āĻŽāĻ™্āĻ—āϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ŧ āϏেāĻĒ্āϟেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

2563

_শেষ বেলার কাব্য
.
.
আমি রিয়াকে গত চার বছর ধরে ভালোবাসি। রিয়াও আমাকে ভালোবাসে। কিন্তু আমাদের দু’জনের মধ্যে কোনো ভালোবাসার সম্পর্ক নেই। না থাকার কারণটা রিয়া নিজেই। আমি যখন মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই। তখন আমার বাবার ঢাকাতে পোস্টিং হয়।  পরিবারের সকল কাজ মা আর বাবা করেন তাই পুরো পরিবারসহ ঢাকাতে আসতে হলো। রিয়াকে আমি প্রথম আমাদের কলেজে দেখেছি। পরে জানতে পারলাম রিয়ারা আমাদের পাশের বাসাতে থাকে। যেদিন আমি রিয়াকে প্রথম দেখেছি সেদিন থেকেই রিয়াকে আমার ভালো লাগতে শুরু করে। আস্তে আস্তে রিয়াকে আমি খুব ভালোবেসে ফেলি। কিন্তু আমার এই ভালোবাসার কথা আমি দুইটা বছর নিজের মনের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছি। ভালোবাসা লুকানোরও একটা বিষেশ কারণ আছে।
.
মেয়ে হিসেবে রিয়া দেখতে অনেক সুন্দর। সব দিক দিয়ে রিয়া পরিপূর্ণ, কোনো দিক দিয়ে তার কোনো কমতি নেই। আমাদের দেশে প্রচলিত নিয়ম যেটা সুন্দরী মেয়েদের পিছে ছেলেদের লাইন থাকেই। যেকোনো ছেলে  রিয়ার প্রেমে পড়তে পারে এটা অতি স্বাভাবিক ব্যাপার কারণ রিয়া ছিলো অসম্ভব সৌন্দর্যের অধিকারিণী। কলেজে কিছুদিন যাওয়ার পর একটি ছেলে তাকে ভালোবাসি বলে প্রপোজ করেছিলো। আর রিঢা ছেলেটাকে যা নয় তাই বলে অপমান করলো। বলতে গেলে খুব বাজে ভাবে ছেলেটাকে ঝাড়লো। ছেলেটির অতিরিক্ত জোর করার কারণে একপর্যায়ে রুপের অহংকার দেখিয়ে ছেলেটার গালে দুইটা থাপ্পড় বসিয়ে দিলো। ছেলেটি সবার সামনে এমন অপমানিত হয়ে নিশ্চুপ হয়ে যায়। তখন আমি বুঝলাম সুন্দর মেয়েদের ভালোবাসাটা যেমন অপরাধ তেমনি তাদের ভালোবাসার কথাটা মুখ ফুটে বলাটা তার থেকেও জঘন্য অপরাধ।
.
তবুও আমি রিয়াকে প্রচন্ড রকমের ভালোবাসতাম। কারণ ওকে দেখলে আমি নিজের আবেগকে আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। রিয়াদের বাসা যেহেতু আমাদের বাসার পাশেই সে সুবাদে রিয়াকে প্রতিদিন কয়েকবার দেখা হতোই। মাঝে মাঝে বিকেল বেলায় ছাদে গেলেও রিয়াকে দেখতে পেতাম। যতক্ষণ না রিয়া আমায় দেখতে পেতো ততক্ষণ আমি রিয়াকে আপন মনে অপক দৃষ্টিতে পাগলের মতো দেখে যেতাম। আর যখনি রিয়ার সাথে আমার চোখাচোখি হতো তখন আমি এক সেকেন্ডের জন্যও ছাদে অবস্থান করতাম না। সোজা ভদ্রছেলের মতো নিচে চলে আসতাম। এভাবে আমি উচ্চ মাধ্যমিকও শেষ করে ফেলি।
.
আমাদের কলেজে অনার্স লেভেল পর্যন্ত না থাকার কারণে আমি একটা প্রাইভেট ভার্সিটি ভর্তি হয়ে যাই। ভার্সিটির পাশেই একটা বাসা নিই কয়েক বন্ধু মিলে। এখন আর রিয়াকে আমি সব সময় দেখতে পাবো না। তবে রিয়াকে দেখতে আমি প্রতি তিনদিন পর পর বাসায় আসতাম। কিন্তু আমার মনে মধ্যে ভয় হতো যাকে এতো ভালোবাসি যাকে আজও আমি বলিনি ভালোবাসি বা বলার সাহস পাইনি। সে যদি অন্য কারো সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে যায় তাহলে তো আমি রিয়াকে হারিয়ে ফেলবো। তখন তো আমার  ভালোবাসার কোনো মানে থাকবে না।
.
কয়েকদিন ধরে ভার্সিটিতেও যাচ্ছি না। মাথার মধ্যে শুধু ভালোবাসার কথাটা প্রকাশ করার চিন্তাটা ঘুরপাক খাচ্ছে। ইদানীং আমি রিয়ার সামনে একটু বেশি ঘুরাঘুরি করি যাতে সে আমার ভালোবাসার কথাটা বুঝতে পারে। কিন্তু না! রিয়া তো বুঝতে পারে না। ও হয়ত ভাবে বাসার পাশে তাই হয়ত আসা যাওয়ার পথে দেখা হয়ে যায়। কিন্তু আমার যে ভয়টা হচ্ছে একজনকে ভালোবাসি অথচ তাকে ভালোবাসার কথা মুখ ফুটে বলতেও পারবো না। সে অন্য কারো হয়ে যাবে।  এটা কিভাবে হতে পারে? নানা ভাবনা, জড়তাকে উপেক্ষা করে আমি রিয়াকে ভালোবাসার কথাটা বলবো বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম। সাহস করেই রিয়ার কাছাকাছি গিয়ে রিয়াকে ডাক দিলাম....
.
- এই যে রিয়া একটু শুনবে?
- জ্বি ভাইয়া বলেন।
- কেমন আছো?
- জ্বি ভাইয়া ভালো, আপনি কেমন আছেন?
- ভালো। তোমার সাথে কিছু কথা ছিলো?
- জ্বি বলেন কি কথা?
- না মানে, হয়েছে কি? আসলে তোমাকে কথাটা কিভাব বলবো আর তুমি কিভাবে নাও বুঝতেছি না।
- বুঝতে হবে না। কি বলতে চাচ্ছেন সহজভাবে বলে ফেলেন।
- ঠিক তা না, তুমি কিনা কি মনে করো...?
- দেখেন ভাইয়া,  কি বলতে চান সোজাসুজি বলে দেন। আমার কাজ আছে আমাকে যেতে হবে।
- না মানে,  তোমাকে আমার ভালো লাগে!
- ও, আপনাকেও আমার ভালো লাগে।
- আমি সেই ভালো লাগার কথা বলছি না। মানে আমার তোমাকে ভালো লাগে। আমি তোমাকে অন্যভাবে ভাবি। অন্যভাবে তোমাকে চাই।
- বুঝেছি।  আপনি ঠিক কি বলতে চাচ্ছেন?
- বুঝেছো? তাহলে তো ভালোই।
- আসলে ভাইয়া আমি তো কোনো সম্পর্কে যেতে পারবো না। কারণ আপনাদের মতো স্মার্ট ছেলেদের আমার খুব ভালো করে চেনা আছে। আপনাদের মতো ছেলেরা যে মেয়েকে ভালো লাগবে তারপর তার পিছে পিছে কিছুদিন ঘুরবে, প্রপোজ করবে, রিলেশন করবে, বিয়ে করবে বলে রুমডেটে ডাকবে। রুমডেট শেষ তারপর ভালোবাসাও শেষ।
- তুমি আমাকে অন্যসব ছেলেদের মতো ভাবছো কেন? আমি একদমই অন্যসব ছেলেদের মতো না।
- ও... আচ্ছা.. আচ্ছা। আপনি অন্যসব ছেলেদের মতো না? কিন্তু আমার কাছে সব ছেলেই সমান।
- তুমি আমাকে সব ছেলের সাথে মিলালে তো হবে না। আর আমার মাঝে অন্যসব ছেলেদের মতো কোনো বাজে অভ্যাসও নেই।
- উপরে একবারে খুব ভালো মানুষ সাঁজতেছেন। ভেতরে যে কুমতলব নিয়ে বসে আছেন তা কি কেউ দেখতে পাবে?
- তুমি মনে হয় কাউকে বিশ্বাস করো না।
- কাউকে না? শুধু ছেলেদের।
- সব ছেলে তো আর সমান হয় না।
- আমার কাছে সব ছেলেই সমান। আর আপনপর সাথে আমার কোন দিক দিয়ে যায় বলবেন? কোনো দিক দিয়ে যাবে না। কোথা থেকে এখানে উড়ে এসে জুড়ে বসেছেন। আপনি আমাকে প্লিজ বিরক্ত করবেন না।
- রিয়া আমি তোমাকে গত দু’বছর থেকে ভালোবাসি। কিন্তু বলার মতো সাহস হয়নি।
- দেখুন ভাইয়া দু’দিন না দু’বছর কিংবা গত ২০ বছর আমাকে ভালোবাসলেও তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আপনাকে সুন্দর করে বলছি আমাকে বিরক্ত করবেন না। আমার রাগ হলে আমি কি করবো আমি নিজেই জানি না।
.
তারপর আর রিয়াকে বলার মতো কিছু আমার মুখে আসছিলো না। চুপ হয়ে স্বস্থানে দাড়িয়ে রইলাম। রিয়া রিয়ার মতো চলে গেলো। তারপর সে যে ভার্সিটির বাসায় ঢুকেছি আর একটা বছর নিজ বাড়ির দরজায় পা রাখিনি। বাসায় না আসার এ কারণটাও রিয়াই ছিলো। আসলে রিয়ার সামনে আসার মতো সাহস আমার ছিলো না। ওকে দেখলে নিজের আবেগ সামলানো সম্ভব হবে না তাই আর ইচ্ছে থাকা সত্বেও আসিনি। ধীরে ধীরে অনার্স ১ম বর্ষ শেষ হয়ে গেল। বাসার সবাইকে খুব মনে পড়ছিলো। আর এতোদিনে হয়ত রিয়ার বিয়ে হয়ে সে শ্বশুর বাড়িতে স্বামীর সংসার করছে। এটা ভেবে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। কিছু সময় পর বাসায় এসে পৌঁছে গেলাম। বাসার অনেক কিছুই পাল্টে গেছে। সব পাল্টে গেলেও বাসার পাশে টং দোকানের কোনো কিছুই পাল্টেনি আগের মতোই আছে। বাসায় প্রবেশ করতেই আমি থ' হয়ে গেলাম। কারণ বাসায় ঢুকতেই দেখি রিয়া আমাদের বাসায়। সবার সাথে খুব হাসা হাসি করে কথা বলছে। আমার দেখার সাথে সাথে তার মুখের হাসি একদম বন্ধ হয়ে গেছে। নীল আকাশে হঠাৎ করে যেমন কালো মেঘ জমে গেলে প্রকৃতি নিরব নিরব লাগে তেমনি রিয়ার মুখেও নিরবতার ছোঁয়া ভেসে উঠলো।
.
- এ হলো আমার ভাইয়া যার কথা তোমায় বলতেছিলাম, একবছর পর বাড়ি এসেছে। আগে বইও ধরতো না আর এখন একবারে পাস্ট বয়। (রিনি)
- ওহ... (রিয়া)
- এতোদিন পর বুঝি আমাদের কথা মনে পড়েছে? (মা)
- মনে তো সব সময় পড়ে কিন্তু পড়ার চাপ ছিলো তো খুব কি করবো বলো...
- স্কুলে থাকার সময় তো সারাদিন টোঁ টোঁ করতি। আর এখন একবারে পড়ালেখার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়লি। খুব ভালো ছাত্র হয়ে গেলি। (রিনি)
- তুই চুপ থাক।
- আন্টি আমি এখন যাই পরে আবার আসবো। (রিয়া)
- আরেকটু থাকো চা খেয়ে যেও।
- না আন্টি প্রতিদিনই তো খাই। আজকে বাসায় একটু কাজ আছে।
- আচ্ছা ঠিক আছে।
.
রিয়া চলে গেল। আমিও ফ্রেশ হয়ে নিজের রুমে চলে আসলাম। তারপর রিনিকে ডাক দিলাম রিয়ার বিয়ে হয়েছে কিনা জানতে..
.
- রিনি শুন তো..
- কি বল.?
- বিকালে যে মেয়েটা আসছে ঐ মেয়েটা কে ছিলো রে..?
- কোন মেয়ে?
- আরে আমি আসার পর যে মেয়েটা আমাদের বাসায় ছিলো, যার সাথে খুব হাসাহাসি করতেছিলি।
- ও.. রিয়া আপু।
- রিয়া আপু..?
- হুম আমাদের পাশের বাসায় থাকে।
- বিয়ে হয়েছে?
- কেন? তোর পছন্দ হয়েছে নাকি?
- তোর মাথা ঠিক আছে?  মেয়েটাকে আমার পছন্দ হবে।
- তাহলে বিয়ে কথা জিজ্ঞেস করতেছিলি কেন?
- এমনিতে, তোর কি খবর তুমি নাকি কোন ছেলের সাথে প্রেম করিস সত্যি নাকি? বাবা জানে তো?
- তোর মাথা খারাপ হয়ে গেছে। আমি করবো প্রেম? বাবা শুনলে আমাকে আস্ত রাখবে?
- ওহ, বাবা আসবে কখন?
- আসার তো সময় হয়ে গেছে একটু পরই চলে আসবে।
.
আমি ভেবেছি রিয়ার হয়ত এতোদিনে বিয়ে হয়ে গেছে। কিন্তু রিনির কথা শুনে বুঝলাম আমার ধারণাটা ভুল। পরেরদিন বিকেলে বাসার ছাদে বসে আছি। হালকা কালো মেঘের আবছায়ায় আকাশটা ঢেকে আছে। বিকেলের স্নিগ্ধ বাতাস বয়ে যাচ্ছে বাতাসের গন্ধে প্রকৃতির সুন্দর গন্ধ আমার নাকে এসে লাগছে। অনেক দিন পর আসা বোরিং সময়টাও এমন পরিবেশ পেয়ে বোরিং লাগছে না। একটু পর কেন যেন মনে হলো রিয়া আমার আশেপাশে আছে? রিয়াদের বাসার ছাদের দিকে তাকাতেই দেখি রিয়া ছাদে। আমার দিকে তাকিয়ে আছে আমার চোখে চোখ পড়তে অন্য দিকে চোখ সরিয়ে নিলো। শত ভালো লাগা, ভালোবাসার পরও কিছু না ভেবে ছাদ থেকে নিজের রুমে চলে আসলাম। কেন জানি মনে হচ্ছে রিয়ার চোখে আমি ভালোবাসা দেখতে পেয়েছিসম। না হয়ত আমার দেখার ভুল। খুব ভালোবাসি তো তাই এমনটা মনে হচ্ছে।
.
মাথা থেকে সব চিন্তা ঝেরে ফেলে দিয়ে আবার ভার্সিটি ফিরে যাওয়ার চিন্তা মাথায় ঢুকালাম। আগামীকাল বিকালে চলে যাবো বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম। কিন্তু আমার কিছু ভালো লাগছে না। বাসার পাশে একটু উত্তরে একটি টং দোকান আছে বহুদিন ধরে সে দোকানের চা খাওয়া হচ্ছে না। মামাটা খুব ভালো চা বানাতে পারে। না খেয়ে গেলে আফসোস থেকে যাবে। চা খাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হলাম। বাসার গেট দিয়ে বের হওয়ার আগেই দেখছি রিয়া বাসায় ঢুকতেছে। আমি ওর সাথে কোনো কথা না বলে আপন মনে সামনের দিকে হাতটে লাগলাম। কিন্তু সামনে সামনে আমার পথ আটকে রিয়া দাড়িয়ে আছে।
.
- কি হয়েছে? সমস্যা কি আমার পথ আটকালে কেন?
- আপনার সাথে আমার কিছু কথা ছিলো? ছাদে চলুন।
- আমি এখন কোথাও যেতে পারবো না। আমি চা খেতে যাচ্ছি।
- চা পরে খেতে পারবেন। আমার সাথে ছাদে চলুন।
- কি কথা এখানেই বলো তাড়াতাড়ি। কোথাও যেতে পারবো না।
- এখানে না, ছাদে বলবো।
- আমি ছাদে যেতে পারবো না। যা বলার এখানেই বলো।
- না, এখানে বলা যাবে না। আপনি ছাদে চলুন।
- বললে বলো, না বললে নাই, আমি যাচ্ছি... কি ব্যাপার আমার পথ আটকাচ্ছো কেন?
- বলছি তো আমার সাথে ছাদে আসতে। না হলে আমিও যেতে দিচ্ছি না।
- কি মহা মসিবতে পড়লাম.. চলুন।
.
কিছু করতে না পেরে ওর কথা মতো ছাদে আসতে হলো।
.
- কি বলবে তাড়াতাড়ি বলো।
- কেমন আছেন?
- এটা বলার জন্য ছাদে এনেছো?
- বলতেছি তো, আগে বলেন কেমন আছেন?
- ভালো।
- এতোদিন বাড়িতে আসেননি কেন?
- তোমাকে আবার নতুন করে বলতে হবে কেন? সেদিন শুনো নাই কেন আসিনি?
- পড়ালেখার চাপ নাকি সেখানে জিএফ হয়েছে? জিএফকে ছেড়ে আসতে ইচ্ছে করে না।
- তোমার এসব ফালতু কথা শুনার কোনো সময় আমার নাই।
- আরে দাড়ান, কোথায় যাচ্ছেন? সত্যি কি সেখানে আপনার কোনো জিএফ আছে?
- থাকলেও তোমার কি?
- আমার কিছু না। কিন্তু আমার অনেক কিছু?
- মানে?
- মানেটা নিজেই বুঝে নিন।
.
কথাটা বলে রিয়া ছাদ থেবে চলে যায়। আমার বুঝতে বাকি রইলো না রিঢা যে আমাকে ভালোবাসে। ওর কোনো কথা চিন্তা না করে আমি পরের দিন বিকালে ভার্সিটির বাসায় চলে আসলাম। আসার সময় ওর সাথে দেখা হয়নি। ওর জন্য খুব টেনশন হচ্ছিলো তবুও মনকে শক্ত করে চলে আসতে বাধ্য হলাম। আবারও দীর্ঘ সাত-আট মাস বাসার কারো মুখ দেখেনি। মানে বাসায় যাইনি। নিজের মতো করে পড়াশুনা করে যাচ্ছি। রিয়ার কোনো চিন্তা মাথায় আসতো না। কিন্তু এই তো কয়েকদিন আগে হঠাৎ করে একটি অপরিচিত নাম্বার থেকে কল আসলো।
.
- হ্যালো। (আমি)
- আরিফ প্লিজ কল কেটে দিও না। তোমার সাথে একটু কথা বলার জন্য আমি কত চেষ্টা করেছি। ফেসবুকে তোমার নাম সার্চ দিয়ে তোকে খুঁজেছি কিন্তু কোনোভাবে তোমার সাথে কথা বলার কোনো সুযোগ হয়নি। বহুকষ্টে তোমার নাম্বারটা জোগাড় করেছি। প্লিজ তুমি কেটে দিও না।
- কিন্তু আপনি কে? আপনাকে তো আমি চিনি না।
- আমি রিয়া। প্লিজ তুমি কল কেটে দিও না।
- কি জন্য কল করেছো?
- আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি। বিশ্বাস করো। তুমি চলে যাওয়ার পর আমি কতো চেষ্টা করেছি তোমার সাথে যোগাযোগ করতে কিন্তু আমি ব্যর্থ হয়েছি। এখন বাবা অন্য কারো সাথে আমার বিয়ে দিতে চাচ্ছে কিন্তু আমি যে তোমায় ভালোবাসি তোমায় ছাড়া আর কাউকে নিজের জীবনে চাই না। তোমায় ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারবো না। তোমায় না ফেলে আমি মরে যাবো।
.
কল কেটে দিলাম। সাথে সাথে ফোনটা সুইচড অফ করে দিলাম। রিয়া হয়ত কল দিতে অনেক চেষ্টা করেছে কিন্তু আমার কাছে তো কল আসেনি। দু’দিন ফোন বন্ধ করে রেখেছিলাম। জানি না কিভাবে আমি এতো শক্ত মনের হয়ে গেলাম? রিঢা আমাকে ভালোবাসে আর আমি ওর সাথে এমন ব্যবহার করে যাচ্ছি। দু’দিন পর ফোন আবার চালু করলাম। ফোন চালুু করার ঘন্টা দুয়েক পর বাসা থেকে রিনি কল করেছে..
- কিরে কেমন আছিস? (আমি)
- ভাইয়া বাবা স্ট্রোক করেছে কালকে। তোকে অনেকবার কল করেছি কিন্তু বার বার তোর মোবাইল বন্ধ বলতেছিলো।
- কি??
.
বাবা স্ট্রোক করেছে কথা শুনে এক মিনিটও দাড়িয়ে থাকলাম না। বাসার উদ্দেশ্যে বের হয়ে গেলাম। ফোন রিনি খুব কান্না করতেছিলো। রিনির কান্না শুনে নিজের চেখের পানি চলে আসলো। বাসায় পৌঁছে বাসায় ঢুকতেই হঠাৎ কোথা থেকে আচমকা রিয়া এসে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করলো।  আমি খুব ভয় পেয়ে গেছি। মাথায় তখনও বাবার চিন্তা ঘুরতেছে। রিয়াকে ছাড়াতে চেষ্টা করলাম কিন্তু ও ছাড়ছে না। একটু পর রিনি, মা-বাবা আসলো সবই দেখছি ঠিকঠাক। শুধু রিয়া আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছে।
.
- বাবা তুমি ঠিক আছো তো? (আমি)
- আমি ঠিক আছি। আমার কিছু হয়েনি। হয়েছে যে তোকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছে তার। (বাবা)
.
বাবার কথা শুনে রিয়া আমাকে ছেড়ে দিলো। কিন্তু কান্না এখনো থামেনি।
.
- মানে? (আমি)
- মানে যাকে চারবছর ধরে ভালোবাসিস তার বাবা তার বিয়ে ঠিক করেছে অন্য জায়গায়। আর ও তোকে ছাড়া কাউকে বিয়ে করতে পারবে না। (বাবা)
- আমি তো কাউকে ভালোবাসি না। তোমরা ভুল ভাবছো। আমি যাকে ভালোবাসি তাকে দু’বছর আগে মনের মধ্যে মেরে কবর দিয়ে দিয়েছি। (আমি)
- চুপ কর ফাজিল, মেয়েটা তোকে দু’বছর ধরে ভালোবাসে আর তুই তার সাথে জেদ দেখিয়ে বাসাতে না থেকে ভার্সিটির পাশে বাসা নিয়ে থাকিস। (মা)
- শুনো বাবা, শুনো মা। অহংকারীদের মনে কখনো ভালোবাসা থাকে না। তাদের মনে অহংকারটাই বেশি। তারা কাউকে ভালোবাসতে জানে না।  জানে শুধু অপমান করতে। তারা কিভাবে ভালোবাসবে?
.
আমার কথা শুনে রিয়া কাঁদতে কাঁদতে বাসা থেকে বের হয়ে গেলো। মা-বাবা সবাইকে পটিয়ে ফেললো। বাবার বকা শুনে ছাদের দিকে পা বাড়ালাম। ছাদে গিয়ে দেখি ছাদে খুব বাতাস। আর রিয়া ছাদের এককোণে দাড়িয়ে কাঁদছে। বাতাসের কারণে তার চুলগুলো এলোমেলো হয়ে গেছে। মুখের মধ্যে চুলগুলো ছড়িয়ে গেছে। এতো বেশি কেঁদেছে রিয়ার মুখ ফুলে বেলুন হয়ে আছে। আমি আসলে খুব বেশি কষ্ট দিয়ে ফেলেছি। কোনো কথা না বলে রিয়ার পাশে গিয়ে দাড়ালাম হাত ধরতেই রিয়া আমার দিকে তাকিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো। মুখের উপরে ছড়িয়ে থাকা চুলগুলে সরিয়ে দিয়ে ওর চোখ দু’টো মুছে দিয়ে বললাম।
“অহংকারীরাও বুঝি ভালোবাসতে জানে? আগে জানতাম না তো”
.
w®iter ID : Abu Bakar Siddique (কাল্পনিক কল্পনাঙ্গীকার বর)

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ