#মেয়েদের_জন্য_লেখা!
.
স্কুল থেকে এসেই ব্যাগটা ছুড়ে দিলাম বিছানায়। সারা শরীর ঘিনঘিন করছে। নিজেকে অশূচী লাগছে। হঠাৎ করে ড্রেনে পড়ে গেলে অথবা কুকুর বিড়ালের পায়খানায় পা পড়লে শরীর যেমন নোংরা মনে হয়, তেমন মনে হচ্ছে। কাপড় না ছেড়েই বাথরুমে ঢুকলাম। গোসল করব। যদি নোংরা ভাবটা কমে।
আমি মেঘা। এখন সেভেনে পড়ি। আজ স্কুলে রওনা হবার পর থেকেই যত বিপত্তি শুরু হয়েছে। বাসা থেকে বের হয়ে রিকসা করে স্কুলে গেলাম। রিকসা থেকে নামার সময় হঠাৎ করেই শরীরের কিছু অংশে রিকসাওয়ালার কনুই লেগে যায়। লোকটা কখন কনুইটাকে ওভাবে ভাঁজ করল বুঝতেই পারিনি। আমি কিছু সময়ের জন্য বরফ হয়ে গেলাম। লোকটার দিকে লজ্জায় তাকাতে পারছিলাম না। কোনমতে ভাড়া মিটিয়ে হাটা দেই। একটু দূর গিয়ে পিছন ফিরে দেখি রিকসাটা গেলো কিনা। কিন্তু তাকাতেই দেখলাম লোকটা রিকসা টানতে টানতে আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে। এতো নোংরা হয় মানুষের হাসি!!! সাথে এটাও বুঝলাম লোকটা ইচ্ছে করেই এমনটা করেছিলো।
আমাদের স্কুলের ইংরেজী টীচার দীলিপ স্যার। উনি সহকারী প্রধান শিক্ষকও। আমাদের এবছর থেকে ক্লাস নিচ্ছেন। আমাদের কম্বাইন্ড স্কুল। ছেলেরা একপাশে আর মেয়েরা একপাশে বসি। স্যার খুব ভালো ইংরেজী বোঝান। তবে স্যার বেশিরভাগ সময় আমাদের দিকে তাকিয়েই পড়া বুঝান। পড়াও বেশি আমাদের ধরেন। ছেলেদের পড়া কম ধরেন। আর পড়া না পারলে খুব মারেন। আর আমাদের পড়া না হলে কিছুই বলেন না।আর পড়া পারলে মাথায়, পিঠে হাত বুলিয়ে দেন। আর এইখানেই আমার অস্বস্তি। স্যারের আদরের হাত প্রায় সময়ই পিঠের মাঝে থেমে থাকে। বেশ কিছুটা সময়। কেউ কেউ হয়ত পিঠটা বাঁকানোর চেষ্টা করে, তবে বেশিরভাগই ঠাণ্ডা বরফের মত চুপ থাকে। কারন বেশি মোচড়ামুচড়ি করলে স্যার তার কেবিনে ডেকে পাঠায়। আজ আমায় ডেকে পাঠিয়েছিলো। খুব ভয়েই ছিলাম। যাবার পর স্যার আমাকে তার পাশে দাড় করিয়ে আমার হাতটা নিজের হাতে তুলে নেন। আমার হাতের আঙ্গুলগুলো নাকি খুব সুন্দর। আমায় বললেন,, আমাকে নাকি স্যার খুব পছন্দ করেন। আমাকে স্যার পরীক্ষায় বেশি নাম্বার দিবেন। মাঝে মাঝে যেন স্যারের রুমে যাই। আর ক্লাসে যেন বেশি না মোচরাই। আমার হাতটা স্যার এক মুহুর্তের জন্য ছাড়েননি। বরঞ্চ হাত নিয়ে তার মুখেও বুলিয়েছেন। কেবিন থেকে বের হবার পর আমার মনে হয়েছিলো আমার গায়ে কিছু পোকা কিলবিল করছে। টয়লেটে এক ধরনের পোকা দেখা যায়। ছোট্ট কেঁচোর মত। পিছনে একটা লেজ থাকে। টয়লেটে শরীরটাকে ঘষটে ঘষটে চলে। ঐ পোকা আমার সারা গায়ে ঘসে ঘসে হাঁটছে। আমারর সমস্ত শরীর নোংরায় ডুবতে থাকলো। তারপরের ক্লাসগুলো আমি আর ঠিক করে করতে পারিনি। ছুটি হবার সাথে সাথেই বাসায় চলে এসেছি।
দুদিন স্কুলে যাইনি। আজ স্কুলে আসার পর টিফিনে সব মেয়েরা আমায় ঘিরে ধরল। স্কুলের কিছু বড় আপুও এসেছে। সেদিন কি হয়েছিলো সবাই জানতে চায়। আমি লজ্জায়, ঘৃনায় কিছুই বলতে পারলাম না। তখন আমার এক বান্ধবী বলল স্যার নাকি ওকেও ডেকেছিলো। হাতও ধরেছিলো। আরেক আপু বললো,, এইতো মাত্র শুরু। এমন আরো হবে। আর কাওকে কিছু বললে শুধু পরীক্ষায় ফেলই করাবেনা, সাথে নাকি মিথ্যা বলে রাসটিকিটও দিবে। আরেক আপু বলল উনি একদিন মেয়েলী কারনে সারের কাছে ছুটি আনতে গেলে স্যার তাকে অনেক নোংরা কথা বলেছিলো। আপু পুরো এক সপ্তাহ স্কুলেই আসেনি লজ্জায়। আমি আপুকে বললাম,
আপু, আপনারা কিছু করেন না কেনো?
কি করবো বলো?
কিছু একটা তো করেন। এভাবে আর কতদিন? আর কেন এই চুপ থাকা?
তুমি ঠিক যে কারনে চুপ হয়ে আছো। লজ্জায়। আর কাকে বলবে বলো? স্যার কাওকে জানানোর সুযোগই দেয়না। এছাড়া যদি নাম প্রকাশ হয় তবে এর সাথে আরো নোংরা কথা যুক্ত হবে। তাই কেউ সাহস পাইনা। চুপ করে সহ্য করি। তুমিও চুপ থেকো।
এক সপ্তাহ পর। আমাদের প্রধান শিক্ষক সবাইকে এ্যাসেম্বলীতে দাড় করিয়েছেন। আমাদের প্রধান শিক্ষক খুবই ভালো। মাটির মানুষ। আমাদের সাথে স্যারের দেখা খুবই কম হয়। স্যার নানা কাজে ব্যস্ত থাকেন। তবে যখনি দেখা হয়, আমাদের সাথে খুব হেসে মায়া দিয়ে কথা বলেন। কিন্তু আজ স্যার হাসছেন না। সবার দিকে কেমন করে তাকিয়ে আছেন। হঠাৎ করেই বলা শুরু করলেন,,,
আমাকে তোমরা ক্ষমা করো। আমি তোমাদের যোগ্য নই। আমি স্কুলটাকে আদর্শ স্কুল করতে গিয়ে তোমাদের দিকেই খেয়াল করিনি। তোমরা কিসে কষ্ট পাচ্ছ বুঝতে পারিনি। আজ থেকে কোন শিক্ষক কাউকে মারবেন না। আর মেয়েদের মাথা বা শরীরের কোন অংশে টাচও করবেন না। তা হাত দিয়ে হওক বা লাঠি দিয়ে হওক। আর আজ থেকে ছেলেদের সকল সমস্যার জন্য একজন পুরুষ শিক্ষক আর মেয়েদের জন্য মহিলা শিক্ষক থাকবে। নিজেদের সকল সমস্যার কথা তাদের জানাবে। ছুটির প্রয়োজনে তারাই ছুটি দিবে। এরপরও কারো সমস্যা থাকলে আমায় জানাবে। দয়া করে কেউ চুপ থাকবে না।
পরে আমরা জেনেছিলাম, স্যারকে কে যেনো চিঠি দিয়ে সব জানিয়েছিলো।।
মালটা হেব্বি না দোস্ত।
হুমমম,, জোওওশ।
কথাগুলো কান দিয়ে ঢুকে মাথায় গিয়ে ধাক্কা দিলো। কলেজ থেকে বাসায় ফিরছি। মোড়ের চায়ের দোকান থেকে ভেসে আসা কথাগুলো আমার শরীরে যেনো ড্রেনের নোংরা ছিটিয়ে দিলো। আমি চুপচাপ চলে আসলাম। চোখ তুলেও তাকাইনি। সব মেয়েকেই বলে। কেউ ওদের কথায় টু শব্দ করেনা। সবাই চুপ থাকে।পাগলা কুকুরের সাথে কেউ লাগতে যায়না। ওরা ওখানে বসেই খেউ খেউ করে।দিনদিন ওদের খেউয়ানি বেড়েই যাচ্ছে। মাঝেমাঝে কোন মেয়ের পথ আটকেও দাড়ায়।
বিকেলে কোচিং শেষে বাসায় ফিরছি। হাতে মোবাইল। মাত্র মায়ের সাথে কথা বললাম। হঠাৎ করেই একটা ছেলে এসে পথ আটকায়। আমার মোবাইল নিয়ে তার মোবাইলে কল দেয়।
তুমার মতো তুমার মোবাইল টাও হেব্বি। রাতে কল দিমু। কথা বলবা। নইলে কপালে খারাবি আছে।
আমি চুপ করে মাথা নেড়ে বাসায় চলে আসি।
রাতে মোবাইলে মেসেজ আসে। নোংরা কথা আর নোংরা ছবিতে ভরা। আমি ভয়ে মোবাইল বন্ধ করে রাখি। বাসা থেকে আর বের হইনা।
আজ কলেজে পরীক্ষা ছিলো। পরীক্ষা দিয়ে বাসায় ফিরছি। সাথে মা আছে। ভয়ে ভয়ে পথ চলছি। জানিনা আজ কপালে কি আছে। কিন্তু আজ কোন আওয়াজ আসলো না। সেই চা দোকানটাও নেই। আমরাতো অবাক।
পরদিন জানতে পারলাম কে যেনো পুলিশে ফোন করে অভিযোগ করেছে। এছাড়াও ঐ ছেলেগুলোর ছবি আরর ওদের কাজের ভিডিও তুলে নেটে ছেড়ে দিছে। তাই পুলিশ এসে ওদের ধরে নিয়ে গেছে। আর চা দোকানটাও তুলে দিছে।
আমার মেয়েটা কাঁদছে। আজ বাসায় ফিরেছে শতছিন্ন কাপড়ে। আমার শাশুড়ি বলছে কাওকে কিছু জানাতে না।বাইরের মানুষ জানলে, সমাজ আমাদের নোংরা কথা বলবে। আমার মেয়েকেই দোষ দিবে। সবাই বাঁকা চোখে দেখবে। বাসার সবাই চায় চুপ থাকতে। আমাকেও বললো,,চুপ থাকো বৌমা। মাইয়ার যা হওনের হইছে। এখন যেনো মাইনষে না জানে। তাইলে আর বিয়া দিতে পারবা না। সারাজীবন ঘাড়ের উপর বোঝা হয়ে থাকবো।
আমি আমার মেয়ের কাছে গেলাম। ওর শরীরের নোংরা পরিষ্কার করলাম।আমার মেয়ে বললো,
মা, আমি কি নোংরা হয়ে গেছি? নষ্ট হয়ে গেছি?
এতো সহজে মানুষ নষ্ট হয়না মা। মানুষের আত্মা যখন নষ্ট হয় তখন মানুষ নষ্ট হয়। যাদের আত্মা নষ্ট হয়, তারা কুকুর হয়ে যায়। আর কিছু কুকুরের কামড়ে মানুষ নষ্ট হয় না। নর্দমার পানি গায়ে লাগলেই মানুষ নোংরা হয়না, মা।
মা, আমি এখন কি করবো?
তুমি কি চাও মা? কুকুরগুলোকে আরো কাওকে কামড়ানোর সুযোগ দিতে নাকি কুকুরগুলোকে মেরে ফেলতে? নিজের জন্য চিৎকার করবে নাকি সবার ভয়ে চুপ থাকবে???
আমি জানি, আমার মেয়ে চুপ থাকবেনা। কারন ও আমার মেয়ে। আমি চুপ থাকিনি। স্কুলে স্যারকে আমি চিঠি পাঠিয়েছিলাম। মোড়ের ছেলেগুলোকে আমি পুলিশে দিয়েছিলাম। কোন রিকশাওয়ালা আর কনুইয়ের গুঁতো দিতে পারেনি।রিকসা থেকে নামার পর তাদের সীট থেকে নীচে নামতে বাধ্য করতাম। লোকের ভীড়ে কেউ গায়ে হাত ছোঁয়ালে তার গালে আমার আঙ্গুলের দাগ বসাতাম।
আমি জানি, এবারের যুদ্ধটা সবচেয়ে কঠিন।আমাকে শুধু বাইরের না ঘরের ভিতরেও লড়তে হবে। কিন্তু আমি জানি, আমি লড়ব। কারন,
আমি চুপ থাকতে শিখিনি,
আমি চুপ থাকতে জানিনা...
লিখাঃ #Collected
.
লেখাটা যেসব মেয়েরা পড়েছো প্রসঙ্গ বুঝতে নিশ্চয়ই কষ্ট হয়নি তোমাদের... তোমরা শুধুমাত্র লেখাটার উদ্দেশ্য কাজে লাগাবে আশা করছি... ধন্যবাদ :)
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āĻŦৃāĻšāϏ্āĻĒāϤিāĻŦাāϰ, ā§¨ā§Ž āϏেāĻĒ্āĻেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§
2745
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
⧝:ā§Ļā§Ļ AM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ