āĻŽāĻ™্āĻ—āϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ļ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž

4542


.

_____সিনিয়র Vs জুনিয়র(একটি অসমাপ্ত ভালোবাসার গল্প)
.
.
.
__আপু একটা কথা বলতে পারি?(অনিক)
__হুম, বলো।(মায়া)
__আসলে কথাটা কিভাবে শুরু করবো সেটাই বুঝতে পারছি না।
__সমস্যা নেই বলতে পারো।
__আসলে আমার বন্ধু নাহিদকে তো চিনেন?
__হুম। ওই ফাজিল ছেলেটা!
__কোনটা?
__যে ছেলেটা আমার দিকে ড্যাব ড্যাপ করে তাকিয়ে থাকে? আমি আসার সময় গেটে দাড়িয়ে এক নজর দেখার চেষ্টা করে?
__হুম আপু।
__তোমরা কি পাগল নাকি?
__কেন আপু?
__তোমরা ফার্ষ্ট ইয়ারে আর আমি থার্ড ইয়ারে।তাছাড়া ওর থেকে কয়েক বছরের বড় আমি।
__আমাদের রাসূল (সাঃ) ২৫ বছর বয়সে ৪০ বছরের খাদিজা (রাঃ) কে বিবাহ করেছিলেন।
__তোমাদের এ নাটক বন্ধ করো। এটা শুধু মোহ। মোহ কেটে গেলে সবই ঠিক হয়ে যাবে। এখন যাও। আমাকে শান্তিতে থাকতে দাও।
__আপু নাহিদ আসলেই আপনাকে অনেক ভালোবাসে। অনেক বেশিই ভালোবাসে।
এ কথা বলে সেখান থেকে চলে গেল অনিক।
.
মায়া যে ভার্সিটিতে লেখাপড়া করে, নাহিদ ওই ভার্সিটিতে নতুন ভর্তি হয়েছে। ভর্তি হওয়াতে ওর অনেক বন্ধু-বান্ধব হয়ে যায়। যার মধ্যে অনিক অন্যতম। নাহিদরা ক্লাসের ফাঁকে অধিকাংশ সময় একটা বট গাছের নিচে বসে সময় কাটায়, আড্ডা দেয়। ভার্সিটিতে আসার মাস দুয়েকের মধ্যে মায়াকে ভালো লাগে নাহিদের। যে কোন পার্শ্ব দিয়ে কোন অংশে কম ছিলো না মায়া। হয়তো তাই।
.
তাইতো রোজ রোজ মায়ার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতো সে। প্রায় প্রায় মায়ার মেসের সামনেও ঘোরাঘুরিও করতো। মায়া সব বুঝতো কিন্তু সে চায় না এটা একটা সম্পর্ক হোক। তাই তো সে নাহিদকে এড়িয়ে চলতো।নাহিদকে যেখানে দেখতো মায়া সেখান থেকে পশ্চাৎগমন করতো।
.
এভাবে কেটে যায় আরো কয়েকদিন। মায়া এখন নাহিদকে তার আশে পাশে দেখে না। যখন বন্ধুরা বটগাছের নিচে আড্ডা দিতো তখন কিংবা তার বাড়ির সামনে ঘোরাঘুরি করতে। আস্তে আস্তে মায়া নাহিদকে এভাবে মিস করতে থাকে। কাউকেই এই কথা মুখ ফুটে বলতে পারে না। একদিন অনিককে একলা বসে থাকতে দেখে মায়া এগিয়ে যায় তার কাছে।
__কি খবর অনিক, কেমন আছো?
__জ্বী আপু আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। আপনি?
__আলহামদুলিল্লাহ। ইদানিং তোমার পাগল বন্ধুটাকে কেন জানি দেখি না। কোথায় সে?
__কার কথা বলছেন?
__নাহিদের কথা।
__ওহ। আসলে, ও.......
__কি ও ও করছো। কি হয়েছে বলবে তো। তোমার মুখ এতো শুকিয়ে যাচ্ছে কেন?
__আসলে নাহিদ হাসপাতলে।
__হাসপাতলে?
__হুম। ছেলেটা জীবনে অনেক সংগ্রাম করে আজ এই অবধি উত্তীর্ণ হয়েছে। সেই ছোটবেলা বাবা-মাকে হারিয়েছে। এর পর থেকে নানা-নানীর কাছেই মানু্ষ হয়েছে। যখন নাহিদ ক্লাস নাইনে পড়তো তখন তার বৃদ্ধ নানাও মারা যান। নাহিদের মামারা নাহিদের লেখাপড়ার খরছ দিতো না। তাই তো একটা দোকানে থেকে কিছু উপার্জন করেছে আর লেখাপড়ার খরছ চালিয়েছে।
যখন ইন্টার ফাইনাল ইয়ারে তখন দোকান ছেড়ে দিয়ে টিউশনি করাতো। আজ পর্যন্ত তাতেই আছে। জানেন, অনেক ভালোবেসে ছিলো আপনাকে। তাই তো সবসময় আপনার কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করতো। কিন্তু আপনি তো ওকে দূরে ঠেলে দিয়েছেন। তাই তো এখন সে আপনাকে ডিষ্টার্ব করে না। আপনাকে ও শান্তি দিয়েছে।তাই তো আপনি চেয়েছিলেন।
__তুমি ওর এতো কথা জানলে কেমন কর?
__আমি একদিন ওর গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলাম, তাতে ওর মামাতো ভাইয়ের কাছে শুনেছি।
__তা ও হাসপাতালে কি করছে?
__ব্রেন টিউমার ওর মাথার ভিতরের সবকিছুকে গ্রাস করে ফেলেছে। ডাক্তার বলেছেন, ও নাকি আর একমাস এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকবে। নাহিদহীন আমাদের আড্ডা জমে না। তাই তো আগের মত আর বসি না। ভার্সিটি থেকে যাওয়ার পর হাসপাতলে যাই প্রতিদিন। ওকে ছাড়া আমার এক মূহুর্তও ভালো লাগে না। ডাক্তার বলেছেন, যদি এক মাসের বেশি সে বেঁচে থাকে তাহলে তা প্রতিপালকের একমাত্র কৃপায়।
(অনেকটা কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বললো অনিক)
__(মেঘের আড়ালে ঢেকে গেছে মায়ার মুখের সেই হাসি। সারা মুখে বেদনার ছাপ) কোন হাসপাতলে আছে ও।
__সিটি হাসপাতলে।
.
ঘরে প্রবেশ করেই মায়া কাঁদছে, মন ভরে কাঁদছে এরকম একটা হাসি খুশি ছেলে চলে যাবে সবাইকে ছেড়ে। ভাবতেই মনটা আতকে উঠে মায়ার। কোন কাজেই যেন তার মন বসছে না তার। এমনকি লেখাপড়াও না। সবসময়ই ভাবছে নাহিদের কথা। তার দিকে তাকিয়ে থাকা সেই মুখচ্ছবির।কিন্তু এখন তো সবি শেষ!
কি করার আছে তার? সেটা হয়তো তার অজানা।
.
নাহিদের পাশে বসে আছে মায়া। কিন্তু নাহিদের মুখে তখন অক্সিজেন লাগানো। হয়তো বুঝতেই পারে নি, এতদিন সে যার জন্য পাগল ছিলো আজকে সে তার পাশেই বসে আছে। নাহিদের নানী বেডের অপর প্রান্তে প্রান প্রিয় নাতির জন্য সবসময়ই আল্লাহর কাছে দোয়া করে যাচ্ছেন।
মায়ার চোখ থেকে ঝরঝর করে পানি গড়িয়ে পড়তে লাগলো। কয়েক ফোঁটা নাহিদের হাতকে স্পর্শ করলো। নাহিদ তার চোখ দুটো খুলে এক নজর দেখার চেষ্টা করলো। কিন্তু সে বিশ্বাস করতে পারছিলো না, মায়া তার কাছে এসে বসে চোখের জল ফেলছে। কিছুক্ষনের মধ্যে নাহিদের মুখটা আনন্দে ভরে উঠলো।
.
মুখ থেকে অক্সিজেনটা সরিয়ে মায়ার মুখের দিকে অসহায়ের মত ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকলো। কিছুক্ষনের মধ্যে মুখ থেকে একটা শব্দ উচ্চারিত হলো আলহামদুলিল্লাহ।আস্তে আস্তে নাহিদের চোখটা ঘুমের দেশে চলে যায়। নিস্তেজ হয়ে পড়ে তার সারা দেহ। চোখ থেকে দু ফোঁটা পানি টপ করে পড়ে যায় বালিশের উপর। অতঃপর গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে নাহিদ। হয়তো সে ঘুম থেকে কেউ তাকে কোন দিন জাগিয়ে তুলতে পারবে না। এমনকি মায়াও না।
.
≠Sajjad Alam Bin Saiful Islam(কাশফুল)

.

____ সিনিয়র Vs জুনিয়র "২"(একটি মিষ্টি ভালোবাসার গল্প)
.
.
___কি করে নাহিদ, তুই এখানে একলা বসে কি করিস?(অনিক)
___প্রকৃতি দেখি বন্ধু।(নাহিদ)
___প্রকৃতি দেখছিস না ছাই! তোর নামে এগুলো কি শুনছি রে।
___কি শুনেছিস?
___তুই নাকি সিনিয়র একজন আপুকে সবসময়ই ফলো করিস।
___ঠিকই শুনেছিস। ওকে আমার খুব পছন্দ। যে করেই হোক ওকে রাজি করাতেই হবে।
___ওকে মানে? বড় আপু হয়। সুতরাং উনি বল উনি।
___ধ্যাত। কাউকে ভালোবাসলে কি তাকে উনি বলতে হয়! তুমি করে বলতে হয়।
___শোন, আমি তোর কাছে ভালোবাসার জ্ঞান নিতে আসি নি। যদি একবার প্রিন্সিপালের কাছে তোর নামে নালিশ দেয়, কি করবে বুঝতে পারছিস?
___কি করবে আর বল! বড়জোর কয়েক চড়-থাপ্পর মেরে ভার্সিটি থেতে বের করে দিবে।
___তোর এ ফাজলামি বন্ধ করবি? পড়ালেখায় মন দে।
___আমি ফাজলামো করছি! এসব শুনে কি তোর ফাজলামো মনে হচ্ছে! আমি ওকে সত্যিই অনেক বেশি ভালোবাসি।
___তোর কাছে থাকলে আমি নিজেই পাগল হয়ে যাবো। তুই তোর কামিনীকে নিয়ে যত পারিস ভাব আর প্রকৃতি দেখ। আমি গেলাম।
___আরে বন্ধু কই যাস? একটু বস না।
___নাহ, আর বসমু না। আমার ক্লাস আছে।
___বন্ধু তুই অন্তত বিশ্বাস কর, আমি ওকে সত্যি ভালোবাসি রে।
___ওকে, থাক তোর ভালোবাসা নিয়ে।
এই বলে অনিক নাহিদের কাছ থেকে চলে গেল। অনিক নাহিদের গ্রামের ছেলে। অনেক ভালো বন্ধুও বটে। সেই ছেলেবেলা থেকে একসাথে বড় হয়েছে। খেলেছে, স্কুলে গিয়েছে, কলেজে এমনকি ভার্সিটিতেও।
.
মেয়েটার নাম মায়া। যাকে নাহিদ ভালোবেসে ফেলেছে। মায়া অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে এবং নাহিদ প্রথম বর্ষে। সিনিয়রের প্রতি এই জুনিয়রের ভালোলাগা ভার্সিটিতে হয়তো এই প্রথম। মায়া কিংবা নাহিদের বন্ধুবান্ধবও জানে বিষয়টা। তবে এ বিষয়ে মায়া কোন এপর্যন্ত বিরুপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে নি। তাই তাদের আশেপাশের বন্ধুবান্ধবরা ধরে নিয়েছে হয়তো মায়াও নাহিদকে ভালোবাসে।
.
নাহিদ ছেলেটা অনেক ভদ্র। বেশ সুন্দর দেখতে। একটি মেয়ের কোন ছেলের উপর ভালোলাগা বিষয়গুলো সবই আছে নাহিদের মধ্যে। অপরদিকে মায়াও কম কিসে! ভার্সিটির অন্যান্য মেধাবী ও সুন্দর ছাত্রীদের মধ্যে অন্যতম সে। তবে মায়ার বাবা সামান্য একজন কৃষক। হয়তো নাহিদের বাবার মতো তার টাকা পয়সা নেই। তারপরও নাহিদ মায়াকেই ভালোবাসে।মায়া যেদিক দিয়ে যাতায়াত করে প্রায়ই নাহিদ দাঁড়িয়ে থাকে আর ফ্যালফ্যাল করে মায়াকে দেখে।
.
একদিন ভার্সিটি থেকে ফেরার সময় মায়া নাহিদকে দেখে এগিয়ে যায়।
___তুমি প্রতিদিন আমার যাতায়াতের পথে দাঁড়িয়ে থাকো কেন?
___সত্যি কথা বলবো নাকি মিথ্যা কথা বলবো?
___দুটোই বলো।
___মিথ্যাটা হচ্ছে এখানে দাঁড়িয়ে আকাশটা দেখি। এখান থেকে অনেকটা পরিষ্কার দেখা যায় তো তাই।
___আর সত্যিটা?
___আপনাকে খুব ভালো লাগে তাই দাঁড়িয়ে থাকি। আসল কথা হচ্ছে আমি আপনাকে অনেক বেশি ভালোবাসি।
___তুমি আমার থেকে জুনিয়র। সিনিয়র আপুকে এসব বলতে তোমার লজ্জা করলো না?
___লজ্জা করবে কেন? যা সত্যি তাই তো বললাম। তাছাড়া আপনিই তো আমাকে এখানে দাঁড়িয়ে থাকার উদ্দেশ্যটা জিজ্ঞেস করলেন তাই তো বললাম।
___ভার্সিটির অনেক বন্ধু-বান্ধুবীরা এ নিয়ে অনেক হাসাহাসি করছে। তাছাড়া যদি এ নিয়ে প্রিন্সিপালকে নালিশ করি তবে কি হকে একবার বুঝতে পেরেছো? সুতরাং তুমি যদি আমার আর তোমার ভালো চাও তাহলে আমাকে আর বিরক্ত করবে না।
একথাগুলো বলেই মায়া সেখান থেকে চলে গেল। সাথে মায়ার বান্ধুবী সাথী। নাহিদরে সাথে মায়ার এরুপ কথায় সে অনেকটা খুশি। কারন জীবনে এই প্রথম কারো সাথে মায়া এভাবে কথা বললো।
.
পরদিন সাথী তাড়াতাড়ি মায়ার সাথে ভার্সিটিতে দেখা করে যা বললো হয়তো মায়া সেজন্য প্রস্তুত ছিলো না। মায়া নামক মেয়েটার সবসময়ই অন্যের জন্য অনেক মায়া। খুব তাড়াতাড়ি অন্যকে অাপন করে নেয়। তবে ওর মনটা খুব নরম।
___মায়া কিছু শুনেছিস?(সাথী)
___অনেককিছুই তো শুনলাম তুই কোনটার কথা বলছিস?
___কি কি শুনেছিস, আগে সেটা বল।
___এইতো আগামী মাস থেকে পরীক্ষা শুরু হবে, নিলুফার বিয়ে ঠিক হয়েছে। এই তো!
___আর কিছুই শুনিস নি?
___নাহ তো।
___আরে কালকে ভার্সিটি থেকে ফেরার সময় নাহিদ এক্সিডেন্ট করেছে।
___কি বলিস!
___হুম সত্যি বলছি। কালকে তো ও ভার্সিটি থেকে বেড়িয়ে তোর সাথেই কথা বললো। তার যদি....!
___সত্যি রে, ওকে ওসব কথা বলা ঠিক হয় নি।
___হুম। বেচারা খিব শক্ পেয়েছে হয়তো। চল ও এখন ডক্টরস ক্লিনিকে ভর্তি আছে। দেখতে যেতে হবে।
___কি বলিস! আমি যেতে পারবো না। তুই যা।
___দোষ করলি তুই, আর যাবো আমি! আসলে তুই একটা পাগল। শোন তোকে একটা কথা বলি।
___কি?
___নাহিদ তোকে আসলেই খুব ভালোবাসে রে। তুই রাজি হয়ে যা।
___চল, ক্লাসে। আগে ক্লাম শেষ করি তারপর দেখা যাবে।
অতঃপর খানিকটা মুচকি হেসে কথাটা বললো মায়া।
.
ক্লিনিকের বেডে শুয়ে আছে নাহিদ। হাত-পায়ে ব্যান্ডেজ লাগানো। ঘুমিয়ে আছে।মায়া গিয়ে নাহিদের পাশে বসে পড়লো। নাহিদের হাত ও পায়ে ব্যান্ডেজ দেখে মেয়েটার চোখ বেয়ে ঝরঝর করে পানি পড়তে লাগলো। সেদিন যদি ওসব কথা না বলতো হয়তো তাকে আজ এই দিনটি দেখতে হতো না।
চোখ মেললো নাহিদ। চোখ মেলে পাশেই দেখতে পেল মায়ার নামের সেই মেয়েটি অশ্রুসিক্ত অবস্থায় বসে আছে। তাই তো আবারো তার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকলো। আর মিনমিন করে বলতে লাগলো
"ভালোবাসি, সত্যিই আপনাকে অনেক বেশি ভালোবাসি। "
___আমাকে মাফ করে দাও। আমি তোমার কাছে লজ্জিত। সেদিন তোমাকে ওসব কথা বলা ঠিক হয় নি।
___আপনিই আমাকে মাফ করে দেন
আপনাকে ভালোবেসে আমি ভূল করেছি। তবে সত্যিই আপনাকে আমি ভালোবাসি।
___আমি এক গরিব বাবার মেয়ে। আমার বাবা শুধুমাত্র কৃষিকাজ করে। আর তুমি বড়লোকের সন্তান। তেল আর জলে কখনোই একসাথে মিশে না।
___আমার মা নেই, শুধু বাবাই আছে। আমার বাবা কোনদিন আমার কথা বা চাওয়া অপূর্ণ রাখেন নি।
___আগে তুমি সুস্থ হও, তারপর দেখা যাবে।
___তারমানে আপনি রাজি!
আনন্দে বলে উঠলো নাহিদ।
নাহিদের দিকে তাকিয়ে একটু মুচকি হেসে দিলো মায়া।
.
≈≈Sajjad Alam Bin Saiful Islam (কাশফুল)

.

_____"সিনিয়র Vs জুনিয়র "3"
.
.
প্রত্যেকটা মানুষের ছোট বেলা স্বৃতিময় থাকে। কারো বেশি আবার কারো তুলনামূলক ভাবে কম। আমারো তার ব্যতিক্রম নয়। তাই একটা ছোট বেলার কাহিনী শেয়ার করব আপনাদের সাথে। আশা করি ভালো লাগবে।
.
আমার বয়স তখন মাত্র ৬ থেকে ৭ বছর হবে। ক্লাস ওয়ানে পড়ি আর সারাদিন খেলাধুলা করেই সময় কাটতো আমার। আমার বড় আপু তখন ক্লাস সিক্সে পড়তো। আপু যখন স্কুল থেকে বাড়িতে ফিরতো তখন আপু তার কতগুলো বান্ধুবীর সাথেই দল বেঁধে বাড়িতে ফিরতো। গ্রামগঞ্জের চিরাচরিত রুপ। আপুর এক বান্ধুবীকে আমার খুব পছন্দ হতো তথা ভালো লাগতো। কিন্তু তখন আমি ভালোবাসা কি জিনিষ তা বুঝতাম না। কিভাবে তাকে আমি আমার মনের কথা বলবো বুঝতে পারলাম না।
.
একদিন রাস্তার ধারে গ্রামের ছেলে-মেয়েদের সাথে লুকোচুরি খেলছি। হঠাৎ আমার চোখ গেল স্কুল থেকে ফেরা মেয়েগুলোর দিকে। দেখলাম আপু ও তার বান্ধুবীরা আসছে। সাথে সেই স্পেশাল আপুটাও ছিলো(যাকে আমি মনে মনে ভালোবাসতাম)।আপুটার নাম ছিলো মায়া(এটা কাল্পনিক নাম)। তাইতো খেলা বন্ধ করে সিনিয়র আপুদের দিকে দৌড়ালাম। গিয়ে এক নিঃস্বাসে বললাম,
"এই মায়া আপা, এই মায়া আপা, শোন, তোর সাথে আমার কিছু কথা আছে।"
"দাঁড়াও, একটু নিঃস্বাস নে। যেভাবে দৌড়াচ্ছিস যেন তোর বিয়ের দাওয়াত দেয়ার জন্য এসেছিস।" আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো মায়া আপু।
"শোন, তোকে আমার খুব ভালো লাগে। আমি তোকে বিয়ে করবো।তুই কি আমাকে বিয়ে করবি? " বললাম আমি।
.
আমার কথায় সবাই হাসতে লাগলো। এমনকি আমার বড় আপুও। আমি তখন হতবাক হয়ে গেলাম। তাই মাথাটা নিঁচু করলাম।আমার বড় আপু একটু হাসলেও আমার সাথে অনেক রাগারাগি করলো। মায়া আপু আমার আপুকে থামতে বলে আমার দিকে এগিয়ে আসলো। আমার মাথায় ওর হাতটা রেখে বললো, "ভাই তুই তো এখন ছোট, আগে ভালো করে লেখাপড়া করে বড় হ, তারপর না হয় আমাকে বিয়ে করিস?"
মায়া আপুর কথায় আমি কিছুটা স্বস্তি অনুভব করলাম। তাই তো বললাম, "আমি ভালো করে লেখাপড়া করলে তুই আমাকে বিয়ে করবি তো?"
আমার এমন প্রশ্নে মায়া আপু তার মুচকি হাসি দিয়ে আমাকে হ্যাঁ বোধক শব্দটি জানালো।
আমিও খুশি হলাম আর আমার খেলায় মত্ত হয়ে গেলাম।
.
সত্যিই বলছি, আপুটাকে আমি খুবি ভালোবেসেছিলাম। যার কারণে হয়তো আমি আমার নানাকে বলতাম,
"নানা, আমি মায়া আপাকে বিয়ে করবো, নানা আমি মায়া আপাকে বিয়ে করবো।" তাইতো সে কথা শুনে নানা আমাকে বলতেন, "আচ্ছা, তোকে মায়ার সাথেই বিয়ে দিবো।" প্রায়শই যখন আমি নানু বাড়িতে গেলে মন খারাপ করতাম ঠিক তখনি নানা আমাকে মায়া আপুর কথা বলতেন। আর আমি মায়া আপুর কথা শুনলেই দারুন খুশি হতাম আর আমার মনও ভালো হয়ে যেত।
.
আস্তে আস্তে বড় হতে থাকলাম আমি। কেজি স্কুলে ৫ম শ্রেনি পর্যন্ত পড়ে মাদরাসায় গিয়ে ৪র্থ শ্রেনিতে ভর্তি হলাম। এভাবেই আমার জীবন থেকে একটি পর একটি বছর পার হতে থাকলো। হঠাৎ একদিন রাস্তায় মায়া আপুর সাথে দেখা। আমাকে দেখেই সাজ্জাদ বলে ডাক দিলো। আমিও তার ডাকে সাড়া দিলাম। আমাকে তার কাছে ডেকে বললো, "কি রে সাজ্জাদ আমাকে বিয়ে করবি না?"
মায়া আপুর কাছে একথা শুনার পর লজ্জায় মাথা নিঁচু করে মনে মনে ভাবলাম, "হায়রে, এতোদিন আগের কথা এখনো মনে রেখেছে!" তারপর থেকে আমাকে দেখলেই মুচকি মুচকি হাসে মায়া আপু। আমিও তার সাথে মুচকি হাসিতে সঙ্গ দেই।
.
মায়া আপু ছাত্রী হিসেবে খুবই ভালো ছিলো। তাই তো ২০০৭ সালের এসএসসি পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করে জিপিএ-5 পেয়েছিলো। হয়তো সে অনেক বড় ধরনের স্বপ্ন দেখেছিলো, যার কারণে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তার এই প্রাপ্তি। আমার বড় আপুও মায়া আপুর চেয়ে কোন অংশেই কম ছিলো না। পাশাপাশি রোল ছিলো তাদের। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস যে, তাড়াতাড়ি করেই আমার আব্বু আমার বড় আপুকে বিয়ে দিয়ে দেয়। অবশ্য বিয়ের পরও বড় আপু ৩ বছর লেখাপড়াও করেছিলো। কিন্তু বৈবাহিক জীবনে আর সম্ভপর হয় নি।
.
মায়া আপুরও বিয়ে হয়েছে গত বছরে। তার স্বামী এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। বেশ টাকা পয়সা আছে, সাথে স্মার্ট ও। অনেক ভালোবাসে হয়তো তাকে। এই জিনিষগুলোই তো মেয়েরা চায়। তাতেই তাদের জীবন স্বার্থক। অনেকদিন থেকে মায়া আপুকে দেখি না। হয়তো শ্বশুরের বাড়িতে আছে। তবে ছোট বেলার সেই ঘটনাটা আছো আমি ভূলি নি। প্রায়শই মনে হয়। আর যখনি মনে হয় ঠিক তখনি ভীষণ হাসি পায়। তখন মনে মনে ভাবতে থাকি, "যাহ, ছোটবেলার সেই ছোট্ট আমি কতই না দুষ্টু ছিলাম।"
.
.
≈≈Sajjad Alam Bin Saiful Islam(কাশফুল)

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ