দীঘির পাড়ের ভুত
Tamanna Nijhum
---------------------------
১৯৯০ সালের দিকের কথা।তুলাতলি নামে একটি গ্রাম ছিল। গ্রামের সর্বপশ্চিমে ছিল এক প্রকান্ড দীঘি।স্থানীয় লোকেরা দীঘিটিকে পশ্চিমা দীঘি বলে ডাকত।দীঘিটির প্রকৃত মালিক ছিলেন সোলেমান মুন্সী।সোলেমান মুন্সীর কোন সন্তানাদি ছিল না।সে সুত্রে সোলেমানের মৃত্যুর পর দীঘিটি তার দুই ভাইয়ের হয়ে যায়।তবে ভাই দুজনেই দীঘিটির পূর্ণ মালিকানা দাবী করতো।এজন্য বছরের বার মাসের মধ্যে এগারো মাসই তাদের মধ্যে মারামারি লেগে থাকতো। এক পর্যায়ে মামলা হলো।মামলার রায় শোনানোর আগে দীঘিটি কেউ ব্যবহার করতে পারবে না,এমনই নির্দেশ দিয়েছিল কোর্ট থেকে।তবে দীঘিটি পাহারা দেওয়ার জন্য একজন লোক নিযুক্ত ছিল।নাম ছিল তার বজলু! যেমন ছিল তার দেহ কাঠামো তেমন ছিল তার খেঁজুরের কাঁটার মতো গোফ।গ্রামে তখন বলী খেলার প্রচলন ছিল।একবার বলী খেলায় বজলু জিতে যাওয়ায় অনেকে তাকে বলী বজলু নামেই চিনতো।তার অভিধানে ভয় নামক শব্দটি ছিলনা।
দীঘির পানি সবসময় কালো ছিল।লোক মুখে শোনা যায় দীঘিটি কোনোকালেই পুরোপুরি সেঁচ দেওয়া যায়নি।শীত গ্রীষ্ম বর্ষা সব কালেই দীঘিটি পানিতে টুইটুম্বর থাকত।বিশাল দীঘিটির চারপাশেই ছিল কবরস্থান।তবে দীঘির ভেতরে প্রবেশ করার জন্য ছোট একটি পথ ছিল। দিনের বেলায় কেউ একা ওই পথ মাড়াত না।কবর ভেদ করে উঠা বাঁশ গাছগুলো বাতাস ছাড়াই বিচিত্র শব্দ করত।এমন একটা ভুতুড়ে দীঘিকে পাহারা দেওয়ার জন্য বলী বজলুই উপযুক্ত ছিল।দীঘির পূর্ব পাড়ে টং বানিয়ে রাতে দীঘি পাহারা দিত।রাতে একাকী দীঘিতে সহস্রাধিক কবরবাসীর সঙ্গ আর নাম না জানা পতঙ্গের বিচিত্র শব্দ, বাঁশের অদ্ভুতুড়ে আওয়াজ কোনো কিছু তার মনে ভয়ের জন্ম দিত না।ছোট এই টং ঘরে হারিকেনটি মিটমিট করে জ্বলত।বলী বজলু যতক্ষণ জেগে থাকত ততক্ষণ গলা ঝেড়ে কাশি দিত।
একদিন দুপুরে বলী বজলুর বউ ভাত দিতে দিতে বজলুকে বলল-পশ্চিমা দীঘির ভিতরে কত্ত শৈল মাছ, আফনে জাল মাইরা দুই একডা ধরবার পারেন না?
-জাল মাইরলে লোকে দেখবোনা? দীঘি লইয়া এহনো মামলা চলতেছে।কেহ এইডার মাছ তুইলবার পারব না,জানসনা তুই?
-দিনে মারবার জন্যি কেডা কইছে আফনেরে? রাইতে মারেন।
-তাইলে আদালতরে ঠকানো হইব।পারুম না আমি।
-অত ঢং কইরেন না।দিনে জাল না মাইরলে রাইতে বর্শি বসাইয়েন।
বজলু অনেকক্ষণ চুপ থাকল।পরে মাথা ঝাঁকিয়ে বলল-বউ,এইডা তুই ঠিক কইছস।রাইতে বর্শি বসাইলে কেহ দেইখবনা।
সেই রাতে বজলু দীঘিতে বর্শি ফেলল।একটু পরেই বর্শিতে টান পড়ল।সারা দীঘি জুড়ে নিকষ কালো অন্ধকার।ছোট হারিকেনের আলো এই অন্ধকারের সম্রাজ্যে একবারে নগন্য।বর্শির টানে মনে হচ্ছে ভারী কোন মাছ পড়েছে।বর্শি উঠাতে যাবে ঠিক তখনি মনে হল বজলুর বিপরীত পাড়ে মাঝারি আকৃতির দু'টি জিনিস হাটাহাটি করছে।আবার মনে হলো আঁধার দেশে হারিয়ে গেল।মনের ভুল ভেবে বজলু আবার বর্শির দিকে মনোযোগ দিল। বিশাল বর্শি,টানাতেও একটু সময় লাগল।আহা....কত বড় শোল মাছ! মনে মনে খুশি হল সে।আরেকটি টোপ বর্শিতে গেঁথে পানিতে ফেলল।টপাটপ দীঘিটির অপর পাড়ে পানিতে কিছু ফেলার শব্দ হল।একবার নয়,অনবরত। বজলু ভেতরে ভেতরে ভয় পেল
তবু গলায় জোড় এনে হাঁক ছাড়ল-কে রে ওই পাড়ে? কোনো উত্তর এলোনা।তবে ঝুপ ঝুপ শব্দগুলো দ্বিগুন তালে বেড়ে গেল।পানিতে এমন শব্দের সাথে তাল মিলিয়ে বাঁশঝাড়ের বাদুড়গুলোও একত্রে ডানা ঝাপটিয়ে উঠল।কি ভয়ংকর পরিস্থিতির অবতারণা হল! বজলু আর ঠিক থাকতে পারল না।এরমধ্যে কাপড় নষ্ট হয়ে গেছে।পাশের হারিকেনটা নিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে বারবার জপতে লাগল-লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ-যঅলিমিন।লা ইলাহা.....
একটু দুর যেতেই পা ফসকে পড়ে গিয়ে হারিকেনটা হাত থেকে ছিটকে পড়ল।বজলু কেঁদে উঠল।হামাগুড়ি দিয়ে এগুতে এগুতে ডাকতেছিল-ও বশিরের মা...উজা উজা(মানে এগিয়ে আসো)
বজলুর চিৎকার বজলুর বউ মানে বশিরের মায়ের কান পর্যন্ত পৌঁছায়নি।মাত্রাতিরিক্ত ভয়ে ইতোমধ্যে বজলু জ্ঞান হারালো।জ্ঞান হারানো আগে বজলু শুনতে পেল তা পেছন পেছন দুইটা বস্তু হাত ধরাধরি করে এগিয়ে আসছে আর বলছে-আর মাছ ধরতে আইবি নে বজলু?
পরদিন বজলুকে দেখার জন্য অনেক মানুষ জমায়েত হল।সবার কাছে ওইদিন চুরি করে মাছ ধরার কথা স্বীকার করল।আর সেই ছায়া দুটির কথাও বলল।গ্রামের সবাই আরো বেশী ভয় পেয়ে গেল।কেউ দিনেও ওই দিকটায় যায় না।
আসলাম আর কপিল এখন খুব খুশি।কেননা দীঘি পাহারা দেওয়ার মতো আর কেউ থাকল না।তারা দুজনে রাতভর আয়েশ করে মাছ ধরে। বড় বড় শোল আর মাগুর মাছ।
আসলে সেই রাতে বজলুকে তারাই ভয় দেখিয়ে ভাগিয়েছিল।বড় বড় মাটির ঢিল পানিতে ছুড়ে মেরেছিল। একটা, দুটো,অনেকগুলো একসাথে।বজলুর কাঁপুনি আর আর্তবিলাপ আঁচ করতে পেরে তারা হাসিতে ফেটে পড়ছিল।হাসির শব্দ যাতে বজলু শুনতে না পায় তাই তারা মুখে গামছা ঢুকিয়ে রেখেছিল।বজলুকে ভাগিয়ে তারা হেসে উঠল-হা হা হা!
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ