.
______"আমিও স্বপ্ন দেখি"
.
.
আলীম ২য় বর্ষের বই কেনার জন্য ছোটাছুটি এদিক সেদিক।
অনেক বই, সাথে বোর্ড পরীক্ষার জন্য গাইডও।
অনেক টাকার মামলা!
অবশেষে ৩ ঘন্টা ছোটাছুটি করে শেষমেশ ৩ সেট বই সংগ্রহীত হলো আমাদের।
ইশ কি গরম রে বাবা!
ভিতরে পান্জাবী ভিজে গেছে।
আমি , হাবিব আর মাহদী।
সেই বিকাল ৫ টায় শুরু করেছি আর এখন বাজে ৭.৫৫।
মাঝখানে অবশ্য নামাযের জন্য একটু বিরতি দিয়েছিলাম।
যাইহোক অনেক খাটুনির পর তিন বন্ধু মিলে ঢুকলাম একটা রেস্টুরেন্টে।
উদ্দেশ্য একটু খাওয়া-দাওয়া আর কিছুক্ষনের জন্য চেয়ারেই বিশ্রাম নেয়া।
মাহদী ওয়েটার কে ডেকে কিছু খাবারের অর্ডার দিলো।
কিছুক্ষনের মধ্য খাবার নিয়ে আসলো একটা ছেলে।
বয়স ২২ এর ছুঁইছুঁই।
খাবারগুলো সার্ভ করছিলো আর আমাদের বইগুলোর দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ছিলো।
.
____জ্বী, একটা কথা জিজ্ঞেস করবো কিছু মনে করবেন নাতো?(ছেলেটি)
____না, বলুন, কি জানতে চান?(আমি)
____কোন মাদরাসায় পড়েন?
____জ্বী, মুলাটোল মদীনাতুল উলুম কামিল মাদরাসা।
____আলীমে পড়েন বুঝি?
____জ্বী, কিন্তু আপনি বুঝলেন কেমনে?
____বইগুলো দেখলাম তো তাই।
আমিও তো মুলাটোল মাদরাসায় লেখাপড়া করি।
____(আশ্চর্য হয়ে) কি বলেন!
____জ্বী।
____আপনাকে তো কখনো দেখি নি।
____আমি তো ফাজিল ২য় বর্ষে। তাই মাদরাসায় যেতে হয় না। ম্যাচেই থাকি।শুধু পরীক্ষার সময় পরীক্ষা দেই।
____কিছু মনে না করলে একটা কথা জিজ্ঞেস করবো?(মাহদী)
____বলেন।
____আপনি তাহলে এখানে কেন?
____ভাগ্যেই টেনে এনেছো ভাই। আমি গরিব বাবার ছেলে। বাবার আমার পড়াশোনার খরচ চালানোর সামর্থ্য নাই তো তাই।এখানে কাজ করে যা পাই তা দিয়ে ম্যাচ ভাড়া আর খাওয়াটা দেই।
দিনে দুটা প্রাইভেট পড়াই সে টাকাটা বাড়িতে পাঠাই।
____সরি ভাই। সত্যি ভাই আপনার জন্য খুব দুঃখ হচ্ছে।
____সব আল্লাহর পরীক্ষা ভাই।
মাঝে মাঝে পত্রিকায় চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে চাকরির সন্ধান করি।যদি এর মধ্যে আল্লাহ আমার জন্য কল্যান রেখে থাকেন তাই।
আমিও জীবনে বড় কিছু হওয়ার স্বপ্ন দেখি।
একদিন আল্লাহ হয়তো আমাকে অনেক কিছু দিবে। আমাকে প্রতিষ্ঠিতও করবে।
____আপনার মতো কজন ভাবে ভাই?
____যারা জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে চায় তারাই।
সেই ছোট বেলা থেকে মানুষ হয়েছি অনেক কষ্টে। কত দিন যে না খেয়ে স্কুলে গেছি। তবুও আমি লেখা পড়াকে ছাড়ি নি। খুব সম্মান করি একে।
.
( এমন সময় মালিক অনিক বলে চিৎকার করলো। সাথে সাথে ভাই আমদের বললেন, কখনো মাদরাসায় গেলে দেখা হবে।
তখনই বুঝলাম ভাইয়ের নাম অনিক।))
এদিকে অনিক ভাই অন্যদের খারাপ সার্ভ করার কাজে নিয়োজিত হলো।
ইস, কি স্বপ্ন!
কি পরিশ্রম!
এমর স্বপ্ন নিয়ে সবাই যদি পরিশ্রমী হতো তাহলে হয়তো সমাজটা আজ সম্মৃদ্ধ হতো।
.
আজ অনিক ভাইয়ের মত কত ভাই নানান শহরে নানান পেশায় যুক্ত হয়ে নিজে চলছে, পরিবার চালাচ্ছে, লেখাপড়াও করছে।
আসুন সবাই জীবনে ভালো কিছু করি।
আল্লাহ সবাইকে তাওফিক দান করুক। আমীন
.
±±Sajjad Alam Bin Saiful Islam (কাশফুল)
…
_____"মায়ের জন্য অপেক্ষা"
.
.
বাঁশঝাড়ের পাশেই একটি কবর। নেই কোন ধরনের বেড়া। শুধুমাত্র কবরের মাটির উপরে দুটো খেঁজুর পাতা।কবরটি থেকে খানিকটা দূরে ছোট্ট একটি গ্রাম। নাম তার সোনাতলা।অনেকটা নিরিবিলি পরিবেশ অবস্থিত এই গ্রামটি।
.
নাহিদ সেই কবরটি জড়িয়ে কাঁদছে। ফর্সা মুখটা যেন লাল টমাটোর মতো হয়ে গেছে। কবরটা নাহিদের মায়ের। নাম সাহের বানু।
এই কবরেই শান্তিতে হয়তো ঘুমাচ্ছেন সাহের বানু। তিনি গত হয়েছেন মাস ছয়েক হলো।
.
কিন্তু গত হবার আগে রেখে যান একমাত্র ছেলে নাহিদকে। অনেক ভালোবাসতেন নাহিদকে। পিতা-মাতার মাথার মনি ছিলো নাহিদ। কিন্তু মা মারা যাবার পর থেকে হাসু মিয়া তাকে আর আগের মত আদর করেন না। আদর করে ডেকে কোলে তুলে সিঙারা কিংবা পিয়াজু হাতে তুলে দেন না।
.
আজ নাহিদের চাচাতো ভাই নাহিদকে খুব মেরেছে। তার নতুন মা সব কিছু দেখেছে। কিন্তু কোন প্রতিবাদ করেনি। আদর করে কোলে টেনে চোখের জল মুছে দেয় নি। দিবেই বা কেন!
নাহিদ তো তার আপন কেউই নয়।
.
তাইতো মায়ের কবরের পাশে বসে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে নাহিদ। মাকে সব কথা খুলে বলছে। তার যে কোন দোষই ছিলো না, তাও স্পষ্ট করে বলে দিলো। কিন্তু তার মাও বিন্দুমাত্র সাড়া দিলো না।ওরা যে ঠিকমত নাহিদকে খেতে দেয় না তাও বলে দিলো।
.
চারদিকে আঁধার নেমে এসেছে। বাঁশঝাড়ে ঝিঁঝিঁ পোকারা ডাকতে শুরু করেছে। গ্রামের জমিগুলোতে কাউকেই আর কাজ করতে দেখা যাচ্ছে না। দেখা যাচ্ছে না আর কোন পশুপাখিকে খাবার সংগ্রহ করতে।
.
অনেকটা ভয় পেয়ে গেল নাহিদ। আরো জোড়ে জোড়ে মা মা বলে কাঁদতে লাগলো। সারা শরীর মাটিতে ভরপুর হয়ে গেছে। প্রচন্ড ক্ষিধে পেয়ে যায় নাহিদের। সেই সকাল বেলা ১ মুটো পান্তা দিয়েছে খেতে,
সেই থেকে কিচ্ছুটি খায় নি নাহিদ।
.
বার বার ডাকতেই থাকলো নাহিদ। কিন্তু কবরের ভিতর থেকে সাহের বানুর কোন সাড়া শব্দই ভেসে আসলো না। কেউ এসে নাহিদের চোখের জল মুছে দিলো না। বললো না, "খোকা ভয় নেই। আমি তো চলে এসেছি।"
.
আজ খুব অভিমান করে বাড়ি থেকে চলে এসেছে নাহিদ। আজ আর সে বাড়িতে ফিরে যাবে না। আজ থেকে মায়ের কবরের পাশেই সে অবস্থান করবে আর মা মা বলে সারাক্ষণ ধরে ডাকবে। নাহিদের বিশ্বাস হয়তো একদিন অবশ্যই তার মা তাকে কবর থেকে উঠে এসে জড়িয়ে ধরে চুমু খাবে কপালে।
.
‰ Sajjad Alam Bin Saiful Islam(কাশফুল)
_____এলোমেলো জীবন
_____সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম
.
.
ট্রেন লাইনের মাঝখানে গালে হাত দিয়ে বসে আছে মায়া। চারদিকটা অনেক নিস্তব্ধ।গাছগাছালিতে ভর্তি ট্রেন লাইনের দুই ধার। আশে পাশে ঝিঁ ঝিঁ পোকা ডাকের শব্দের বিন্দুমাত্রও শোনা যাচ্ছে না।
.
পরনে বিয়ের সাজ-সজ্জা। লাল বেনারসি, পায়ে আলতা, হাতে মেহেদি, গলায় হালকা গয়না। চোখ দিয়ে পানি ঝরছে ঝর ঝর করে। কেন এমন হয় সবসময়?
আল্লাহ যেন সব কষ্ট তার জন্যই বরাদ্দ করে রেখেছে। তাই তো জীবনের প্রতিটা অধ্যায়ের পদে পদে তার জন্য বিপদ আসন্ন।
.
সেই ছোটবেলায় মা তাকে রেখে পাড়ি জমিয়েছে দূর দিগন্তের অজানা রাজ্যে। সৎ মায়ের কাছে মানুষ হয়েছে খেয়ে না খেয়ে। বাবা তো ব্যস্ত থাকেন বলে কখনও কারো খোঁজ খবর নেয়ার সময়টুকু পান না।
.
মনে পড়ে গেল ঘন্টাখানেক আগের সেই দৃশ্যগুলো...
চারিদিকে কত লাইটিং, কত সাজ-সজ্জা। লাল, নীল, হলুদ বাতিতে চারদিক পরিপূর্ণ। অপূর্ণতা নেই বিন্দুমাত্র।
সকলেই ধন্যি ধন্যি করছিলো তাকে। কিন্তু কি থেকে কি হয়ে গেল!
.
৫ মিনিট আগেও যে তার প্রশংসায় পঞ্চমূখ ছিলো, কিছুক্ষন পর তারাই তাকে অপয়া মেয়ে বলে অভিশাপ দিতে দিতে গলা শুকিয়ে ফেলেছে।
.
কি দোষ ছিলো মায়ার!
ভাগ্যের উপর কি কারো হাত আছে?
এক্সিডেন্টের সাথে অপয়ার সম্পর্ক কি!
নাকি সেই এক্সিডেন্টটা ঘটিয়েছে!
কথাগুলো মাথার ভিতর ঘোরপাক খাচ্ছিলো মায়ার।
.
বধুবেসে বসে বসে আগামী জীবনের পরিকল্পনা আটঁছিলো মায়া। হঠাৎ খবর এলো বরের গাড়ি নাকি এক্সিডেন্ট করেছে। নিহত পাঁচ জনের মধ্যে নাকি সেও(বরের কথা বলা হয়েছে) আছে।
তাইতো সবাই তাকে বাড়ি থেকে অপয়া বলে বের করে দিয়েছে।
.
ট্রেনটা দ্রুত গতিতে এগিয়ে আসছে।
মায়া এখনো ট্রেন লাইনের মাঝামাঝি বসে এখনো নিশ্চুপ।
মনে মনে সে শুধু একটাই দৃশ্যপট আকঁছে, মা দাঁড়াও আমি আসছি।
.
ট্রেনটাকে এখন আর দেখা যাচ্ছে না। একটু আগেই মায়ার উপর দিয়ে চলে গেছে অজানা রাজ্যে। শুধু পড়ে একজন বধু সাজে সজ্জিত মেয়ের নিথর দেহটি।
___________________সমাপ্ত
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ