ভার্সিটিতে পা রাখতেই জোরে
ব্রেক চাপলাম
নিজের। এত জোরে ব্রেক চাপলাম।
বাইকের
হাইড্রলিক ব্রেকও এমনভাবে চাপে
না। ব্রেক
চেপেও কোন কাজ হল না। ধাক্কা
খেয়ে মাটিতে
পড়ে গেলাম। সবার হাসাহাসির শব্দ
শুনে আমি চোখ
খুললাম। দেখি একটা সুজির বস্তা আমার
উপরে পড়ে
আছে।
,
আসলে হইছে কি? আজকে ভার্সিটিতে
একটু দেরী
করে আসছি। ইচ্ছা করে আসিনাই। কাল
রাতে বৃষ্টি
হইছে। বৃষ্টি এলে আমার সেই রকম ঘুম হয়।
এই ঘুমের
জন্যই লেট। লেট তো লেটই। রিক্সা
থেকে নেমে
যেই না গেটের দিকে পা
বাড়িয়েছি। তখনি একটা
মেয়ে দৌড়ে এসে বুকে ঝাপায়ে
পড়েছে। আমি
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিছনে পড়ে যাই।
কি ভাবছেন? মেয়েটি খুশী হয়ে
আমাকে জড়িয়ে
ধরেছে? না ভাই। মেয়েটি অনেক দুষ্টু।
অন্য একটা
মেয়ে তাকে দৌড়ানি দিছে।
দৌড়িয়ে লুকাতে
চেষ্টা করছিল। এত জায়গা থাকতে
গেটের দিকে
কেন আসতে গেল? সবই ভাগ্য। এমন
খারাপ ভাগ্য
কয়জনের হয়। অনেকেই ধাক্কা
খাওয়াকে সৌভাগ্য
বলবেন কিন্তু আমি দুর্ভাগ্য বলছি।
তিনটা কারণে
বলছি।
১। আমার ড্রেস নষ্ট হয়ে গেছে। এখন যে
ম্যাডামের
ক্লাস উনি ড্রেস ছাড়া কাউকে ঢুকতে
দেয় না। আর
আমি এই ম্যাডামের ক্লাস করতেই
ভার্সিটিতে
এসেছি।
২। কাল পাড়ার ছোট ছেলেদের সাথে
ফুটবল খেলতে
গিয়ে আছাড় খেয়ে কোমড়ে ব্যাথা
পাইছি। আজ এই
মেয়ের জন্য কোমড়ে আবার ব্যাথা
পেলাম।
৩। সম্পূর্ণ দোষ মুক্ত থাকতেও আমাকে
দোষী
সাব্যস্ত করল। আর কিছু উত্তম মধ্যম
আকারের ঝাড়ি
দিয়ে চলে গেল।
,
সবশেষে বুঝলাম। এই মেয়েটা একটা
পুরাই
ঝালমরিচ।,
আরেকটা ঘটনা।
আমি রুমে ব্যাগ রাখতে এসে দেখি
ক্লাসরুম পুরাই
ফাঁকা। আমি একাই রুমে। সমস্যা হল
কোনটা কার
ব্যাগ? চিনাই যাচ্ছে না।আই মিন এই
ব্যাগটা কি
মেয়ের নাকি ছেলের? বুঝতে অক্ষম।
দেখলাম
মাঝের দিকের বেঞ্চে একটা সিট
ফাঁকা।
বাকিগুলো সিট ফিলাপ। যদি মটো হয়
তাহলে
কোনরকমভাবে চারজন বসা যাবে। আর
পাটলু হলে
বড়জোর পাঁচজন বসা যাবে। আমি রিক্স
নিতে
গেলাম না। যে বেঞ্চে দুইজন বসেছে
সেই বেঞ্চে
ব্যাগটা রাখলাম। কিন্তু এখনো বুঝতে
পারলাম না।
আমি বাদে বাকিরা কই গেছে?
বাইরে উকি দিয়ে দেখি। জামিল
হন্তদন্ত হয়ে
কোথায় যেন যাচ্ছে?
:- এই জামিল শোন!
:- হ্যা বল।
:- এদিকে কোথায় গেছিলি?
:- বাথরুমে।
:- আমি আর তুই বাদে বাকিরা কই?
:- প্রিন্সিপালের রুমে।
:- কেন?
:- স্যার জরুরী ভাবে সবাইকে
ডেকেছে।
:- আচ্ছা। চল আমিও যাই।
:- চল।
,
প্রিন্সিপাল এর রুমে গিয়ে সবার পিছন
থেকে উকি
দিলাম। আমার চাঁদবদন মুখখানি দেখে
স্যার বত্রিশ
পাটি দাঁত বের করে হাসি দিল।
:- আরে রাফিন। আস।
:- এইতো আসছি স্যার।
:- আজকে দুপুরে পাশের কলেজ থেকে
ফুটবল খেলতে
আসছে। তোমাকে খেলায় থাকতেই
হবে।
:- আচ্ছা স্যার।
:- কি আচ্ছা, আচ্ছা করছ? ঐ কলেজ যেন
কিছুতেই
জিতে যেতে না পারে!
:- জিতার চেষ্টা করব স্যার।
:- ওকে। এইজন্যই তোমাদের
ডেকেছিলাম। তোমরা
সবাই ক্লাসে যাও।
প্রিন্সিপাল এর রুম ছেড়ে চলে
এসেছি।
ক্লাসের কাছাকাছি আসতেই ভিতরে
গোলমাল
জাতীয় হৈ চৈ শুনলাম।
আমি ভিতরে গিয়ে শুধু এইটুকু শুনলাম।
সবার শেষে রাফিন রুমে এসেছিল।
তাও এই কথাটা
বলল, জামিল।
:- রাফিন, তুমি সবার শেষে
এসেছিলে?
:- হুম্ম। কেন কি হইছে?
:- তাহলে এই কাজটা তোরই। ( কলার
চেপে ধরে )
:- কোন কাজ? আমিতো কিছুই বুঝতেছি
না।
:- ন্যাকামো হচ্ছে? তাই না....
কিছু বুঝার আগে তিনটা থাপ্পড় আমার
গালে পড়ল।
মেয়েদের হাত খুব নরম। তাই পাঁচটা
আঙুল ই গালে
বসে গেছে।
আমি তো পুরাই আবুল হয়ে রইলাম। কি
হচ্ছে কিছুই
বুঝতাছি না। অবশেষে ঝর্ণা ম্যাডাম
আসলেন
ক্লাসে। উনি বেজায় রাগি।
ভার্সিটির ক্লাসেও
বেত ইউজ করতেন। এত বড় বড় ছেলেদের
কে বেধরক
ভাবে পেটাতেন।
প্রতিদিনের মতই আজো বেত নিয়ে
হাজির হলেন।
উনি যখন রুমে আসলেন। তখন এক শয়তান
ছেলে বলে
উঠল, এই সবাই ভাল করে বসে পড়। জরিনা
ম্যাডাম
আসতেছে।
ম্যাডাম রুমে ঢুকেই টেবিলে বেত
দিয়ে দুই তিনটা
ঠাস ঠাস করে বাড়ি দিলেন। এই
ম্যাডামের ক্লাস
করলে মনে হয় যেন আমরা ভার্সিটির নই
মাধ্যমিকে
র স্টুডেন্ট।
:- Hellow boys and girls. Attention plz...
:-....... ( Everyone Quite )
:- কথাটি কে বলেছ?
,
মিথ্যা বলার সুযোগ নাই। কামাল
দাড়িয়ে গেল। ওর
পিঠে সপাং সপাং করে বেত
চালাল। ম্যাডামের
মেজাজ অনেক গরম। এই সময়ে আফরিন
সেই কাগজটি
ম্যাডামের কাছে দিল।
ম্যাডাম তো রেগেমেগে আগুন। চোখ
দিয়ে কেবল
লাভা বের হচ্ছে।
যার নামের প্রথম অক্ষর আর ( R ) তারা
দাড়াও।
জাস্ট ছেলেরা।
আমার নাম আর দিয়ে তাই দাড়িয়ে
গেলাম। আর
নামের কেউ সেদিন ভার্সিটি তে
আসে নি। হয়তো
এসেছে কিন্তু ম্যাডামের ক্লাসে
অনুপস্থিত।
আমি দাড়িয়ে রইলাম।
.
ম্যাডাম এসে জিজ্ঞেস করলেন।
:- তোমার নাম কি?
:- রাফিন।
:- এই কাগজটি ওকে কেন দিয়েছ?
:- আফরিনকে এটা আমি দেই নি।
:- ম্যাডাম ঐ দিয়েছে। যখন কেউ
ছিলাম না। তখন
জামিল ওকে রুমে দেখেছে। ( আফরিন )
:- হ্যা ছিলাম কিন্তু ম্যাডাম বিশ্বাস
করেন। আমি
এই চিঠি দেই নি।
এরপর অনেক কথা কাটকাটি হল। শেষে
সব দোষ
আমার উপরেই বর্তাল। ম্যাডাম আমাকে
সপাং
সপাং করে বেত মারলেন। অনেক কষ্টে
সহ্য করলাম।
,
দুপুরে পাশের কলেজ থেকে খেলতে
এল। এই সময়
ভার্সিটি পুরাই খালি থাকে। কিন্তু
আজ সবাই
খেলা দেখবে তাই ছেলে মেয়ে উভয়ই
রয়ে গেল।
দুইটা পনেরর দিকে খেলা শুরু হল। নব্বই
মিনিট খেলা
চলবে। আমি নামি নি। কারণ শরীরটা
প্রচন্ড ব্যাথা
করছিল। হাফ আওয়ারের পূর্বেই দুটো
গোল আমাদের
ভার্সিটি খেয়ে বসেছে। খাবেই তো
আমাদের এক
হিটলার আছে। সে বাজি ধরে
এসেছে। ঐ কলেজের
সাথে। কিন্তু যারা মোটামুটি ভাল
খেলে তারা
অনেকেই আসে নি। ফোন করা
হয়েছিল। চারজন
এসেছে। বাকীরা কাজে অনেক
বিজি তাই আসে
নি। এইভাবে খেলা চললে আজ নিচের
পক্ষে চারটা
গোল খাবে। প্রিন্সিপাল এর মুখের
দিকে তাকানো
যাচ্ছে না। অনেকেই খেলতে বলেছে।
সবাইকে
উপেক্ষা করেছি। কিন্তু যখন
প্রিন্সিপাল নিজে
বললেন। তখন আর না করতে পারি নি।
কেননা উনার
আর আমার মাঝে অন্যরকম বন্ধুত্ব আছে।
সবার থেকে
আমাকে বিশেষ নজরে দেখে।
জার্সি পড়ে নেমেছিলাম। যখন দৌড়
দেই তখন
বাতাসে উড়ে। তখন পিঠে ঘষা লাগে
তাই আঘাত
জনিত স্থানে প্রচন্ড ব্যাথা হয়। বাধ্য
হয়ে জার্সি
খুলে ফেলি। পড়নে শর্ট প্যান্ট ও
সেন্টো গেঞ্জি।
বেতের দাগ গুলো পরিষ্কার বুঝা
যাচ্ছে। ইতিমধ্যে
দুটো গোল শোধ করে ফেলেছি। খেলা
শেষ হবার
আধা ঘন্টা আগে আমি ফরওয়ার্ড থেকে
ডিপেন্ডিং
এ চলে আসি। ফরওয়ার্ড এ থেকে গোল
দেওয়া
অনেক কঠিন। ডিপেন্ডিং এ এসে
সারামাঠ
দৌড়ানোর সুযোগ পাই। অর্থ্যাৎ বল
যেখানে আমিও
সেখানে থাকি। দেখতে দেখতে
আফরিন যেদিকে
বসেছে সেদিকে থ্রু নির্ধারিত হয়।
সেটার দায়িত্বও
আমার। যখন থ্রু করতে যাই তখন আফরিন
আমার
পিঠের দাগগুলো স্পষ্ট দেখতে পায়।
আড়াআড়ি
ভাবে দাগগুলো বসে গেছে। কতক
স্থানে রক্ত
জমাটও বেধে গেছে। খেলার পাঁচ
মিনিট থাকতে
আমি একটা গোল করি। সেই গোল আর
শোধ করতে
পারে নি। বাকি দুটো আমাদের সবার
সহযোগিতায়
অরুপ গোল করে। সে আমাদের জুনিয়র।
কিন্তু দারুন
খেলে তাই ওকে নেওয়া হয়।
তিন দুই গোলে পরাজিত হয়ে সেই
কলেজ ফিরে
গেছে।
যখন শেষ মুহূর্তে আমি গোল করলাম তখন
বেশ
টানটান উত্তেজনা সবার মাঝে কাজ
করছিল। সবাই
লাফিয়ে উঠেছিল যার যার আসন
থেকে। এত
উত্তেজিত হওয়ার কারণ আছে।
প্রতিপক্ষ গোল রক্ষক
অনেক ভাল ছিল। একটা বলও ফসকে
যেতে দিত না।
আমি যখন গোল পোষ্ট লক্ষ করে কিক
দেই তখন পা
পিছলে গোল রক্ষক পড়ে যায়। এইতো
গোল হয়। নতুবা
অনেক কঠিন ছিল গোল দেওয়া।
বারবার আক্রমণ
করেও আমরা পেরে উঠি নি।
যাক সবশেষে খেলা শেষ হল। আমি
ফ্রেশ হতে
টিউবওয়েলে গেলাম। তখন দেখি
আফরিন তার
বান্ধবীদের সাথে দাড়িয়ে আছে।
আমি তাড়াতাড়ি
করে গায়ে রোমাল জড়িয়ে নেই।
:- আর ঢাকতে হবে না। যা দেখার
দেখে ফেলেছি।
( বান্ধবী )
:-................
,
আমি কোন কথা না বলে চুপচাপ হাতমুখ
ধুয়ে ফ্রেশ
হয়ে নিই। এবং সেদিনের মত চলে
আসি।
.
সাতদিন পরে ভার্সিটি আসি। খুব জ্বর
হয় আমার।
তাই আসি নি।
কলেজ গেট থেকে শুরু করে ক্লাসরুমে
আসার আগ
পর্যন্ত অনেকেই স্যরি বলল। কিন্তু কি
জন্য বলছে তা
আমি এখনো বুঝিনি। ক্লাসে ঢুকেই
হতবাক।
আফরিন কান ধরে দাড়িয়ে আছে।
:- এই আপনি কান ধরে দাড়িয়ে আছেন
কেন?
:- স্যরি।
:- কিসের স্যরি ?
:- আপনাকে ভুল বুঝে মার খাওয়ানোর
জন্য।
:- এখন আর স্যরি বলে কি হবে??
:- মাফ করে দেবেন।
:- না না আমি কিছুই মনে করি নি। ওসব
আমার মনেই
নেই।
:- সত্যি বলতেছেন? ( খুশী হয়ে )
:- হুম্ম।
:- গুড বয়।
:- এই যে শুনোন?
:- জ্বী বলুন।
:- আমরা কি বন্ধু হতে পারি?
:- অবশ্যই! কেন নয়।
:- ওকে ডান। আজ থেকে আমরা বন্ধু।
:- হুম্ম।
,
আমি কিন্তু ভাই জাত গোখরো।
সবাইকে ছোবল
মারি না। যাকে মারি তার মৃত্যু
নিশ্চিত।
কি ভাবছেন? আমি আফরিনের রুপে
পাগল হয়ে
নিজে এসে স্যরি বলাতে গলে গেছি।
না ভাই আমি
অত সমজে কিছু ভুলি না। হয়তো অভিনয়
করি ভুলে
যাওয়ার কিন্তু ভুলি না। এই মেয়ে
আমাকে দুইবার
হেস্তনেস্ত করেছে। আবার এই মেয়ের
জন্যই সাতদিন
বিছানায় পড়ে ছিলাম। কি করে এই
মেয়েকে এত
তাড়াতাড়ি মাফ করে দিই। ওকে
একটা কঠিন
শিক্ষা দেব। মনে মনে এই সিদ্ধান্ত
নিয়েছি। কিছু
দিন, দরকার হলে কিছু মাস এমন সুইট
ব্যবহার করব
যাতে সে আমার প্রেমে পড়তে বাধ্য
হয়। প্রেমে
হাবুডুবু খায়। তারপর শুরু করব আসল খেলা।
এক নাম্বার মিশন হল। বন্ধু থেকে
প্রেমিক হতে হবে।
কিভাবে হব তাই ভাবছি।
.
দীর্ঘ সাতমাস পরে।
এই মেয়েকে পটানো খুব সহজ কাজ নয়। এই
সাতমাসে
বুঝেছি। এখনো পটেনি তবে লাইনে
এসেছে। কিছু
দিন গেলেই আমি প্রোপোজ না
করলেও আফরিন
ঠিকই প্রোপোজ করবে।
,
আফরিন হল বড়লোক বাবার নষ্ট হয়ে
যাওয়া বখাটে
মেয়ে। কলেজে নতুন অবস্থায় ওর প্রধান
কাজ ছিল
ছেলেদের র্যাগিং করা। কি যে মজা
পেত সে আর
আল্লাহ ই ভাল জানে। আমি তাকে
অনেকটা ছাচে
ফেলেছি। এখন আমাকে নিয়েই ওর দিন
কাটে।
শয়নে, স্বপনে আমাকেই ভাবে।
আমি ওর সাথে কথা বলার সময় একধরনের
উদাসীনতা
দেখি। কিছু হতাশাও কাজ করে ওর
মাঝে। আমি
বুঝতে পারি। ও কি আশা করছে? তবুও
আমি ওকে সেই
আশা পূরণ করি না। এইভাবেই ওকে
জ্বলতে দেখলে
খুব মজা লাগে আমার। আড়ালে প্রচন্ড
হাসাহাসি
করি।
.
জুকারের কীর্তি দেখলেও ততটা
হাসি পায়না যতটা
আফরিনকে দেখলে হাসি পায়। বহুত
জ্বালাইছ এখন
নিজে একটু বোঝ যাকে জ্বালাতন কর
তার কিরকম
লাগে? এমন শিক্ষা দেব। পরবর্তীতে
যাতে মাটির
দিকে চেয়ে কলেজে আসে আর যায়।
শীতের এক সকালে আমরা বন্ধুরা
আড্ডা দিচ্ছি
ক্যাম্পাসে বসে। আমি, শিলা, নীলা,
নীরব। এই
চারজন। শীলা বসেছে আমার গা
ঘেষে। নীরব এমন
জোক্স বলে সবাই হেসে কুটি কুটি।
তারমধ্যে শীলা
ছিলা অন্যরকম। কথায় আছে না....
এই রকম নাচের কাঠি
তার উপর ঢোলের বাড়ি।
ব্যাপার টা তেমন হইছে।
কেউ যদি শীলাকে নাম পর্যন্ত
জিজ্ঞেস করে তবুও
সে হেসে গড়াগড়ি খায়। এত হাসতে
পারে মেয়েটা।
প্রচুর হাসাহাসির কারণে অনেককে
বিরক্ত লাগে
কিন্তু শীলার হাসিতে কেউ বিরক্ত হয়
না। আমিতো
নই ই। ও হাসলে গালে টোল পড়ে।
হাসিতে যেন
মুক্তা ঝড়ে পড়ে। মনে হয় আচল পেতে
মুক্তা কুড়াই।
মেয়েটি এমনই। হাসার রোগ আছে।
হ্যালোজেন
নামক এক প্রকারের গ্যাস আছে যার গন্ধ
নাক দিয়ে
নিলেই হাসি পায়। আমার মনে হয় সে
পর্যাপ্ত
পরিমান হ্যালোজেন সেবন করে আসে।
তাই সে এত
হাসতে পারে।
আড্ডায়। শীলা হাসতে হাসতে আমার
উপরে লুটিয়ে
পড়ে। মাঝে মাঝে আমাকে জড়িয়ে
ধরতে আসে।
তখন আমি নিজেকে সেভ করে নেই।
জড়িয়ে ধরাও
এক প্রকার ভাইরাস। এই অভ্যাস গড়ে
উঠলে ছেলে
কিংবা মেয়ে কাউকে জড়িয়ে না
ধরলে শান্তি
পাওয়া যায় না। আমার এক চাচা ছাত্র
জীবনে
মেয়ে দেখলেই চোখ টিপ মারত সেই
যে অভ্যাস
হইছে। এখনো ছাড়তে পারে নাই।
অনন্যার বিয়ের
সময় অনন্যার হবু শ্বাশুড়িকে চোখ
মেরেছিল। পরে
আর কী। তার মেয়ের ( অনন্যার )
বিয়েটাই ভেংগে
যায়। আমারো যদি জড়িয়ে ধরা অভ্যাস
হয়ে যায়
তবে তো আর শেষ রক্ষা বলে কিছুই
থাকবে না।
,
আফরিন যখন গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে
প্রবেশ করে
তখন আমি তাকে দেখে ফেলি।
পরবর্তীতে যখন
শীলা আমাকে জড়িয়ে ধরতে যায় তখন
আর বাধা
দেই না। যাতে আফরিন হিংসায়
জ্বলে উঠে।
,
বুঝলাম না। আমার আইডিয়া কি মিস
হয়ে গেল?
আফরিন আমাদের পাশ কাটিয়ে রুমে
চলে গেল।
তাহলে কি আফরিন এসব দেখেনি?
ওহ নো। না দেখে থাকলে আবার
পরিকল্পনা করতে
হবে। মাথায় হাত চেপে বসে গেলাম।
এমন সময়
ফোনটা ভাইব্রেশন করে উঠল। এই অসময়ে
কে আবার
ফোন দিল? ফোন বের করে দেখি নিউ
নাম্বার মানে
রং নাম্বার। রিসিভ না করে আবার
পকেটে ঢুকিয়ে
দিলাম। দ্বিতীয় বারের মত ভাইব্রেট
হল এবার বের
করার সময়ই চাপ লেগে রিসিভ হয়ে
গেল।
:- এই তুমি ফোন ধরনা কেন?
:- আপনি কে? ( কন্ঠ শুনেই চিনেছি এটা
আফরিন তবুও
পাল্টা প্রশ্ন )
:- আফরিন।
:- ওহ হ্যা বল। আর তুমি কলেজে আসবা
না?
:- তার আগে বল তুমি ফোন রিসিভ
করলে না কেন?
:- ওহ আমিতো টের পাই নি। ফোনটা
ভাইব্রেট
করাতো।
:- মিথ্যা কথা বল কেন?
:- আবার কি মিথ্যা কথা বললাম?
:- তুমি ফোন বের করেছিলে। নতুন
নাম্বার দেখে
আবার পকেটে রেখে দিলে। আমি সব
দেখেছি। সব।
:- ওহ তুমি কলেজে?
:- এই একদম কথা ঘুরাবা না বলে দিলাম।
আড্ডা
ছেড়ে পুকুর পাড়ে আস। দেখাচ্ছি মজা।
,
আমি তো ডিংকা চিকা ড্যান্স
মারছিলাম। কেননা
আমার প্ল্যান সাকসেসফুল। কষ্ট করে নতুন
প্ল্যান
বানাতে হবে না। পুকুর পাড়ে গিয়ে
আফরিন কে কি
বলে ঠান্ডা রাখব তার উপায় আমার
জানা আছে।
অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নিলেই হবে।
:- এই যে লাটসাহেব এদিকে আসেন।
:- ওহ তুমি এখানে? আর কলেজে কখন
আসলে?
:- কিছুক্ষণ আগে।
:- কি জিন্য ডেকেছ?
:- খুব বেশী বিজি নাকি তুমি? নাকি
আড্ডা ছেড়ে
এসে মনটা উতাল পাতাল করতেছে।
বিউটি কুইন
শীলার পাশে থেকে উঠে এসে এই
পেত্নী
আফরিনের কাছে বসে থাকতে বিরক্ত
লাগছে
নাকি?
:- না। কি যাতা বলছ! তুমি না কি
বলবা? তাইতো
ডেকে আনলে। আর আমি সেই জন্যই তো
জিজ্ঞেস
করেছি।
:- ওহ স্যরি। আমি আবার কি নাকি
ভাবলাম।
.
ইচ্ছা হচ্ছে লুঙ্গী ড্যান্স দেই। কিন্তু
দেওয়া যাবে
না। প্ল্যান তাহলে যথার্থই কার্যকর
হয়েছে। আমার
প্ল্যানিং শীলা, নীলা, নিরব এরা
কেউ জানত না।
যদি জানত তাহলে আমাকে এই নিষ্ঠুর
খেলা খেলতে
দিত না। যদিও আমি পাকা
খেলোয়ার। সেহেতু
অন্যকারো প্রয়োজন নাই এই খেলায়।
আমি একাই
পারব।
:- এখনো চুপ করে থাকবা আফরিন? কিছু
বলবানা?
:- হুম বলব।
:- তাহলে দেরী কেন বলে ফেল।
:- রাফিন আমি তোমাকে ভালবাসি।
ফুটবল খেলার
দিন থেকেই তোমাকে আমি
ভালবেসে ফেলেছি।
জানো রাফিন। ভালবাসা কখন জেগে
উঠে তা কেউ
বলতে পারে না। আমিও যে প্রেম করব
তা আমার
নিজেরই ধারণা ছিল না। আমি একটা
উড়নচন্ডী
মেয়ে ছিলাম। তোমার ভালবাসা
আমাকে নম্র ভদ্র
হতে শিখিয়েছে। আমি তোমাকে
অনেক ভালবাসি
রাফিন। তুমি যখন অন্য মেয়েদের সাথে
হেসে হেসে
কথা বল তখন আমার বুকটা ভেঙ্গে
খানখান হয়ে যায়।
যেমন আজকে হয়েছিল। যখন শীলা
তোমাকে
জড়িয়ে ধরেছিল। তোমাকে জড়িয়ে
ধরার অধিকার
কেবল আমারই। অন্যকারো নয়। দেব না
কাউকে
জড়িয়ে ধরতে। এই যে আমি তোমাকে
জড়িয়ে
ধরলাম। আর যেন কেউ তোমাকে
জড়িয়ে না ধরে। মন
চাইলে আমাকে জড়িয়ে ধরবে তবুও
অন্যকাউকে না।
এই কথাগুলো লজ্জা শরমের মাথা
খেয়ে বললাম।
ভাবছিলাম তুমি আমাকে ভালবাসার
অফার দিবে
কিন্তু না
অন্যদিকে জড়িয়ে যাচ্ছ। তাই আমি আর
হাতছাড়া
করলাম না। রাফিন আমি তোমাকে
অনেক বিশ্বাস
করি। এই বিশ্বাসের অমর্যাদা তুমি
করনা। তাহলে
আমি মারা যাব। একবার ভেবে দেখ।
একটা মেয়ে
একটা ছেলেকে কতটা ভালবাসলে
নিজে থেকে
প্রস্তাব দেয়। আমি তার থেকে বেশী
তোমাকে
ভালবাসি।
:- পাগলী। এই কথা গুলো বলতে এত
দেরী করলে কেন?
আমি তো তোমাকে আরো আগে
থেকেই ভালবাসি।
:- সত্যি বলছ?
:- হুম্ম।
:- পাগল একটা ! এই নাও হা কর।
:- কি এটা?
:- পায়েশ।
:- দাও দেখি।
:- নাও।
:-....... ( ওয়াক থু )
:- কি হল? ভাল লাগে নি?
:- একদম বাজে। যে রেধেছে তার কি
কোন আক্কেল
জ্ঞান আছে রান্না সম্পর্কে? ধুর মুখটাই
নষ্ট হয়ে
গেল।
:- কি বল এসব? আমি নিজ হাতে রান্না
করেছি।
:- ওহ স্যরি! স্যরি। না না খুব ভাল
হয়েছে।
,
শেষের নাটক টুকু কতখানি কাজে
লাগল জানি না। ও
কি কিছু বুঝেছে? না বুঝলে না বুঝুক
তাতে আমার
কি? আমাকে ভালবাসতে এসেছ
বাছাধন এবার বুঝবা
কতধানে কত চাল!!!
.
ও কে শায়েস্তা করার রাস্তা সহজ হয়ে
গেছে
আমার জন্য। ইতিমধ্যে প্রেমে পড়ে
হাবুডুবু খাচ্ছে।
মেয়েটাকে কষ্ট দিয়ে আমার আনন্দই
হয়। একটুও
মায়া লাগে না। মায়া জিনিসটা ওর
জন্য তৈরী হয়
নি। আফরিনের সাথে সম্পর্ক এক বছরের
উপরে হয়ে
গেছে। গার্লফ্রেন্ড হিসেবে তাকে
কখনো মূল্যায়ন
করি নি আমি। কখনো তার চাওয়া
পাওয়া পূরণ করি
নি। তাকে অবহেলাই করে গেছি
সবসময়।। এক
মুহূর্তের জন্যও মন থেকে ভালবাসি নি
মেয়েটাকে।
.
সন্ধ্যায় শীলাকে নিয়ে মার্কেটে
গেছিলাম। তখন
আফরিন আমাদের এক রিক্সায় দেখে
ফেলে।
সাথে সাথেই ফোন দেয় আমাকে।
:- বাবু তুমি কই?
:- এইতো বাসায়। তুমি কই?
:- আমি একটু মার্কেটে আসছি।
:- এই ভর সন্ধ্যায় মার্কেটে কি কর?
:- একটা ওড়না কিনব তাই এসেছি।
:- আমাকে বললেই পারতে। তুমি তো
আমাকে এই
সময়ে ফোন দাও না। আজ কেন দিলে?
:- তোমার মতই কাউকে শীলার সাথে
দেখলাম তো।
হয়তো অন্যকেউ হবে। শুধু শুধুই তোমাকে
সন্দেহ
করতেছি।
আমাকে আফরিন অনেক বিশ্বাস করে।
আমি যা বলি
তাই বিশ্বাস করে মেয়েটা। না। আমি
চাই সে
আমাকে ভুল বুঝুক। আর আমাকে ঘৃণা করে
দূরে চলে
যাক। আমি ওর সাথে রিলেশনে ভাল
থাকতে পারব
না। রিক্সা থেকেই উকি দিয়ে
দেখলাম। ও আমাদের
ফলো করতে করতে এদিকেই আসতেছে।
আমি শীলাকে নিয়ে নেমে পড়লাম।
পাশের
মার্কেটে ঢুকে পড়লাম। শীলার
কেনাকাটা প্রায়
শেষ। এমন সময় থমকে দাড়ালাম। দেখি
আফরিন
সামনে। ভেবেছিলাম কিছু বলবে।
এখানেই সম্পর্ক
চুকে দেবে। হ্যা বলেছিল।
:- আরে রাফিন। তুমি এইসময় মার্কেটে?
ওহ ওড়না
দেখছ নিশ্চয় ই আমার জন্য? তোমার
হাতের ওড়নাটা
কিন্তু অনেক সুন্দর।
:- না এটা তোমার জন্য নয়। এটা.........
পিছনে তাকিয়ে দেখি শীলা নেই। ও
চলে গেছে।
:- মিথ্যাও বলতে পার না। ধরা পড়ে
যাও। আমাকে
এতই ভালবাস যে আমি ওড়না কিনার
আগেই তুমি
এসে ওড়না দেখা শুরু করে দিলে। চল
কিছুক্ষণ ঘুরে
দেখি তারপর ওড়না কিনব।
,
আমিও কেন যেন না করতে পারলাম
না। এই একবছর
পর তার সাথে আজ আমি ঘুরতেছি।
চটপটি, ফুসকা
খেয়ে বাসায় ফিরি। আমি নিজে
নিজেই অবাক
হচ্ছি। কেমনে সম্ভব এটা? যাকে সহ্যই
করতে পারি
না। যে কি না দুচোখের বিষ। তাকে
নিয়েই
মার্কেটে ঘুরলাম। নিজের অজান্তেই
হেসে
ফেললাম।
,
সপ্তাহখানিক পরে। আফরিন ফোন দিল
আমাকে।
:- হ্যালো রাফিন।
:- হুম বল।
:- আমার সাথে দেখা করতে পারবে?
:- হুম্ন পারব।
:- তাহলে একবার মগবাজার আসবে।
তোমাকে খুব
দেখতে ইচ্ছা করতেছে।
:- আচ্ছা আসব। কয়টায়?
:- বিকেল পাঁচটায়।
:- অকে।
,
বিকেল পাঁচটায় গেলাম। মগবাজারে।
গিয়ে দেখি
একটা দোকানের সামনে সে দাড়িয়ে
আছে।
:- রিক্সায় উঠ রাফিন।
:- কোথায় যাব?
:- মগবাজার কাজি অফিস।
:- কারো বিয়ে নাকি?
:- হ্যা। তোমার আর আমার। মোটেই
ভরষা পাচ্ছি না।
শুধু ভয় হয় কখন তোমাকে হারিয়ে
ফেলি।
:- আমিতো কোন প্রিপারেশন নিয়ে
আসি নি।
:- কিছুই লাগবে না। শুধু সই করবে। আর কবুল
বলবে।
:- আচ্ছা।
,
কি ভাবছেন? এত সহজে এসব মেনে
নিচ্ছি কেন?
বিয়ে হয়ে গেলে তাকে জ্বালানো
আরো সহজ হয়ে
যাবে। পিঠে কাটা দাগের জন্য আমি
সরকারী কোন
চাকুরী করতে পারছি না। বিদেশ যাব।
মেডিকেলে
গিয়ে বাদ পড়েছি। এই মেয়েকে কি
এমনি এমনি
ছেড়ে দিব। আমি কোন দোষ করি নি।
তবুও আমাকে
যে নির্দয় ভাবে মার খাইয়েছে। যখন
আমাকে
পিটায় তখন একবারো বলেনি যে
ম্যাডাম অনেক
হইছে এইবার বাদ দেন। সেদিনের কথা
মনে হলে
আজো গায়ে আগুন ধরে যায়। মনে মনে
আরো হিংস্র
হয়ে যাই। মানুষখেকো হলে ঠিকই
খেয়ে ফেলতাম।
যদি জানোয়ার টাইপের হতাম। তবে
অজস্র সুযোগ
হাতে পাওয়ার পরেও তাকে পবিত্র
রেখেছি।
অপবিত্র করি নি। চাইলে তার পেটে
জারজ
সন্তানের জন্ম দিতে পারতাম। কিন্তু
করি নি। কারণ
আমি মানুষ। আমারো বিবেক কাজ
করে।
,
যাইহোক বিয়েটা হয়েও গেল
আমাদের। একটা
দিনের জন্যও সুখ পায় নি। দেখা যাক
বিয়ে করে
কতটা সুখী হয়। নাকি চির দু:খী হয়। আসুন
দেখে আসি
অপরকে কষ্ট দিয়ে নিজে কতটুকু সুখী
হওয়া যায়?
,
আফরিন বড়লোক বাপের মেয়ে। যা চায়
তাই পায়।
বিয়ে করে গিয়ে বাবার কাছে সব
বলে বাবাও
একমাত্র মেয়ের সুখের কথা ভেবে
আমাদের বিয়ে
মেনে নেয়। অনুষ্ঠান করে উঠিয়ে দেয়
আফরিন কে।
তিনদিনের ফিরাফিরি ভেঙে
আফরিনকে নিয়ে
আসি গ্রামের বাড়িতে।
এখানেও যে তারজন্য শাস্তি বিরাজ
করতেছে তা
টের পেয়েছে এই বাড়িতে আসার পর।
পরিবার টি
ছিল গেরস্থ পরিবার। গরু, ছাগল, হাঁস,
মুরগি এগুলো
থাকাটাই স্বাভাবিক। প্রতি ধানের
সিজনে কাজ
করা অবধারিত।
আমি নিজেই আশ্চর্য হয়ে গেছি। একটা
মেয়ের
ধৈর্য্য শক্তি কতটুকু। যে কোন কাজই করে
নি।
আমাকে ছাড়া অন্যকাউকে বিয়ে
করলে এমন
জ্বালাতন সহ্য করতে হত না। অনেক সুখে
শান্তিতে
থাকতে পারত। সব ধরনের কাজ আফরিন
করত।
কিছুতেই না করত না। এই সংসারে
আফরিন পাঁচ
ছয়মাসের মত ছিল। যেই মেয়ে লাখ
টাকা দামের
খাটে ঘুমাত সেই মেয়ে আমার সাথে
চৌকিতে
ঘুমায়। একরাতে অনেক রাত করে বাড়ি
ফিরেছি।
:- রাফিন এসেছ তাহলে?
:- আমার জন্য অপেক্ষা করতেছিলে
বুঝি?
:- হুম্ম।
:- কেন?
:- তুমি যা চাও। তা দেবার জন্য।
:- কি?
:- মুক্তি।
:-.........
:- কি হল কথা বলছ না যে?
:- হ্যা আমি মুক্তি চাই। এই নরক যন্ত্রণা
থেকে মুক্তি
চাই। তুমি আমার সুন্দর জীবনটাকে নরক
করে দিয়েছ।
:- কলেজের ঘটনা বলছ তো?
এইবার আর কোন কথা বলতে পারলাম
না। কারণ
আমার মেইন পয়েন্টে আঘাত করেছে।
আমি
চুপিচাপি রইলাম। সে বলতে শুরু করল।
:- দেখো রাফিন । স্বীকার করছি আমি
অনেক বদ
মেয়ে ছিলাম। সেদিনের সেই চিঠি
তুমি দাওনি।
সেই প্রমাণ আমি কিছুদিন পরেই
পেয়েছি। অনেক
অনুতপ্ত হয়েছি আমি। কিন্তু অনেক
দেরী করে
ফেলেছি আমি। তোমার ভবিষ্যৎ নষ্ট
করে ফেলেছি
আমি। আমি তোমার সব খোজ খবর
রাখতাম। তুমি
আমাকে এভয়েড করে চলতে তাও
বুঝতাম। সব জ্বালা
যন্ত্রণা সহ্য করতাম। কেন জান? তোমার
রাগ কিছুটা
হলেও কমানোর জন্য।
প্রমাণ পেয়ে ম্যাডামের কাছে
গিয়ে মাফ চাই।
ম্যাডাম আমাকে মাফ করেন নি। একটা
থাপ্পড়
মেরেছিল দুদিন খুব ব্যাথায়
ভুগেছিলাম।
যাক সেসব কথা। এখন আর বলে লাভ কি?
আমি
কখনোই এত অনুতপ্ত হতাম না। যেভাবে
পারি আমার
সিদ্ধান্ত কেই প্রাধান্য দিতাম। আমি
তোমাকে খুব
ভয় পেতাম। আর কাউকে না। ভাবলাম
এই সুযোগ
আমার ভাল হওয়ার। অন্যকেউ আমাকে
ভাল করতে
পারবে না। আমার অনেক কষ্ট হইছে তবুও
আমি আমার
শিদ্ধান্তে অটল ছিলাম যে আমি ভাল
হবই।
.
:- তাহলে আগে সুযোগ পাবার পরেও
কেন মাফ
চাইলে না?
:- মাফ চাইলে মাফ পাইতাম ঠিকই
কিন্তু তখন তুমি
আমাকে ছেড়ে চলে যেতে।
শীলাকে আপন করে
নিতে। আর ওকে আপন করে নিলে
আমাকে সময়
দিতে না। তাই আমি ভাল হবার সুযোগ
টা হারিয়ে
ফেলতাম। জানো বাবা আমাকে
কখনো শাসন করে
নি। তাই আমি এমন হয়ে গেছি। সবকিছু
টাকা দিয়ে
মাপতাম। জানি না কেন? তোমার
শাসন করা আমার
খুব ভাল লাগত। তুমি আমাকে
একটাবারের জন্যও মন
থেকে আদর করনি। তবুও আমি তোমার
প্রতি রাগ নই।
কারণ আমি ভাল হচ্ছি। নষ্ট পথ থেকে
ফিরে আসছি।
কাউকে সত্যি ভালবাসার মর্ম বুঝতে
শিখেছি।
এরকম অনেক অভিজ্ঞতা হইছে আমার।
আমরা স্বামী
স্ত্রী তবুও আমাদের শারিরীক মিলন হয়
নি। এতেই
বুঝা যায় তুমি আমাকে কতটা ঘৃণা কর!
আমি তোমার
প্রতি একটুও রাগ না। কারণ আমি ভাল
হতে পেরেছি।
এমন সৌভাগ্য কতজনের হয়? একটা কথা
বলব?
:- হুম্ম বল। ( আবেগময় হয়ে )
:- আমি জানি। কেন তুমি আজ রাত করে
বাড়ি
ফিরেছ?
:- কেন?
:- আজকের পর কালকে তুমি আমাকে
ডিভোর্স দিবা
তাই।
:-..........
আমি বলার মত কোন ভাষা খুজে
পাচ্ছি না। হ্যা
আমি ডিভোর্স দেব কিন্তু এই
ব্যাপারে কেউ জানে
না তো। ও কেমনে জানল?
:- শোন রাফিন। আমি জানি। এই মুহূর্তে
ডিভোর্স
পেপার তোমার হাতে আছে। কাল
আমাকে দিয়ে সই
করাবে। কিন্তু এটা মানতো মেয়েদের
বিয়ে একবারই
হয়। আমিও একবারই করেছি। আমি
কোনদিনও এই
পেপারে সাইন করব না। প্রয়োজন হলে
বিষ খেয়ে
মরে যাব। মরে গিয়ে তোমাকে মুক্তি
দিয়ে যাব।
আমি জীবিত থাকতে তোমাকে
অন্যের স্বামী
হিসেবে দেখতে পারব না। তাই
তোমার রাস্তা
আমিই ক্লিয়ার করে যাচ্ছি।
,
এই কথা গুলো বলে সে এক শিশি বিষ
মুখে দিয়ে
দিল।
গোঙাতে গোঙাতে বলল। আমি এই
বিষ আগেই
খেতাম। কেন জানি মনে হল
তোমাকে এক নজর
দেখে যাই। তারপরেই মরি। এখন মরেও
শান্তি পাব।
.
:- এই একদম চুপ। তোকে বিষ খেতে কে
বলেছে? তুই
না ভাল হতে চাস? মরে গেলে
কেমনে ভাল হবি?
আমি তোকে মরতে দিব না।
বিষ বেশী একটা খেতে পারে নি।
হাতের ঠেলা
লেগে পড়ে যায়। আমি তাকে পাজা
কোলে করে
দৌড় দেই। বাড়ির কাছাকাছি
বাজার আমাদের।
সেখানে উন্নত মানের চিকিৎসা না
পেলেও
প্রাথমিক চিকিৎসা পাওয়া যাবে।
দৌড়ে
গেছিলাম। বেশী সময় লাগে নি।
গিয়েই ডাক্তারকে
ফ্রি পাই। কপাল ভাল থাকলে যা হয়
আর কী! রহিম
চাচা বলে ডাকি আমি। পেশায় উনি
এম বি বি এস
ডাক্তার। ছুটিতে এসেছেন। আল্লাহর
ইশারা হয়তো
আছে। তাই উনি এইসময় টাতে
ফার্মেসী তে বসা
ছিলেন। উনি দেখা মাত্রই চিকিৎসা
শুরু করে
দিলেন। পেটে নল ঢুকিয়ে জোর করে
পানি
খাওয়ানো হচ্ছিল। দুইটা থাপ্পড়
মেরেছে যে, মনে
হল ডাক্তার সাহেব আমাকে থাপ্পড়
মারলেন। নরম
গালে পাঁচটা আঙ্গুল বসে গেছে। বিষ
অপসারণ
করার দৃশ্য দেখে আমার মত পাষাণ
মানুষের অন্তরও
কেপে উঠল। কিছুক্ষণ পর ডাক্তার
জানালেন যে,
এখন বিপদ মুক্ত। কিছু মেডিসিন দিয়ে
দিচ্ছি। শহরের
ফার্মেসী থেকে এনে রোগীকে
খাইয়ে দিবেন।
আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করলাম।
আফরিন
বেঁচে গেছে। মরতে চাইলেও মরতে
পারে নি।
আল্লাহ বড়ই দয়াবান। উনি চাইলে ঐ
মুহূর্তে আমার
মন কঠিন রাখতে পারতেন। কঠিন
থাকলে তখন
আফরিন মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করত আমি
আনন্দ
নিতাম। কিন্তু কেন যেন মেয়েটির
প্রতি ভালবাসা
বেড়ে গেল। অমনি দৌড় লাগালাম
আফরিনকে
নিয়ে।
তিনদিন পরে আফরিন অনেকটা সুস্থ।
কিন্তু গলায় খুব
ব্যাথা। কথা বলতে কষ্ট হয়। তবুও আমাকে
বলল।
:- আমাকে বাঁচালে কেন?
:- জানি না।
:- ভালবাস এই কথাটা মুখে বলতে পার
না। এত ইগো
তোমার?
আমি আর কিছু না বলে আফরিনকে
জড়িয়ে ধরলাম।
আর বললাম।
:- পাগলী তোকে অনেক কষ্ট দিয়েছি
তাই বলে চলে
যাবি? কেন চলে যেতে চাইছিলি,
আমাকে শাস্তি
দিতে পারলি না? বিশ্বাস কর। আমি
তোকে কষ্ট
দিতে দিতে ভালবেসে
ফেলেছিলাম।
:- আমি বুঝতে পেরেছিলাম।
:- আর যদি কখনো ইচ্ছা করে মরতে চাস
তাহলে
দেখবি কি করি তোর।
,
আমি রাগের সময় আর প্রচন্ড আবেগে তুই
করে বলে
থাকি।
.
হঠাৎ করে একরাতে আফরিন আমাকে
বলল।
:- কি ব্যাপার? এখন আর কষ্ট দিচ্ছ না
যে?
:- আর কষ্ট দিতে ভাল লাগে না।
:- তো?
:- অনেক ভালবাসতে আর আদর করতে
ইচ্ছা করে।
:- ওমা তাই?
:- কেন বিস্বাস হয় না?
:- হয়।
কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর।
:- আফরিন?
:- হুম্ম।
:- আমি তোমাকে কষ্ট দিয়েছি।
আমাকে কষ্ট দিতে
ইচ্ছা করে না?
:- না।
:- না। কেন?
:- আমি শাসনের অভাবে পথভ্রষ্টা হয়ে
গেছিলাম।
তুমি সঠিক রাস্তায় ফিরিয়ে এনেছ।
আর এমন
মানুষকে কি করে ঘৃণা করব? তাকে তো
শিরোধার্য
করা উচিত।
:- এখন তুমি তো অনেক ভাল হয়ে গেছ।
:- তোমার চেষ্টাতেই আমি ভাল হতে
পেরেছি।
:- আমার সমপর্কে তোমার অনেক কিছুই
অজানা।
:- যেমন?
:- যেই বাড়িতে আছ। সেটা আমার
বাড়ি নয়। আর
যাকে শ্বশুড় শ্বাশুড়ি হিসেবে চিন।
উনারা তা নয়।
:- কি বলছ তুমি?
:- হ্যা ঠিকই বলছি। কাল তোমাকে
আমার নিজের
বাড়ি নিয়ে যাব। এই বাড়ি আমার
আপন চাচা
চাচির বাড়ি। উনাদের কোন সন্তান
নাই। তাই আমিই
আব্বু আম্মু ডাকি।
:- তাহলে তোমাদের বাড়ি কই?
:- ঢাকায়।
:- শহরেই?
:- হুম্ম।
:- শহরে কোথায়?
:- কালই দেখতে পাবে।
:- আচ্ছা।
কাল বাড়িতে চলে গেলাম।
বাড়িতে ঢুকতে ঢুকতে।
:- এই বাসা তোমাদের?
:- হ্যা।
:- আমি চিনিতো।
:- কিভাবে?
:- তার আগে বল। জহির উদ্দিন কি
তোমার বাবা?
:- হ্যা।
:- তারমানে, ওহ মাই গড।
:- কি হল?
:- তোমার জন্য আমাকে ঠিক করে
রেখেছিল তোমার
বাবা। আমি খুশিতে আত্মহারা হয়ে
গেছিলাম।
বিয়ে নিয়ে কোন টেনশন নাই। তাই
আমাকে আর পায়
কে? শুরু করলাম উড়নচণ্ডী ভাবে
চলাফেরা। তখন
তোমার সাথে দেখা। তুমিই যে জহির
আঙ্কেলের
ছেলে আই মিন আমার হবু বর ছিলে তা
জানতাম না।
:- বিয়েতে রাজি হয়ে গেলে।
একবারো ছেলেটা
কে দেখার প্রয়োজন মনে করলে না?
:- ছেলেদের চেহারার দরকার নেই।
ব্যাবহার আর
স্বামর্থ্য বান থাকলেই চলে। তাই আর
দেখার
প্রয়োজন মনে করি নি।
:- ওহ তাই বল।
:- কিন্তু তুমি এমন গরীব হালে
চলাফেরা করতে কেন?
:- আমার ভাল লাগত তাই।
:- হইছে! হইছে! আর ন্যাকামো করতে
হবে না। এই দুই
বছর অনেক কষ্ট দিয়েছ। বাকি জীবন
যদি আর কোন
কষ্ট দিয়েছ তবে বুঝবা আমি কি
জিনিস?
:- কথা দিচ্ছি আর কষ্ট দিব না।
:- কথা যখন দিয়েছই। আরেকটা কথা
দাও।
:- কি?
:- তোমার মন থেকে শীলাকে বের
করে দিয়ে
আমাকে জায়গা দাও।
:- দিলাম। এতদিন শুধু রাগ আর মেজাজ
দেখেছ এখন
ভালবাসা দেখবা আর দেখবা। কতটা
রোমান্টিক
আমি!!!
:- সেটাই দেখতে চাই।
:- সব বাদ দিয়ে নতুন করে সংসার
সাজাতে চাই।
:- আমিও চাই।
:- I love you.....
:- I love you.... 2.3.4.5.6............
,
,
,
,,,,,,,,,,,,,,,,সমাপ্ত,,,,,,,,,,,,,
.
Story name : Ignore & The Revenge of love.
,
,
Written by :- Md Ismail Hossain.
.
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āĻļুāĻ্āϰāĻŦাāϰ, ā§§ā§Ģ āϏেāĻĒ্āĻেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§
1634
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
⧍:⧧⧧ AM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ