āĻŽāĻ™্āĻ—āϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ļ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž

4544

গল্প: পেলাম তাহারে
লেখা> আবির হাসান নিলয়
...

- মেঘা
- হুমম বল।
- তোর দুচোখের বিলাসিতার মাঝে নিজের প্রভাব বিস্তার করতে চাই। তোকে আকড়ে ধরে উপলব্ধি করতে চাই আমার অব্যক্ত অনুভুতিগুলো।
- মানে?
- ভালোবাসি তোকে।
- আবার? হৃদয় তোকে কতদিন বলবো এসব আমাকে বলবি না?
- সত্যিই ভালোবাসি তোকে।
- উফফ,, ভালোবাসি ভালোবাসি,,এসব ছাড়া কি তোর মুখে আর কোনো কথা নেই? অসহ্য
- তোকে অনেক বেশিই ভালোবাসি মেঘা।
- ধুররর

কথাটা বলেই মেঘা চলে গেল। আর আমি হা করে তাকিয়ে আছি ওর চলে যাওয়ার দিকে। ইন্টার থেকে শুরু করে অনার্স শেষ হতে চললো আমরা একসাথে আছি। খুবই ভালো বন্ধু আমরা। কিন্তু হুমায়ন দাদু বলে গেছে, কোনো ছেলে ও মেয়ে সবসময় বন্ধু হয়ে থাকতে পারে না। কোনো না কোনো একসময় ছেলেটি না হয় মেয়েটি একে অপরের প্রেমে পড়বেই।

কথাটা প্রথমে বিশ্বাস করিনি। কিন্তু যখন অনার্স থার্ড ইয়ারে উঠলাম সেদিন কোনো এক ভিত্তিহীন বিকেলে টুপ করেই প্রেমে পড়ে গেলাম ওর। ভয়ে এতদিন বলতে পারিনি। আর প্রেমে পড়বোই বা না কেনো? সাদা, লাল শাড়ি। হাতে এক গোছা চুড়ি। চোখে হালকা কাজল, ঠোটে সামন্যতম রঙিন এপ্রোন। কয়েকটা চুল সামনে ছড়ানো। দেখে মনে হয়েছিল...

কোনো এক স্নিগ্ধ বিকেলে সবার চোখ ঝলসামে সুদুর গ্রীস হতে সুন্দরের দেবী চলে এসেছে। সেদিন যে হা করে তাকিয়ে ছিলাম সেটা এখনো বন্ধ হয়নি। ভালোবাসা যে এতটা নিবিড় হয় জানা ছিল না। কোনো নটিশ ছাড়াই আমার আকুলতার মাঝে ছোট্ট ঘর বানাতে বসে গেল। আমার নিরাবতার মাঝে ডানা মেলে তার আকাশে উড়তে লাগল। আমার। রঙিন কল্পনাতে অনল জ্বালিয়ে নিঃশ্ব করে দিল।

ভেবেছিলাম মেয়েটি রাজি হবে। কিন্তু সেটা আর হল কই। ভালোবাসি বললে ছোট্ট পাখির মত ডানা মেলে উড়ে চলে যায়। ও কি বোঝে না ওকে আমি কতটা ভালোবাসি।

- এই যে, হাদারাম, ক্লাসে চল। (মেঘা)
- কি রে তুই? আমাকে রেখে চলে গেলি আবার আসলি যে?
- তোকে ছাড়া ক্লাস করতে ভালো লাগে না।
- আহারে,তা আর কি ভালো লাগে না বাবু?
- জানিনা,, চল ক্লাসে যায়।
- চলো না টি.এস.সির চত্বরে তোমার হাত ধরে হেটে বেড়ায়। চলো না আমার কাধে তোমার মাথা রেখে কল্পনাতে ভাসি।
- হৃদয়...তুই আবার শুরু করলি? এই জন্যই না তোকে এখন দেখলে বিরক্তি লাগে।
- (বিরক্তি+আমার কথা ভাবা= ভালোবাসা। হি হি হি...
- চুপ,,ক্লাসে চল তো

মেঘা আমার হাত ধরে ক্লাসের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আর আমি ওর ঘন কালো চুলের দিকে তাকিয়ে আছি। ওর গায়ে মেখে আসা পারফিউম এর গন্ধ আমাকে উন্মাদনার শিখরে পৌছে দিচ্ছে। আমি ছন্নছাড়া হয়ে পড়ছি। কি এক পবিত্রতার টান আমাকে বারবার টেনে ধরছে। নিজেকে পরাস্থ মনে হচ্ছে মেঘার ভালোবাসার কাছে।
.
(পরেরদিন)
.

- মেঘা..?
- হুমমম?
- ভালোবাসি।
- ভালো।
- অনেক বেশি ভালোবাসি।
- খুবই ভালো।
- চল না যাই।
- কোথায় যাবো?
- কোথায় আবার,,প্রেম করতে যাবো।
- থাপ্পড় দিয়ে না তোর দাঁত ফেলে দিবো বান্দর।
- হিহিহি,,তখন সবাই বলবে তোমার ফুকলা জামাই জুটেছে।
- হৃদয়, আর যদি কখনো বলিস ভালোবাসি তখন থেকে বন্ধুত্ব শেষ।  থাক তুই এখানে বসে।

মেঘা চলে গেল। ক্যামপাসের এক কর্ণারে বসে দুজন কানে হেডফোন গুজে গানশুনছি। গান শোনার এক ফাকে মেঘাকে বললাম ভালোবাসি। কিন্তু মেয়েটা প্রতিদিনের মতই না করে দিয়ে চলে গেল। কিন্তু কেনো সে আমার সাথে এমন করে বুঝিনা। মেয়েটাকে যে আমি সত্যিই ভালোবাসি।

বসা থেকে উঠে দৌড়ে ওর পাশে আসলাম। কিছু বলার আগেই হাত ধরলাম...

- কি রে কি হল তোর? (মেঘা)
- মেঘা, তোকে অনেক ভালোবাসি আমি।
- আবার? তোকে এতক্ষন কি বলে আসলাম আমি? দেখ হৃদয়, এসব ভালোবাসা একদম অসহ্য লাগে আমার কাছে।
- কি প্রবলেম তোর? বেশি কিছু চাইনি তো,চেয়েছি খালি ভালোবাসতে।
- আরো মেয়ে আছে। তাদের কে যেয়ে ভালোবাস। যা এখান থেকে।

মেঘার হাতটা ছেড়ে দিলাম। খুব রাগ হচ্ছে। কি হবে একটু ভালোবাসলে? চেয়েছিলাম আমার ভালোবাসা দিয়ে ওকে আগলে রাখবো। কিন্তু সেটা আর মনে হয় হবে না। তবে কি সে কাউকে ভালোবাসে? কই না তো,,এতদিন তো কিছুই দেখিনি বা জানিনা সে ব্যাপারে। কিন্তু কেনো সে এমন করছে?

(পরেরদিন)

- মেঘা....
- বল।
- তোকে অনেক ভালোবাসি রে। বিশ্বাস কর, তোকে চেয়েছি ভুলতে কিন্তু পারিনি।
- ধুরর,,,যা তো এখান থেকে।

মেঘার কথা শুনে মাথাটা নিচু করে ফেললাম। কেমন যেন শুন্যতার মাঝে আটকা পড়ে গেছি। যার গভীর থেকে বের হতে পারছি না। সামনে তাকিয়ে দেখি মেঘা চলে যাচ্ছে। একটু জোরে ডাক দিলাম। মেঘা দাড়িয়ে আমার দিকে তাকালো। আমি কাছে যেয়ে বললাম....

- মেঘা,,জানি তুই আমাকে না করে দিবি এবারো। কিন্তু কি করবো বল, আমি একদম ভালোবাসার শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। হয়ত আজকের পর থেকে তোর চাঁদবদনখানি আর কাছ থেকে দেখা হবে না। সবারই স্বাধীনতা আছে। আমি হয়ত তোর পরাধীনতা। তোর অবশ্যই না করে দেবার অধিকার আছে। তবুও তোকে বলছি,,,

"যদি কখনো তোর সামনে হাটু গেড়ে বসে বলি তোকে ভালোবাসি তুই কি আমাকে ভালোবাসবি?
যদি বলি তোর হাতে হাত রেখে শান্ত বিকেলে হাটবো শুরু থেকে পথের শেষে,তুই কি তোর হাতটা বাড়িয়ে দিবি?
যদি বলি, তোর ভালোবাসার,,তোর মন খারাপের, তোর ভালো লাগার কারন হতে চাই, তুই কি পাশে থাকবি আমার? যদি বলি তোকে অনেক অনেক বেশি ভালোবাসি রুক্ষ প্রকৃতিতে বহু প্রতিক্ষিত ঝরে পড়া বৃষ্টির মত, নিরব প্রকৃতিতে স্নিগ্ধ হাওঢার মত, শান্ত বিকেলে মন ভালো করার মিষ্টি রোদের মত ভালোবাসি মেঘা। তুই কি আমার বউ হবি"?

কথাটা মাথা নিচু করেই বললাম। ওর চোখের দিকে তাকাতে আজ বড্ড ভয় করছে আমার। কথাগুলো শেষে একবার তাকালাম ওর দিকে। চোখটা কেমন করে যেন তাকাল।

- কিছু বলছিস না কেনো? (আমি)
-    ......
- তোর কি কিছুই বলার নেই?
- আচ্ছা বেশ, আমি আর কখনও তোর সামনে এসে বলবো না ভালোবাসি। আমি কখনও তোর সামনে এসে দাড়াবো না। ভালো থাকিস, বাই।

কথাটা শেষ করেই ঘুরে চলে আসলাম। আসার সময় ভেবেছিলাম একবার আমাকে সে পিছন থেকে ডাকবে। ভেবেছিলাম দৌড়ে এসে আমার হাত ধরে বলবে "হুমম ভালোবাসি আমিও" কিন্তু সেটা আর হল না।
.
(১৭ দিন পর)
.
১৭ দিন হয়ে গেল ক্লাসে যায় না। মেঘাকে খুব মিস করি। প্রতিটা দিন ওর অপেক্ষাতে কাটিয়েছি।

"এই হৃদয় দাড়া, দাড়া বলছি"

১৭ দিন পর কলেজে আসলাম। গেট এর কাছে আসতেই শুনি কেউ একজন আমার নাম ধরে ডাকছে। পিছনে তাকিয়ে দেখি মেঘা। তাড়াতাড়ি কলেজে ঢুকলাম। তবে বেশ অবাক হলাম মেঘা আমাকে ডাকছে সেটা দেখে।

- ঐ তোকে সেই কখন থেকে ডাকছি শুনতে পাচ্ছিস না কেনো?
(হাফাতে হাফাতে এসে বললো)
- হুমমম
- এতদিন কোথায়ছিলি?
- বাসায়। কেনো?
- কেনো মানে? তোর ফোনটাও অফ কেনো রাখছিলি? ঐ তুই জানিস তোকে কতবার কল করেছি আমি? সারাক্ষন তোর পথ পানে চেয়ে ছিলাম। তোকে না পিটাতে ইচ্ছে করছে।
- কেনো? আমাকে খোজার কি দরকার?
- জানিনা...তবে কেনো জানি তোকে অনেক মিস করেছি  রে হৃদয়। প্লীজ তুই আমাকে ছেড়ে যাস না।
- হিহিহি,,,থাক ক্লাসের দেরি হয়ে যাচ্ছে।
- হৃদয়, কোথাও যাবি না। আগে আমার কথা শোন, তারপর যাবি।
- হুমম
- জানিস নিলয়, কেনো আমি ভালোবাসা ব্যাপারটা থেকে দুরে আছি? কেনো তোকে ফিরিয়ে দিছি? জানিস না রে।
জানিস হৃদয়, আমি যখন ইন্টার ২য় বর্ষে পড়ি তখন আমার বাবা আমার আর আম্মুকে রেখে চলে যায় অকারনেই।
আম্মু আব্বুকে অনেক ভালোবাসতো। কিন্তু আব্বু রোজ রাতে মাতাল হয়ে এসে আম্মুর উপর নির্যাতন করতো। তবুও আম্মু আব্বুকে ছেড়ে চলে আসেনি। কিন্তু ঐ মানুষটা আম্মুকে রেখে অন্য একটা মহিলার সাথে চলে আসে। সেদিন খুব কষ্ট হয়েছিল রে।

জানিস, তারপর থেকে কতটা কষ্ট করে বড় হয়েছি আমি? আম্মু সারাদিন সেলাইয়ের কাজ করতো। দু বেলা ঠিক মত খেতেও পারতাম না। সবার সাথে ঠিকমত মিশলেও আমি ছিলাম আলাদা। সবাই পেট পুরে খেয়ে ক্লাসে আসতো। আর আমি আসতাম না খেয়েই। তারপর নানু আমাদের নিয়ে আসে নানুর বাসায়। এসব তুই জানতিই না। আর ঐ মানুষটা আমাদের কোনো খোজ খবর রাখেনি। জানিস হৃদয়, আমার আব্বু থেকেও নেই রে।

তারপর থেকে পণ করি কোনো ছেলেকে ভালোবাসবো না। ভালোবাসা বিষয়টা থেকে নিজেকে দুরে রাখবো। কোনো ছেলের মুখে ভালোবাসার শব্দটা শুনলেই আমার আব্বুর মুখটা ভেসে উঠে। সবাইকে তখন একই রকম বিশ্বাঘাতক মনে হয়। কাউকে বিশ্বাস করতে পারি না হৃদয়। কিন্তু এখন আর সেটা হল না। এই ১৭ দিনে তোকে অনেক অনেক বেশি মিস করেছি। তোর পাশে বসে ক্লাস করা, তোর কথা,,তোর ফাজলামো অনেক মিস করেছি। তোকে যে আমি এখন ভালোবাসি রে হৃদয়। কিন্তু ভয় করে যদি তুইও আব্বুর মত চলে যাস আমাকে রেখে।
.

মেঘার কথা শুনে চুপ হয়ে গেলাম। ও কাঁদছে। দুচোখ বেয়ে পড়ছে বিষাদের অশ্রু। কি বলবো ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। হুটট করেই ওর হাতটা ধরলাম। মেঘা আমার দিকে তাকালো প্রশ্নবোধক চাহনি দিয়ে।

- চল, আমাদের বাসায়। আম্মুকে দেখাবো তার বউমাটাকে।
- মানে?
- মানে হল, তোর আমার প্রতি বিশ্বাসটা আরো জটিল করাতে চাই। আম্মুকে বলতে হবে তো আমাদের ব্যাপারে নাকি?
- হুমমম
- তাহলে, যদি এখন বলি তোকে অনেক ভালোবাসি তুই কি আমাকে ভালোবাসবি? যদি বলি তোল হাতে হাত রেখে হাটতে চাই অনেকটা পথ,পাশে থাকবে কি?
- নাহ থাকবো না,,আগে তুমি করে বলো তারপর। আর হাটু গেড়ে বলতে হবে।
- হাটু গেড়ে না হয় বাসর ঘরে যেয়ে বলবো। এখন চলো হাটি পরিচত ব্যস্ত রাস্তার কার্নিশে

মেঘা আর কিছু বললো না। আমার বাম হাতটি শক্ত করে ধরল। আমি হাটছি, ও আমার হাত ধরে আমার সাথে পা মেলাচ্ছে। মাঝে মাঝে সে মুচকি হাসছে। এই হাসিটা যে প্রতিক্ষার হাসি তা বেশ বুঝতেই পারছি।
ভালোবাসাগুলো এমনই। সামান্য অভিমান, অসামন্য ভালোবাসার অনুভুতি আর একটুখানি বিশ্বাস হলেই তৈরী হয় দুষ্টু মিষ্টি ভালোবাসার একটি অসাধারন গল্প। যার অস্তিত্ব মিশে থাকার একে অপরের বিশ্বাসের উপর।
(111)
"---------(সমাপ্ত)---------"

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ