পাগলটা এসেছিল……………
.
.
.
আবির : কেমন আছ তুমি ……
.
অবন্তীকা : আর বলোনা …… বাসায় অনেক মেহমান এসেছে
.
আবির : আচ্ছা তোমাদের ওইটা বাসা নাকি মেহমান খানা ……বুঝিনা ……… এতো মেহমান আসে কেন ………?
.
অবন্তীকা : আজিব তো মেহমান আসবে না নাকি ……… আর মেহমান আসলে তো ভালই অনেক আড্ডা হয় মজা হয় ……
.
আবির : ঘোড়ার ডিম ভালো হয় ……আপনার বাসায় মেহমান আসলেই আমাদের কথা বলা বন্ধ হয় ………
.
অবন্তীকা : কি করবো বলো ……… মেহমান আসলে তো আর সারাদিন মোবাইল নিয়ে থাকা যায়না ……… সবাই খারাপ ভাবে যে …………
.
আবির : আচ্ছা ঠিক আছে ……… তো তোমাদের এই মেহমান কি এই বছর যাবে নাকি সামনে বছর যাবে ……… আমার আর ভালো লাগছে না ……… কয়েক দিন ধরে ভালো ভাবে কথায় হচ্ছে না ……… এইভাবে ভালো লাগে নাকি বলো ………?
.
অবন্তীকা : যাবে মশাই ……যাবে এই বছর ই যাবে ……… ওনারা কালকে সকালে যাবে বুঝেছ ………তারপর আবার আগের মতোই কথা হবে ………
.
আবির : আচ্ছা ঠিক আছে ………গেলেই ভালো
.
অবন্তীকা : আচ্ছা শোনো এখন বাই ……… কালকে কথা হবে
.
আবির : এখন ই ………কেবল ই তো ফোন দিলা ………
.
অবন্তীকা : আম্মু ডাকছে রাখি ………ভালো থেকো ……… কালকে থেকে কথা হবে ………
.
আবির : আচ্ছা ……… love u & miss u অনেক্কক্কক্কক্কক্ক বেশি
.
অবন্তীকা : same too
.
হা হা হা পাগলী একটা বাসায় মেহমান আসলে আবির অবন্তীকার কথা হয়না আবার থাকতেও পারেনা যখন ই সময় পায় তখনই ফোন দিবে ……… এই পাগলী টায় হলো আবিরের অবন্তীকা যা আবিরের সবকিছু ……… আবির সারাদিন যা চিন্তা করে তার সব চিন্তার ভিতরে যার অবস্থান সে হলো আবিরের অবন্তীকা ……… আবির আর অবন্তীকার পরিচয় রং নাম্বারে এখনো তারা দেখা করেনি ……… মাঝে মাঝে দেখা করতে চায় কিন্তু দুইজনের সময় হয়ে উঠেনা …… আসলে দুইজনের বাসার মাঝ খানে প্রায় ১২০km দূরত্ব তো তাই ……… তবে তারা সব সময় ই যোগাযোগ করে sms অথবা ফোনে কথা বলে ……কিন্তু সমস্যা হয় যখন অবন্তীকার বাসায় মেহমান আসে তখনই কথা sms সব বন্ধ ……এই একটায় সমস্যা ………
.
আবির একটু ………না না একটু না অনেকটায় অলস টাইপ এর ছেলে সকালে ১০-১১ টায় ঘুম থেকে উঠে ……আবির এর বাবা বলে যারা সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেনা তাদের জীবনে কখনো উন্নতি হয় না………যাই হোকে এখন সকাল ১০টা বাজে চোখটা একটু খোলে আবির শুধু মোবাইল টা দেখল ……… পাগলী টা এখনো কোনো ফোন বা sms দেয়নি …দেখে আবার ঘুমিয়ে পরল…মানে চোখ টা বন্ধ করল …… তার কিছুক্ষণ পর দেখলো অবন্তীকা ফোন দিয়েছে ……
.
অবন্তীকা : গুড মর্নিং মশাই ……… ঘুম ভেঙেছে নাকি এখনো উঠেন নি হুম্ম ……
.
আবির : ভেঙেছে তো কিন্তু এখনো বিছানা ছেড়ে উঠিনি ………আসলে সারারাত বিছানার সাথে সুয়ে ছিলাম তো তাই ছাড়তে আর মন চাইতেছেনা ……
.
অবন্তীকা : আমার বাসার মেহমান রা চলে গেলো আর আপনার উঠার সময় ই হলো না ………?
.
আবির : তোমার বাসার মেহমানরা তো অনেক দিন তোমাদের বাসায় থেকেছে তাই হয়তো তাদের বাসার কথা একটু বেশী মনে পরেছে তাই সকাল সকাল উঠে চলে গেছে ………
.
অবন্তীকা : আপনাকে কি বলেছে নাকি হুম্ম …… এখন কি উঠবেন নাকি আরো ঘুমাবেন ……?
.
আবির : ভাবতেছি আরো একটু ঘুমাবো তারপর উঠবো
.
অবন্তীকা : আমি কাছে থাকলে পানি ঢেলে দিতাম …… ঘুম বের করে দিতাম ……এতো কিসের ঘুম তোমার হুম্ম ……… সারা রাত কি হাডুডু খেলা কর নাকি ……
.
আবির : আর বল না …… রাতের অর্ধেক তো মশা মেরেই পার করলাম আর তাই এখন ঘুমাইতেছি
.
অবন্তীকা : কেন কয়েল বা মশারি টাঙাইতে কি হইছিলো
.
আবির : তুমি জানোনা কয়েল এর ধোয়া আমার সয্য হয় না আর মশারি টাঙানোর কেউ ছিলো না তো তাই টাঙাই নি
.
অবন্তীকা : একদম মিথ্যা বলবা না বুঝেছ ……… আসল কথা হলো আঙ্কেল এর বকা না খেলে তোমার ঘুম ভাঙেনা …… এখন দয়া করে উঠে ফ্রেস হয়ে খাবার খেয়ে আমাকে ফোন দেন বুঝলেন ……?.
আবির : আচ্ছা ম্যাডাম …… ফ্রেস হয়ে খাবার খেয়ে ফোন দিচ্ছি ……
.
অবন্তীকা : আচ্ছা বাই
.
.
এইভাবেই চলছিল আবির আর অবন্তীকার ভালবাসার গল্প …… রাগ, অভিমান, দুষ্টুমি সব মিলিয়ে একদম অন্যরকম ভালবাসা ………
.
একদিন অবন্তীকা আবির কে বলে………
.
অবন্তীকা : আচ্ছা আবির ……… আমরা তো কেউ কাওকে দেখিনি শুধু ছবি দেখেছি আমার খুব ইচ্ছে করতেছে তোমায় বাস্তবে দেখবো ……
.
আবির : আচ্ছা ঠিক আছে …… তাহলে আমরা দেখা করি ………তবে কবে দেখা করতে পারবা বলো ……?
.
অবন্তীকা : সামনে রবিবার দেখা করি ……
.
আবির : আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে সামনে রবিবার এ আমরা দেখা করতেছি
.
অবন্তীকা : আচ্ছা তুমি তো জার্নি করতে পারনা ……… তুমি কি এতোটা পথ পারি দিয়ে আসতে পারবা ………
.
আবির : পাগলী ……… তুমি চিন্তা করনা ………আমি ঠিক দেখা করবো তোমার সাথে
.
অবন্তীকা : আচ্ছা না হয় থাক …… পরে কখনো দেখা করব…… আমার কেমন জানি খারাপ লাগতেছে …… তুমি এসোনা
.
আবির : আচ্ছা এইভাবে আর কতদিন বলবা বলো …… এই বলো দেখা করবো আবার বলো করবা না …… এইবার আমি আর কোনো কথা শুনবো না বুঝেছ
.
অবন্তীকা : আমাকে নিয়ে তো চিন্তা না ……… চিন্তা তো তোমায় নিয়ে কারণ তুমি তো জার্নি করতে পারনা তাই ……
.
আবির : বিয়ের পর তো আপনার বাসায় যেতে আসতে জার্নি তো করতেই হবে নাকি ……… সেইটা না হয় এখন থেকেই শুরু করি
.
অবন্তীকা : তখন তো আমি তোমার পাশে থাকবো …… তোমার যাতে খারাপ না লাগে যেদিকে খেয়াল রাখবো
.
আবির : এখন তোমার ভালবাসা আছে আমার পাশে ……… সেইটা আমার খেয়াল রাখবে ……
.
অবন্তীকা : তারপর ও এইবার ভালো লাগছে না
.
আবির : বাবু তুমি চিন্তা কর কেন ……যত যাই ই হোক আমার পাগলী টাকে এইবার দেখবোই ……আমি আমার কথা রাখবোই আর তুমিও এইবার তোমার কথা রেখো …… এইবার দেখা করো okkk
.
অবন্তীকা : আচ্ছা বাবা ঠিক আছে তাহলে আগামীকাল দেখা হচ্ছে আমাদের …… এখন লক্ষী ছেলের মতো ঘুমিয়ে পড় কেমন
.
আবির : আচ্ছা …… gd night
.
দুইজন ই ফোনটা কেটে দিল ……কিন্তু কারো চোখেই ঘুম ছিলো না কারণ ভালবাসার মানুষ টাকে এই প্রথম সামনাসামনি দেখবে তারা ……… দুইজন ই নির্ঘুম রাত পার করলো কোনো ভাবে
.
আবির আজ খুব সকালে উঠেছে …… উঠে ফ্রেস হয়ে সকাল সকাল বাস এ উঠে পরে কারণ অবন্তীকার বাসায় যেতে তার ২-৩ ঘন্টা সময় লাগবে ……
আবির বাসে উঠে অবন্তীকা কে ফোন দিয়ে জানিয়ে দেয় সে বাস এ উঠেছে আর সে যেন তারাতারি কলেজে চলে আসে কারণ তারা অবন্তীকার কলেজে দেখা করবে ………
.
অবন্তীকাও সময় মতো কলেজে গিয়ে আবির এর জন্য অপেক্ষা করেছে হাজার হলেও ভালবাসার মানুষের সাথে আজকে প্রথম দেখা ……অবন্তীকার কলেজ মেইন রোড এর পাশেই তাই আবির সরাসরি কলেজেই আসবে……… কিন্তু ৩ ঘন্টা পার হয়ে যাচ্ছে আবির এখনো আসেনি আর আবির ফোন ও ধরছে না ……… অবন্তীকার অনেক চিন্তা হচ্ছে ……কারণ আবির জার্নি করতে পারেনা …… আবির এর কিছু হলো না তো ……… অবন্তীকার মাথায় এখন আরো খারাপ খারাপ চিন্তা আসতে লাগলো ……… ওইদিকে আবিরের ফোন বাজতেছে কিন্তু কেউ ধরছে না ……… হটাৎ ই আবির অবন্তীকার কাছে চলে আসলে …… কোন দিক দিয়ে এসেছে অবন্তীকা বুঝতেও পারেনি ……… কিন্তুু আবির কে অনেক অস্থির লাগছে ………অবন্তীকা আবির কে বলল কি হইছে তোমার আর তুমি ফোন ধরছ না কেন ………আবির শুধু বলল যে………
.
আবির : তোমার কাছে এক বোতল পানি আছে
.
অবন্তীকা : কেন কি করবা
.
আবির : আছে নাকি বলো
.
অবন্তীকা : আছে …… এই নাও ……( পানির বোতল টা এগিয়ে দিলো)
.
কিন্তুু আবির পানির বোতল না নিয়ে অবন্তীকা কে বলল আমার সাথে এসো ……… অবন্তীকা সামনে এগিয়ে গিয়ে দেখল একটি বাস দূর্ঘটনা ঘটেছে ……অবন্তীকা আর একটু সামনে যেতেই দেখে যে আবির তার সাথে নেই …… আর তার কিছুদূরে কেউ একজন পরে আছে মাথায় অনেক আঘাত লেগেছে শরীর এর অনেক জায়গায় আঘাত লেগেছে ………কাছে গিয়ে দেখে এইটা আর কেউ না এইটা আবির অবন্তীকা কি করবে বুঝতে পারছিল না …… সে কিছুই বুঝতেছেনা এইতো কিছু আগেই আবির পানির বোতল চাইল এইখানে আবার আবির কিভাবে আসলো ……সে খুব দ্রুত আবির এর কাছে গেলো ……… অবন্তীকা আবিরের এই অবস্থা দেখে কিছুই বলতে পারছেনা সে শুধু আবির এর কাছে গিয়ে বসে আবিরের মাথা টা তার কোলে নিলো………এখন আবির বলতে লাগলো ……
.
আবির : বাবু আমি আমার কথা রেখেছি ……… আমি বলেছিলাম যতো যাই হোক আমি আসবই …… আমি এসেছি ……
.
অবন্তীকা : ……………………( নিশ্চুপ )
.আবির : আমাকে একটু পানি দাও অনেক পিপাসা পেয়েছে ……
.
অবন্তীকা কিছুই বলতে পারছেনা …… পানির বোতল টা এগিয়ে দিয়ে আবির এর মুখে ধরল …… আবির তা খেয়ে নিলো
.
আবির : তুমি ভালো থেকো বাবু ……… আমি আর মনে হয় বাচবো না……নিজের যত্ন নিবা ………
.
এইবার অবন্তীকা বলে উঠল ……
.
অবন্তীকা : কি বল তুমি এইগুলা আর এইটা কিভাবে হলো ……আমি বলেছিলাম না আসতে …… আমার কালকে থেকেই কেমন যেন লাগতেছিল বারন করেছিলাম …… কেন শুনলা না বলো …… তোমার কিছু হবেনা কিছু হতে দিবনা ……আমি তোমাকে এখনই ডক্টর এর কাছে নিয়ে যাবো ……
অবন্তীকা চিৎকার করে বলতে লাগলো please help me ………
Please help me………
.
কিন্তু আবির তার শেষ নিশ্বাস ততোক্ষণ এ ত্যাগ করেছে ………
.
অবন্তীকা আবিরের সেই নিষ্প্রাণ দেহ নিয়ে ওইখানেই বসে রইল ………অবন্তীকার আর কিছুই করার নেই ……… আবির আর নেই ……… পাগল টাকে বারণ করেছিল আসতে কিন্তুু পাগল টা এসেছে …… একবারে চলে এসেছে ………
.
…………………সমাপ্ত ………………
.
…………স্বপ্ন & নীলিমা ……………
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ