āĻŽāĻ™্āĻ—āϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ļ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž

4547

গল্প: #আস্তরণ
লেখা> আবির হাসান নিলয়
....

"তুমি আমার সাথে আর কথা বলবে না"

আলিশার কথা শুনে বেশ অবাক হলাম। মেয়েটা আজ প্রথম এমন কথা বললো আমার সামনে দাড়িয়ে। আমি অফিস ব্যাগটা রাখতে যাবো আমার হাত থেকে সেটা আলিশা নিয়ে টেবিলের উপর রাখল। আমি খালি তাকিয়ে আছি তার দিকে।

-এভাবে তাকিয়ে কি দেখার আছে? যেটা বললাম সেটা যেন মাথায় থাকে। আমার সাথে কোনো কথা বলবা না আজকের পর থেকে।

আমি কিছু বললাম না। প্রায় সময় আলিশা রাগ করে আবার রাগ কমে যায়। তখন ও নিজে থেকে এসেই কথা বলে সারাটা সময়। যেন আমি এক চুপচাপ পোষা বাবুই পাখি আমার সামনে এসে কথা বলতে থাকে।

- কিছু বলছো না কেনো? তাকিয়ে আছো কেনো হুহ?
- আরে তুমিই তো বললে তোমার সাথে কথা না বলতে তাই তো চুপ করে আছি।
- তাই না,?  আমি বলেছি বলেই চুপ করে থাকবে? অন্যদিন হলে তো "বাবু, টিয়ে পাখি তুমি কি রাগ করেছো" এসব বলে রাগ ভাঙাতে আর আজ তুমি কি না,,তুমি অনেক চেন্জ হয়ে গেছো আবির।

আমি স্বাভাবিক ভাবে বসে সুদুটো খুলতে লাগলাম। আজ তিনদিন ধরে দেখছি আলিশা মুখটা কেমন গোমড়া করে রাখে। কারনটা ঠিক জানিনা এরুপ এর। তবে এটা জানতাম যে কোনো সময় ঝগড়া বাধাবেই।

- তোমার মুখে কি টেপ লাগিয়ে এনেছো? কথা বলছো না কেনো?
- কি বলবো তা?
- কি বলবা সেটা বলেও দিতে হবে? ওকে যাও কিছু বলতে হবে না তোমার। আমি কালই বাপের বাড়ি চলে যাবো, থাকবো না আর এখানে।
- কি বলছো (উঠে দাড়িয়ে হাত ধরতেই)
- এই ছুবে না আমার। তুমি যাও তোমার মিম ভাবির কাছে। হনুমান কোথাকার...

কথাটি বলেই আলিশা বেলকনিতে চলে গেল। আমি ধপ করে খাটের উপর বসলাম। মেয়েটা আসলেই পাগলি। যেমন রাগি তেমনি পাগলামো। তবে সব কিছুর অন্তরালে আমাকে অনেক ভালোবাসে। আর ভালোবাসবেই বা না কেনো? আলিশা ছাড়া আমাকে ভালোবাসার মত কেউ নেই।

হুমম কেউ নেই। কথাটি মনে পড়তেই বুকের ভিতরটা কেমন করে উঠল। আমার মনটা কেমন যেন রুক্ষতার ছায়ানড়ে ঢেকে গেল। মনে পড়ল পিছনের কিছু স্মৃতি।
একসময় সবাই ছিল আমার সন্নিকটে। কিন্তু আজ আলিশা ছাড়া কেউ নেই।

বিছানাতে গা টা এলিয়ে দিয়ে স্মৃতির পৃষ্টাগুলো ওল্টাতে লাগলাম...
..

চাচা চাচি ছাড়া আমার তেমন কেউ নেই। ছোট বেলাই বাবা মাকে হারিয়েছি। মামা চাচির আদরেই আমার বেড়ে উঠা। নিধি হল চাচার মেয়ে। আর কোনো সন্তান তারা নেননি। খুব হাসি খুশি একটা মেয়ে। সব সময় আমার সাথে ফাইযলামির মধ্যে লেগে থাকত। ওর থেকে আমি পাচঁ বছরের বড়। ও আমাকে ভাই বলেই ডাকত আর তুই করে বলত। কিন্তু একটা সময়ে এসে আমাকে আর ভাই বলে ডাকত না, তুমি করে বলতে শুরু করল। ব্যাপারটা আমি প্রথমে বুঝি নি। ভাবলাম আমরা দুজনে বড় হয়েছি তাই আমাকে একটু সম্মান দিয়ে কথা বলছে।
.
দিন গুলো কেমন জানি কাটতে লাগল। একসময় আমি লক্ষ্য করলাম আমার শার্ট, প্যান্ট, গেঞ্জি কেঁচে দিত। নিধি এই গুলা কেন করছে আমার বুঝতে একটু সময় লাগল। নিধি দেখতে বেশ ভাল। সবসময় চোখে কাজল দিয়ে রাখত। যখন তখন আমার ঘরে এসে নানা রকম কথা বলে সময় পার করত। কোনো কাজ বা দরকার ছাড়াই আমার সাথে কথা বলার চেষ্টা করত। আমি একসময় বুঝে গেলাম নিধি কি চাই আমার কাছে। আমার বুঝতে বাকি নেই সে চাই আমার সঙ্গ। সে চাই আমার একাকিত্বের মাঝে সবসময় থাকতে। তবে ও যেটা চাচ্ছে সেটা কখনো সম্ভব না। মা বাবা মারা যাওয়ার পর চাচা চাচিরা আমাকে মানুষ করেছে। কোনো কষ্টে তা্রা আমাকে রাখেনি। তাই যে ঘরের নুন খেয়ে বড় হয়েছি সেই ঘরে আগুন জ্বালিয়ে দেয়ার শক্তি আমার নেই। নিধি যতই আমাকে আহ্বান করুক তার বিরাজমান অনুভুতির অস্তিত্বে আমি তার সাড়া দিতে পারবো না। ওর সাথে কথা বলা দরকার। একদিন পড়ন্ত বিকেলে ছাদে দেখলাম নিধি দাড়িয়ে আছে। পাশে যেয়ে দাড়িয়ে বললাম....

- কি করছিস নিধি?
-এই তো দাড়িয়ে দাড়িয়ে প্রকৃতি দেখি। দেখতে পাচ্ছো না?
- ও হ্যাঁ তাই তো। আমি আসলে একটা গাধা।
- না তুমি কানা হি হি হি।

সেদিন কিছু বলতে পারিনি। কেমন যেন হয়ে পড়েছি।
আমি ওকে কথা গুলা কিভাবে বলব ঠিক বুঝতেছি না। এমন একটা হাসি খুশি মেয়েকে এই কথা বললে সইতে পারবে না। অনেক কষ্ট পাবে। তাই আর কিছু বলি নি।

এ দিকে আমার পড়াটাও শেষ পর্যায়ে। একটা চাকরি খুজতে লাগলাম। মাস তিনেক পর পেয়েও গেলাম। এই চাকরির উছিলা দিয়ে চাচা চাচির শহর ছেড়ে চলে আসি আমার নতুস শহরে। আমি ইচ্ছে করেই কাজটা করেছি। না হলে নিধি আমার জন্য কষ্ট পেতো। আর সেটা যে আমি মানতে মারতাম না। তাই বিষয়টা থেকে বের হওয়ার জন্য এমন করি।

যেদিন চাচা চাচির বাসা ছাড়লাম সেদিন নিধির চোখে নোনা জলের সাগর দেখেছি। কিন্তু আমার কিছুই করার নেই। তারপর থেকে এখানে চলে আসা। একদিন জানতে পারি নিধির বিয়ে হয়ে গেছে। তারপর.

এখানে এসে পরিচয় হয় আলিশার সাথে। মেয়েটি আমার বাড়ির পাশে থাকত। বন্ধুত্ব তারপর ভালোলাগা,একসময় ভালোবাসাতে রুপ নেই। আর এখন সে আমার বউ।
..
কিন্তু পাগলিটা রাগ কেনো করেছে বুঝতে পারছি না। আচ্ছা আলিশা বেলকনিতে যাবার আগে মিম ভাবির কথা কেনো বললো?

ঠিক তখনি মনে পড়ল তিনদিন আগের কথা। তিনদিন আগে সেদিন মিম ভাবিদের বাসাতে আমার আর আলিশার ডিনারের দাওয়াত ছিল। খাবার টেবিলে বসে মিম ভাবির দিকে বারবার তাকাচ্ছিলাম আলিশাকে রাগানোর জন্য। খাবার খেতে খেতে এক সময় বলি
"ওহ ভাবি আপনি যা রান্না করেন না,,আপনি যেমন সুন্দরী তেমনি আপনার হাতের রান্না। আশিফ ভাই তো রাজ কপাল আপনার মত বউ পেয়েছে। ভাবছি রোজ আপনার রান্না খেতে আসবো।"

তারপর থেকেই আলিশা মুখটা বাংলার পাঁচ এর মত করে রাখে। এ তিনদিনে তো ঠিক করে কথায় বলিনি পাগলিটা। কি বা কথা বলবে?  ও যে অভিমান করেছে আমার উপর। কাছের মানুষটা যদি অন্যের প্রশংসা করে তার কাছের মানুষ হয়ে রাগ, অভিমান তো হবেই।

আমি বিছানা থেকে উঠে বসলাম। ব্যালকনির দিকে তাকিয়ে দেখি বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে আলিশা। ল্যামপোষ্ট এর মৃদু আলো আসাতে আলিশার অবয়ব বেশ বোঝা যাচ্ছে। আস্তে করে হেটে ওর পাশে গেলাম।

- আলিশা...
- (চুপ)
- একটু ভালোবাসা দিবা?
-.. (চুপ)
- খুব ক্ষুধা লাগছে।
- ক্ষুধা লাগছে তো যাও মিম ভাবির বাসায় যাও। রান্না খাও, ভালোবাসা চাচ্ছো কেনো? আর আমি ভালোবাসা দেবার কে?
- মিম ভাবিদের বাসায় যাবো কেনো আমি? আর ভালোবাসা খাবো তোমার ভালোবাসা।
- হবে না,,যাও তো যাও এখান থেকে। ওনার রান্না ভালো,,দেখতেও সুন্দর।
- আরে পাগলি ওটাতো আমি এমনি বললাম তোমাকে রাগ করানোর জন্য।
- হুহ
- আচ্ছা সরি বাবা,, আর কখনও কারো দিকে তাকাবো না। কিছুই বলবো না। এখন একটু ভালোবাসা দাও তো। তোমার ভালোবাসার সরোবরে আমার রাজহংসী পালবো। আমি ছোট নৌকা সাজাবো।
- ভালোবাসা কিভাবে দেয়?
- একটা কিস দাও।
- পারবো না।
- দাও না প্লীজ।
- নাহ পারবো না। সরো তো এখান থেকে। আর যাও টেবিলে খাবার রাখা আছে ইচ্ছে হলে খেতে পারো। সামনে থেকে এখন যাও বেশি বকাবে না।

আলিশার কথা শুনে আমি চুপ হয়ে গেলাম। কি মেয়েরে বাবা। দাড়াও দেখাচ্ছি মজা। কি করি কি করি  ভাবতেই বললাম...

- তুমি তাহলে দিবা না ভালোবাসা?
- নাহ
- সত্যিই তো?
- হুমম
- তাহলে আর কি, অফিসের কলিগ নাদিয়া কদিন ধরেই বলছে ওর সাথে ডিনার করতে কিন্তু তোমার কথা ভেবে যায় না। আচ্ছা তাহলে থাকো আমি যায়। দরজা আটকে শুয়ে পইড়ো কেমন?
- কিহহহহহ
- হুমম, বাই
- দরজাতে পা রেখেছো তো তোমার পা দুইটা কেটে রাখবো বলে দিলাম।
- তো কি করবো বসে বসে,,তুমি তো আর ভালোবাসা দিবা না। যাই অন্য কারো থেকে ভালোবাসা নিয়ে আসি।

কথাটা শেষ করে ঘুরতে যাবো তখনি আলিশা আমাকে জড়িয়ে ধরে বললো...
- জানিনা ভালোবাসা দেয় কিভাবে। জানিনা ভালোবাসাটা নেয়ও কিভাবে। কিন্তু এটা জানি নিজের ভালোবাসা অন্য কেউ নিলে কষ্টগুলো মনের মাঝে বাসা বাধে। তোমাকে বলেছি বিয়ের আগেও যে আমি ভালো রান্না পারি না।
তুমি জানো, সেদিন মিম ভাবিকে ওমন প্রশংসা শোনার পর নিজেকে কতটা খারাপ মনে হয়েছিল। উনি ওনার হাজবেন্ড কে কতকিছুই না রান্না করে খাওয়ায় অথচ আমি তোমার জন্য কিছুই পারি না। জানো আবির এই তিনদিনে আমি ভালো করে  রান্না শিখেছি তার জন্য আমার হাতে ফসকা পড়েছে। তুমি একবারো দেখোনি।

ভালোবাসাটা কেমন আমি জানিনা আবির। শুধু জানি তোমার জন্য সবকিছু না পারলেও সবকিছু করার চেষ্টা করতে পারবো। তোমাকে ভালোবাসা কিভাবে দিবো জানিনা, শুধু জানি তোমাকে যখন, তুমি অফিস শেষে ক্লান্ত শরীরে বাসায় আসো, তোমার অপেক্ষাতে বসে থেকে তোমার কলিং বেলের শব্দে তাড়াতাড়ি দরজা খুলতে পারি। ক্লান্তি মাখা মুখের দিকে তাকিয়ে তোমার হাতের ব্যাগটা নিতে পারি। তোমার ঘামে ভেজা শার্টটা আগের জায়গাতে রাখতে পারি। তোমার অসুস্থতায় সেবা করতে পারি।
জানি রান্না পারি না তবুও তোমার মত করে তোমার পছন্দের খাবার রান্নার চেষ্টা করতে পারি। আমার রাগ অভিমান ভাঙানোর জন্য তোমাকে পাশে চাই। তোমার বুকে মাথা রেখে আমার লজ্বা,দুর করতে চাই। থাকতে চাই তোমার পাশে সারাটা জীবন। তবুও তুমি অন্য কারো কথা বলবে না। অন্য কারো ভালোবাসা নিবে না। আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি।

আলিশার কথা শুনে থ হয়ে গেলাম। কি বলে মেয়েটি। বুক থেকে মুখটা তুলে দেখলাম ঘরের মুদৃ আলোয় ওর চোখ জলে চিকচিক করছে। ঘামে ভেজা শার্টটা ওর চোখের পানিতে আরো ভিজে গেছে।
ডান হাতটি তুলে দেখলাম ফুসকা পড়ে আছে।

- আলিশা, দরকার নেই তোমার রান্না শেখার। দরকার হলে রান্নার জন্য লোক রাখবো। তবুও এত কষ্টের কি দরকার?
আর আমিও তোমাকে ভালোবাসি। তোমাকে রাগানোর জন্যই তো অন্যের কথা বললাম। আমার কোন মেয়ে কলিগই নেই।
- ঐ কি বললে...রান্নার লোক রাখবে মানে?
- তোমারই তো রান্না করতে কষ্ট হয়।
- চুপপ বেয়াদপ, ঐ জানো না রান্না পারুক বা না পারুক ভালোবাসার মানুষটাকে যেটা রান্না করে খাওয়ানো যায় তার মাঝে কতটা সুখানুভূতি লুকিয়ে থাকে? হোক সে বাজে রান্না, প্রতিদিন আমার বাজে রান্না তোমার খেতে হবে আর পাশে বসে আমি তোমার খাওয়া দেখবো।
- আচ্ছা বাবা ঠিক আছে। এখন চলো তো খাই,খুব ক্ষুধা লাগছে।
- হমম,, চলো।
- এই তরকারিতে ঝাল দিয়েছো তো বেশি?
- নাহ,,তুমি তো ঝাল খেতে পারো না।
- আজ থেকে ঝাল দিবা বেশি, ঝালের তরকারি খাওয়া শেষে তোমার নরম ঠোটের মিষ্টিটা তো পাবো তাই না?
- চুপ ফাজিল
.

আমি খাচ্ছি। আলিশা আমার পাশে বসে চুপটি করে আমার খাওয়া দেখছে। রান্নাটা ভালো হয়নি কিন্তু সে আমার জন্য ভালোবেসে রান্না করেছে তা সব ভালো রান্নার থেকেও অনেক বেশিই সুস্বাদু। এটা শুধু তারাই জানে যারা ভালোবাসার মানুষটার রান্না খেয়েছে।
বেঁচে থাকুক এমন ভালোবাসা সবার মনে। বেঁচে থাকুক এমন দুষ্টু মিষ্টি ভালোবাসা সবার মনের আস্তরণে।
(১০৭)
------(সমাপ্ত)-------

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ