āĻļুāĻ•্āϰāĻŦাāϰ, ā§Ž āϏেāĻĒ্āϟেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

961

চুক্তিকরা প্রেম
Jubaer Hasan rabby
.
সাকিব টেবিলের সামনে চেয়ার টেনে বসল। শরীর কিছুটা ভিজে গিয়েছে। বাইরে হালকা বৃষ্টি হচ্ছে।
এই সময়ে বৃষ্টি হওয়ার কথা না! তাই ছাতা নিয়ে বের হয়নি।
সাকিব টেবিলের উপর থেকে একটা টিস্যু নিয়ে হাত মুখ মুছে টিস্যুটা হাতের মধ্যে মুঠি করে রাখল।
রাফসা চুপচাপ রাকিবের দিকে তাকিয়ে আছে। তার কর্মকান্ড দেখছে! রাফসা হালকা হাসার চেষ্টা করে বলল
-ভিজে গেছ দেখছি!
-হ্যা। ছাতা আনতে ভুলে গিয়েছি।
-তুমি তো বড্ড ভুলোমনা।
সাকিব একটু ভুলোমনা। প্রায়ই অনেককিছু ভুলে যায়। রাফসার সাথে দেখা করার দিন এলে তাকে এলার্ম দিয়ে রাখতে হয়! কিন্তু আজ এলার্ম ছাড়াই চলে এসেছে!
.
সাকিব হাত থেকে টিস্যুটা ঝুড়ির মধ্যে রেখে বলল
-কতক্ষণ এসেছ?
-সাত মিনিট হল।
-বসবে নাকি উঠবে!
-কফি অর্ডার করেছি।
-কফি!
-হ্যা। তুমি খাবে?
-না। আমি খাব না। তুমিই খাও।
-ওকে।
ওয়েটার ট্রেতে কফি এনে রাফসার সামনে রাখল। রাফসা কফি খায় না। বরাবর সাকিব কফি খেলেও সে খায় না। কিন্তু আজ খাচ্ছে!
সময় কাটানোর জন্য কফি খাওয়া যেতে পারে।
প্রতিবার দেখা করার সময় হলে সাকিব দুই তিন কাপ কফি শেষ করে ফেলে। কারন রাফসা প্রতিদিন দেরি করে আসে।
সাধারণত ছেলেরা দেরি করে আসে। সরি বলে কান ধরে মাফ চায়। কিন্তু রাফসার ব্যাপারটা পুরো উল্টো।
.
রাফসা কফির মগে চুমুক দিতে দিতে বলল
-তারপরে কি চিন্তা করলে!
সাকিব হাসল। হাসিতে প্রাণ নেই। অভিনয় করা হাসিতে প্রাণ থাকেনা। সাকিব বলল
-তুমি যেটা বলেছ সেটাই হোক তাহলে।
-এছাড়া তো উপায় নেই। তোমাকে আগেই বলে নিয়েছিলাম।
-হ্যা!
-আমার দেওয়া গিফটগুলো এনেছ?
-এগুলো না নিলে হয়না!
-নাহ। এগুলো নিতেই হবে। আমি চাইনা আমার কোন স্মৃতি তোমার কাছে থাক।
সাকিব হাত থেকে ঘড়ি খুলল।
ঘড়িটা রাফসা তাকে গিফট করেছিল। সাকিবের জন্মদিনে হুট করে রাফসা ফোন দিল। সাকিব তখন রুমে শুয়ে শান্তির ঘুম দিচ্ছিল। রাফসার ফোন পেয়ে ঘুম থেকে উঠে রওনা দিল রাফসার কাছে।
সাকিব রাফসার পাশে বসতে বসতে বলল
-কি এমন দরকার! ডাকলে কেন!
রাফসা প্যাকেট খুলে ঘড়িটা সাকিবের হাতে পড়িয়ে দিয়ে বলল
-শুভ জন্মদিন।
-এটা বলার জন্য ডাকলে!
-হ্যা।
-বিকেলেও এটা করা যেত।
রাফসা চুপ করে আছে। সে ভেবেছিল জন্মদিনে এমন গিফট পেয়ে সাকিব খুব খুশি হবে!
কিন্তু সে খুশি না হয়ে বিরক্ত হচ্ছে! নাকি তার ঘড়িটা পছন্দ হয়নি!
রাফসাকে চুপ থাকতে দেখে সাকিব বলল
-চল উঠি।
দুজনে উঠে হাটতে থাকল। রাফসা বাসায় যাওয়ার জন্য রিক্সায় উঠল। সাকিব রিক্সার সামনে দাঁড়িয়ে বলল
-ঘড়িটা অনেক সুন্দর। বেশ ভাল লেগেছে।
রাফসা মুচকি হেসে রিক্সাওয়ালাকে যেতে বলল।
.
রাফসার কফি শেষ। কফির মগটা টেবিলের উপর রাখল। সাকিব হাত থেকে ঘড়ি খুলে হ্যাবলার মত তাকিয়ে আছে। রাফসা সাকিবের দিকে তাকিয়ে বলল
-বাকিগুলো দাও।
-ওগুলো আনিনি। বাসায় রেখে এসেছি।
-কেন আনলেনা! তোমাকে তো আনতে বলেছিলাম।
-ভুলে গেছি।
-ঠিক আছে। ওগুলো লাগবেনা।
রাফসা ব্যাগ থেকে পায়েল বের করে সাকিবের দিকে এগিয়ে দিল। সাকিব পায়েল হাতে নিল। পায়েলটা অনেক যত্ন সহকারে বানানো। রাফসার খুব প্রিয়। তবুও সেটা ফিরিয়ে দিচ্ছে! মানুষটাকে ফিরিয়ে দিতে পারলে গিফট কেন ফেরত দিবেনা!
.
সাকিব চুপ করে আছে। রাফসা চুপচাপ ঘড়িটা নিজের ব্যাগে ঢুকাল। সাকিব পায়েল নিয়ে নিজের বুক পকেটে রেখে দিল। রাফসা নীরবতা ভেঙে বলল
-তোমার মোবাইলটা দাও তো।
-কেন!
-দরকার আছে।
সাকিব পকেট থেকে মোবাইল বের করে রাফসার দিকে এগিয়ে দিল। রাফসা মোবাইলের লক খুলল। রাফসা সাকিবের পাসওয়ার্ড জানে। পাসওয়ার্ড রাফসার নামেই দেওয়া। লক খুলে কন্ট্যক্ট লিস্ট থেকে তার নাম্বার ডিলিট করে দিল। এস এম গুলোও ডিলিট করে দিল।
সাকিবের দিকে ফোন এগিয়ে দিয়ে বলল
-নাও, পাসওয়ার্ড চেঞ্জ কর। আমার নাম্বার ডিলিট করে দিয়েছি। তোমারটাও ডিলিট করে দিচ্ছি।
সাকিব কিছু বলল। ফোনটা পকেটে রেখে দিল।
.
রাফসা চেয়ার ছেড়ে উঠল। সাকিবও উঠে দাঁড়াল। সাকিব পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করতেই রাফসা বলল
-আজকে আমি বিল দেই।
রাফসা টাকা রেখে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হল। সাকিব আগেই বের হয়ে অপেক্ষা করছে। সবকিছু শেষ!
রাফসা সাকিবের সামনে দাঁড়িয়ে বলল
-ভাল থেকো। ভাল একটা মেয়ে দেখে বিয়ে করে নিও। আমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করবে না।
রাফসার কথা শেষ হতেই চলে গেল।
সাকিব কিছুক্ষণ তাকিয়ে রাফসার চলে যাওয়া দেখল। সে চলে যেতেই উল্টো পথে হাটা ধরল।
.
সাকিব রাস্তায় হাটছে। সাড়ে পাঁচ মাসের সম্পর্কের ইতি টানল আজ। এমন হবে তারা দুজনেই জানত। এমন হওয়ার কথাই ছিল। প্রেমের আগে দুজন জেনে শুনেই সম্পর্কটা তৈরি করেছিল। কিন্তু সেটা এভাবে হবে সেটা হয়ত ভাবেনি।
.
সাকিব বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছে।
মিনিট পাঁচেকের মধ্যে বাস চলে আসবে। নিয়মিত সে এখানে বাসের জন্য অপেক্ষা করে। প্রতিদিন বেবিট্যাক্সিতে যাওয়া সম্ভব নয়। কারন বেবিট্যাক্সিতে যেতে কমপক্ষে দুইশো টাকা লাগবে। আর সেখানে পাবলিক বাসে ৩০ টাকাতেই হয়ে যায়।
সাকিব এক পাশে বসলো। তার পাশে অনেক মানুষ আছে। আবার অনেকে দাঁড়িয়ে আছে। সবাই কর্মব্যস্ত মানুষ। সকাল বেলা অফিসে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। এরা প্রতিদিন অফিসে গিয়ে বসের কআছে ঝাড়ি খায়। বসগুলো জানে এদের জ্যাম ঠেলে আসতে হয়। তবুও ঝাড়ি দিবেই।
.
বাস এসে থামল। সবাই যে যার মত বাসে উঠতে শুরু করল। উঠে তড়িঘড়ি করে বাসে উঠল। একটা সিট খালি আছে। পাবলিক বাসে সিট খালি পাওয়া মানে ভাগ্যের ব্যাপার। সাকিবে সিটে বসল।
লোক উঠানো শেষ হলে বাস চলতে শুরু করল। সাকিব অফিসের ব্যাগটা কোলের উপর রাখল। বাসে মোটামুটি ভাল ভিড়। এভাবে যেতে সাকিবের অসস্তি লাগে। একটা বাইক কিনতে চেয়েছিল। কিন্তু কেনা হয়নি। তার মা কিনতে দেয়নি। তার মা বলে, বাইক কিনে কোথায় কখন এক্সিডেন্ট করে বসবি। তারচেয়ে বাসেই যা।
সাকিব খেয়াল করল তার পাশে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মুখ তুলে তাকাতেই দেখল তার মুখ ঘামা। দেখে স্বাভাবিক মনেহয় না। অসুস্থ লাগছে মেয়েটাকে। এই ভিড়ে আর গরমে ভাল মানুষ'ও অসুস্থ হয়ে যায়।
.
সাকিব ভাবছে সে সিট ছেড়ে মেয়েটিকে বসতে দিবে নাকি! এখানে দয়ালু সাজা মানে বোকামি। এর আগে সে দুই একবার সিট ছেড়েছে।
একবার একটা মেয়ে এসে আকুতি করে বলল
-ভাইয়া আমি খুব অসুস্থ। একটু বসতে দিলে খুব উপকার হত। 
সাকিব উঠে দাড়াল। মেয়েটিকে বসতে দিল। কিছুক্ষণ পরেই সে অবাক! আসলে মেয়েটা অসুস্থ না। তার বয়ফ্রেন্ড এর পাশে বসবে বলে এমন ফন্দি এঁটেছিল।
সাকিব মেয়েটির দিকে আরেকবার তাকাল। তার অস্বস্তি আরো বেড়েছে।
ভাবতে ভাবতে উঠে দাঁড়াল। মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বলল
-বসুন।
মেয়েটি হেসে বলল
-না ঠিক আছে।
-আরে বসুন। সমস্যা নেই।
মেয়েটি বসল। ব্যাগ থেকে বোতল বের করে পানি খেল। আসলেই তাকে অসুস্থ লাগছে।
অসুস্থ শরীর নিয়েও অফিসে যেতে হয়! নাহলে বসের ডায়লগ শুনতে হয়।
.
বাস থামল। অনেকেই নামছে। সাকিবও নামল। নেমে হাটতে শুরু করল। সামনে গেলেই তার অফিস।
সাকিব খেয়াল করল বাসের মেয়েটি তার সাথে আসছে। হয়ত ধন্যবাদ দিবে!
কিন্তু ধন্যবাদ দিল না। সাকিব অফিসে ঢুকার সময় মেয়েটি তার মত চলে গেল! কি অকৃতজ্ঞ!
.
সাকিব অফিস থেকে বের হতেই বৃষ্টি শুরু হল। আষাঢ় মাসের বৃষ্টি এমনই। হুটহাট চলে আসে। ব্যাগ থেকে ছাতা বের করে হাটতে থাকল।
আজ সরকারি অফিসগুলো ছুটি। কিছু বেসরকারি অফিস খোলা আছে।
সাকিব হাটতে হাটতে বাস স্টপেজে আসল। স্টপেজে তেমন লোকজন নেই। কয়েকজন ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। একটু সামনে গেলেই গাড়ি পাওয়া যাবে।
সাকিব হাটতে পিছনে তাকালো। বাস স্টপেজে একটা মেয়ে বসে আছে। তার পাশে  কয়েকটা ছেলে তাকে টিজ করছে। তবুও মেয়েটা বসেই আছে। তার কাছে কি ছাতা নেই!
সাকিব কাছে গিয়েই চিনে ফেলল। সেদিনের মেয়েটি! মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বলল
-আসুন।
মেয়েটি কিছু না ভেবেই ছাতার নিচে চলে এল। টিজ করা ছেলেগুলো বাকা চোখে তাকিয়ে থাকল।
বৃষ্টি নামছে। সাকিব মেয়েটির সাথে হাটছে।
হাটতে হাটতে মেয়েটি বলল
-ধন্যবাদ।
-ঠিক আছে। আমি ওই অফিসে চাকরি করি।
-আমি জানি। সেদিন আপনাকে ওখানে খুঁজতে গিয়েছিলাম। পাইনি।
-আমাকে কেন! ধন্যবাদ দিতে!
-না আপনার এই আই কার্ড ফেরত দিতে।
মেয়েটি ব্যাগ থেকে কার্ড বের করল। সাকিব কার্ড হাতে নিয়েই অবাক! সেদিন বাসে কার্ডটা হারিয়ে ফেলেছিল।
সাকিব কার্ড হাতে নিল। মেয়েটি বলল
-এখানে দেওয়া নাম্বারটা বন্ধ।
-হ্যা। গত মাসে সিমটা বদলেছি। তারপরে সংশোধন করা হয়নি।
-তাহলে নতুন নাম্বারটা দিন আমাকে।
-আরো কিছু ফেরত দিবেন!
সাকিব হেসে উঠল। মেয়েটিও হাসল।
সাকিব ফোন নাম্বার দিল। অপরিচিত কাউকে এভাবে নাম্বার দেওয়া ঠিক না!
তবুও দিল!
.
বৃষ্টি থেমে গিয়েছে। সাকিব ছাতা বন্ধ করল। মেয়েটি বলল
-আমি রাফসা।
-আমি..
-সাকিব। কার্ডে দেখেছি।
-আপনি তো আমার সম্পর্কে অনেক জেনে ফেলেছেন।
-অনেক জানতে পারিনি। তবে আবার দেখা হলে জেনে নিব।
-ফোন নাম্বার তো নিলেন!
-আবার কোনদিন দেখা হলে তারপরে ফোন দিব।তার আগে নাম্বারটা এভাবেই থাকবে।
সাকিব কিছু বলল না। আশেপাশে তাকিয়ে একটা বেবিট্যাক্সি ডাক দিল। গাড়িতে উঠে সাকিব বলল
-আসি। ভাল থাকবেন।
.
এখনো বিকেল হয়নি। দুপুর শেষের দিকে। সাকিবের আজ তাড়াতাড়ি ছুটি হয়ে গেল। বাইরে বের হয়ে হাটছে।
পেছন থেকে একজন সাকিবকে ডাকছে। সাকিব দাঁড়ালো। পিছনে রাফসা দাঁড়িয়ে আছে। কাছাকাছি এসে বলল
-আপনাকে ডাকছি। শুনছেন না কেন!
-একটু অন্যমনস্ক ছিলাম। খেয়াল করিনি।
-আপনার অফিস শেষ!
-হ্যা। আজ তাড়াতাড়ি ছুটি হল। আপনারও কি তাড়াতাড়ি!
-না, চাকরিটা চলে গেল।
-কেন!
-আমাকে চাকরিতে রাখতে বসের সমস্যা।
-চলুন হাটি।
কেউ চাকরি হারালে তার মন খারাপ হওয়ার কথা। কিন্তু রাফসার বেলায় তেমন মনেহয় না।
রাফসা বলল
-ধানমন্ডি লেকের দিকে যাবেন?
এখান থেকে দশ মিনিট হাটলেই ধানমন্ডি লেক। সাকিব বলল
-চলুন।
.
ধানমন্ডি লেকের পাশে দুজন বসল। সাকিব বলল
-ঝালমুড়ি খাবেন?
-না।
-এখানে আসলাম কেন আমরা!
-এমনিই। আজ থেকে আমাদের ফ্রেন্ডশিপ শুরু হবে। তাই এখান থেকেই শুরু করতে চাই।
সাকিব হাসল। রাফসা সাকিবকে হাসতে দেখে বলল
-হাসার কি হল! এমন একটা সুন্দরি মেয়ে আপনাকে ফ্রেন্ডশিপের অফার করছে। আপনি সেটা হেসে উড়িয়ে দিলেন!
-আগে এভাবে কেউ বলেনি। তাই..
-আচ্ছা হয়েছে। এখন উঠি চলেন।
দুজন উঠল। সাকিব উঠে রাফসার সাথে হাটতে থাকল। সাকিবকে দেখে বলল
-আপনি আপনার মত, আমি আমার মত আলাদা যাব।
সাকিব দ্রুত হেটে আগে চলে এল। মেয়েটিকে যেমন মনে হয়েছিল। সে তেমন না। একটু চঞ্চল স্বভাবের। চঞ্চল স্বভাবের মানুষগুলো অন্যদের আপন করে নিতে পারে।
.
-এই ছেলে ওদিকে কি দেখ!
সাকিব লেকের পাশে বসে একজোড়া কাপল দেখছে। মেয়েটি ছেলেটির কাধে মাথা রেখে বসে আছে। ছেলেটি বাদাম ছিলে দিচ্ছে, মেয়েটি খাচ্ছে।
সাকিব ঘুরে তাকাল। রাফসা তার দিকে তাকিয়ে হাসছে। রাফসা মাঝে মাঝে এভাবে সাকিবকে চমকে দেওয়ার চেষ্টা করে।
তিনমাসের ফ্রেন্ডশিপে অনেকবার এমন হয়েছে।
সাকিব রাফসার হাত থেকে কফি মগ নিল। রাফসা দেখা করার দিন ফ্ল্যাক্সে করে কফি নিয়ে আসে। রাফসা কফি খায় না। সাকিব খুব খায়।
.
-ওদের দেখে হিংসে হয়!
সাকিব বোকার মত রাফসার দিকে তাকিয়ে বলল
-না, তবে ওরা কত সুন্দর করে প্রেম করছে।
-হি হি হি। তুমিও করবে?
সাকিব উত্তর দেয়না। চুপ করেই থাকে। রাফসার কথা শুনে মনেহয় তাকে যেন কেউ চকলেট খাওয়ার কথা জিজ্ঞেস করছে!
-আমার সাথে প্রেম করবে!
সাকিব মাত্র কফিতে চুমুক দিয়েছিল। রাফসার কথা শুনে গলায় আটকে গেল।
রাফসা সাকিবের অবস্থা দেখে হাসতে হাসতে বলল
-এখনই এই অবস্থা! প্রেম শুরু করলে তখন কি করবে!
সাকিবের মনেহয় রাফসা মজা করছে। সাকিব কিছুটা রাগ দেখিয়ে বলল
-প্রেম নিয়ে মজা করা ঠিক না।
-মজা করছি না। আমার বয়ফ্রেন্ড হবে?
-......
-চুপ করে থেকোনা।
-হ্যা হব।
-তবে একটা শর্ত আছে।
-কি?
-বিয়ের আগ পর্যন্ত প্রেম। তারপরে ব্রেকাপ।
-মানে!
-আমার বিয়ে ঠিক হলে অথবা তোমার বিয়ে ঠিক হলে সেদিন ব্রেকাপ করব। শুধু প্রেম করব। বিয়ে করতে পারব না।
-কি!
-রাজি থাকলে বল। দুজনই ডাবল হওয়ার জন্য প্রেম করব। বলতে পার টাইমপাস।
সাকিব রাজি হয়ে গেল। এতদিন ফ্রেন্ডশিপ ছিল। এখনো তেমনই। শুধু সম্পর্কের নাম বদলে যাবে।
.
রাফসা অন্ধকারে বসে আছে। সন্ধ্যা থেকে এখানে বসে আছে। এখন প্রায় রাত আটটা বাজে। একটু আগে লোডশেডিং হয়েছে। তবুও সে আলো জালায়নি। বিছানা ছেড়ে উঠতে ইচ্ছা করছে না। কারন কি-বা অকারনেই তার মন খারাপ।
সাকিব সারাদিন ফোন দেয়নি। ফোন দেওয়ার কথাও না। সে নিজে থেকেই সাকিবকে ফোন দিতে নিষেধ করেছে।
লোডশেডিং শেষ। পাশের বাসায় আলো জলছে। রাফসাদের বাসায় ও আলো জলছে। বিয়ের চারদিন বাকি। তাই সেই বন্দোবস্ত চলছে।
রাফসার মা ঘরে ঢুকে আলো জালালো। রাফসাকে এভাবে বসে থাকতে দেখে বলল
-কিরে মন খারাপ?
-না। শরীর ভাল নেই।
-তোর শাড়ি এনেছি। দেখবি চল।
-পরে দেখব রেখে দাও।
রাফসার মা চলে গেল।
টাইমপাস হিসেবেই প্রেম শুরু। তবুও সাকিব রিলেশনের প্রতি সিরিয়াস হয়ে গিয়েছিল। রাফসা এসেব দেখে হেসে বলত
-আমার বিয়ের পরে কি করবে?
সাকিব মন খারাপ করে থাকত। রাফসার কাছে সাকিবকে বেশ ভাল ছেলে মনেহয়। সাকিব রাফসাকে সত্যিকারের ভালবাসে সেটাও বুঝতে পারে। কিন্তু কিছুই করার নেই। চুক্তি যখন করা হয়েছে। চুক্তি ভাঙা যাবেনা। এছাড়া বাবা-মায়ের পছন্দে বিয়ে করছে। সেটাও ভাঙা যাবেনা।
.
বাড়িঘর সাজানো হচ্ছে। বাসার সামনের গেটটাও সাজানো হচ্ছে। লাল নীল রঙের বাতি দিয়ে সাজানো হচ্ছে। এসব দেখে রাফসার কোন হা হুতাশ হচ্ছেনা।
ছোট থেকেই রাফসার ইচ্ছা, তার বিয়েতে সে সবচেয়ে খুশি থাকবে। কিন্তু আজ সে পারছে না।
এর কারন কি সাকিব!
রাফসা নিজেকে প্রশ্ন করে।
তবে কি সেও কোনভাবে সাকিবকে ভালবেসে ফেলল!
কিছুই বুঝতে পারছেনা।
.
রাফসার ফোন বাজছে। ফোন বেজেই চলেছে। কিন্তু কেউ রিসিভ করছেনা। রাফসার মা রান্নাঘর থেকে ফোনের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছে। রান্না বন্ধ করে রাফসার ঘরের দিকে এল।
সকাল থেকেই রাফসার মা রান্নাঘরে ব্যাস্ত। বাড়ি ভর্তি মেহমান। তাদের রান্না করতেই দিন ষেষ! হঠাৎ মেয়েটার কি হল! কালকে তার বিয়ে অথচ সকাল থেকেই মন খারাপ করে আছে।
নতুন বাড়ি যাবে বলে মন খারাপ হতেই পারে! তাই বলে এভাবে মন খারাপ করে থাকবে!
রাফসার মা ফোন ধরল। এপাশ থেকে হ্যালো বলতেই ওপাশ থেকে বলল
-আপনি কি রাফসা?
-না। আমি ওর মা।
-ওহ। রাফসা নেই!
-ওকে দিচ্ছি। একটু পরে রাফসা ফোন দিবে।
রাফসার মা ফোন হাতে রাফসার রুমে ঢুকল। রাফসার পাশে বসে রাফসাকে ডেকে বলল
-তোর ফোন এসেছিল।
রাফসা বালিশে মাথা রেখেই বলল
-কে?
-চিনিনা। তোক চাইছে।
.
রাফসার মা ফোন রেখে চলে গেল। রাফসা কললিস্ট দেখে ফোন ব্যাক করল।
-হ্যালো। আমি জুয়েলারি দোকান থেকে বলছি।
-জ্বি বলুন।
-আপনার একটা প্রোডাক্ট ডেলিভারি ছিল।
-আমার! আমি তো কিছু অর্ডার করিনি।
-সাকিব নামের একজন অর্ডার করেছিল। তিনদিন আগে ডেলিভারি ডেট ছিল। কিন্তু নিতে আসেনি। কাল থেকে ফোন দিয়ে ফোন বন্ধ পাচ্ছি। নিচে আপনার নাম্বার পেলাম। আপনি তো তার পরিচিত।
রাফসা চুপ করে আছে। সে না বলবে নাকি হ্যা বলবে! গত মাসে সাকিব তাকে এক জোড়া পায়েল বানানোর কথা বলেছিল। আনতে ভুলে যাবে বলে নিচে রাফসার নাম্বার দিয়েছে।
রাফসা বলল
-সে আমার পরিচিত। আমি ঠিকানা দিচ্ছি। আপনি সেই ঠিকানায় পাঠিয়ে দিন।
-আচ্ছা।
.
রাফসা ফোন রেখে বারান্দায় এল। এখানে একটা আরামকেদারা রাখা। এটা অনেক পুরাতন। তবুও চকচকে। অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে কেদারার সাথে। তাই নষ্ট হয়ে গেলেও ফেলা হয়নি।
স্মৃতি বিজড়িত জিনিস ফেলা যায় না।
সাকিবের সাথে রাফসার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে।
গতমাসে সাকিব পায়েলের অর্ডার দিয়েছিল। সাকিব কিভাবে যেন শুনেছিল রাফসার পায়েল পছন্দ।
তিনদিন ধরে সাকিবের সাথে যোগাযোগ নেই। কেমন আছে সেটাও জানে না। রাফসা একদিন সাকিবকে বলল
-আচ্ছা আমার সাথে রিলেশন শেষ হলে, তখন কি করবে?
-সবকিছু থেকে দূরে থাকব।
-কেন!
-তুমি না থাকলে অনেককিছুর মানে থাকবেনা।
রাফসা কিছু বলেনা। সে তার সিদ্ধান্তে অটল।
.
বিয়ে বাড়ি চুপচাপ। একটু আগেও অনেক আয়োজন চলছিল। কেউ কেউ হলুদের ডালা সাজাচ্ছিল। আবার কেউ হলুদ শাড়ি পড়ছিল।
হলুদ বাটা সহ সবকিছু সাজানো গোছানো হয়ে গিয়েছিল।
কিন্তু হঠাৎ সব থেমে গেল!
গায়ে হলুদের পোগ্রাম বাতিল হয়ে গেল!
রাফসা ঘরের মধ্যে চুপচাপ বসে আছে। তার দুই পায়ে দুইটা পায়েল। একটু আগে পায়েল ডেলিভারি দিয়ে গেল। সাকিবের পছন্দ আছে বলতে হয়!
রাফসার পায়েলের দিকে তাকিয়ে সে আনমনে ভাবছে। সাকিবের সাথে কথা বলা উচিত! সাকিবকে ফোন দিবে!
কিন্তু তার ফোন তো বন্ধ।
বাড়ির সবাই চুপচাপ বসে আছে। রাফসা গায়ে হলুদ পোগ্রাম বাতিল করতে বলেছে। রুমের দরজা বন্ধ করে বসে আছে।
দুই তিনদিন ধরে কি হয়েছে তার! ঘর থেকেও তেমন বের হচ্ছেনা। কারো সাথে কথাও বলছে না।
বিয়ে হয়ে যাচ্ছে বলে কি কেউ এমন করে!
.
রাফসার দরজায় কেউ টোকা দিচ্ছে। রাফসা বিরক্ত হয়ে গেল। রাফসা বলল
-খুলছি।
তবুও টোকা দিয়েই যাচ্ছে!
রাফসা রেগে দরজা খুলল। দরজা খুলেই অবাক!
সাকিব দাঁড়িয়ে আছে! রাফসা কিছু বলার আগেই সাকিব রুমে ঢুকল। রাফসার বিছানায় বসল।
সাকিবের এমন কর্মকাণ্ডে রাফসা বিমোহিত।
রাফসা কিছু বলার আগেই সাকিব বলল
-তুমি গায়ে হলুদ দিতে রাজি হওনি কেন!
-সেটা পরে বলি। আগে বল তুমি এখানে কেন!
-তোমার জন্য আসতে হল।
-আমার জন্য! তুমি বের হও। তোমাকে কেউ দেখে নিলে অনেক সমস্যা হবে।
-আমি আসতে চাইনি। তুমিই বাধ্য করেছ। গায়ে হলুদের পোগ্রাম বাতিল না করলেও পারতে!
রাফসা রেগে যাচ্ছে। তার সাথে ভয়ও পাচ্ছে। কি করবে বুঝতে পারছেনা।
রাফসা আসতে করে বলল
-তুমি আমার ঠিকানা কোথায় পেলে!
-একভাবে তো পেয়েছি। কিন্তু তুমি আমাকে এভাবে তাড়াচ্ছ কেন!
-তাড়াব না তো কি করব!
-তাহলে আমার জন্য মন খারাপ করে ঘরের কোণায় বসে কেন!
-কে বলেছে তোমার জন্য মন খারাপ!
-আমার দিকে তাকিয়ে বল!
রাফসা সাকিবের দিকে তাকালো না। সাকিব রাফসার দিকে তাকিয়ে বলল
-যাও হলুদের পোগ্রাম শুরু করতে বল। রেডি হয়ে নাও।
-দেখ, আমার কোন বিষয় নিয়ে নাক গলাবে না।
রাফসা রেগে যাচ্ছে। সাকিব মুচকি মুচকি হাসছে।
.
কারো পায়ের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। রাফসা দরজার সামনে বাইরে তাকাতেই বুকের ভেতর ধক করে উঠল। রাফসার মা আসছে। এখন যদি এসে সাকিবকে এভাবে রুমে বসে থাকতে দেখে তবে কি হবে!
রাফসা তাড়াতাড়ি সাকিবের কাছে এসে বলল
-মা আসছে।
-তো কি হয়েছে?
-কি হয়েছে মানে! তোমাকে এখানে দেখলে কি হবে জানো!
-কিছুই হবেনা।
-প্লিজ বাইরে যাও।
-যাব না।
রাফসা কি করবে বুঝতে পারছে না। কি হবে কে জানে! এখন যদি তার মা রুমে চলে আসে। তবে কি হবে!
.
-কিরে তুই রুমেই থাকবি!
যে ভয় পেয়েছিল সেটাই হল। রাফসার মা ঘরে ঢুকতেই সাকিব সালাম করল। রাফসার মা কিছু বলার আগেই সাকিব বলল
-কেমন আছেন?
-ভাল। তুমি কখন এলে!
-একটু আগে। আপনার মেয়ের সাথে একটু কথা বলতে এলাম। সে নাকি গায়ে হলুদ পোগ্রাম বাতিল করেছে!
-আচ্ছা তোমরা কথা বল।
রাফসার মা চলে গেল। রাফসা দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখে কোন ভাষা নেই। সাকিবকে দেখেও তার মা কিছু বলল না!
রাফসাকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখে সাকিব রাফসার পাশে দাঁড়াল। কানের কাছে মুখ এগিয়ে বলল
-আমার শ্বাশুড়ি অনেক ভাল। জামাই মেয়েকে বিরক্ত করল না।
-জামাই মেয়ে মানে!
-তোমাকে বিয়ে করলে আমি তো তার জামাই হব।
-মানে!
-এখনো বুঝতে পার নি! যার সাথে তোমার বিয়ে ঠিক হয়েছে সেই ছেলেটা আমি। তুমিই বললে আমাকে বিয়ে করবে না। শুধু প্রেম করবে। কিন্তু তোমাকে এত ভালবেসেছি, বিয়ে না করলে কিভাবে হয় বল! তাই একদিন বাবা মাকে দিয়ে বিয়ের প্রস্তাব পাঠালাম। তোমার পরিবার রাজি হয়ে গেল।
সাকিবের কথা শেষ হতেই রাফসা সাকিবের পিঠে কিল দিতে শুরু করল। সাকিব রাফসার কিল খেতে খেতে বলল
-হবু স্বামীকে মের না। মানুষ খারাপ বলবে।
-মারব না তো কি! তুমি এতকিছু করলে আর আমাকে জানালে না!
-জানালে তো এমন পরিস্থিতি হত না। আমাকে এত ভালবাস সেটাও বুঝতে না।
রাফসা চুপ করে আছে। সাকিব রাফসার হাত ধরে বলল
-যাও তৈরি হয়ে নাও।
-তুমি বের হও।
-থাকি না!
-বের হও।
রাফসা সাকিবকে বের করে দিয়ে হলুদ শাড়ি পরল। মনের মত করে সাজল। তিনদিনে মনে যে কষ্ট ছিল, নিমিষেই আজ তা শেষ।
.
গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে সবাই মজা করছে। তবে সবাই অবাক! তিনদিন ধরে যে মেয়ে মন খারাপ করেছিল। আজ সে এত খুশি!
খুশির কারনটা সাকিব আর রাফসা জানে। তাদের চুক্তিকরা প্রেমের অবসান ঘটে বিয়েতে রুপ নিচ্ছে। খুশি নাহলে হয়!
আপন মানুষকে সারাজীবনের জন্য পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। সবাই পায় না। যে পায় তাকে খুশি হতে হয়।

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ