লিমন কবিতা বুনে আর ভাবে যদি সে আর বাংলাতে লিখতে না পারে? যদি তার মুখের ভাষা কেড়ে নেয়া হয়? না না এ কিভাবে সম্ভব! এর চেয়ে মরে গিয়ে ভাষাকে রক্ষা করাও ভালো। বাংলাতে যদি লিখতে , পড়তে, কথা বলতে নাই পারলাম তাহলে তো কবিতায় প্রাণ থাকবে না।হঠাৎই লিমন টের পেল মিছিল দেখে সে আর ভয় পাচ্ছে না। সকলের মতো তারও ইচ্ছে হলো নিজের মুখের ভাষাকে আগলিয়ে রাখতে।কত আদরের, কত ভালবাসার এই ভাষা! কিছুতেই এই ভাষাকে হারাতে পারবেনা সে।
.
সেদিন ছিল ফেব্রুয়ারীর ২০ তারিখ ,১৯৫২ সাল।সন্ধ্যায় ঘোষনা হলো মিটিং মিছিল করা যাবে না, ১৪৪ ধারা জারী হলো।.
.
লিমনের বন্ধু তপু দৌড়ে এলো--
---কি রে খবর শুনেছিস?
---কি খবর?
---সরকার খুব খারাপ কাজ করেছে।১৪৪ ধারা জারী করেছে।মিছিল মিটিং করা যাবে না।
-- তাহলে কি আমরা আমাদের মায়ের ভাষাকে ফিরে পাবোনা? আমি কি বাংলাতে লিখতে পারবোনা? কথা বলতে পারবো না? এ অন্যায় কিছুতেই মেনে নিতে পারবোনা। কৃষ্ণচূড়ার ঐ লাল রং আমায় বলছে ,বাংলাতে তার কথা লিখতে।তপু চল আমিও যাব।
----তুই যাবি?
--- হ্যা যাব।না হলে আমার কলম লিখবে কিভাবে?বাংলা ভাষাকে যদি স্বীকৃতি দেয়া না হয় তাহলে আমার কবিতারা প্রানহীন হয়ে যাবে , মরে যাবে ।তাই জীবন দিয়ে হলেও মায়ের ভাষাকে রক্ষা করতে হবে।
--- কিন্তু...
--- কোন কিন্তু নয়।মায়ের জন্য জীবন দিতে আমার কোন ভয় নেই।বাংলা মায়ের জন্য আমি আমার জীবন উৎসর্গ করলাম।
.
মিছিল দেখে ভয় পাওয়া ছেলেটি সেদিন সারারাত মিছিল মিটিং করে কাটালো।না খাওয়া না ঘুম, মাতৃভাষার অধিকার আদায়ের জন্য ছেলেটি যেন সব ভয় ভুলে গেলো।পরদিন ছিলো ৮ই ফাল্গুন,১৩৫৮।প্রকৃতিতে নতুন সাজ।গাছে গাছে নতুন পাতা,ফুল কিন্তু চারদিকের পরিবেশ ছিলো থমথমে যেন হঠাৎ ঝড়ের পূর্বাভাস।
ছাত্ররা সাধারন ধর্মঘট পালন করছিলো, দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা সিদ্ধান্ত নিল নুরুল আমিন সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা হবে।তখনই মিছিল বের হলো ।মিছিলের সামনে বুক টান করে প্লেকার্ড হাতে স্লোগান দিচ্ছিলো লিমন "তোমার ভাষা আমার ভাষা, বাংলা ভাষা বাংলা ভাষা" , " ভাষা মোদের একটাই, বাংলাই বাংলাই" "মোদের গর্ব মোদের আশা, আমাদেরই বাংলা ভাষা" পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে লিমনরাও ইট পাটকেল ছোড়ে।
.
বিকেল ৪টার দিকে মিছিলটি মেডিকেল কলেজের সামনে আসলে গুলি চালায় পুলিশ।হাতে ধরা প্লেকার্ডটি শক্ত করে ধরে রেখে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে লিমন।তার মুখ দিয়ে তখনোও স্লোগান বের হচ্ছিলো "রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই"
কৃষ্ণচূড়ার রংয়ে রাঙ্গা হয়ে গেলো রাজপথ। আরও কয়েকজন শহীদ হলো । পুলিশ এসে লাশগুলো টেনে ভ্যানে তুলে নিয়ে গেলো।.
.
খবরটা দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়লো ।২২ তারিখ নিহতদের জন্য প্রার্থনা করা হলো, মিছিল বের করলো জনতা আবারও এখানেও পুলিশ গুলি করে মারলো কয়েকজনকে। শহীদ বরকতকে যেখানে গুলি করা হয় সেখানে শহীদ মিণার তৈরী করলো ছাত্ররা।
২৪ তারিখে অনেকের সাথে গ্রেফতার হলো তপু
।১মাস পরে তপু মুক্তি পেলো
.
অনেক দিন পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে নিজের রুমে গেলো তপু।বুকের মধ্যে তার হাহাকার করে উঠলো।লিমনের বিছানাটা শূন্য পড়ে আছে।এখানে সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য কাগজের টুকরো।যত্ন করে একটা করে কাগজ পড়তে লাগলো তপু।২০ তারিখ লেখা কাগজটাতে ছিলো---
.
আমি বাংলায় কথা বলি-
আমি বাংলায় হাসি খেলি-
বাংলা আমার হৃদয়ের স্পন্দন -
বাংলার তরে করি আজ ক্রন্দন-
বাংলাতে দেখি স্বপ্ন আমি -
বাংলা ভাষা অনেক দামী।
.
জীবন দিয়ে রাখবো মোরা
বাংলা মায়ের মান,
কথা বলবোনা অন্য ভাষায়
থাকতে মোদের প্রান।
.
হৃদয়ের তটে এঁকে নিলাম
বাংলা মায়ের নাম,
ভাষার জন্য জীবন দেব
আজকে শপথ নিলাম।।।
.
তপুর চোখ দিয় অঝোরে অশ্রু ঝরতে লাগলো।আস্তে আস্তে লিমনের সব লেখাগুলি একত্রিত করে যত্ন করে রেখে দিলো সে।
.
লিমনের জীবন দেয়া সার্থক হলো।১৯৫৪ সালে বাংলা জাতীয় ভাষা হিসাবে স্বীকৃতি পেলো।১৯৫৬ সালে সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলাকে পাকিস্থানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার সম্মান দেয়া হলো।
.
ভাষার অধিকার আদায় হলো রক্ত দিয়ে।লিমনের কথা মনে পড়লে তপুর খুব কষ্ট লাগে।কিন্তু এর মধ্যেও তপুর সেদিন অন্যরকম ভালো লাগছিলো ।লিমনের সব কবিতাগুলি নিয়ে একটা বই বের হয়েছে।বইয়ের মধ্যে যেন লিমনের ছোঁয়া খুঁজে পেল তপু। বাংলার মা, মাটি, মাতৃভাষাকে যে এত ভালবাসতে পারে তার জন্য পরম শ্রদ্ধায় মন ভরে যায়।" লিমন তুই মরিস নি বন্ধু! ভাষার জন্য যারা জীবন দিতে পারে তারা কখনোও মরতে পারে না" তুই আমাদের গর্ব ।দেখিস একদিন এই বাংলা ভাষা সারা বিশ্বে আপন মহিমায় প্রজ্বলিত হবে।বাংলা ছড়িয়ে পড়বে বিশ্ব মাঝে।
তোদের নিয়ে আমরা গর্ববোধ করবো। আর সামনে আমাদের প্রতি যখনই অন্যায় অবিচার করা হবে জীবন দিয়ে হলেও তার প্রতিবাদ করবো।মাতৃভাষা , মাতৃভূমির প্রতি কোন জুলুম আর মেনে নেব না।
প্রথম কবিতাটা পড়ছিলো তপু, অজান্তেই অশ্রুরা ফোঁটা ফোঁটা হয়ে বইয়ের উপর পড়তে লাগলো--
"আমি যদি কৃষ্ণচূড়ার রং হতাম কোন বিষন্ন বিকেলে,
কোন উদাসীনির ক্লান্ত দু চোখ মেলে........।

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ