গল্প :- অন্ধ মেয়ের ভালবাসা ও বাপ ছেলের মান অভিমান।
.
.
লেখক :- এম ডি ইসমাইল হোসাইন ( ক্লান্ত মুসাফির )
.
.
উৎসর্গ :- কল্পনা, লিজা, রাব্বি ও গুরুদয়াল কলেজের সমস্ত
স্টুডেন্টদের।
.
.
আমি রাজ। এবার অনার্স থার্ড ইয়ারে আছি। ইংলিশ
ডিপার্টমেন্ট এট ( At ) গুরুদয়াল কলেজ। ময়মনসিংহ,
কিশোরগঞ্জ।
.
আমার অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল ইংলিশ নাহয়
বাংলায় অনার্স করব। কিন্তু ভাগ্য আমার সহায় ছিল
না। বলতে গেলে সহায়ও ছিল। আমি ইংলিশে চান্স
পেয়েছি। কিন্তু কাংখিত ভার্সিটিতে নয়।
জগন্নাথে না হয় ঢাকা ভার্সিটিতে পড়ার খুব ইচ্ছা
ছিল। যদিও উচ্চ মাধ্যমিকে রেজাল্ট বেশ ভাল।
মাধ্যমিকেও ভাল ছিল। দুটো মিলিয়ে চান্স পাবার
সম্ভাবনা শতভাগ। জগন্নাথে ও চিটাগাং এ চান্স
পেয়েছিলাম। কিন্তু মন মতো বিষয় পাই নি।
জগন্নাথে অর্থনীতি আর চিটাগাং এ
রাষ্ট্রবিজ্ঞানে চান্স পাইলাম। আশা ছিল চান্স
হয়েই যাবে। তাই আর কোন পরীক্ষা দেই নি।
হয়েওছিল। কিন্তু ভাল সাবজেক্ট পাই নি। সব
সাবজেক্টসই ভাল তবে যেগুলো নিয়ে পড়ার ইচ্ছা
সেগুলোর একটাও পাই নি। তাই জগন্নাথেই ভর্তি
হয়ে রইলাম। কি দরকার আছে ইয়ার লস দিয়ে? পরের
বার আবার পরীক্ষা দিলাম। খুব কাছের এক বন্ধুর
পরামর্শ নিয়ে। সে বলল, গুরুদয়াল কলেজে পরীক্ষা
দিতে। কপাল খুজে দেখতে তো দোষের কিছু না।
বলা বাহুল্য যে, আগের বার ভর্তি কোচিং
করেছিলাম কিন্তু এবার করি নি। আল্লাহর অশেষ
রহমতে স্বপ্নের সাবজেক্টে চান্স পেয়ে গেলাম।
.
প্রথমে কেমন যেন লাগছিল। পরে অবশ্য ঠিক হয়ে
গেছিল। সেখানকার বন্ধু বান্ধব গুলোও বেশ ভাল।
ঢাকার বন্ধু বান্ধবের চেয়ে শতগুন ভাল ছিল।
সেখানে বেশ কয়েকটা বন্ধু বানিয়ে ফেললাম। অন্য
এলাকার ছেলে হলেও আমি মনে করতাম। আমি যেন
কিশোরগঞ্জেরই ছেলে। খুব স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে
সোনালী দিনগুলো কাটছিল আমার।
.
সেখানে কল্পনা, লিজা, রাব্বি নামের তিনজন খুব
ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল আমার। তারা ওখানকার স্থানীয়।
তারা অনেক ভাল ও বন্ধু প্রিয়। বন্ধুর জন্য নিজের
জীবন বাজি ধরতেও পিছপা হয় না।
.
আমাদের চারজনের মধ্যে তিনজনই লেখালেখি
করতাম। চারজনই বলা চলে। আমি বিভিন্ন পেজে /
গ্রুপে লেখতাম। রাব্বি আর লিজা খুব বাস্তব সম্মত
লিখা লিখত। রাব্বি যেহেতু লিখায় নতুন ছিল
সেহেতু লিজার লেখাটা অনেক ভাল লাগত আমার।
রাব্বির লেখাও অসাধারণ হত। ওর গল্পের থিম গুলো
মাইন্ডব্লোয়িং ছিল। অপরিপক্ব হওয়ায় বেশী
সাজিয়ে গুছিয়ে লেখতে পারত না।
কল্পনাও মাঝে মাঝে লিখার চেষ্টা চালাত। দুই
চার লাইনের লেখায় বেশ সাড়া পেত।
.
ক্লাস শেষে মেসে এসে শুয়ে আছি। মোবাইলটা
চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দিল। মোবাইলটা হাতে
স্ত্রীনে তাকিয়ে দেখি আব্বা ফোন দিয়েছে। সবুজ
বাটনে চাপ দিয়ে মোবাইলের কান্না থামালাম।
.
:- আস সালামু আলাইকুম আব্বা।
:- ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ( আম্মা )
:- ভাল আছেন আব্বা স্যরি আম্মা।
:- হ্যা ভাল আছি। তুমি ভাল আছ?
:- জ্বী আম্মা। কিছু বলবেন?
:- হ্যা। কিছু বলার জন্যই ফোন দিয়েছি।
:- তাহলে বলেন।
:- ভার্সিটিতে যাও নি?
:- জ্বী। গেছিলাম। এখন এসে শুইলাম।
:- শোন রাজ। তোমার আব্বা ঠিক করেছে।
সপরিবারে তোমার আপুদের ওখানে যাবে।
:- কিন্তু আম্মা কাল তো আমার ক্লাস টেস্ট
পরীক্ষা আছে। পরশুও পরীক্ষা হতে পারে।
:- আচ্ছা। তুমি পরীক্ষা শেষ করে তাড়াতাড়ি চলে
এস। আমরা চলে যাচ্ছি। ওখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ
কাজ আছে। লেট হলে সমস্যা হবে। তাই তোমার জন্য
অপেক্ষা করতে পারছি না।
:- আচ্ছা আম্মা।
.
ফোনটা কেটে দিলাম। কিন্তু আমি কাটার আগেই
ওপাশ থেকে কেটে গেল। আসলে আব্বার নাম্বার
থেকে আম্মা ফোন দিয়েছিল। হয়তোবা আম্মার
ফোনে ব্যালেন্স শেষ।
.
আমার পরিবার মোটামোটি উচ্চ মধ্যবিত্ত। সব দিক
দিয়ে আমি খুব সুখে আছি। মানুষ কখনো পরিপূর্ণ হতে
পারে না। আমার কপালে যেমন সুখও আছে, আছে
তেমনি কষ্ট। কষ্ট কোন জায়গায় জানেন? ঐ যে,
আমার বাবা মা আমার জন্য দুদিন অপেক্ষা করতে
পারল না। হয়তোবা আমারই জন্য কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজ
করতেছে। কিন্তু মধ্যবিত্ত বাবা মা কখনো সন্তান
কে ফেলে চলে যেত না। দুদিন অপেক্ষা করে
সন্তানকে সাথে নিয়ে যেত। আমি যে যেতে পারব
না, এমন কোন কথা নয়। তারপরেও জিনিসটা খুব হার্ট
করল আমাকে। এইসব নিয়ে প্রতিনিয়তই আমি হার্ট
হই। কিন্তু কাউকে বুঝতে দেই না। বন্ধু বান্ধবকেও না।
বাবা মাকে তো নয়ই।
.
আমার বন্ধুরা আমাকে প্রায়ই জিজ্ঞেস করত। কি রে
রাজ! বাড়িতে যাবি না? অনেকদিন হয়ে গেল।
বাড়িতে যাস না। বাড়ির জন্য তোর মনটা একটুও
কাঁদে না?
আমি একটা স্মীত শুকনো হাসি দিয়ে বলি। তোদের
ছেড়ে আমার কোথাও যেতে মন চায় না। বাবা
মাকে তো চার বছর পর হলেও কাছে পাব কিন্তু
চারবছর পরে তোদের হারিয়ে ফেলব। কে কোন
জায়গায় থাকবি তার কোন ঠিক আছে? তাই এই চার
বছর তোদেরকে একটুও হারাতে চাই না।
.
হয়তো মুখে আমি এমনটাই বলি। কিন্তু আমার ভিতরের
খবর কেউ জানে না। বাড়িতে গেলে আমি যেন দম
আটকে মরে যাই। আব্বা আম্মা যার যার মত ব্যস্ত।
আমি বাড়িতে গেলে তাদের মাঝে কোন আগ্রহ
দেখি না।
.
উনারা এমন ভাব করে যেন আমি সকালে বাসা
থেকে বের হয়ে বিকেলে ফিরেছি। এমন নর্মালই
মনে হত। মায়ের ব্যবহারে কিছু বুঝতাম। আমি গেলে
আম্মা আমার জন্য আমার পছন্দের কিছু খাবার
রান্না করত। যা তৃপ্তি নিয়ে খেতাম। কিন্তু এই
খাবার থেকে আরো বেশী তৃপ্তি পেতাম যদি
আমাকে আগ্রহ দেখাত আর মূল্যায়ন করত। আমাদের
খানা পিনার কোন অভাব নাই। কিন্তু অভাব কোন
জায়গায় জানেন? কেউ সার্ভ করত না। যার যেমন
লাগত তেমন করেই খেত। না খেয়ে উঠে পড়লেও
জিজ্ঞেস করত না যে কেন খেলাম না? আমার
এগুলো বিষের মত মনে হত। আম্মা আব্বা উন্নত
সোসাইটির মত চলতে চায়।
.
এমন সোসাইটির আমি গুল্লি মারি। যে সোসাইটি
বাবা মা থেকে সন্তানকে প্রতিনিয়ত দূরে ঠেলে
দেয়। আব্বা আম্মা ও আমার মাঝে খুব দুরত্ব সৃষ্টি
হয়ে গেছে। আমার বোনটাও আমার মতন ছিল। বিয়ের
আগে দুলাভাইয়ের এমন টেক কেয়ার পেয়ে বাবা
মায়ের অমতেই বিয়ে করে ফেলল। মান সম্মানের
ভয়ে কোন কেস মামলায় জড়ায় নি। সাত আটমাস
পরে দুলাভাই ও তাদের অনাগত সন্তানকে মেনে
নেয়। দুলাভাই প্রতিষ্ঠিত ছিল। তাই আব্বা পরে আর
কোন ঘোর আপত্তি করেনাই।
.
আব্বা আম্মা এখন সেই আপুর বাসায় গেল। আমার
আপুর নাম লায়লা। আমার ভাগ্নের নাম মিঠুন।
.
দুদিন পরে রাব্বিকে নিয়ে আপুর বাসার উদ্দেশ্যে
রওয়ানা দিলাম। আম্মা ফোন করে জানিয়ে দিল।
এদিক দিয়ে আসা যাবে না। ( যেদিক দিক দিয়ে
সচরাচর যাওয়া আসা করি )
বিকল্প রাস্তা দিয়ে যেতে হবে। তার মানে
চেয়ারম্যান বাড়ির রাস্তার কথা বলছে। কিন্তু এই
রাস্তা দিয়ে গেলে অনেক খানি হেটে যেতে হবে।
ভ্যান, রিক্সা খুব কম পাওয়া যায়। পাওয়া গেলেও
ভাড়া অনেক বেশী। তাই দুই বন্ধু মিলে রাস্তার
মোড়ে নেমে ভারী ব্যাগ কাঁধেচাপা দিয়ে হাটতে
লাগলাম। অবশ্য বিকাল হয়ে গেছে কিন্তু রোদের
তেজ এখনো কমে নি। দুজনেই দরদর করেই ঘামছি।
পানির পিপাসায় বুকটা ফেটে যাচ্ছে। পারলে
এখনি এক জগ পানি অনায়াসেই গিলে ফেলতাম। এর
মাঝে দম ফেলতাম না। রাব্বির অবস্থা বেগতিক
দেখে রাস্তা থেকে একটু ডানদিকে বাড়িটার
কাছে গিয়ে ডাক দিলাম।
:- বাড়িতে কেউ আছেন?
:- ( কোন সাড়া শব্দ নেই। )
:- বাড়িতে কেউ থাকলে আমাদের একটু পানি
খাওয়ান। বড্ড পিপাসা পেয়েছে।
তবুও কোন সাড়া শব্দ পেলাম না। হতাশ হয়ে ফিরে
আসতে চাইছিলাম। হাতে ব্যাগ তুলতে প্রস্তুত
হচ্ছিলাম। এমন সময় চুরির রিনিজিনি শব্দ শুনতে
পেলুম। তাকিয়ে দেখি ওপাশ থেকে হাত বাড়িয়ে
একটা মগ ধরে আছে। শুধু হাতটাই দেখা যায়। হাতের
কবজি পর্যন্ত কাপড় দিয়ে ঢাকা। রাব্বি হাত
বাড়িয়ে মগটা নিল। কিসের কী! সে ঢক ঢক করে
পানি গলায় ঢালতে থাকল। আমার কিছুটা রহস্যজনক
মনে হল। তাই রাব্বিকে পেরিয়ে ওপাশে
( ডানপাশে ) গেলাম। গিয়ে তো আমি অবাক হলাম।
খুব কোমল, মায়াবতী ও রুপবতী দাড়িয়ে আছে।
আড়ালে থেকে বুঝেছিলাম। মেয়ে বা মহিলাটা
বেশ পর্দানশীন। তাই সামনে না এসে হাত বাড়িয়ে
দিয়েছে। কিন্তু এখন সামনে এসে শিউর হলাম সে
মেয়ে । কোন মহিলা না। কিন্তু সামনে আসার পরেও
সরে যাচ্ছে না কেন? বিষয়টা খুব খটকা লাগল। এত
ভাব ধরার কি আছে? কিন্তু আমার ধারণা টা ভুল হল।
পরক্ষণেই বুঝলাম মেয়েটা অন্ধ। তাই আমি যে
সামনে এসেছি তা সে দেখেনি। খুব আফসোস হচ্ছে
মেয়েটার জন্য। কী সুন্দর মায়াবী চেহারা!
কাজলকালো টানা টানা চোখ। চোখের দিকে
চাইলেই ইচ্ছা হয় প্রেমে পড়ি। ততক্ষণে রাব্বির
পানি খাওয়া শেষ। সে তৃপ্তি মিটিয়ে পানি
খেয়েছে। আমার ভাগে অল্প ছিল। ঐটুকুতেই আমার
চলে গেছে। মগে পানির ছাপ দেখে মনে হল ভরেই
এনেছে। অন্ধ তো তাই উষ্টা খেয়ে মগ থেকে পানি
ফেলে দিয়েছে। যা অবশিষ্ট ছিল তাই দিয়েছে।
হাজারো প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। অন্যরা
কোথায়? শেষে কিনা একটা অন্ধ মেয়েই পানির
ব্যবস্থা করল?
আমি মেয়েটিকে ধন্যবাদ দিয়ে চলে আসলাম।
মেয়েটা আমাদের স্বাগতম জানাল। বুঝলাম।
মেয়েটা শিক্ষিত।
.
বিশ্বাস করেন ভাই। মেয়েটার প্রতি আমার খুব
আগ্রহ বেড়েই যাচ্ছিল। মেয়েটা যদি অন্ধই হবে
তাহলে কেমনে লেখাপড়া করল? লেখাপড়া করা
সম্ভব। যদি সে জন্মগত অন্ধ না হয়ে ইদানিং অন্ধ হয়।
আমি শিউর মেয়েটা জন্মান্ধ নয়।
ভাবনার সমাপ্তি ঘটিয়ে। পথ হাটা শুরু করলাম।
আধাঘণ্টা পরে আপুর বাসায় গিয়ে হাজির হলাম।
.
ওহ স্যরি। আপুর বাসায় যাবার আগে। আপুকে ফোন
দিয়ে
বললাম, আপু তুই কোন একটা ছেলেকে পাঠা।
আমাদের
সাহায্যের প্রয়োজন। আমরা ভারী ব্যাগ নিয়ে আর
এগুতে
পারছি না।
.
কিছুক্ষণ পরে দেখি আপু আমাদের দিকে এগিয়ে
আসছে। সাথে হলুদ ড্রেস পড়া এক মেয়ে। মানে দুজন
এগিয়ে আসছে। আমার ব্যাগটা অনেক ভারী ছিল।
তাই ওটাই
এগিয়ে দিয়েছি। তারা দুজনে ধরে নিয়ে যাচ্ছে।
আমরা
দুজনে ধরে রাব্বির ব্যাগ নিয়ে যাচ্ছি। অনেকখানি
সহজ হয়ে
গেল ব্যাপারটা।
.
বাড়িতে গিয়ে হাতমুখ ধুয়ে অল্প একটু বিশ্রাম করে
খাবার
টেবিলে বসলাম। সবাই খেতে বসেছি। আব্বা,
আম্মা,
দুলাভাই, ভাগ্নে, আমি, রাব্বি। আপু খেতে বসে নাই।
আপু
খাবার সার্ভ করে দিচ্ছে। একাই ডাইনিং টেবিলের
চতুর্দিকে
রাউন্ড করছে। খাওয়া যখন মাঝ বরাবর। তখন দেখি
সেই
মেয়েটিও হাজির। আপুকে সহযোগিতা করছে। আপুর
জন্য
অনেক সহজ হয়ে গেল।
ছয়জনকে ঠিক মত সার্ভ করা মোটেই সহজ কাজ নয়।
ভাগ্নেটাও হয়েছে সেইইই কোয়ালিটির। ভাত মেখে
দিতে হয়। তরকারী ধুয়ে দিতে হয়। পানি খাইয়ে
দিতে হয়।
বিশেষ করে সর্দি লেগে নোংরা বের হয় সেটাও
পরিষ্কার করতে হয়। পরিষ্কার না করলে ঐভাবেই
খায়। মাঝে
মাঝে নাক দিয়ে বেলুনের মত ঠুসকা হয়ে নোংরা
বের
হয়।
.
হা হা হা। পাঠক পাঠিকাদের মনে হয় এতক্ষণে
ঘেন্না ধরে
গেছে। অনেকেই হয়তো ইয়াক! ইয়াক শুরু করে
দিয়েছে। অনেকেই এক তরফা বমিও করে
ফেলেছে। এতে ঘেন্না করার কি আছে? আপনি বুকে
হাত দিয়ে বলতে পারবেন? ছোটবেলা আপনার নাক
দিয়ে
নোংরা বের হয় নি? অনেকেই চেটেপুটে মজা
লুটেছেন। আর এখন ইয়াক! ইয়াক করছেন তাই না?
আরে
এর কথা কি বলব? ছোট বেলায় আমি আম্মার কোলে
বাথরুম করে দিয়েছি। মা যখন খেতে বসত দেখা যেত
তখনো বাথরুম করে দিয়েছি। প্রশ্রাব করতেও বাদ
দেই
নি। কই? তখন তো মা ইয়াক! ইয়াক করে নি। হায়রে
মা তো
শুধুই মা। এর নাই কোন প্রতিপক্ষ। কারো সাথে
মায়ের
তুলনা চলে না। বাবা জন্মদাতা হলেও দেখা গেছে।
মা আর
সন্তান এক বিছানায় ঘুমায় আর বাবা অন্য বিছানায়
ঘুমায়। তাই বলে
এটা বলছি না যে, বাবা সন্তানকে ঘৃণা করে। বাবাও
ভালবাসে
কিন্তু মায়ের থেকে বেশী না।
.
আব্বা আম্মার ব্যাপার টা বুঝে লায়লা আপু মিঠুনকে
সরিয়ে নিল।
একা করে বিছানায় বসিয়ে দিল। মিঠুন তো সেইইই
চিৎকার।
নানুর সাথে বসে খাবে। এত্তক্ষণ তো আমার আর
রাব্বির
সাথে ছিল। কিন্তু এখন জায়গামত বসতে চাচ্ছে। আপু
ভাগ্নেকে সামলাচ্ছিল আর মেয়েটা ( নাম জানি
না ) আমাদের
সার্ভ করে দিচ্ছিল। একটা বড় মাছের মাথা আমার
প্লেটে
তুলে দিল। আমার এটাতে খুব বিরক্ত লাগে। এটা
খেতে
অনেক সময় লাগে। যদিও এটা আমার খুব প্রিয়।
সেহেতু
হাতে সময় থাকলে খাই নাহলে খাই না। হাতে সময়ও
নাই,
পেটও ভরে গেছে। তাই মাথাটা রাব্বির প্লেটে
চালান
করে দিলাম। যেহেতু বন্ধু মানুষ। ওকে রেখে আমি
তো কিছুতেই টেবিল ছেড়ে উঠতে পারি না। এটা
অভদ্রতা
দেখায়। তাই না খেয়ে প্লেটে ভাত উল্টাপাল্টা
করে
নাড়াচ্ছিলাম। এই নাড়াচাড়ার উদ্দেশ্য হল
রাব্বিকে সময় দেওয়া ।
আমি উঠে গেলে রাব্বি অকপট লজ্জায় পড়ে যাবে।
মুখে হয়তো বলবেনা কেউ। মনে মনে বলবে
ছেলেটা অনেক পেটুক। সবাই খাওয়া শেষ করে উঠে
গেছে কিন্তু ছেলেটির ( রাব্বির ) এখনো খাওয়া
শেষ হয়
নি।
একটা প্রবাদ আছে। লাঠি ওয়ালার লাঠি ধরা যায়
কিন্তু মুখ ওয়ালার
মুখে ধরা যায় না। আর অন্তর ওয়ালার অন্তর কেমনে
ধরা
যাবে? মনে মনে যদি কিছু বলে সেটা আটকানো কি
সম্ভব? যাতে মনে মনেও বলতে না পারে তাই
একবারে
রাব্বির সাথে খাওয়া শেষ করলাম। গ্রামের রীতি
অনুযায়ী
খাওয়া শেষে পান দেয়। আর শহরের বড় বড়
সোসাইটির
মানুষেরা ঠান্ডা পানীয় পান করে। এই যেমন,
সেভেন
আপ, স্পীড, টাইগার, বিয়ার, মিরিন্ডা আরো অনেক
কিছু...... ।
আমার শহরের রীতিনীতি ভাল লাগে না। তাইতো
আম্মা
প্লেটে হাত ধুতে দেয় না। ওভাবেই রেখে উঠে
যেতে বলে। কিন্তু কারো ধার আমি ধারি না। আমি
ঠিক আমার
মতই চলি। এইজন্য মাঝে মাঝে আব্বা আম্মার সাথে
রাগারাগি
হয়।
.
অন্যদের কথা কি বলব? আব্বা আম্মায়ই আমাকে
ক্ষ্যাত
বলে গালি দেয়। এসব গালি অবশ্য আমি গায়ে মাখি
না।
আব্বা প্রায়ই বলে, আমার ছেলেটাকে আমি মানুষ
করতে
পারলাম না। দিন দিন ক্ষ্যাত হচ্ছে। ও ভুলেই যাচ্ছে
কিভাবে
যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হয়? কিভাবে
নিজেকে
আপডেট হতে হয়?
.
আপু প্রায়ই বলে। রাজ তুই আমার কাছে চলে আয়।
তোর
দুলাভাইয়ের সাথে তার ব্যাবসা দেখাশোনা করবি।
কিন্তু বাবা
মাকে ছেড়ে আসতে মন চায় না। একদিন আমাকে
বুঝবে
সেদিনের আশায়ই বুক বেধে পড়ে আছি। যখন সহ্য
করতে না পারি তখন দূরে থাকি। তবুও আব্বা
আম্মাকে
ছেড়ে কোথাও যাই না। এগুলো হল আমার ভিতরের
গোপন খবর যা কেউ জানে না। বন্ধুরাও না।
.
খেয়েদেয়ে আমি আর রাব্বি শুয়ে আছি।
আমি রাব্বিকে বললাম।
:- রাব্বি শুনছিস?
:- হ্যা। বল। শুনতেছি।
:- ঐ মেয়েটা কেমনরে?
:- খুব সুন্দর।
:- তোরও পছন্দ হইছে?
:- হবে না আবার? কিযে বলিস না তুই? দেখলি একাই
কিভাবে
ছয়জন কে সার্ভ করল ।
.
এবার ওর মাথায় একটা চাপড় মারলাম।
ও চেঁচিয়ে উঠে বলল।
.
:- কিরে মারলি কেন?
:- শালা! আমি এই মেয়ের কথা বলিনি । বলেছি।
আসার পথে
যে আমাদের পানি খাওয়াল সেই মেয়ের কথা।
:- ওহ। সেও খুব সুন্দর । স্যরি! স্যরি! মেয়েটাকে তো
আমি দেখিনি।
:- কি?
:- হ্যা। প্রচন্ড পিপাসা পেয়েছিল তো, অন্যদিকে
তাকানোর সময় পাই নি।
:- ধুর শালা!
.
মেজাজটাই খারাপ করে দিল। ভাবছিলাম কিছু কথা
বলব
মেয়েটির ব্যাপারে। কিন্তু দেখেই নি। রাব্বিকে
শুভ রাত্রি
জানিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।
পরদিন সকাল দশটা নাগাদ হবে। কল্পনা ফোন দিল
রাব্বির
ফোনে। রাব্বি ঘুমে ছিল তাই আমিই রিসিভ করলাম।
:- হ্যালো রাব্বি?
:- না। রাজ বলছি।
:- ওহ তুই। রাব্বি কই?
:- ওতো ঘুমে।
:- এখনো ঘুমাচ্ছে?
:- হ্যা। কাল খুব ধকল গেছে তো তাই।
:- কাল পৌছে ফোন দিস নি কেন?
তুই কি আমার বউ না জি এফ যে জানাতে হবে? )
মনে
মনেই বললাম।
:- কি রে কি হল? কথা বলছিস না কেন?
:- কাল একদম সময় পাই নি। বড্ড ক্লান্ত ছিলাম।
:- তাই বলে একটা ফোন দেওয়ার সময় পাস নি?
:- কল্পনা, দোস্ত আমার! তোর পায়ে ধরি ফোন রাখ।
আমার
বড্ড ঘুম পাচ্ছে। বাই। ঘুমাব এখন । বিকেলে ফোন
দিস।
,
ফোনটা কেটে দিয়ে সাইলেন্ট করে বালিশের
নিচে
রেখে ঘুমিয়ে পড়লাম। কিছুক্ষণ পর আবার আমার
ফোনটা
চিৎকার শুরু করছে।
সবুজ বাটনে চাপ দিয়ে হ্যালো বললাম। ও পাশ
থেকে
সুললিত কন্ঠে লিজা বলে উঠল।
.
:- কি রে হারামি! ফোন ধরতে এত দেরী কেন?
:- ঘুমাইছিলাম।
:- মরে তো আর যাস নি।
:- এইটা কি বলিস? তওবা, তওবা মরব কেন?
:- এই তুই কাল ফোন দেস নি কেন?
:- সময় পাই নি। খেয়ে দেয়েই ঘুমিয়ে পড়েছি।
:- জানিস। কত চিন্তা হইছে আমার?
:- ( এহহ! এমন মায়া দেখাচ্ছে যেন আমি নাহয় রাব্বি
তার বিয়া
করা
জামাই ) এই কথাগুলোও মনে মনে বললাম। শুনতে
পেলে
দুটোয়মিলে আমার তেরোটা বাজাবে। তাই রিক্সে
গেলাম
না।
.
লিজার ফোনটাও কেটে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম।
একটু পর
রাব্বিই জেগে উঠেছে। কি আর করা! আমার আর
ঘুমানো
হল না। দক্ষিণ পাশের জানালা দিয়ে হুমড়ি খেয়ে
মুক্ত বাতাস
ঘরে ঢুকে পড়ছে। মন, প্রাণ, দেহ সব জুড়িয়ে যাচ্ছে
আমার। খুব ইচ্ছা করছিল এইরকম বাতাসে আর একটু
ঘুমাই। কিন্তু
এবার রাব্বি ঘুমের তেরোটা বাজাল। আর ঘুমাতে
দেয় নি।
পেস্ট হাতে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। সান বাধানো
পুকুর ঘাট
থেকে মুখ ধুয়ে, ফ্রেশ হয়ে হালকা নাস্তা সেড়ে
নিলাম।
নাস্তা করার সময় আব্বা ওয়ার্নিং দিল যেন রাতে
তার সাথে কিছু
জরুরী কথা বলার পরে ঘুমাই। আমিও ঘাড় নেড়ে সায়
দিলাম।
কি
জরুরী কথা কে জানে?
.
ঠিক এই মুহূর্তে আব্বার কথার চেয়ে মেয়েটির কথা
বারবার
মনে হচ্ছে। প্রচন্ড আগ্রহ জন্ম নিয়েছে মেয়েটার
প্রতি।
.
রাব্বিকে নিয়ে ছুটলাম সেই বাড়ির দিকে।
চেয়ারম্যান বাড়ির
পরের বাড়িই হচ্ছে আমাদের গন্তব্য। পনের বিশ
মিনিট হাটার
পরে গন্তব্যে পৌছুলাম। কিন্তু মেয়েটাকে তো
দেখতে পাচ্ছি না।
আমাদের ঘুরাঘুরি কিছুটা অস্বাভাবিক ছিল।
যেকেউ বুঝে
যাবে
আমাদের কোন উদ্দেশ্য আছে। বেশী সহজ হবে
আমরা কেউ এই গ্রামের নই। যদি কোন একটা ঘটনায়
ফাসিয়ে
দিয়ে রাম ধোলাই দিয়ে দেয়। ধোলাই খাওয়া বড়
কথা নয়।
বড়
কথা হল মান সম্মান। আমাদের তো যাবেই। শেষে
দুলাভাইয়েরও যাবে।
.
ভাগ্য সহায় আছে দেখে বেঁচে গেলাম। এক দাদী বা
নানির
বয়সী মহিলা আমাদেরকে ডাক দিল। যখন আমরা
ব্যার্থ হয়ে
আমাদের বাড়ির দিকে পা বাড়াচ্ছিলাম ।
:- এই ছেলেরা একটু শোন?
:- জ্বী বলেন।
:- তোমাদের দেখে তো এলাকায় নতুন মনে হচ্ছে।
তোমাদের বাসা কোথায়?
:- আমরা শহর থেকে এসেছি। দুলাভাইয়ের বাড়িতে।
:- তোমার দুলাভাইয়ের নাম কি?
.
নাম বলতেই চিনে ফেলল। দুলাভাইয়ের নাম ডাক
ভালই
আছে।
তাই গ্রামের প্রায় সবাই চিনে। সেই যে
জোরাজোরি।
শেষে বাড়িতে নিয়েই ছাড়ল। ভালই আপ্যায়ন করল।
কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি কিছু সংখ্যক পোলাপান
আর কিছু
মহিলা আমাদের দেখতে ভিড় করেছে। যেন সার্কাস
করতে এসেছি। অনুষ্ঠানের আগে ভাল করে দেখে
নিচ্ছে। আমার খুব বিরক্তি লাগছিল।
,
সেই মহিলাটি বলল,
:- বাছারা! তোমরা ঘেমে একেবারে নুইয়ে গেছ।
শরবত
দিচ্ছি খাও।
এটা বলেই। বাইরের দিকে তাকিয়ে মাহিনের নাম
ধরে ডাক
দিল। মাহিনকে শরবত নিয়ে আসতে বলল। কিছুক্ষণ পর
কাচের
চুড়ির রিনিজিনি শুনতে পেলাম। এই শব্দটা আমার
পরিচিত মনে
হল।
.
এই শব্দ আমি আগেও শুনেছি। ততক্ষণে সে সামনে
চলে এসেছে। কেউ একজন তাকে ধরে নিয়ে
এসেছে।
নানীর বয়সী মহিলাটা আমাদের দিকে উদ্দেশ্য
করে
মেয়েটিকে বললেন।
:- মাহিন এরা শহর থেকে এসেছে। লায়লা ওর আপন
বোন।
মাহিন আমাদের উদ্দেশ্যে বলল,
:- আস সালামু আলাইকুম।
:- ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কেমন আছেন?
:- জ্বী ভাল। আপনি?
:- ভাল।
:- শুনলাম আপনি নাকি লায়লা আপুর ছোট ভাই?
:- হ্যা ঠিকই শুনেছেন। লায়লা আপুকে চিনেন?
:- হুম্ম। চিনি। উনার কাছে আমি প্রাইভেট পড়েছি।
:- ওহ।
ততক্ষণে সবাই চলে গেছে। দুয়েকজন ছাড়া।
আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম।
:- একটা কথা জানতে চাই?
:- জ্বী বলুন। কি জানতে চান?
:- যদি কিছু মনে করেন?
:- না কিছুই মনে করব না। আমি জানি আপনি কি
জানতে চান।
:- কি জানতে চাই?
:- আমি অন্ধ হলাম কিভাবে?
:- জ্বী এটাই জানতে চেয়েছিলাম।
:- আমি জন্মান্ধ নই। একটা এক্সিডেন্ট এ আমার চোখ
নষ্ট
হয়ে গেছে। ডাক্তার বলেছে অপারেশন করালেই
ঠিক
হয়ে যাবে।
:- হুম্ম। বুঝলাম। কিন্তু আরেকটু জানতে চাই।
:- জ্বী বলুন। কি জানতে চান?
:- আপনি একটু আগে বললেন যে, আপনার এক্সিডেন্ট
হয়ে চোখ নষ্ট হইছে।
:- হ্যা। এক্সিডেন্ট। আমি একটা ছেলেকে খুব
ভালবাসতাম।
আমার পরিবার থেকেও ছেলেকে মেনে নিয়েছিল
কিন্তু পরিণতি আমাদের মেনে নেয় নি। একদিন
বাইকে
করে ছেলের ফুফুর বাড়ি যাচ্ছিলাম। তখনই বাইক
এক্সিডেন্ট
হয়। উল্লেখ্য যে ছেলের সাথে আমার
এংগেজম্যান্ট
হয়ে গেছে। এক্সিডেন্ট এর কিছুদিন পরে আমি অন্ধ
হয়ে যাই। ডাক্তার বলেছে কর্ণিয়া চেঞ্জ করতে
হবে।
অনেক ব্যায় সাপেক্ষ ব্যাপার তাই এখনো অপারেশন
হয় নি
। কথায় আছে না, কপালে নাই ঘি, ঠক ঠকালে হবে
কি?
আমার কপালেও সেই ছেলেটি ছিল না। অন্ধ হবার
পরে
আমার সাথে বিয়ে ভেঙ্গে দেয়। তখন কথাও
দিয়েছিল
যে, যেকোন বিপদে আপদে পাশে থাকবে কিন্তু
আজ
আমার বিপদের দিনে কথা দেওয়া লোকটাই আমার
পাশে
নাই। অন্য মেয়েকে বিয়ে করে সুখের সংসার
সাজাইছে।
.
আমি খেয়াল করে দেখলাম। মেয়েটি চোখ
মুছতেছে। তাই আর কথা বাড়ালাম না। বিদায় নিয়ে
চলে
আসলাম আপুর বাসায়। মেয়েটির জন্য বড্ড মায়া
হচ্ছে। কিইই
বা করার আছে আমার? আবার অনেক কিছুই করতে
পারি। কিন্তু
আমার বাবা মা? তারা তো আমার উপরে ক্ষিপ্ত
হয়ে যাবে।
.
রাতে খাওয়ার পরে আব্বা ডেকে পাঠাল। যা সব
কথা বার্তা হল
তার সারমর্ম হল। আমাকে একটা ছবি দেখিয়ে বলল,
আমরা এই
মেয়ের সাথে তোমার বিয়ে ঠিক করতে চাই।
এতক্ষণে
বুঝলাম। হুট করে কেন গ্রামে আসা? আব্বার কথা
শেষ হবার
পরে আমি রুমে চলে আসলাম। এসে দেখি রাব্বি
শুয়ে
শুয়ে গেম খেলছে।
ওহ আপনাদের তো বলি নি। মেয়েটার নাম মায়া।
সাইন্স
থেকে ইন্টার পাশ করেছে। সেই মেয়েটিই যে
আমাদের সার্ভ করেছিল। দেখছেন নি? দুই দিন আগে
এসে এই গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছে। আমাকে বললেই হত।
তাদের পছন্দ নির্ধিধায় মেনে নিতাম। বিয়ে
করাবে শুনে
একটু খুশি খুশি লাগল।
পরের দিন সবাই মিলে শহরের উদ্দেশ্যে পা
বাড়ালাম। সবাই
শহরে চলে আসলাম। তারপরের দিন শহর থেকে আমি
আর রাব্বি কিশোরগঞ্জে আসলাম। সামনে ইয়ার
ফাইনাল
পরীক্ষা। তাই পড়াশোনায় যথেষ্ট মনোযোগ দিলাম।
দেখতে দেখতে পরীক্ষাও শেষ। পরীক্ষা শেষ
করে কিছুদিন রেস্ট নিই। এই কয়েকদিন বইয়ের সাথে
মোটেও দেখা করি না। আড্ডা, ফান, হৈ হুল্লোড়,
ঘোরাঘুরি
করেই দিন পাড় হত।
.বিছানায় শুয়ে শুয়ে ঘুমের সাথে দ্বন্দ্ব করছিলাম।
কিন্তু ঘুম বারবার আমাকেই হারিয়ে দিচ্ছে। আমি
ঘুমাতে চাই কিন্তু কিছুতেই ঘুম হচ্ছে না। ঘুম না
আসলে কি হবে মাথায় অটোমেটিক দুশ্চিন্তা এসে
ভর করল। ভাবতে লাগলাম।
বাবা এই যুগের স্মার্ট মানুষ। কিন্তু কেন গ্রামে
গেয়ো মেয়ের সাথে আমার বিয়ে ঠিক করতে
চাচ্ছেন কেন? অনেক চিন্তা ভাবনা, কল্পনা জল্পনা
করলাম কিন্তু বাবার এইরকম সিদ্ধান্তের কোন হেতু
খুজে পেলাম না। একটা হেতু পেলাম। হয়তো
মেয়েটার মাঝে আধুনিকতার ছোয়া আছে। নাহলে
গ্রামের মেয়েকে পুত্রবধূ করতে কেমনে রাজি হল?
আমার যে পছন্দ হয় নি তেমন কোন ব্যাপার না।
আমার আগেরও কোন পছন্দ নাই। তাই বাবা মায়ের
সিদ্ধান্তের বাইরে যাবার কোন ক্লু নাই। আর তাদের
সিদ্ধান্তের বাইরে যাবই কেন ?
.
পরীক্ষা শেষ হবার কিছুদিন পর দুলাভাই আবার
আমাকে তাদের বাড়ি যেতে বলল। কি যেন একটা
কাজ আছে। আমিও গেলাম। সেইবার আর রাব্বি যায়
নি। কারণ সে আগের দিন তাদের বাড়ি চলে গেছিল।
আসার দিন ওকে ফোন দিলে আমাকে চলে আসতে
বলে। সে যেতে পারবে না সেই কথাটাই ফোনে
জানায় আমাকে।
.
আমি ওখানে গেলে মাহিন আমাকে নিয়ে খুব ব্যস্ত
হয়ে পড়ে। কিন্তু মাহিনের প্রতি আমার কোন
আকর্ষণ ই নাই। ওকে কেন যেন খুব বিরক্ত লাগে। এখন
বুঝতে পারছি কেন মাহিনকে বিরক্ত লাগে। কারণ
হচ্ছে মায়া। মায়ার প্রতি যতটা আকর্ষণ হয়
মাহিনের প্রতি ততটা আকর্ষণ জন্ম নেয় না।
আমার অন্তরে শুধু মায়ার কাজল কালো চোখ ভেসে
উঠছে। দেখে বুঝার কোন উপায় নেই যে, মেয়েটি
অন্ধ। মাহিনও চোখে কাজল দেয় তবুও এত ভাল লাগে
না। আমি দুলাভাইয়ের কাছে মোট সতেরদিন
ছিলাম। সতেরদিনে মায়ার সাথে খুব ঘনিষ্ঠ হই।
অনেক ফ্রি হয়েছি। আগে যেমন লজ্জা পেত এখন
তেমন একটা পায় না।
.
এদিকে খুব দ্বিধায় পড়ে গেছি আমি। কেননা বাবার
পছন্দ মাহিনকে আর আমার পছন্দ মায়া কে। না
পারছি মাহিনকে এড়িয়ে যেতে না পারছি মায়ার
মায়া কাটাতে। দুদিন পরে যদি মাহিনকেই বিয়ে
করতে হয় তবে মায়ার প্রতি মায়া বাড়িয়ে লাভ কি?
শুধু শুধু কিছু কষ্ট পাওয়া ছাড়া আর কিছুই না।
এদিকে আব্বা আমাকে সময়ও দিয়েছে। আমি সময়
জানালে উনারা বিয়ের পাকা কথা দেবেন।
.
অলরেডি আমার যা সিদ্ধান্ত নেবার নিয়ে
ফেলেছি। বিয়ে আমি সামনের মাসেই করব। তাই
মাহিন ও মায়ার সাথে ভাল যোগাযোগ রাখার জন্য
দুজনেরই নাম্বার নিয়ে আসলাম। মায়া যেহেতু ফোন
ইউজ করতে পারতনা। তাই বাড়ির এক নাম্বার
আমাকে এনে দেয়। নাম্বার আদান প্রদানের
ক্ষেত্রে একটা ছোট টুইস্ট আছে। ভেঙ্গে বলছি।
নাহলে আবার গ্যাঞ্জাম বাজবে। মাহিনের কাছে
আমার নাম্বার না দিয়ে রাব্বির দিয়েছি। মায়ার
কাছে আমার নাম্বার দিয়েছি। মাহিন আমাকে মনে
করে দিনরাত রাব্বির সাথে কথা বলে। এই কাহিনী
জানার পরে রাব্বিও কিছুটা আপত্তি করেছিল। ও
বলেছিল, আমি যা করছি তাকি ঠিক করছি? হুম্মম।
আমি অবশ্যই ঠিক করছি। কেননা রাব্বিও মাহিনকে
পছন্দ করে। রাস্তা ক্লিয়ার। রাব্বিও খারাপ না।
মাহিন রাব্বিকে একেবারে ফেলে দিতে পারবে
না। রাব্বির তুলনায় আমি ছেলে হিসেবে অনেক
চালচুলোহীন। তবুও রাব্বির মাঝে কোন অহংকার
নাই। কল্পনা, লোহা এদের কারোর মাঝেই নাই।
এদের মধ্যে অর্থ আভিজাত্যের দিক দিয়ে আমিই
একটু দুর্বল প্রকৃতির। ইচ্ছা করলে আমার সাথে
বন্ধুত্বও গড়তে না পারত। এদের একটা জিনিস আমার
খুব ভাল লেগেছে। এরা কখনো ধন দিয়ে নয় মন দিয়ে
মানুষ মাপে। তাইতো আমার মত চালচুলোহীন কেও
বন্ধু বানিয়েছে।
.
রাব্বির আর মাহিনের প্রেম চলছে । আমি গিয়ে
বাবাকে মায়ার কথা জানালাম। সাথে সাথেই
মুখটা নিকষ কালো হয়ে গেল। কিছুতেই মায়াকে
বিয়ে করতে দেবে না। একটা কারণ দাড় করিয়েছিল
বিয়ে না করানোর পক্ষে। কারণ টা হল। মায়া ছিল
অন্ধ। অন্ধ মেয়েকে কিছুতেই তারা পুত্রবধূ হিসেবে
মেনে নেবে না। আমিও এক কথা। বিয়ে করলে
মায়াকেই করব। এক মাস পরে আর বিয়েটা হয় নি।
.
অনার্স শেষ করে একটা জব নিয়েছি। রাব্বি
মাষ্টার্স করবে তারই প্রিপারেশন নিচ্ছে। ওই ঘটনার
কিছুদিন পর মাহিন আমাদের চালাকি বুঝে ফেলে।
শেষে ব্যাপারটা ফাঁস হয়ে যায়। তখন রাগ করে
মাহিন আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
এখনো কথা হয় না আমাদের। রাব্বির সাথে এখনো
আগের মত যোগাযোগ আছে। কল্পনার বিয়ে হয়ে
গেছে। লিজার এংগেজমেন্ট হয়ে রইছে। লিজার
উনি ডিগ্রী নিয়ে দেশে ফিরলেই ছাদনাতলাতে
বসবে।
মাহিন আর রাব্বির প্রেম খুব জমজমাট। আমারটাই
ঠিক নাই। একথা বললে ভুল হবে। ঠিক আছে কিন্তু
তেমনভাবে মায়ার সাথে যোগাযোগ নাই।
.
মায়ার সাথে যোগাযোগ না থাকলেও মায়ার
নাম্বারটা এখনো সেভ করা আছে। মনে মনে বলছি।
এতদিনে হয়তো নাম্বার টা বন্ধ করে ফেলেছে। আর
বিয়েও করে ফেলেছে।
মায়াকে কল করার উদ্দেশ্যে নাম্বারটা ডায়াল
করতেই বুকে কেমন যেন তোলপাড় শুরু হয়ে গেল।
প্রথমবার দিতে পারলা না। পরের বার দিলাম। ফোন
ঢুকেছে। রিং হচ্ছে। প্রথম বার রিসিভ হয় নি।
দ্বিতীয় বার রিসিভ হয়ে গেল। ওপাশ থেকে কণ্ঠ
শুনেই বুঝে ফেললাম এটা মায়া। মনে মনে ভাবলাম।
শ্বশুড়বাড়ি থেকে হয়তো বেড়াতে এসেছে। রিসিভ
করার পরে আমি আর কথা বলিনি। ওপাশ থেকে
হ্যালো হ্যালো করেই যাচ্ছে। আমার একটু চিন্তা
লাগল। মন খারাপও হল বেশ খানিকটা। কেননা মায়া
আমার নাম্বার দেখেও চিনতে পারতেছে না। আমার
ধারণা ছিল মায়ার চোখ অপারেশন করা হয়েছে।
কিন্তু কথা বলার পরেই সে আমাকে চিনল।
আমার ধারণা আরো গভীরে যেতে লাগল। আমি
এখনো শিউর হতে পারছিনা যে, মায়ার অপারেশন
হয়েছে কি হয় নি?
.
তবে কথা বলার পরে জানতে পারি মেয়েটির এখনো
অপারেশন হয় নি। মায়া নাকি সুস্থ হবার পরে আমার
মুখটা আগে দেখবে তাই অপারেশন করায় নি। এরকম
আবেগীয় কথা শুনে তাকে বকা দিলাম। ওপাশ
থেকে ফুঁপিয়ে কান্নার আওয়াজ শুনতে পেয়ে ফোন
রেখে দেই। যদিও ব্যাপার টা সাধারণ তবুও মায়ার
কাছে অসাধারণ। ওর খুব আগ্রহ ছিল যে, আমি কেমন
ছেলে যে কিনা জেনে শুনে একটা অন্ধ মেয়ের
সাথে সম্পর্ক রাখতে চেয়েছিল। এইরকম এক ছেলেই
তো তাকে অন্ধ দেখে বিয়ে ভেঙে দিয়ে চলে
গেছে। আসলে ব্যাপার টা আমার কাছে সাধারণ ও
আবেগীয় মনে হচ্ছে। সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হল
এখনো আমাকে পাবার আশায় পথ চেয়ে বসে আছে।
যে মেয়ে অপেক্ষায় থাকতে পারে তার মত আর কে
ভালবাসতে পারবে আমাকে। আরে যেই মেয়ে
আমাকে ছাড়া কিছুই ভাববে না বলছে সেই মেয়ে
এখন দিব্বি রাব্বির সাথে প্রেম করছে। এমনকি কথা
বলা ছাড়া রইছে এখনো। সে যদি ভাল থাকতে পারে
আমি মায়াকে নিয়ে থাকতে পারব না কেন? যদিও
রাব্বির সাথে মাহিনের সম্পর্ক আমিই
করিয়েছিলাম। তবুও আমার সাথে কথা বলা ছাড়া
কেমনে থাকে। আমিতো চেয়েছিলাম। আমি, রাব্বি,
মাহিন, মায়া সবাই একসাথে থাকব। আই মিন
আমাদের খুব ভাল বন্ধুত্ব থাকবে।
যাকগে ঐদিকে কথা না বাড়ানোটাই ভাল।
মায়াকে ফের জিজ্ঞেস করলাম, সে আমাকে বিয়ে
করতে পারবে কি না? হাজার হোক মেয়ে তো।
একেবারে সরাসরি নিজের বিয়ের কথা কেমনে
স্বীকার করে। ও যে রাজি এইরকম একটা ইঙ্গিত দেয়
আমাকে। আমিও আর দেরী নাকরে মায়াকে বিয়ে
করে আমাদের বাসায় হাজির হই।
.
সবাই আমাকে দেখে চমকে যায়। এমন ভাব যেন
আমাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষণার পর আমি
সবার সামনে গিয়ে হাজির হয়েছি। মায়াকে বধু
বেশে আমার পাশে দেখে সবাই যতটা অবাক
হয়েছিল ততটাই রাগান্বিত হয়েছে। ওহ পাঠকদের
তো বলাই হয় নি। আমি আর মায়া কাজী অফিসে
বিয়ে করেছি। জানতাম এইভাবে না করলে আমি
কোনদিনও মায়াকে বিয়ে করতে পারব না। আব্বা
কোনদিনও করাবে না।
.
মায়াকে বউ হিসেবে দেখে আব্বা সবচেয়ে বেশী
রাগ করল। মুখের উপরে দরজা লাগিয়ে দিল। যাবার
সময় মাকেও টানতে টানতে নিয়ে গেল বাবা। মাতো
অসহায়। স্বামীর পক্ষেই সবসময় থাকতে হয়। তাই
আমার পাশে রইল না। মায়াকে বরন করল না।
.
যাক মায়া এদিক দিয়ে খুব জোর বেঁচে গেছে।
কেননা সে অন্ধ। সেইজন্য বাবার রাগী ও ঘৃণা মাখা
মুখ তাকে দেখতে হয় নি। প্রতিটা মানুষ আমাদের
দিকে কিভাবে তাকাইছে সেই কঠিন দৃশ্যটাও
মায়াকে দেখতে হয় নি।
.
বিয়ে করেছি নতুন ঠিকই। কিন্তু আমাদের
বাড়িটাকে বিয়ে বাড়ি মনে হচ্ছে না। মনে হচ্ছে
যেন মৃত বাড়ি। কিছুক্ষণ আগে লাশ দাফন করে আসা
হয়েছে। আমার মনে খুব হার্ট করল তবুও আমলে নিলাম
না।
.
আমি মায়াকে নিয়ে আমার রুমে এলাম। প্রায়
সিনেমাতেই দেখা যায়। বাবা মার অমতে বিয়ে
করলে বাড়ি থেকে বের করে দিত। প্রয়োজনে
ত্যাজ্য করে দিত। কিন্তু আমার বেলায় তা হয় নি।
আমাকে ত্যাজ্যও করে নি। বাড়ি থেকে বের করেও
দেয় নি। ঠান্ডা মাথার খুনি বুঝেন? আমাকে চাপায়
ফেলে শায়েস্তা করবে। এই রকম একটা অনুভূতি আর
কী!
.
অন্যদিনের মত যেভাবে আমার রুম সাজানো থাকে।
সেভাবেই আছে। সেই রুমে তাকে বসতে দিলাম।
আমি ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে এসে মায়াকে
ভিতরে পাঠালাম। সেও ফ্রেশ হয়ে এল। বোধ হয়
ক্ষিধা লাগছে। কিন্তু নতুন বলে বলতে পারছে না।
আমি ব্যাপার টা ওর মুখের দিকে তাকিয়েই বুঝতে
পেরেছি। মেয়েটা প্রচন্ড ক্ষুধার্ত। আমি কিচেনে
গিয়ে আমার আর ওর জন্য খাবার নিয়ে এলাম।
বিছানায় বসেই খাচ্ছি আমরা কিন্তু ওর কাহিনী
দেখে আমার আর খেতে ইচ্ছা করছিল না। চোখে না
দেখতে পারায় যা খাচ্ছে তার থেকে বেশী
ছিটাচ্ছে। হাতরে পানির গ্লাস খুজতে গিয়ে প্রায়
ফেলেই দিয়েছিল। আমি ধরে ফেলেছিলাম।
পরে তাকে আমি নিজ হাতে খাইয়ে দেই। এর আগে
মাকে ছাড়া আর কাউকে মুখে তুলে খাইয়ে দেই নি।
এখন মায়া মানে বউকে খাওয়াচ্ছি। খাওয়ানো শেষ
হলে আমি সহ খেয়ে এটো থালা বাসন আবার
কিচেনে রেখে এলাম।
এসে দেখি মায়া বিছানায় এক পাশে গুটিশুটি হয়ে
শুয়ে রয়েছে। দুই আঙ্গুল চাপলেই মেঝেতে ধপাস
করে পড়ে যাবে। আমি ব্যাপার টা বেশ উপভোগ
করলাম। অন্ধ হলেও তার মনের অনুভূতি ঠিক আছে।
নতুন বউরা যেমন লজ্জা পায়। ভয়ও পায়। তার সব
কিছুই মায়ার ভেতরে হচ্ছে।
.
পাশে একটা যুবতী মেয়ে শুয়ে আছে দেখে
কামহীন
পুরুষেরও কাম জেগে উঠবে। আমি তো কনসার। আমার
মাঝে বিবেক খুব বেশী কাজ করত। তাই ভাবলাম শুধু
শুধু মেয়েটাকে ঠকিয়ে লাভ কি? আমাকে না
দেখেই বিয়ে করেছে। এখন না দেখেই যদি বাসর
রাত পার করতে হয়। তাহলে ব্যাপারটা কেমন যেন
হয়ে যাবে না? তাই আর আমার অধিকার ফলানোর
কোন চেষ্টাই করলাম না। যদিও সে আমার জন্য
হালাল। আমি তার সাথে যেকোন মুহূর্তে সবকিছুই
করতে পারি। তবুও কিছু একটা ঘাটতি থেকে যাবে।
তাই নিজের পুরুষত্ব প্রমাণের জন্য হায়েনার মত
আচরণটা করলাম না।
.
পাশ ফিরে মায়া কে ডাকলাম।
.
:- মায়া?
:- হুম্মম!
:- এদিকে এসে শোও। আরেকটু হলেই পড়ে যাবে।
:- না আমি ঠিক আছি।
:- আচ্ছা মায়া। এই রাত নিয়ে অনেকের তো অনেক
আশাই থেকে থাকে। তোমার কি আশা?
:- আমি আগে আমার স্বামীর মুখটা দর্শন করব। তারপর
বাদ বাকি...
.ওর মুখে এই কথা শোনার পরে আর কিছু বলার মত
খুজে পেলাম না। আমি তাকে ঘুমাতে বললাম। সে
ঘুমিয়ে গেল।
.
আমি ঘুমাতে পারছি না। বিভিন্ন ধরনের চিন্তা
এসে মাথায় ভিড় জমাল। তার মধ্যে বেশী যে
চিন্তা সেটা হল। মায়া বাড়িতে একা থাকবে।
তারউপর মেয়েটা অন্ধ। একা কিছুই করতে পারবে না।
আমি থাকব অফিসে। বাবা মায়ের রাগ থাকার
কারণে মায়ার আশে পাশেও আসবে না। বেচারীর
অনেক কষ্ট হবে। মোটকথা অন্ধ মেয়েকে বাসায়
রেখে কেমনে নিশ্চিন্তে অফিস করব?
এর সমাধান কি হতে পারে? অনেক চিন্তাভাবনার
পর একটা সিদ্ধান্তে আসলাম। সিদ্ধান্ত টা হল
মায়ার চোখ অপারেশন। বিয়ের কথা বলে ছুটি
বাড়িয়ে নিয়ে মায়ার অপারেশনের কাজটা সেড়ে
ফেলতে হবে। চোখে দেখতে পেলেই আর
কোন
সম্মস্যা হবে না। বিশেষ করে চলাফেরা করতে।
নিজের কাজ নিজে করতে।
যেই ভাবা সেই কাজ। গেলাম ডাক্তারের কাছে।
ডাক্তার সাহেব এক সপ্তাহের সময় নিল। এক সপ্তাহ
পর অপারেশন করবেন। তার মানে এক সপ্তাহ
মায়াকে কষ্ট সইতে হবে।
.
সাতদিন অপেক্ষা করার পরে কাংখিত দিন আসল।
রাত ১১ টা ৪৩ মিনিটে মায়ার চোখ অপারেশন করা
হল। একটা নির্দিষ্ট সময় পরে চোখের ব্যান্ডেজ
খোলা হবে ডাক্তার স্পষ্ট কথায় জানিয়ে দিল।
অপারেশন এর পর আপুকে খবর দিলাম। হাসপাতালে
মায়ার সেবাযত্ন করার জন্য আপুই ছিল। আব্বা
আম্মাকে জানিয়েছি। কিন্তু আব্বা একবারো
হাসপাতালে আসে নি। আম্মা মার্কেটের নাম
নিয়ে হাসপাতালে এসে মায়াকে দেখে গেছে। আর
এও বলে গেছে ব্যান্ডেজ খোলার দিন নাও আসতে
পারে। শুনে খুব খারাপ লাগল আমার। আপুও ব্যাপার
টা বুঝে যায়। আপু বলে যেন কনে চিন্তা না করি।
অবশেষে চোখ খোলার তারিখও চলে আসে। আমি
আব্বা আম্মাকে অনেক অনুরোধ করলাম। যেন একবার
এসে মায়াকে দেখে যায়। ছোট বেলা থেকেই
দেখে আসছি আব্বা অনেক কঠিন মনের মানুষ। সহজে
তার মন গলে না। অনেক আকুতি মিনতি করার পরে
আম্মাকে আসতে দিতে রাজি হয়। আম্মাও আর এক
মুহূর্ত দেরী করে নি।
রাত্রে চোখের বাধন খোলা হয়। একে একে সবাইকে
চিনিয়ে দেওয়া হয়। আমাকে আর চিনিয়ে দিতে হয়
নি। মায়া নিজে থেকেই চিনে নিছে। চিনতে
পারবে না কেন? সবাইকে পরিচয় করানোর পরে
আমিই বাকী ছিলাম। আর আমার কণ্ঠও তো তার
অপরিচিত নয়। যার কারণে আমাকে চিনতে তার ভুল
হয় নি।
.
কিছুদিনের মধ্যেই মায়াকে বাসায় আনা হয়। এবার
অন্যান্য প্রতিবেশীরা মায়াকে একে একে এসে
দেখে যায়।
.
এক বছর পর।
.
:- বউমা! বউমা?
:- জ্বী বাবা।
:- কই থাক তুমি?
:- এইতো ঘর গুছাচ্ছিলাম।
:- আমার গোসলের গরম পানি বসাইছ?
:- হ্যা বাবা। আপনি যান। আমি নিয়ে আসছি।
.
মায়া হয়তো কোন যাদু মন্ত্র জানে। নয়তো কেমনে
আমার কট্টর বাপটারে বশে আনল। এখন বউমা ছাড়া
কিছুই বুঝে না। গোসলের পানি, অযুর পানি দেওয়া
থেকে শুরু করে সব কাজই করে দিতে হয়। উনাদের
কারো শরীর, স্বাস্থ্য ভাল না। বয়স হইছে তো তাই।
মাগার আমি যে কি ভুল করছি। সেই ভুলের কারণে
আব্বা এখনো আমার সাথে ঠিক মত কথা বলে না।
মেয়েটা পারেও অনেক। সারাটাদিন একটা না
একটা কাজ করতেই থাকে। জিজ্ঞেস করলে বলে
তার নাকি কাজ ছাড়া ভালই লাগে না। আমি যতই
আব্বার কাছাকাছি যেতে চাই ততই দূরে চলে যাই।
কিছুতেই কাছে যাইতে পারি না। যতরাগ আমার
উপরেই দেখাতেই পারে। ফ্ল্যাশব্যাকে যাবার কোন
ইচ্ছাই ছিল না। তবুও যেতে হচ্ছে। অন্তত এটুকু বলি।
আমার কট্টর বাবা কেমনে তার বউমার প্রতি নরম হল?
আসলে কারো মন পেতে হলে কেয়ারটেকারের
কোন
তুলনা নাই। আমি যখন অফিসের কাজে সিলেট
গেলাম। তখন আব্বা এক্সিডেন্ট করে। আব্বার
এক্সিডেন্ট এর কথা শোনে আম্মা স্ট্রোক করে।
তেমন কোন ক্ষতি হয় নি। অল্পে অল্পে বেঁচে
গেছে।
.
আমি বাড়িতে নাই। আব্বা, আম্মা আর আমার বউ
ছাড়া আর কেউ নাই। এক্সিডেন্ট হবার দিনই মায়া
আমাকে ফোন করে খবরটা দেয়। আমি আসার জন্য
টিকেট কেটে ফেলি তবুও আসতে দেয় না। মায়ার
প্ল্যান হল এই সুযোগেই আব্বার আম্মার মনের ভেতর
একেবারে গেথে যাবে। প্ল্যানটাও কিন্তু খুব সুন্দর।
কাউকে না পেয়ে মায়াকেই সেবা করতে বলবে।
হয়তো মুখে বিরক্তির ছাপ দেখাবে কিন্তু অন্তরে
মোটেই বিরক্তি থাকবে না। আমি মানা করলাম।
আমার বাপকে তো আমি চিনি। বউকে পাশে না
পেয়ে যদি কাজের মেয়ে রেখে দেয় তবে প্ল্যানটা
সফল হবে না। তাই বিরক্তিবোধ করতে মানা করলাম।
কথামত তাই করল।
.
মায়া ফোন দেবার কিছুক্ষণের মধ্যেই আপুর ফোন।
আমিও তাকে আসতে মানা করলাম। যেন আমার বউই
সব কাজ করতে পারে। দুজনেই যেন মায়ার উপরেই
নির্ভরশীল হয়। আব্বা সুস্থ হবার পরে আমি বাড়িতে
আসলাম। সবাই আমাকে দোষাদোষী করল। এও বলল,
আমি কেমন সন্তান যে বাবার এক্সিডেন্ট এর খবর
পেয়েও আসি নি। আব্বা তো ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে
নেয়। আম্মা আর তা পারে না। শুধু দীর্ঘ নিশ্বাস
ফেলতে পারে। আমি আব্বা আম্মার মাঝে ঢুকতে
পারি নি। তাতে আমি মনঃক্ষুণ্ণ নই। মায়া যে ঢুকতে
পেরেছে এটাই বা কম কিসে? মায়াই সবচেয়ে বড়
বাধা ছিল। আমিও এমন সুযোগ বুঝে আব্বা আম্মার
মনে এন্ট্রি নিয়ে নেব।
মায়া কথা দিয়েছে আমাকেও এক সুযোগে বাবা
মায়ের অন্তরে ঢোকার ব্যবস্থা করে দেবে।
.
এক্সিডেন্ট এর খাতিরে মায়া তার শ্বশুড় শ্বাশুড়ির
বউমা হতে পেরেছে। মন থেকেই মেনে নিয়েছে
মায়াকে। বাড়িতে আসার পরেই খুব করে বুঝেছি।
.
বাবা মার সাথে দুরত্ব থাকা ঠিক না। যেভাবেই
হোক তাদের মাঝে ঢুকতেই হবে।
.
আব্বা আমাকে দেখতেই পারে না। কেননা আমার
আর উনার চলার স্টাইল একেবারেই আলাদা।
আমারটা তার, তারটা আমার ভাল লাগে না। বাবা
মনে করে আমি ভুল পথে এগুচ্ছি আর আমি মনে করি
বাবার চলাফেরায় আমি নিজেকে হ্যাপী করতে
পারব না। বাবার কথা মানি না। তাই ভাবছেন
অমানুষ হয়ে গেছি । না ভাই। বাবার আদর্শেই মানুষ
হয়েছি। শুধু এই একটা দিক দিয়ে আমাদের মিল নাই।
বাবার সব কথাই মানি কিন্তু এই কথাটা ছোটবেলা
থেকেই মানি না।
.
মায়া আর আমি মিলে পরামর্শ করলাম। পরামর্শ
অনুযায়ী মা বাবার কাছে গেলাম। দেখি উনারা
বসে টিভি দেখছে। বাহ! বাহ! রোমান্টিক মুভি
দেখতেছে। বাবার এই বয়সে নিউজ ছাড়া আর কিছুই
দেখার কথা না। তবুও এই বয়সে নাটক আর রোমান্টিক
মুভি দেখে।
আমি ব্যাপারটাকে আমলে না নিয়ে আম্মার পাশে
বসলাম।
আব্বা জিজ্ঞাসু চোখে আমার দিকে তাকিয়ে
আছে। আম্মা আমাকে জিজ্ঞেস করল --
.
:- রাজ কিছু বলবি?
:- হ্যা মা।
:- বল তাহলে।
আমাদের কথাবার্তা আব্বা স্পষ্টত বুঝতে পারছিল
না। তাই রিমোট দিয়ে ভলিউম কমিয়ে দিল। আমি
এক মুহূর্ত আব্বার মুখপানে তাকিয়ে আবার আম্মার
সাথে কথা বলা শুরু করলাম। আমি ভাল করেই বুঝতে
পারছি। আমি কি বলি আব্বা তা জানতে চায়। তাই
একটু জোরেই কথাগুলো বলতেছিলাম।
:- আম্মা। তোমরা রাজি থাকলে মায়াকে আমার
কাছে রাখতে চাই।
:- ওতো তোর কাছেই আছে।
:- না মা। আমি এটা বলি নি। বলেছি। আমি মায়াকে
নিয়ে এখানে থাকতে চাই না। অফিসের কাছাকাছি
ফ্ল্যাট নিয়েছি। ওখানেই থাকব। মায়াকে বলেছি।
মায়াও রাজি হইছে। এখন তোমরা কি বল?
:- তোর তো এখানে কোন অসুবিধা হচ্ছে না। তাহলে
চলে যাবি কেন?
:- এখান থেকে অফিস অনেক দূরে। তাই আর কি!
আব্বা রিমোট টা ছুড়ে ফেলে দিয়ে উঠে গেল।
বুঝলাম কথাটি খুব গায়ে লেগেছে। কোন মা বাবাই
চায় না। তাদের সন্তান দূরে থাকুক। উনিও চাচ্ছেন
না।
হ্যা বা না কোন উত্তরই আমি পাই নি। আব্বার পিছু
পিছু আম্মাও চলে গেল।
আমি সোফা থেকে উঠে গিয়ে রুমে আসলাম।
পরদিন সকালে মায়া রেডি হচ্ছে। গোসল করতে
বাথরুমে গেছে।
প্রতিদিন সকালে মায়া বাবাকে চা দিত। বাবা
চেয়ারে বসে চা খেত আর পত্রিকা দেখত। কিন্তু
আজ চা দেয় নি।
.
মেয়েদের সাজগোজ করতে এমনেতেই বেশী
সময়
লাগে। তাই ওকেই আগে পাঠালাম। আমি রেডি হতে
আর কতক্ষণ লাগবে? বড় জোর বিশ মিনিট। বিশ
মিনিটে গোসল করা থেকে টাই বাধা পর্যন্ত সব
করতে পারি কিন্তু মেয়েরা তাদের শাড়ির
সেফটিপিন লাগাতে লাগাতেই বিশ মিনিট পার
করে দেয়। আর আয়নার সামনে ঘন্টা দেড়েক না
বসলে মনে করে কী যেন অপূর্ণ রয়ে গেল। সব
মিলিয়ে দুই আড়াই ঘন্টার নিচে পারে না। এতক্ষণ
সাজার পরেও যদি পেত্নীর মত লাগে তবে মনটা কি
করতে চায়? মায়াকে অবশ্য তেমন লাগে না। সময়
নিয়ে সাজে কিন্তু অতিরিক্ত কিছুই মাখে না। তাই
পরীর মতই মনে হয়। অনেকেই আছে বেশী কিউট
লাগার জন্য কয়েকধরনের পারফিউম ইউজ করে। এতে
সুগন্ধ বাড়াবে দূরে থাক। খুব বাজে ফিলিংস আসে।
মেয়েদের আইলেনার, মাশকারা, লিপষ্টিক এর
আলাদা আলাদা গন্ধ আছে। সবাই তো গন্ধ ছড়াতে
ব্যাকুল হয়ে পড়ে। তার মধ্যে আবার পারফিউম
লাগায়। চারপাশটার গন্ধ মিলিয়ে এক সময় গোবরের
মত নোংরা গন্ধ বের হয়। যা অনেক সময় বমির কারণও
হতে পারে।
আপু এই লেখাটা পড়ে অনেকেই রাগ করবেন। রাগ
করলেও কিছু করার নাই। বাস্তব কথাটাই বললাম।
.
মূল গল্পের বাইরে চলে গেছিলাম। ফিরে আসা যাক
গল্পে।
.
আব্বা চেয়ারে বসেই মায়াকে ডাক দিল।
:- জ্বী আব্বা। বলেন।
:- তোমরা কি সত্যিই চলে যাচ্ছ?
:- হ্যা বাবা।
:- ওকে যাও।
.
কিছুক্ষণ পর আমরা রেডি হয়ে গেলাম। দেখি আব্বা
আম্মাও রেডি হয়ে কোথায় যেন যাচ্ছে।
আব্বা আমাকে ডাক দিল।
:- রাজ?
:- হ্যা। আব্বা।
:- আব্বা আপনারা কোথায় যাচ্ছেন? ( মায়া )
:- এখানে দেখার মত তো কেউ নাই তাই বৃদ্ধাশ্রমে
চলে যাচ্ছি। ( বাবা )
:- কি বলছেন এসব?
:- ঠিকই বলছি।
:- কিন্তু আপনারা কেন যাবেন?
:- এখানে থাকার কোন মানেই হয় না। এক গ্লাস
পানি ভরে দেবার মত কেউ নাই। মরে পঁচে গেলেও
কেউ খোজ নিতে আসবে না। তো এখানে থেকে কি
করব?
আম্মা এগিয়ে এসে আমার হাত ধরে ফেলল। বলল -
:- রাজ। বাবা আমার তোরা কোথাও যাস না।
:- কিন্তু মা। তোমাদের সাথে আমার সম্পর্ক মোটেই
ভাল নাই। আমরা কি করে থাকি বল?
:- কে বলেছে এই কথা?
:- সব কথা বলতে হয় না। দেখেও বুঝা যায়। আমি কি
এমন অপরাধ করেছি বাবা আমার সাথে ভাল করে
কথাই বলে না। সবসময় রাগী মোড নিয়ে কথা বলে।
কথাটা বাবার খুব লাগল। তাই আমাকে জোরে দুইটা
চড় মারল বাবা।
:- তুই যাবি যা। আমার বউমাকে রেখে যা। ( বাবা )
:- না বাবা। বিপদে আপদে স্বামীর পাশে থাকা
প্রত্যেক স্ত্রীর দায়িত্ব ও কর্তব্য। আমিও স্বামীর
সাথেই থাকতে চাই। রাজের বিপদ এখন। ( মায়া )
:- তোমরা দুজনেই থেকে যাও। আমরা সবাই থাকি
তোমার স্বামীর পাশে। ( মা )
কথাটি শুনে মায়া আমার দিকে আমার দিকে
তাকাল। আমার কাছে উত্তর জানতে চাচ্ছে।
:- থাকতে পারি এক শর্তে। বাবা যদি আমার সাথে
ভাল ভাবে কথা বলে। ( আমি )
:- তোর কাছে কি আমাকে মাফ চাইতে হবে?
( বাবা )
:- না বাবা। মাফ তো চাইব আমি। তোমার অমতে
মায়া কে বিয়ে করেছি। তোমার মনে খুব কষ্ট
দিয়েছি।
:- তো দেরী করছিস কেন? মাফ চা। ( বাবা )
আমিও বাবার পায়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে বাবার কাছে
মাফ চাইলাম। বাবা আমাকে বুকে জড়ায়ে নিলেন।
.
অবশেষে শেষ হল। বাপ ছেলের মান অভিমান।
.
.
.
,,,,,,,,,,, সমাপ্ত,,,,,,,,,,,
.
[[ সবচেয়ে বড় গল্প এটা। অনেকেই বড় গল্প দেখেই
বিরক্ত হয়ে যান। কিন্তু কি করব বলেন? লেখতে
লেখতে কখন যে বড় হয়ে যায় নিজেও টের পাই না।
যখন পাঁচ পর্ব লেখলাম তখন মনে হল কেবল মাত্র
অর্ধেক শেষ হল।
গল্পটা নিজের কাছেই তেমন ভাল লাগে নি। জানি
না পাঠক পাঠিকারা কেমনে নিবেন। অসুস্থ শরীর
আর প্রচুর মাথাব্যথা নিয়ে গল্পটা শেষ করলাম।
গল্পটি লেখতে চেয়েছিলাম কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল
কলেজ নিয়ে। শুরুও করেছিলাম সেইভাবে। মাঝখানে
এসে গল্পটা অন্যদিকে মোড় নিয়ে নেয়। বাধ্য হয়েই
টপিক্স পাল্টাই। গল্পটিতে বলা হয়েছে। আমি
( রাজ ) ঐ কলেজের স্টুডেন্ট। কিন্তু বাস্তবে তা নই।
কিশোরগঞ্জে বেড়াতে গেছিলাম। তখনি চিন্তা
করেছিলাম। কিশোরগঞ্জ কে মূলে রেখে একটা থিম
সাজাব। আসলে কিশোরগঞ্জের সেই দৃশ্যটা খুব
মনকাড়া ছিল। এত সুন্দর দৃশ্য আমি কখনোই দেখি নি।
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āĻļুāĻ্āϰāĻŦাāϰ, ā§§ā§Ģ āϏেāĻĒ্āĻেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§
1635
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
⧍:⧧⧧ AM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ