#অবাক_পৃথিবী 7
☆
>কি হয়েছে আমাদের সব খুলে বলো… (মা)
-কিছু না… (আমি)
<আহ্ ও যখন বলতে চাচ্ছে না তাহলে জোড়াজোড়ি করছো কেন… (বাবা)
>কিন্তু সমস্যাটা তো জানা দরকার… (মা)
<জানা দরকার পরে জানবো। এখন ওকে একা থাকতে দাও…
>কিন্তু…
<আর কোন কিন্তু নয়। চলো তো এখান থেকে…
>কি জানি বাপু তোমরা বাপ ছেলে যে কি বোঝো…
<হ্যাঁ অনেক কিছু বুঝি। তোমার এখন না বুঝলেও চলবে...
*
মা বাবা চলে গেল। আজ নিজেকে খুব ধিক্কার দিতে ইচ্ছে করছে। আমি কিনা এই রকম একটা মেয়েকে ভালবেসেছিলাম। যে কিনা আমার বাবা মাকে তার সংসারে বোঝা মনে করে। না আর ভাবতে পারছি না।
*
>এই খোকা ওঠ বাবা… সন্ধ্যা হয়ে গেছে। সন্ধ্যায় ঘুমোতে নেই। (মা)
-হুম হুম…
*
কখন যে ঘুমিয়ে পরেছি বলতেই পারিনা। মায়ের ডাকে সারা পেলাম। অঃতপর ফ্রেশ হয়ে ছাদে চলে গেলাম। সন্ধ্যায় রাতের শহরটাকে দেখছি। কেমন একটা থম থমে ভাব। হয়তো আমার কাছেই শুধু এমনটা লাগছে। আকাশটাতে এখনও লাল আভা আছে। চাঁদ আসবে বলে হয়তো তারই আয়োজন। ছাদের এক পাশে মরার মত দাড়িয়ে আছে নয়ন তারার গাছটা। সব ফুল ঝরে পরেছে যে। আজ চাঁদটাও যেন অভিমান করেছে। উঠছেই না। তাহলে আমি কি কোন ভুল করলাম। না কোন ভুল করিনি। না মিছে মিছে এসব ভাবছি। এসব ভেবে কোন লাভ নেই।
*
কিছুক্ষণপর…
>খোকা যা বউমাকে নিয়ে আয়… (মা)
-না মা আমি আর ওকে আনতে যাব না। ও যেদিন নিজের ভুল বুঝতে পেরে আমার কাছে ফিরে আসবে সেদিন আমি ভেবে দেখবো… (আমি)
<দেখ খোকা তোমার সব চেয়ে কাছের মানুষ কিন্তু আমি। তোমার কোনটাতে ভাল লাগে আর কোনটাতে লাগে না সেটা আমি ভাল করে জানি। আমি যেমন তোমার বাবা তেমনি তোমার ভাল বন্ধু… কি হয়েছে সব খুলে বলো… (বাবা)
>খোকা আমি তোমার বাবা আমরা সব সময় তোমার ভাল চেয়েছি। কোনটাতে তোমার ভাল হবে আর কোনটাতে খারাপ আমরা ভাল করে জানি। আমরা সব সময় তোমার সুখের কথা চিন্তা করেছি। আর এখন যদি তুমি খুশি না হও তাহলে আমাদের চেয়ে দুঃখি কেউ হবে না… (মা)
<জানি তুমি বড় হয়েছো… তুমি ভাল মন্দ সব বোঝ… বোঝার মত যথেষ্ট বয়স হয়েছে। শুধু তাই নয় তুমি অনেক কিছু আমাদের চেয়ে ভাল বোঝ… কিন্তু আমাদের কাছে সেই ছোট্ট খোকাটি কিন্তু… (বাবা)
-তোমরা সারা জীবন আমার সুখের কথা চিন্তা করেছো। আমাকে কখনও দুঃখ পেতে দাওনি। কিন্তু আমি তোমার দুঃখ দিয়ে কিভাবে সুখে থাকবো বলো… না আমি পারবো না। আর আমি কি পারবো তোমাদের ছেড়ে খুশি থাকতে। যেখানে তোমরাই আমার পৃথিবী। আর একজন আগুন্তুক এসে হঠাৎ করে সেটা বদলে দেবে তা আমি কিভাবে মেনে নেব। আমি পারবো না। (আমি)
<খোকা আমি তোমাকে ভাল করে চিনি। তোমার জীবনে কাকে প্রয়োজন আর কাকে নয় তা আমি ভাল করেই জানি… তুমি বউমাকে নিয়ে এসো। আমরা দুই একের মধ্যে অন্য বাসায় চলে যাবো। আর আমার চাকুরীটা আমাকে ফিরিয়ে দিও… আর আমাদের কিছু চাই না। (বাবা)
-না (অনেকটা চিৎকার করে) তোমরা কোথাও যাবেনা। এখানেই থাকবে। হয় কারো মর্জি হয় সে থাকবে নয় তো থাকবে না। আর তোমাকে কোন চাকরি করতে হবে না। (আমি)
>তাহলে বউমা… (মা)
-সে আমি জানিনা। তবে আমরা আগে যেমন ছিলাম ঠিক তেমনটাই থাকবো। কোন একজন ব্যাক্তির জন্য এতগুলো মানুষের খুশি নষ্ট হোক সেটা আমি চাইনা। আমি ওকে আর আনতে যাবোনা। (আমি)
<তুমি কি খুশি থাকতে পারবে… (বাবা)
-কেন পারবো না। আগে যখন ছিলনা। তখন কি খুশি ছিলাম না। তাহলে এখন কেন পারবো না… (আমি)
>আচ্ছা কিন্তু ওর ভুলটা বোঝাবে কে… (মা)
-সময় সব বোঝাবে মা। আর ওর কথা আমাকে বলবে না… না হলে আমি চলে যাবো। (আমি)
>কিন্তু…
-না মা আর কোন কিন্তু নয় যে গেছে সে তার কপাল নিয়ে গেছে এতে আমাদের করার কিছু নেই। (আমি)
<আচ্ছা ঠিক আছে তাই হবে। এখন এখানে মুখ গোমরা করে না বসে থেকে বাইরে থেকে একটু ঘুরে আয়… (বাবা)
-আমি এখানেই ঠিক আছি। আমাকে একটু একা থাকতে দাও… (আমি)
*
অতঃপর বাবা মা চলে গেল। এখন চাদঁটা উঠেছে। পুরো ঝকঝকে আলো নৃগ্রে পরছে ব্যস্ত শহরটাতে। আমার মুখেও একচিলটে আলো এসে পরেছে। একটু মুখে হাসি ফুটতে চায় কিন্তু নিজে থেকে বাধা দিচ্ছি। মনের সাথে যুদ্ধ করতে করতে পরিশ্রান্ত। সব কথা খুলে বলাতে… না না না আমিতো বাবা মাকে আলাদা ভাবে থাকার কথা কোনদিন বলিনি। তাহলে অন্য বাসায় যাওয়ার কথা বলল কেন? তাহলে কি বাবা মা আগে থেকেই ব্যপারটা জানতো। হ্যাঁ আজ যা হয়েছে ভালই হয়েছে। না হলে তো হঠ্যাৎ এসে দেখতাম বাবা মা বাসায় নেই। তবে যাক বাবা মা আর কোথায় যাবে না এটা ভেবেই ভাল লাগছে। জ্যোস্নাভরা শহরটা দেখে রােতের খাবার খেয়ে শুয়ে পরলাম।
পরদিন সকালে…
ঘুম ভাঙ্গল মায়ের মিষ্টি গানের সুরে। অনেক দিন পর এমনটা হলো। আমার বিয়ের পর থেকে এভাবে কোন দিন ঘুম ভাঙ্গেনী। কিন্তু আজ ভেঙ্গেছে। মনে হচ্ছে পুরোনো দিনে ফিরে যাব। আহ্ কি মিষ্টি কণ্ঠ। নাহ্ আর এখানে থাকা ঠিক হবে না। যাই বাবাকে ডেকে তুলি। অতঃপর বাবাকে ডেকে বেলকনিতে চলে গেলাম। এতক্ষণে মায়ের গান শেষ হয়েছে। বাবা গানের কথা বলাতে লাফিয়ে উঠলেন। অতঃপর গান গাইতে শুরু করলাম। কিন্তু এটা কোন ভাবেই বুঝতেছি না আমাদের গলা এত সুন্দর হলো কিভাবে। কিন্তু দুইমিনিটের মাথায় সব বুঝে গেলাম। আসলে আমাদের কণ্ঠ সুন্দর হয়নি। আমাদের গলা আগের মতই আছে। আর তাই আমাদের যা পুরোষ্কার আলু, পটল, টমাটো, ডিম, মানে কি বলবো এত দিনের জমানো জিনিস সব একসাথে দিচ্ছে। আর আজকে বাধা দানের মত কিছুই নেই। অনেক দিন পর তো তাই প্রস্তুত ছিলাম না। যত গুলো ডিম ছুরেছে সব আমাদের গায়ে মাথা লেগে গেছে। কিন্তু চোখ জোড়া আটকে আছে অন্যদিকে। কি অর্পূব অপরুপা। আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে। কেন হাসছে সেটা নিয়ে ভঅবছি না। ভাবছি কত সুন্দর করে হাসছে। তারমানে ঐ কোকিল কণ্ঠ এই অপরুপার। যেমন রুপ তেমন তার গুণ। আমাকে ওর হাত দেখিয়ে দিল আমাকে দেখতে খুবই সুন্দর লাগছে। আমার খুশি আর কে দেখে। একদম লাফাতে লাফাতে চলে আসলাম ঘরে। ভাবতে পাচ্ছি না প্রথম দেখাতে একটা মেয়ের আমাকে ভাল লেগেছে। ঘরে বসে বসে ভাবছি। কিন্তু অবাক ব্যপার এই কিছূক্ষণ পরে ঘরে কেমন জানি একটা পাচা পচা গণ্ধ আসতে শুরু করেছে। অনেক খোজা খুজি করেও আবিষ্কার করতে র্ব্যথ হলাম কোথা থেকে গন্ধ আসছে। মায়ের কাছে যেতেই বাবা এমে পারফিম ছরিয়ে দিল গোটা ঘরে আর আমার গায়েও…
-একি পারফিমের দাম কি কমে গেছে নাকি বাবা। না বাই ওয়ান গেট ওয়ান ওফার চলছে… (আমি)
>জ্বি না। পচা শরীরের গন্ধ বন্ধ করার জন্য ব্যবহার করতে হচ্ছে। (বাবা)
-মা দেখেছো তুমি নাকি পচা… (আমি)
>ওটা তোমার মাকে নয়। তোমাকে বলেছি… (বাবা)
-আমাকে আমার শরীর পচা…
>তা নয় তো কি… একবার শুকে দেখো…
-ওয়াক… (বলেই দৌড়)
*
এইবার বুঝতে পারছি গন্ধ কিসের। তখন গায়ে ডিম মেরেছিল সেটা মেয়েটার সুন্দর বলাতে ভুলেই গিয়েছিলাম। আর এটাও বুঝতে পারছি যে কেন সুন্দর বলেছে। অতঃপর গোসল করলাম। নাস্তা করে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হলাম। সারাদিন অফিসে ব্যস্ততার সাথে কাটলাম। কিন্তু একটা বিষয় বারবার মাথায় এসছে। অনেকবার ফোনের দিকে তাকিয়েছি কিন্তু কোন ফোন আসে কাঙক্ষিত নাম্বার থেকে। যেখঅনে প্রতিদিন কমপক্ষে সাত থেকে দশবার কল আসতো। অফিস শেষ বাসায় আসার সামনে ফুলের দোকানের সামনে দাড়ালাম…
-একটা রজনীগন্ধার মালা দেন তো… (আমি)
>এই নিন… (দোকানদার)
*
কার জন্য মালা নেব। যার জন্য নেব সে তো নেই। হঠ্যাৎ মনে পরল।
-না থাক লাগবে না। (আমি)
*
বলেই চলে আসছি। আসলে অভ্যাস হয়ে গেছে তো। তাই একদিনে পল্টাবে না। যে গেছে গেছে আমার ভালবাসা তো তার থেকে কমে যায়নি। আর কাল যে চলে গেছে সে তো আমার ইশিতা নয়। কাল যে গেছে সে বহুরুপী ইশিতা। আবার ঘুরে এসে ফুলের মালাটা নিলাম...
>কি বউয়ের জন্য ফুলের মালা নিলেন বুঝি… (একটা মেয়ে)
-না… (আমি)
>প্রেমিকা নিশ্চই…. (মেয়েটা)
-না… (আমি)
>বউও না আবার প্রেমিকাও না তাহলে কার জন্য আপনি নিজে পরবেন…
-না আমার ভালবাসার জন্য… আমার প্রেমের জন্য
>ভারি অদ্ভুত…
-একটুতো অবশ্যই। এইটা আপনার জন্য… (একটা তরতাজা সাদা গোলাপ দিয়ে)
>ধন্যবাদ… (মেয়েটা)
-হুম। আপনার নাম…
>আমি প্রীতি... আপনি…
-আমি জ্যোতি…
>অনেক সুন্দর নাম… তবে আপনি মেয়ে হলে নামটা অনেক ভাল লাগতো… (হেসে হেসে)
-তাহলে আপনিই একটা ভাল নাম দিয়ে দেন না… (আমি)
>না থাক এটাই ভাল… আচ্ছা এখন আপনার ভালবাসার কথা বলুন…
-এখানেই দাড়িয়ে দাড়িয়ে কথা বলবেন… চলেন কোথাও বসে কথা বলি…
>না আজ বসবো না নতুন এলাকা। কাউকে তেমন চিনি না। তারাতাড়ি বাসায় যাওয়াই ভাল…
-তাহলে আমার সাথে যেতে পারেন…
>আপনি যান আমি বরং হেটেই যাই…
-আচ্ছা সমস্যা নেই আমিও হেটেই যাচ্ছি।
>আপনার গাড়ি…
-ওটা আমি আজ অফিসেই রেখে আসছি… অনেক দিন ধরে হাটা হয় না। তাই ভাবলাম আজ একটু হেটেই যাই।
>তাহলে চলুন… বলেন…
-কি…
>আপনার ভালবাসার কথা।
-সেটা মনে হয় খুব একটা কাজে লাগবে না।
>কেন বলুন তো…
-বলে নিজে নিজে বাশ খাবো নাকি… (মনে মনে)
>কি বির বির করছেন…
-না কিছূ না…
>তাহলে বলে ফেলুন…
-একটা ছেলে আর একটা মেয়ে ছিল জানেন। ছেলেটা মেয়েটাকে খুব ভালবাসতো। কিন্তু বলতে পারতো না। শুধু মেয়েটাকে দেখে ফ্যাল ফ্যাল করে হসতো। তার মনের মধ্যে একটা বিষয় খুব ভয় করত মেয়েটাকি ছেলেটাকে ভালবাসে। না বাসে না। তাই সে একদিন মেয়েটাকে প্রোপোজ করল…
>মেয়েটা কি বলল…
-মেয়েটাও ছেলেটাকে ভালবাসে। আর সে এই দিনটার জন্যই অপেক্ষা করত। মেয়েটাও রাজি হয়ে গেল।
>তারপর…
-কিন্তু ছেলেটা একটু চিটিংবাজ টাইপের ছিল। সে মেয়েটাকে সত্যি ভালবাসতো আর তাই জন্য মেয়েটার অভিমান প্রতিদিন ভাঙ্গাতে হত…
>কেন…
-আসলে ছেলেটা প্রতিদিন কারো না কারো সাথে ঝামেলা করতো। তবে তেমন কোন বিরাট ঝামেলা না…
>তাহলে কেমন…
-ওই মেয়েদেরসাথে একটু আধটু টা্ংকি মারতো… আর প্রতিদিন ধরা ক্ষেতো। আর সেই জন্য মেয়েটাকে প্রতিদিন রজনীগন্ধা ফুলের মালা পরিয়ে দিয়ে রাগ ভাঙ্গাতো
>মেয়েটা রজনীগন্ধা পছন্দ করতো… তাইতো…
-একদম ঠিক। আপনার হেড এ মাথা আছে দেখছি…
>কি…
-না ইয়ে মানে মাথায় বুদ্ধি আছে বটে…
>হুম্ আর ওই ছেলেটা আপনি…
-না এটা ভুল… (যদিও বা ঠিক বলেছে)
>তাহলে রজনীগন্ধার মালা কার জন্য…
-হে হে হে এই গল্পটা শোনার পর থেকে আমার ওই একটাই স্বপ্ন আমার ভালবাসাকে রোজ রজনীগন্ধার মালা পরিয়ে দিব… তাই এখন থেকেই অনুশীলন করছি…
>তাই না…
-হুম তাই…
>আপনি গান কিন্তু খুব ভাল করেন।
-গান পারিনা জন্য ঠাট্টা করছেন… করুন করুন
>না না সত্যি বলছি…
-এভাবে মজা না করে প্রতিদিন সকালে আমাকে একটু গান শেখালেই তো পারেন…
>গান আপনাকে শেখাবো…
-প্লিজ না করবেন না। আমার এটাও একটা শখ বলতে পারেন।
>আচ্ছা ভেবে দেখবো…
-কালকে ভোর ৫টা…
*
আরো অনেক কথা বলতে বলতে বাসায় চলে আসলাম। মেয়েটা আর কেউ নয়। সকালের দেখা মেয়েটা। ওরা কাল এখানে এসছে। মেয়েটার ব্যপারে সব জানলাম। আর আমার ব্যপারে মিথ্যা বললাম। যাই হোক পরদিন ভোর ৫টায় ঘুম থেকে উঠে চলে গেলাম বেলকনিতে। কিন্তু মেয়েটা এখনও আসে নি। অনেকক্ষণ পর আসলো। এসেই ওর মিষ্টি গলায় গাইতে শুরু করল। আমকে গাইতে বলায় আমি গাওয়া শুরু করলাম। কিন্তু এমন গান গাইলাম যে নিজেই নিজেকে জুতা দিয়ে ঢিল দিতে ইচ্ছে করছে। আর এদিকে বাবা মা দুজনেই তো একদম অবাক। যে ছেলেকে ঘুম থেকে ডেকে তুলতে হয় সে কিনা ভোর ৫টায় উঠে গান গাইছে। কিন্তু এরপর থেকে এটাই হওয়া শুরু করল। মেয়েটার সাথে আমার অনেক ভাল বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছে। আমাদের বাসায় মাঝে মাঝে আসে। প্রথম যেদিন এসেছিল সেদিন আমি বিরাট একটা বাশ খেয়েছিলাম। আমার মাকে আমার বানানো গল্প শোনায় ও। কিন্তু মা হেসে হেসে বলে দেয় ওইটা আমার জীবনের কাহিনী। আর ও আমার উপর খুব রাগ করে। অবশেষে ওকেও রজনীগন্ধার মালা দিয়ে রাগ ভাঙ্গাতে হয়েছে। আর সবটাই খুলে বলতে হয়েছে ওকে। এখন ও আমার অনেক ভঅল বন্ধু। আমাদের বাসা পাশাপাশি হওয়ায় সন্ধ্যায় ছাদে বেশ ফুল ছোড়াছুড়ি হয়। অনেকে খারাপ মন্তব্যও করে। কিন্তু আমরা গুরুত্ব দেই না। অন্যের কিছু একটা দেখলেই মানুষের জলে যায়। আর নানান কথা ছড়াতে থাকে…
প্রায় ৩মাস পর…
আমি আর প্রীতি মলে কিছু একটা কেনার জন্য এসেছি। আসলে কি কিনতে সেটা আমি জানিনা। প্রীতি আমাকে ফোন করে আসতে বলায় আসলাম। মলে ঢুকবো এমন সময় একটা মেয়ের সাথে ধাক্কা খেলাম…
>এই যে মিস্টার দেখে চলতে পারেন না। (ঘুর ঘুরতে মেয়েটা)
<আপনি দেখে চলতে পারেন না। ভাল ছেলে দেখলে তাদের গায়ে ঢলে পরতে মন চায়… (প্রীতি)
*
মুখটা দেখে আমি একদম অবাক। এ তো ইশিতা।
>কি বলতে চান আপনি… তুমি… (ইশিতা)
<আপনি ওনাকে চেনেন… (আমাকে দেখিয়ে দিয়ে)
>না আপনার কে হয় যেভাবে আগ বাড়িয়ে ঝগড়া করছেন… (ইশিতা)
<ঝগড়া করছি মানে… ও মার বন্ধু হয়…
>বন্ধু কেমন… বয়ফ্রেন্ড…
<হ্যাঁ তাই… সমস্যা
-বাশ দিছে রে… (মনে মনে)
>আচ্ছা আমি খুবই দুঃখিত… (যেতে যেতে)
-এটা তুমি কি করলে… (আমি)
<কেন… (প্রীতি)
-আমার সর্বনাশ করেছো তুমি।
<কে ওনি…
-কে ওনিই হল ইশিতা আমার বউ। (মাথায় হাত দিয়ে)
<ওহ্ সরি সরি…
-আর সরি বলে কি হবে… যা হবার তাই হয়েছে…
<চিন্তু করো না। আমার মাথায় একটা প্লান এসেছে…
*
মাস দুইয়েক পর…
-আরে ভাবি কেমন আছেন… (আমি)
>এই তো আছি… (শালাবাবুর বউ)
-কিন্তু দেখে তো মনে হচ্ছে ভাল নেই…
>না তেমন কিছু না…
-আপনি বলতে পারেন আমি দেখি কিছু করতে পারি কি না…
>তবে শোনো… (সব বলল)
-শোনেন আমি যা বলি তাই করেন…
>কি করবো…
-কালকে সবাই কে আমার একটা বন্ধুর বিয়ে ওদের বাসায় নিয়ে আসেন…
>ওকে…
অতঃপর ওনাকে বাসার ঠিকানা দিয়ে দিলাম।
*
পরের দিন…
সবাই বিয়ে বাড়িতে। অপেক্ষায় আছি কখন ওরা আসবে। অতঃপর অপেক্ষার প্রহর শেষে ওরা মানে আমার শশুড় বাড়ির সবাই আসল। সাথে ইশিতাও। আমাকে দেখে একটু অবাক হয়েছে… হবারই কথা। কোন কথা হলনা। যে যার যার মত। কিন্তু আমি আমার প্লান মত কাজ শুরু করলাম… সবাইকে ডেকে নিলাম। বসে আছি মুখো মুখী হয়ে।
-শালাবাবু তারপর কবে থেকে আলাদা থাকবে… (আমি)
>কেন ভাইয়া কেন আলাদা থাকবে… (ইশিতা)
-তুমি চুপ করো… তোমার সাথে আমি কথা বলছি না…
<না আমি কেন… বাবা মা কে ছেড়ে আলাদা থাকবো… (শালাবাবু)
-কেন মানে… আপনি আপনার বউকে ভালবাসেন না… আপনার বউয়ের বান্ধবীরা সবাই আলাদা থাকে তাহলে আপনি কেন থাকবেন না… আপনার বউয়ের ইচ্ছে করে না…
>জামাই এসব কি বলছো আমার ছেলেকে… (শশুর)
-না ভুল কি বললাম। আপনার মেয়ে আলাদা থাকতে পারে আর আপনার বউমা আপনার ছেলৈকে নিয়ে আলাদা থাকতে পারে না। (আমি)
>কি বলতে চাইছো তুমি… (শশুর)
-আমি তো কিছু বলছি না। আপনারা এমন স্বভাবের লোক কি বলবো…
>কি বেয়াদব ছেলে। ইশিতা তুই একে ছেড়ে চলে এসেছিস খুব ভাল করেছিস…
-হ্যাঁ খুব ভাল করেছে। আপনারা হলেন এমন জানেন যে “জামাই আমার খুব ভালো মেয়ের কথায় ওঠে আরে বসে, আর ছেলেটা ভালনা বউ কথা ছাড়া অন্য কারো কথা শোনে না”
>মানে কী…
-মানে এটাই আমি আপনার মেয়ের কথায় যদি আলাদা থাকতাম তাহলে আমি খুব ভাল। কিন্তু আমি তো তা করিনী তাই আমি ভালনা। আর আপনাদের ছেলে বউয়ের কথায় ওঠে বসে এখন ছেলে ভালনা। আপনারা চান জামাই তার বাবা মায়ের অবাধ্য হোক আর ছেলে আপনাদের বাধ্য থাক। অথ্যাৎ নিজেরটা ষোল আনা। অন্যেরটার কোনই মূল্য নেই…
>তারমানে আমরা তোমার মূল্য দেইনি…
-হ্যাঁ। যদি মূল্য দিতেন আমার বাবা মাকে তাহলে আপনাদের মেয়েকে বুঝিয়ে ঠিক পাঠিয়ে দিতেন। কিন্তু আপনারা তা করেননি। বরং আমার বাবা মায়ের সাথে সর্ম্পক নষ্ট করেছেন…
<কি বলছো তুমি… ওনাদের সাথে এভাবে কথা বলছো কেন… (ইশিতা)
-ওহ্ ওহ্ ওহ্ খুব লেগেছে না। তোমার বাবা মার সাথে একটু চড়া ভাবে কথা বলেছি তাই জন্য… (আমি) ভাইজান আমি একটা ফ্লাট দেখেছি আপনারা কালকে গিয়ে সেখানে উঠবেন কেমন…
<না ভাইয়া কোথাও যাবে না। বাবা মাকে ছেড়ে এমন একটা ডাইনীর সাথে…
-কি ডাইনী… কেন তোমার বাবা মায়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে বলে… তোমার ভাইকে নিয়ে আলাদা থাকতে চেয়েছে বলে। কেন তুমি করো নি। আমার বাবা মায়ের সাথে কম খারাপ ব্যবহার করেছো সেটা এত তারাতাড়ি ভুলে গেলে… কেন তোমার বাবা মায়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে জন্য তোমার তোমার বাবা মায়ের খারাপ লেগেছে আর তুমি যখন আমার বাবা মায়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছো তখন আমার খারাপ লাগেনি আমার বাবা মায়ের খারাপ লাগেনি। তোমার বাবা মা শুধু বাবা মা আর আমার বাবা মা কিছু না। তুমি আমাকে বলতে পারো আমার কোনটা চাই তোমাকে না বাবা মাকে। যখন আমি বাবা মা কে চাই তখন তুমি বাড়ি থেকে চলে যাও তার মানে ওটা দোষ। আর যখন তোমার ভাবি তোমার ভাইয়াকে ঐ একই কথাই বলে আর তোমার ভঅইয়া তোমার ভাবিকে বেছে নেয় তাহলে ভাই ভালনা। ভাবিতো ডাইনি। তাহলে কোন দিকে যাবো। তোমার যা কিছু তা ঠিক আর আমার যা কিছু সব ভুল….
>….???? (সবাই চুপ)
-এখন সবাই চুপ কেন… বলেন কারো কত কথা আছে… নিজেরটা সবাই বোঝে। তোমাকে ভালবেসে বিয়ে করেছিলাম। এখন ভালবাসি। তোমার কোন চাওয়া অর্পূণ রাখিনী। কিন্তু চাইতে চাইতে এমন কিছু চেয়ে ফেলেছো যা প্রাণ নেওয়ার চেয়েও বড় কিছু। ভালবাসা মানে কি এটা যে বাবা মাকে কাদানো। ভালবাসা মানে কি নিজের সুখ… আমার আর কিছু বলার নেই… আমাকে মাফ করে দেবেন ভাবি খুবই ভাল একটা মেয়ে। আমার কথায় আপনাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে। আমি খুবই দুঃখিত।
*
বলেই চলে আসলাম। নিজেদের কি মনে করে ওরা যা বলবে তাই ঠিক আর আমরা কিছুই না। নিজের ভাল সবাই বোঝে। দরজায় মুখ ঘুরিয়ে দাড়িয়ে আছি।
>বেয়াই আমরা আসলেই খুবই লজ্জিত। আমাদের ক্ষমা করেদেবেন। আমরা আসলে এভাবে ভাবিনী… (শশুর)
<আরে আরে কি করছেন। নিজের ভুল বুঝতে পারছেন এটাই অনেক। (বাবা)
>মা জামাইকে আর ভুল বুঝিস না যা ওর কাছে যা। (শশুর)
<কিন্তু ও তো আর আমারে নেই… (ইশিতা)
>কে বলেছে… (ভাবি)
<ও আর একটা মেয়েকে ভালবাসে…
>দেখতো এই মেয়েটা কিনা… (প্রীতিকে দেখিয়ে)
<হ্যাঁ কিন্তু… (ইশিতা)
>কোন কিন্তু না। যা দেখছো তাই ঠিক। আমার বিয়েতেই তোমরা সবাই এসেছো। আমি জ্যোতির ভাল বন্ধু। আর এসব আমাদের তিনজনের সাজানো। কিন্তু তমি এটা জানোনা যে জ্যোতি তোমাকে কি পরিমাণ ভালবাসে। তুমি যাওয়ার পরও তোমার জন্য রোজ রজনীগন্ধার মালা নিয়ে আসে। যদি তুমি আসো তোমাকে পরিয়ে দেবে বলে। আজো নিয়ে এসেছে। এই দেখ আমি আজ এটা ওর ঘর থেকে বের করে নিয়ে এসছি… যাও ছেলেটা বড্ড অভিমানী ওর অভিমানটা ভাঙ্গাও… (প্রীতি)
*
>এই যে মালা পরিয়ে দাও… (ইশিতা আমার হাতে মালা ধুরয়ে দিয়ে)
-আমি কাউকে মালা পরিয়ে দেই না… (মুখ ঘুরিয়ে)
>সরি এই যে কানে ধরছি আর কখনও আলাদা থাকার কথা বলবো না…
-…???
>পরিয়ে দাও…
*
অতঃপর আমার হাতটা ধরে নিজেই পরিয়ে নিল। আমার অনেকটা হাসি পাচ্ছে কারণ লাগানো হয়নি। কিন্তু আমি হাসাতে বেশ রেগে গেছে। তাই আমি ভাল করে লাগিয়ে দিলাম। আর ও আমার হাতটা বাচ্চাদের মত ওর কাধে নিয়ে লাফাতে লাফাতে বাড়িতে নিয়ে আসল। রুমটা দেখে ও অনেকটা অবাক। সমস্ত রুমটাই ফুল দিয়ে সাজানো। ও আমাকে বলল আমাদের বেবি কবে হবে। আমি ওকে বললাম খুব শিঘ্রই। অতঃপর…
সমাপ্ত
লেখা: লিটন (খচ্চোর)
āĻāϞ্āĻĒ āϏংāĻ্āϰāĻš āĻāϰা āĻāĻŽাāϰ āύেāĻļা। āϰোāĻŽাāύ্āĻিāĻ, āĻৌāϤিāĻ, āϰāĻŽ্āϝ, āĻৌāϤুāĻ āϏāĻš āĻšাāĻাāϰো āĻāϞ্āĻĒ āĻāĻে āĻāĻŽাāϰ āϏংāĻ্āϰāĻšে।
āĻļুāĻ্āϰāĻŦাāϰ, ā§Ŧ āĻ āĻ্āĻোāĻŦāϰ, ⧍ā§Ļā§§ā§
3104 (5)
āĻāϰ āĻĻ্āĻŦাāϰা āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰা
Rahathossain1010100@gmail.com
āĻāĻ āϏāĻŽā§ে
ā§Ģ:⧍ā§Ē AM
āĻāϤে āϏāĻĻāϏ্āϝāϤা:
āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝāĻুāϞি āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ (Atom)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ