āĻŦৃāĻšāϏ্āĻĒāϤিāĻŦাāϰ, ā§¨ā§Ž āϏেāĻĒ্āϟেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

2751

আকাশ অনেক মেঘলা। বাতাস ও বইছে অনেক জোরে, আবার হয়তো ঝড়ও উঠতে পারে। এখনকার সময়ে ঝড় হয় না বেশি কিন্তু যদিও হয় তাহলে অনেক ভয়ঙ্কর ভাবেই হয়। না, আর বাইরে বসে থাকা গেল না, অনেক জোরে বাতাস বইছে। চারদিক ধূলোয় অন্ধকার, ভারী বৃষ্টি হবে এটাতে কোনো সন্দেহ নেই। চেয়ারটা কাধেঁ নিয়ে আমগাছের তলায় থেকে ঘরের দিকে আসতে লাগলাম।
.
এতক্ষণ বসে ছিলাম আমাদের বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে ওই বড় আমগাছ তলার নিচে একটা মাঝারি ধরনের চেয়ার পেতে। ঘরেই বসে ছিলাম কিন্তু যখন দেখলাম হালকা ঠান্ডা বাতাস বইছে তখন একটু বাইরে যেতে মন চাইলো, বিশেষ করে আমগাছের নিচে। যখন বাতাস বইতে থাকে তখন ওই পুরোনো গাছটার নিচে যেতে মন বড়ই ছটফট করে, শত হলেও গাছটা অনেক পুরনো, আমার নানার আমলের গাছ ওটা। আমি আমার নানাকে কখনো দেখিনি, আমি পৃথিবীতে আসার আগেই নাকি তিনি এ পৃথিবী ছাড়ে। আর ওই গাছটাই নানার শেষ স্মৃতি কিন্তু কেন জানি না ওই গাছটা আমার খুব ভালো লাগে বিশেষ করে ওটার নিচে চেয়ার পেতে বসে থাকতে।
.
তাই আজও গেছিলাম ওই গাছটার নিচে, বাড়ির পাশেই তবুও একটু দূরে। কিছুক্ষণ ভালই চলছিল আবহাওয়া কিন্তু ঘণ্টা খানেক পরে যে বাতাস এভাবে বাড়বে এটা জানা ছিলো না। গুড়িগুড়ি বৃষ্টি পরছে, আর বাতাসের দাপট একটু বেশীই তাই আর ওখানে না থাকতে পেরে বাড়ির ভেতর চলে আসতে লাগলাম।
বারান্দায় একটা পা রাখা মাত্রই শুরু হলো জুম বৃষ্টি।
.
একেকটা বৃষ্টির ফোটা অনেক বড় বড়, মন দিয়ে টিনের উপর বৃষ্টি পড়ার শব্দ শুনলে এক সময় হয়তো মনে হবে টিনের চাল ফুটো হয়ে ঘরের ভেতর ঢুকে পরবে বৃষ্টির ফোটা। আমি না আবার একটু রোমান্টিক টাইপের, বৃষ্টি আসলেই যেমন রোমান্টিক মানুষ গুলোর মন নাচানাচি করে খুশিতে তেমনই আমারও খুব ভালো লাগে বৃষ্টি আসলে। ঝড় বোধ হয় আর হবে না, এই বৃষ্টিই হবে যেটুকু হওয়ার।
.
আবার জানালার সামনে চেয়ার পেতে বসে পরলাম। এখান থেকে আবার আমগাছটার নিচের অংশ পুরোপুরি দেখা যায়। গাছের উপরের দিকে তাকালে কিছুই দেখা যায় না কারণ আমি ঘরের ভেতর। আর আমি যেখানে বসে আছি সেখান থেকে গাছটার দূরত্ব মাত্র কয়েক হাত, এই ৮ বা ৯ হাত হবে হয়তো দূরত্ব। বৃষ্টির ফোটা আর ঢল বয়ে পুরো গাছ আর গাছের তলা পুরো ভিজিয়ে দিছে।
.
এই কি জানি দেখলাম! হ্যাঁ, রাস্তার উওর দিক থেকে কে যেন একটা দৌড়ে এদিকে আসছে। আবার বুকে কাপড়ের সাথে মোড়ানো কি যেন একটা আছে! আমগাছের একটু দূরেই কয়েকটা কলাগাছের সারি ছিল আর হটাৎ করে দৌড়ে এসে মানুষটা ওই কলাগাছের সারির ভেতর গেল আর বড় একটা কলা পাতা ছিঁড়ে আবার ওখান থেকে চলে আসলো। এখন আর অন্য কোথাও গেল না, সরাসরি আমাদের আমগাছের নিচে চলে আসলো।
.
কাছে আসছে বলে এবার সব স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। কোলে শাড়ির সাথে মোড়ানো জিনিসটা হলো একটা বাচ্চা, দেখে মনে হলো দু তিন মাস হবে এর বয়স আর মানুষটা ২৯ কি ৩০ বছরের মহিলা।
মহিলাটার কর্মকান্ড দেখে খুব অবাক হলাম, প্রথমে বাচ্চাটাকে শাড়ির আঁচলের ভেতর থেকে বের করলো, এতো সময় ধরে বাচ্চাটার মুখটা শুধু নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য বের হয়ে ছিলো আর সবটুকু অংশ শাড়ির আঁচলের ভেতর।
.
মহিলাটা আঁচলের ভেতর থেকে ওকে বের করলো আর তারপর কলাপাতা দিয়ে বাচ্চাটাকে কোলের উপর রেখে ঢেকে রাখলো।  পাতা টুকু শুধু ওই বাচ্চাটাকেই রক্ষা করছিল, বাচ্চাটা হয়তো ওনারই তাই নিজে সব কষ্ট সয্য করে নিজের সন্তান কে রক্ষা করছে। বাচ্চাটার উপর বৃষ্টির পানি না পরলেও মহিলাটার উপর পানি পরছিল, তিনি একদম ভিজে জবজবে হয়ে গেছিল। ওর উপর যাতে পানির ছিটেফোঁটাও না পরে সেভাবেই নিজের কোলে সাপটে ধরে উপরে কলাপাতা দিয়ে দিয়েছে কিন্তু নিজে যে বৃষ্টিতে ভিজে পান্তা পান্তা হয়ে গেছে সেদিকে ওনার কোনো খেয়ালই নেই।
.
বৃষ্টি তো থামছেই না আর থামার কোনো নামই নিচ্ছে না, আরো শক্তি বেশি খাটিয়ে বৃষ্টি আসছে, এখন কি হবে? আবার বাইরে তাকালাম, মহিলাটা এখনো আমগাছের নিচেই দাড়িয়ে আছে, ওনার গাঁয়ের মোটা সুতি কাপড়টার অবস্থা খারাপ, পানির ফোটার ছিটে লেগে কাদাঁ লেগে গেছে। আর কিছুক্ষণ থাকলে তো ওনিও অসুস্থ হবে আর ওনার বাচ্চাও ভিজে যাবে।
.
আমিই বা কি! ঘরে বসে বসে মজা দেখতেছি, ধ্যাত্, মানবতার খাতিরেও তো ওনাকে একটু সাহায্য করতে পারি গিয়ে। অতঃপর মার কাছ থেকে ছাতাটা নিয়ে আমগাছ তলায় যেতে লাগলাম। বাড়ির পূর্ব দিকে ঘুরে আমগাছ তলায় যেতে হবে। এ মা, মাটি অনেক পিচ্ছিল আর কাঁদাময়, আমার এখান দিয়ে হাঁটতেই ভয় করছে হুম ধীরে ধীরে যেতে হবে তাই ধীরেই যেতে লাগলাম, কখন না পরে যাই মাটিতে। বৃষ্টিও তো থামছে না এখনো।
.
এইতো ওনার কাছেই আসছি প্রায়। মুখটা এবার স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, চুল গুলো এলোমেলো ঝট পাকানো, শরীরে বোধ হয় অনেক ধূলো ময়লা ছিলো, বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে গেছে, হাতের ময়লার আকৃতি দেখে বুঝতে পারলাম। আমি ওনার থেকে একটু দূরেই দাড়িয়ে রইলাম। ওনি দেখি নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। মাথা তুলেছে, আমাকে দেখেই কেমন যেন ভয় পেয়ে গেল, একটু পিছিয়ে গেল মহিলাটা। আবার এতো সময় পর বৃষ্টির দাপট একটু কমে আসলো, আর কিছুক্ষণ পর হয়তো চলে যাবে বৃষ্টি কিন্তু ওনার তো এখনো সাহায্য দরকার -
.
- এইযে শুনুন, ভয় পাওয়ার দরকার নাই আমি আপনার কোনো ক্ষতি করতে আসিনি। বৃষ্টিতে ভিজে গেছেন তো, এইটা আমার বাড়ি আর ভেতরে মা আছে ওনার কাছে যেতে পারেন।
- না, না। আমি দিমু না। এইটা আমার পোলা, তোরে দিমু না ( কান্না করে দিছে)
- আরে আজব ( একটু কাছে এগিয়ে গেলাম)
- এই এই একদম আমার কাছে আসবি না, এইটা আমার পোলা তরে দিমু না।
- আরে আমি আপনার ছেলেকে নিতে আসিনি, আপনাকে সাহায্য করতে আসছি। আর আমি আপনার দূরেই আছি আপনি ভেতরে চলুন বৃষ্টিতে ভিজে গেছেন পুরোপুরি। আপনার আর আপনার ছেলের এখন গরম খাবার আর কাপড়ের দরকার।
- হুস, এই তুই দূরে থাক। যা এখান থেকে ভাগ।
- আরে পাগল নাকি আপনি?
- এই কি বললি? আমি পাগল?
- না, সেটা বলিনি। আপনার এখন হেল্প দরকার কিন্তু আপনি এমন আচরণ করছেন কেন?
- ঐ তুই যাবি এহন?
- আচ্ছা যাচ্ছি। ( বৃষ্টি থেমে গেছে)
.
ধ্যাত্, কেন যে মানুষের উপকার করতে যাই! আমি গেলাম ওনাকে সাহায্য করতে আর ওনি আমাকে ঝাড়ি দিয়ে দিল। বৃষ্টি থেমে গেছে তাই ছাতাটা বন্ধ করে ঘরের দিকে যেতে লাগলাম আর মহিলাটাকে দেখি রাস্তা দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, আর কোলের বাচ্চাটা এখন কান্না শুরু করেছে। ঘরের দরজার সামনে যেতেই মা সামনে এসে দাঁড়ালো।
- এই তুই এতো সময় ওই পাগলটার সামনে কি করলি?
- পাগল মানে!
- ওই মহিলাটা পাগল, জানিস সেদিন বাজারে কি কান্ডটাই না করলো। তুই তো বাজারে যাসনি সেদিন, আর এই পাগলটা এলাকায় নতুন আসছে। সেদিন একটা রুটি নিয়ে এক লোকের সাথে কি ব্যবহারটাই না করলো!
- হুম মানলাম ওনি পাগল কিন্তু ওই বাচ্চাটা কার?
- হয়তো ওরই, পাগল মানুষ বুঝিসই তো সব। কেউ কিছু বললে বা করলেও কোনো প্রতিবাদ করতে পারে না হয়তো কোনো মদ বা গাঞ্জাখোররা নেশার ঘোরে ওর সাথে খারাপ কিছু করেছে আর তাঁরই ফল ওই বাচ্চাটা।
- হুম বুঝলাম সব। ঘরে যেতে দাও তো, ঘুমাবো একটু।
- আচ্ছা যা।
.
অতঃপর আমি আমার ঘরের ভেতর ঢুকে পরলাম। বালিশে মাথা রেখে শরীরটা বিছানায় এলিয়ে দিলাম।
কথায় আছে, নিজের বুঝ পাগলেও বুঝে।
প্রবাদটা যেই বানিয়ে থাকুক না কেন ভুল কিছু বলেনি। ওনাকে কত বললাম আমার সাথে আসুন কিন্তু ওনি ভয় পেয়েছে। ভয়টা পেয়েছে ওনার বাচ্চার জন্য, হয়তো ওনি ভেবেছেন আমি বাচ্চাটিকে কেড়ে নিব এই ভয়ে তিনি আমার সাথে আসেনি।
.
অন্যরা বলতো, পাগলদের নাকি দয়া মায়া ভালবাসা বলতে কিছু নেই। কিন্তু কথাটা পুরোপুরি সত্যি নয়, ওদেরও তো কাছের মানুষের জন্য মায়া, ভালবাসা আছে। যেমন এই গল্পের পাগলটা, নরপশুদের কুকর্মের ফলে বাচ্চাটা ওনার গর্ভে আসলেও ওনি বাচ্চাটাকে ফেলে দেননি, শত হলেও নারীর টান বলতে কথা। আগে যেখানে থাকতো হয়তো সেখানকার মানুষ ওনাকে তাড়িয়ে দিয়েছে। আর ওনি ওনার বাচ্চার কথা ভেবে চলে আসে নতুন এলাকায়। নিজেকে ছাড়া আর কাউকে এখন তিনি বিশ্বাস করে না কারণ ওনার একটাই ভয়, ওনি ওনার গর্ভে ধারিত রক্ত কে হারাতে চান না।
কে বলে পাগলদের ভালবাসা নেই? সবারই ভালবাসা বলতে একটা টান আছে।
লেখা : Akash Sarker Nil

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ