āĻŦৃāĻšāϏ্āĻĒāϤিāĻŦাāϰ, ā§¨ā§Ž āϏেāĻĒ্āϟেāĻŽ্āĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§­

2683

লিখেছেনঃসামিউল ওয়াকিল তমাল

বৃষ্টিকে আমি প্রথম দেখি আমাদের ভার্সিটির ক্যাফেটেরিয়াতে । সুন্দরী, মাথা ভর্তি ঘন কালো চুল, সাদা সালোয়ার কামিজে মাখন রঙ্গা ত্বকের এই মেয়েটাকে প্রথম দেখাতেই যে কারো ভাল লেগে যাবে । মেয়েটাকে আগে কখনো দেখিনি ভার্সিটিতে । সম্ভবত এই সেমিস্টারে নতুন ভর্তি হয়েছে । নতুন একটা মেয়ের সাথে কিভাবে কথা বলে পরিচিত হওয়া যায় সে অভিজ্ঞতা আমার নেই । কিন্তু আমার খুব ইচ্ছে হচ্ছিল মেয়েটার সাথে কথা বলতে, মেয়েটার সাথে পরিচিত হতে... কিন্তু সেদিন সম্ভব হল না ।

দিন দুয়েক পরে ক্লাসে যাচ্ছি । সাথে আমার বন্ধু আকাশ । ক্লাসে পৌছাতে দুই মিনিট লেট । স্যারের দুই একটা গরম কথা শুনে হুড়মুড় করে ক্লাসের পিছনে গিয়ে বসলাম । এমনিতেই আমি ক্লাসে দেরি করি না কখনো, আজ দেরি হয়ে গেলো । যাই হোক, পেছনে বসে স্যারের লেকচার শুনছি এমন সময় হটাত দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কেউ বলল " স্যার আসতে পারি ? " আমি অবাক হয়ে দেখলাম সেই মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে যাকে ভার্সিটির ক্যাফেটেরিয়ায় দেখেছিলাম । ও এখানে কেনো ? !!! অবাক হয়ে ভাবছিলাম । স্যার ওকে হাসিমুখে ভেতরে আসতে বললেন । তারপর নিজেই পরিচয় করিয়ে দিলেন " ও হচ্ছে বৃষ্টি । ক্রেডিট ট্রান্সফার করে ভার্সিটিতে নতুন এসেছে ।" আমরা সবাই ওকে সাদরে গ্রহন করে নিলাম । " পাশে আকাশের দিকে তাকাতেই দেখি ও এক দৃষ্টিতে বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে আছে । আমি ওকে খোঁচা দিতেই ও বাস্তবে ফিরে এলো । তবে ওর মুখের পরিবর্তন আমার চোখ এড়ালো না ।

এর পরের দিন থেকেই চেনা আকাশ পাল্টে গেলো । যে কিনা পরীক্ষা না এলে বই হাতে নিতো না সে এখন সবার আগে ক্লাসে এসে বইয়ের উপর মুখ গুজে পরে থাকে !!! আমি ওকেই জিজ্ঞেস করতেই সে হাসিমুখে কিছু না বলে এড়িয়ে যায় । কিন্তু আমি বুঝতে পারি আকাশের ভেতর পরিবর্তন হচ্ছে । এই পরিবর্তনের কারন কি বৃষ্টি ?

সপ্তাহখানেক পর আমাদের সেকশন থেকে স্টাডি ট্যুরের আয়োজন করা হয় । ম্যানেজমেন্ট এর দায়িত্ব এসে পরল আমার আর আকাশের উপর । সেদিন সকালে বাসে উঠার আগে আমরা দুজন দাঁড়িয়ে বাসে উঠার সময় সবাইকে একটা গোলাপ ফুল দিচ্ছিলাম । একটু পর বৃষ্টি এলো । আমরা দুজন বৃষ্টিকে গোলাপ ফুল বাড়িয়ে অভ্যর্থনা জানালাম । ও একটু হেসে হাত বাড়িয়ে ফুল নিয়ে বাসে উঠল ।

সেই ট্যুরের পর থেকে আমাদের তিনজনের মাঝে ভাল একটা বন্ধুত্ত গড়ে উঠল । আমরা তিনজন একসাথেই চলতাম, একসাথে গ্রুপ স্টাডি করতাম, একসাথে প্রেজেন্টেশন দিতাম । এভাবেই চলছিল আমাদের দিন । হয়তবা চলে যেতো, যদিনা......।

একদিন বিকেলে আমি আর আকাশ বসে ছিলাম ধানমন্ডি লেকের ব্যাচেলর পয়েন্টে । কোন কথা হচ্ছিল না , শুধু চুপচাপ বসে ছিলাম । নীরবতা ভাঙল আকাশ । " তমাল, তুই কি জানিস, এক মেয়েকে যখন দুইজন ছেলে ভালবাসে তখন গোলমাল লাগতে বাধ্য ?"

আমি কিছু বললাম না । ওর দিকে তাকালাম । একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললাম । " এভাবে আর সত্যি পারছি না দোস্ট," আকুলভাবে বলল ও ।

"বৃষ্টির ব্যাপারেই কথা বলতে চাচ্ছিস তাই না ?" জিজ্ঞেস করলাম আমি ।

" তো আর কার ?" করুন কণ্ঠে বলল ও ।

" আমি জানি তুই কি বলবি । বৃষ্টিকে তুই পছন্দ করিস, প্রপোজ করতে চাস এই তো ? "

"হ্যা, কিন্তু তুই ও তো ওকে ভালবাসিস । এটা আমি জানি । আমার কাছ থেকে লুকানোর চেস্টা করিস না । আমার মত ওকে নিয়ে তুই ও স্বপ্ন দেখিস । "

কেপে উঠলাম আমি । তারপর দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ওর দিকে তাকালাম । ভুরু নাচিয়ে বললাম '' তো ? কি করতে চাস ? "

'' চল আমরা দুজন ওকে আমাদের মনের কথা জানাই " বলল ও ।

" তারপর ? তারপর কি হবে ? দুইজনকেই একসেপ্ট করবে ? হ্যা ? এসবের কোন ফিউচার নাই আকাশ । এভাবে হয় না "

" আমরা যেভাবে আছি এভাবে থাকার ও মানে হয় না । জানি একজনকে হয়তবা ফিরে যেতে হবে কিংবা দুইজনকেই । কিন্তু কথা দে, এই ঘটনার কারনে আমাদের বন্ধুত্ত নষ্ট হবে না । প্রমিজ ?''

'' হু, সে দেখা যাবে " বললাম আমি ।

সেদিন আমরা দুজন জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তটাই হয়তবা নিলাম । তিনদিন পরে ছিল ভালবাসা দিবস । ঠিক করলাম সেদিন আমরা দুজন আমাদের মনের কথা জানাবো ওকে । তারপর যা হয় সেটা ভাগ্যের ফয়সালা হিসেবে মেনে নিবো ।

কিন্তু... আমি কখনো হারি না । জিত আমার ই হয় । হোক সেটা ভাল উপায়ে, হোক সেটা নোংরা উপায়ে ।

ভালবাসা দিবসের একদিন আগেই আমি বৃষ্টির সাথে দেখা করলাম গোপনে । আমার মনের কথা খুলে জানালাম । এতটুকু বিশ্বাস ছিল ও আমাকে ফিরিয়ে দিবে না । আমার সাথে আকাশ ও প্রপোজ করলে কি হতো তা জানি না কিন্তু এখানে আমি একা । আমার কোন প্রতিদ্বন্দ্বী নেই । নিজের বন্ধুর সাথে সবচেয়ে বড় বেইমানীটা বোধহয় আমিই করলাম । ওই যে, আমার হারতে ইচ্ছে হয় না ।

১৪ ফেব্রুয়ারি বৃষ্টি বলেছিল ওর উত্তর জানাবে । আমি আর আকাশ বসে ছিলাম জার্মান মিলনায়তন কেন্দ্র ধানমন্ডিতে । আকাশ নিজেও জানে না ওর সাথে কি বেইমানি করা হয়েছে । আমি শুকনো মুখে বসে ছিলাম বৃষ্টি কি উত্তর দিবে সেটা ভেবে, আর আকাশ বসে ছিল প্রপোজ করার চিন্তা নিয়ে ।

বৃষ্টি আসলো একসময় । মুখে সেই চিরচেনা লাস্যময়ী হাসি । ওর সেই হাসি দেখে আমার মনে হল এই হাসির জন্য আমি সব করতে পারি । বেইমানি, খারাপ কাজ সব । এনিথিং...

বৃষ্টি এসে চেয়ার টেনে পাশে বসল । আকাশ আমার দিকে ঢোক গিলে তাকালো । আমি সেদিকে পাত্তা না দিয়ে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি বৃষ্টির মুখের দিকে । বৃষ্টি আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে হটাত বলল " আই লাভ ইউ টু "

আমার আত্মায় পানি ফিরে এল । বৃষ্টি হাসিমুখে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল " জানিস আকাশ , এই পাগলটা দুইদিন আগে আমাকে প্রপোজ করেছে । আমি কোনদিন চিন্তাই করিনি ও আমাকে প্রপোজ করবে । আমি তো মনে মনে তোকেই এইক্টু আক্টু... তো আকাশ, আর কতদিন একা থাকবি ? কাউকে ভাল লাগে না ? নিজের মনের কথা কাউকে জানাবি না ?

আমি আকাশের দিকে তাকাতে পারছিলাম না । আকাশ শুকনো কণ্ঠে হেসে উঠার চেষ্টা করে বলল " আর মনের কথা । থাক না হয় । আচ্ছা ঠিক আছে , তোরা আজকে দিন নিজেদের মত উপভোগ কর, আমি তাহলে চলি " এই বলে আকাশ উঠে চলে গেলো ।

তারপর থেকে আকাশের সাথে দূরত্ব বাড়তে থাকে । আমাদের সেমিস্টার শেষ হয়ে গেলে নেক্সট সেমিস্টারে আকাশ ইচ্ছে করেই অন্য সেকশনে চলে যায় । বৃষ্টি ওকে অনেক করে বলল একসাথে ক্লাস নিতে । ও নিলো না । বৃষ্টি অবাক হয়েছিল । কিন্তু আমি তো জানি কেনো ও নেয় নি !!!

এরপর থেকে আকাশের সাথে যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যায় । বৃষ্টি অবাক হয়ে এটা নিয়ে প্রশ্ন তুললে আমি আরো বলি, " আরেহ ও তো বন্ধুত্তের মানেই বুঝে না । নাহলে কিভাবে আমাদের ছেড়ে এভাবে দূরে চলে গেলো ? থার্ড ক্লাস পাবলিক যত্তসব "

এভাবেই আকাশের নামে নানা কথা ভাঙ্গিয়ে আমি বৃষ্টির মন ভারি করি । ও আস্তে আস্তে
আকাশের কথা ভুলে যেতে শুরু করে । আমরা দুজন একসাথে আমাদের একান্ত মুহূর্ত উপভোগ করা শুরু করি ।

মাসখানেক পর একদিন সকালে ঘুম ভাঙ্গে আকাশের বাবার ফোন পেয়ে । আকাশ হসপিটালে । আকাশের বাবা আমার সাথে কথা বলতে চান । আমি ছুটে যাই হসপিটালে । আকাশের বাবার সামনে দাড়াই । আকাশের বাবা বলেন " তোমাকে আমার কিছুই বলার নেই । তোমার পাপের ফল একদিন তুমি পাবে । "

আমি আকাশের মেডিকেল রিপোর্ট নিতে ডাক্তারের কাছে যাই । যা শুনি তাতে আমার রক্ত হীম হয়ে আসে । নিয়মিত এলকোহল খেতে খেতে শরীরটাকে পচিয়ে ফেলেছে সে । অনেক আগে থেকেই খারাপ অবস্থা শুরু কিন্তু এখ শেষ পর্যায়ে । আর বেশি নেই আয়ু । বড়জোর আঠারো ঘন্টা । ফাস্ট টাইম, নিজেকে ঘৃণা হচ্ছিল আমার । এ আমি কি করেছি ? এটলিস্ট ওর সাথে যোগাযোগ রাখলে আজকে এ অবস্থা দেখতে হত না আমার । আমি আকাশের রুমে ঢুকি । বিছানায় নেতিয়ে আছে সে । আমি কাছে যেতে সাহস পাচ্ছিলাম না । ও দুর্বল কণ্ঠে আমাকে ডাকে । আমি এগিয়ে ওর মাথার কাছে দাড়াই । ও কিছু বলে না । শুধু আমার দিকে চেয়ে থাকে । সে চোখের ভাষা আমি বুঝতে পারি । আমার মাথা নিচু হয়ে যায় । ও আস্তে ফিসফিস করে বলে " শেষ একটা ডিল করবো তোর সাথে । এবারো কি বেইমানি করবি ? ওর মুখে বেইমান শব্দটা শুনে আমার চোখে পানি চলে আসে । আমি বলি " না করবো না । বল ভাই । "

ও বলে " আমার মৃত্যুর পর আমার কবরের পাশে একটা গোলাপ গাছ লাগাবি ? গোলাপ ফুল আমার খুব পছন্দ । আমি চলে যাওয়া পর যখন আকাশ থেকে প্রচণ্ড বৃষ্টি গোলাপের পাপড়িতে পরবে তখন আমার মনে হবে আমার বৃষ্টি আকাশের কাছ থেকে চলে গেলেও সে আবার আকাশের বুকে ফিরে এসেছে । করে দিবি কাজটা ?

...... একসময় সব শেষ হয়ে গেলো । লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়া হল আকাশের শরীর থেকে । সেদিন আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি নেমেছিল । সেই বৃষ্টির মাঝে আকাশকে সমাহিত করা হল । আমি একটা গোলাপের চারা বুনে দিলাম কবরের পাশে । সবাই ফিরে গেলেও আমি অনেক্ষন বসে ছিলাম আকাশের কবরের পাশে । একসময় উঠে দাঁড়ালাম । ফিরে আসার সময় দেখি দূরে একটা গাছে হেলান দিয়ে একটা মেয়ে নিঃশব্দে কাঁদছে । মেয়েটা বৃষ্টি । আমি ওর দিকে তাকালাম । ওর চোখে আমি সেই ভাষা দেখতে পেলাম যেটা দেখেছিলাম আকাশের চোখে । প্রথম সেই ১৪ ফেব্রুয়ারিতে, আর শেষ হসপিটালের বিছানায় । আমি তাকিয়ে থাকতে পারলাম না । আমার মাথা আবার নিচু হয়ে এলো । যখন চোখ তুলে আবার তাকালাম তখন কাউকে দেখতে পেলাম না । আমি একা দাড়িয়ে আছি আকাশের কবরের সামনে...। আর চারিদিকে নিঃসীম নীরবতা......। "

আজ মনে পরে গেলো এইসব ফেলে আসা দিনের কথা । বৃষ্টির সাথে আমার আর যোগাযোগ নেই । ও ক্রেডিট ট্রান্সফার করে অস্ট্রেলিয়া চলে গেছে । আকাশ ও চলে গেছে পৃথিবী ছেড়ে । আমি একা, বন্ধুহীন , হয়ে বসে আছি । আমার কোন প্রাপ্তি নেই । আমি শুধু হারিয়েছি । হারিয়েছি প্রিয় বন্ধুকে, হারিয়েছি ভালবাসার মানুষটাকে ।

অন্যকে হারাতে গিয়ে..., আমি নিজেই হেরে গেছি ! ।

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ