**** স্ত্রী এর কাছে কোরআন শিক্ষা ****
:
সকলের কাছে ১০ মিনিট চেয়ে নিচ্ছি পোষ্ট টা পড়ার জন্য। যতটুকু সময় ব্যয় করবেন লেখাটা পড়ার জন্য আসা করি সময় টুকু বিফলে যাবে না কারো।
:
:
জীবনটা বদলে যাওয়ার জন্য অর্থ সম্পদ, বাড়ি গাড়ির প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন হয় নেক মনের একজন প্রকৃত মানুষ। যে সব সবয় অশ্লীল, খারাপ গুনাহ থেকে আগলে রাখবে প্রতিটা নিশ্বাস এর সাথে সাথে ভালো কাজে উৎসাহিত করবে। সবসময় শাসন করবে ভুল কাজের জন্য, ভুল পথে পা দেওয়ার জন্য, শত অবহেলার পরেও সে জোকের মতো লেগে থাকবে খারাপ পথ বর্জন করার জন্য। ঠিক তেমনি আমার জীবনে একটা জোকের মত লেগে ছিলো আছে আর থাকবে আমার অগোছালো, এলোমেলো জীবনে যে এসে আমার জীবনটা সম্পর্ন পরিবর্তন হয়ে যায় আমার "স্ত্রী" এর জন্য।
ছোট বেলা থেকে যেটা চেয়েছি সেটাই পেয়েছি আমি, না চাইতেও অনেক কিছু চলে আসতো আপনা আপনি। মা বাবার একমাত্র ছেলে আমি" হৃদয়"। আমাদের নিউ মার্কেটে ৩ টা কাপড়ের দোকান আছে, বাবা সারাদিন ব্যবসা নিয়ে বিজি থাকে আর মা বাড়িতে থাকে। বাড়িটা শহরের মধ্য নিজেদের বাড়ি । ছোট বেলা থেকে একটু জেদি ছিলাম অনেক যেটা মনে চাইতো সেটা না পাওয়া পর্যন্ত অস্থির হয়ে পড়তাম। ছোট বেলা থেকে মা নামাজের তাগিদ দিতো মসজিদে পড়বো বলে বাসা থেকে বের হয়ে বাজারে গিয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতাম। শুধু শুক্রবার এর নামাজটা পড়তাম মাঝে মাঝে সেটাও হতো না। না পড়লে মা একটু বকা বকি করতো রাগ দেখাতাম প্রচুর বকা দিলে। তাই আমাকে বকতো না, প্রচন্ড ভালোবাসে আমাকে তারা ।আমি মা বাবার দুই জনের একটি প্রান আমাকে ঘিরে তাদের সব কিছু। আদরে, আল্লাদে, জেদে হতে লাগলাম একটা বাদর। এই বাদর টা ছিলাম নামাজ রোজা করতাম না , বন্ধুদের সাথে পার্টি করা বেশী রাত করে বন্ধুদের সাথে বাইরে আড্ডা দেওয়া। আমি পুরোটা অধপ পতনে চলে গিয়েছি। বড় হয়েছি অর্নাস পাস করে বসে আছি চাকরি করার প্রয়োজন পড়ে না বাবার ব্যবসা নিজেই সামলাতে পারে কোনোদিকে খেয়াল করি না এমনি করে আমার দিন চলছিলো মজায় মজায়। হঠাৎ একদিন সকালে বাবা মা ও আমি মিলে বাবার এক বন্ধুর বাড়িতে যায় তিনি মাঝে মাঝে আসে আমাদের বাড়িতে তবে তিনার বাসায় কোনোদিন আমি যায় নি হয়তো গিয়েছি তবে মনে পড়ে না। সকাল সকাল গেলাম আমাকে বলা হলো তারা আমাদের নিমন্ত্রণ করেছে তাদের বাড়িতে তাই যাওয়া। যথাযথভাবে আমরা পৌছালাম কিন্তু সেখানে গিয়ে আমি অবাক হয়ে যায় । কারণ তারা আমাকে নিয়ে এসেছে মেয়ে দেখাতে বিয়ের জন্য। এমন পরিস্থিতির মাঝে পড়ে যায় যে মা বাবার সম্মান এর কথা চিন্তা করে বলতেও পারিনি আমি মেয়ে দেখবো না, আমি এখন বিয়ে করবো না। বিয়ে করা মানে একটা উটকো ঝামেলা মাথার উপরে আসা এটা। কিছু করার নেই চুপচাপ বাসে আছি একটু পর মেয়েকে আনা হলো তাও হিজাব পরনে, শুধু মুখটা আর হাতের তালুর উপর ও নিচের পিট তা দেখা যাচ্ছে। শুনলাম মেয়ে নাকি ৩০ পারার হাফেজা শুনে তো বুঝতে পারলাম মেয়ে কেমন হবে। ১৯৮০ সালের মেয়েদের মতো চালচলনযুক্ত। এসে সালাম দিলো সাবাইকে,ইচ্ছা ছিলোনা মেয়ের মুখ দেখবো তাই নিচের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। সবাই কথা বলছে ভেবেছিলাম আলাদা কথা বলতে দিলে তাকে সোজাসুজি মানা করে দেবো আমি তার লায়েক না আমি এটাই সত্যি । কিন্তু সেটাও মিললো না মেয়ে বিয়ের আগে ছাড়া আলাদা করে কথা বলতে চাই না মা বাবাও তাই মেনে নিলো সবার পছন্দের ভিত্তিতে আমার মতামত জানতে চাইলো, মা বাবা ঠিক করে আছে আঙ্কেল এর মেয়ের সাথে আমার বিয়ে দেবে আগেই পছন্দ।সবাই অনেক খুসি আর সেই খুসিতে আমি পানি ঢেলে নষ্ট করতে চাইনি। একটা কথা তো শুনি মনে মনে বলি। মা বাবার আনন্দ যেনো ধরে না, আমি জানি মানা করলেও কিছু হবে না তাই জেদ করলাম না।
১৫ দিন পর আমাদের বিয়ে হয় এই পনেরো দিনের মধ্য মেয়ে একটা দিনও আমার সাথে কথা বলিনি এমন কি তার নাম টা জানতে পারলাম কবুল পড়ার সময় কাজী সাহেব এর মুখে,, মোছাঃ ফারিহা সুলতানা "মিষ্টি"। নামটা খুব সুন্দর কিন্তু চেহারাটা কেমন তাতো এখনো দেখিনি ইচ্ছা ছিলো না।
বাসর ঘরে ঢুকে দেখি মেয়েটা খাটের মাঝ বরাবর ইয়া লম্বা ঘুমটা দিয়ে বসে আছে। আমি যেতেই নেমে সালাম করলো কিছু বললাম না নিজ থেকে উঠে গেলো আর আমার সামনে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে থাকে।
ঘুমটা তুলে দেখার কেনো জানি ইচ্ছা জাগলো না আমার তাই তুলে চেহারা পরিদর্শন করলাম না। আমার সামনে দাড়ানো অবস্থাতে তার কাছে নাম জানতে চাইলাম,,
বললো,, মোছাঃ ফারিহা সুলতানা মিষ্টি, আমাকে আপনি মিষ্টি বলেও ডাকতে পারেন।
কিছু বলতে যাবো ঠিক তখনি
---- ইশার নামাজ পড়েছেন আপনি?( কন্ঠ সুর তো বেশ ভালো )
----অন্য দিনে পড়ি না আর আজকের দিনে পড়বো?
----এসব আপনি কি বলছেন?
----তুমি আমার বিষয় কিছু জেনেছো কি?
----মায়ের কাছ থেকে কিছুটা জেনেছি?
----তবে এটা কি বলেনি তিনি?
----প্রয়োজন হয়নি কারণ প্রতেক প্রাপ্তবয়স্ক নারী পুরুষের উপর নামাজ ফরজ করা হয়েছে সেই অনুযায়ি আপনি কেনো ব্যতিক্রম হবেন?
----দেখো এইসব দয়া করে আমার বলতে এসো না প্লিজ,, আমি জানতাম বেশী ধার্মিক মেয়ে বিয়ে করলে এমন টাই হবে।
----আপনি আমার আজ থেকে স্বামী আপনার ভালো খারাপ, আমার ভালো খারাপ হিসেবে গন্ন হবে তাই আমি চাই না আমার স্বামী কোনো গুনাহ কাজ করেন।
----কেনো এইগুলো শুরু করছো আজকের এই রাতে?
----প্রতেক স্বামীর পায়ের নিচে আমাদের স্ত্রীর জান্নাত আর সেই জান্নাতের গায়ে আমি কখনো জাহান্নামের আগুনের তাপ স্পর্শ করতে দিবো না।
----হয়েছে হয়েছে এখন চুপ করো প্লিজ নিজেদের বিষয়ে কিছু আলাপ আলোচনা করি একটু?
----আমার ইশার নামাজ কাজা হয়ে গিয়েছে আর আপনারো, চলেন দুইজনে এই পবিত্র রাতে এক সাথে নামাজ আদায় করে আল্লাহ কাছে নতুন জীবনে ইসলামের নিয়ম মেনে পথে চলতে পারি তার জন্য দোয়া করি?
---- তুমি যাও আমাকে জোর করো না।
আজব এতক্ষন কথা বললাম তবুও মুখ তুললো না মেয়েটা। আমি নিজ হাতে তুললাম না বলে সেও উচু করলো না ধুর, এটা কেমন মেয়ে বিয়ে করলাম? জীবনের বারোটা বেজে যাবে এবার এইসব শুনতে শুনতে। মেয়েটা আমার সামনে থেকে সোজা ওয়াসরুমে গেলো হয়তো অজু করতে গিয়েছে আমি খাটের উপরে বসে আছি। মনে মনে প্রচুর রাগ জমে উঠছে কিন্তু কি করবো যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে এখন কিছু একটা করতে হবে এই জালা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য। মেয়েটা ওয়াস রুম থেকে বের হয়ে আমার কাছে কখন আসলো টের পেলাম না আবার সেই নামাজের তাগিদ দিলো আমাকে। মুখ তুলতে অবাক হয়ে গেলাম।
নামের সাথে চেহারার মিল আছে হয়তো তার থেকে বেশী কিছু।
অপরুপ সুন্দরর্যের অধিকারী মিষ্টি। কিন্তু মনটা খারাপ হয়ে গেলো তার কথায়। তাকে বললাম, সে যেনো নামাজ পড়ে শুয়ে পড়ে আমার ঘুম লাগছে তাই শুয়ে পড়লাম। শুতে না শুতে ঘুম চলে আসে আমার সারাদিন অনেক ধকল গিয়েছে। সকালে ভোরে কারো আওয়াজ শুনলাম কেও ডাকছে ঘুমের ঘোরে তেমন গুরুত্ব দেইনি। হঠাৎ ঘুমটা ভেঙে যায় একটা সুরের আওয়াজ এর কারনে পাশ ঘুরতে দেখে মিষ্টি জায়নামাজ এর পরে বসে খুব সুন্দর করে কোরআন পড়ছে।শুনতে খারাপ লাগছে না মনে মনে ভাবলাম আমি তো, তিন থেকে চারটা সূরার বেশি পারি না তাও তার মাঝে কতোটা ভুল আছে তার ঠিক নাই। শুয়ে শুয়ে মিষ্টি কন্ঠের কোরআন তেলওয়াত শুনছিলাম একটু পর পড়া শেষ করলো আমার দিকে তাকিয়ে তার দুই ঠোটের মাঝ থেকে একচিলতে হাসি ফুঁটে উঠে আমি তেমন গুরুত্ব না দিয়ে আবার পাস ফিরে ঘুমের ভানে শুয়ে আছি। কিছুক্ষন পর "কফি" এনে আমাকে সালাম দিলো দিয়ে আমাকে উঠে ফ্রেস হতে বললো।
----এতো সকালে কেও উঠে নাকি এখনি ডাকছো?
----ফজরের আজান এর সাথে সাথে আমাদের উঠার জন্য বলা হয়েছে, আল্লাহর রাজি খুসির জন্য নামাজ আদায় করে, দ্বিনের পথে, রোজগার এর উদ্দেশ্য যেতে বলেছে ইসলাম ।
----আমার ঘরে এতো অভাব পড়েনি যে ভোর না হতেই মাঠে ঘাটে বের হতে হবে, যা আছে তাই দিয়ে জীবনটা কেঁটে যাবে। আর সাতসকালে এই প্যান প্যান বন্ধ করবে?
----আমার কথায় রাগ করবেন না দয়া করে।
----করবো না যদি এটা বন্ধ করো প্লিজ।
----আচ্ছা আপনি হাত মুখ ধুয়ে নাস্তা করতে আসেন?
----যাও সময় হলে পেয়ে যাবে।
বলেই আবার শুয়ে পড়লাম, ধুর ঘুম তো আর হলো না উঠে সোজা ছাদে চলে গেলাম সকালে সোনালি রোদ্দুর এর সাথে ফুরফুরে হাওয়ায় মনটায় সতেজ হয়ে গেলো। সত্যি সকালের এই আবহাওয়া এতো ভালো লাগে জানতাম না।আরো কিছুক্ষন থাকি সেখানে
তারপর নিচে গিয়ে ফ্রেস হয়ে নাস্তা করে বাজারের দিকে বের হলাম বন্ধুরা বার বার কল দিচ্ছে তাই। দুপুরের আজান পড়ার পর একটা কল আসে অচেনা নাম্বার থেকে তখন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেই একটা কফি সপে।কল ধরতে জানতে পারলাম আমার স্ত্রী কল দিয়েছে,, যেখানে থাকি না কেনো যোহর এর নামাজ যেনো আদায় করে নেই। বন্ধুর সামনে কথা বলাতে, তারা না না রকম ইয়ারকি মারতে লাগলো। সবাইকে চুপ করালাম একটু পর আবার কল আসলো । বাসায় যেতে বললো খাওয়ার জন্য। মানা করে দিলাম, আমি বাইরে থেকে খেয়ে নিয়েছি।
এমন করে দিনটা চলে যায় রাতে ঘুমানোর সময় দেখলাম বউটা মেঝেতে বিছানা পাতছে।
তাই দেখে বললাম.
----কি ব্যাপার এখানে বিছানা নাচছো যে?
----আমি বে নামাজীর হাতের রান্নাও খাই না আর একজন বেনামাজীর সাথে ঘুমানো আমার পক্ষে সম্বব না আপনি উপরে ঘুমান আমি এখানে ভালো আছি।
----কিন্তু এটা জানলে সবাই কি ভাববে?
----কে কি ভাবলো সেটা বিষয় না আমি আমার কর্ম দেখি যদি আমার কর্ম সহি্ হয় তাহলে কেও খারাপ উচ্চারোন করতে পারবে না।
আপনি যেদিন নিয়মিত নামাজ ও কোরআনা পড়বেন সেই দিন আমি আপনার বুকে মাথা রেখে ঘুমাবো আর সারাজীবন ঐ বুকে ঘুমাবো আমার বালিস এর দরকার হবে না।স্বামী স্ত্রী মাঝে এক চুল পরিমান ঘুমানোর সময় ফাঁকা থাকলে সেখানে শয়তান এসে অবস্থান করে, আমি চাই না আমাদের মাঝে শয়তান সববাস করুক।
তাই আমি আল্লাহ কাছে দোয়া করি আপনার হেদায়নত দান করুন তিনি।
বলে মেয়েটা তার বিছানায় শুয়ে পড়ে আমি ঠায় দাড়িয়ে রইলাম। কথা বলার বাকশক্তি যেনো হারিয়ে ফেলেছি মুহূর্তে।
নিশ্চুপ হয়ে আমি শুয়ে পড়লাম।
আজ দুই রাত হচ্ছে আমাদের বিয়েটা তবে মেয়েটার সাথে খারাপ ব্যবহার করছি, কথার দ্বারা, কিন্তু তার মাঝে আমার জন্য একটু চুল পরিমান রাগ দেখলাম না। অন্য কোনো মেয়ে হলে এতক্ষন উলটো কথা শুনিয়ে দিতো কতোটা। এইসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ি।
এমনি করে ১ মাস পার হলো বউ আমার নামাজ আর কোরআন শিক্ষার তাগিদ দিতে থাকে আর আমি সে গুলো থেকে এড়িয়ে চলি। এই একমাসের মধ্য আমার আরেক বন্ধুর বিবাহ হয়। মা বাবার পছন্দের উপর ভিত্তিতে।
সব বন্ধুরা মিলে একজায়গাতে হলাম। কিন্তু যে বন্ধুটা বিয়ে করেছে ইবরাহিম নাম তার,, তার চোখ মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে কিছু হয়েছে। কৌতুহলি নিয়ে জিঙ্গাসা করলাম,,
----নতুন বিয়ে করেও এমন মুখটা বাংলার পাঁচ করে আছিস কেন?
----বিয়ে কেন যে করলাম এমন সময় জীবনটা মনে হয় ১০ দিনে শেষ।
----তওবা তওবা বলিস কি কেনো?
----আর বলিস না বউটা বাড়ির কিছু করে না, কোনে ভুল করলে তা বলা যাবে না, সবসময় টিভি আর মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত, নতুন বউএর মধ্য যে গুন গুলো থাকে তার ছিটেফোটা টুকু নেই। তুইও তো আমার আগে বিয়ে করেছিস তোর তো কোনো দিন দেখলাম না মুখটা খারাপ করতে তুই তো সুখেই আছিস মনে হয়?
----হা রে আমি সত্যি সুখে আছি ওর মতো একটা স্ত্রী পেয়ে আমার জীবন স্বার্থক রে। আচ্ছা চলি আজ, কাল দেখা হবে।
বলেই উঠে বাড়ির পথে হাটা দিলাম রাত ১১ টা বাজে আর প্রতিদিন এমন সময় বাড়িতে আসি। আজো তাই করলাম, প্রতিদিন মেয়েটা আমার জন্য বসে থাকে খাবার টেবিলে আমি গেলে তারপর আমাকে খাইয়ে সে খাওয়া দাওয়া করে। এই ১ মাসে কতো খারাপ ব্যবহার করেছি হিসাব নেই তবুও একটু রাগ করেনি কোনো সময় আর ইবরাহিম ১০ দিন বিয়ে করতে না করতে এই সমস্যা। মাথায় হাজার চিন্তা ঘুর পাক খাচ্ছে আমার। আর ভাবতে পারছি না। তবে এটা ভালো বুঝতে পারছি আমি আমার বউ এর উপর অবিচার করেছি অনেক অনেক জানিনা সে আমাকে ক্ষমা করবে কি না?
তার কাছে ক্ষমা চাইবো বা কি করে?
ভাবতে ভাবতে কখন বাড়িতে আসলাম বুঝতে পারলাম না। আজো মিষ্টি আমার জন্য বসে আছে খাবার নিয়ে।
গিয়ে তার কাছে দাড়াতে উঠে দাড়ালো, আর বলল, ফ্রেস হয়ে নিন আমি খাবার দিচ্ছি বলে চলে যেতে লাগলো।
মিষ্টি বলে ডাক দেওয়াতে দাড়িয়ে গেলো।
----প্রতিদিন আমার জন্য কেনো বসে থাকো?
----আপনাকে না খাইয়ে আমার গলা দিয়ে খাবার নামবে না যে।
----আমাকে তো স্বামী বলে মানো না তবে এসব করার প্রয়োজন আছে?
----ছিঃ ছিঃ এমন কথা বলবেন না দয়া করে আল্লাহ আমার প্রতি নারাজ হবে। আমি আপনাকে মনে প্রানে স্বামী বলে মানি শুধু স্বামীর অধিকার টা দেইনি আপনাকে এটাই তফাত।
----তো এই অধিকার পেতে হলে আমাকে কি করতে হবে ?
----.....(মিষ্টি আমার চোখের দিকে তাঁকিয়েছে এই প্রথম বার কিন্তু চুপ করে আছে)
----বলো না তোমার কাছে স্বামীর মর্যাদা পেতে হলে আমার কোন পথ অনুসরন করতে হবে?
----......(মেয়েটার অশ্রুশিক্ত চোখ বলে দিচ্ছে কতোটা খুসি হয়েছে। কোনো একলেখকের গল্পে পড়ে ছিলাম, মানুষ বেশী খুসিতে হাসতে জানে না কাঁদতে জানে)
----বলবে না আমাকে?
----আপনি আল্লাহ পথে ফিরে আসেন, যে পথ আপমানাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, আপনাকে পাপ করা শিখাচ্ছে আপনি সেগুলো বর্জন করে ইসলামের পথে আসেন? নিয়মিত আল্লাহর রাজি খুসির জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন? প্রতিদিন সকালে কোরআনা তেলওয়াত করেন, কর্মজীবী হয়ে যান আমাদের ভবিষ্যৎ এর জন্য এতে আপনি আমার কাছে প্রকৃত স্বামীর অধিকার পেয়ে যাবেন।
----আমি কোরআন পড়তে জানি না শুদ্ধ করে তাহলে কেমন করে পড়বো ?
----আপনার স্ত্রী একজন হাফেজা আর তার প্রিয় স্বামী কোরআন পড়তে জানে না, তাহলে আমার হাফেজা হয়ে কি কোনো কাজে আসলো?আমি আপনাকে সহি্শুদ্ধ ভাবে কোরআনা শিক্ষা দেবো যদি আপনি মতামত দেন?
----জীবনে কি এমন পূর্ন করেছিলাম যে সেই অসিলায় আল্লাহ তায়ালা তোমার মতো একজন নেক নারী আমার জীবন সঙ্গী হিসেবে দিয়েছেন।মিষ্টি?
----জি বলেন?
----আমাকে তুমি ক্ষমা করে দেও দয়া করে জানি আমার ক্ষমা চাওয়ার যোগ্য নেই হয়তো, বিয়ের রাত থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত অনেক খারাপ ব্যবহার করেছি আমাকে তুমি ক্ষমা করো?(কতা বলার মাঝে মেয়েটা আমাকে থামানোর চেষ্টা করলো তবুও এক টানা বলেই গেলাম না হলে যে সারাজীবন এটা হয়তো বলা হবে না)
---- আমার কাছে এমন করে ক্ষমা চেয়ে আমার পাপি বানাবেন না। মানুষ মাত্র ভুল করে আর সেটা একদিন না একদিন ঠিকি বুঝতে পেরে সেটা সুধড়ে নেই, আল্লাহ আপনাকে হেদায়েত দান করেছেন আর তাতে আজ আপনার মাঝে পরিবর্তন ও আপনার চোখ খুলে গেছে কোনটা ভালো ও কোনটা মন্দ ।
----আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি সব বাজে অভ্যাস থেকে আমি নিজেনে বিরতো রাখবো, তার জন্য তোমার মিষ্টি শাসন আমার খুব প্রয়োজন।
আর হ্যাঁ, তুমি বললে না আমাকে কোনআন শিক্ষা দেবে? তাহলে আজ থেকে তুমি আমাকে কোনআন শিক্ষায় শিক্ষিতো করে তুলতে হবে?
----এটা আমার পরম সৌভাগ্য আমার প্রিয় স্বামীকে কোরআনা শিক্ষা দেওয়া আল্লাহ আমাদের দুইজনের নিয়ত কবুল করুন।
---- তুমি তো এটাই চেয়েছিলে না আমি ইসলামের পথে আসি?
----আজ একটা মাস ধরে আল্লাহ কাছে চোখের পানি ফেলেছি, আমার প্রিয় স্বামীকে সঠিক ও সরল পথ প্রদান করুন আল্লাহ আমার চোখের পানির মূল্য দিয়েছেন আমি আজ খুসি সত্যি আমার জীবনে আজ প্রথম এতোটা সুখি মানুষ মনে হচ্ছে আজ।
----আল্লাহ হয়তো চেয়েছেন তবে তুমি হয়তো চাইছো না?
----এই সব কি বলছেন?
----তাহলে আমাকে আপনি করে বলে পর করে দিচ্ছো?
----......?( চুপ করে লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেললো মিষ্টি)
----কি হলো আপনি করে বলবে এখনো?( কাছে গিয়ে ডান হাতের চার টা অঙ্গুল দিয়ে মাথা উঁচু করে ধরলাম, লজ্জায় প্রায় মুখটা লাল হয়ে গিয়েছে এতো লজ্জা মেয়েটা)
----আর কখনো বলবো না।
----তোমাকে কখনো কোনো কিছু তে জোর করবো না, শুধু একটা চাওয়া আছে তোমার কাছে?
----জি বলো কি চাওয়া?
----তোমাকে কি আমি একবার আমার বুকে জড়িয়ে ধরতে পারি?
----....?( লজ্জাবশত একটা মুচকি হাসি দিয়ে মাথা নিচু করে, মাথা নাড়িয়ে সম্মতি প্রদান করে)
বিয়ের পরে আমি একটা দিনও স্ত্রীর শরীর স্পর্শ করিনি আজ প্রথম তাকে ভালোবাসা সম্মান দিয়ে আমার বুকে জড়িয়ে ধরলাম সাথে সাথে আমার সমস্ত শরীরে একটা শিহরণ জেগে উঠলো, আমি জানিনা সর্গীয় সুখ কেমন? তবে এটা আমি বলতে পারি আজ আমার স্ত্রীকে কাছে পেয়ে সে সুখটা অনুভব করছি এর ব্যতিক্রম হবে না মনে হয়। আমি পিছনের দিন গুলোর জন্য অনেক অনেক দুঃখ প্রকাশ করতে ইচ্ছা হচ্ছে। কিন্তু বউ আমার এখনো লজ্জায় মুখ গুজে আছে, অনুভব করলাম তার পুরো শরীর যেনো কাঁপছে।
----তুমি কাঁপছো কে?
----প্রথম এই পুরুষ এর ছোঁয়া পেলো আমার শরীর আজ।
তার মাথা তুলে সিঁথি বরাবর একটা চুমো দিলাম তাতে দেখতে পেলাম সে সম্পর্ন নড়ে উঠলো ।
দেখালাম তার চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছে, এই সুখের অশ্রু থামাতে গেলে একটু ভালোবাসার প্রয়োজন।
অনেক ভুল করেছি আর করতে চাই না আমি এখন থেকে কিছু ভুল আমার মিষ্টি বউটার সাথে করবো। বলতে আবার আমার বুকে মুখ গুজলো তার দুইহাতে জড়িয়ে ধরলো।
----এখন আমার প্রথম করনিয় কি বলো?
----এশার নামাজ পড়েছো ?
----পড়া হয়নি এখনো?
----তাহলে যাও অজু করে নামাজ আদায় করে নেও তারপর একসাথে রাতের খাবার খাবো।
কথা মতো অজু করে নামাজ আদায় করে নিয়ে এক সাথে রাতের খাওয়া শেষ করলাম আজ প্রথম কোনো মেয়েকে গালে তুলে খাইয়ে দিলাম অনুভূতিটা সত্যি প্রকাশ করার ভাষা জানা নেই।ঘুমানোর আগে বললাম,
আজ থেকে তোমার আর বালিসের প্রয়োজন পড়বে না ঘুমানোর জন্য আমার এই বুকটা আজ থেকে তোমার জন্য পেতে দিলাম,কথা দিচ্ছি যতোদিন আমি সবটা নিয়ম পালন করতে সম্বব না হচ্ছি আমি তোমাকে মিলনের সম্পর্কের জন্য অনুরোধ করবো না ? পারবে তো সব টা মেনে এই বুকে মাথা রাখতে?
মাথা নাড়িয়ে আমাকে হ্যাঁ জানালো। মিষ্টি বউটাকে আজ পরম ভালোবাসা সহিত আগলে নিলাম এই হৃদপাজরে।
এরপর পর থেকে আমি যায় করি না কেনো, যেকানে থাকি, যে কাজে থাকি না সময় মতাবেক নামাজ পড়ে নেই।
প্রতিদিন সকালে ফজরের নামাজের পরে আমাকে কোরআন শিক্ষা দেই, মধুভরা কন্ঠে যখন কোরআন তেলওয়াত করে অপলক চেয়ে থাকি আমি তার মুখের দিকে। আমার সাথে সাথে মা বাবাকেও কোরআনা সহি্ ভাবে পড়ানোর জন্য চেষ্টা করে। মা বাবা তাকে বউ না মেয়ের মতো ভালোবাসে।
কয়েক মাসের মধ্য আমি সহি্ শুদ্ধ ভাবে কোরআন পড়তে শিখে গেলাম, আমার স্ত্রী আমার পাশে বসে আমাকে প্রতিটা হরফ শুদ্ধ উচ্চারোন করা শিখিয়েছে।
এখন আমি আর বাজে সময় নষ্ট করি না বন্ধুদের সাথে। সবটা বাবার ব্যবসা তে দেই। বাবাকে এখন আর আর কষ্ট করে ব্যবসা সামলাতে হয় না সবটা আমি একা করতে পারি।এতো কিছু সম্বব সবটা আমার স্ত্রীর জন্য। জীবনটা একদম বদলে গেলো স্বপ্নের মতো, মাঝে মাঝে চিন্তা করি কি ছিলাম আর কি হয়ে গেলাম। অন্ধকারে ডুবে ছিলাম পথ পাচ্ছিলাম না তাই যে দিকে ভালো মনে হয়েছে সেদিকে পা দিয়েছি। আজ সেই অন্ধকারের থেকে আলো মাঝে টেনে আনলো পবিত্র আল কোরআনা এর আলো দিয়ে। আল্লাহ কাছে লক্ষ লক্ষ শুকুর আদায় করি এমন একজন জীবন সঙ্গি আমাকে উপহার দেওয়ার জন্য।
:
:
বি:দ্র:- লেখাটা সম্পর্ন মনের কল্পনা থেকে সাজানো হয়েছে। তবে এটা সত্যি একজন নেককার স্ত্রী পারে তার স্বামীকে খারাপ পথ থেকে বিরত রাখতে, শুধু একজন স্ত্রী না একজন স্বামীও পারে এমন টা করতে তার স্ত্রীকে ইসলামের পথে আনতে,অবশ্যয় আছে এমন মেয়ে যারা বেপর্দা ভাবে চলে ,তাই রাগ না ভালোবাসা ও নম্রতা দিয়ে তাকে বুঝাতে হবে, কখনো রাগ দিয়ে করেন না, কারণ রাগ ইসলাম হারাম করেছেন আমাদের জন্য। মন থেকে আল্লাকে ডাকুন একদিন না একদিন নিশ্চয় আল্লাহ খুসি হয়ে সেই ডাকে সাড়া দেবেন। তাই কখনো নিরাশ হবেন না ভরসা রাখুন আল্লাহতালার উপর।
কোনো ভুল হয়ে থাকলে সলক ভুল ত্রুটি ক্ষমা দৃস্টিতে দেখবেন।
আর অনুরোধ কেও স্টকার,nice, good, best কমেন্ট করবেন না, মনের অনুভূতিটা প্রকাশ করেন যা থেকে আমিও কিছু শিখতে পারি।
শেখার কোনো শেষ নেই।
Hridoy khan
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ