āĻŽāĻ™্āĻ—āϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ļ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž

4540

____"আল্লাহ ক্ষমাশীল"(সত্য ঘটনা অবলম্বনে)
.
.
.
রাতে খাওয়ার পর ফেসবুক আইডিটা ওপেন করলাম। ফেসবুক চালানো এটা আমার দৈনন্দিন অভ্যাস। অনেক ভার্চুয়াল ফ্রেন্ড আছে আমার। তবে পরিচিতর চেয়ে অপরিচিতর সংখ্যাই বেশি। তাদের অনেকের সাথে ফোনেও কথা হয় মাঝে মাঝে।
.
___আসসালামু আলাইকুম ভাইজান।(নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইডি)
___ওয়ালাইকুম আসসালাম। কেমন আছেন?(আমি)
___জ্বী, আলহামদুলিল্লাহ। আপনি?
___আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি ভাই।
___আমি আপনাকে অনেক আপন ভাবি, সে হিসেবে আমার একটা কথা আপনার সাথে শেয়ার করতে চাই। যে কথাটি আমার আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।হয়তো আপনাকে বলার পর আমি অনেকটা হালকা হয়ে যাবো। কারণ এ বিষয়টি আমাকে অনেক যন্ত্রনা দেয় সারাক্ষণ।আপনি কি শুনবেন আমার কথা?
.
___হুম ভাইয়া, বলেন।
___যদি কথাগুলো শোনার পর আমাকে ঘৃণা করেন?
___আগে বলেন না। তারপর দেখা যাবে।
___ভাইজান, আমি ছোট থেকেই শহরে লেখাপড়া করেছি। তাইতো সবসময়ই ম্যাচে থাকতাম। আমার অনেক লোক পরিচিত ছিলো। যাদের সাথে আমি মিশতাম, আড্ডা দিতাম। কিন্তু এ জীবনটাতে যাদের সাথেই মিশেছি তারাই আমাকে কুনজরে দেখেছে। কিন্তু উপর থেকে আমাকে অনেক ভালোবাসতো।তাই তো যাদেরকে বিশ্বাস করেছি, তাদের বেশিরভাগই আমার সাথে সমকামীতায় লিপ্ত হয়েছে। কিন্তু আমি এটা চাইতাম না ভাই। সত্যি বলছি। তাইতো সবসময়ই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতাম যাতে এমন না হয় আমার সাথে। কারণ আমি জানতাম এটা পাপ, অনেক বড় মাপের পাপ।
.
____তারপর?
____তারপর আবার কি! আমার জীবনটা শেষ। পাপে ভর্তি আমার এ জীবন।হয়তো আমি সহজ সরল বিধায় আমার সাথে এমন ঘটতো
তবে যে আমার সাথে এমন ব্যবহার করতো।প্রায় দশজনের মত এমন লোক আমার জীবনে এসেছিলো। পরবর্তীতে তার কাছ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতাম। তাই তো শহর ছেড়ে বর্তমান বাড়ির পাশের হাই স্কুলে পড়ছি। যাতে এ জঘন্য পাপ আমার দ্বারা আর সংঘটিত না হয়। ভাইজান, আমি জানি আমি পাপি তাইতো নিজেকে শুধরাতে চাই। আমি আপনার প্রোফাইল দেখেছি আপনি মাদরাসার ছাত্র।আল্লাহ কি আমাকে আমার পাপের জন্য ক্ষমা করবেন?
___আপনার সাথে যা হয়েছে, আসলেই খুব খারাপ হয়েছে। আমাদের রাসূল(সাঃ) রাসূল হিসেবে প্রেরিত হবার পূর্বে এক জাতিকে আল্লাহ তায়ালা সমকামিতার জন্য ধ্বংশ করেছেন। কারণ এটি যেনার সমতুল্য।
.
কিন্তু আল্লাহ তায়ালা অনেক দয়াবান। তিনি চাইলেই তার বান্দাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন।তাঁর অশেষ দয়া। যুগে যুগে তিনি তার পাপিষ্ঠ বান্দাদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা করে মৃত্যুর পর চিরসুখময় স্থান দান করেছেন।
.
একজন ব্যক্তি ১০০টি খুন করেছিলো। অতঃপর ব্যক্তি স্বীয় পাপকাজের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলো। মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং মৃত্যুর পর কোনরূপ শাস্তি ছাড়াই তাকে চিরসুখী স্থান দান করেছেন।
.
একজন মহিলা যে কিনা সারাজীবন অন্যায় করেছে। পাপে ভর্তি হয়েছিলো তার জীবন। তিনি একটা কুকুরকে পানি পান করার বিনিময়ে পেয়েছেন আল্লাহর ক্ষমা।
রাসূল(সাঃ) একজন যেনাকারী মহিলা শাস্তি দেয়ার আগে তাকে বলেছিলেনঃ
আপনি যদি গোপনে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতেন তাহলে আল্লাহ অবশ্যই আপনাকে ক্ষমা করতো।
.
___তাহলে আমি এখন কি করবো ভাইজান?
___আল্লাহ তায়ালা মানুষের গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন তবে শর্ত হচ্ছে,
পাপটির জন্য অনুশোচনা করতে হবে, তওবা করতে হবে এবং দ্বিতীয়বার পাপকাজ টি থেকে দূরে থাকতে হবে।
মে হিসেবে হয়তো আল্লাহ তায়ালা আপনাকে মাফ করে দিবেন।
.
তাই আমার সর্বশেষ কথা হচ্ছে,
আপনি নিয়মিত নামায পড়ুন, নিরালয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। স্বীয় পাপকাজের জন্য তওবা করুন। তাহলে আশা করা যায়, আল্লাহ তায়া আপনাকে ক্ষমা করে দিবেন। কারণ তিনি অশেষ ক্ষমতার মালিক। তার ভান্ডার অনেক প্রশস্ত। তাছাড়া কোন বান্দা যদি আল্লাহর কাছে পাপকাজ করে তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তখন অাল্লাহ সে বান্দার প্রতি খুশি হয়ে তার পাপকাজ ক্ষমা করে দেন।
.
___ভাইজান, আমি এ পাপকাজের অন্য অনেক বেশি অনুতপ্ত। আমি আর জীবনে এ পথে যাবো না। আপনার কথা শুনে মনের মধ্যে শান্তি অনুভব করছি। দোয়া করবেন যাতে আল্লাহ তায়ালা আমাকে ক্ষমা করে দেন। আমি আপনার জন্য দোয়া করছি, যাতে আল্লাহ আপনার মঙ্গল করেন।
___আপনাকেও ধন্যবাদ। আচ্ছা পরে কথা হবে। এখন ঘুমাবো, ফজরে আবার উঠতে হবে।
___ঠিক আছে ভাইজান। অনেক ভালো থাকুন।
.
অতঃপর ফেসবুক আইডি অফ করে ঘুমিয়ে পড়লাম।
.
শিক্ষাঃঅনেকেই পাপকাজ করে(যে কোন পাপ) আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়। মনে মনে ভাবে হয়তো আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন না। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা মানু্ষকে ক্ষমার গ্যারান্টি দিয়েছেন, যদি বান্দা সে পথ থেকে ফিরে আসে।
.
.
≈≈Sajjad Alam Bin Saiful Islam (কাশফুল)

.

_____"পূন্যবতী স্ত্রী"
.
.
___আসসালামু আলাইকুম, আসসালামু আলাইকুম।
নাহিদের কানে মিনমিন করে বলতে লাগলো মায়া।
___ওয়ালাইকুম আসসালাম।
মিনমিন করে উত্তর দিলো নাহিদ।
___কি খবর, ঘুম থেকে উঠবেন না?
___আর একটু ঘুমাইনা!একটু আগেই তো ঘুমাইলাম।
___এসব কথা বললে কি আমি শুনছি নাকি?
___প্লি....... জ।
___আরে আযান দিয়েছে। আমি নামায পড়লাম। আর আপনি এখনো ঘুমেই রয়েছেন।
___আজকে বিয়ের দিনটাও ছাড় দিবে না?
___কোন ছাড় নেই। যদি এবার তাড়াতাড়ি না উঠেন তাহলে মাথায় পানি ঢেলে দিবো।
___আরে থামো...........।এইতো উঠেছি।
অতঃপর বিছানার উপরে পা বিছিয়ে বসে পড়লো নাহিদ। নাহিদের এরুপ অবস্থা দেখে মায়া একটু মুচকি হাসি দিলো।
___এই শোন!
___কি?(এগিয়ে গিয়ে)
___পাশে বসো না।
___ধুত্, আপনাকে আমি কি বলেছি। আগে যান নামায পড়ে নিন।
___নামায পড়ার জন্যই তো উঠলাম। ২ মিনিটের জন্য আমার পাশে বসো। প্লিজ. ....!
___আচ্ছা, বসলাম। কি বলবেন বলুন।
___আর একবার তোমার মিষ্টি ওই হাসিটা দাও না।
___ধ্যাত, কি যে বলেন!এবার অনেক হয়েছে। আগে নামায পড়ে আসুন, তারপর যা বলার বলবেন। আমি নাস্তা বানাতে যাচ্ছি।
___ওসব তৈরি করার জন্য তো সকিনা খালা আছে। তুমি বরং বিশ্রাম নাও। এমনিতে গত কয়েকদিন তোমার উপর দিয়ে অনেক ধকল গেছে।
___এই যে শুনেন, নিজের কাজ নিজে করা আমি খুব পছন্দ করি। আর তা কাউকে করতে দেই না। এখন থেকে রান্নাবান্না আমি করবো, সকিনা খালা পারলে আমাকে একটু সহযোগীতা করতে পারে।
.
একথা বলেই রান্নাঘরের দিকে পা বাড়ালো মায়া। বিছানা থেকে উঠে ওযু করে মসজিদের দিকে নামায পড়ার জন্য হাঁটা দেয় নাহিদ। আপাতত তাদের ঘরটা শূন্য অবস্থায় পড়ে থাকে।
.
নাহিদ ও মায়া।
যাদের বিবাহ সম্পাদিত হয়েছে গত রাত্রেই। অনেকটা চেনাজানার মধ্যেই এ সম্পর্ক আজ পরিণয়ের রুপ ধারণ করেছে।দুজনের মধ্যে ছিলো অনেক ভালো সম্পর্ক। একে পাঠকরা ভালোবাসাও বলতে পারেন।
.
একদিন মায়াকে দেখে নাহিদ ভালোবেসে ফেলেছিলো। কিন্তু কোনদিন বলে নি যে, সে মায়াকে ভালোবাসে। অথচ মায়া আর নাহিদ একই কোম্পানিতে চাকরি করতো। মায়ার রুমের জানালা দিয়ে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতো অপলক দৃষ্টিতে। মায়া মাঝে মাঝে নাহিদের বিষয়টা লক্ষ্য করতো। কিন্তু এ অবস্থায় নিজেকে লজ্জায় আটোসাটো করে ফেলতো। যদিও বা মায়া বোরকা পড়ে অফিসে যেত।
.
একদিন মায়াকে প্রোপোজ করে বসে নাহিদ। কিন্তু মায়া নাহিদের প্রোপোজ একসেপ্ট করে নি।কারণ নাহিদ তখন বিভিন্ন খারাপ অভ্যাস যেমনঃ সিগারেট, বেনামাযি, কিংবা ঘু্ষ ইত্যাদির মধ্যে জড়িত ছিলো। যদি নাহিদ মায়ার থেকে অনেক উপর পজিশনে চাকরি করতো।
.
মায়া নাহিদকে বলে দেয়, সে এমন একজন ছেলেকে বিয়ে করতে চায় যে কিনা হবে অনেক সৎ। যার মধ্যে থাকবে না ধুমপান, ঘুষের মতো কোন খারাপ অভ্যাস।স্ত্রী, সন্তানকে নিয়মিতভাবে টাইম দিবে।এক কথায় সে হবে আদর্শ ব্যক্তি।
.
ঠিক তারপর থেকেই নিজেকে পরিবর্তন করে ফেলে নাহিদ। কারণ সে মায়াকে অনেক বেশি ভালোবাসতো। নিজেকে ইসলামীক মাইন্ডের করে গড়ে তুলে প্রমান করেছে, একজন অসৎ লোক অনায়াসেই সৎ হতে পারে। সেজন্য প্রয়োজন একজন পথপ্রদর্শক।
.
প্রথম প্রথম ফজরের সময় ঘুম থেকে উঠতে না পারলেও আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যায়। এরপর একদিন নাহিদ মায়ার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলেছে
"আমি এখন নিজেকে পরিবর্তন করেছি। এখন আর আমি সিগারেট খাই না, ঘুষ খাই না। নিয়মিত ভাবে নামায আদায় করি। দেখ মুখে দাঁড়ি রেখেছি। তবে একটা কথা সত্যি, তোমাকে ভালোবাসার কারণে আমি পরিবর্তন হয়েছি। হয়তো আল্লাহ তোমাকে আমার জীবনে ভালো এবং সৎ হওয়ার অসিলা করে পাঠিয়েছেন। আমি এখন অন্ধকারের জগতে নেই। তুমি কি আমাকে বিয়ে করবে?আমি বিয়ের আগে প্রেম করতে চাইনা। তবে তোমাকে অনেক ভালোবাসি। তাইতো বিয়ে করতে চাই। কারণ তোমার মত মেয়ে আমার জীবনে থাকলেই আমার স্বার্থকতা। তুমি কি রাজি?"
.
এতক্ষণ নাহিদের কথাগুলো মাথা নিঁচু করে শুনছিলো মায়া। সত্যিই তো নাহিদ আগের চেয়ে এখন অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তাই তো মাথা নিঁচু করে উত্তর দিয়েছিলো..
"আপনি আমার বাবা মাকে বলুন। হয়তো রাজিও হতে পারেন।তবে আপনার বাবা মাকে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে পাঠাতে পারেন।"
এ কথা বলেই নাহিদের সামনে থেকে চলে যায় মায়া।
.
পরে অবশ্য মায়ার বাবা-মা মায়াকে নাহিদের সাথে বিয়ে দিতে রাজি হয়। অতঃপর গতকালই তা একটি সম্পর্কে রুপান্তরিত হলো। মায়াও মনে মনে নাহিদকে ভালোবাসতো। কিন্তু নাহিদকে ভালো এবং সৎ পথে নিয়ে আসার জন্যই প্রথমে প্রথম কথাগুলো বলেছিলো। তাই তো আজ সে সফল।
.
নাহিদ নামায পড়ে নিজের রুমে এসে ঢুকেছে। মায়া এখনো রান্নাঘর থেকে বের হয় নি। তাই দো জোরে জোরে মায়া মায়া বলে ডাকতে লাগলো।
অতঃপর মায়া চা একং কিছি নাস্তা নিয়ে রুমে প্রবেশ করলো।
___এই নিন আপনার চা।(মায়া)
___অনেক শুকরিয়া। আল্লাহ তোমার ও আমার জীবনে শান্তি দান করুক।
___আমিন।
___আব্বা আম্মা ঘুম থেকে উঠেছেন?
___হুম উঠেছেন। আম্মা নামায পড়ছেন এবং আব্বা মসজিদে গেছেন। এলেই নাস্তা দিয়ে আসবো।
___এসেই এতো দায়িত্ব?
___এখন যে আমি কারো সংসারের দায়িত্বে। তাই তো সবটুকু অক্ষরে অক্ষরে পালন করা আমার নৈতিক দায়িত্ব।
___শুধু সংসার সামলাও শুধু। স্বামী কি গাঙ্গের জলে ভেসে এসেছে।
___আপনার আবার কি হয়েছে?
___আচ্ছা, সেই বাসর ঘর থেকে লক্ষ্য করছি তুমি আমাকে আপনি করে বলছো। যদু আরেকবার আপনি করে বলো তাহলে তোমার সাথে তিনদিন কথা বলবো না। কসম আল্লাহর।
___আচ্ছা, তুমি তুমি।এবার হয়েছে তো?
___নাহ্। সবসময়ই তুমি করে বলবা। তুমি কথাটা শুনলে কাউকে খুব আপন মনে হয়।
___আচ্ছা বলবো।
___এখন একটু হাসি দাও না।
___ধ্যাত, কি যে বলো।
___আমি তোমার স্বামী, তিনি তোমাকে আদেশ করছে।
___হি হি হি হি। হয়েছে?
___না, হয় নি।
___তাহলে?
___দেখ এবার হবে।
একথা বলে মায়াকে জড়িয়ে ধরলো নাহিদ। কপালে একটা চুমু এঁকে বললো
"চিরদিন এভাবে পাশে থেকো আমার"
"শুধু দোয়া করো তুমি।"
.
.
≈≈Sajjad Alam Bin Saiful Islam (কাশফুল)

_

_______"অদ্ভুত পরিবর্তন"
.
.
পড়ার টেবিলে অংক করতে ব্যস্ত ছিলো মায়া। সে এবার এসএসসি পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। ছাত্রী হিসেবে স্কুলে বেশ প্রতিপত্তি রয়েছে মায়ার। শিক্ষক ও শিক্ষিকারা যাদের নিয়ে স্কুলে ভালো ফলাফলের স্বপ্ন দেখে তাদের মধ্যে মায়াও রয়েছে। থাকবেই না কেন? ক্লাসে যে তার দুই রোল। এমন সময় মায়ার মা সাহেরা বানু এসে উপস্থিত।
___দেখতো মা, এটা কে ফোন দিছে?
___কে আবার?
___জানি না। তবে কথা বলতেছে না। কয়েকবার ফোন দিছে।
___আচ্ছা, তুমি যাও। আরেকবার ফোন দিলে আমি দেখবো।
___আচ্ছা।
অতঃপর সাহেরা বানু মায়ার রুম থেকে বেড়িয়ে গেলেন।মায়া আবারো তার পূর্বের অংকে মনোযোগ দিলো। কিছুক্ষণ পর আবারো পূর্বের নাম্বার থেকে ফোন আসলো।
___আসসালামু আলাইকুম।(মায়া)
___ওয়ালাইকুম আসসালাম।
___কে বলছেন?
___আমারে তো তুমি চিনো। নতুন করে পরিচয় দেয়ার কি আছে?
___মুশকিল তো। আমি আপনারে কেমনে চিনি? আপনি কে বলুনতো?
___তুমি কি সত্যি আমাকে চিনতে পারছো না?
___আশ্চর্যকথা তো! আপনি আমাকে তুমি করে বলছেন কেন? জানেন না অপরিচিত জনকে আপনি করে সন্মোধন করতে হয়!
___আমি তো তোমাকে চিনি, তোমাকে অনেক ভালোবাসি। তাইতো তুমি বলে সন্মোধন করে তোমাকে আরো আপন করতে চাইছি। আমি রাজু।
___ও মাই আল্লাহ! আপনি আমার নাম্বার কোথায় পেলেন? কেনই বা আমাকে ফোন দিয়েছেন? স্কুল থেকে ফেরার পথে ডিস্টার্ব করেও কি শান্তি পান না?
___এভাবে বলো না প্লিজ। আমি তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসি। আর নাম্বারের কথা বললা তো? সেটা কি যোগাড় করা খুব বেশি কষ্টকর?
___বাদ দেন। আমি আপনার কাছে হাত জোড় করছি, প্লিজ আমাকে আপনি আর বিরক্ত করবেন না। সামনে আমার এসএসসি পরিক্ষা।
___সমস্যা নাই, তুমি তোমার মতো চলো। কিন্তু একবার বলো ভালোবাসি।
___আপনার সাহস কিভাবে হয় আমাকে এসব কথা বলার?
___তুমি অন্য কাউকে ভালোবাসো?
___আমি প্রেম ভালোবাসাতে বিশ্বাসী না। সুতরাং আমাকে এসব বলে কোন লাভ নেই। আমাকে আর আপনি কোনদিন আর ফোন দিবেন না।
___তুমি যদি আমাকে ভালোবেসে বিয়ে না করো তাহলে তোমাকে আমি দ্বিতীয় কারোর হতে দেব না।
অতঃপর মায়া ফোন কেটে দিলো। কিন্তু তারপর আবারো ফোন দিলো রাজু। তাইতো রাগ হয়ে ফোনটা বন্ধ করে রাখলো মায়া।
.
বিকাল ৩ টা।
সবে মাত্র স্কুল ছুটি দিয়েছে। সকলের ন্যয় মায়াও তার বান্ধুবীদের সাথে বাড়ির দিকে রওয়ানা হয়েছে। মুখে এক ফালি চাঁদ হাসি।কোন এক অজ্ঞাত বিষয়ে বান্ধুবীদের সাথে হেসে হেসে পথ চলছে মায়া। হঠাৎ সামনে রাজু এসে দাঁড়ালো।মায়ার সামনে এসে দাঁড়িয়ে তার বান্ধুবীদের কে যেতে বললো। বড় ভয়ঙ্কর ছেলে এই রাজু। মারামারি করাই যেন তার পেশা। তাইতো এলাকার কেউ তাকে ভালোবাসে না। সবসময়ই ভয় করে চলে। রাজুর সামনে আসা আর বান্ধুবীদের ভয়ে চলে যাওয়াতে মায়ার মনে ভীতির সঞ্চার হলো।
___কালকে কেন আমার ফোন কথা শেষ না হওয়াতেই কেটে দিছো।(রাজু)
___আপনাকে আমার ভালো লাগে না। প্লিজ আপনি আমার সামন থেকে চলে যান।
___কিন্তু আমি যে তোমাকে অনেক ভালোবাসি। তার কি হবে?
___দেখুন, ভালোবাসা শুধুমাত্র মুখে মুখে বললেই হয় না। এর অনেক বড় গভীরতা আছে। তাছাড়া আপনি এই গ্রামের বড় মাস্তান। আপনাকে ঘৃণা করা যায় কিন্তু ভালোবাসা যায় না। আর আমি আপনাকে আগেই বলেছি আমি জীবনেও কাউকে ভালোবাসবো না। তবে যার সাথে আমার বিয়ে হবে তিনি ব্যতিত। আমি আমার মনের সবটুকু ভালোবাসা তার জন্যই জমা করা রাখছি।
___তুমিও আমাকে মাস্তান বললা? কেন আমি আজ মাস্তান, সন্ত্রাস তা কি তুমি জানো? জানো না। তবে এসব কথা আমি তোমাকে বলতেও চাই না। শুধু এতটুকু বলতে চাই, আমি তোমাকে ভালোবাসি, অনেক বেশিই ভালোবাসি।
(কথাগুলো বলতে বলতে কেঁদে ফেললো রাজু)
রাজুর চোখে পানি দেখে নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছে না মায়া। কারণ যে ব্যক্তিই মানুষের কান্নার কারণ হয়ে দাঁড়ায় সে কিনা আজ তার সামনে কাঁদছে? সত্যি খুব অবিশ্বাস্য লাগছে মায়াকে।
___বলো তুমি কেমন স্বামী চাও? আজকে থেকে আমি আর তোমাকে ডিস্টার্ব করবো না। যদি নিজেকে সংশোধন করতে পারি তাহলেই তোমার বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবো। তাই তোমার কথানুযায়ী বিয়ের আগে আর প্রেম করবো না। তুমি যাও, ভালোভাবে লেখাপড়া করো, ভালো রেজাল্ট করে সকলের মুখ উজ্জ্বল করো। আর পারলে এই অধমের জন্য একটু দোয়া করো। আমি ফিরে আসবে তোমার জীবনে, একজন ভালো মানুষ হয়েই।
কথাগুলো বলে দৌড় দিলো রাজু। মায়া তার গন্তব্যের দিকে পুণরায় অগ্রসর হলো।
.
এরি মধ্যে এক একটি করে কেটে গেল ৫ টি মাস। এখন আর রাজুকে দেখা যায় না সন্ত্রাসী করতে বা মাস্তানি করতে। মায়াে এসএসসি পরিক্ষা হয়ে গেছে। আলহামদুলিল্লাহ গোল্ডেন প্লাস পেয়ে নিজেকে, পরিবারকে, শিক্ষক মহাদয়কে ধন্য করেছে। তার জীবনের সব থেকে বড় আশা পূরণ হয়েছে।
.
এক পড়ন্ত বিকেলে মায়ার বাবা বাগান বাড়িতে বসে চা খাচ্ছিলেন। পাশেই সাহেরা বানু। মায়া তার ফুল গাছ গুলোতে পানি দিচ্ছে। এমনসময় এক অজ্ঞাত ব্যক্তি এসে মায়ার বাবার সামনে দাঁড়ালো।পরনে পাঞ্জাবি, মুখ ভর্তি সুন্দর দাড়ি।
___আসসালামু আলাইকুম চাচা।
___ওয়ালাইকুম আসসালাম।
___চাচা কেমন আছেন আপনি?
___আমি ভালো আছি, কিন্তু তোমাকে তো ঠিক চিনতে পারলাম না বাবা।
___জ্বি চাচা, চিনতে না পারারই তো কথা। আমি রাজু। সেই রাজু যে রাজুর সন্ত্রাসী করতো, মাস্তানি করতো। কিন্তু সেই রাজু আর আজকের রাজুর মধ্যে অনেক পার্থক্য।
___তা দেখতেই তো পারছি বাবা। খুব সুন্দর দাড়ি রেখেছো।
___চাচা, আমি বর্তমান একটা প্রাইমারি স্কুলে চাকরি করছি আপনাদের দোয়ায়। গত দু মাস হলো চাকরিটা পাবার।
___যাক আলহামদুলিল্লাহ। তোমার পরিবর্তন দেখে আমি আজ খুব খুশি বাবা।
___চাচা দোয়া করবেন আমার জন্য, যেন আল্লাহ আমার সকল আশা আর পূর্বের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেয়।
___তা তো অবশ্যই বাবা।
___চাচা, আমি আপনার কাছে একটা আবদার নিয়ে এসেছি। আমি আশা করি আপনি তা ফেলবেন না। আমি জীবনকে পরিবর্তন করে দিয়েছেন মহান আল্লাহ তায়ালা তবে একজনের ওসিলায়। তিনি হচ্ছে আপনার মেয়ে মায়া। আমার তো বাবা মা নেই, যে তারাই আপনার কাছে আসবে! তবে আপনার কাছে আমি আরজি করছি যদি আপনার মেয়েকে আমি জীবস সঙ্গী হিসেবে পাই তাহলে আপনার কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো।
(অতঃপর মায়ার বৃদ্ধ বাবার চোখে হাসির প্রতিচ্ছবি দেখা গেল।পাশেই একটা গাছের আড়াল থেকে মায়া চুপি চুপি কথাগুলো শুনছিলো।হয়তো সেও আজ খুশি। তাই তো মরে মনে আল্লাহকে একবার ধন্যবাদ জানালো।)
.
≈≈Sajjad Alam Bin Saiful Islam(কাশফুল)

__

_____""একগুচ্ছ অভিমান""
.
.
বাংলাদেশ বনাম ইংল্যান্ডের মধ্যকার খেলা চলছে। বাড়িতে টেলিভিশন থাকা সত্ত্বেও নাহিদ বাড়ির পাশের চায়ের দোকানে বসে সকলের সাথে খেলা দেখার মজা উপভোগ করছে। নাহিদ সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। ছাত্র হিসেবে অনেক ভালোই। বাবা-মায়ের অনেক আদরের দুই মাত্র সন্তানের বড় সে।নাহিদের কোন চাওয়া পাওয়াই অপূর্ন রাখেন না তার বাবা আকরাম মিয়া। বেশ বন্ধুসূলভ আচরণ উভয়ের মধ্যে।
.
চলছে ইমরুল কায়েস ও সাকিব আল হাসানের মধ্যকার জুটির এই ভালো পার্টনারশিপ। যা চায়ের দোকানের সবাই খুব খুশি, সাথে পুরো বাংলাদেশও যে, আজ টিম ইংল্যান্ডকে পরাজিত করবে বাংলাদেশ। জয়ের অনেকটা দ্বারপ্রান্তে, কিন্তু সাকিবের আউটটাই যেন কাল হয়ে দাঁড়ালো বাংলাদেশের পক্ষে। সাকিবের বিদায়ের কিছুক্ষণ পরেই বাজে একটা বলে স্টামপিংক হলেন সেঞ্চুরি করা ইমরুল কায়েস। তাতেই সব আশা ভরসা পানিতে ডুবে গেল। বাংলাদেশ ফিরে পেল তার চিরচেনা রুপ। উইকেট যাওয়ার মিছিলে মত্ত থাকলো পরের লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা। অভিষেক ম্যাচের স্বীয় ৫ম উইকেট স্বীকার করে ইংল্যান্ড বাসীকে আনন্দে ভাসালেন "বাল"। কাঁদলো পুরো বাঙ্গালীরা।
.
মনখারাপ করে বাড়িতে ফিরে আসলো নাহিদ। এসেই দেখে তার বাবা-মা সোফায় বসে কি বিষয়ে যেন গল্প করছে। তাই তো সে বিষয়ে কোনরুপ কর্ণপাত না করেই নিজের ঘরের দিকে পা বাড়ালো নাহিদ। এমন সময় নাহিদের মা সাহেরা বানু পিছন থেকে বললো, "বাড়িতে টেলিভিশন থাকতে চায়ের দোকানে বসে খেলা দেখতে কি মজা পাও? আমরাও তো খেলা দেখি। তুমি তো চাইলে আমাদের সাথেই দেখতে পারো।" "তোমাদের সাথে খেলা দেখার কোন ইচ্ছাই আমার নেই। তাছাড়া চায়ের দোকানে চা খেতে খেতে খেলা দেখার মজাটাই আলাদা।" মায়ের প্রশ্নে ঘরে ঢুকার আগেই অভিমানে সুরে দাঁড়িয়ে উত্তর দিলো নাহিদ।
"তা এভাবে মুখটা কালো মেঘের মতো করে রেখেছো কেন? " সাহেরা বানুর পুনরায় প্রশ্ন নাহিদের প্রতি।
এবার নাহিদ ঘরে না ঢুকে পিছন ফিরে তাকালো। সেই সাথে আকরাম মিয়া সাহেরা বানুর প্রশ্নের জবাব তিনি নিজেই দিলেন, "আরে আজ ওর ফেভারিট টিম জিততে জিততে হেরে গেল না! তাই মুখটা কালো মেয়ে ছেঁয়ে ফেলেছে। আরে দেখছো না, ওর চোখে পানি টলমল টলমল করছে। বেশি কথা বাড়াইও না নাহিদের মা। তাহলে একেবারে কেঁদেই দিবে।" নাহিদকে রাগানোর জন্য কথাগুলো বললো আকরাম মিয়া।
"ওগুলো আমার দেখার বিষয় নয়। তাড়াতাড়ি খেতে আয়।"বললো সাহেরা বানু।
"আমার ক্ষিধে নেই, তোমরা খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ো। আমাকে ডেকো না।" আবারো অভিমানের সুরে উত্তর দিলো নাহিদ। কথাটা বলার সাথে সাথে বাবা-মায়ের অজান্তেই দু ফোঁটা পানি টপ করে বেয়ে পড়লো মাটিতে।
"বুঝলে নাহিদের মা, আজকে হেরে গিয়ে ছেলের আমার পেট ভরে গেছে তাই হয়তো খাবে না।" বাবার এমন ভ্যাংচানো কথা শুনে নিজের রুমে গিয়ে কম্বলটা গায়ে জড়িয়ে চোখ বন্ধ করে দিলো নাহিদ।
.
চোখ বন্ধ করেও ভাবছে, আল্লাহ কেন বাংলাদেশ এভাবে হারলো? হয়তো আমি সেখানে ব্যাটিং করলে সিঙ্গেল খেলে একাই ম্যাচটা জিতাতে পারতাম। যাহ্, শালা আর খেলা দেখমু না। এভাবে হারতে দেখলে মনটা অনেক খারাপ হয়ে যায়। এভাবেই কেটে গেল কিছুক্ষণ। আজ সে সবার সাথে অভিমান করেছে, বাংলাদেশের সব খেলোয়ারের সাথে কিংবা বাবা-মায়ের সাথেও। অবশ্যই কালকে স্কুলে গেলে সবাই টিটকেরি মারবে! আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করবে! তাইতো নাহিদ ঠিক করলো আগামীকাল স্কুলেই যাবো না। একথাগুলো ভাবতে ভাবতে কে যেন তার মাথা থেকে কম্বলটা সরিয়ে ফেললো। কে সরালো এটা না দেখেই দুহাত দিয়ে মুখটা ঢেকে ফেললো নাহিদ।
.
অতঃপর কে যেন কপালে একটা চুমু এঁকে দিয়ে মাথায় হাত বোলাতে লাগলো। আজ সে আর কারো সাথে কথা বলবে না, এমনকি বাবা-মায়ের সাথেও নয়। আজ সে অভিমান করেছে, খুব অভিমান। মনে মনে ঠিক করলো, এই অভিমান ভাঙ্গতে সময়ের প্রয়োজন কমপক্ষে একদিন। এমন সময় আকরাম মিয়া নাহিদকে নাহিদ নাহিদ বলে কানের কাছে ডাকতে লাগলো। হ্যাঁ, এতক্ষণ যাবত আকরাম মিয়াই নাহিদের মাথায় হাত বোলাচ্ছিলেন।মিনমিন করে কানে কানে বলতে লাগলেন, "চল বাবা, ভাত খাবি।"
"না, আমার ক্ষিধে নেই। তোমরা খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ো।" বললো নাহিদ।
"তুমি যদি এমন করো তাহলে কিন্তু আমি আর তোমার মা আজকে না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়বো। তুমি কি সেটাই চাও?" নাহিদকে বোঝাতে লাগলো আকরাম মিয়া। "সেটা তোমাদের ব্যপার। আমি জানি না।" আবারো বললো নাহিদ।
"আচ্ছা তোমার মুখটা দেখি, তুলোনা। এইতো এবার দেখা যাচ্ছে। শোন, সবসময়ই যদি বাংলাদেশ জিতে তাহলে ভবিৎষতে কেউই খেলা দেখবে না। কারণ তারা তো জানেই যে বাংলাদেশ জিতবে। তাহলে খেলা দেখে কি হবে।এভাবে মাঝে মাঝে যদি ম্যাচ জিততে জিততে হেরে যায় তাহলে কমবেশি সবাই খেলা দেখবে। কারণ তারা জানবে না যে, কে খেলায় জিতবে। তাই তাদের ফিলিংক্সটা অনেক বেশি থাকবে।" বললেন আকরাম মিয়া।
"তাই বলে এভাবে জেতা ম্যাচ হেরে যাবে। আমিই শুধু কাঁদি না। চায়ের দোকানের কমবেশি সবাই কেঁদেছে।" একথা বলেই বাবার বুকে মাথা রাখলো নাহিদ।
"আচ্ছা দেখ, আগামী ৯ তারিখ আবার ইংল্যান্ডের সাথে বাংলাদেশের খেলা আছে। আমার বিশ্বাস এটাতে নিশ্চয়ই বাংলাদেশ জিতবে। সেজন্য আমি নামাযের পর আল্লাহর কাছে দোয়া করবো। এবার খুশি তো?(আকরাম মিয়া)
"হুম, খুশি।" অভিমানকে ভেঙ্গে উত্তর দিলো নাহিদ।
"আচ্ছা চলো এবার খাবার খেতে, তোমার মা খাবার নিয়ে টেবিলে বসে আছে।" নাহিদকে বললেন আকরাম মিয়া।
সব অভিমান ভূলে আগামী ম্যাচ জয়ের প্রত্যয় অন্তরে জাগ্রত করে বাবা সাথে খাবার টেবিলে গেলো নাহিদ।
.
.
≈≈Sajjad Alam Bin Saiful Islam(কাশফুল)

_

______নামায
.
.
.
চারদিকে অন্ধকার নেমে এসেছে। পাখিরা দল বেঁধে স্বীয় নীড়ে ফিরে যাচ্ছে। বাশবাগানে ঝিঝি পোকার ডাক শোনা যাচ্ছে।সওদা করে ফিরছে মানুষজন। ক্ষেতের কাজ সমাপ্ত করে নিজ গৃহে ফিরছে কৃষক ।মুয়াজ্জিন সাহেব মাগরিবের আযান মধুর সুরে। অনেক লোক ছুটে যাচ্ছেন মসজিদের দিকে মাগরিবের নামায আদায় করার জন্য।কিন্তু নাহিদ এখনো পুকুরপারের টঙটাতে বসে আছে। কিছুটা ঠান্ডাও নেমেছে প্রকৃতিতে। তাইতো পা দুখানা গুটিয়ে বসে আছে। তার বাড়িতে যাবার সব রাস্তাই বন্ধ। কারণ সে তার বাবার অবাধ্যতা হয়েছে। তাই তো তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।
.
বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার সময় বাবা বলেছিলেন, "যদি নিয়মিত নামায পড়তে পারো তাহলে বাড়িতে এসো। নতুবা কখনোই আমার বাড়িতে আসবা না।"
তাইতো নাহিদ মনে মনে ঠিক করে নিয়েছর আর সে বাড়িতে যাবে না। কি বা বয়স হয়েছে তার! যে এই বয়স থেকেই নামায শুরু করতে হবে। সে তো তার বাবাকে বলেছিলো, "বাবা আর বছরখানেক যাক। তারপর থেকে না হয় শুরু করবো।"কিন্তু এ কথাটি শুনে আরো বেশিই রাগ হয়েছিলেন তিনি।
.
টঙয়ে এখনো বসে আছে নাহিদ। চারদিকে তাকাচ্ছে। কিন্তু কেউ তাকে এখনো ডাকতে আসে নি। হঠাৎ হাসু চাচাকে দেখা গেল তার দিকে আসতে। হ্যাঁ, তিনি তো নাহিদের দিকেই আসছেন। অতঃপর নাহিদের পাশে বসে তার দিকে অবাক নয়নে তাকিয়ে থাকলেন কিছুক্ষণ।
.
"কি বাজান, তুমি এইহানে সন্ধ্যার পর কি করো? পড়তো বসবা না?" নাহিদের দিকে তাকি কথাগুলো বললেন হাসু মিয়া। বলাবাহুল্য, হাসু মিয়া নাহিদের বাবার খুব কাছের বন্ধু।নাহিদ তাকে চাচা বলেই ডাকে। "না চাচা, আমি বাড়িতে যামু না।"বললো নাহিদ।
.
অবাক হয়ে আবার প্রশ্ন করলেন হাসি মিয়া, "ক্যান বাজান? আব্বার লগে বুঝি রাগ করছো?"
"না চাচা। আমি রাগ করি নাই। আব্বা আমারে বাড়িত থাইকা বাইর করি দিছে।" খানিকটা কাঁদো কাঁদো স্বরে উত্তর দিলো নাহিদ।
"হা হা হা হা হা, তোমাকে তোমার আব্বার বাড়িত থাইকা বাড়ি করি দিছে? কি কও বাজান! তোমারে লগে মজা করছে তাইলে। তার জন্যি কেউ এই পুকুরপাড়ে বসে থাকে? তুমি জানো না? এই পুকুরপাড়ের অনোক কাহিনী!" আস্তে আস্তে বললো হাসু মিয়া।
.
পুকুরপাড়ের কাহিনী কথাটা শুনে নাহিদের বুকের ভিতর খানিকটা ভীতির সঞ্চয় হলো। কারণ এই পুকুরটাকে সবাই অপয়া পুকুর বলেই জানে। সন্ধ্যার পর এখানে বসা তো দূরের থাক এদিক দিয়ে হাঁটেও না।এই তো গত বছরের ঘটনা, শহর থেকে দুজন বন্ধু বেড়াতে এসেছিলো এই গ্রামে। সন্ধ্যার পর তারা পুকুরপাড়ের চাঁদ দেখার সময় একজন পড়ে যায়, দ্বিতীয়জন তাকে তুলতে গেলে, দুজনের কেউই আর ফিরে আসে নি।পরবর্তীতে অবশ্য তাদের লাশ পাওয়া গিয়েছিলো। এর আগে গ্রামে দু তিনজন ছেলেমেয়ে গোসল করতে নেমে আর ফিরে আসে নি। এমনকি তাদের লাশও নয়।
.
"আমি নামায পড়ি না, তাই আব্বাজান আমারে বাইর করি দিছে। আর বলছে, যদি নামায পড়তে পারি তাহলে বাড়িতে যাইতে। না হলে বাড়ির সব দরজা আমার জন্য বন্ধ। চাচা আপনিই কন, আমার কি অহন নামায পড়ার বয়স হইছে?" বললো নাহিদ।
.
"কি কও বাবা! নামায তো সাত বছর থাইকাই ফরজ করা হইছে। কিন্তু অনেকেই তা অমান্য করে। তাইতো সঠিক সময়ে নামায পড়ে না। তুমি আমারে আর তোমার বাজানরে দেখ না। আমরা সেই ছোটবেলা থাইকা এক লগে নামায পড়ি। তবে কিছু কিছু মানুষ আছে, যারা বয়স হয়ে যাওয়ার পর নামায পড়তে আরম্ভ করে। হে হিসেবে তো তোমার আব্বা ঠিকই করছে। তিনি চান, তুমি তার শিক্ষা এবং আদর্শে বড় হও।" নাহিদের কথায় উত্তর দিলো হাসু মিয়া।
.
"কিন্তু চাচা, আমাকে তো নামায পড়তে ইচ্ছে করে না। অলস অলস লাগে।" নাহিদ হাসু মিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো। "সেটা ঠিক বাবা। ভালো কাজে শয়তান কুমন্ত্রণা দেয়। শরীরকে ভাড়ি করে তুলে। যাতে তুমি নামায না পড়ো এবং তুমি শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো। তবে যে ব্যক্তি নিয়মিত নামায পড়ে তাে কাছে শয়তান ঘেষতে পারে না। তার থেকে সবসময় অনেক দূরে দূরে থাকে।
.
আর এজন্যই তো নামাযের সওয়াব অনেক বেশি। আমরা যখন মারা যাবো তখন আমাদেরকে কবরস্থ করা হবে। তিনটা আমল ব্যতিত সব আমলই বন্ধ হয়ে যাবে। কিয়ামতের ময়দানে যদি কারো নিয়মিত নামায পড়া থাকে তাহলে পরবর্তী হিসাব গুলো তার জন্য সহজ হয়ে যাবে।তাহলে বাজান, ওহন কও, তোমার আব্বায় কি তোমারে খারাপ কিছু কইছে? "
.
নাহিদ স্বীয় মাথা নিঁচু করে না বলে উত্তর দিলো। নাহিদ আস্তে আস্তে সবটা বুঝতে শুরু করলো।
"আচ্ছা বাজান, অহন চলো তোমাকে বাড়িতে রেখে আসি। আর হ্যাঁ, কালকে থেকে নামায পড়বা। কি পড়বাতো?" বললো হাসু মিয়া।
"মাথা নিঁচু করে হ্যাঁ বলে উত্তর দিলো নাহিদ।"
অতঃপর হাসু মিয়া নাহিদকে নিয়ে তার বাড়ির পথ ধরলো এবং মনে মনে নাহিদের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করতে লাগলো যাতে আল্লাহ নাহিদকে হেদায়াত দান করে।
.
.
≈≈Sajhad Alam Bin Saiful Islam(কাশফুল)

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ