āĻŽāĻ™্āĻ—āϞāĻŦাāϰ, ⧍ā§Ļ āĻĢেāĻŦ্āϰুāϝ়াāϰি, ⧍ā§Ļā§§ā§Ž

4538


গল্পঃ যাযাবর
.
.
.
"এই ভাইয়া শুনছেন?" স্কুল ড্রেস পরিহিত তানিশা ডাক দিলো সজলকে।
"আমাকে ডাকছেন?" মাথাটা পিছনে ফিরে প্রশ্ন করলো সজল।
"জ্বি জ্বি,আপনাকে।" খানিকটা দৌড়ে আসলো তানিশা।
"জ্বি বলেন, কি বলতে চান।" রুমাল দিয়ে মুখটা মুছতে মুছতে বললো সজল।
"জ্বি,আপনি ভালো আছেন?" হাস্যজ্বল মুখে প্রশ্ন করলো তানিশা।
"আলহামদুলিল্লাহ,ভালো আছি।আপনাকে তো ঠিক চিনলাম না!" বললো সজল।
"আরে ভাইয়া আপনি আমাকে চিনলেন না! কি বলেন!
আপনার নাম সজল না? প্রশ্ন করলো তানিশা।
"জ্বি হ্যা,আমিই মোহাম্মাদ জাবেদ সজল।কিন্তু আমাকে চিনলেন কেমন করে?" কিছু আশ্চার্য হয়ে প্রশ্ন করলো সজল।
"আমাকে চিনলেন না ভাই! আমি তানিশা।আগে যখন আপনি সেনপাড়ায় ভাড়া থাকতেন তখন আমরা তো আপনার রুমের নিচ তলাতেই থাকতাম।" পরিচয় বর্ননা দিতে লাগলো তানিশা।
"ও হ্যা হ্যা, এবার চিনেছি।অনেক বড় হয়ে গেছ দেখছি।"
খানিকটা হাসি মুখে উত্তর দিলো সজল।
"জ্বি,সারাজীবন কি মানুষ ছোট থাকবে নাকি ভাইয়া?
তবে আপনি কিন্তু একটুও বদলান নি।শুধু একটু মোটা হয়েছেন।" বললো তানিশা।
"তাই নাকি! বেশ পাকা পাকা কথা বলতে শিখেছো দেখছি।তোমরা কি এখনো আগের ভাড়া বাড়িতেই আছো নাকি?" প্রশ্ন করলো সজল।
"জ্বি ভাইয়া,আমরা এখনো সেখানেই আছি।কিন্তু আপনি বড়ই স্বার্থপর।ভাড়া ফ্লাট ছাড়ার পর আর একবারো সেখানে যান নি।আম্মু মাঝে মাঝে আপনার কথা বলে।" বললো তানিশা।
"ঠিক আছে,আগামী শুক্রবার তোমাদের বাড়ি যাবো।কেমন! " এক ফালি হাসি দিয়ে বললো সজল।
"সত্যিই যাবেন? আমি বাড়িতে গিয়েই আম্মুকে বলবো আপনার কথা।" বললো তানিশা।
"ইয়ে মানে তানিশা,শুক্রবার কথা হবে।মানে আজ বড়ই ব্যস্ত আমি।প্লিজ কিছু মনে করো না।" কিছু হতাশা ভাব ফুটে উঠলো সজলের চেহারায়।
"ঠিক আছে ভাইয়া।আসবেন কিন্তু।" বললো তানিশা।
.
সজল পুনরায় তার হাঁটা শুরু করে।আজ একটু তার বেশিই তাড়া।কারন, একটু দেরি হলেই কবিতা পাঠের প্রোগ্রামটা মিস হয়ে যাবে।তাই তো জোরে জোরে আনমনে হাঁটতে থাকে।তানিশাও একটি অটোকে থামিয়ে চলে যায় নিজ গন্তব্যে।
.
সজল আর তানিশারা একই ফ্লাটে থাকতো।৩ বছর এক সাথে থাকার পর ফ্লাট ছেড়ে একটা সস্তার মেসে ওঠে সজল।কারণ,ফ্লাটে থেকে তার ব্যয় মোটামুটি বেশি।বাবা মারা যাবার পরই এই পথ বেঁচে নিতে হয় তাকে।।সংসারের বড় ছেলে হিসেবে অনেক কিছুর দিবে তাকাতে হয় তাকে।তাইতো ৩টা টিউশনিও করাচ্ছে।সাথে চলতে তার কবিতা ও ছোট গল্প লেখার স্বপ্ন।নিয়মিতভাবেই কবিতা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করে নিজেকে যাচাই করার প্রবল ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটায়।কয়েকটা দৈনিক পত্রিকায় নিয়মিতভাবে তার সৃজনশীল ধারারাগুলো তুলে ধরার চেষ্ঠা করে।এভাবেই হাঁটিটি হাঁটি পা পা করে চলছে তার লেখাপড়া,টিউশনি ও জীবনের ছোট ছোট স্বপ্নগুলোর মেলা।
.
ফ্লাটটা ছেড়ে দেয়ার পর আজ ৫টি বছর কেটে গেছে।ছোট তানিশা আজ খানিকা বড় হয়ে গেছে।তাইতো প্রথমে নিজের থেকে তাকে সে চিনতেই পারে নি।যদি তানিশা নিজের থেকে পরিচয় না দিতো তাহলে পরিচিতা ছোট মেয়েটি হয়তো অপরিচিতাই থেকে যেত।তাই বুঝি গ্রামের সহজ-সরল মানুষেরা বলেন,মেয়েরা খুব দ্রুতই বাড়ে।
.
মেসের অধিকাংশ ছেলেরা বিভিন্ন সময় যাযাবরের মতোই মেসে উঠে,আবার তা ছেড়ে আরব বেদুঈনের মতো চলে যায় অন্যখানে।বিভিন্ন সময়ে ধারন করে বিভিন্ন রকম রুপ।হয়তো এটাই তাদের প্রধান বৈচিত্র বা বৈশিষ্ঠ্য।তথাপিও তারা এবং সমস্ত মানবসমাজ এই পৃথিবীর একজন মাত্র বেদুঈন। সব বেদুঈনকেই চলে যেতে হবে তাদের সেই অসীম গন্তব্যে। যেখানে থাকবে তাদের জন্য অসীম সুখ অথবা লাঞ্ছনা।সে হিসেবে বলা যায়, সেসমস্ত বেদুঈনরাই বুদ্ধিমান যারা দুনিয়াকে প্রাধান্য না দিয়ে পরকালের জন্যই কর্ম করে।
.
.
লেখাঃ সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম (কাশফুল)

_

"""মায়ের ভালোবাসা"""
.
.
চোখের কোণা দিয়ে অনবরত অশ্রু নিপাতিত হচ্ছে সাহের বানুর।বুক ভরা বিষাদ নিয়ে একা একা হেঁটে যেন কোথাও যাচ্ছেন।এক হাতে একটা লাঠি এবং অপর হাতে কাপড় দিয়ে মোড়ানো একটা পুটলি।সাথে কেউই নেই। থাকবেই বা কি করে?
স্বামী ৯ বছর আগে এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরপারের উদ্দেশ্য যাত্রা করেছেন। আর একমাত্র ছেলে নাহিদ হাসান তার স্ত্রী রত্না তাকে কিছুক্ষন আগে বাড়ি থেতে বের করে দিয়েছে।
তিনি নাকি তাদের সংসারের বোঝা।
.
এতকরে করজোড়ে মিনতি করলো সাহের বানু যে, তিনি রান্নাঘরে দিন অতিবাহিত করবেন।তবুও এতটুকু দয়া হয় নি নাহিদ কিংবা তার স্ত্রী রত্নার। আল্লাহ যেন তাদের উভয়কে পাথর দিয়ে বানিয়েছেন। যার কারণেই জনমদুখিনী মাকে পথে বের করে দিয়েছে তারা।
.
এভাবে ঢেউের স্রোতের ন্যয় একটির পর একটি দিন অতিবাহিত হতে থাকে। বাড়ির পাশে লাগানো পেয়ারা গাছটিও আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে। সাথে নাহিদের একমাত্র মেয়ে মায়াও।
.
১টি বছর পর....
বাড়ির পাশের ব্রিজে বসে আছে নাহিদ। অনেকটা অন্যমনস্ক অবস্থায় পানিতে ঢিল ছুঁড়ছে একের পর এক। বারবার মসজিদে ইমাম সাহেবের প্রদেয় বক্তব্যের কথা মনে পড়তে লাগলো।
"মাকে কখনো কষ্ট দিবেন না। কারণ মায়ের পায়ের নিচে সন্তানে বেহেশত।"
"সেই ব্যক্তি সবচেয়ে হতভাগা, যে তার পিতা মাতাকে বৃদ্ধ অবস্থায় পেল অথচ বেহেশত লাভ করতে পারলো না।"
এভাবে আরো কতিপয় রাসূলের হাদীস।
.
আরো মনে পড়তে লাগলো ছোট বেলার সেই স্বৃতিগুলো। যখন সাহের বানু তাকে কপালে কাজলের টিপ পরিয়ে দিতো, যখন তাকে কোলে তুলে আদর করে ভাত খাওয়াতো। কিংবা নিজের পাশে নিয়ে ঘুম পাড়াতো।
হঠাৎ দুচোখ দিয়ে দু ফোঁটা পানি টপ করে গড়িয়ে পড়লো।
.
"আমি অনেক বড় ভূল করেছি। আমি আমার সত্যিকারের বেহেশতকে পথে নিক্ষেপ করেছি। হয়তো তাই আমি ভালো করে ঘুমুতে পারি না।"
নিজে নিজে ভাবলো নাহিদ।
এখন যা করার তাকে করতে হবে। তাকে পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে।
.
পথের ধার দিয়ে নিজের মাকে খুঁজতে বেড়িয়েছে নাহিদ। সারা শরীরে বিষণ্ণতার ছাপ দোদুল্যমান। বারবার ইমাম সাহেবের কথাগুলো মনে পড়তে লাগলো। সাথে সাহের বানুর শেষোক্ত উক্তিগুলো,
"বাজান আমারে বাইর করে দিস না, আমার কে আছে যে, তার কাছে যামু। তুই না হয় রাঁধন ঘরে আমারে একটু জায়গা দে।"
.
এভাবে অতিবাহিত হতে থাকে আরো কিছুটা সময়। বাড়ির পাশের পেয়ারা গাছটা ফুলে ফুলে ছেঁয়ে গেছে। তারপরও নিজের মাকে এখনো খুঁজে পায় নি নাহিদ। যদিও বা প্রতিনিয়ত অর্ধেক বেলা নিজের মাকে খুঁজতে সময় ব্যয় করে।নাহিদের তবুও বিশ্বাস করে, একদিন সে তার জনমদুখিনী মাকে নিজের কাছে ফিরো পাবে। তারপর থেকে নিজের কাছে সাপের মনির মতো করে রাখবে। কিন্তু কবে সে দিন আসবে! হয়তো সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন।
.
আজকেও নাহিদ তার মাকে খুঁজতে বের হয়েছে। নাহিদের বিশ্বাস তার মা তাদের আসে পাশেই কোথাও আছে। তাই তো প্রতিনিয়ত রংপুর শহরের অলি গলি খুঁজেন।নিজের মোটরবাইকে ড্রাইভ করছে নাহিদ।হঠাৎ তার চোখ গেল পার্কের সেই গাছটার দিকে। একজন বৃদ্ধ মহিলা বসে পথের মানু্ষজনের কাছে স্বীয় কোমল হাতটা বাড়িয়ে দিচ্ছে। নিজের ইচ্ছায় কিংবা দয়ায় কেউ দিচ্ছে আবার কেউ দিচ্ছে না।
.
গাড়ি থেকে নেমে দ্রুত মহিলার পাশে গিয়ে ভালোভাবে দেখে আশ্চর্য হয়ে গেলো। এ যে তার জনমদুখিনী মা। টপ টপ করে পানি ঝরতে লাগলো উভয় চোখ হতে। অতঃপর মায়ের পা দুটো জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো।
"কে এভাবে কাঁদছে?"
নিজের হাতদুটো বাড়িয়ে অনুভব করার চেষ্টা করলো সাহের বানু।
"আমি মা আমি তোমার স্বার্থপর ছেলে নাহিদ। মা আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমি অনেক বড় ভূল করেছি।"(নাহিদ)
"আমি চলে গেলে তোরা সুখে থাকবি বিধায় আর বেশি জোড়াজুড়ি করি নাই। কেমন আছিস বাপ?"
একমাত্র ছেলেকে কাছে বসিয়ে কথাগুলো বললো সাহের বানু।
.
" না মা ভালো না। তোমাকে হারানোর পর থেকে আজ অবধি আমি একমুটো শান্তি পাই নি। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও মা।"
কাঁদতে কাঁদতে বললো নাহিদ।
"কোন মা তার সন্তানকে মাফ না করে থাকতে পারে নারে বাপ। আমি তোর উপর কোন মন খারাপ করি নাই।"
নাহিদকে বললো তার মা সাহের বানু।
"তাহলে তুমি আমার সাথে বাড়ি ফিরে চলো মা।"(নাহিদ)
"না বাপ। আমি গেলে তোদের কষ্ট হবে।দেখ না আমি কত ভালো আছি।"(সাহের বানু)
"তাহলে তুমি এখনো আমাকে ক্ষমা করতে পারো নি। তুমি বাড়ি ফিরে চলো মা। আমি তোমারে মাথার মনি করে রাখবো। ইশ! শরীরটা কত শুকিয়ে ফেলেছো।
.
অতঃপর ছেলের অনেক জোড়াজুড়িতে শেষপর্যন্ত স্বীয় বাড়িতে ফিরে গেলেন সাহের বানু। হয়তো আজকে একটু শান্তি পাবে নাহিদ। দীর্ঘ সময় পর নিজের মাকে কাছে পেয়েছে বলে।
.
.
≈≈Sajjad Alam Bin Saiful Islam(কাশফুল)

.

""ক্রাশিত বালিকা""(কিছুটা রম্য)
.
.
__হাই ভাইয়া  করি করেন?( কিছুক্ষন আগে মেয়েটা ফ্রেন্ড রিকু দিয়ে মেসেজ দিছে, "একসেপ্ট প্লিজ। একসেপ্ট করার পর")
__জ্বী, রান্না করি।(আমি)
__ওহ আল্লাহ!  আপনি রান্না করতে জানেন?
__হুম, যে খেতে জানে সে রাধঁতেও জানে।(একটু ভাব নিলাম)
__কেন ভাইয়া, আপনার আম্মা বুঝি বাড়িতে নাই?
__জ্বী, আমার আম্মা গ্রামে থাকে আমি আমি শহরে।বউ বাপের বাড়িতে বেড়াতে গেছে।
__ও আল্লাহ! আপনি বিয়েও করেছেন নাকি?
__কেন সমস্যা?
__না ভাইয়া, বেশ বেশ। দোয়া করি যেন আপনার মতো স্বামী এদেশের ঘরে ঘরে জন্মায়।
__কেন?
__তাহলে বউকে আর রান্না করতে হবে না।
__আপনারা তো তাই বলবেন। এতেই আপনাদের মঙ্গল নিহিত।
__বাদ দেন ভাইয়া, কি রান্না করছেন?
__আন্ডা আলুর ডাল
__আলুর ডাল তো বুঝলাম। বাট আন্ডা কি?
__খাইছেরে, আন্ডা চিনে না। কোথায় থাকেন আপনি?
চাঁদের দেশে নাকি মঙ্গল গ্রহে?
__কেন ভাইয়া? বাংলাদেশে থাকি।
__ তাহলে আন্ডা চিনেন না এটা কোন কথা হলো? আন্ডা মানে ডিম। ইংরেজিতে বলে ইগ।
__ওহ, বুঝেছি ভাইয়া। তা আন্ডা না বলে ডিম বললেই তো পারতেন।
__কেন জানতো, আপনি আন্ডা বুঝেন না! যাইহোক এতো কথা আমাকে জিজ্ঞেস করছেন কেন?
__ওহ ভাইয়া, আমি আপনার একজন ফ্যান!
__ফ্যান কেন?
__আপনার লেখা আমার খুব ভালো লাগে। বিশেষ করে রোমান্টিক পেজের স্টোরিগুলো।
__কে বলেছে আমি লিখি?
__রাইটার নেম এটাই দেয়া, তাই খুঁজে বের করলাম।
__সরি, আমি লিখি না। ভূল জায়গায় নক দিয়েছেন।
অতঃপর বালিকাটি আর কোন মেসেজ না দিয়ে সরাসরি ব্লক দিলো আমাকে।
.
≈≈সাজ্জাদ আলম

_____STATUS:363______
.

মাইক্রো ফিকশনঃ
নামঃ মায়ের অভাব
.
একটি কবরের পাশে বসে আছে ছেড়া গেঞ্জি পড়া ছোট্ট ছেলেটি। সন্ধ্যা নামে, চারদিক অন্ধকার হয়ে পড়ে কিন্তু কেউ তাকে ডাকতে আসে না।
.
#কাশফুল

.

"""পাষাণ"""
.
.
.
মোটরসাইকেলের ষ্টার্টটা বন্ধ করে কনফেকশনারীর সামনে এসে দাঁড়ালো অনিক। দাঁড়িয়ে নাহিদকে ডাকতে থাকলো একেরপর এক। হয়তো ব্যস্ত, তাই শুনতে পারছে না। তাইতো দোকানের ভিতরে নাহিদের কাজ শেষ হলে তাকে দোকানের বাহিরে নিয়ে আসে।
"আমার সাথে চল, হাসপাতালে যেতে হবে।" নাহিদের হাত মোটরসাইকেলের দিকে বলতে বলতে নিয়ে যায় অনিক। অনিকের হাত থেকে নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে অবাক হয়ে বললো,
"কেন? কে আছে হাসপাতালে?"
"সেটা তোর না জানলেও চলবে। আমি যেতে বলছি তাই চল।" নাহিদের দিকে তাকিয়ে বললো অনিক।
"নাহ, যাবো না। যদি না বলিস।" বললো নাহিদ।
"বলছি, আপন খুব অসুস্থ। গত মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে কিন্তু অবস্থার একটুও উন্নতি হয় নি।" বললো অনিক।
"নারে, তুই যা, আমার দোকানে কাজ আছে। আমার হবে না।"
দোকানের দিকে যেতে যেতে বললো নাহিদ। এরুপ দেখে অনিক আবার নাহিদের সামনে এসে দাঁড়ায়। অবাক হয়ে বললো,
"একটা ছেলে মরে যাচ্ছে আর তুই তাকে শোষবারের মতো দেখতে যাবি না।"
"কে আপন? আমি ওকে চিনি না। তোর প্রয়োজন হলে তুই যা।" কথাটি বলে দোকানের মধ্যে ঢুকে পড়লো নাহিদ।
অনিক রাগে গদগদ হয়ে নাহিদকে অকথ্য ভাষায় গালি দিতে দিতে নিজেই চলে গেল।
.
বিশেষ এক সুত্র ধরে আপনের সাথে নাহিদের সম্পর্ক।সম্পর্কটা ভালোবাসার নয়, ভাইয়ের। নাহিদ অনেক ভালোবাসতো আপনকে। আপনও নিজের ভাইয়ের মতো নাহিদকে সম্মান করতো। নাহিদের বাড়িতে যাওয়া আসা করতো। নাহিদের মাকে মা বলে ডাকতো। যেহেতু নাহিদের মা ছিলো না। তবে সৎ মা ছিলো।
মা ছোটবেলা মারা গিয়েছিলো। কোন এক কারণে ভুল বোঝাবুঝির সুত্রপাত উভয়ের মধ্যে। তখন থেকে নাহিদ আপনরের সাথে আর কথা বলে না। আর আপনও পিছনে ফিরে তাকাই নি। নীরবে অনেক কেঁদেছে কিন্তু নাহিদ শেষপর্যন্ত আপনকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। তাই তো অভিমানের মাথায় আপনকে দেখতেও যাচ্ছে না।
কি না করেছে ও আপনের জন্য!
একদিন হোটেলে নাস্তা খাবার সময় আপনের হাত থেকে গ্লাস পড়ে ভেঙ্গে যায়। সেজন্য হোটেলের মালিক অনেক গালিগালাজ করতে থাকে আপনকে। এ দৃশ্য দেখে রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে হোটেলের সব গ্লাস ভেঙ্গে ফেলে নাহিদ। এ আচরণে কোনরুপ প্রতিক্রিয়া দেখায় নি মালিক। শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে নাহিদের এ দৃশ্য দেখেছিলো। কারণ বাজারের সবাই নাহিদকে ভালোভাবে চিনতো এবং তার রাগ সম্পর্কে জানতো।
.
"দোস্ত, আজ আমার মনটা খারাপ। একটু ঘুরতে যাবো। তুই আমার সাথে যাবি?" নাহিদকে বললো অনিক।
ও হ্যাঁ বলাই হয় নি। নাহিদ আর অনিক খুব ভালো বন্ধু। একে অপরের পরিপূরক।
"তুই বলেছিস, না গিয়ে কি আমি থাকতে পারি? চল। তবে আমিই কিন্তু বাইক চালাবো।" কিছুটা হাসি মুখে বললো নাহিদ।
"নারে, অন্যদিন চালাস, আজ আমি চালাবো। আমি তোকে একটা মজার জিনিষ দেখাবো, যা দেখে সবচেয়ে খুশি হবি।।" বললো অনিক।
"সত্যি বলছিস? ঠিক আছে, তাহলে তো ভালোই। আচ্ছা চল।"
অনিক বাইক ড্রাইভ করছে আর ভিতরটা যেন ফেটে যাচ্ছে। মুখ ফুটে কিছু বলতে পারছে না সে। এদিকে বাইকের পিছনে বসে অনিককে নানান প্রশ্ন করে যাচ্ছে নাহিদ। অনিক শুধু হ্যাঁ আর না বলে উত্তর দিচ্ছে।
"কি রে অনিক, তুই কি আপনের বাড়ি যাচ্ছিস নাকি?
কিছুটা অবাক হয়ে প্রশ্ন করলো নাহিদ। যেহেতু বাইকটা সেদিকেই যাচ্ছে।
"আরে নাহ, আপনতো হাসপাতালে। ওদের বাড়ির পাশ দিয়ে যেতে হয়।" নাহিদের কথার উত্তর দিলো অনিক।
.
অনিক সত্যি সত্যি আপনদের বাড়িতেই এসেছে। বাড়ির আশেপাশে অনেকটা ভীড়। বাড়ির সামনে বাইকটা রেখে নাহিদের হাতটা ধরে ভিতরে প্রবেশ করলো। এবার সত্যি সত্যি নাহিদ অবাক হয়ে গেছে। মুখ দিয়ে যেন কোন কথাই বের হচ্ছে না। বুকের মাঝে দুরুদুরু করছে। অনিক কেনই বা আপনদের বাড়িতে নিয়ে আসলো, আর কেনই বা এতো লোকজন আপনদের বাড়িতে। প্রশ্নগুলো বারবার মাথায় খেলা করছে। ঘামছেও বেশ। অনিক বাড়ির বাইরের খাটলিটার দিকে নাহিদকে নিয়ে মুখ থেকে কাপড় টা সরিয়ে দিলো।
নিষ্পাপ মুখে যেন এখনো হাসি খেলা করছে। মুখটা এখনো উজ্জ্বল। সোহাগ মাখা মুখটা দেখে সত্যি এবার কেঁদে ফেললো নাহিদ।
অনিক অস্পষ্ট গলায় নাহিদকে বললো, ""আপনের ব্রেন টিউমার হয়েছিলো। যেদিন তোকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম, তার আগের দিন ফোন করে তোকে দেখতে চেয়েছিলো, কিন্তু নাহ, তুই পাষাণ তো পাষাণই থেকে গেলি।""
.
হাস্যজ্বল মুখটা দেখে মনে হয়ে গেল আপনের একটা বানী। "ভাই, পর কখনো আপন হয় না একথাটি আমি ভূলি নাই আর ভূলবো না। যদি কখনো আপনার কাছ থেকে দূরে সরে যাই তাহলে আমার মরার সময় একবার আমাকে দেখে আসিয়েন।" তখনকার এই কথার প্রেক্ষিতে হা হা হা করে হেসেছিলো নাহিদ। সে কখনো ভাবতেই পারে নি। আপনের কথাটাই আজ সত্যি হয়ে যাবে।
নিজে নিজে চোখের পানি ফেলতে ফেলতে ভাবতে লাগলো" সত্যি তো পর কখনো আপন হয় না।সত্যি আমি পাষাণ। আজীবন পাষানই রয়ে গেলাম।শেষপর্যন্ত আপন আমাকে পরাজিত করলো।"
.
.
≈≈Sajjad Alam Bin Saiful Islam(কাশফুল)

āĻ•োāύ āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āύেāχ:

āĻāĻ•āϟি āĻŽāύ্āϤāĻŦ্āϝ āĻĒোāϏ্āϟ āĻ•āϰুāύ