"একটি অভিমানী ছেলের গল্প"
.
.
বাড়িতে আজ অনেক লোকের সমাগম। দূর, দূরান্ত থেকে অনেকেই এসেছে। কিন্তু কারো মুখে হাসি নামক শব্দটি নেই। কারণ হাসির মতো অবস্থা নেই। সকলেই অসহায়ের মতো তাকিয়ে আছে ফ্যালফ্যাল দৃষ্টিতে। কারো কারো চোখের পানি ঝরছে অনবরত।ঘরের ভিতরে সাহেরা বানুকে ঘরের ভিতর পাখা দিয়ে বাতাস করছে পাশে বাড়ির ছকিনা বিবি।
.
বাড়ির পাশের আম গাছটার খানিকটা দূরে একটা কবর খুঁড়াখুঁড়ি করছেন কয়েকজন। কেউ আবার বাঁশ কাটছেন। হাসু মিয়ার ছোট ভাই গঞ্জে গেছে সাদা কাপড় এবং আতর, গোলাপ কিনতে। তারো চোখেও আজ লাল বর্নের ছাপ।তিনিও কেঁদেছেন অনেক।
.
বাড়ির উঠনো একটা খাটে গোসল দেয়া হচ্ছে আপনকে। তার চারদিকে মোশারী টাঙ্গানো। পাশেই আগরবাতি জ্বালানো হয়েছে। সেই রাত থেকে মায়া কেঁদেই চলছে। কেন সৃষ্টিকর্তা এমন করলো! একমাত্র ছোট ভাইটাকে কেন তাদের সঙ্গ ছাড়া করলো! তাকে সান্তনা দিচ্ছে রহিমা খালা।
.
অনেক বেশিই ভালো ছিলো আপন। কখনো গ্রামের মানুষের সাথে খারাপ আচরণ বা ক্ষতি করে নি। সবাই আপনকে ভালোবাসতো। আর আপনও। অনেক মজার ছেলে ছিলো এই আপন। কিন্তু অদৃশ্যের নির্মম পরিহাস! আজ তাকে সব ছেড়ে চলে যাতে হচ্ছে না ফেরার দেশে। যেখানে সে বাবা-মায়ের কিংবা মায়া আপুর কাউকেই পাবে না।
.
শহরের একটা মেসে থেকে লেখাপড়া করতো আপন। বাড়িতে আসতো ছুটিতে কিংবা অসুস্থতা অনুভব করলে
বাবা-মাকে ছেড়ে থাকতে নাকি তার খুব কষ্ট হয়। তাই তো বাবাকে বার বার করে বলেছিলো, সে শহরে পড়বে না। গ্রামেই পড়বে। সে তার গ্রামকে অনেক বেশিই ভালোবাসে। কিন্তু তার রাগি বাবার একটিই কথা
"তোমার এসব কথা আমি শুনছি না। তোমাকে অনেক বড় হতে হবে। দ্বিতীয় শহর ছাড়ার কথা বলবা না। তোমাকে নিয়ে আমার অনেক বেশিই স্বপ্ন।"
কিন্তু সে স্বপ্ন গত রাত্রে মুছে গেছে অদৃশ্য এক ঝড়ে।
.
কিছুক্ষণ পরে নাহিদ নামে এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে আগমন করলো আপনদের বাড়িতে। তার সাথে আরো দুজন লোক। এর আগেও আপনের জন্য এ বাড়িতে দুবার এসেছিলো। কারো সাথে কোন কথা না বলে আপনের লাশের কাছে গেল নাহিদ। মুখের উপরের আবরণটা সরিয়ে একনজর ভালো করে দেখার চেষ্টা করলো। এটাই যে শেষ দেখা! সোহাগ মাখা মুখটা দেখে কেঁদে ফেললো ঝরঝর করে। হয়তো তার সাথে আর কখন অভিমান করবে না আপন। রাগ হয়ে তার কাছ থেকে হেঁটে যাবে না তাড়াতাড়ি করে মেসের দিকে।
.
আপন যখন মেসে থাকতো তখন মেসের পাশেই একজন ছেলের সাথে খুব ভাব জমে যায়। প্রায়শ আপন তাদের বাড়িতে যাতায়ত করতো। অনেক আপন কিংবা কাছের মানুষ ভাবতে শুরু করেছিলো। আর ইনিই সেই ব্যক্তি। যার নাম নাহিদ। বয়স ২৮ বছর। তবুও বিয়ের পিঁড়িতে এখনো বসেন নি। আপনের সুত্র ধরে কয়েকবার নাহিদ এসেছিলো এই বাড়িতে। পরিচিত হয়েছিলো সকলের সাথে। সেই হিসেবে আপনদের বাড়ির সকলেই নাহিদক চিনে। অনেক ভালোবাসতো নাহিদকে। নাহিদও ছোট ভাইয়ের মতই দেখতো আপনকে। যাতে মেসে কোন সমস্যা না হয় সেজন্য সবসময় খোঁজ খবর নিতো।
.
আপনের কোন ভাই ছিলো না। তাই তো নাহিদকেই নিজের ভাই বলে মেনে নিয়েছিলো। অনেকটা সময় কাটাতো নাহিদের সাথেমাঝে মাঝে নাহিদ আপনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতো। এরপর থেকে আস্তে আস্তে শহর ছেড়ে থাকার কথা বাদ দিয়ে দেয় আপন। কারণ সে এমন একজনকে পেয়েছে, যে কিনা তাকে অনেক ভালোবাসে।
.
এভাবেই পার হয়ে গিয়েছে ১৫ টি মাস। এখন কেন জানি নাহিদ আগের মতো আপনের খোঁজ খবর নেয় না। নেয়, তবে আগের মতো না। কিংবা দেখাও করে না। মাঝে মাঝে দরজা দিয়ে কাঁদতো আপন। কিন্তু বুঝতে দিতো না কাউকে। বাড়িতে গেলেও ঘর থেকে তেমন বের হতোও না। কারো সাথে তেমন কথাও বলতো না। নিজের কাছে মনে হচ্ছিলো, হয়তো বড় কোন জিনিষ তার কাছ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।
.
অতঃপর অষ্টম শ্রেনির পরিক্ষা দেয়ার পর বাবাকে ভালোভাবেই বোঝায় আপন। সে আর শহরে থাকতে চায় না। অবশেষে ছেলের কথায় মেনে নেন আপনের বাবা হাসু মিয়া। মেস ছেড়ে দেয় আপন। আশেপাশের সব পরিচিতদের থেকে বিদায় গ্রহন করে। খুব কাছের ও ভালোবাসার মানুষটিকে ফোন করে পায় না সে। তাইতো তার প্রদেয় সমস্ত জিনিষ বাড়িতে ফেরত দিয়ে চলে যায় স্বীয় গ্রামে। যেখানে তার বাবা-মা ও বোন মায়া আছে।
.
খুব মনে পড়তে থাকে নাহিদের কথা। সত্যি কি আপনকে সে নিজের ছোট ভাই মনে করেছিলো?
এ উত্তরটা তার জানা ছিলো না। নবম শ্রেনীতে ক্লাস করার সময় হঠাৎ একদিন মাথা ঘুরে পড়ে যায় ক্লাসরুমেই। ডাক্তারকে দেখানো হলে, ডাক্তার বলেছিলো, লাষ্ট ষ্টেজ। দুমাস সময় দিয়েছিলো। কিন্তু এ কথা জানতো না আপন। কাউকেই জানায় নি হাসু মিয়া। শুধু নিজে একলা বসে চুপি চুপি চোখের জল ফেলতেন।তারই পরিক্রমায় গতকাল এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছে আপন। সবাইকে পর করে দিয়ে চলে গেছে না ফেরার দেশে।
.
আপনকে কবরস্থ করা হলো কিছুক্ষণ আগে। সবাই যার যার বাড়ি চলে গিয়েছে। যারা খুব দূর থেকে এসেছে শুধু তারাই রয়ে গেছে। নাহিদ ঘরের কোণে বসে থাকা হাসু মিয়াকে সালাম দিয়ে সান্তনা দিলেন অনেক। তখনি মায়া একটা চিঠি এনে ধরিয়ে দিলো নাহিদের হাতে। চিঠিটা কয়েকদিন আগে আপন লিখেছিলো নাহিদের নামে।
.
বাড়িতে এসে চিঠিটা খুলে পড়তে আরম্ভ করলো নাহিদ।
প্রিয় ভাইজান,
আপনি সবসময়ই ভালো থাকেন এটা আমি জানি। তাইতো কেমন আছেন এটা জানতে চাইলাম না। যখন আপনি চিঠিটা পড়ছেন তখন হয়তো আমি আর পৃথিবীতে নেই। একটা সত্যি কথা বলি, আমি আপনাকে কখনো পর ভাবি নি, নিজের ভাই মনে করতাম। কিন্তু শেষপর্যন্ত আমাকে দূরে সরিয়ে দিতেন। তাইতো শহর ছেড়ে গ্রামে এসেছি। মাথাটা প্রায়ই ব্যাথা করতো। কাউকেই বলি নি সে কথা। আমি আমার সমস্যা বুঝেছিলাম। কিন্তু কাউকে কষ্ট দিতে চাই নি। হাসপাতলে ছিলাম, কত মানুষ আমাকে দেখতে এসেছিলো কিন্তু আমি অপেক্ষা করেছিলাম আপনার জন্য। কিন্তু আপনি আসেন নি। তবে এতটুকু বুঝতে পরছিলাম, পৃথিবীতে আমি আর অল্প কদিন বাঁচবো। শেষবার খুব দেখার ইচ্ছে ছিলো আপনাকে। কিন্তু আপনি ফোনটা কেটে দিয়েছিলেন। আমি জানি, আমার মৃত্যুর পর আপনি আসবেন। তাইতো লিখিছি
সযত্নে রেখেছি।
ভালো থাকুন।
_________________ আপন
.
গড়িয়ে পড়তে লাগলো অশ্রু। ভিতরটা আজ ফেটে যাচ্ছে নাহিদের। ছেলেটা আসলেই খুব অভিমানী। আজ যে হৃদয়ের একটা কোণ অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে। কিন্তু আগে বুঝতে পারে নি। সে এখনো অভিমানী ছেলেটাকে কতটা ভালোবাসে। কিন্তু কি লাভ এখন! সে তো কাল হারিয়ে গেছে চাঁদের দেশে।।
.
.
≈≈Sajjad Alam Bin Saiful Islam (কাশফুল)
___
.
গল্প::: ""মধু বনাম ১৫০টাকা""
.
.
.
_______রাতুল, এই রাতুল।(আমি)
_______জ্বী, ভাইয়া বলেন।(রাতুল)
_______কেমন আছো?(আমি)
_______আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?(রাতুল)
_______আমিও ভালো আছি। তা এখানে কি করছো?
_______কিছু না ভাইয়া, ওহ্ ভালোই হলো আপনার সাথে দেখা হয়ে। ১০০ টাকা তাড়াতাড়ি বের করেন তো। দরকার আছে।
_______১০০ টাকা দিয়ে কি হবে?
_______দিতে বলেছি তাড়াতাড়ি দেন।
_______তোমরা ভাই বোন এত দাজ্জাল কেন রে?
_______কি আমরা ভাই বোন দুজনে দাজ্জাল? খাড়ান আজ যদি আপুকে না বলছি তো আমার নাম পাল্টিয়ে রাখেন।
_______আরে দাঁড়াও, কোথায় যাও?
_______আপুকে বলতে।
_______এ নাহ্। এই নাও ১০০ টাকা।
_______এই তো লাইনে আইছেন। আর কখনো আমাদের দাজ্জাল বলবেন? বলেন?
_______না ভাই, বলবো না। প্লিজ তোমার আপুকে বলো না।
_______আচ্ছা বলবো না। তবে আমার সাথে কিন্তু ঠিক ভাবে চলবেন। তাহলে বলবো না।
_______আচ্ছা ঠিক আছে। আচ্ছা একটা সত্যি কথা বলো তো।
_______কি?
_______তোমার আপুকে কি জন্মের সময় তোমার বাবা মা মধু খাওয়ায় নাই?
_______কেন বলুন তো?
_______এমন কোন দিন নেই যে ও আমার সাথে ঝগড়া করে না। ওকে বলিও তো প্রতিদিন যেন মধু খায়।
_______মধু পাবে কোথা থেকে?
_______দোকান থেকে কিনবে।
_______আর টাকা কে দিবে?
_______ কেন তোমার বাবার কাছ থেকে নিবে।
_______ আমার বাবার বয়েই গেছে আপুকে মধু কিনে দিতে। আপনিই টাকাটা দিয়ে দিন।
_______আমি!
_______জ্বী আপনি। দেন নতুবা এসব কথা বলে দিবো।
_______খাইছে রে, এতো সরাসরি ব্লাকমেইল।
.
কোন উপায়ন্তর না দেখে টাকা বের করে রাতুলের হাতে ধরিয়ে দিলাম। ওহ নাচতে নাচতে চলে গেলো। খুব দস্যি ছেলে। ওর বোনের নাম মায়া। নাম মায়া হলে কি হবে, ওর মনে হয় মায়া দয়া নেই। যার কারনে সারাক্ষণ আমার সাথে ঝগড়া করে। সেটা ফোনেই হোক কিংবা দেখা করলেই হোক। তবে মাঝে মাঝে এর ব্যতিক্রম ও ঘটে। মায়া একটু ঝগড়ুটে হলেও বেশ দেখতে! অবশ্য সবাইকে তার ভালো নাও লাগতে পারে। আমার কাছে মায়াই যেন পরী।
.
রাতুল মায়ার ছোট ভাই। আমার প্রেমের সমর্থক। আমার প্রেমের অনেক কিছুই জানে ও। সেজন্য প্রায়শই ওকে খুশি রাখতে হয়। নতুবা সব ফাঁস করে দিলে সব আশা শেষ। তাই তো সব চাহিদা ওর পূরণ করার চেষ্ঠা করি। তবে কিছুদিনের মধ্যে মায়ার বাড়িতে আমার বিয়ের পয়গাম পাঠানোর কথা। ইতিমধ্যে মা কে রাজি করিয়েছি।
.
রাতে ফেসবুক চালাচ্ছি। হঠাৎ রাতুলের ফোন।
_______কি খবর রাতুল?
_______জ্বী, ভাইয়া। আমার এক্ষুনি ১৫০ টাকা লাগবে। তাড়াতাড়ি বিকাশ করুন তো।
_______১৫০ টাকা?
_______জ্বী। একটা সুসংবাদ আছে। আপনার কথামত আপুকে মধু খাওয়াচ্ছি। তবে ওকে আপনার কথা বলিনি। তাড়াতাড়ি বিকাশ করুন তো।
_______আমার কাছে বর্তমান টাকা নেই। পরে দিবো।
_______তাহলে আপুকে সবটা বলে দিবো এখনি।
_______সত্যি বলছি ভাই। পরশু বেতন পাবো সেদিনই দিবো।
_______ঠিক আছে ফোন রাখছি। আর সবটা আপুকে বলতে গেলাম।
অতঃপর ফোন কেটে দিলো রাতুল। বড় চিন্তায় পড়ে গেলাম আমি। না জানি কি কান্ড করে বসে।
.
সকাল ১০টা।
ফোনটা বেজেই যাচ্ছে। ঘুমের ঘোরেই নাম্বার না দেখে রিসিভ করলাম।
_______হ্যালো কে? (আমি)
_______কে মানে?(মায়া)
_______(কন্ঠ শুনে তাড়াতাড়ি বিছার উপর উঠে বসলাম।)
_______ কথা বলছো না যে। নিশ্চয়ই এখনো ঘুমাচ্ছো!
_______ এ না না। উঠে পড়েছি।
_______মিথ্যা বলো না।
_______এ রে, ধরা খেয়ে গেলাম। আজকে ছুটির দিন, তাই একটু....
_______হয়েছে আর বলতে হবে না। বিকালে দেখা করবা। আর হ্যাঁ তাড়াতাড়ি পার্কে চলে আসবা।
কথাগুলো বলে আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই ফোন কেটে দিলো মায়া।
.
বিকেলবেলা। পার্কে বসে আছি।
বুকটা ধড়পড় ধড়পড় করছে। না জানি কি বিচার আছে আমার। মায়া চলে এসেছে। এসেই আমার পাশে বসে পড়লো।
______কি খবর, জরুরী তলব।
______তুমি রাতুলকে আমার বিষয়ে কি বলেছো? আমার কথা তেতো? আমি ঝগড়ুটে?
______(দাঁতে একটা কামড় বসিয়ে) এ রে। সবটা বলে দিয়েছে তাহলে!(মনে মনে ভাবলাম)
_______কথা বলছো না কেন? প্রথম প্রথম মিথ্যা কথা বলে ও আমাকে মধু খাওয়াতো। আমি ভাবছি হয়তো ওগুলো এমনিতে খাওয়ার জন্য এনেছে। কিন্তু কাল ও সত্যিটা বলে দিলো।
.
কোন কথার জবাব দিতে পারছি না। কারণ মিথ্যা বলে লাভ কি? হয়তো রাগ করে চলে যাবে আজকের মতো। কিন্তু দুদিন পর ঠিকই ফোন দিবে। আবার আগের মতো চলবে। হঠাৎ রাতুলের নাম্বার থেকে একটা মেসেজ আসলো।
"" দেখেন, প্রেমের কত মজা। ১৫০ টাকা না দেয়ার পরিনাম।""
.
.
≈≈Sajjad Alam Bin Saiful Islam(কাশফুল)
__
.
গল্প:::: ""মায়ের অভাব""
.
.
_____খালামনি, খালামনি?(আপন)
_____কে?(রিতা)
_____আমি আপন!কোথায় তুমি?
_____আসতেছি বাপ।
_____কি রে খোকা, কেমন আছিস?
_____মাকে ছাড়া কেমনে ভালো থাকি খালামনি।(কেঁদে ফেললো আপন)। মারে খুব মনে পড়তেছিলো, তাই তোমার কাছে চলে আসলাম।
_____খুব ভালো করেছিস খোকা।(বুকে টেনে নিয়ে)। তোর মুখ এতো শুকনো কেন? দুপুরে কিছু খাস নি?
_____(মাথা নেড়ে উত্তর দিলো) না।
_____সে কিরে! এখন তো দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেছে। তবুও কিছু খাস নি? কেন তোর নতুন মা তোকে কিছু খেতে দেয় নি?
______সকালে পান্তা দিছিলো, দুপুরে রান্না করছে। আব্বুও খেয়েছে, সাথে নতুন মাও। আমারে খেতে ডাকে নি। বলেও নি। আসার সময় দেখলাম, ঘরের ভিতর হাসাহাসি করছে। জানো খালামনি, আব্বু না আগের মত আমাগে কোলেও নেয় না। কিছু খাবারও কিনে দেয় না। আগে হাটে গেলে খাবার কিনে দিতো। কপালে চুমু দিত, কিন্তু আব্বুও যেন কেমন হয়ে গেছে।
_____আচ্ছা, আগে আয় বাবা। কিছু খাবি। মুখটা একেবারে শুকিয়ে গেছে।
.
এ কথা বলেই আপনকে বাড়ির ভেতরে নিয়ে গেল তার খালামনি রিতা। আপনের বয়স দশ বছর। মাস ছয়েক হলো ওর মা সাহেরা বানু পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরপারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে। আপনকে একা করে গেছে। আপনের মা মারা যাবার ২ মাসের মধ্যেই আপনের বাবা মজিদ মিয়া নতুন বিয়ে করে বউ নিয়ে আসে। প্রথম প্রথম ভালোবাসলেও এখন বাসে না।
.
রাত ৯টা।
বাড়ির গেটে কড়া নড়ছে।
রিতা গিয়ে দরজা খুলে দিলো। দরজার ওপাশে আপনের বাবা মজিদ মিয়া ছিলো। রিতা তার সাবেক দুলাইভাইকে দেখে কোনরুপ বিষ্মিত হলো না। কারন তার আপা বেঁচে থাকতে অনেকবারই এসেছিলো শালিকার বাড়িতে।
_____কি ব্যপার রিতা, ঘরের ভিতর আসতে বলবে না?(মজিদ)
_____না, কেন এসেছেন?(রিতা)
_____আপনকে নিতে।
_____ও তো আপনার বাড়িতে আর যাবে না।
_____যাবে না কেন?
_____দুলাইভাই, আপনি এতো পাষান হয়েছেন কেন?
_____পাষান হয়েছি! কে বললো?
_____সেই সকালে দুটো পান্তা খেয়েছে। বিকেল গড়িয়ে যাবার উপক্রম। তবুও দুপুরের খাবারটা আপনের কপালে জুটে না? কেন? আপনার কি ভাতের অভাব? নাকি তরকারির? অথচ নিজে পেট পুরে খেয়েছেন। একবারও কি মা হারা সন্তানের খোঁজ নিয়েছিলেন যে, ওর খাওয়া হয়েছে কিনা? একটা ছেলেকে এতো কষ্ট দেন কেন?
______(মজিদ মিয়া মাথা নিঁচু করে আছে, সত্যিতো দোষটা তো তারই)
_______দুলাইভাই, আপনি যে আপনকে ছেড়ে এক মূহুর্ত কোথাও কাটাতেন না, তাকে তার মায়ের অবর্তমানে কিভাবে অবজ্ঞা করছেন? জানেন আল্লাহ হয়তো আপনাকে এর বিনিময়ে শাস্তি দিতে পারে। আপনাকে তো আমরা আপার মৃত্যুর পর বিয়ে করতে নিষেধ করি নি। কারন আমরা জানি, আপনি এখনো যুবক মানুষ। আপনার স্ত্রীর প্রয়োজন আছে। তাই বলে আপনি আপনার সন্তানকেই ভূ্লে যাবেন, এটা কখনো আমরা কল্পনা করতে পারি নি। আমরা তো আপার মৃত্যুর পর আপনকে চেয়েছিলাম মানু্ষ করার জন্য। কিন্তু আপনি তো দেন নি।
.
এভাবেই চলতে থাকলো রিতার একেরপর এক কথা। আজ যেন রিতার কথার বাধঁ ভেঙ্গেছে।অবশ্য এতো বেশি কথা সে বলে না। কিন্তু আপনের চেহারার দিকে তাকিয়ে বলতে হচ্ছে। মজিদ মিয়া কোন কথাই বললো না রিতার কথাগুলোর প্রতিত্তরে। কারন দোষটা তো তারই।
.
______আমি জানি, আমি ভূল করেছি। বড় ভূল।নতুন স্ত্রী পেয়ে পূর্বের সব ভূলে গিয়েছিলাম। তাই বলে কি আমাকে মাফ করা যায় না?
______সন্তান আপনার, মাফ করার আমি কে?তবুও এতটুবু বলতে চাই, আপনকে নিয়ে গেলে ওকে আদর একটু বেশিই করা উচিত। কারন মা হারা সন্তানের যে কত কষ্ট, যে হারায় শুধু সেই বুঝে। আর তা যদি দিতে না পারেন তাহলে, আপন আমার কাছে থাক। আমি ওকে মায়ের আদর দিয়ে মানু্ষ করবো। আমার কোন ছেলে নেই, সে তো আপনি জানেন। কোনটা করবেন?
______(কিছুক্ষন ভেবে চিন্তা করে) সবার সৎ মা ভালো হয় না। হয়তো আমি ওকে চোখে চোখে রাখলেও, ওর সৎ মা ওর উপর আড় চোখে দেখতে পারে। তাই ও তোমার কাছে থাকলে খুব ভালো থাকবে। শুধু যখন যা লাগবে আমাকে বলো, আমি দিয়ে দিবো।
______আপনার উপর আমি কৃতজ্ঞ যে, আপনি আপনের ভরন-পোষনের দায়িত্ব দিলেন। ওর মায়ের মত ঠিক ওকে আদর করতে না পারলেও যথাসম্ভব চেষ্টা করবে। যাতে আপা কাল কেয়ামতের দিনে আমাকে দোষী করতে না পারে।
.
অবশেষে একটা মা হারা সন্তানের একটু সুখের দেখা মিললো। কিন্তু তবুও কি সে সুখি হতে পারবে?
হয়তো কিছুক্ষনের জন্য পারবে কিন্তু সে তার গর্ভধারিণী মাকে কষ্মিনকালেও ভূলতে পারবে না। সবসময়ই ভেসে উঠবে মায়ের সেই হাসি মাখা মুখখানি। যা দেখলেই দূর হয় যত ক্লান্তি।
.
.
≈≈Sajjad Alam Bin Saiful Islam(কাশফুল)
_
.
গল্প::: """গর্ভের সন্তানটি কন্যা"""
.
.
.
মায়া ঘরের মধ্যে অনেকটা চিন্তামগ্ন অবস্থায় পড়ে আছে। পাশেই তার আরো দুটো মেয়ে মাইশা আর জারিন। বাড়ির বাইরের প্রত্যেকজনের মুখে বিরক্তিকর ভাব। হাসপাতাল থেকে ফেরার পর থেকে রিপোর্টটা হাতে পেয়েই শুরু হয়েছ একেকজনের যাচ্ছেতাই ব্যবহার। সব কিছু নীরবে সহ্য করছে মায়া। কি করে সে সবাইকে বুঝাবে?
সে ভাষা তার অজানা।
.
ডাক্তারের চেম্বার থেকে ফিরে আসার পর মায়াকে অনেকটা গালাগাল দিয়ে বাড়ি থেকে আপাতত একটু শান্তির খোঁজে বেড়িয়ে গেছে ফয়সাল। তারও কতো স্বাদ ছিলো একটা ছেলের বাবা হবে সে। কিন্তু সে গুড়ে যেন বালি পড়েছে। এক এক করে দুটো মেয়ে হলো কিন্তু ছেলের মুখ সে দেখতে পেলো না। সর্বশেষ চেষ্টাও ব্যর্থ হলো তার। তাই মনের মধ্যে অনেকটা ক্ষোভ বিরাজমান।
.
"আমি আগেই কইছিলাম, এই মাইয়ারে ঘরে আননের দরকার নাই। কিন্তু কে শোনে কার কথা? এ মেয়ে যে অলক্ষী, সেটা আমি আগেই জানতাম।" রান্না ঘরে রান্না করতে করতে মনের ক্ষোভ প্রকাশ করতে লাগলো মায়ার শ্বাশুড়ি। তার ফয়সাল আর মায়ার বিয়েটা একদমই পছন্দ হয় নি। তিনি চেয়েছিলেন, তার বোনের মেয়ে নিপার সাথে ফয়সালের বিয়েটা হোক। কিন্তু ফয়সালের বাবা মায়া সাথেই তার জন্ম জন্মান্তরের আঁচল বেঁধে দেন।
.
কিছুক্ষণ আগে বাড়ি ফিরেছে ফয়সাল। সারাদিন বেচারা কিছুই খায় নি। সেজন্য হয়তো গালদুটো তলিয়ে গেছে। ফয়সাল বাড়িতে ফেরার কিছুক্ষনের মধ্যেই মায়ার বাবা এসে উপস্থিত। কিন্তু কেউ কোন কিছু না বলে তাকে চেয়ারে বসতে দেয়া হলো। তার মুখে যেন হাসির ছাপ। কেউ তাকে বুঝতে দিচ্ছে না যে, তারা মায়াকে অনেক বকেছে। এশার নামায পড়ে ফয়সালের বাবা সহ মায়ার বাবা আঙ্গিনায় বসে গল্পে মেতে রইলেন।
.
একপর্যায়ে তিনি বলতে শুরু করলেন,
""জানেন বিয়াই সাহেব। ফয়সাল বাবাজির এখন আর কোন চিন্তা নাই। তিনটে মেয়ের বাবা হতে চলেছে সে।"
কথাগুলো শুনেই সকলের মুখটা যেন পূর্বের মতো মলিন হয়ে গেলো। সকলেই একে অন্যের দিকে চাওয়া চাওয়ি করতে লাগলো।
""ফয়সালের ইচ্ছে ছিলো তার একটা ছেলে থাকবে আর একটা মেয়ে। কিন্তু পরপর দুটো মেয়ে হওয়ার পর এবারেরটাও নাকি মেয়ে। তাই ওর মনটা বড়ই খারাপ।"" সংকোচহীন অবস্থায় বললেন ফয়সালের বাবা।
.
"কি যে বলেন বিয়াই সাহেব! একটা মেয়ের সন্তান ছেলে হবে নাকি কন্যা হবে সেটা অনেকটা নির্ভর করে পুরুষ অথবা স্বামীর উপর। বিজ্ঞান এটাই বলে।" বললেন মায়ার বাবা।
""কি যে বলেন বিয়াই সাহেব। এটা কি হয় নাকি?"" বললেন ফয়সালের বাবা।
""এটাই ঠিক। আমি একজন ভালো ডাক্তারের কাছে শুনেছি। তাছাড়া কন্যা সন্তান হওয়াতো খারাপ কিছু না। যার ঘরে কন্যা সন্তান আছে তার ঘরে বরকত আছে। হাদীসের মধ্যে পাওয়া যায়, যার ঘরে ৩টি কন্যা সন্তান আছে। এবং ব্যক্তিটি তাদের লালন পালন সহ স্বপাত্রে তাদের দান করবে সে ব্যক্তি জান্নাতের যে কেন দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে। তাছাড়া আরো আছে,
.
‘আয়িশা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন
তিনি বলেন, এক ভিখারিণী দু’টি শিশু কন্যা সঙ্গে করে আমার নিকট এসে কিছু চাইলো। আমার নিকট একটি খেজুর ব্যতীত অন্য কিছু ছিল না। আমি তাকে তা দিলাম। সে নিজে না খেয়ে খেজুরটি দু’ভাগ করে কন্যা দু’টিকে দিয়ে দিল। এরপর ভিখারিণী বেরিয়ে চলে গেলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট আসলেন। তাঁর নিকট ঘটনা বিবৃত করলে তিনি বললেনঃ যাকে এরূপ কন্যা সন্তানের ব্যাপারে কোনরূপ পরীক্ষা করা হয় সে কন্যা সন্তান তার জন্য জাহান্নামের আগুন হতে আড় হয়ে দাঁড়াবে।
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৪১৮।
"এখন আপনারাই বলেন বিয়াই সাব। কন্যা সন্তান হওয়া খারাপ নাকি ভালো?" বললেন মায়ার বাবা।
.
এতক্ষণ ফয়সালের বাবা স্বীয় বিয়াইয়ের কথাগুলো চুপচাপ মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন। ঘরের ভিতর থেকে ফয়সাল ও তার মা ও। বিয়াই এর কথা শুনে ফয়সালের বাবা ফয়সালকে ডেকে বললেন, "বলো এখন কন্যা সন্তান হওয়া খারাপ নাকি ভালো। তাছাড়া এত তাড়াতাড়ি মন খারাপ হওয়ার কি আছে। এখনো সে দুনিয়ায় আসে নি। ডাক্তারের রিপোর্ট তো ভূল হতেও তো পারো।বলো এখন সবটা বুঝেছো নাকি বুঝোনি এখনো?
হাস্যজ্বল মুখে ফয়সাল উত্তর দিলো, "জ্বী বাবা। আমি সবটা বুঝেছি। তোমাদের আর বলতে হবে না। তাছাড়া এখন থেকে প্রতি ওয়াক্তে নামাযে দাঁড়িয়ে দোয়া করবো যাতে ডাক্তারের রিপোর্ট টি সত্যি হয়।"
ঘরের ভিতর থেকে স্বামীর এমন পরিবর্তন দেখে মায়া ""আলহামদুলিল্লাহ" বলে উঠলো।
.
.
≈≈Sajjad Alam Bin Saiful Islam(কাশফুল)
_
.
____"বাবার আদর"
.
.
বিকেল বেলা,
আকাশ অনেকটা মেঘলা। যে কোন সময় ঝড় আসতে পারে। বাতাসও বইছে বেশ। শহরে অবস্থানরত প্রায় সকল মানুষ বাড়ি যাওয়ার জন্য ছোটাছুটি করছে। অনেকটা আঁধার হয়ে এসেছে। রোদের বিন্দুমাত্রও দেখা যাচ্ছে না।
.
কোচিং এর সামনে দাড়িয়ে আছে নাহিদ। অনেকটা বিষণ্ণতার ছাপ তার মুখের মধ্যে। কারণ তার বাবা এখন তাকে নিতে আসেন নি। অষ্টম শ্রেনীতে পড়ে নাহিদ অনেক ভালো ছাত্রও বটে। শহরে একটা ভালো কোচিং এ নিয়মিত তার যাতায়াত। স্কুলে যাওয়ার সময় তার বাবা তাকে নিয়ে যায় এবং কোচিং শেষ হলে আবার তাকে নিয়ে আসে।
.
নাহিদের বাবা এসে তার সামনে দাড়ালো। নাহিদ মন খারাপ করে বাবার মোটরসইকেলের পিছনে বসে পড়লো। মোটরসাইকেল চলা অবস্থায় নাহিদকে তার বিষণ্ণতার কারণ জানতে চাইলো। কিন্তু নাহিদ কোন কথাই বললো না। অনেকটা নিশ্চুপ।
.
পথিমধ্যে আকাশ থেকে টপটপ করে পানি ঝরতে লাগলো। আস্তে আস্তে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তেই থাকলো।নাহিদের বাবার মোটরসাইকেলটা থামিয়ে রেইন কোটটা নাহিদের পরনে পরিয়ে দিলো। কারণ নাহিদের শরীরে বৃষ্টির পড়লে তার জ্বর আসা অনিবার্য।এরুপ তার ছোটকাল থেকে হয়ে আসছে। তাইতো নিজে বৃষ্টিতে ভিজে ছেলেকে অনেকটা বৃষ্টির পানি থেকে সংরক্ষন করার চেষ্টা করলেন। তবুও রেইন কোটটা পরনের আগ মূহুর্ত পর্যন্ত তার গায়ের অনেকটা ভিজে গিয়েছিলো।
.
বাড়িতে পৌঁছে নিজের স্কুল ড্রেসটা খুলে বাড়িতে পরিধেয় স্বাভাবিক পোষাক পরিধার করলো নাহিদ। এখনো সে অনেকটা চুপচাপ। অতঃপর ভাত খেয়ে বিছানায় কম্বলটা জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়লো।নাহিদ তার বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। তার বিপরীতে তার একটা ছোট বোনও আছে। ওর নাম মাইশা। ক্লাস ফাইভে পড়ে।
.
এখন রাত ৯টা বাজে।
বাইরে বৃষ্টি কমে নি। অনবরত ঝরছে ঝরঝর করে। নাহিদও ঘুম থেকে উঠে না। আজ একটু পড়াও হয় নি।
সাহের বানু(নাহিদের মা) নাহিদের ঘরে প্রবেশ করে নাহিদকে অনেকবার ডাকলেন। কিন্তু নাহিদ তখনো অচেতন। কপালে হাত দিয়ে দেখলেন আসলেই নাহিদের জ্বর এসেছে। কারণ আগেই বর্ণনা করেছি বৃষ্টিতে ভিজলে নাহিদের জ্বর আসে।
.
বাইরে যাওয়ার কোন উপায় নেই। নাহিদের বাবা ও মা সাহের বানু নাহিদের পাশে বসে আছেন। বাধ্য হয়ে ডাক্তারকে ফোন করলেন যে, এ পরিস্থিতিতে কি করবেন।
ডাক্তার পরামর্শ দিলেন, বার বার সারা শরীর ভিজা কাপড় দিয়ে মুছে দিতে এবং কপালে পানি পট্টি দেয়ার জন্য। ডাক্তার সাহেব আরো বললেন, বৃষ্টি কমলে ওষুধ নিয়ে আসার জন্য।
.
রাত ১টা বেজে ২২ মিনিট।
এখনো নাহিদের বাবা-মা নাহিদের পাশে বসে আছেন এবং কপালে পানির পট্টি দিচ্ছেন। সাহের বানুর চোখ নাহিদের বাবার দিকে গেল। তিনি দেখলেন, নাহিদের বাবা কাঁদছেন।
"এ কি, আপনি কাঁদছেন কেন?"
সাহের বানু বললো।
"আজ আমার জন্য ছেলেটার এ অবস্থা। আমি যদি একটু তাড়াতাড়ি তাকে নিয়ে আসতাম তাহলে বৃষ্টির পানি তাকে স্পর্শ করতে পারতো না এবং ওর জ্বরও আসতো না।"
কাঁদো কাঁদো স্বরে উত্তর দিলো নাহিদের বাবা।
"যা হবার তা হয়েছে, প্লিজ আপনি কাঁদবেন না। এটাই ভাগ্যের লিখন ছিলো হয়তো।"
সান্তনার স্বরে নাহিদের বাবাকে বললো সাহের বানু।
অতঃপর নাহিদের মাথাটা নিজের উরুর উপর নিয়ে একটা চুমু এঁকে দেয় নাহিদের বাবা।
.
‰Sajjad Alam Bin Saiful Islam(কাশফুল)
āĻোāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāĻ:
āĻāĻāĻি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āĻ āĻāϰুāύ