এক বিশেষ কারণে আমি বাজারে যেতে ভয় পাই। বাজার করা আমার কাছে দুঃসাধ্য ব্যাপারের মতো। বাজার করে অনেকে টাকা মেরে বাজার করার আসল শান্তি পায়। আমার কাছে শান্তি লাগেনা। বাজারে গেলে নিজেকে দুঃখী দুঃখী মনে হয়। মনে হয় আমি নিরস্ত্র আর দোকানীরা সব ডাকাত। গতকাল গেছি চাল কিনতে। সবসময় বস্তা কিনলেও,এখন প্রায় মাসের শেষ। বাবার হাত প্রায় ফাঁকা। উনি বাড়ীতে নেই। তাই প্রতি সপ্তাহে একদিন বাজারে যেতে হয়। তো,চাল দোকানে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,আংকেল ওমুক চালের কেজি কত? উনি কয়েকটা চাল আমার হাতে দিয়ে বললেন,চাবাইয়া দেখো! হ্যাভি ভালা চাল। নাম্বার ওয়ান।
-চাবাইলে লাভ কি! আপনি দুই নাম্বার চাল ঢুকাইয়া দিলেও আমি বুঝতে পারবোনা। কেজি কত সেইটা বলেন..
-তোমরা পরিচিত কাস্টমার! তোমার বাবা আমার বন্ধু মানুষ। বেশী রাখুমনা। সত্তর টাকা মাত্র।
-সবার বেলায় এক ডায়ালগবাজি? আর বন্ধু হইলে চাল বিক্রি করতেছেন ক্যান? ফ্রী দিয়ে দেন,দোয়া করমু। আর চালের কেজি কত বললেন? ইদানীং কানে কম শুনি।
-ফ্রী দিলে আমি চলমু কেমনে? সত্তর টাকা কইছি।
-পঁয়ত্রিশ টাকা কেজি রাখবেন? 😆 তাহলে দশকেজি নিবো।
-আরে বাপ! তুমি কি গরু কিনতে আইছো? চাল কিনতে দামাদামি কিসের? পাঁচশ কেজি নিলেও তো পঁয়ত্রিশ টাকা দাম রাখা যাবেনা।
-আংকেল হইছে কি! আসার সময় আপনার মেয়ে আফসানার সাথে দেখা। আমার হাতে একটা চিঠি ধরাইয়া দিলো। চিঠি আমি আনিনাই। আপনার ভাতিজা আলামিনের কাছে দিয়ে আসছি। ও কেমন সেটা তোহ আপনি জানেন। একবার বললে সারা শহরে রটায় দিবে এই কাহিনী। চাল বেচা লাগবেনা,আমি যাই।
-এই শুনো বাবা!
-জ্বী বলেন।
-আংকেলের কেনা পড়ছে ষাট টাকা। তুমি ষাট টাকা করে কেজি নিবা?
-আইচ্ছা দেন দশ কেজি।
চাল মাপতে মাপতে আংকেল বললো,চায়ের কথা বলবো? চা খাবা তুমি? আমি মুচকি হাসি দিয়ে বললাম,বলেন।
চাল মাপা শেষে টাকা দিয়ে বেরুনোর সময় আংকেল বললো,আফসানার কথা আর চালের কেজি ষাট টাকা,এই দুইটা কথা কাউকে বইলোনা।
আমি আচ্ছা বললাম। তার দোকান থেকে বেরিয়ে বেঁচে যাওয়া একশ টাকা থেকে ত্রিশ টাকা ফোনে রিচার্জ করে আফসানাকে কল দিলাম। সে আমার কলেজ ফ্রেন্ড। রিসিভ করে বললো,কিরে রোবন! এতদিন পর! ভুল করে কল দিলি নাকি?
-আরে নাহ। শোন..
-বল।
-তোর বাবার দোকান থেকে গুল মেরে চালের দাম দশটাকা কমাইয়া নিছি। বলছি যে,তুই আমাকে চিঠি দিছিস। আমি নেইনি। আলামিনের কাছে দিছি। তুই এখন গিয়ে আলামিনের কাছে একটা পরীক্ষার রুটিন দিয়ে আয়। তোরে যদি জিজ্ঞেস করে চিঠি দিছিস ক্যান,বলবি যে পরীক্ষার রুটিন দিছিলাম। ও তো না খুলেই আলামিনের হাতে ধরিয়ে দিছে। পারবিনা?
-কুত্তা একটা! টাকা বাঁচাতে গিয়ে আমাকে ফাঁসিয়ে দিছিস?
-তুই না আমার জানু,মনু,টনু? কলেজ খোলা হলে বার্গার খাওয়াবো। এখন রাখি..
-মর শালা.. >_<
আফসানার কথায় বেশ ক্ষোভ শোনা গেলো। তাতে অবশ্য আমার কিছু যায় আসেনা। পঞ্চাশ টাকা দিয়ে রসুইঘর থেকে বার্গার কিনে বাড়ীর পথে হাঁটা ধরলাম। নিজেকে মনে হচ্ছিলো পৃথিবীর সেরা সুখীদের একজন।
-বার্গার খোর বালকের আত্মকাহিনী
-Touhid Islam Robon
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ